Tag: বলিউড

  • এআই অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ম্রুণাল ঠাকুরের আইনি হুঁশিয়ারি

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ও বিকৃত ‘ডিপফেক’ কনটেন্ট তৈরি করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর। 

    সুনির্দিষ্ট কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেছেন তা স্পষ্ট না করলেও, এটিকে তার পক্ষ থেকে শেষ সতর্কবার্তা বা ‘আল্টিমেটাম’ হিসেবে ধরে নেওয়ার কথা বলেছেন এই তারকা। 

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ম্রুণাল লেখেন, ‘আমার চেহারা বা পরিচয় বিকৃত করে কৃত্রিম বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা কিংবা তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ আইনি অপরাধ এবং অগ্রহণযোগ্য। এটাকে অবিলম্বে এ জাতীয় কাজ বন্ধ করার একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ হিসেবে গণ্য করুন। পরবর্তীতে আমার পরিচয়ের যেকোনো অপব্যবহার করা হলে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

    সম্প্রতি এআই-এর মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব, কণ্ঠ ও ছবির অপব্যবহার ঠেকাতে বলিউডের একাধিক তারকা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। 

    অক্ষয় কুমার, বরুণ ধাওয়ান, অনিল কাপুর, শিল্পা শেঠি, প্রীতি জিন্তা, কার্তিক আরিয়ান এবং সুনীল শেঠির মতো তারকাদের নাম এই তালিকায় রয়েছে। তারা তাদের ব্যক্তিসত্ত্বা এবং ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ রক্ষার জন্য আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, ‘যখন সত্যকেও বানিয়ে ফেলা যায়, তখন বিবেচনা এবং বুদ্ধিই হয় আমাদের সেরা প্রতিরক্ষা। এআই নিঃসন্দেহে অগ্রগতির প্রতীক, কিন্তু নারীদের লক্ষ্য করে অশ্লীলতা ছড়াতে এর ব্যবহার কিছু মানুষের চরম নৈতিক পতনকে প্রকাশ করে।’ 

    রাশমিকা আরও যোগ করেন, ‘ইন্টারনেট এখন আর সততার প্রতীক নয়, বরং এটি এমন এক ক্যানভাস যেখানে যেকোনো কিছু বানিয়ে ফেলা সম্ভব। অপব্যবহারের ঊর্ধ্বে উঠে আসুন আমরা আরও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে এআই ব্যবহার করি। মানুষ যদি মানুষের মতো আচরণ না করতে পারে, তবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।’ 

    উল্লেখ্য, রাশমিকা মান্দানার চেহারা ব্যবহার করে কৃত্রিম বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • জেল জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রকাশ সালমান খানের

    তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের খবর জানতে সর্বদাই আগ্রহী সাধারণ মানুষ। আর সেটা যদি হয় বলিউড সুপাস্টার সালমান খানের মতো তারকা তাহলে তো কোনো কথাই নেই। ভাইজান সম্পর্কে জানতে কে না আগ্রহী!

    ‘আমাজন প্রাইম ভিডিও’র পপুলার শো ‘অ্যালাইন্স’-এর লেটেস্ট প্রোমো প্রকাশ্যে আসতেই ভাইজান ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।

    এই শোয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন সুপারস্টার সালমান খান। প্রতিযোগীদের উদ্ভুদ্ধ করতে আর ভাই সোহেল খানকে অনুপ্রাণিত করতেই শোয়ে আসছেন সালমান। ব্যক্তিগত জীবনের গোপন তথ্য নিজেই ফাঁস করবেন। সেই ইঙ্গিতই রয়েছে প্রোমোতে। কোন ঘটনা খোলসা করবেন ভাইজান?

