Tag: মৃত্যু

  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন

    ভারতের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন। গত দুই বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর রোববার (২৬ এপ্রিল) দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। 

    তার ছেলে আলোকচিত্রী নিতিন রায় মৃত্যুর এই খবরটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। 

    সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে নিতিন রায় বলেন, দুই বছর আগে বাবার প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে, তবে তিনি সুস্থ হয়ে যান। এরপর তা পেটে ছড়িয়ে পড়ে, সেটাও সেরে যায়। সম্প্রতি মস্তিষ্কে তার ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে এবং এর পাশাপাশি বয়সজনিত সমস্যাও দেখা দেয়। 

    ১৯৪২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমানে পাকিস্তান) পাঞ্জাবের ঝাং-এ জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। তিনি ১৯৬২ সালে তার বড় ভাই ফটোগ্রাফার এস পালের কাছে ফটোগ্রাফি শিখতে শুরু করেন। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার পেশাদার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৬৫ সালে নয়াদিল্লির ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় আলোকচিত্রী হিসেবে যোগ দেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তার ক্যামেরায় বন্দি হয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা, শিবসেনা প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে, চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় থেকে মাদার তেরেসাসহ আরও অনেকেই। তার তোলা ১৯৮৪ সালে ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের ছবি বেশ সমাদৃত। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেও ক্যামেরাবন্দি করেছেন রঘু রাই। 

    আলোকচিত্রে অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র ধারণের জন্য তিনি প্রশংসিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন। 

    রঘু রাই পেশাগত জীবনে একাধিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় লোধি রোড শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্ত মারা গেছেন

    পশ্চিমবঙ্গের বরেণ্য অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত আর নেই। দেড় বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। 

    অভিনেতার স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিপ্লব দাশগুপ্ত গত দেড় বছর ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর পর সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার গল্ফক্লাব রোডের নিজ বাসভবন থেকে তার মরদেহ টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান কলকাতার অভিনয় জগতের তারকা ও কলাকুশলীরা। 

    প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শ্যাডোজ অব টাইম’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জীবনে পা রাখেন তিনি। এরপর ‘ফেলুদা’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘গুমনামি’ ইত্যাদি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। 

    ২০১৯ সালে তিনি ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। ‘কুয়াশা যখন’, ‘রাগে অনুরাগে’, ‘সখী’, ‘নেতাজি’র মতো আরও একঝাঁক জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিকে নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন ছুঁয়েছেন বিপ্লব। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে অভিনয় ও আবৃত্তিতেই থিতু হন এই অভিনেতা। বাচিকশিল্পী হিসেবেও ভারত ও বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। এছাড়া ভয়েস ওভার আর্টিস্ট ও বিজ্ঞাপনী জগতেও ছিল তার সরব উপস্থিতি। 

    বর্ষীয়ান এই অভিনেতার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, জয়জিৎ ব্যানার্জি, রূপাঞ্জনা মিত্রসহ আরও অনেকে। 

    এই অভিনেতা স্ত্রী ও এক কন্যা রেখে গেছেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেত্রী

    ভারতের হরিয়ানা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী আর নেই। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি দিব্যাঙ্কা একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে তার কয়েক লাখ ফলোয়ার রয়েছে।

    জানা গেছে, দিব্যাঙ্কা সিরোহী হরিয়ানার সিনেমায় কাজ করলেও তিনি আদতে উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের বাসিন্দা। ২১ এপ্রিল তিনি তার উত্তর প্রদেশের বাড়িতেই ছিলেন। সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

    তড়িঘড়ি করে নিকটবর্তী হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    দিব্যাঙ্কা সিরোহীর এই আকস্মিক এবং অকাল মৃত্যুতে তার সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত। তার মৃত্যুর খবর অনেকেই মানতে পারছেন না। সহকর্মী ও ভক্তরা এই শোক সংবাদে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। যদিও দিব্যাঙ্কার মৃত্যুর পর তার পরিবারের তরফ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    চৌধুরী চরণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রী বিসিএ পাশ করেন। পরবর্তীতে সিকিম থেকে এমবিএ করেন। টিকটকের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে সেখান থেকেই পরিচিতি পান দিব্যাঙ্কা। পরবর্তীকালে হরিয়ানার বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেন তিনি।

