Tag: মামলা

  • ১০০ কোটির প্রস্তাব এলে যা বলেছিলেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় ঢালিউডের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যা— এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা-সমালোচনা থামেনি।

    এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আবারও সামনে এসেছে। সম্প্রতি সালমান শাহর মা লন্ডনে বাঙালি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

    সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে সালমানভক্তদেরও প্রত্যাশা— তিন দশক ধরে চলা এই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে একদিন সত্য সবার সামনে চলে আসবে। নব্বই দশকের জনপ্রিয় এ নায়কের মৃত্যুরহস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আলোচনা-সমালোচনা আর বিতর্ক অবসান ঘটবে। 

    সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবার ও ভক্তরা আবার বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর পর তাকে দেওয়া কথিত প্রলোভন ও হুমকির বিষয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। 

    লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী বলেন, সালমানের মৃত্যুর পর মামলা নিয়ে আর না বাড়াবাড়ি করার বিনিময়ে তাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে সালমান মারা যায়। ওই বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাসে জাতীয় পার্টির তৎকালীন একজন মন্ত্রী, যিনি আজিজ মোহাম্মদের বন্ধু ছিলেন, আমার বাসায় এসেছিলেন। তার নাম বলতে চাই না। মনে হয় তিনি এখন আর বেঁচে নেই। ওই ব্যক্তির দেওয়া প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে নীলা চৌধুরী বলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন— ভাবি আপনাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এসব নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনার বয়স হয়ে যাচ্ছে, এই টাকাগুলো খরচ করেন। আমি তাকে বলেছিলাম— ভাই, আমি ১০০ কোটি টাকা চাই না, আমার ছেলেটাকে এনে দেন।

    সালমানের মায়ের দাবি, তিনি তার ছেলের মৃত্যুর পর শুধু অর্থের প্রস্তাবই নয়, বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো প্রলোভন বা হুমকিই তাকে ছেলের মৃত্যুর সত্য উদ্ঘাটনের দাবি থেকে সরাতে পারেনি।

    সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও তার সাবেক স্ত্রী সামিরা প্রসঙ্গে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সামিরা দোষী। ও খুনি। ওর বিচার চাই। খুনি না হলে ও পালাবে কেন? 

    সামিরার শাস্তি চেয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি সামিরা পালিয়ে ভারতের এলাহাবাদ অথবা হায়দরাবাদে গেছে। ভারত থেকে সালমান শাহর এক ভক্ত আমাকে জানিয়েছে— ‘সে নিশ্চিত হয়ে বলেছে সামিরা ভারতে পালিয়ে গেছে।’ তবে সামিরার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা দাবির স্বাধীন সত্যতা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়নি।

    অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন প্রসঙ্গে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।’

    তিনি বলেন, ‘সালমান শাবনূরকে নিজের বোনের মতোই দেখত। শাবনূরের সঙ্গে আমার ছেলের কোনো প্রেম ছিল না। শাবনূর আমার ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং সালমান তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করত। সালমানের কোনো বোন ছিল না। তাই সে শাবনূরকে বোনের মতোই দেখত ও স্নেহ করত’ বলেও জানান নীলা চৌধুরী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রতারণার অভিযোগে সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে মামলা

    নিজেরই মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও প্রচারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে চুক্তি লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রতারণা করার অভিযোগে মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল বিনিয়োগকারী। 

    ডেলওয়্যার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন, সেলেনা গোমেজ এবং তার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। 

    মামলার নথি অনুসারে, মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল’ নামক স্টার্টআপটিতে তারা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার (১.২ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করেছিলেন।

    বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৫০ কোটিও বেশি (৫০০ মিলিয়ন) অনুসারী থাকা সত্ত্বেও, মার্কেটিং প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি সেলেনা দিয়েছিলেন, তা তিনি পালন করেননি। এমনকি চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও সেলেনা ও তার দল একটি মোবাইল অ্যাপ পর্যন্ত তৈরি করতে ব্যর্থ হন। 

    মামলায় বলা হয়েছে, ‘সেলেনা গোমেজ কাজ করার অঙ্গীকার করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ভান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে লাভজনক তো দূরের কথা, কোনো বাস্তবমুখী বা নীতিগত উদ্যোগই ছিল না।’ এমনকি কোম্পানিটি তার কর্মচারীদের বেতন এবং বিক্রেতাদের পাওনা সময়মতো পরিশোধের মতো প্রাথমিক বাধ্যবাধকতাগুলোও পূরণ করতে পারেনি। 

