Tag: মৃত্যু

  • জীবনের শেষ তিন ঘণ্টায় যেমন ছিলেন অভিনেতা শামস সুমন

    নব্বই দশকের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের মাতম ওঠে বিনোদন জগতে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বন্ধু ও অনুরাগীরাও শোকাহত।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

    বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় তার মরদেহ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হলে সেখানেই জানাজা সম্পন্ন হয়। সেখানে তার জানাজায় শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা অংশ নেন।

    শামস সুমনের পরিবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। তার পরিবার ফিরলেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার আগ পর্যন্ত শামস সুমনের মরদেহ রাজধানীর সিএমএইচের হিমঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    তবে হঠাৎ করে এই অভিনেতার এমন প্রয়াণ যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার সহকর্মী, বন্ধু থেকে শুরু করে ভক্ত-অনুরাগীরা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণায় ভরে ওঠে নেটিজেনদের টাইমলাইন।  অনেকেরই প্রশ্ন, হঠাৎ কী ঘটেছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই অভিনেতার?

    শামস সুমনের মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে হওয়া কথোপকথন প্রসঙ্গে অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিকাল পৌনে চারটার দিকে ভিডিওকলে কথা হয়েছিল শামস সুমনের সঙ্গে। তখনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ‘আমি বলছিলাম, এখনই হাসপাতালে যেতে হবে। না গেলে আমি লোক দিয়ে পাঠাব। সে বলছিল, যাচ্ছি, যাচ্ছি। কিন্তু বুঝিনি—এই যাওয়াটাই শেষ হয়ে যাবে,’ বলেন আজাদ। তার কণ্ঠে ছিল গভীর শোক—‘বন্ধু পাওয়া কঠিন, কিন্তু বন্ধুকে হারানো আরও কঠিন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শামস সুমনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পাঁচটার পরপরই তাকে দ্রুত রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছেও তিনি সচেতন ছিলেন—নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেছেন, আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    হাসপাতালে উপস্থিত অভিনেতা মাসুদ রানা মিঠু বলেন, ‘আমি গিয়ে দেখি ভাইকে এমআরআই রুমে নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পর নিজেই হেঁটে বের হয়ে এলেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। আমরা বললাম, ভাই আমরা আছি। উনি বললেন, আচ্ছা। তখন তো মনে হয়নি, এত বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’

    কিন্তু এমআরআই শেষে ড্রেসিংরুমে পোশাক পরিবর্তনের সময় আচমকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শামস সুমন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সহকর্মীরা ছুটে যান। কয়েকজন মিলে তাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তখন তিনি কাতর স্বরে ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলতে বলতে নীরব হয়ে যান।

    দ্রুত শামস সুমনকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।  চিকিৎসকরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে প্রাণপণ চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত আর তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে জানা যায়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে।

    নব্বইয়ের দশকে টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ শামস সুমন মঞ্চ, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’ দিয়ে তার সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু। পাশাপাশি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

    জানা যায়, জীবনের শেষ সময়টা শামস সুমনের জন্য সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকা, শারীরিক জটিলতা এবং একধরনের ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা তাকে ঘিরে ছিল। স্ত্রী ও সন্তানেরা ছিলেন দেশের বাইরে। তবু তার ইচ্ছা ছিল আবার কাজে ফেরার—ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, স্বজনরা দেশে ফিরলে হবে দাফন

    এক সময়ের টিভি পর্দার নিয়মিত মুখ ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমনের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় তার মরদেহ চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে নেওয়া হলে সেখানেই তার জানাজা সম্পন্ন হয়। সেখানে তার জানাজায় শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা অংশ নেন।

    এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রামেন্দ্র মজুমদার, অভিনেতা আফজাল হোসেন, নায়ক ওমর সানী, পরিচালক বাদল খন্দকার, জাহিদ হাসান, মীর সাব্বির, জিতু কমল, আবুল কালাম আজাদ, সালাহ উদ্দিন লাভলু, ত্রপা মজুমদার, নাদের চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, শতাব্দী ওয়াহিদ, আবুল কালাম আজাদ, আহসান হাবিব নাসিম, সকাল আহমেদ, তাহমিনা সুলতানা মৌ, শাহেদ শরীফ খান, অহিদা মল্লিক জলি প্রমুখ।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    জানা গেছে, শামস সুমনের পরিবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। তার পরিবার ফিরলেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার আগ পর্যন্ত শামস সুমনের মরদেহ রাজধানীর সিএমএইচের হিমঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শামস সুমন। জানা যায়, যুক্তরাজ্য থেকে পরিবারের সদস্যরা দেশে ফিরলে রাজশাহীর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

    উল্লেখ্য, এক সময়ে মঞ্চ, ছোট পর্দা ও বড় পর্দা সব মাধ্যমেই দাপিয়ে কাজ করেছেন শামস সুমন। সর্বশেষ রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন সদ্য প্রয়াত এই অভিনেতা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মৃত্যুর আগে প্রচণ্ড অর্থকষ্টে কেটেছে শামস সুমনের জীবন— জয়ের খোলাচিঠি