    তার দুই ভাই হিমাংশু, দীপাংশু এবং জসমীত নামের এক বোন রয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফরাসি অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস আর নেই

    ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস ৫৭ বছর বয়সে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি প্যারিসের একটি সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন মারা যান। ২০০০ সালের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’ এবং ‘মার্সেই’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রজগতে। নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো। প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। 

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নাদিয়া ফারেস। এর আগে প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে কৃত্রিমভাবে কোমায় রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৭ এপ্রিল তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    নাদিয়া ফারেসের দুই মেয়ে সিলিয়া ও শানা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারাল, আর আমরা হারালাম আমাদের মাকে।’ ব্যক্তিগত এ ক্ষতির কথা তুলে ধরে তারা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    এর আগে ২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাদিয়া ফারেস। পরে ২০১৬ সালে ‘মার্সেই’ সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া নাদিয়া শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান তিনি। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

    বিনোদন ডেস্ক

  • না ফেরার দেশে মালয়ালম অভিনেতা

    দীর্ঘ দুই বছর মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন মালয়ালম টেলিভিশনের পরিচিত মুখ সিদ্ধার্থ ভেণুগোপাল। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪১ বছর।

    তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সীমা জি. নায়ার।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় সীমা লিখেছেন, সিদ্ধার্থ দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ‘বেদনাহীন পৃথিবীতে’ পাড়ি জমিয়েছেন।

    ত্রিশুরের বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ভেণুগোপাল মালয়ালম টেলিভিশন জগতের এক জনপ্রিয় নাম ছিলেন। বিশেষ করে ‘কস্তুরীমান’ এবং ‘ভাগ্যজাতকম’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো তাকে।  সিদ্ধার্থের চিকিৎসার পথটি ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। তার এ দীর্ঘ লড়াইয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বিনোদন জগতের সহকর্মীরা। তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে এবং রক্তের প্রয়োজনে তারা বিভিন্ন সময় তহবিল সংগ্রহ ও রক্তদান কার্যক্রমের আয়োজন করেছিলেন।

    ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিশুর জেলার চালাকুড়িতে জন্ম নেন সিদ্ধার্থ ভেণুগোপাল। অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল কলেজজীবন থেকেই। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি উপস্থাপক হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পান। মৃত্যুকালে মা ও ছোট ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন এই অভিনেতা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কিংবদন্তি বাউল সাধক কানাই দাস মারা গেছেন

    না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতীয় বাউল সংগীতের খ্যাতিমান সাধক-শিল্পী কানাই দাস। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। 

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।

    রঞ্জন পালিত জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মা (টিবি)-তে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

    এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া কানাই দাস ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দৃষ্টিহীন। তবে তার সুর আর অন্তর্দৃষ্টি দিয়েই তিনি ছুঁয়ে গেছেন অগণিত মানুষের হৃদয়। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা থেকে আখড়ায় ঘুরে ঘুরে গান গেয়েছেন তিনি।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এই বাউল সাধকের কণ্ঠে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ কিংবা ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’- গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

    দেশ ও দেশের বাইরে নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করা কানাই দাস বাউল ২০১৯ সালে ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় তাকে উৎসর্গ করেছিলেন।

    এমন গুণি একজন বাউল শিল্পীর প্রয়াণে বাউল জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বাবা হারালেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা

    v

    নাট্যকার মাসুম রেজা খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর নিজ বাসাতে তিনি (মির্জা ফারুক) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তবে কখন কোথায় তাকে সমাহিত করা হবে তা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি। 

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মির্জা ফারুক ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক। তার প্রয়াণে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্বজনরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে দীর্ঘদিন যাবত বন্যা মির্জা যুক্তরাষ্ট্রে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। 

    বন্যা মির্জা ছোটপর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে এক সময় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। টিভিতে প্রচারিত ‘রঙের মানুষ’ ও ‘ভবের হাট’ সহ বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক ও একক নাটক দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই অভিনেত্রী। বেশ কয়েকটি সিনেমায়ও তিনি অভিনয় করেছেন।  

