Tag: চলচ্চিত্র

  • শেষ মুহূর্তে মুক্তির মিছিল থেকে সরে দাঁড়াল ঈদের দুই সিনেমা

    আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মুক্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছিল একাধিক নতুন সিনেমা। ‘তাণ্ডব’, ‘ইনসাফ’, ‘টগর’, ‘নীলচক্র’, ‘এশা মার্ডার’-সহ আলোচনায় থাকা বেশ কিছু সিনেমার মাঝে জায়গা করে নিয়েছিল ‘শিরোনাম’ ও ‘নাদান’। তবে শেষমুহূর্তে মুক্তির তালিকা থেকে সরে গেছে এই দুটি সিনেমা।

    চিত্রনায়ক নিরব অভিনীত ‘শিরোনাম’ সিনেমার প্রথম লুক কিছুদিন আগেই প্রকাশ করেছিলেন তিনি নিজেই; জানিয়েছিলেন ঈদেই আসছে সিনেমাটি। কিন্তু নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ঈদে এটি আর মুক্তি পাচ্ছে না।

    এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিরব বলেন, ‘আমরা যখন ঈদে মুক্তির ঘোষণা দিই, তখন পাঁচ-ছয় দিনের শুটিং বাকি ছিল। চাইলে দ্রুত কাজ শেষ করা যেত। আমরা তাড়াহুড়া করতে চাইছি না। সময় নিয়ে ভালোভাবে সিনেমাটি শেষ করে দর্শকের সামনে আসার ইচ্ছা রয়েছে। তাই আপাতত মুক্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে।’ 

    সিনেমাটিতে নিরবের বিপরীতে আছেন ইয়ামিন হক ববি। আরও অভিনয় করছেন ওমর সানী, সালাহউদ্দিন লাভলু, শতাব্দী ওয়াদুদ, কচি খন্দকার, ফারজানা ছবি, দিলরুবা দোয়েল প্রমুখ।

    অন্যদিকে, ‘নাদান’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা ও সায়মা স্মৃতি। কারিগরি সমস্যার কারণে এটি ঈদে মুক্তি পাচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্যামল মাওলা বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, কিছু টেকনিক্যাল ঝামেলার কারণে ‘নাদান’ এই ঈদে আসছে না। যারা নাদানের পোস্টার দেখে ভালোবাসা জানিয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি ভবিষ্যতে নাদান সিনেমার জন্য এই ভালোবাসা আবারও পাব।’

    সিনেমাটিতে শ্যামল ও সায়মা স্মৃতি ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন রাকিব হোসেন ইভন, এরফান মৃধা শিবলু, সাইফ খান, জুয়েল জহুর প্রমুখ।

    ‘শিরোনাম’ ও ‘নাদান’ ঈদের সিনেমার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় এখন দর্শকদের চোখ ‘তাণ্ডব’সহ অন্য আলোচিত সিনেমাগুলোর দিকেই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘তাণ্ডব’ নিয়ে গুঞ্জন, শাকিবকে পাশে নিয়ে রাফীর স্পষ্ট বার্তা

    ঈদ মানেই যেন ঢালিউডে সুপারস্টার শাকিব খানের রাজত্ব। আর সঙ্গে রায়হান রাফী থাকলে তো কোনো কথাই নেই, সিনেমার দাপট চলে অন্যরকম। গত বছর ‘তুফান’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় ঝড় তুলেছিলেন এই জুটি। এবার ঈদে তারা ফিরছেন নতুন সিনেমা ‘তাণ্ডব’ নিয়ে।

    সিনেমাটি ঘিরে শুরু থেকেই দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। শাকিব খানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সিনেমা নিয়ে চারদিকে শোনা যাচ্ছে নানান গুঞ্জন। বিশেষ করে পর্দায় তার সঙ্গে কে স্ক্রিন শেয়ার করছেন—তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

    প্রথমে গুঞ্জন ওঠে, ‘তাণ্ডব’-এ শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করছেন আফরান নিশো। পরে শোনা যায়, নিশোর বদলে সিনেমায় থাকছেন সিয়াম আহমেদ। এরই মধ্যে খবর রটে, নিশোর একটি ক্যামিওর জন্য রাফীর ওপরে নাখোঁশ হয়েছেন শাকিব। যে কারণে শুটিংয়েও অংশ নেননি তিনি। 