    নব্বই দশকের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের মাতম ওঠে বিনোদন জগতে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বন্ধু ও অনুরাগীরাও শোকাহত। 
    মৃত্যুর আগে তীব্র অর্থকষ্টে কেটেছে শামস সুমনের জীবন— সহশিল্পী শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এমন কথাই বলেছেন তিনি। শামস সুমনের মৃত্যুতে ভেঙে চৌচির এ অভিনেতা। বন্ধুকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন অসীম ভালোবাসার কথা।
    একসময়ের সহশিল্পী অভিনেতা-উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় বন্ধুকে খোলা চিঠি লিখেছেন, সপ্তাখানেক আগে একসাথে ইফতারি করেছিলাম। চ্যানেল আইতে তার সাথে কথা হতো না— এমন দিন খুব কমই আছে। মৃত্যুর আগের দুই মাস অনেক গল্প হয়েছে। অনেক কিছু জেনেছি তার কাছে। তার যাপিতজীবন সম্পর্কে। তার জীবন অনেক কাছ থেকে দেখেছি। পবিত্র এ দিনে চলে গেলি ভাই। ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ তুই বেহেস্তি।
    সুমনকে হারানোর পর ভীষণ ভেঙে পড়েন শাহরিয়ার নাজিম জয়। মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি। যেন প্রয়াত সুমনের কাছে লেখা তার খোলা চিঠি। সেই চিঠিতে তাদের ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্বের কথা লেখা হয়েছে। তার চিঠি থেকে বোঝা যায়, ভীষণ অর্থকষ্ট ও মনকষ্টে ভুগছিলেন শামস সুমন।
    জয় লিখেছেন— তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম শাহবাগে পিজি হাসপাতালের সামনে। মহিলা সমিতিতে তোমার মঞ্চনাটকের বলিষ্ঠ অভিনয়, শুদ্ধ কণ্ঠস্বর আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই সময় আমি নাট্যজনে সাধারণ নাট্যকর্মী হিসেবে ছিলাম। একটা জনপ্রিয় মঞ্চনাটকে নাট্যজন তোমাকে টাকার বিনিময়ে চরিত্রের রূপায়ণের জন্য ডাকতে। কারণ ওই চরিত্রে তুমি ছিলে অপরিহার্য। 
    তিনি বলেন, আমি ভাবতাম সবাই টাকা খরচ করে অভিনয় করে। অথচ তোমাকে টাকা দিয়ে অভিনয় করায়— কত বড় অভিনেতা তুমি? তার পর ধীরে ধীরে তোমার সাথে নাটকের অভিনয় দেখা হয়, বন্ধুত্ব হয়। বয়সে ছোট হলেও তুমি বন্ধুত্ব করে নাও আমার সাথে।
    অভিনেতা শামস সুমন ও শাহরিয়ার নাজিম হয় একত্রে অনেক নাটক করেছেন। সেসব স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা একবার ইন্দোনেশিয়া যাই, ফ্লোরিং করে একসাথে দুজন ঘুমাই। একটা বিশেষ কারণে দুজন দুপাশ থেকে মুখ ঘুরিয়ে একসাথে হেসে দিই। কারণ দুজনের মনেই একটা বিষয় কাজ করছিল, সেই বিষয়টি না হয় না-ই বললাম।  
    তিনি বলেন, শুধু তুমি আর আমি তা। বিশাল বড় স্ক্রিপ্ট এবং ক্যারেক্টার বিপুল রায়হানকে প্লেনের ভেতরে কনভিন্স করে ছোট করে ফেলি তুমি এবং আমি। কারণ বিদেশে অভিনয়ে যেন আমাদের প্রেশার না পড়ে, আমরা যেন অল্প কাজ করে বেশি আনন্দ করতে পারি। তারপর ঢাকায় টেলিভিশন নাটকে যেখানে তুমি সেখানে আমি। এত এত নাটক একসাথে করেছি…। প্রায়ই তুমি বলতে— আমরা একজন মরলে আরেকজনকে দেখা যাবে। কারণ সব কাজই একসাথে সেই ২০০০ থেকে ২০০৪-০৫ পর্যন্ত। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চ্যানেল আইয়ে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের উপস্থাপনায় ‘১৩টি প্রশ্ন’ অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয় শামস সুমনের শেষ সাক্ষাৎকার। প্রয়াত বন্ধু ও সহকর্মীর প্রতি জয়ের এমন আবেগঘন চিঠি বিনোদন অঙ্গন ও অনুরাগী মহলকে করেছে আবেগাপ্লুত।