    বিনোদন ডেস্ক

  • সুর সম্রাজ্ঞী আশা ভোসলের জীবনের অজানা ৭ তথ্য

    কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে রোববার (১২ এপ্রিল) ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কেবল গানই গাননি বরং ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। 

    তার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীতপ্রেমীদের জন্য তার জীবনের সাতটি অনুপ্রেরণামূলক তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো-

    ১. ১০ বছর বয়সে জীবনযুদ্ধ শুরু 

    মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর-কে হারানোর পর পরিবারের হাল ধরতে গান শুরু করেন আশা। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি ‘মাঝা বাল’-এ তার প্রথম প্লেব্যাক ছিল মাত্র ১০ বছর বয়সে। 

    ২. ২০টি ভাষায় গান 

    কেবল হিন্দি বা মারাঠি নয়, আশা ভোসলে বাংলা, তামিল, রুশ এমনকি মালয় ভাষাসহ মোট ২০টি ভাষায় গান গেয়েছেন। তার এ ভাষাগত দক্ষতা তাকে আক্ষরিক অর্থেই এক ‘গ্লোবাল আইকন’ করে তুলেছিল। 

    ৩. গ্র্যামি মনোনয়ন 

    ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭৭ সালে ওস্তাদ আলী আকবর খাঁর সঙ্গে ‘লিগ্যাসি’ অ্যালবামের জন্য এবং ২০০৫ সালে ‘ইউ হ্যাভ স্টোলেন মাই হার্ট’ অ্যালবামের জন্য তিনি দুবার মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস-এ মনোনীত হন। 

    ৪. রন্ধনশিল্পী ও সফল উদ্যোক্তা

    গানের পাশাপাশি রান্নার প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। ২০০২ সালে দুবাইয়ে তার প্রথম রেস্টুরেন্ট আশা’স খোলার মাধ্যমে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্তমানে কুয়েত, কাতার এবং বার্মিংহামসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তার রেস্টুরেন্ট চেইন তুমুল জনপ্রিয়। 

    ৫. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস 

    ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ডিং করা শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি ২০টি ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছেন।

    ৬. রাষ্ট্রীয় সম্মান ও দাদাসাহেব ফালকে 

    সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (১৯৯৭), ‘পদ্মবিভূষণ’ (২০০৮) এবং চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হন। 

    ৭. শেষ গান 

    মৃত্যুর আগে তার শেষ রেকর্ড করা গানটি ছিল ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘গরিলাজ’-এর সঙ্গে। চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য শ্যাডোয়ি লাইট’ গানটিতে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে ব্রিটিশ অল্টারনেটিভ পপ-এর এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। 

    সূত্র: দ্য হিন্দু 

    বিনোদন ডেস্ক

  • আশা ভোসলে কত সম্পত্তির মালিক?

    ভারতীয় সংগীত জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, সুরের জাদুকরী আশা ভোসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তার প্রয়াণে ভারত তথা বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

    মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি মন্ত্রী আশীষ শেলার হাসপাতালের বাইরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন। ডা. প্রতীত সমদানি জানান, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাল্টি-অর্গান ফেইলিওর বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয়। 

    আশা ভোসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে এবং নাতনি জানাই ভোসলে জানিয়েছেন, প্রচণ্ড ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে তার বাসভবনে মরদেহ রাখা হবে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা অর্পণের জন্য। এরপর বিকাল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। 

    আট দশকের কর্মজীবন 

    ১৯৪৩ সালে মারাঠি সিনেমা ‘মাজহা বাল’-এর মাধ্যমে মাত্র ১০ বছর বয়সে গান গাওয়া শুরু করেন আশা ভোসলে। আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন। ‘পিয়া তু আব তো আজা’ বা ‘ও হাসিনা জুলফন ওয়ালি’-র মতো চনমনে নাচের গান থেকে শুরু করে ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো হৃদয়স্পর্শী গজল—সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। ২০২৪ সালেও দুবাইয়ের মঞ্চে তাকে ভিকি কৌশলের ‘তওবা তওবা’ গানের সিগনেচার স্টেপে পারফর্ম করতে দেখা গিয়েছিল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সাফল্য ও স্বীকৃতি 

    সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মভূষণ (২০০৮) এবং দাদাসাহেব ফালকে (২০০০) পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তার নাম উঠেছিল সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য।