    ‘অ্যালাইন্স’-এর প্রোমো অনুযায়ী জেল জীবনের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করবেন সালমান। 

    কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় যখন জেলে গিয়েছিলেন সালমান খান সেই সময়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করবেন তিনি। সালমান খান বলেন, ‘অনেক বছর আগে যখন আমি জেলে গিয়েছিলাম তখন আমাদের সামনে লোহার শিক ছিল। খুব ছোট একটি জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ জনকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। এতগুলো মানুষের ব্যবহারের জন্য ছিল মাত্র একটা টয়লেট। সেখানে ছিল পিপড়া, তেলাপেকা আর টিকটিকির উপদ্রব। তার থেকেও খারাপ পরিস্থিতি ছিল যখন টয়লেট ভরে ময়লা ভেসে থাকত।’ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • গোপনে বিয়ে করেছিলেন রামগোপাল ও ঊর্মিলা, ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    নব্বইয়ের দশকে বলিউড নির্মাতা রামগোপাল ভার্মা ও অভিনেত্রী ঊর্মিলা মাতন্ডকরের প্রেমের গুঞ্জন বেশ চর্চিত বিষয় ছিল। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো সেই সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক প্রবীণ সাংবাদিক দাবি করেছেন, প্রেমের সম্পর্কে থাকাকালীন এই চর্চিত জুটি নাকি গোপনে বিয়েও করেছিলেন!

    ইউটিউবার সিদ্ধার্থ কানন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ বলিউড সাংবাদিক জ্যোতি ভেঙ্কটেশ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘জেন্টলম্যান’ সিনেমার শুটিং সেটে দক্ষিণী মেগাস্টার চিরঞ্জীবীর কাছ থেকে প্রথম তিনি এই খবর পেয়েছিলেন।

    চিরঞ্জীবী তাকে বলেছিলেন, জ্যোতি, একজন সাংবাদিক হিসেবে তুমি তো সবকিছু নিয়েই লেখো, তাহলে রামগোপাল ভার্মা ও ঊর্মিলার বিয়ের খবরটি কেন লিখলে না?

    এমন খবর শুনে সাংবাদিক অবাক হয়ে চিরঞ্জীবীর কাছে প্রমাণ চান। তখন অভিনেতা তাকে জানান, অন্ধ্র প্রদেশের একটি মন্দিরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এমনকি যে পুরোহিত তাদের বিয়ে পড়িয়েছিলেন, চিরঞ্জীবী তার ফোন নম্বরও এই সাংবাদিককে দিয়েছিলেন।

    তবে খবরটি পত্রিকায় ছাপানোর আগে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঊর্মিলাকে ফোন করেছিলেন ভেঙ্কটেশ। তার দাবি, খবরটি শোনা মাত্রই এই অভিনেত্রী কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, আপনি আমাকে নিয়ে এমন কথা কীভাবে লিখতে পারেন! আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর থেকেই তো আপনি আমাকে চেনেন।

    সাংবাদিক জানান, এরপর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য তিনি রামগোপাল ভার্মার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই নির্মাতা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    রামগোপাল ও ঊর্মিলার বিচ্ছেদের পেছনের কারণও জানিয়েছেন জ্যোতি ভেঙ্কটেশ। তার দাবি অনুযায়ী, ঊর্মিলা আইনিভাবে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রামগোপাল সেই মুহূর্তে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। আর এই মতবিরোধ থেকেই শেষ পর্যন্ত তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত এই জুটি একসঙ্গে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমায় কাজ করেছেন। এর মধ্যে ‘রঙ্গিলা’, ‘দাউদ’, ‘সত্য’ এবং ‘প্যায়ার তুনে ক্যায়া কিয়া’ উল্লেখযোগ্য।

    পেশাগত সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকাকালীন তাদের সম্পর্কের গুঞ্জন ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখনকার কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কাজের গণ্ডি পেরিয়ে তাদের সম্পর্ক বহুদূর গড়িয়েছে। এমনকি এই গুঞ্জনের কারণেই রামগোপাল ও তার তৎকালীন স্ত্রী রত্না ভার্মার সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল বলেও শোনা যায়।

    পরবর্তী সময়ে নিজের আত্মজীবনী ‘গানস অ্যান্ড থাইস: দ্য স্টোরি অব মাই লাইফ’-এ এই অভিনেত্রীর প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন রামগোপাল ভার্মা। বইটিতে ‘উইমেন ইন মাই লাইফ’ (আমার জীবনের নারীরা) শিরোনামের পুরো একটি অধ্যায় তিনি ঊর্মিলাকে উৎসর্গ করেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ঊর্মিলার সৌন্দর্যে তিনি এতটাই বিমোহিত ছিলেন যে, সেই মুগ্ধতা থেকেই তাকে ‘রঙ্গিলা’ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

    সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • টক্সিকে যশ–কিয়ারার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা, কড়া জবাব হুমা কুরেশির

    বলিউডের আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক’-এর ‘তাবাহি’ গান প্রকাশের পর থেকেই যশ ও কিয়ারা আদভানির ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে কিয়ারাকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়ার পর এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। তিনি কিয়ারা ও যশের পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচনাকে ‘অসুস্থ মানসিকতার’ বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন।

    গানটি প্রকাশের পর অনেকেই দাবি করেন, একজন বিবাহিত নারী এবং সদ্য মা হওয়ার পর কিয়ারার এমন দৃশ্যে অভিনয় করা উচিত হয়নি। তবে একই দৃশ্যে অভিনয় করা যশও বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা হলেও তাকে ঘিরে তেমন সমালোচনা দেখা যায়নি। বিষয়টিকে দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন হুমা।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য নারীবিদ্বেষী মানসিকতার পরিচয় বহন করে। তার ভাষায়, এটা খুবই অসুস্থ এবং নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তবে আমার বিশ্বাস, এই ছবির অভিনেত্রী ও পরিচালকই শেষ পর্যন্ত জিতবেন। এসব মন্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মানুষের মানসিকতা কথায় বদলানো যায় না, ছবিটাই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।

    হুমা আরও বলেন, বাস্তব পৃথিবী অনেক সুন্দর হলেও ইন্টারনেটের পরিবেশ সব সময় তেমন নয়। তাই অনলাইনের ট্রোলদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর কোনো অর্থ নেই। তার মতে, সিনেমা মুক্তির পর দর্শকরাই এর যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।

    এদিকে বিতর্ক শুধু কিয়ারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার স্বামী অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রাকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকেই তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গিয়ে কিয়ারার অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

    ‘টক্সিক’ ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সিনেমাটির কলাকুশলীরা মনে করছেন, সব সমালোচনার জবাব দেবে পর্দায় সিনেমার উপস্থাপনাই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বলিউডকে আর আগের মতো ‘পরিবার’ মনে হয় না: সঞ্জয় দত্ত

    চার দশকের বেশি সময় আগে যখন অভিনয়ে নাম লিখিয়েছিলেন, তখনকার চেয়ে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। বলিউডের এই বদলে যাওয়া রূপ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছে প্রবীণ অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের কণ্ঠে। তার মতে, বলিউডকে এখন আর আপন কোনো ‘পরিবার’ মনে হয় না।

    সম্প্রতি এআইজি হসপিটালস-এর ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬৭ বছর বয়সি এই অভিনেতা বলেন, একসময় বলিউডে একতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার দারুণ এক মেলবন্ধন ছিল।

    সঞ্জয় দত্ত বলেন, আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন এই ইন্ডাস্ট্রিকে একটি পরিবারের মতো মনে হতো। সবাই একসঙ্গে থাকতো, সবাই একে অপরকে সাহায্য করত। কিন্তু এখন এটি অনেক বেশি নির্দয় এবং প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। হলিউডের হিসাবটা অবশ্য এখান থেকে আলাদা।

    উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে ‘রকি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সঞ্জয় দত্তের। এরপর তিনি ‘খলনায়ক’ এবং ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’-এর মতো একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকহৃদয় জয় করেছেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সাক্ষাৎকারে এ অভিনেতা কারাগারে কাটানো সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেলে বসে তার শেখা সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষাটি ছিল ‘ক্ষমা করা’।

    সঞ্জয় দত্ত বলেন, আমি ক্ষমা করতে শিখেছি। সেখানকার একজন কনস্টেবল আমাকে এ শিক্ষাটা খুব ভালোভাবে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘মানুষকে ক্ষমা করতে শিখুন, তাহলে জীবনে আরও বড় হতে পারবেন।’ হয়তো আপনি জানেন যে কেউ আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, তারপরও তাকে ক্ষমা করে দিন।

    তিনি আরও জানান, ক্ষমা করার এ গুণটি তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

    সঞ্জয় দত্তকে সর্বশেষ দেখা গেছে আদিত্য ধর পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এ। এই সিনেমায় তার অনবদ্য অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

    সূত্র: সামা টিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আমি ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছি’—ভাই সোহেলকে জানালেন সালমান খান

    বলিউড ভাইজান সালমান খান জানিয়েছেন, তিনি ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের উদ্বেগের মধ্যে এই তথ্য সামনে এসেছে।

    সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইমের রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এর ফাইনাল সপ্তাহে ভাই সোহেল খানকে সমর্থন জানাতে বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির হন সালমান। অনুষ্ঠানটির একটি ভিডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

    ভিডিওতে সালমানকে সোহেলের সঙ্গে ওজন কমানো নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সোহেল জানান, তিনি ১২ কেজি ওজন কমিয়েছেন এবং নিজের অ্যাবসও দেখান। জবাবে সালমান বলেন, ‘আমি ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছি।’

    সম্প্রতি মুম্বাইয়ে স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি (এসআরএ)-এর একটি সরকারি অনুষ্ঠানে সালমানের উপস্থিতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেক ভক্ত তার চেহারা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

    রিয়েলিটি শোতে ভাইয়ের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় সালমান মজা করে অভিনেতা রিতেশ দেশমুখকেও খোঁচা দেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে রিতেশ দেশমুখের চাকরি বিপদে আছে।’ যদিও তিনি ঠিক কী প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেছেন, তা প্রচারিত প্রোমোতে স্পষ্ট করা হয়নি।

    অনুষ্ঠানে সোহেল এক আবেগঘন মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে স্টোররুমের দরজায় বারবার লাথি মেরেছিলেন। এরপর সালমান প্রতিযোগীদের উদ্দেশে মজা করে জানতে চান, তারা কি সোহেলকে অতিরিক্ত চাপ দিচ্ছেন।

    সালমান খান ও রিতেশ দেশমুখের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। রিতেশের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘রাজা শিবাজি’-তে তার অনুরোধেই বিশেষ উপস্থিতি দিয়েছিলেন সালমান।

    ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত আলোচনার বাইরে থাকা সোহেল খান ‘অ্যালায়েন্স’-এ অংশ নেওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন। পরে তার সাবেক স্ত্রী সীমা সাজদেহও অনুষ্ঠানে যোগ দিলে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়ে। সোহেল ফাইনাল সপ্তাহে জায়গা করে নেওয়ায় তাকে উৎসাহ দিতে হাজির হন সালমান।

    দীর্ঘদিন ‘বিগ বস’ সঞ্চালনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত সালমান এবার কোনো সঞ্চালক বা তারকা অতিথি হিসেবে নয় বরং একজন সহায়ক বড় ভাইয়ের ভূমিকায় রিয়েলিটি শোতে উপস্থিত হন। এই ভিন্ন রূপ ভক্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • টাকার বিনিময়ে যে প্রস্তাব পান অভিনেত্রী

    জীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মডেল ও রিয়েলিটি তারকা আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা–সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। 

    জাতীয় টেলিভিশনে এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরায় তার সাহসের প্রশংসা করেছেন শোর সঞ্চালক ফারাহ খান ও রিতেশ দেশমুখ।