    হতাশায় ডুবে ছিলেন শামস সুমন। যাপন করতেন নিঃসঙ্গ জীবন। সে প্রসঙ্গে এ উপস্থাপক লিখেছেন— শেষের দিকে তোমার সঙ্গে যখন কথা হতো, আমি তোমার কাছ থেকে শুধু হতাশার কথা শুনতাম। আমি তোমাকে সাহস দেওয়ার এবং সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এবং বোঝাতে চেষ্টা করতাম— তুমি জীবনটাকে এত হালকাভাবে নিচ্ছ কেন? তুমি সিরিয়াস হচ্ছ না কেন? তুমি কাজের প্রতি আরও বেশি ডেডিকেটেড হচ্ছ না কেন? আমার সেই কেনর উত্তর তুমি শুধু হাসি দিয়েই উড়িয়ে দিতে। 
    তিনি আরও বলেন, তোমার ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের গল্প আমাকে সব খুলে বলেছিলে। আমি বুঝতে পারছিলাম না, কেন তুমি টানাপোড়েন থেকে বের হতে পারছ না। তুমি আমাকে বলেছ— তুমি চেষ্টা করছ, পারছ না। কিন্তু না পারতে পারতে মানসিক চাপ নিতে নিতে তুমি যে চোখের সামনে এভাবে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাবে, আমি অনুমান করলেও এটা নিয়ে কখনো গভীরভাবে ভাবিনি।
    জয় আরও বলেন, তোমার জীবন থেকে যা শিখলাম, পৃথিবীতে তুমি যত কাজ কর না কেন, যত সম্মান অর্জন কর না কেন, তোমার যা টাকা লাগবে তা যদি তোমার কাছে না থাকে, তাহলে তুমি সত্যিই মানসিক চাপে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাবে। 
    তিনি বলেন, আমি জানি, তোমার বেলায় তাই হয়েছে। বাচ্চাদের জন্য তোমার অনেক চিন্তা ছিল। তাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তুমি তা জোগাড় করতে পারছিলে না। তোমার ফ্যামিলি লন্ডনে থাকে, তারা চেয়েছিল তুমি লন্ডন চলে যাও। কিন্তু তুমি দেশ ছেড়ে যাবে না। এ নিয়ে ছিলে এক বিশাল দ্বন্দ্ব। সবাই চলে গেল। তুমি একা রয়ে গেলে রেডিও ভূমিতে এবং মাতৃভূমিতে। 
    এ অভিনেতা বলেন, তোমার বয়সে পুরুষ একা থাকতে পারে না। থাকবেই বা কেন? একা থাকার জন্য তো সে জীবনের শুরুতে সংসার শুরু করেনি। একা থাকার জন্য সে সমস্ত রোজগার সংসারের জন্য ব্যয় করেনি। সবাই সবার ভবিষ্যতের জন্য, উন্নত জীবনের জন্য যার যার গন্তব্যে চলে গেছে। আর তুমি তাদের সবকিছু দিয়ে একা একা স্যাক্রিফাইস করেছ। 
    এ উপস্থাপক আরও বলেন, খাবার অসুবিধা, লোকের অসুবিধা, টাকার অসুবিধা— এত অসুবিধা নিয়ে ৬০ বছর বয়সে বাঁচা কি সম্ভব? না সুমন ভাই। সম্ভব না। কারো কোনো দোষ নেই, ভাবীরও নেই, বাচ্চাদেরও নেই, তোমারও নেই। দোষ তোমার ভাগ্যের। দোষ তোমার দেশপ্রেমের।
    শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, লন্ডন চলে গেলে তুমি তো অনেক উন্নত জীবন পেতে। কিন্তু যাওনি, এখানে এই মাটিতে এই বাতাসে তুমি থাকতে চেয়েছ। এখানেই থাকলে, এখানেই মরলে। মাতৃভূমি, রেডিও ভূমি এরপর মাটির ভূমি। সেখানেই তুমি ঘুমাও ভাই। তোমার আর কোনো দায়িত্ব নাই। আর আসতে হবে না চ্যানেল আইয়ে। আর ফিরতে হবে না ঘরে। আর কোনো টেনশন করতে হবে না। টাকার কথা ভাবতে হবে না। 
    তিনি বলেন, তোমার জীবন থেকে আমি শিখলাম— জীবন ছোট। একমুহূর্ত নষ্ট করা যাবে না। একমুহূর্ত নিজেকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। জীবনের প্রয়োজনের যে টাকা, সেই টাকার জোগাড় অবশ্যই করে রাখতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তোমার মতো সবার প্রিয় আমি হতে পারব না। সেই সামর্থ্য আমার নাই। কিন্তু তোমার মতো নিজেকে কষ্ট আমি দেব না। বুঝে গেছি ভাই। তুমি বুঝিয়ে গেছ, নিজেকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না।
     
    ‘হিডেন সুপারস্টার’ উল্লেখ করে এ অভিনেতা বলেন, সুমন ভাই, তোমার মৃত্যুর পর কিন্তু তুমি অনেক সম্মান পেয়েছ। ফেসবুক খোলা যাচ্ছে না, শুধু তোমার সংবাদ। তুমি না বলতে, তুমি খুবই অ্যাভারেজ; কিন্তু কই সুমন ভাই, আমার তো মনে হচ্ছে একজন সুপারস্টারের মৃত্যু হয়েছে। তুমি একজন হিডেন সুপারস্টার। তুমি বেঁচে থাকতে আমি তা বুঝি নাই। হে সুপারস্টার, মহান আল্লাহ তোমার আত্মাকে শান্তিতে রাখুক। ঘুমাইয়া থাকো ভাই। আরামে ও নিশ্চিন্তে থাকো।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা

    এক সময়ের ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

    এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। তারা জানিয়েছেন, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘের বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সহসভাপতি ও আমাদের প্রিয় সহকর্মী শামস সুমন আজ সন্ধ্যায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শামস সুমনের জানাজার নামাজ প্রসঙ্গে তারা জানান, ‘সুমনের জানাজা আগামীকাল (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।’

    উল্লেখ্য, শামস সুমন অভিনয় ছাড়াও রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ পদে কর্মরত ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে তাকে বিভিন্ন সিনেমায়ও দেখা গেছে। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিতে। সেখানে একজন পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করলেও এরপর নতুন আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে।

    ক্যারিয়ারে ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন

    এক সময়ের টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অভিনয় ছাড়াও তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ পদে কর্মরত ছিলেন। 

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টা দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

    একসময় মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট ও বড় পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক টিভি নাটকে এই অভিনেতাকে আর দেখা যায়নি।

    শামস সুমনের অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মন জানে না মনের ঠিকানা (২০১৬), কক্সবাজারে কাকাতুয়া (২০১৬), চোখের দেখা (২০১৬), প্রিয়া তুমি সুখী হও (২০১৪), আয়না কাহিনী (২০১৩), বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬), জয়যাত্রা (২০০৪), নমুনা (২০০৮), হ্যালো অমিত (২০১২), জয়যাত্রা (২০০৪)।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    পাশাপাশি ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এক সময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্য ছিলেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রখ্যাত অভিনেতা আসিম বুখারি আর নেই

    না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন পাকিস্তানের বরেণ্য অভিনেতা আসিম বুখারি। লাহোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    দীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকারী গুণি এই শিল্পী হৃদরোগ, কিডনি এবং ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর পূর্বে তিনি কোমায় ছিলেন।

    তার প্রয়াণে পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    আসিম বুখারি ছিলেন পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি) এবং চলচ্চিত্রের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯৬৫ সালে যখন পাকিস্তানে টেলিভিশনের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে, তখন থেকেই তিনি অভিনয় শুরু করেন। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ২০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পাকিস্তানি সিনেমায় নিজের অবস্থান সুসংহত করেছিলেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    টিভি নাটকেরও তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। তার অভিনীত অন্যতম জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘জানজাল পুরা’ এবং ‘সোনা চান্ডি’। বিশেষ করে ‘জানজাল পুরা’ নাটকে তার অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

    শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ পদকে ভূষিত করে।

    ২০২৫ সালেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সম্প্রতি তার ফুসফুস ও কিডনির জটিলতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। দীর্ঘ লড়াই শেষে এই প্রবীণ অভিনেতা না ফেরার দেশে চলে গেলেন। 

    সূত্র: সামা টিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • ক্যানসারে মারা গেলেন হলিউড অভিনেত্রী

    লন্ডন ফ্যাশনের একজন আইকনিক ফেস থেকে জনপ্রিয় হওয়া হলিউড অভিনেত্রী অ্যানাবেল স্কোফিল্ড মারা গেছেন। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

    অ্যানাবেল স্কোফিল্ড ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ল্যানেলিতে জন্মগ্রহণ করেন। ‘৮০ দশকে লন্ডনের ফ্যাশন অঙ্গনে অ্যানাবেল ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও আকর্ষণীয় মুখ। টিভি বিজ্ঞাপনে তার স্মরণীয় উপস্থিতি তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত করে তোলে।  

    অ্যানাবেল স্কোফিল্ড ফ্যাশন জগত থেকে অভিনয়ে প্রবেশ করেন। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির আশপাশে বেড়ে ওঠা এ অভিনেত্রী ‘৯০ দশকে হিট সিনেমা ‘রোমান্সিং দ্য স্টোন’, ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ ও ‘অ্যাজ গুড অ্যাজ নাইট গেটস’-এ অভিনয় করে আলোচিত হন। তিনি প্রথম পরিচিতি পান জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ডালাস প্রাইমটাইম’-এর মাধ্যমে। সেখানে কিংবদন্তি অভিনেতা ল্যারি হ্যাগম্যানের বিপরীতে লরেল এলিস চরিত্রে অভিনয় করে সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের নজর কাড়েন। এ চরিত্রই তাকে এনে দিয়েছিল তারকাখ্যাতি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    চলচ্চিত্রে তিনি ‘সোলার ক্রাইসিস’, ‘ড্রাগনার্ড’ ও ‘আই অব দ্য উইডো’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পরে ‘দ্য ব্রাদার্স গ্রিম’, ‘ডুম’ ও ‘সিটি অফ এম্বার’-এর প্রযোজনা ভূমিকায় ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনেতা বৈদ্যনাথ সাহা আর নেই

    না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দেশের অভিনয় জগতের বর্ষীয়ান অভিনেতা বৈদ্যনাথ সাহা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    জানা যায়, বৈদ্যনাথ সাহা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন এবং যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনেতার একটি ছবি শেয়ার করে রাশেদ মামুন অপু লেখেন, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘের সম্মানিত সদস্য প্রিয় বৈদ্যনাথ সাহা দাদা এই মাত্র পরলোক গমন করেছেন। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এমন একজন বর্ষীয়ান অভিনেতার হঠাৎ চলে যাওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৈদ্যনাথ সাহার মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হতেই নাট্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেন।

    ইন্ডাস্ট্রির বহু সহকর্মী এবং তার ভক্ত-অনুরাগীরা রাশেদ মামুন অপুর সেই পোস্টে মন্তব্য করে শোক প্রকাশ করছেন। নাট্যকার মাসুম রেজা, গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকেই শোক জানিয়েছেন।

    সদ্য প্রয়াত এই অভিনেতা দীর্ঘদিন নাটক ও চলচ্চিত্রে অবদান রেখে বহু প্রজন্মের দর্শক ও শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পপ সংগীতের কিংবদন্তি নিল সেডাকা আর নেই

    পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বিশ্ব কাঁপানো জনপ্রিয় পপ সংগীতশিল্পী এবং কালজয়ী অসংখ্য গানের স্রষ্টা নিল সেডাকা মারা গেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

    গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তকে সুরের জাদুতে মুগ্ধ করে রাখা এই শিল্পী আধুনিক পপ সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    নিল সেডাকার পরিবার এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিয় স্বামী, পিতা এবং পিতামহের আকস্মিক প্রয়াণে আমরা বিধ্বস্ত। তিনি ছিলেন রক অ্যান্ড রোলের একজন প্রকৃত কিংবদন্তি এবং লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা। তবে আমাদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, তার এই শূণ্যতা অপূরণীয়।’

    তবে এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সংগীত জীবনের শুরু ও সাফল্য 

    নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দা সেডাকা বিখ্যাত জুলিয়ার্ড স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি ‘দ্য টোকেনস’ নামে একটি ডু-ওয়াপ গ্রুপ গঠন করেন। কিশোর বয়সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলে গান লিখে প্রথম সাফল্যের দেখা পান তিনি। ১৯৫৮ সালে তার লেখা ‘স্টুপিড কিউপিড’ গানটি গেয়েছিলেন কনি ফ্রান্সিস, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

    নিল সেডাকা একাধারে গায়ক, গীতিকার এবং দক্ষ পিয়ানোবাদক ছিলেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘ব্রেকিং আপ ইজ হার্ড টু ডু,’ ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’, ‘লাফটার ইন দ্য রেইন’, ‘ব্যাড ব্লাড’ উল্লেখযোগ্য।

    ষাট দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘ব্রিটিশ ইনভেসন’ (যুক্তরাজ্যের ব্যান্ডগুলোর দাপট)-এর কারণে সেডাকার জনপ্রিয়তা কিছুটা ম্লান হলেও সত্তর দশকে তিনি রাজকীয়ভাবে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে তার লেখা ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’ গানটি বিলবোর্ড টপ টেন চার্টে স্থান করে নেয়। এছাড়া তিনি বিশ্বখ্যাত শিল্পী এলটন জনের রেকর্ড লেবেলের হয়েও বেশ কিছু অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন।

    পাঁচবার গ্র্যামি মনোনয়ন পাওয়া এই শিল্পী কেবল পপ গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ২০১২ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে পিয়ানো কনসার্টে পারফর্ম করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল মিউজিক বাজানো তার আত্মার প্রশান্তি দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘নিজের লেখা গান ও সুর নিয়ে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানোটা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি অনুভূতি। আমি এই পথটিই বেছে নিয়েছি এবং এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

    সংগীত জগতে ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিল সেডাকা কেবল নিজের জন্যই নয়, অন্য অনেক প্রথিতযশা শিল্পীর জন্যও অসংখ্য হিট গান তৈরি করেছেন। আমেরিকান কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এবং গীতিকার নিল সেডাকার প্রয়াণে সংগীত জগতে একটি যুগের অবসান হল। 

    সূত্র: বিবিসি

    বিনোদন ডেস্ক

  • মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে যা পোস্ট করেন জাহের আলভীর স্ত্রী

    অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। মিরপুর পল্লবী থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি অভিনেতা জাহের আলভী নিজেও নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করা এই অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানান।

    এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন ইকরা। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও স্বাভাবিকভাবেই অনলাইনে উপস্থিতি ছিলেন তিনি, যা দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন। কী কারণে এমন আত্মাহত্যার সিদ্ধান্ত তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

    পাঠকদের জন্য অভিনেতার স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার শেষ পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল।

    আমার বোনের মাতৃত্বযাত্রার এক তিক্ত অভিজ্ঞতা। অক্টোবর ২০২৪, শুনুন তার মুখ থেকেই- ২০২৪ সালের ১৩ই অক্টোবর—দিনটি আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেদিন ৩২ সপ্তাহে হঠাৎ আমার ওয়াটার ব্রেক হয়। দ্রুত আমি লালমাটিয়ায় অবস্থিত মাদার কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হই, যেখানে পুরো প্রেগন্যান্সি জুড়ে আমি ডা. সেলিনা খানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলাম।

    হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তারা আমাকে পরীক্ষা করে দ্রুত ভর্তি করে নেয়। কিন্তু তখন জানতে পারি, ডা. সেলিনা খান জরুরি একটি অপারেশনের কারণে দুই থেকে তিন দিনের ছুটিতে আছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয় যে ওয়াটার ব্রেক হওয়ায় একটি আল্ট্রাসাউন্ড করা জরুরি।

    কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হল—সেই সময় হাসপাতালে কোনো আল্ট্রাসাউন্ড টেকনিশিয়ান উপস্থিত ছিলেন না। যিনি আল্ট্রাসাউন্ড করেন, তাকে ফোন করে ডাকা হয়।

    অনেক অনুরোধের পর তিনি হাসপাতালে আসার আগে আমার কাছ থেকে আগাম যাতায়াত ভাড়া দাবি করেন। একজন ভর্তি রোগী হিসেবে এই পরিস্থিতি আমার জন্য ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। তবুও জরুরিতার কথা ভেবে অনুরোধ করে তাকে আসতে রাজি করাই। পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয় যে ভেতরের পানি তখনও অক্ষত রয়েছে।

    এরপর আমাকে দোতলায় একটি বেডে শুইয়ে রাখা হয়। স্যালাইন চলতে থাকে, এবং বলা হয় যতটা সম্ভব নড়াচড়া না করতে। ক্যাথেটার পরানো অবস্থায় আমি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ি।

    ১৪ ও ১৫ অক্টোবর—এই দুই দিন কোনো পুনরায় আল্ট্রাসাউন্ড বা স্পষ্ট মেডিকেল আপডেট আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থা কী, আমাকে বাড়ি যেতে দেওয়া হবে কি না, নাকি ডেলিভারির প্রস্তুতি নিতে হবে—এসব বিষয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য পাইনি। অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন দুটি কেটেছে।

    ১৬ই অক্টোবর যা ঘটলো, তা ছিল আমার কল্পনার বাইরে। আমাকে দোতলা থেকে তিনজন স্টাফ কাঁধে ভর দিয়ে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামান। এমনভাবে একজন সম্ভাব্য সিজারিয়ান রোগীকে স্থানান্তর করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর মনে হয়েছে আমার কাছে।

    পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয়—আমার শরীরে আর কোনো অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড নেই; জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। সেই সময় ডা. সেলিনা খান উপস্থিত ছিলেন।

    আমরা জানতে চাই—হাসপাতালে কি এনআইসিইউ সুবিধা আছে? যদি নবজাতকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয় তবে কী হবে? উত্তরে বলা হয়, এখানে এনআইসিইউ নেই; প্রয়োজনে পাশের হাসপাতালে নেওয়া হবে।

    একজন মা হিসেবে আমার উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিক—মা ও শিশু আলাদা হাসপাতালে থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তখন আমাদের জানানো হয়, চাইলে আমরা অন্য হাসপাতালে চলে যেতে পারি।

    কিন্তু প্রশ্ন হল—যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এখানে না থাকে, তবে আমাকে আগেই কেন জানানো হয়নি? কেন দুই দিন ধরে আমাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হলো? কেন একটি মা ও শিশু হাসপাতালে আল্ট্রাসাউন্ড সার্ভিস নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকবে না?

    আরও উদ্বেগজনক বিষয় ছিল—এর আগে যখন এনআইসিইউ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল, “কিছু হবে না, এনআইসিইউ লাগবে না।” চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এমন আশ্বাস কি যথেষ্ট?

    ডা. সেলিনা খান নিঃসন্দেহে একজন দক্ষ ও সুনামধন্য চিকিৎসক। তবে তিনি যখন উপস্থিত ছিলেন না, তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল রোগীর যথাযথ পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। সেই জায়গায় আমি অবহেলা ও সমন্বয়ের অভাব অনুভব করেছি।

    এই দুই দিন যদি আমার বা আমার সন্তানের কোনো বড় ক্ষতি হতো—তাহলে দায়ভার কে নিত? এই পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার।

    সকালবেলা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে আমাকে দ্রুত গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. সারোয়াত জাহান জুবায়রা ম্যাম এর তত্ত্বাবধানে আমাকে অত্যন্ত মানবিক ও পেশাদারভাবে গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজনীয় সব তথ্য নিয়ে দ্রুত ফর্ম পূরণ করে আমাকে ভর্তি করা হয়। মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই ওটি প্রস্তুত ছিল।

    ডা. জুবায়রা ম্যাম জরুরি সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে আমাকে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের মা হওয়ার সৌভাগ্য দেন আলহামদুলিল্লাহ। সেই মুহূর্তের দ্রুত সিদ্ধান্ত, দক্ষতা এবং মানবিক আচরণ আমার এবং আমার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

    আমি বিশ্বাস করি, তিনি যদি সেই সময় জরুরি সহায়তা না দিতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। আমি ডা. জুবায়রা ম্যাম এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁর পেশাদারিত্ব, দ্রুততা এবং মানবিকতা আমার জীবনের এক সংকটময় মুহূর্তকে আশীর্বাদে পরিণত করেছে।

    আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই—রোগী ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা, তথ্য প্রদান এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হোন। একজন মা যখন প্রসবের জন্য হাসপাতালে যান, তখন তিনি শুধু চিকিৎসা নয়—নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন।

    আমার এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়; বরং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মা এমন অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে না পড়েন—সেই সচেতনতা তৈরি করা। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, এই পোস্টটি মূলত এডভোকেট রাকা ফরহাতের। তিনি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এই পোস্টটি করেছিলেন। রাকার ওই পোস্টটিও নিজের টাইমলাইনে গতকাল শেয়ার করেছিলেন ইকরা। কিন্তু আজ আর তিনি পৃথিবীতে নেই।

    এদিকে পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তবে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরা।  

    বিনোদন ডেস্ক