    এসব গুঞ্জনের মাঝেই নির্মাতা রায়হান রাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ভক্তদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। শনিবার (৩১ মে) ভারতে তোলা ছবিটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমরা একসাথে যা করতে পারি, একা কখনোই তা সম্ভব নয়। আমরা আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। ’

    সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘চিলে কান নিয়ে গেছে ভাবলে চলবে না। তার আগে কান স্পর্শ করে দেখতে হবে আদেও চিলে কান নিয়ে গেছে কিনা! গুজব থেকে ১০০০ হাত দূরে থাকুন।’

    সবশেষে রাফি হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন, ‘ডাবিং শেষ। ‘তাণ্ডব’ ঝড় আসছে। মেগাস্টার শাকিব খান। পরিচালক রায়হান রাফী। 

    জানা গেছে, ‘তাণ্ডব’-এর শুটিং ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে চলছে সম্পাদনার শেষ ধাপ। খুব শিগগিরই ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া হবে।

    প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, একটি টেলিভিশন চ্যানেলে হামলার ঘটনা ঘিরেই এগিয়ে যাবে সিনেমার গল্প। ছবির কাহিনি রচনা করেছেন পরিচালক নিজেই, আর চিত্রনাট্য যৌথভাবে করেছেন আদনান আদিব খান ও রায়হান রাফী।

    আসন্ন ঈদে দেশের প্রায় দেড় শতাধিক সিনেমা হলে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘তাণ্ডব’। এটি হতে যাচ্ছে এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় বাজেটের ও তারকাবহুল সিনেমা, যেখানে প্রথমবারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে দেখা যাবে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • যে এক শর্তে অভিনয়ে ফিরতে চান ববিতা

    দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ে নেই দেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ববিতা। অভিনয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাননি। বলেছেন, মনের মতো চরিত্র ও গল্প পেলে তিনি অভিনয় করবেন। 

    সর্বশেষ তাকে নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ নামে একটি সিনেমায় দেখা গেছে। তাও সেটা ১০ বছর আগে। এরপর থেকে ঢাকা ও কানাডা মিলেই সময় কাটে তার। বছরের কয়েকমাস কানাডায় থাকেন তিনি। সেখানে তার একমাত্র ছেলে বসবাস করেন। তবে বর্তমানে এ অভিনেত্রী অবস্থান করছেন রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায়। ফোনে ছেলে অনিকের সঙ্গে কথা বলে, ঘরের নানান কাজ করে, টিভি দেখে, দেশ বিদেশের সিনেমা দেখে সময় কাটে বলে জানিয়েছেন ববিতা। 

    ক’দিন পরই কোরবানির ঈদ। এটা নিয়েও রয়েছে তার ব্যস্ততা। এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘সিনেমায় অভিনয় করছি না বলেই যে খুব অবসর আমার, এমনটা নয়। নিজের ঘর বাড়ি নিয়েও আমার ব্যস্ত সময় কাটে। এছাড়া সুচন্দা আপা, চম্পা ও তাদের সন্তানদের ঘিরেও কিন্তু আমার প্রায়ই অনেক সময় কাটে। কখনো কখনো তারা সবাই আমার বাসায় আসেন। আবার কখনো কখনো আমিও তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে যাই। নিজেরা নিজেরাই গল্পে আড্ডায় মেতে উঠি। আবার ঘরের নানান কাজ শেষে আমি টিভি দেখি, দেশ বিদেশের খবর রাখি। আর নিয়ম করে অনিকের সঙ্গে কথাতো হয়ই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক ব্যস্ততার পরও যখন একদমই একা থাকি তখন আসলে ফেলে আসা দিনের অনেক স্মৃতি মনে উঁকি দেয়। মনে পড়ে খুব ছোট্টবেলার কথা, মনে পড়ে বাবার কথা, মায়ের কথা। কী চমৎকার পরিপাটি একটা সুন্দর পরিবার ছিল আমাদের! সময়ের ধারাবাহিকতায় আমাদের ভাই বোনদের আলাদা আলাদা পরিবার হয়েছে। যে যার মতো ব্যস্ত থাকলেও আমাদের মধ্যে যোগাযোগটা কিন্তু নিয়মিতই আছে।’