    শো থেকে বিদায়ের সময় আকাঙ্ক্ষা বলেন, একটি বিউটি পেজেন্টে অংশ নিতে তার এক থেকে দুই লাখ রুপি প্রয়োজন ছিল। পোশাক, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না। সে সময় তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তা চান। ওই ব্যক্তি অতীতে বিভিন্ন প্রতিযোগীকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন বলেই তার কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আকাঙ্ক্ষা।

    আকাঙ্ক্ষা জানান, অর্থ ধার নেওয়ার বিনিময়ে কাজ করে সেই টাকা শোধ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা এবং ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকায় তিনি চাকরি বা অন্যভাবে কাজ করে ঋণ পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তাতে রাজি হয়ে তাকে নিজের বাসায় ডাকেন।

    আকাঙ্ক্ষার দাবি, আগে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরামর্শদাতাদের সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তার ভাষায়, সেখানে পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তি তাকে আলিঙ্গন করেন, তবে সেটি স্বাভাবিক আলিঙ্গন ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি জোর করে তাকে স্পর্শ করেন এবং তিনি তাকে সরিয়ে দেন।

    এরপর ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, এক বছর আগে যদি তার প্রস্তাবে রাজি হতেন, তাহলে এত দিনে অভিনয়ের সুযোগ পেতেন। এখন যেহেতু কাজ পাচ্ছেন না, তাই অর্থের বিনিময়ে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে হবে। আকাঙ্ক্ষার দাবি, ওই ব্যক্তি এমনকি এক মাসে পাঁচবার যৌন সম্পর্কের শর্তও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

    আকাঙ্ক্ষা জানান, তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার কথায়, তিনি ওই ব্যক্তিকে বলেন, আগে জানলে কখনোই সেখানে যেতেন না। জবাবে ওই ব্যক্তি নাকি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি এই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হবেন এবং এই ইন্ডাস্ট্রিতে এমন সমঝোতা ছাড়া এগোনো সম্ভব নয়।

    তবে আকাঙ্ক্ষা বলেন, তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। তার দাবি, ঘটনার ছয় মাস পর তিনি একটি বড় শোতে সুযোগ পান এবং এক বছরের মধ্যে দেশের অন্যতম বড় মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ অর্জন করেন নিজের পরিশ্রমের জোরেই।

    আকাঙ্ক্ষার এই বক্তব্য শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফারাহ খান। তিনি বলেন, ‘আশা করি, সেই ব্যক্তি এই অনুষ্ঠান দেখছেন এবং দেখছেন তুমি আজ কোথায় পৌঁছেছ। তোমার চিন্তাধারা পিছিয়ে থাকা নয়, বরং সঠিক। আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।’

    আকাঙ্ক্ষা তার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি। ফলে তার বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো পক্ষের প্রতিক্রিয়া বা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আগুনে আর ঘি ঢালবেন না: হৃতিককে কেন বললেন কঙ্গনা

    বলিউডের বহুল আলোচিত হৃতিক রোশন ও কঙ্গনা রানাউতের প্রায় এক দশক পুরোনো বিরোধ আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘উই নিড টু অ্যাপোলজাইজ টু হৃতিক’ শিরোনামে একটি ট্রেন্ড ভাইরাল হওয়ার পর দুজনই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

    ঘটনার সূত্রপাত লেখক ফ্রেডি বার্ডির একটি পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, পৃথিবীর উচিত হৃতিক রোশনের কাছে ক্ষমা চাওয়া। পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ২০১৬ সালের হৃতিক-কঙ্গনা বিরোধ নতুন করে আলোচনা শুরু করেন।

    এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হৃতিক রোশন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচলিত মতামতের ওপর নির্ভর করে কোনো পক্ষ নেওয়া উচিত নয়। তিনি লেখেন, শুধু একজনকে অপছন্দ করেন বলে আরেকজনের পক্ষ নেওয়া আমাদের সমাজের বড় সমস্যার একটি অংশ। আমি পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তথ্য জানার পরই মতামত দিতে চাই।