    ব্যবসায়িক সাফল্য ও মোট সম্পত্তি 

    কেবল গান নয়, একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ২০০২ সালে দুবাই থেকে শুরু করে কুয়েত, বাহরাইন এবং যুক্তরাজ্যে তার আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ চেইন আশা’স ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। 

    ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০-২৫০ কোটি রুপি। এর মধ্যে মুম্বাই ও পুনেতে প্রায় ৮০-১০০ কোটি রুপির স্থাবর সম্পত্তি ও বিলাসবহুল আবাসন রয়েছে এই সংগীতশিল্পীর। 

    তিনি বলতেন, ‘শ্বাস না থাকলে যেমন মানুষ বাঁচে না, সংগীতও আমার কাছে তেমন নিঃশ্বাসের মতো।’ সেই সুরের শ্বাস থামলেও তার কালজয়ী গানগুলো কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। 

    সূত্র: এনডিটিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সেই কেটামিন কুইনের ১৫ বছর কারাদণ্ড

    হলিউড তারকা ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত মাদক কারবারি জাসভিন সাংঘাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ‘ফ্রেন্ডস’ খ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যুর কারণ মাদক সেবন, যেটা এই নারী তাকে সরবরাহ করেছিল বলে জানা গেছে।

    এর দায়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) ৪২ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ-আমেরিকান নারীকে এই সাজা শোনানো হয়।

    ভারতের পাঞ্জাব বংশোদ্ভূত জাসভিন সাংঘা দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসে উচ্চবিত্ত ও তারকাদের মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন। প্রসিকিউটরদের মতে, তিনি তার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি বিশাল মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

    নিজেকে তিনি হলিউডের ‘এক্সক্লুসিভ ডিলার’ হিসেবে জাহির করতেন এবং দাবি করতেন তার সব গ্রাহকরা ‘ভিআইপি সেলিব্রিটি’ সার্কেলের সদস্য। হলিউড মহলে তিনি ‘কেটামিন কুইন’ নামে পরিচিত ছিলেন।

    তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পেরি যেই মাসে মারা যান সেই মাসে জাসভিন সাংঘা এবং এরিক ফ্লেমিং নামে এক ব্যক্তি অভিনেতার কাছে ৫১ ভায়াল কেটামিন বিক্রি করেন। এই মাদকগুলো পেরির ব্যক্তিগত সহকারী কেনেথ ইওয়ামাসার মাধ্যমে অভিনেতার কাছে পৌঁছাত।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসভবনে ‘হট টাব’ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় পেরিকে উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে অতিরিক্ত কেটামিন গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।

    ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে দেখার পরপরই জাসভিন সাংঘা তার সহযোগী ফ্লেমিংকে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘সিগন্যাল’-এ বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ‘আমাদের সব মেসেজ ডিলিট করে দাও।’

    এ বিষয়ে প্রসিকিউটররা আদালতে যুক্তি দেখান, এটিই প্রমাণ করে যে তিনি জানতেন তার সরবরাহ করা মাদকেই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি তড়িঘড়ি করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন।

    সঙ্গে জাসভিনের পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমি তুলে ধরে প্রসিকিউটররা বলেন, এটি কোনো অভাব বা হতাশার গল্প নয়। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ২০১০ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেছিলেন। ভালো শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবার থেকে আসা সত্ত্বেও তিনি কেবল ‘লোভ, গ্ল্যামার এবং প্রতিপত্তির’ টানে এই অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

    অবশ্য ম্যাথিউ পেরি ছাড়াও ২০১৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা কোডি ম্যাকলরি নামক এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায়ও জাসভিনের নাম জড়িয়েছে। প্রসিকিউটরদের মতে, জাসভিনের কাছ থেকে কেটামিন কেনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোডির মৃত্যু হয়েছিল। এরপরও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান।

    সাজা ঘোষণার আগে আদালতে জাসভিন সাংঘা অনুশোচনা করে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমাকে এই জগত থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দেওয়ার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।’

    এদিকে তার আইনজীবীদের দাবি ছিল, জাসভিন অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন এবং গত দুই বছর ধরে তিনি সুস্থ জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে আদালত এসব যুক্তি নাকচ করে তাকে ১৫ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি ফেডারেল হেফাজতে ছিলেন। 

    সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক