
বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল নাজিশ জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেছেন, তাকে বারবার অকারণে নানা বিতর্কে জড়ানো হয়। এসব পরিস্থিতি তাকে কখন কখন মনে করিয়ে দেয় যেন তিনি ‘পাকিস্তানি কঙ্গনা রানাওয়াত’ হয়ে গেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাজিশ খোলামেলাভাবে বলেন, তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে, তিনি যা-ই বলেন, কোনো না কোনোভাবে তা বিতর্ক তৈরি করে। অথচ এসব বিতর্ক থেকে তার কোনো লাভ হয় না বলেও জানান তিনি।
নাজিশের মতে, বহু মানুষের ধারণা—বিতর্ক শিল্পীদের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সাহায্য করে; কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি জানান, জীবনে কোনো বিতর্কই তাকে বাড়তি কাজ বা সুযোগ এনে দেয়নি।
কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে নিজের তুলনা টেনে তিনি বলেন, যেমন করে বলিউড তারকা কঙ্গনা বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে খবরের শিরোনাম হন, ঠিক তেমনভাবেই তাকেও নানা গুজব ঘিরে আলোচনায় থাকতে হয়।
‘বিতর্ক পছন্দ করি না—একবার শুরু হলে সামাল দেওয়া কঠিন’
অভিনেত্রী জানান, তিনি কোনোভাবেই বিতর্ক পছন্দ করেন না, কারণ একবার তা ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তিনি বলেন, তিনি সবসময় সত্যটা সবাইকে বোঝাতে বা প্রতিটি ভুল ধারণার জবাব দিতে পারেন না।
নাম প্রকাশ না করে নাজিশ আরও জানান, তার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় ধরনের বিতর্ক নাকি শুরু হয়েছিল শুধুমাত্র তিনি একটি বিয়ের প্রস্তাবে না বলায়।
তিনি আরও বলেন, তাকে নিয়ে এমন অদ্ভুত সব গুজবও ছড়ানো হয়েছে—যেমন, তিনি নাকি গোপনে বিয়ে করে ফেলেছেন কিংবা বিনোদন জগত ছেড়ে দিয়েছেন।
নাজিশের দাবি, যখনই তিনি কিছুদিন নাটকে দেখা দেন না, তখনই এসব ধরনের গুজব ছড়াতে শুরু করে।
বিনোদন ডেস্ক

পাকিস্তানি তারকা টিকটকার সুজান খান কোনো অনুমতি ছাড়া একটি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। আর সেই অবৈধ পার্টিতে অভিযান চালিয়ে ৫১ নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
বোল নিউজের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, লাহোরের গুলবার্গ এলাকায় অবৈধভাবে হ্যালোইন পার্টির আয়োজন করেছিলেন টিকটকার সুজান খান। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমের বরাত দিয়ে জানতে পেরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সুজান খানের পার্টিতে অভিযান এবং গ্রেফতারের বিষয়টি ইনফ্লুয়েন্সার কমিউনিটির সংস্কৃতির অন্ধকার দিকটি আলোকপাত করে যে, উচ্চ প্রোফাইলে এ ধরনের ঘটনাগুলো প্রায়ই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে হওয়ায় জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার লঙ্ঘন হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সুজান খানের পার্টিতে থাকা সাউন্ড বক্সের উচ্চ শব্দ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ব্যাপক পরিমাণে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। পার্টিতে থাকা সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা আরও জানান, হ্যালোইন পার্টির নামে অনুষ্ঠানটি কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই আয়োজন করা হয়েছিল। এ কারণে সেখানে একটি বেআইনি সমাবেশ পরিণত হয়েছিল। সুজান খান এখন অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
বিনোদন ডেস্ক

