Tag: পরীমনি

  • আমি একা এতো কিছু সামলাচ্ছি কিভাবে: পরীমনি

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবসময়ই সামাজিক মাধ্যমে সরব থাকেন তিনি। ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নানা বিষয় ভাগ করে নেন। অভিনয়ের বাইরে নানা কর্মকাণ্ডের কারণেও আলোচনার পাশাপাশি তাকে নিয়ে সমালোচনাও কম নেই।  তবে এবার এক অন্য পরীর দেখা মিলল। 

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এ অভিনেত্রী এক ফেসবুক পোস্টে জীবনের এক অদ্ভুত অথচ সুন্দর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা তার অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একদিকে পেশাগত জীবন, অন্যদিকে মাতৃত্বের প্রতি তার দায়বদ্ধতাকে পোস্টটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন পরী। বিষয়টি নেটিজেনদের ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। 

    একা হাতে জীবন যুদ্ধে একজন সফল অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে দুই সন্তানকে সামলানো যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা ফুটে উঠেছে তার লেখায়। পরীমনি লেখেন, ‘আমি সত্যিই পরী। সত্যি এক পরী জীবন আমার। এই যে জীবনের এতো কিছু একা একা কি অদ্ভুত সুন্দরভাবে করে যাচ্ছি আমি, এটা কি এতো সহজ!’ বাচ্চাদের খাওয়ানো এবং ঘুম পাড়ানোর পর যখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার কথা, তখনই নিজের তৃপ্তির জন্য রান্না করতে রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন তিনি। 

    অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘শুকরিয়া করতে করতে ভাবলাম এই যে, আমি একা এতো কিছু সামলাচ্ছি কিভাবে!! আমার তো অনেক কষ্ট হবার কথা, টায়ার্ড লাগার কথা! কই ওগুলো!! যাই হোক, ওসব নিখোঁজ থাকুক যেমন আছে এখন।’ উল্লেখ করার মতো বিষয়, জীবনের এই ব্যস্ততাকে বেশ ইতিবাচকভাবেই তুলে ধরেছেন পরী। 

    অভিনেত্রীর মতে, সব প্রতিকূলতা জয় করে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানো আর নিজের সব কাজ একা সামলানোই তাকে প্রকৃত ‘পরী’ করে তুলেছে। তার এই জীবনটা আসলেই এক ‘পরী জীবন’ বলে বিশ্বাস করেন তিনি। 

    পেশাগত জীবনের সঙ্গে মা হিসেবে পরীমনির এই দায়বদ্ধতা তার ভক্তদেরও মুগ্ধ করেছে।  নায়িকার এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। জীবন নিয়ে পরীর এমন সুন্দর, স্বাভাবিক ও অকপট স্বীকারোক্তি নেটিজেনদের ভূয়সী প্রশংসা কুঁড়াচ্ছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে থাকার মতো একটি কাজ চাই: পরীমনি

    ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনি এবার সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আর এই সিনেমায় পরীমনির সঙ্গী হচ্ছেন চঞ্চল চৌধুরী।

    রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার নির্মাতা লীসা গাজী, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, পরীমনি ও সিনেমার অন্যান্য কলাকুশলীরা।

    দীর্ঘদিন ধরে মনে লালন করা এক সুপ্ত বাসনা পূরণ হতে চলায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করতেন আমার পছন্দের চরিত্র কী? আমি সবসময় বলতাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো একটি চরিত্রে অভিনয় করতে চাই।’

    তিনি বলেন, ‘শাস্তির মতো একটি চরিত্রে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে ছিলাম। অবশেষে সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সেই আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে কাজটা সুন্দরভাবে শেষ করতে চাই।’

    নিজের ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থান ও কাজের ধরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনির ভাষ্যমতে, ইদানীং তিনি যে ঘরানার কাজ করছেন তাতে প্রথাগত ‘হিরোইন’ ইমেজ নেই। 

    তিনি বলেন, ‘শুধু বাণিজ্যিক সিনেমা বা ল্যাহেঙ্গা পরে নাচানাচি করলে তো হয় না। দিন শেষে দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে থাকার মতো একটি কাজ চাই, একটি শক্ত চরিত্র চাই। আমার মনে হয়, ‘শাস্তি’র চন্দরা চরিত্রটি আমাকে সেই তৃপ্তি দেবে।’