    সিনেমা নিয়ে এখনো ভাবেন এ অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  ‘অবসর সময়ে কিন্তু আমার চলচ্চিত্র জীবনের কথা খুব মনে পড়ে। শ্রদ্ধেয় জহির রায়হান ভাই, রাজ্জাক ভাই, ফারুক ভাই, বুলবুল ভাইসহ অনেক সহশিল্পী ও নির্মাতার কথা মনে পড়ে। আমার পরম সৌভাগ্য যে, এদেশের প্রতিথযশা গুনি নির্মাতাদের নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এমনকি অস্কারজয়ী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাতেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আসলে অবসরে ফেলে আসার দিনের কতো কতো কথা যে মনে পড়ে, তা বলে শেষ করা যাবে না। তবে একজন নায়িকা হিসেবে জীবনজুড়ে আমার যে প্রাপ্তি তাতে ভীষণ সন্তুষ্ট আমি। আমি কৃতজ্ঞ আমার চলচ্চিত্র পরিবারের কাছে।’

    এদিকে অভিনয় প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ববিতা। জানিয়েছেন, সুযোগ হলেই ফিরবেন আবার অভিনয়ে। তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি করা হলে আমি অবশ্যই অভিনয় করব। অভিনয়কে আমি কখনোই বিদায় বলতে পারি না।’ 

    এটাই আমার পেশা জানিয়ে ববিতা আরও বলেন, ‘এখন যেসব চরিত্রের জন্য আমাকে ডাকা হয়, এগুলো করতে আমি অভ্যস্ত নই। মাঝে শাকিব খানের কী একটি সিনেমার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিনেমার শুটিং আমেরিকা, কানাডায় নাকি হওয়ার কথা ছিল। আমি না বলে দিয়েছি। শুধু মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে আমি চাই না। কেউ যদি আমাকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি করে তাহলে অবশ্যই অভিনয় করব। কারণ পাশের দেশগুলোতে দেখেন, অমিতাভ বচ্চন এ বয়সেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছে। শ্রীদেবী মৃত্যুর আগেও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এ চর্চাটা নেই। সবাই মনে করে বয়স হয়ে গেলেই নায়কের বাবা-মা ছাড়া আমাদের আর কোনো চরিত্র নেই। তাই আমি সিনেমায় নেই। ভালো এবং মনের মতো গল্প হলে অবশ্যই সিনেমায় আমাকে দেখবে দর্শক।’

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • হাসপাতালে ভর্তি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত চিত্র সম্পাদক দুলু, চাচ্ছেন সরকারের সাহায্য

    পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮ বারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্র সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলু। ছোট ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। 

    বড় ছেলে দেশের বাইরে থাকায় ছোট ছেলে ও তার স্ত্রীর সাথেই থাকতেন খ্যাতিমান এই চিত্র সম্পাদক। বড় ছেলের অবর্তমানে সব সম্পত্তি ছোট ছেলের নামে লিখে দিতে দীর্ঘদিন যাবত মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন তার ছোট ছেলে ও ছেলের স্ত্রী। ছোট ছেলের এরকম অনৈতিক আবদার ও চাপে রাজী না হওয়াতেই দেশবরেণ্য এই চিত্র সম্পাদককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে ছেলে ও ছেলের বউ। এমন সব তথ্য জানিয়েছেন মজিবুর রহমান দুলুর প্রতিবেশিরা। 

    তারা আরও জানান, নির্যাতনের নির্মমতায় তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ছেলে ও ছেলের বউ অন্যরুমে চলে যায়। তখন প্রতিবেশিরাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। 

    মজিবুর রহমান দুলুকে দেখতে ও তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে যান দীর্ঘদিনের সহকর্মী আবু মুসা দেবু। হাসপাতাল থেকে ফিরে তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও অবহেলা আর অনাদরেই আছেন মজিবুর রহমান দুলু। ছেলে ও ছেলের বউ কাউকেই হাসপাতালে গিয়ে  তিনি পাননি। এ নিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। সেই সঙ্গে ছেলে ও ছেলের বউয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে ভর্তি দুলুর চিকিৎসার ব্যয়ভায় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ মুহুর্তে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন সিনিয়র চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এফ আই মানিক, এ জে মিন্টু, আবু মুসা দেবুসহ অনেকে। 