আসন্ন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন রোমা রিয়াজ। সম্প্রতি নিজের ত্বকের রঙ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তবে এসব সমালোচনার জবাবে রোমা জানিয়েছেন, তার ত্বকের রঙেই পাকিস্তানের আসল পরিচয়—এই মাটির মতোই তার ত্বকের রং।
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় রোমা বলেন, ‘আমার ত্বক পাকিস্তানের মাটির রঙের মতো—যে রঙে আমাদের মায়েরা ঘর বেঁধেছেন, পরিবার গড়েছেন, আর বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে দেশকে ধারণ করেছেন। যারা কখনও শুনেছেন, তুমি বেশি কালো, বেশি সাহসী বা অন্যরকম, তাদের বলছি—তোমরাও পাকিস্তানের মুখ।’
রোমা আরও বলেন, রংবৈষম্য বা কালারিজম বহু সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত একটি সমস্যা। ‘কালারিজম আমাদের শিখিয়েছে ফর্সা ত্বককে উদ্যাপন করতে, অথচ ভুলিয়ে দিয়েছে আমাদের শিকড় কোথায়। কিন্তু আমি সেই দক্ষিণ এশীয় নারীদের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা আর সংকীর্ণ সৌন্দর্যের ধারণায় বিশ্বাস করে না,’ বলেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজের জাতিগত বৈশিষ্ট্যের জন্য কখনও ক্ষমা চাইবেন না। ‘আমি পাকিস্তানি—আমার শিকড়ে, আমার মূল্যবোধে, আর আমার ত্বকের প্রতিটি রঙে,’ বলেন রোমা।
সৌন্দর্য সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সৌন্দর্য কোনো নির্দিষ্ট ত্বকের রং বা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বৈচিত্র্য, আত্মবিশ্বাস ও মানবতার প্রতিফলন।’
উর্দু ভাষায় নিজের সমালোচকদের উদ্দেশে রোমা আহ্বান জানান ঐক্য ও ইতিবাচকতার প্রতি মনোযোগ দিতে।
শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে, কারণ যদি আমরা নিজেদের মানুষকেই ভালোবাসতে না পারি, তাহলে প্রতিনিধিত্বের কোনো মূল্য থাকে না।’
বিনোদন ডেস্ক

নিজের প্রথম একক অ্যালবামের প্রথম গান প্রকাশের পরই আলোচনায় পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আসিম আজহার। গানে উচ্চারিত একটি শব্দ—‘হানিয়া!’—ভক্তদের কৌতূহলে ফেলে দিয়েছে, তিনি কি আবারও অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন?
নতুন গান ‘তেরে বিন নহি লাগদা’ মূলত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নুসরাত ফতেহ আলি খান-এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তবে গানের একটি বিশেষ অংশে আসিমের মুখে ‘হানিয়া’ শোনা যায়, আর ঠিক সেখানেই ভিডিওতেও দেখা যায় গায়ককে—যা থেকেই জন্ম নিয়েছে নতুন গুঞ্জন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুজনকে একাধিকবার একসঙ্গে দেখা গেছে। কয়েকদিন আগে অভিনেত্রী ইয়াশমা গিলের জন্মদিনের পার্টিতে তারা দুজন উপস্থিত ছিলেন। এর পরপরই হানিয়াকে দেখা যায় আসিমের জন্মদিনেও, যা ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তোলে।
এর আগেই আসিম প্রকাশ করেছিলেন তার আসন্ন অ্যালবামের টিজার ভিডিও। সেখানে দেখা গেছে শৈশবের কিছু মুহূর্ত, পুরনো পারফরম্যান্স ও তার মা অভিনেত্রী গুল-এ-রানার আবেগঘন বক্তব্য। ভিডিওটির শেষে অ্যালবামের সম্ভাব্য ট্র্যাকলিস্টের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।
তবে তীক্ষ্ণ নজরের দর্শকরা সেখানে লক্ষ্য করেছেন এক মুহূর্তের জন্য হানিয়া আমিরের উপস্থিতি—২০১৯ সালের এক ফ্যাশন শোতে তাদের ভাইরাল পারফরম্যান্সের দৃশ্যটি ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ নামের সম্ভাব্য গানের নিচে দেখা গেছে।
আসিমের জন্য এ ধরনের রহস্য তৈরি করা নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের অ্যালবাম ‘বেমতলব’ প্রকাশের আগেও তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খালি করে দিয়েছিলেন, নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিতে।
আসন্ন ২৪ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন অ্যালবাম ‘আসিম আলি’। ভক্তদের প্রত্যাশা, এটি হতে যাচ্ছে আসিম আজহারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন অ্যালবাম।
বিনোদন ডেস্ক

বারবার বিতর্কে জড়ানো পাকিস্তানি টিকটকার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সামিয়া হিজাব আবারও আলোচনায়। এবার নিজের পোশাক নিয়ে করা এক মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে দেশ ছেড়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে সামিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে তার পোশাকের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে—কিন্তু এর জন্য দায়ী তিনি নন, দায় পাকিস্তানি সমাজের চিন্তাভাবনা। তার ভাষায়, ‘আমার পোশাক ছোট হচ্ছে, কারণ এই জাতির মানসিকতা ছোট।’
ভিডিওটিতে তিনি পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের ‘বিচারপ্রবণ মনোভাব’কে একহাতে নেন। বলেন, ‘দেশের মানুষ আর সরকারের মানসিকতা এক; সবাই ভেতরে ভেতরে একই রকম। তাদের কারণে আমার জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।’
সামিয়া আরও দাবি করেন, সমাজের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতিবাচক মন্তব্যের কারণেই তিনি পাকিস্তান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে ইউটিউবার রাজাব বাট–এর অভিজ্ঞতার তুলনাও টানেন তিনি। বলেন, ‘রাজাব বাটের সঙ্গেও একই কাজ করেছে সবাই। তাকেও বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে।’
যদিও সামিয়া বিদেশে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন, তবে সেটি অস্থায়ী ভ্রমণ না স্থায়ীভাবে দেশত্যাগ—তা স্পষ্ট করেননি। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক মাধ্যমে চলমান সমালোচনা ও হুমকির কারণেই দেশ ছাড়তে হয়েছে এই টিকটকারকে।
বিনোদন ডেস্ক