    তার কথায়, ‘আমরা যখন হিরোদের সঙ্গে কাজ করি, তখন অনেক সময় তাদের ঠিকঠাক পাওয়া যায় না। তবে সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমি এখন শুধু ভালো কাজের দিকেই ফোকাস করছি।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • চঞ্চল-পরীমনির ‘শাস্তি’

    প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী ও পরীমনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বণে নতুন এই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন লীসা গাজী।  জানা গেছে, আগামী সোমবার ছবিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। 

    আসন্ন এই সিনেমা নিয়ে পরিচালক জানান, রবীন্দ্রনাথের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এটি হুবহু পুনর্নির্মাণ নয়; বরং নতুন সময়ের ভাষায় গল্পটি তুলে ধরাই তার মূল উদ্দেশ্য। 

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাস্তি’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও মানবিক গল্প হিসেবে পরিচিত। গল্পের মূল উপজীব্য গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীর নীরব আত্মত্যাগ। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    গল্পে দুই ভাই-চিদাম ও দুখিরামের পারিবারিক জীবনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনি। এক তুচ্ছ বিরোধের জেরে চিদাম হঠাৎ রাগের মাথায় দুখিরামের স্ত্রীকে হত্যা করে বসে। পরে আইনের হাত থেকে বাঁচতে সে নিজের স্ত্রী চন্দরা’র ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে দেয়। 

    চন্দরা নির্দোষ হয়েও স্বামী ও সমাজের চাপে হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়। মৃত্যুদণ্ডের আগে সত্য বলার সুযোগ পেলেও সে আর কিছু বলে না। এই নীরবতাই হয়ে ওঠে গল্পের সবচেয়ে গভীর প্রতিবাদ-যেখানে আত্মসম্মান, বিশ্বাসভঙ্গ আর অবিচারের বিরুদ্ধে তার শেষ অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

    ছবিটি নির্মাণের সঙ্গে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়। 

    উল্লেখ্য, ‘শাস্তি’ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়; এটি নারীর ওপর আরোপিত অন্যায়, নৈতিক ভাঙন এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • অসুস্থ হয়ে আদালত ছাড়লেন পরীমনি

    ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে গরমে অসুস্থ হয়ে আদালত ত্যাগ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

    সোমবার (২৬ মে) সকাল ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন পরীমনি। এদিন বিকালে পরীমনিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা করার জন্য সময় ধার্য করেন বিচারক। 

    তবে সারাদিন আদালতে বসে থেকে গরমে অসুস্থতা অনুভূত হওয়ায় আদালত ছেড়ে চলে যান তিনি। এজন্য আজ তাকে জেরা করা সম্ভব হয়নি। জেরার জন্য পরে নতুন দিন ধার্য করেছেন বিচারক।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমি তিনজনের পক্ষে বাদীকে জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। এজন্য তিনি আদালতে উপস্থিত হন। 

    বেলা সাড়ে ১১ টায় জানানো হয় যে, বিকেল ৩টায় পরীমনিকে জেরা করা হবে। এ জন্য পরীমনি গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। এইভাবে বসে থাকার পর বিকেল ৩টার দিকে পরীমনি সময় চেয়ে আবেদন করেন।

    আরও পড়ুন


    সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি অসুস্থতা অনুভব করছেন। পরে আদালত তার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে তিনি আদালত থেকে ফিরে যান।  

    নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পরীমনির বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। 

    ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান।

    বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরীমনি সাভার থানায় বাদী নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

    এছাড়া ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। মাদকের মামলায় পরীমনির একই বছরের ৫ আগস্ট চারদিন ও ১০ আগস্ট দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

    সম্প্রতি পিংকি আক্তার নামে এক গৃহকর্মী তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন। 

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • ‘আমি সবকিছু নিতে পারি না, দুম করে রিঅ্যাক্ট করে ফেলি’

