Tag: মামলা

  • মেহজাবীনের বিরুদ্ধে মামলা করা কে এই আমিরুল?

    পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার প্রলোভন দেখিয়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে আমিরুল ইসলাম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা তাকে চেনেন না এবং মেহজাবীনও তার সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি।
     
    মামলায় বলা হয়েছে, গত পরশু ঢাকার একটি আদালত মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। যদিও পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। 
     
    বাদী আমিরুল ইসলাম সম্পর্কে জানা গেছে, তার বাবার নাম মৃত সাদেক আলী। বর্তমানে তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদির নামাপাড়ায় থাকেন এবং তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরের ফতেহপুরে। তবে মামলার কাগজপত্রে যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রকৃত নয়। সাধারণ মোবাইল নম্বর ১১ ডিজিটের হয়, কিন্তু আমিরুল যে নম্বর দিয়েছেন তা ১২ ডিজিটের, ফলে ফোনে যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না।
     
    মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী দীর্ঘদিন ধরে মেহজাবীনের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এর বিনিময়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় মোট ২৭ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসা শুরু না করায় টাকা ফেরত চাইলে বারবার ‘আজকে দেব, কালকে দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
     
    মামলার অভিযোগে আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে মেহজাবীনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিন-চার বছর ধরে আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আমি তাকে প্রায় ২৭ লাখ টাকা দেই। বুটিক ব্যবসা করার কথা বলে তিনি এই টাকা গ্রহণ করেন।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

     
    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘কয়েক মাস মুনাফা দেওয়ার পর তারা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। আমি বসুন্ধরার বাসার সামনে গেলে তার ভাই ও আরও কয়েকজন আমাকে থাপ্পড় মেরে একটি গাড়িতে তুলে নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর চোখ খোলার পর আমি নিজেকে হাতিরঝিলে পাই। সেখানে তারা আমাকে হুমকি দেয় যে, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হওয়ায় টাকার জন্য বাসার সামনে গেলে আমাকে মেরে ফেলা হবে।’
     
    এই ঘটনার পর আমিরুল ইসলাম মামলা করার প্রস্তুতি নেন।
     
    এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭/১১৭(৩) ধারায় মামলা করেন। মামলাটিতে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারা হাজির না হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ আফরোজা তানিয়া তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শিল্পীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধের আহ্বান ডিপজলের

    অভিনয় শিল্পীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। 

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, শিল্পীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ হোক। শিল্পের অগ্রগতির জন্য শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। 

    রোববার (১৬ নভেম্বর) অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ১৯ বছর বয়সি ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। মেহজাবীন জানিয়েছেন, এক অজানা ব্যক্তি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আমার ও আমার ১৯ বছর বয়সি ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত ৯ মাসে আমি এই মামলার কোনো তথ্য পাইনি। কারণ, অভিযোগকারী পুলিশকে আমার সঠিক ফোন নম্বর, সঠিক ঠিকানা বা কোনো যাচাইকৃত তথ্য দিতে পারেননি। আমার সঙ্গে ব্যবসা করছিলেন, এমন প্রমাণও দিতে পারেননি। তিনি আমাকে ২৭ লাখ টাকা দিয়েছেন তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।   

    এ ঘটনায় ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, মামলাটি তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম মিজবাহ-উর-রহমানের আদালতে ডিপজলের ভক্ত হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারীর স্বামী তার বিরুদ্ধে একটি ‘হত্যাচেষ্টা মামলা’ করেছেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিপজলের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে তার সহকারী ফয়সালকে।   

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ডিপজল ও ফয়সালের বিরুদ্ধে মারধর করে অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে গত ৮ জুলাই ৩৫ বছর বয়সি ওই নারী মামলা করেন। আদালত মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। 

    ডিপজলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিত্তিহীন অভিযোগে শুধু হয়রানির জন্য একই ভক্তের পরিবার এসব মামলা করেছে। অথচ ভক্ত যেসব ঘটনার অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। এখনো তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি ডায়বেটিস, হৃদরোগ, চোখের সমস্যাসহ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় তাকে হয়রানি ও মানসিক ক্ষতি করার জন্য ওই ভক্ত একের পর এক মামলা করছে, যা তাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। একজন শিল্পীর বিরুদ্ধে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা পুরো শিল্পী সমাজের জন্য ভয়, আতঙ্ক ও মানহানিকর। ডিপজলের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা অনুরোধ করব, শুধু ডিপজল নয়, যে কোনো শিল্পীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগে হয়রানিমূলক মামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।  

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ১৮ ডিসেম্বর মেহজাবীনের জবাব দাখিলের নির্দেশ আদালতের

    প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলায় রোববার (১৬ নভেম্বর) দিনভর নাটকীয়তার পর অবশেষে জামিন পান অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা। আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহজাবীনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার জানান, আগামী ১৮ ডিসেম্বর মামলাটিতে মেহজাবীনের জবাব দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    মেহজাবীনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার বলেন, বাদীর সাথে মেহজাবীনের কোনো পরিচয় নেই। সম্পূর্ণ হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযোগের কোনো প্রমাণও (বাদীপক্ষ) দেখাতে পারেনি।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে, এই মামলার বাদী আমিরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। যিনি সংবাদ মাধ্যমে মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবরটি নিশ্চিত করেছিলেন, রোববার বিকাল থেকেই তিনি ‘লাপাত্তা’ বলে জানা গেছে। 

    গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে, মামলার নথিতে দেওয়া বাদীর আইনজীবীর ফোন নম্বরটিও ‘সাসপেন্ডেড’ (স্থগিত) পাওয়া যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    জানা গেছে, ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেয়ার’ অভিযোগে মেহজাবীন ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গত ১০ নভেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। নির্ধারিত তারিখে তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে যা বললেন মেহজাবীন

    আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী। রোববার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক আফরোজা তানিয়া শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তারা। এ সময় তাদের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

    এর আগে পারিবারিক ব্যবসায় পার্টনার করার আশ্বাস দিয়ে ২৭ লাখ টাকা নেওয়ার পর তা আত্মসাৎ ছাড়াও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাদী আমিরুল ইসলামের করা মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

    এদিকে সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে মেহজাবীন তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি পুরো ঘটনাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন এবং অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই বলে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। 

    মেহজাবীন তার বিবৃতিতে জানান, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দায়ের করা এই মামলা সম্পর্কে তিনি গত ৯ মাসে কিছুই জানতেন না। কারণ, অভিযোগকারী তার সঠিক ফোন নম্বর বা ঠিকানা পুলিশ বা আদালতকে দেননি। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে খণ্ডন করেছেন।

    আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ নেই উল্লেখ করে মেহজাবীন বলেন, ‘অভিযোগকারী দাবি করেন ২০১৬ সাল থেকে আমার সাথে ‘ব্যবসা’ করছিলেন। কিন্তু তিনি একটি মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ বা আমার নম্বরে পাঠানো উত্তর, এমনকি একটি স্ক্রিনশটও দেখাতে পারেননি।’

    আরও পড়ুন

    আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি (অভিযোগকারী) ২৭ লক্ষ টাকা দেওয়ার দাবি করলেও কোনো ব্যাংক লেনদেন, চেক, বিকাশ লেনদেন, লিখিত চুক্তি, রশিদ বা কোনো সাক্ষীর প্রমাণ দেখাতে পারেননি। একটি কাগজপত্রও নেই।’

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি মেহজাবীন ও তার ভাই বাদীকে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে হুমকি দেন। হাতিরঝিলে ডেকে আনার ঘটনা ‘সম্পূর্ণ প্রমাণহীন’ উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিযোগকারী দাবি অনুসারে, ১১ ফেব্রুয়ারি আমি তাকে চোখ বেঁধে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়েছিলাম… গত নয় মাসে তিনি রেস্টুরেন্ট বা রাস্তার এক সেকেন্ডেরও সিসিটিভি ফুটেজ বা কোনো সাক্ষী দেখাতে পারেননি। হাতিরঝিল ঢাকার সবচেয়ে বেশি সিসিটিভি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর একটি।’