বর্তমানে তরুণদের নতুন ‘ক্রাশ’ পাকিস্তানের অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম। তিনি প্রথমে ‘দিল রুবা’ নাটকে একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরে নিজের দক্ষতার মাধ্যমে বড় পর্দায়ও জায়গা করে নেন।
তার অভিনয় ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য নাটকের নাম ‘ইশ্ক মুরশিদ’; যেখানে তিনি বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে ‘শিব্রা শাহমী’র চরিত্রে অভিনয় করে শুধু পাকিস্তানেই নয়, বাংলাদেশেও দর্শকদের প্রশংসা লাভ করেছেন।
এদিকে, সম্প্রতি দুরেফিশান সেলিম এবং বিলাল আব্বাস খানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাঝেই দুরেফিশান সেলিমের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, তিনি কখনো প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন না এবং সরাসরি বিয়ে করবেন।
এ সাক্ষাৎকারে, উপস্থাপক যখন তাকে প্রেমিকের বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, দুরেফিশান সেলিম বলেন, ‘আমি কখনো কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ব না। আমি সরাসরি বিয়ে করব।’
এছাড়া, দুরেফিশান সেলিম সর্বশেষ ‘সানওয়াল ইয়ার পিয়া’ নাটকে ফিরোজ খান ও আহমদ আলী আকবরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন, যা ছিল তার সঙ্গে উক্ত অভিনেতাদের প্রথম কাজ।
বিনোদন ডেস্ক

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম জানিয়েছেন, একবার একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেল থেকে তিনি ‘জায়নামাজ’ (নামাজের পাটি) চুরি করেছিলেন।
একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দুরেফিশানের এই স্বীকারোক্তিতে হতবাক অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নিদা ইয়াসির এবং সহ-অতিথি মিকায়েল জুলফিকার। এমন স্বীকারোক্তির পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
সেই অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি একবার একটি বড় হোটেল থেকে একটি জায়নামাজ চুরি করেছিলাম, কারণ সেটি খুবই নরম এবং দারুণ ছিল।’
তার কথা শুনে দর্শক-শ্রোতারা হেসে উঠলে অভিনেতা মিকায়েল জুলফিকার অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘নামাজের পাটি চুরি করতে কি আপনার লজ্জা লাগেনি?’
জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার মনে হলো, যেহেতু এটি আমি নামাজ পড়ার জন্য ব্যবহার করব তাই আল্লাহ হয়তো আমার এই কাজটি ধরবেন না।’
দুরেফিশানের এমন মন্তব্যের পর রসিকতা ধরে রাখতে পারেননি অভিনেতা মিকায়েল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা কৌতুক করে বলেন, ‘তাহলে তো মসজিদের বাইরে থেকে যারা জুতা চুরি করে, তাদেরও মাফ হয়ে যাওয়া উচিত।’
বিনোদন ডেস্ক