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি নানা সময়ে আলোচনায় থাকেন। ক্যারিয়ারের চেয়ে তার ব্যক্তিজীবনের নানা কর্মকাণ্ড ওঠে আসে সামাজিক মাধ্যমে, চলে নেটিজেনদের আলোচনা-সমালোচনা।  প্রেম, বিয়ে আর বিচ্ছেদ তো বটেই, কখনো অনিয়ন্ত্রিত মেজাজ চালচলনের কারণেও সমালোচনায় থাকেন এ অভিনেত্রী। 

    পরীমনির ভক্তদের অনেকেই মনে করেন, পরীমনি কখনো নিজের মেজাজ হারালেও আদতে পরে সেসব তিনি উপলব্ধি করতে পারেন। তিনি নিজেও সেটি অনুধাবন করেছেন হয়তো অনেকবার। আর তা নিয়ে সমসাময়িক সব বিতর্ক কিংবা ঝামেলা এখন বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জীবনে। এ জন্য নিজেকে বদলে ফেলবেন বলেও জানান পরীমনি।

    গত শুক্রবার (১৬ মে) বাইফা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী পরীমনি। এ সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নানা কথা বলেন তিনি। নিজের মেজাজ হারানোর বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, আর দশজন মানুষের মতো আমারও রাগ, দুঃখ, কষ্ট ও অভিমান হয়। কিন্তু আমি সব কিছু নিতে পারি না। দুম করে রিঅ্যাক্ট করে ফেলি। সেই রিঅ্যাকশনটা মানুষ নিতে পারে না। 

    তিনি বলেন, সবাই বলে— নায়িকা মানুষ এটা করা যাবে না। এই বাউন্ডারির মধ্যে যখন পড়ে গেছি, তখন আমার মনে হয় জাস্ট অ্যাভয়েড করি। নিজেকে আড়াল করতে গিয়েও পারেন না তিনি। 

    এ নিয়ে আক্ষেপ করে অভিনেত্রী বলেন, আমি যত চাই ঝামেলাগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, নিজেকে আড়াল করে জীবনটা উপভোগ করার চেষ্টা করি; ততই ঝামেলাগুলো আমার ওপর জেঁকে বসে। তাই বিশ্বাস করা শুরু করেছি— সব ঝামেলা নিয়েই আমাকে বাঁচতে হবে বলেও জানান পরীমনি।

    উল্লেখ, রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বাইফা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন পরীমনি। ‘রঙিলা কিতাব’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পাশাপাশি সেরা ওটিটি কন্টেন্ট হিসেবেও রঙিলা কিতাবের পুরস্কারটিও গ্রহণ করেছেন তিনি। এরপর বাড়ি ফিরেই ছেলে পুণ্যকে নিয়ে পুরস্কার দুটির সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের কিছু ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পরীমনি লিখেছেন— আমার এই অর্জন আমার দর্শকদের জন্য উৎসর্গ করছি। এটি আপনাদের। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফারিয়ার আগেও জেলে গেছেন ঢাকাই সিনেমার যে নায়িকারা

    রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    তবে ফারিয়ার জেলে যাওয়ার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসছে ঢাকাই সিনেমার আরও তিন শীর্ষ নায়িকার কথা। কেননা, এর আগে আইনগত জটিলতায় পড়ে জেল ও পুলিশের হেফজাতে ছিলেন। সেই তালিকায় রয়েছেন পরীমনি, মাহিয়া মাহি ও ময়ূরী। এই তালিকায় সবশেষ যোগ হলেন নুসরাত ফারিয়া।

    পরীমনি

    ২০২১ সালের আগস্টে র্যাব অভিযান চালিয়ে বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়। প্রায় ২৭ দিন তিনি কারাবন্দি ছিলেন। জামিনে মুক্তির পর তিনি কাজে ফিরে আসেন এবং আবার আলোচনায় আসেন তার চলচ্চিত্র ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে।

    মাহিয়া মাহি

    ২০২৩ সালের মার্চে মাহিয়া মাহি ও তার স্বামী ফেসবুক লাইভে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। এর জেরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেফার করা হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা পুলিশের হেফাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ঘটনাটি মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

    ময়ূরী

    ২০০০ দশকের গোড়ার দিকে অশ্লীলতার অভিযোগে চলচ্চিত্রপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন নায়িকা ময়ূরী। তাকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক থাকলেও, তার জেলে যাওয়া নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তলব ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের নজরদারিতে তিনি একাধিকবার ছিলেন বলে জানা যায়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বর্ষাকে সাবধান করলেন পরীমনি

