
চলতি বছরের ১৮ মার্চ মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর ২’ বর্তমানে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম কিস্তির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরিচালক আদিত্য ধরের দ্বিতীয় কিস্তিটিও বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।
তবে সিনেমার দুর্দান্ত প্লট বা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের পাশাপাশি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চর্চিত হচ্ছে রাকেশ বেদী অভিনীত ‘জামীল জামালী’ চরিত্রটি।
পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ নাবিল গাবোলের দাবি, সিনেমায় জামীল জামালী চরিত্রটি মূলত তাকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০০৭ সালে তিনি লিয়ারির এমএনএ ছিলেন বলেই তাকে এভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে জামীল জামালী চরিত্রটিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কর্মকর্তা হিসেবে দেখানোয় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাবিল গাবোল বলেন, ‘ভারত যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াই করতে অক্ষম বলেই সিনেমার আশ্রয় নিয়েছে। তারা লিয়ারিকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করেছে ঠিকই, কিন্তু একজন কমেডিয়ানকে (রাকেশ বেদী) দিয়ে আমার চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’
জামীল জামালী চরিত্রে অভিনয় করা রাকেশ বেদী অবশ্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথা স্বীকার করেননি। তার মতে, তিনি সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানি রাজনীতিকদের একটি সাধারণ রূপ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রলিংয়ের শিকার হওয়া পাকিস্তানি রাজনৈতিক নাবিল গাবোল এর এক কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের এই সিনেমার পাল্টা জবাব দিতে তিনি নিজেই একটি সিনেমা বানাবেন। ছবিটির নাম ‘ধুরন্ধর ৩’ না দিয়ে তিনি এর নাম দিতে চান ‘লিয়ারি কা গব্বর’।
পুরনো বিতর্ক
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে যখন ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম কিস্তি মুক্তি পায়, তখনও নাবিল গাবোল অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় পাকিস্তানি নেটিজেনরা সিনেমাটিকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার দায়ে অভিযুক্ত করলেও নাবিল জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তার কাছে নেই। তবে তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, তার ‘দাবাং’ বা প্রভাবশালী ইমেজকে সিনেমায় সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি।
আদিত্য ধরের এই পলিটিক্যাল থ্রিলারটি নিয়ে দুই দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে।
সূত্র: বলিউড শাদিস অবলম্বনে
বিনোদন ডেস্ক
Leave a Reply