    হৃতিকের এই মন্তব্যও দ্রুত ভাইরাল হয়। অনেকেই এটিকে কঙ্গনার সঙ্গে তার পুরোনো বিরোধের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন।

    এর কয়েক ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে হৃতিকের মন্তব্যের প্রতিবেদন শেয়ার করে পালটা জবাব দেন কঙ্গনা রানাউত। তিনি বলেন, হৃতিক এখন অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী সাবা আজাদের সঙ্গে সুখে আছেন, তাই পুরোনো বিতর্ককে আর উসকে না দেওয়াই ভালো। পাশাপাশি নিজের নাম ব্যবহার করে যারা তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও হৃতিকের অবস্থান নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা। তিনি হৃতিককে ‘আগুনে আর ঘি না ঢালার’ আহ্বান জানান।

    সম্প্রতি কঙ্গনার সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাসের বাকবিতণ্ডার পর নতুন করে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সৌরভ দাস মজা করে বলেছিলেন, তার বন্ধুরা মনে করেন তিনি তরুণ বয়সের হৃতিক রোশনের মতো দেখতে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মিম ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরোনো বিরোধ আবার সামনে চলে আসে।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রানাউত হৃতিক রোশনকে তার ‘সিলি এক্স’ বলে উল্লেখ করলে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ শুরু হয়। হৃতিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করলে বিষয়টি আইনি নোটিশ, পালটা-পালটি অভিযোগ ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে গড়ায়। প্রায় এক দশক পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সূত্রে সেই বিতর্ক বারবার ফিরে আসছে।

    সূত্র: গালফ নিউজ

    বিনোদন ডেস্ক

  • বন্ধুত্বের ফাঁদ, সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র, তারপর নৃশংস হত্যা

    মুম্বাইয়ের লোকহান্ডওয়ালার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ২০১২ সালের ৭ এপ্রিল রাতে শোনা গিয়েছিল এক বৃদ্ধের আর্তচিৎকার। প্রথম তলার জানালা দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিলেন তিনি। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী দেখেন, এক ব্যক্তি তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার আঘাত করছে। কিছুক্ষণ পর পর্দার রড ভেঙে গেলে বৃদ্ধ ঘরের ভেতরে পড়ে যান। পরে পুলিশ বাথরুম থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তি ছিলেন অভিনেতা অনুজ টিক্কুর বাবা অরুণ টিক্কু।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এটি ছিল শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; বরং বলিউডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পরিচয় জালিয়াতি, বন্ধুত্বের ফাঁদ এবং সম্পত্তি দখলের একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

    ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা

    প্রত্যক্ষদর্শী হারাঙ্গাদ সিং মাইনি নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে ফ্ল্যাটে গেলে দরজা খুলে এক ব্যক্তি দাবি করেন, ভেতরে সামান্য ঝগড়া হয়েছে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু তার শরীরে রক্তের দাগ ছিল। ফ্ল্যাটে ঢুকে মাইনি আরও একজনকে দেখতে পান, যার পায়েও রক্ত লেগে ছিল। সন্দেহ হওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীরা বাইরে থেকে ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন।

    প্রায় আধা ঘণ্টা পরে পুলিশ এসে দেখে, অভিযুক্তরা বাথরুমের জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছে।

    নিহতের পরিচয়, নিখোঁজ ছেলে

    ফ্ল্যাটের ভেতরে সর্বত্র রক্তের দাগ, ভাঙাচোরা আসবাবপত্র ও তছনছ অবস্থার মধ্যে বাথরুমে পাওয়া যায় অরুণ টিক্কুর মরদেহ। তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল এবং গলায় কম্পিউটারের তার পেঁচানো ছিল।

    তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ দেখতে পায়, সর্বশেষ কলটি হয়েছিল ছেলে অনুজ টিক্কুর সঙ্গে। কিন্তু অনুজের ফোন বন্ধ থাকায় সন্দেহের তীর প্রথমে তার দিকেই যায়।

    পরে কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ গোয়ার পথে চিপলুন এলাকায় অনুজ ও তার বন্ধু পরিচয়ে থাকা করণ সুদকে আটক করে। তখনই অনুজ জানতে পারেন, তার বাবা খুন হয়েছেন।

    অনুজ দাবি করেন, তিনি বন্ধুর সঙ্গে গোয়া গিয়েছিলেন এবং মুম্বাইয়ে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

    করণ সুদ নয়, আসলে পলাতক খুনি

    তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। করণ সুদ নামে যাকে অনুজ চিনতেন, তিনি আসলে করণ নন। তার প্রকৃত নাম বিজয় পালান্ডে, যিনি একাধিক মামলার আসামি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি।

    পুলিশ জানায়, পালান্ডে নিজেকে বিদেশে হোটেল ব্যবসার মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। অনুজের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সিমরান সুদ নামে এক নারী। পরে জানা যায়, তার আসল নাম সীমা দুসাঞ্জ এবং তিনি পালান্ডের স্ত্রী। যদিও অনুজকে বলা হয়েছিল, তিনি পালান্ডের বোন।

    অনুজ বলেন, বলিউডে কাজের সূত্রে পরিচয়ের কারণে তিনি তাদের সন্দেহ করেননি। ধীরে ধীরে পালান্ডে তার আস্থা অর্জন করেন এবং তার সম্পত্তি সম্পর্কেও আগ্রহ দেখাতে শুরু করেন।

    আসল লক্ষ্য ছিলেন অনুজ

    তদন্ত শেষে পুলিশ অনুজকে নির্দোষ ঘোষণা করে সরকারি সাক্ষী করে।

    পুলিশের দাবি, মূল লক্ষ্য ছিলেন অনুজ টিক্কু। পরিকল্পনা ছিল, তার স্বাক্ষর নিয়ে সম্পত্তির কাগজপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, তাকে গোয়ায় নিয়ে হত্যা করা এবং তার ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ দখল করা।

    কিন্তু অরুণ টিক্কু মুম্বাইয়ে এসে ভাড়াটিয়াদের কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করলে ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পনা বদলে ফেলে। অনুজকে গোয়ার দিকে পাঠিয়ে অরুণকে একা রেখে হত্যা করা হয়।

    ব্যাংকের লকারে মিলল ‘সুইসাইড নোট’

    তদন্তের সময় বিজয় পালান্ডের একটি ব্যাংক লকার থেকে অনুজ টিক্কুর নামে একটি কথিত আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার হয়।

    সেখানে লেখা ছিল, তিনি জীবনে সুখী নন এবং নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না।

    পুলিশের অভিযোগ, অনুজকে হত্যা করার পর এই চিঠি প্রকাশ করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল।

    তবে অনুজ দাবি করেন, তাকে মাদক মিশ্রিত বিয়ার পান করিয়ে জোর করে ওই চিঠি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তার প্রশ্ন ছিল, সত্যিকারের আত্মহত্যার চিঠি কেউ ব্যাংকের লকারে রেখে যায় কেন?

    ভয়াবহ সেই রাত

    পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অনুজ যখন বাবার হত্যাকাণ্ডের ফ্ল্যাটে ফিরে যান, তখনও রক্তের দাগ, ভাঙা আসবাবপত্র এবং হত্যার চিহ্ন রয়ে গিয়েছিল। তিনি পরে জানান, সেই ভয়াবহ অপরাধস্থলেই তিনি রাত কাটিয়েছিলেন।

    ঘটনাটি কভার করা অপরাধবিষয়ক সাংবাদিক বিবেক আগারওয়াল বলেন, অনুজ ছিলেন অত্যন্ত সরল মানুষ। তার সীমিত সামাজিক যোগাযোগ এবং বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রামই তাকে সহজ টার্গেটে পরিণত করেছিল। অভিযুক্তরা সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়েছিল।