পাকিস্তানি জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার চোখের চাহনি, প্রাণবন্ত হাসি আর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে তুলেছেন তিনি। অভিনেত্রী খুব অল্প সময়েই সবচেয়ে প্রিয় মুখগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছেন। হানিয়ার অভিনয়ে আছে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বাস্তবতার ছোঁয়া আর আবেগের গভীরতা। তার প্রতিটি সাহসী নারী চরিত্র যেন জীবনের গল্প বলে, তাই দর্শকও তাকে খুঁজে পায় নিজেদের মধ্যে।
হানিয়া আমিরের কিছু নাটক হয়ে উঠেছে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানোর একটি অধ্যায়। যে নাটকগুলো শুধু জনপ্রিয়তাই এনে দেয়নি, বরং প্রতিষ্ঠিত করেছে তাকে এক অনন্য অভিনেত্রী হিসেবে। হানিয়া আমিরের জনপ্রিয়তা শুধু তার সৌন্দর্যে সীমাব্ধ থাকেনি; বরং প্রতিটি চরিত্রে প্রাণ ঢেলে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। কখনো ভালোবাসায় ভরা মেয়ে, কখনো বঞ্চিত নারী, আবার কখনো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর— সব ভূমিকাতেই নিজের অভিনয়কে ভিন্নমাত্রায় উপস্থাপন করেন তিনি। তার নাটকগুলো প্রমাণ করে, হানিয়া আমির শুধু এক উদীয়মান অভিনেত্রী নন, বরং টেলিভিশনের ভুবনে একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী। সেই স্মরণীয় নাটকগুলো নিয়েই আজকের কথামালা।
ইশকিয়া
হানিয়া আমির এখানে রুমি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে পরিবার, প্রেম আর বিশ্বাসঘাতকতার টানাপোড়েনে পড়ে যায়। ফারহান সাঈদ ও ফিরোজ খানের সঙ্গে অভিনয়ে তার রসায়ন নাটকটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। প্রেম, ঈর্ষা আর প্রতিশোধের মিশ্রণে তৈরি নাটকটি ছিল টিআরপি তালিকার শীর্ষে।
ভিসাল
এই নাটকে হানিয়া আমির ছিলেন পারি চরিত্রে, যে সরল-সাদামাটা স্বভাবের হলেও ভাগ্যের খেলায় জড়িয়ে পড়ে এক জটিল সম্পর্কে। হাসান খান ও সাবা হামিদের সঙ্গে তার অভিনয় রসায়ন নাটকটিকে করেছে প্রাণবন্ত। রোমান্স, ট্র্যাজেডি ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব— সব মিলিয়ে নাটকটি দর্শকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
মেরে হমসফর
রোমান্টিক-ড্রামা ঘরানার এই নাটকটি হানিয়া আমিরকে এনে দিয়েছে বিশাল পরিচিতি। এখানে তিনি হালা চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে জাত চিনিয়েছেন, যাকে ছোটবেলা থেকেই পরিবারে অবহেলা করা হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অবজ্ঞা আর কষ্ট সয়ে বড় হওয়া হালা শেষমেশ খুঁজে পায় সত্যিকারের ভালোবাসা। হানিয়ার অভিনয়ে হালার দুর্বলতা, লড়াই আর মানসিক শক্তি দর্শককে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়।
সাঙ এ মাহ
এটি একটি সামাজিক ইস্যুভিত্তিক নাটক, যেখানে উপজাতীয় সংস্কৃতির নানা দিক উঠে এসেছে। হানিয়া এখানে ঘাগ চরিত্রের ভুক্তভোগী এক নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তার চরিত্রের যন্ত্রণা ও প্রতিবাদী মানসিকতা নাটকটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। হানিয়ার চোখের ভাষা আর সংলাপ-উচ্চারণ দর্শকের মনে আজও গেঁথে রয়েছে ।
ফির ওয়াজুদ
এখানে হানিয়া হামির এক দৃঢ়চেতা ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন একজন নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সমাজ ও পরিবারে নারীর অবস্থান, ভালোবাসার জন্য লড়াই এবং ব্যক্তিত্ব ধরে রাখার গল্প এই নাটককে বিশেষ করে তুলেছে। তার অভিনয়ে একাধারে কোমলতা ও দৃঢ়তার মিশেল দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।
বিনোদন ডেস্ক

পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়লে অনলাইন ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সঠিক কারণ এখনো অজানা। হানিয়ার সাম্প্রতিক ছবি এবং ভিডিওগুলোতে তাকে ফ্যাকাশে ও অসুস্থ দেখাচ্ছে। অভিনেত্রী একটি পুরস্কার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হিউস্টনে এসেছিলেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জিওটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে হানিয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে। ‘হানিয়ার কী হয়েছে?’ এর মতো ভক্তদের মন্তব্যে কমেন্ট বক্স ভরে উঠেছে। তারা দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন প্রার্থনা এবং জল্পনা-কল্পনায় ভরে উঠেছে। ভক্তরা অভিনেত্রী বা তার দলের কাছ থেকে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে আপডেটের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু নির্ভরযোগ্য কেউ তার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানাচ্ছেন না।
‘মুঝে প্যায়ার হুয়া থা’ তারকার সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ারের সংখ্যা ঈর্ষণীয়। তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে। তার ফলোয়াররা তুলনামূলক অ্যাকটিভ হওয়ায় তিনি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সেলিব্রিটিতে পরিণত হয়েছেন। নিজের দেশ ছাড়াও উপমহাদেশে তার কদর রয়েছে।
সম্প্রতি তিনি সীমান্তের বাইরেও কাজ শুরু করেছেন। দিলজিৎ দোসাঞ্জের বিপরীতে পাঞ্জাবি ছবি ‘সরদার জি ৩’-তে অভিনয় করেছেন তিনি। তার এই সাহসী পদক্ষেপ বিনোদন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিনয়ের বাইরে হানিয়া ফটোশুট এবং সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্টে সক্রিয় থাকেন। প্রায়শই ভক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে এবং তার ব্যক্তিগত-পেশাদার জীবনের ঝলক শেয়ার করে নেওয়ার জন্য তার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।
বিনোদন ডেস্ক