    বুধবার (৭ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে গায়িকা ও ইনফ্লুয়েন্সার বর্ষা চৌধুরীর মৃত্যুর খবর। বর্ষার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেই প্রথমে জানানো হয় যে তিনি মারা গেছেন। এরপর নারী উদ্যোক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বারিশা হকও তার এক পোস্টে বর্ষার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

    এই খবরে মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া। নেটিজেনদের অনেকেই বর্ষার স্মরণে পোস্ট করতে শুরু করেন। তবে খুব বেশি সময় পার না হতেই আসে পাল্টা তথ্য—বর্ষা বেঁচে আছেন! বারিশা হক পরবর্তী এক পোস্টে পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, বর্ষা চৌধুরীর মৃত্যুর খবরটি মিথ্যা।

    তিনি দাবি করেন, বর্ষার ফেসবুক পেজ থেকে কে বা কারা এই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে, তা তার জানা নেই। তবে তখন পর্যন্ত এই ঘটনার উৎস বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে সরব হন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি কড়া ভাষায় বর্ষাকে সতর্ক করে লেখেন, ‘রাখাল আর বাঘের গল্পের মতো না হোক কোনোদিন। মৃত্যু নিয়ে এমন মজা আর নিয়েন না বা কাউকে নেওয়ার সুযোগও দিয়েন না ডিয়ার বর্ষা চৌধুরী। যেদিন সত্যি আপনি চলে যাবেন সেদিন আপনার জন্য শোক প্রকাশের জায়গাটা রাখেন অন্তত। জীবন সুন্দর হোক।’

    অতীত জীবন ও সাম্প্রতিক বিতর্ক

    বর্ষা চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবনও একাধিকবার এসেছে আলোচনায়। দুই বছর আগে তার দ্বিতীয় স্বামী ব্যান্ডশিল্পী রুমি রহমানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন বর্ষা। তখন তাদের সন্তান ছিল মাত্র দেড় মাস বয়সী। রুমির সঙ্গে এটি ছিল বর্ষার দ্বিতীয় সংসারও।

    রুমির মৃত্যুর পর বর্ষা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আবেগঘন পোস্ট দিতেন, যেগুলো অনেকেই সহানুভূতির চোখে দেখতেন। কিন্তু চলতি বছরের ১৬ মার্চ হঠাৎ করে বর্ষা তৃতীয়বার বিয়ে করেন—এবারের বর ঢাকাই সিনেমার অভিনেতা রাসেল মিয়া।

    বিয়ের পর শুরুতে তাদের সম্পর্ক ভালো চললেও গত মাসে নতুন করে বিতর্কে জড়ান বর্ষা। ৬৫ লাখ টাকা যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে বর্ষা রাসেলের বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় মামলা করেন। এরপর রাসেল মিয়া ফেসবুক লাইভে আত্মপক্ষ সমর্থন করে স্বেচ্ছায় থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • গৃহপরিচারিকার সংবাদ সম্মেলন, পরীমনি বললেন ‘হাস্যকর’

    ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার দুই গৃহপরিচারিকা। এ বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। তবে পুরো ঘটনা শুনে হাসছেন পরীমনি।

    মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন গৃহপরিচারিকা পিংকি আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, শিশুকন্যাকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীমনি তাকে মারধর করেছেন।

    পিংকির সঙ্গে আরও অভিযোগ তোলেন আরেক গৃহপরিচারিকা শিরিন আক্তার। তার দাবি, পরীমনি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং ১ মাসের বেতন না দিয়েই কাজ থেকে বের করে দিয়েছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে পিংকি আক্তার দাবি করেন, পরীমনির বাসার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে। তারা এই বিষয়ে তদন্তেরও দাবি জানান।