    গত নয় মাসে কোনো আইনি নোটিশ পাননি বলেও স্পষ্ট করেন মেহজাবীন। বলেন, ‘কোনো পুলিশ স্টেশনের ফোন কল বা কোনো কোর্টের নোটিশ বা ডকুমেন্ট পাইনি। একটি নোটিশ পেলেও আমি অনেক আগে থেকেই আইনি ব্যবস্থা নিতাম।’

    মেহজাবীন এও জানান, মামলার কোনো ভিত্তি না থাকলেও, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর পেয়েই তিনি আইনি প্রক্রিয়া মেনে জামিন নিয়েছেন, কারণ তিনি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

    ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না করার অনুরোধ জানিয়ে মেহজাবীন বলেন, ‘প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলা কখনো সত্য হয়ে যায় না। সত্য খুব দ্রুতই আদালতে পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এখনকার দিনে কাউকে অপমান করা, মানহানি করা বা ভাইরাল হওয়ার জন্য অন্যকে ব্যবহার করা খুবই সহজ হয়ে গেছে। এই ব্যক্তির যেই উদ্দেশ্যই থাকুক, আমার বা আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে সে যা-ই করতে চায়- আমি বিশ্বাস করি সবকিছু খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

    খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অভিযোগকারী ও তার আইনজীবীর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে- বলেও জানান মেহজাবীন।

    ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে লেখেন, ‘এই পরিশ্রমের পরেও আজ আমাকে এসব ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে- এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।’

    যুগান্তর ডেস্ক

  • সালমান শাহ হত্যা মামলা: আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে যা বলল পুলিশ

    বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর নতুন মোড় নিয়েছে তার আলোচিত মামলা। আদালতের নির্দেশে আত্মহত্যা নয়, এবার এটি ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    গত সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালেই রমনা থানা পুলিশ ১১ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে নামে। ইতোমধ্যে আসামিদের দেশত্যাগে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

    সালমান হত্যার আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম ফারুক বলেন, ‘সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন দেশের বাইরে আছেন। যারা দেশে আছেন তাদের অবস্থান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

    এদিকে সালমানের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সে রাতের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি রেজভী আহমেদ ফরহাদ। এরপরই নতুন করে আলোচনায় আসে দীর্ঘ ২৮ বছর আগে ১৯৯৭ সালের রেজভীর দেওয়া একটি জবানবন্দি।

    ওই জবানবন্দিতে রেজভী সালমান শাহর হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে সামিরা ও তার পরিবারসহ অনেকে জড়িত। হত্যাযজ্ঞে আমিও ছিলাম।’

    ১৯৯৭ সালের ১৬৪ ধারার সেই জবানবন্দিতে তিনি আরও জানান, সালমান শাহর মৃত্যু ছিল ১২ লাখ টাকার এক হত্যার চুক্তি। যে চুক্তি করেছিলেন সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। এ হত্যা চুক্তিতে আরও ছিলেন বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামি বাংলা সিনেমার এই ‘ভিলেন’

    আদালতের নির্দেশে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে।

    সোমবার (২০ অক্টোবর) মধ্যরাতে রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

    আজ (মঙ্গলবার) রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাজহারুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, এজাহার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মামলার এজাহারে বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ খলনায়ক ডনকেও আসামি করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এছাড়া সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসিসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

    মোট অভিযুক্ত ১১ জনের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের নাম।

    অভিনেতা সালমান শাহ হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার মা নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে এ হত্যা মামলা চলবে বলে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দিয়েছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা

    বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করা দক্ষিণী সিনেমার অভিনেতা এবং রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি এক সমাবেশের মঞ্চে ভক্তের সঙ্গে তার দেহরক্ষীর দুর্ব্যবহারের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

    বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

    তামিলনাড়ু রাজ্যের পেরাম্বলুর জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট অফিসে শরৎকুমার অভিযোগটি দায়ের করেন। 

    পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির তিনটি ধারায় বিজয় এবং তার নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক দল টিভিকে প্রতিষ্ঠা করা থালাপতি, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে যখন নিজেকে একজন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন তখন এই ঘটনাটি ঘটেছে। এই মাসের শুরুতে তিনি ঘোষণা করেন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাদুরাই পূর্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। এটি ক্ষমতাসীন দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগমের (ডিএমকে) বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে সরাসরি লড়াইয়ের ইঙ্গিত।

    মাদুরাইতে দলের দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনে, ডিএমকে-র ওপর তীব্র আক্রমণ শুরু করেন বিজয়। এটিকে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বলে অভিহিত করেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টিকে টিভিকে-র ‌‘একমাত্র আদর্শিক শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    হাজার হাজার সমর্থকের সামনে জোরে জোরে চিৎকার করে থালাপতি ঘোষণা করেন, ‘টিভিকে কোনও রাজনৈতিক খেলা নয়; এটি একটি আদর্শ। এটি প্রচারের জন্য কোনো বক্তৃতা নয়। এটি ক্ষমতায় থাকাদের জন্য একটি সতর্কীকরণ। টিভিকে এখানে আধিপত্য বিস্তার করতে এসেছে। কোটি কোটি মানুষ আমাদের সাথে আছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচন টিভিকে এবং ডিএমকে-র মধ্যে লড়াই।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বিজয় টিভিকে একটি পরিষ্কার, আপসহীন শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি বলেন, ‘টিভিকে এমন কোনও দল নয় যারা গোপনে চুক্তি করে, জোট তৈরি করে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে। আমরা কাউকে ভয় পাই না। তামিলনাড়ুর জনগণ, নারী ও যুবসমাজ আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে আছে।’

    সমাবেশে তিনি শ্রীলংকা থেকে কাচাথিভু দ্বীপ মুক্ত করার এবং তামিলনাড়ুর জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন, যা রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি। 

    তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি বিপুল জনসমাগম ঘটিয়েছে, যা রূপালী পর্দার বাইরেও তার জনপ্রিয়তাকে তুলে ধরেছে। মাদুরাইয়ের সমাবেশকে টিভিকে-র সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, যেন এটি ১৯৬৭ এবং ১৯৭৭ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের প্রতিধ্বনি।

    অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত এই ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে সরকারেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায়, তিনি চেন্নাইতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের গ্রেফতারকে ‘ফ্যাসিবাদী’ এবং ‘অমানবিক’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘অন্য যারা যখন ক্ষমতায় আসবে তারাও একই কাজ করবে’- মামলা প্রসঙ্গে শিল্পীরা

    অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গন। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এই খাতে মন্দাভাব কাটেনি। নানাভাবে বর্তমান সরকার সংস্কৃতি বা বিনোদন মাধ্যম স্বাভাবিক করার চেষ্টার কথা বললেও সেটাও গতি পায়নি। ঈদ-কেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তি, টেলিভিশন নাটকের বাজেট কমে যাওয়া থেকে শুরু করে মঞ্চ নাটকের ওপরেও প্রভাব পড়েছে।

    সবশেষ জুলাই আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে। যদিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে একদিন পরে তাকে জামিন দেয়া হয়।

    ওই মামলায় ২৮৩ জন আসামির মধ্যে আরও অনেক শিল্পীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে অনেক শিল্পীও হয়রানি বা হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: সংগৃহীত

    অনেক অনুষ্ঠানে যেতে নারী শিল্পীদের বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    তবে নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতারের ঘটনার পর থেকেই ভয়ে বা অস্বস্তিতে পড়েছেন দেশের বিনোদন মাধ্যমের অনেক শিল্পী।

    কাদের বিরুদ্ধে মামলা?