    বিনিয়োগকারীরা আরও জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি অনলাইন সংবাদে অভ্যন্তরীণ এসব বিশৃঙ্খলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই স্টার্টআপের নাজুক পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু জানতেনও না। 

    ক্ষতিগ্রস্ত এই বিনিয়োগকারীরা আদালতের কাছে এখন তাদের আসল বিনিয়োগের অর্থ এবং আইনি খরচের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে সেলেনা গোমেজের কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • মামলা ও ফের বিয়ে করা নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

    চিত্রনায়িকা পরীমনি সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত জীবন, আইনি লড়াই, গ্রেফতার ও ফের বিয়ে করা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নীরব থাকার কারণ ছিল সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ পাবে—এই বিশ্বাস।

    পরীমনি বলেন, আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই। মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না। আমাকে সিঙ্গেল এবং আমার সন্তানদের সঙ্গে দেখতে চায়। কেন এমনটা হয়, আমি জানি না।

    গ্রেফতারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেল থেকে আসার পর এ বিষয়ে আমি একবারও কথা বলিনি। আমার শুধু মনে হয়েছে, সত্য একদিন ব্লাস্ট করে। আপনি যতই চাপা দিয়ে রাখেন, কোনো না কোনোভাবে তা বেরিয়ে আসে। যেমন কোনো অপরাধই নিখুঁত নয়, তেমনি কোনো সত্যও চিরদিন চাপা থাকে না।

    তিনি দাবি করেন, তাকে গ্রেফতারের সময় আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তিনি জানান, তখন গ্রেফতারের কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। এমনকি আমার বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুমতিও তাদের কাছে ছিল না।

    পরীমনি জানান, পরে পুরো ঘটনার বর্ণনা শুনে তার মনে হয়েছে, অনেক কিছুই পরিকল্পিত ছিল। তবে তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন।

    তিনি বলেন, এই ছয় বছরে ধৈর্যই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি যে কী পরিমাণ হ্যাপি, মনে হয়েছে যে আমার দুইটা পাখা হয়েছে, আমি অনেক রিলিফ হয়ে গেছি, আমার মনে হয় ঘাড় থেকে সমস্ত বোঝা নেমে গেছে।

    মামলার বিষয়ে পরীমনি বলেন, মামলাটি কোনো ব্যক্তি করেননি। বলা হয়েছিল, আমি নাকি বিভিন্ন মানুষকে বিরক্ত করি, ব্ল্যাকমেইল করি—এ ধরনের নানা অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    চলমান আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি কখনো রাষ্ট্রকে চাপ দিইনি বা আহাজারি করিনি। আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী। যতদিন সময় লাগুক, যত বছর হাজিরা দিতে হোক, আমি দেব। আমার বিশ্বাস, একদিন আদালত আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করে সম্মান ফিরিয়ে দেবে।

    দেশে শিল্পীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, শুধু শিল্পী নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিল্পী, রিকশাচালক বা অন্য যে-ই হোক, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। আমরা সবাই হেনস্তা থেকে মুক্তি চাই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মৃত্যুকে ভয় পাই না, আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা: হিরো আলম

    দেশের আলোচিত-সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। নানা ইস্যুতে প্রায়ই তিনি আলোচনায় থাকেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই তালিকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলমেরও নাম আছে। 

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোববার (২৬ জুলাই) অভিযোগটি জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামের একটি সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।  এদিন দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এই অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। 

    তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন হিরো আলম। 

    তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হিরো আলমকে দমানো যাবে না। এমনকি সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। 

    সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    হিরো আলম বলেন, ‘আমি সারা জীবন আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এর জন্য বহুবার হামলার শিকার হয়েছি, মারও খেয়েছি। অথচ এখন আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অনেক দিন ধরেই একটি মহল আমাকে হত্যা ও সম্মানহানির চেষ্টা করছে।’ 

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা আমার নামে মামলা করেছেন, তারা যদি সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করতে বাধ্য হব। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। এক হিরো আলম চলে গেলে কিছুই হবে না।’ 

    নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আন্দোলনের দুই বছর পর হঠাৎ করে আমার নাম কেন মনে পড়ল? এতদিন কোথায় ছিলেন? আমি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের পাশে ছিলাম। আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা। এখন প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ-মামলা দেওয়া হচ্ছে।’ 

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না দাবি করে হিরো আলম বলেন, ‘একটা পোস্ট দেখাতে পারবেন, যেখানে আমি আওয়ামী লীগের হয়ে ভোট চেয়েছি বা প্রচারণা চালিয়েছি? আমি বরং সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটাই কি আমার অপরাধ?’ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার মামলায় জ্যাকুলিনের নাম প্রত্যাহার

    বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে তার ‘স্পেশাল লিভ পিটিশন’ বা বিশেষ অনুমতি আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযোগপত্র খারিজ এবং ট্রায়াল কোর্ট কর্তৃক অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে তিনি এই আবেদনটি করেছিলেন। 

    কথিত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যুক্ত এই মামলায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি দেন। 

    বিচারপতি বি.ভি. নাগারথ্না এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ জ্যাকুলিনের মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে এই প্রত্যাহারের অনুমতি প্রদান করেন। 

    এর আগে গত ১১ জুন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকরের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। তবে বিচারপতি মিশ্র এই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তিনি পক্ষগুলোকে জানান যে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি বিষয়ে তার ছেলে সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। 

    বৃহস্পতিবার শুনানির সময় জ্যাকুলিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে তার আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চাইলে সর্বোচ্চ আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর আগে, জ্যাকুলিন দিল্লি হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন, যেখানে হাইকোর্ট ইডির অভিযোগপত্র বাতিল করতে অস্বীকার করেছিল। 

    তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এই বলিউড অভিনেতা দিল্লির একটি ট্রায়াল কোর্টের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং বিচার ফেস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত ৩ জুন পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির হয়ে জ্যাকুলিন ‘প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’-এর অধীনে তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেধার ভিত্তিতে মামলা লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আদালত এই মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখর, তার স্ত্রী লীনা মারিয়া পল এবং আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ গঠন করেছে। তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচার চেয়েছেন। আগামী ১৬ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ট্রায়াল কোর্ট। 

    মামলায় জ্যাকুলিনের ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ার আবেদন প্রত্যাহারের কয়েক সপ্তাহ পর এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। অবশ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি শুরু থেকেই জ্যাকুলিনের সাক্ষী হওয়ার আবেদনের বিরোধিতা করে আসছিল।  

    ইডির দাবি, তদন্তের সময় জ্যাকুলিনের আচরণ ‘সন্তোষজনক ছিল না’ এবং পিএমএলএ-এর ধারা ৫০-এর অধীনে রেকর্ড করা জবানবন্দিতে তিনি ‘সম্পূর্ণ এবং সত্য তথ্য প্রকাশ’ করেননি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক অতীত জানার পরেও জ্যাকুলিন তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং অপরাধলব্ধ আয়ের তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করেননি।

    তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রশেখর তার অর্থ পাচার কার্যক্রমের মাধ্যমে উপার্জিত টাকা দিয়ে জ্যাকুলিনের জন্য বিলাসবহুল উপহার ও মূল্যবান সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছিলেন। 

    ইডির অভিযোগ, এই অভিনেত্রী সুকেশের কাছ থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল উপহার নিয়েছেন। তবে জ্যাকুলিন বরাবরই দাবি করে এসেছেন, সুকেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উপহারের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

    স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযোগে করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। 

    অভিনেতার জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। প্রেমের বিয়ে করার কারণে বাদী শুধু ব্যক্তিগত জিদ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। 

    আরও বলা হয়, আসামি গুরুতর অসুস্থ। ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস বা গুরুতর হাঁপানি রোগে ভুগছেন। 

    গত ১৩ জুন আসামি অ্যাজমা এট্যাক হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আসামির বর্তমান শারীরিক অবস্থায় কোনোভাবেই বন্ধ জায়গায় বা জেল-হাজতে আটক রাখা সমীচীন হবে না। যা কিনা তার শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য জামিনে মুক্তি দিয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা অনিবার্য। 

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আসামি পক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ অনেকেই আলভীর পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

    প্রসঙ্গত, আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • আত্মসমর্পণ করলেন জাহের আলভী

    ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভী স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি জামিনের আবেদনও করেছেন বলে জানা গেছে।  

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মহানগর হাকিম কামাল উদ্দীনের আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী শেখ রোবায়েত ইসলাম জামিন আবেদন করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। 

    মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আফরা ইভনাথ ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

    ঘটনার পর পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এ ঘটনায় নিহত ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হন’ বলে অভিযোগ করা হয়। 

    এ মামলার প্রায় ৪ মাস পর আত্মসমর্পণ করেছেন অভিনেতা আলভী। 

    অভিযুক্ত জাহের আলভীর পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, তিনি ঘটনার দিন কাজের সূত্রে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে কোনোভাবে তিনি জড়িত নন। তার স্ত্রীর আত্মহত্যার পেছনে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। 

    এই অভিনেতার জামিনের পক্ষে আদালতে আরও বলা হয়, এ দম্পতির একটি শিশু সন্তান রয়েছে এবং তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। 

    উল্লেখ্য, এই আত্মহত্যা মামলার পর অভিনেতা জাহের আলভী বিদেশে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরে আসেন ও আত্মসমর্পণ করেন। এই একই মামলায় অভিনেতার মা নাসরিন সুলতানাও আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • শাহরুখ-দীপিকার বিরুদ্ধে আইনজীবীর মামলা

    একটি হুন্ডাই আলকাজার গাড়িকে কেন্দ্র করে এক অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রীতিমতো আলোচনার ঝড় উঠেছে। 

    এক্স (সাবেক টুইটার)-এ খান্না নামের এক ব্যবহারকারী এই ঘটনার বিস্তারিত শেয়ার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, যেখানে দুই বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনেরও নাম জড়িয়ে গেছে। 

    জানা গেছে, কীর্তি সিং নামের রাজস্থানের এক আইনজীবী প্রায় ২৪ লাখ টাকা দিয়ে একটি হুন্ডাই আলকাজার এসইউভি কিনেছিলেন। তবে গাড়িটি কেনার পর থেকেই তিনি বেশ কিছু গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন, যা গাড়ির পারফরম্যান্সের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। 

    অভিযোগ উঠেছে, গাড়িটিতে ইঞ্জিন ভাইব্রেশন (কম্পন), এক্সিলারেট করার সময় পাওয়ার লস (গতি কমে যাওয়া) এবং ওভারটেক করার সময় নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছিল। আইনজীবী কীর্তি সিংয়ের মতে, এই ত্রুটিগুলো গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছিল। এই বিষয়ে তিনি কোম্পানির কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানালেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাননি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত হুন্ডাই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে মামলার অন্য একটি দিক। আইনজীবী কীর্তি সিং এই মামলায় হুন্ডাইয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত থাকা বলিউডের দুই মেগাস্টার—শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোনকেও বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

    ভাইরাল হওয়া পোস্টে লেখা হয়, ‘ভাবুন একবার, গাড়ি কিনলেন আর শেষমেশ মামলা ঠুকে দিলেন বিজ্ঞাপনের তারকাদের নামে!’ 

    এই অদ্ভুত মামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

    এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের বিরুদ্ধে মামলা করার আইডিয়াটা শুনতে ভালোই লাগে, কিন্তু আদালত আদৌ তারকাদের বিরুদ্ধে এই মামলা গ্রহণ করবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’ 

    অন্য একজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘গাড়ি কেনার পর শাহরুখ খান আর দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বেন—এমন কিছু তো আর গাড়ির ইউজার ম্যানুয়ালে লেখা থাকে না!’ 

    তৃতীয় এক ব্যবহারকারী আবার আইনজীবীর এই কৌশলকে সমর্থন করে হিন্দি প্রবাদ টেনে লিখেছেন, ‘হয়তো এর পরেই হুন্ডাই কীর্তি সিংকে সঠিক জবাব দিয়েছে। কখনো কখনো সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে, আঙুল বাঁকা করতেই হয়।’ 

    তবে সবাই যে এই অভিযোগগুলো সত্য বলে মেনে নিচ্ছেন তা নয়। সন্দেহ প্রকাশ করে এক ব্যবহারকারী তীব্র ভাষায় লিখেছেন, ‘ইঞ্জিন ভাইব্রেশন আর এক্সিলারেশনের সময় পাওয়ার লস? কী সব ফালতু কথা! এগুলো বানিয়ে বলা সমস্যা। এই আইনজীবীদের হাতে কোনো কাজ না থাকলে নিজেদের প্রচারের জন্য বিনাকারণেই মানুষকে আদালতে টেনে নিয়ে যায়।’ 

    বিপরীতে অনেকেরই মত, যেসব তারকারা বড় বড় ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা নেন, পণ্যের মান খারাপ হলে তাদেরও কিছুটা দায়ভার নেওয়া উচিত। 

    সূত্র: নিউজ১৮

    বিনোদন ডেস্ক

  • জ্যাকলিনের মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন বিচারপতি

    ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের শুনানি থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র। 

    এদিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের সমন্বয়ে গঠিত একটি আংশিক কার্যদিবসের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য উঠেছিল। শুনানির শুরুতেই বেঞ্চের পক্ষ থেকে অভিনেত্রীর আইনজীবী এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) জানানো হয় যে, বিষয়টি অন্য একটি বেঞ্চে পাঠানো হবে।

    বিচারপতি মিশ্র এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখানে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি বিষয়ে আমার ছেলে সরকারের পক্ষে উপস্থিত হয়েছিল। তাই আগামী ২৫ জুন এমন একটি বেঞ্চের সামনে এটি তালিকাভুক্ত করা হোক, যেখানে আমরা দুজনের কেউ সদস্য নই।’ 

    গত ৩০ মে দিল্লির একটি আদালত ২০০ কোটির এই অর্থ পাচার মামলায় জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এছাড়া দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দায়ের করা অন্য একটি মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে কঠোর মকোকা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয় ট্রায়াল কোর্ট। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই জ্যাকলিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। 

    এর আগে জ্যাকলিনকে একাধিকবার তলব করার পর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাদের দ্বিতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে প্রথমবারের মতো অভিনেত্রীকে অভিযুক্ত হিসেবে নামভুক্ত করে। 

    ইডির দাবি, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ প্রতিনিয়ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং সুকেশের সহযোগী পিংকি ইরানির মাধ্যমে জ্যাকলিন তার কাছ থেকে বহু মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন। 

    কীভাবে চলত এই অপরাধ চক্র?

    প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখর জেলখানার ভেতর থেকেই একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্র পরিচালনা করছিল। সে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং আইন ও বিচার মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। 

    ভুয়া ফোন কল, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ্লিকেশন এবং জাল পরিচয়ের মাধ্যমে মূল অভিযোগকারী অদিতি সিং ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • নায়িকা ববির বাসায় চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ২, উদ্ধার ৪ ভরি স্বর্ণালংকার

    ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা ইয়ামিন হক ববির বাসায় চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ফারুক ও তার স্ত্রী। পাশাপাশি এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। 

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে নায়িকা নিজেই এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

    রাজধানীর কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা, পূর্ব মনিপুর এলাকার এই চিত্রনায়িকার স্থায়ী বাসায় গত ২৬ মে চুরির এই ঘটনা ঘটে। 

    এ ঘটনায় ববি অভিযোগ করেন, শুটিংয়ের কাজে তিনি ঢাকার বাইরে থাকাকালীন বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থসহ প্রায় ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল তার বাবার দেওয়া স্মৃতিবিজড়িত ৩০-৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং কয়েকটি মূল্যবান ঘড়ি। 

    এর প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘চোরদের সাধারণ চোর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারা সংঘবদ্ধ ও পেশাদার অপরাধী। আমার বাবার দেওয়া স্মৃতিগুলো হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আর্থিক মূল্য ছাড়াও এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অভিনেত্রীর অসংখ্য স্মৃতি, আবেগ এবং পরিবারের ভালোবাসা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের মাত্র দুই দিন আগে এমন ঘটনা আমার জীবনে গভীর বেদনা হয়ে এসেছে। স্বর্ণালংকারগুলোর আর্থিক মূল্য থাকলেও বাবার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় সেগুলোর আবেগগত মূল্য অনেক বেশি।’ 

    চুরির ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। দুইজনকে গ্রেফতার এবং আংশিক স্বর্ণালংকার উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে এখনো অধিকাংশ স্বর্ণালংকার উদ্ধার না হওয়ার কারণে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন। 

    এর আগে পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। 

    বিনোদন ডেস্ক