    পিংকি আক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কাদের এজেন্সির মাধ্যমে পরীমনির বাসায় কাজ পাই। কাজ ছিল বাচ্চার দেখাশোনা করা। তিনি আমাকে বাসার অন্য কাজও করাতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন ২ এপ্রিল তার বাচ্চাকে বসিয়ে রেখে বাজারের লিস্ট করছিলাম। এ সময় বাচ্চাটি কান্না শুরু করে। এর মধ্যে কান্না শুনে পরীমনির কাছে আসা সৌরভ নামের এক ব্যক্তি বাচ্চাকে সলিড খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। তাকে বলেছিলাম, কিছুক্ষণ আগে সলিড খাবার খেয়েছে। কাজ শেষ করে ওকে দুধ খাওয়াব।’

    দুধের কথা শুনেই পরীমনি ক্ষিপ্ত হন অভিযোগ করে পিংকি বলেন, ‘আমার আগে যে গৃহকর্মী ছিলেন, বাচ্চা কান্না করলে তিনিও মাঝেমধ্যে দুধ দিতেন। সে জন্য আমি বাচ্চাটার জন্য দুধ রেডি করছিলাম। এর মধ্যে পরীমনি মেকআপ রুম থেকে বের হয়ে আমাকে তুই-তুকারি করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন, কেন আমি বাচ্চার জন্য দুধ নিয়েছি।’

    নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে পিংকি বলেন, ‘একপর্যায়ে তিনি আমাকে থাপ্পড় দিতে থাকেন এবং মাথায় জোরে জোরে আঘাত করতে থাকেন। মারধরের পর আমি জোরে জোরে কান্না করতে থাকি এবং তাকে বলি, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি আমাকে বলেন, “তুই এখান থেকে কোথাও যেতে পারবি না। তোকে এখানেই মারব, এখানেই চিকিৎসা করব।” এ কথা বলে তিনি আবার আমাকে মারতে আসেন। তখন সৌরভ তাকে বাধা দেন। তিনি সৌরভকেও গালাগাল করতে থাকেন।’

    পিংকি আক্তার বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাই। প্রায় ১ ঘণ্টা পর আমার জ্ঞান ফেরে। বাসার আরেক গৃহকর্মী বৃষ্টিকে বলি আমাকে যেন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। বৃষ্টি বলেন, পরীমনি ঘুমিয়েছেন, তাকে এখন ডিস্টার্ব করা যাবে না। তখন আমি বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে এজেন্সির কাদের ভাইকে ফোন করে পুরো ঘটনা জানাই এবং সাহায্য চাই। তিনি যেন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তিনিও আমাকে সাহায্য করেননি। উল্টো দুদিন পর পরীমনিকে আরেকজন গৃহকর্মী দিয়ে যান। বাধ্য হয়ে আমি ৯৯৯-এ ফোন করি এবং পুলিশকে জানাই।’

    সংবাদ সম্মেলনে পিংকি বলেন, ‘পুলিশ পরীমনির বাসার সামনে এলে পরীমনি বৃষ্টিকে বলেন, আমাকে যেন বাসার নিচে নামিয়ে দিয়ে আসে। বৃষ্টি আমাকে বাসার নিচে নামিয়ে দেন। আমি রিকশা নিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই এবং প্রাথমিকভাবে থানায় একটি অভিযোগ দিই। এখন তিনি আমার বিরুদ্ধে নানারকম মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন।’

    পরীমনির বাসায় কাজ করেছেন দাবি করা আরেক গৃহপরিচারিকা শিরিন অভিযোগ করে বলেন, ‘পরীমনি আমার এক মাস চার দিনের বেতন বকেয়া রেখে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। আমার আগেও দুজনের সঙ্গে একই কাজ করেছেন।’

    এসব অভিযোগ পুরোনো। তবু এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হয় পরীমনির সঙ্গে। অভিনেত্রী ঘটনাটি শুনে হাসতে থাকেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘যে ঘটনা ইতিমধ্যে আদালতে উঠে গেছে, সেটা নিয়ে কেন প্রেস কনফারেন্স করতে হচ্ছে? যে ঘটনার বিচার আদালত করবেন, সেটা কেন মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা করা হচ্ছে?’