    পাঁচই অগাস্টের পর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি প্রকাশ্যে শিল্পীকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    তবে সবশেষ বেশি আলোচনা বা সমালোচনা তৈরি হয়েছে অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার আটকের ঘটনায়।

    হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে যে মামলা করা হয়েছে, ওই মামলায় বর্ণিত ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থানরত নুসরাত ফারিয়া ছাড়াও আরও অনেকের নাম রয়েছে।

    এ রকম বেশ কয়েকটি মামলায় আসামি হিসেবে প্রায় ২৭ জন শিল্পীর নাম এসেছে।

    তারা হলেন- নুসরাত ফারিয়া, অপু বিশ্বাস, নিপুন আক্তার, কামরুন নাহার শাহনূর, উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, সোহানা সাবা, তানভীন সুইটি, মেহের আফরোজ শাওন, জাকিয়া মুন, জ্যোতিকা জ্যোতি, সুবর্ণা মুস্তফা, আশনা হাবিব ভাবনা, রোকেয়া প্রাচী, তারিন জাহান, অরুণা বিশ্বাস, শামীমা তুষ্টি, শমী কায়সার, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, জায়েদ খান, সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌস, রিয়াজ, চঞ্চল চৌধুরী, আজিজুল হাকিম, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, ইরেশ জাকের।

    এছাড়া বিএনপির কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সৈয়দ হাসান মাহমুদকে ২০২২ সালের ২৫ জুন হত্যাচেষ্টা ও গুমের অভিযোগে গত বছরের নয়ই অক্টোবর দায়ের করা মামলায় অভিনেত্রী তারানা হালিম, মমতাজ ও শমী কায়সারকে আসামি করা হয়। তবে সেটি জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক মামলা ছিল না।

    মোশাররফ করিম। ছবি: সংগৃহীত

    ‘এমন ঘটনা দৃষ্টান্ত হয়ে যায়’- মোশাররফ করিম

    এসব মামলা প্রসঙ্গে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে, মানুষের পক্ষে কথা বলেছে, শিল্পীরা তো স্বাভাবিকভাবে মানুষের পক্ষে কাজ করা মানুষ। শিল্পীদের এভাবে ঢালাওভাবে মামলায় ফেলে, একের পর এক মামলা দিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাদের জীবনকে নিরাপত্তাহীনতার চাদরে মুড়ে দেওয়া, এটা অদ্ভুত রকমের সংস্কৃতি।’

    আরও পড়ুন

    বিষয়টি নিয়ে কানাডা থেকে কথা বলেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম।

    বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা শুধু শিল্পীর ক্ষেত্রে না, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অপরাধী হলে মামলা হতে পারে। আটকও হতে পারেন। তবে সেটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হলে ভালো। তাতে সমাজের সামগ্রিক ডিসিপ্লিন রক্ষা হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তবে কেউ যদি ইনটেনশনালি কারো ওপর ক্রোধ আছে সেটা জাহির করতে যায় সেটা খারাপ। এটা ঠিক না। কারণ এমন ঘটনা দৃষ্টান্ত হয়ে যায়। আর দৃষ্টান্ত স্থাপন হলে সেই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে চলতে থাকে। অন্য যারা যখন ক্ষমতায় আসে তারাও একই কাজ করবে। এটা কোনো কালের জন্য সুখকর না। তবে ব্যক্তি অপরাধী হলে সেটার জন্য মামলা হতে পারে।’

    শিল্পীদের মামলা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, পুরো বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি।

    জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষে বেশ সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন বাঁধন।

    আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত

    বাঁধনের মতে, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা স্বৈরাচার বিদায় করেছি সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। উপদেষ্টারা সবাই প্রচণ্ড ভালো মানুষ। বেশি ভালো মানুষ হওয়ার কারণে কোনো কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। যেখানে যারা ছিল সেখানেই আছেন। বিশেষ করে আমাদের কাজের যে জায়গা সেখানে আগে একরকম সিন্ডিকেট ছিল। এবার নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারাই এখন কাজ করছে।’