    রায় হলেও শেষ হয়নি লড়াই

    অরুণ টিক্কু হত্যা মামলায় বিজয় পালান্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। একই মামলায় ধনঞ্জয় শিন্ডে ও মনোজ গাজকোশও সাজা ভোগ করছেন। সীমা দুসাঞ্জ তিন বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন।

    তবে অনুজ টিক্কুর দাবি, এখনও পুরোপুরি বিচার হয়নি। তিনি আশা করছেন, বিজয় পালান্ডের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেই তার বাবার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হবে।

    তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, এই মামলা শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ভুয়া পরিচয়, বিশ্বাস অর্জন এবং পরিকল্পিত প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি দখলের ভয়াবহ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

    পরবর্তীতে আরেকটি আলোচিত হত্যা মামলাতেও বিজয় পালান্ডেকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেই মামলায় নিহত হন চলচ্চিত্র প্রযোজক হওয়ার স্বপ্ন দেখা করণ কাক্কার, যিনি বন্ধুত্ব ও বলিউডে সুযোগের প্রলোভনে পালান্ডের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে কটাক্ষের জবাব দিলেন কিয়ারা

    ভারতের দক্ষিণী সুপারস্টার যশের সঙ্গে ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন আপস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। সিনেমাটির কিছু ঘনিষ্ঠ ও সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। বিশেষ করে একাংশের নেটিজেনদের দাবি, মা হওয়ার পর এমন চরিত্রে অভিনয় করা তার জন্য উপযুক্ত হয়নি।

    তবে সমালোচনা ও ট্রলকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন কিয়ারা। তিনি জানিয়েছেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে এবং ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই ‘টক্সিক’-এ যুক্ত হয়েছেন। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিনেমাটি কিয়ারার ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও সাহসী কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে কিয়ারা বলেন, ‘গল্পটা প্রথম যখন শুনি, তখনই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার চরিত্রটি সুন্দর ভাবে তৈরি করা হয়েছে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে এমন চরিত্রই তো সব সময় খুঁজি। আমার মনে হয়েছিল, ক্যারিয়ারের এমন এক জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে এমন কঠিন একটি চরিত্র করার আত্মবিশ্বাস এসেছে।’    

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    যদিও চলচ্চিত্রে কিয়ারার মূল চরিত্রটি ঠিক কেমন, তা নিয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে পর্দায় যশের বিপরীতে ‘নাদিয়া’ চরিত্রে তার উপস্থিতিও সাহসী দৃশ্যগুলো এরই মধ্যে দর্শক ও অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। নারী চরিত্রের প্রচলিত রূপরেখা প্রসঙ্গে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে কিয়ারা জানান, তিনি কখনোই চান না কোনো নারী চরিত্রকে একটি নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে রাখা হোক।

    অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘আমি চাই না, নারীদের এক ধরনের চরিত্রে আটকে রাখা হোক। আমরা তার চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। তাহলে পর্দার চরিত্রও কেন তেমন হবে না?’ তিনি মনে করেন, পর্দায় নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপন হওয়া উচিত বেশ শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র, আর ‘টক্সিক’-এর চরিত্রটি ঠিক তেমনই এক নির্মাণ।

    প্রসঙ্গত, ‘টক্সিক’ সিনেমাটির যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নায়ক যশ ও গীতু মোহনদাস। এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন গীতু মোহনদাস নিজেই। প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, ছবিটি মূল দ্বভাষিক হিসেবে ইংরেজি ও কন্নড় ভাষায় একসঙ্গে শুট করা হয়েছে। পরবর্তীতে এটি হিন্দি, তেলুগু, তামিল ও মলয়ালমসহ একাধিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

    বিনোদন ডেস্ক