    তারা বলেন, ‘আট বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত একজন চিত্র সম্পাদক আজ অবহেলিত। অর্থাভাবে সুচিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। এ মুহুর্তে তার সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এরকম একজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের দিকে সরকার সহোযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এটাই আমাদের চাওয়া। ’ 

    উল্লেখ্য, ‘নয়ন মনি’ ছবির মধ্য দিয়ে নিজের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেন মজিবুর রহমান দুলু। পরবর্তীতে ‘সুজন সখী’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘অভাগী’, ‘নাত বৌ’, ‘প্রাণ সজনি’, ‘ভাত দে’, ‘তিন কন্যা’, ‘ভেজা চোখ’, ‘সত্যমিথ্যা’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘বাংলার বধূ’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘নাগর দোলা’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘৭১ এর মা জননী’সহ চাহিদার নিরীখে প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে সম্পাদনার কাজ করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • চতুর্থবারের মতো অযোধ্যায় সম্পত্তি কিনলেন অমিতাভ বচ্চন, কারণ কী?

    বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন অযোধ্যায় চতুর্থবারের মতো সম্পত্তি কিনলেন। সর্বশেষ তিনি নগরীর একটি অভিজাত এলাকায় ২৫ হাজার বর্গফুট জমি কিনেছেন, যার বাজার মূল্য ভারতীয় টাকায় ৪০ কোটি। 

    হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, নতুন জমিটি ‘সারায়ু’ নামে একটি প্রিমিয়াম রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে এর আগেও বিনিয়োগ করেছিলেন বিগ বি। এই নিয়ে গত এক বছরে অযোধ্যায় তার এটি চতুর্থ রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ।

    এর আগে তিনি রাম মন্দির উদ্বোধনের আগেই ৫,৩৭২ বর্গফুট একটি প্লট ৪.৫৪ কোটি টাকায় কেনেন। এছাড়া ‘সারায়ু’ প্রকল্পেই ১৪.৫ কোটি টাকায় ৫৪ হাজার বর্গফুট জমি কেনেন, যা তার বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনের নামে নিবন্ধিত ট্রাস্টের অধীনে রাখা হয়েছে। সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

    সম্প্রতি তিনি বলিউড প্রযোজক আনন্দ পণ্ডিতের মালিকানাধীন একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতেও ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া ছেলে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে যৌথভাবে গত বছর ২৫ কোটি টাকায় ১০টি অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন মুম্বাইয়ে।

    অমিতাভ বচ্চনের সম্পত্তির পরিমাণ সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যায় জয়া বচ্চনের নির্বাচনী হলফনামা থেকে, যেখানে দম্পতির মোট সম্পত্তির পরিমাণ দেখানো হয় ১,৫৭৮ কোটি টাকা।

    সম্প্রতি তিনি মুম্বাইয়ের অন্ধেরিতে ২০২১ সালে ৩১ কোটি টাকায় কেনা একটি ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ৮৩ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন।

    অমিতাভ বচ্চনের উত্তরপ্রদেশে ধারাবাহিক বিনিয়োগ সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে, অযোধ্যাকে ঘিরে দেশের আবেগ ও আগামীর সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বন্যপ্রাণীদের নীরব এলকায় সজল-বুবলীর শুটিং, ক্ষুব্ধ জয়া যা বললেন

    শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এলাকায় চলছে শবনম বুবলী ও আব্দুন নূর সজল অভিনীত নতুন সিনেমা ‘শাপলা শালুক’-এর শুটিং। গত নয়দিন ধরে পুরো ইউনিট ব্যস্ত সময় পার করছে এই নির্জন লোকেশনে।

    তবে সম্প্রতি শুটিং স্পট থেকে উঠে এসেছে নতুন খবর। শ্যুটিংয়ের সময় তাদের টিমের ওপর হামলা চালিয়েছে প্রায় ৮-৯টি বন্য হাতির একটি দল। বিষয়টি নিশ্চিত করে সজল জানান, ‘গত ৯ দিন ধরে এখানে শুটিং করছি। এখানে প্রায়সময়ই বন্যহাতি আক্রমণ করে। আমাদের সেটে প্রায় ৮/৯টা বন্যহাতি আক্রমণ করেছিল। সবাই ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। পরে কোনোভাবে তাদেরকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি আমাদের।’