    শিল্পীদের রাজনীতি করা প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শিল্পীরা যে কোনো রাজনৈতিক দলকে সাপোর্ট করতে পারেন বা নাও করতে পারেন। কে কার সঙ্গে ছবি তুলবেন বা বাহবা দেবেন সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি তো কোনো ক্রাইম করেননি। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ক্রাইম করবেন না ততক্ষণ আইন তাকে আটকাতে পারবে না।’

    গিয়াসউদ্দিন সেলিম। ছবি: সংগৃহীত

    কমে গেছে কাজ

    গত বছরের পাঁচই অগাস্টে সরকার পতনের পর বিনোদন জগত অনেকটাই স্থবির হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করে। কিন্তু আগের মতো এই শিল্প পুরোপুরি সচল হয়নি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র, নাটকের কাজ অনেক কমে গেছে।

    চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এক ধরনের স্থবিরতা এসেছে। তার বড় কারণ বিনিয়োগকারী না থাকা। হঠাৎ করেইে এই মাধ্যমে বিনিয়োগকারী কমে গেছে। এ কারণেই কাজ কমে যায়। আমার ধারণা বিনোদন মাধ্যমের সকল সেক্টরে বিশেষ করে গান, নাটক, সিনেমা সব খানে ৮০ ভাগ কাজ কমে গেছে।’

    তবে কাজ কমে যাওয়া নিয়ে খানিকটা ভিন্ন মত দেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান তারেক আখন্দ।

    তিনি বলেন, ‘নভেম্বর-অক্টোবর অব্দি কাজ কমে গিয়েছিল। এখন কিছুটা বেড়েছে। কাজ তো আসলে নাটক, সিনেমা বা ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য হয়। তাই কাজের গতি ওই সময়টা কমে গিয়েছিল।’

    কিন্তু যেসব ইউটিউব চ্যানেল-ভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি বাজেটে কাজ করতো তারা কাজ কমিয়ে দিয়েছে বলে বলছেন মি. তারেক।

    বিষয়টি নিয়ে একমত পোষণ করেন দেশের ইউটিউব-ভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির কর্ণধার এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ‍্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- এর সাধারণ সম্পাদক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু।

    বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান তারেক আখন্দ ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ‍্যাসোসিয়েশন- এর সাধারণ সম্পাদক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু। ছবি: সংগৃহীত

    তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘গতবছর থেকে এ বছরের তুলনায় যাবো না, তবে গত কয়েকমাসে ১০ থেকে ২০ ভাগ কাজ কমে গেছে। এটার বড় কারণ বাণিজ্যিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। মোট কথা আমাদের ইউটিউব কনটেন্টে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ কমে গেছে।’

    এছাড়া ঈদ ছাড়া কোনো সিনেমায় গত কয়েকমাসে ব্যবসা সফল হয়নি। যদিও পাঁচ আগস্টের আগে সিনেমার বাজার ওইরকম ছিল। চলচ্চিত্র শাকিব খানের সিনেমাও ঈদ ছাড়া ব্যবসা সফল হয়নি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    শিল্পীদের অনেকে বলেছেন, বিশেষ করে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্রসহ যেসব নাটকের কাজ চলছিল, সেগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

    অভিনয় শিল্পী আজমেরী হক বলেন, ‘আমার ভারতের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় দুটি সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল। সেই প্রজেক্ট বাতিল হয়ে গেছে। তবে বাকি কাজগুলো হচ্ছে। তবে এখন কাজের সুযোগ অনেক খানিকই কমে গেছে। আশা করছি সেটা দ্রুত পরিবর্তন হবে।’

    বিবিসি

  • অসুস্থ হয়ে আদালত ছাড়লেন পরীমনি

    ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে গরমে অসুস্থ হয়ে আদালত ত্যাগ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