    পিংকি আক্তারের অভিযোগগুলো শুনে পরীমনি বলেন, ‘ওর বক্তব্য হাস্যকর। আমি নাকি ওকে আধঘণ্টা ধরে থাপ্পড় দিয়েছি! আমার বাচ্চার কামড়ে সে নাকি অজ্ঞান হয়ে গেছে! আমার বাচ্চা কি ভ্যাম্পায়ার নাকি?’ পরীমনি বলেন, ‘আমার পরিবার চলে গৃহকর্মীদের সাহায্যে। তাদের নিয়েই আমার সবকিছু। এতগুলো মানুষ আমার সঙ্গে থাকে, এত বছর হয়ে গেল, কেউ তো কখনও এ রকম অভিযোগ করেনি! এটা একটা প্রতারক চক্রের কাজ, কেউ ওদের দিয়ে এসব করাচ্ছে। এই মেয়েটি আগেও একটা পরিবারে কাজ করতে গিয়ে এ রকম অভিযোগ করেছিল, ভিডিও আছে।’

    নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত ১৭ এপ্রিল পরীমনিকে ১ নম্বর আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করা সৌরভ (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ৮ মের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এবার সেই গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করলেন পরীমনি

    ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি সম্প্রতি পিংকি আক্তার নামে এক গৃহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পিংকি। এবার সেই গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করলেন পরীমনি। 

    অভিনেত্রীর অভিযোগ, অনলাইনে কুৎসা রটনা করে তার মানহানি করেছে পিংকি আক্তার। 

    বুধবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরে আলমের আদালতে বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন তিনি। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে, আগামী ৮ জুলাই এ বিষয়ে তদন্ত করে ভাটারা থানাত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. জুয়েল মিয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে বাদী হয়ে পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহকর্মী পিংকি আক্তার। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ৮ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। 

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসিদুস জামান নিশান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    জানা গেছে, মামলার বাদী ভুক্তভোগী পিংকি আক্তার (২৪) নেত্রকোনা জেলা সদরের মৌগাতী ইউনিয়নের ফাদুলিয়া গ্রামের মো. মোজাম্মেলের মেয়ে।

    মামলার এজাহারে অভিযোগ বাদী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের মার্চে মামলার বাদী পিংকি আসামিদ্বয়ের বাসায় কাদের এজেন্সি নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহকর্মীর চাকরি গ্রহণ করেন। একটি বাচ্চাকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলে এজেন্সি হতে বাদীকে আসামিদের বাসায় নিয়োগ দেওয়া হলেও বাদীকে দুটি বাচ্চার দায়িত্ব পালন করতে হতো। এছাড়াও বাদীকে দিনে ও রাতে উভয় সময় বাসার রান্নার কাজ করতে হতো। তবুও বাদীর চাকরি একান্ত আবশ্যক হওয়ায় বাদী সব কিছু মুখ বুঝে সহ্য করে আন্তরিকতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

    তবে চলতি বছরের ২ এপ্রিল দুপুর ১টায় আসামি পরীমনি তার মেকআপ রুম হতে মাদক গ্রহণ করে বাচ্চার রুমে এসে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। বাদী গালাগাল কেন করছেন জানতে চাইলে পরীমনি বলে ‘তুই আমার বাচ্চার জন্য দুধ কেন তৈরি করছিস, এখন ওকে সলিড খাবার দিবি’। বাদী বলেন, ‘বাচ্চার খাওয়ার রুটিন অনুসারে এখন দুধ খাওয়ানোর কথা, তাই আমি দুধ তৈরি করেছি’।

    এ সময় পরীমনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীর মাথায়, মুখে ও চোখে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পড় মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে বাদী পিংকি পরীমনির মারধরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর বাদী ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য পিংকি তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরীমনিকে অনুরোধ করতে থাকেন। ঘটনার সময় ২নং আসামি সৌরভ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আসামিরা বাদীর কোনো কথা শোনেন নাই। আসামি সৌরভ পিংকিকে আরও নির্যাতন করার জন্য পরীমনিকে উৎসাহিত করতে থাকেন এবং বাদীকে বাসার বাইরে যাওয়া থেকে বিরত করেন।

    পরে ভুক্তভোগী পিংকি ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে যান। পরে পিংকি ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় পিংকি আক্তার গত ৪ এপ্রিল ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে এটির কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য না করে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পরীমনি-সাদীর সম্পর্কে ফাটল, নেপথ্যে কি সেই গৃহকর্মী?

    ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমনি ও তরুণ গায়ক শেখ সাদীর প্রেমের খবর বহুদিন ধরেই ছিল ‘ওপেন সিক্রেট’। তাদের ফেসবুক পোস্ট, ভিডিও এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ভক্তদের সহজেই সে সম্পর্কেরই বার্তা দিত। এমনকি সাদীর মায়ের বানানো বিভিন্ন পিঠার ভিডিও-ও পরীমনি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, যেখানে সম্পর্কের ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট।

    তবে এখন গুঞ্জন উঠেছে—তাদের সেই প্রেমে এসেছে ভাঙন। সম্প্রতি দুজনই ফেসবুকে দিয়েছেন রহস্যময় পোস্ট। পরীমনি কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে লিখেছেন, ‘ব্ল্যাকমেলার’। 

    অন্যদিকে সাদী ফেসুবকে পোস্ট করেছেন তিনটি ডট (…), যেটিকে অনেকে সম্পর্কের ইঙ্গিতপূর্ণ ভাঙন হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন।

    নেটিজেনদের মন্তব্যও তেমনটাই। কেউ লিখেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত পরীও ছ্যাঁকা দিয়ে দিল’। আরেকজন লিখেছেন, ‘এত তাড়াতাড়ি এমন পোস্ট আশা করিনি, সাদী ভাই।’

    পরীমনি তার পোস্টের কমেন্ট সেকশন বন্ধ রাখলেও, অনেকে সেই পোস্ট শেয়ার করে সরাসরি সাদীকে ট্যাগ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, ‘সাদী নিশ্চয়ই কিছু একটা করেছেন।’

    তবে দুজনের কেউই এখনো পর্যন্ত সম্পর্ক ভাঙার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি।

    পরীমনির অতীত সম্পর্কের ইতিহাস বেশ আলোচিত। তিনি একাধিকবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে একজন পরিচালক ও একজন নায়ক রয়েছেন। সর্বশেষ চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের সঙ্গে তার বিবাহিত সম্পর্কের ইতি ঘটে। তাদের এক পুত্রসন্তানও রয়েছে।

    রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পরীমনিকে গায়ক শেখ সাদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা যায়। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের প্রশংসা, এমনকি পরীমনির গ্রেফতারি পরোয়ানার সময় সাদীর জামিনদার হওয়া—সব মিলিয়ে তাদের সম্পর্ক ছিল গভীর ও দৃঢ়।

    তবে ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, তাদের সেই প্রেমে এখন চলছে টানাপোড়েন। রয়েছে মান-অভিমান, যা প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে।

    অনেকে মনে করছেন, মান-অভিমান কাটিয়ে তারা আবার একসঙ্গে হতে পারেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, সম্পর্কের যে অবস্থান এখন তা থেকে ফিরে আসা হয়তো আর সম্ভব নয়।

    গুঞ্জন রয়েছে, তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের পেছনে রয়েছে পরীমনির বাসায় অল্প কিছুদিন কাজ করা এক গৃহকর্মীর ভূমিকা। সন্তানের দেখভালে নিয়োজিত সেই কর্মীকে পরীমনি বাসা থেকে বের করে দেন। এরপর ওই গৃহকর্মী পরীমনি ও সাদী সম্পর্কে বিভিন্ন মুখরোচক কথা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

    পরীমনির ঘনিষ্ঠজনরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তারা বলেন, এই অপপ্রচারের কারণেই দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। এতে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পরীমনি বর্তমানে সন্তান ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে সাদীও তার সংগীতজগতে সক্রিয় রয়েছেন। একসময় তারা একে অপরের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন।

    সাদী সম্পর্কে পরীমনি বলেছিলেন, ‘একটা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে আমার জীবন চলছে। বিপদের সময় যে পাশে থাকেন, সে জীবনের জন্য আশীর্বাদ। আমি এই জীবনে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পেয়েছি, এখনো আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। আমার সুখ-দুঃখের গল্পগুলো তাদের সঙ্গে শেয়ার করি। এতে আমি মানসিকভাবে ভালো থাকি।’

    সাদীও বলেছিলেন, ‘আমি ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন কাজ করছি। পরীমনির অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। তিনি বিপদে পাশে থাকেন। সবসময় আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’

    যুগান্তর প্রতিবেদন