    সোমবার (২৬ মে) সকাল ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন পরীমনি। এদিন বিকালে পরীমনিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা করার জন্য সময় ধার্য করেন বিচারক। 

    তবে সারাদিন আদালতে বসে থেকে গরমে অসুস্থতা অনুভূত হওয়ায় আদালত ছেড়ে চলে যান তিনি। এজন্য আজ তাকে জেরা করা সম্ভব হয়নি। জেরার জন্য পরে নতুন দিন ধার্য করেছেন বিচারক।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমি তিনজনের পক্ষে বাদীকে জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। এজন্য তিনি আদালতে উপস্থিত হন। 

    বেলা সাড়ে ১১ টায় জানানো হয় যে, বিকেল ৩টায় পরীমনিকে জেরা করা হবে। এ জন্য পরীমনি গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। এইভাবে বসে থাকার পর বিকেল ৩টার দিকে পরীমনি সময় চেয়ে আবেদন করেন।

    আরও পড়ুন


    সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি অসুস্থতা অনুভব করছেন। পরে আদালত তার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে তিনি আদালত থেকে ফিরে যান।  

    নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পরীমনির বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। 

    ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান।

    বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরীমনি সাভার থানায় বাদী নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

    এছাড়া ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। মাদকের মামলায় পরীমনির একই বছরের ৫ আগস্ট চারদিন ও ১০ আগস্ট দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

    সম্প্রতি পিংকি আক্তার নামে এক গৃহকর্মী তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন। 

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • হিরো আলমের ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মামলার তদন্তে পিবিআই

    মামলায় জড়িয়ে পড়লেন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার হিরো আলম। তার নামে বিয়ের প্রতিশ্রুতিসহ নায়িকা বানানো স্বপ্ন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উঠেছে গর্ভপাত করানোর অভিযোগও। অভিনেতাসহ ছয়জনের নামে মামলা করা হয়েছে। 

    সূত্রের খবর, গত রোববার (৪ মে) বগুড়া জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১-এ এক নারী এ মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ওই নারীর অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। সেই সঙ্গে নিয়েছেন তার জবানবন্দি। শুধু তাই নয়, তিনি এ অভিযোগ তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

    হিরো আলমের বিরুদ্ধে এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং বগুড়া পুলিশ সুপারকে। তদন্তের পর রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।

    সেই নারী হিরো আলম ছাড়াও যে পাঁচজনের নামে অভিযোগ করেছেন, তারা হলেন— হিরো আলমের মেয়ে আলো খাতুন, তার দুই সহকারী আল আমিন, মালেক এবং মালেকের স্ত্রী জেরিন ও আহসান হাবিব।

    এ অভিযোগে সেই নারী জানিয়েছেন, হিরো আলম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। শুধু তাই নয়, দিয়েছিলেন নায়িকা বানানোর আশ্বাস। বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাড়ি ভাড়া করে তারা একসঙ্গে থাকেন বেশ কিছু দিন ধরে। কিন্তু ইতোমধ্যে সেই নারী গর্ভবতী হলে তাকে গত ১৮ এপ্রিল বগুড়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চাপ দেওয়া হয় গর্ভপাত করানোর। তিনি গর্ভপাত না করতে চাইলে তার সহযোগী ওই পাঁচজন এবং হিরো আলম তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগে জানিয়েছেন সেই নারী। সে মারধরের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়। বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। সেখানেই তার গর্ভপাত হয় বলে জানান ওই নারী। গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান ওই অভিযোগকারিণী।

    কেবল ধর্ষণ ও গর্ভপাত কিংবা নায়িকা বানানোর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নয়, হিরো আলমের বিরুদ্ধে এ নারী ১৫ লাখ টাকা ধার নেওয়ার অভিযোগও এনেছেন। যদিও এই অভিযোগ স্বীকার করেননি হিরো আলম। তিনি বলেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন— তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    বিনোদন ডেস্ক