    বুবলী শুটিং লোকেশন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এই লোকেশনে আগে কখনো শুটিং করিনি। পরিবেশটা খুবই নিরিবিলি। দর্শকদের জন্য চোখ জুড়ানো লোকেশন হবে।’

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি মনে করছেন, এই শুটিংয়ের ফলে বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে সজল-বুবলীর এই সিমেনার শুটিং বন্ধে বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জয়া আহসান।

    বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে নিজের ফেসবুকে একটি সংবাদ ফটোকার্ড শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘এই আরেক উপদ্রব বনের ভেতর। বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মন চাইলেই লাইট ক্যামেরা একশন শুরু করা যায়?’

    জয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘মাইকের শব্দ, শুটিং টিমের বর্জ্য, গান-বাজনা এগুলো কি এলাউ করা ঠিক হবে এরকম একটা সেন্সিটিভ জায়গায়?’

    জয়ার এই অবস্থানের সঙ্গে অনেকেই একমত পোষণ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, বনের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে শুটিং ইউনিটের কোলাহল, শব্দ ও বর্জ্য বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সজলের শাপলা শালুক

    জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুন নূর সজল। একসময়ে নাটকের ব্যস্ত অভিনেতা থাকলেও, এখন ওটিটি কনটেন্ট ও সিনেমা নিয়েই তার ব্যস্ততা। গত ঈদেই মুক্তি পেয়েছি তার অভিনীত সিনেমা ‘জ্বীন-৩’। 

    এছাড়াও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন ‘ঋতুকামিনী’ নামে সজল অভিনীত আরও একটি সিনেমা। এরমধ্যেই জানা গেছে, এ অভিনেতা নতুন একটি সিনেমার শুটিং করছেন। সিনেমার প্রাথমিক নাম রাখা হয়েছে ‘শাপলা শালুক’। এটি পরিচালনা করছেন রাশেদা আক্তার লাজুক। এটি পরিচালকের প্রথম সিনেমা। 

    শেরপুরের নালিতাবাড়ির ভারতীয় সিমান্তবর্তী এলাকায় ২১মে থেকে এর শুটিং শুরু হয়েছে। এতে সজলের বিপরীতে অভিনয় করছেন শবনম বুবলী। বর্তমানে দুজনই সিনেমায় শুটিং করছেন। তবে নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে এখন কিছু বলতে বারণ থাকায় মুখ খুলছেন না শিল্পীরা। 

    তবে পরিচালক জানান, এটি অ্যাকশন, রোমান্টিক ও পুরোপুরি বাণিজ্যিক ধাঁচের একটি সিনেমা। এতে ক্ল্যাসিক ধাঁচের ছোঁয়াও আছে।

    রাশেদা আক্তার বললেন, ‘অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি সিনেমার কারিগরি দিক নিয়েও আমরা ভেবেছি। আধুনিক সিনেমা বানানোর জন্য যা যা করণীয়, সবই এতে রেখেছি। সবচেয়ে দারুণ বিষয় হচ্ছে, আমাদের লোকেশন, যা দর্শকদের আলাদা একটা আরামবোধ করাবে।’ 

    সিনেমায় আরও আছেন সুমন আনোয়ার, আয়মান শিমলা, দিলরুবা দোয়েল, রফিকুল রুবেল, বাপ্পী  প্রমুখ।

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রসহ ৫টি পুরস্কার জিতল যে সিনেমা

    স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘আনোরা’, যা এক রুশ ধনকুবেরের ছেলের সঙ্গে এক যৌনকর্মীর বিয়ে ও তার করুণ পরিণতির গল্প নিয়ে নির্মিত। এ সিনেমাটিই এবারের অস্কারে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। কেবল সেরা চলচ্চিত্র-ই নয়, পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে চলচ্চিত্রটি।

    মার্কিন স্বতন্ত্র পরিচালক শন বেকার পরিচালিত এই সিনেমাটি যৌনকর্মের বাস্তবতা ও হৃদয়বিদারক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি হাস্যরসের মিশেলে দর্শকদের মন জয় করেছে।

    মাত্র ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ডলারে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে বিতর্কিত বিষয়বস্তু থাকা সত্ত্বেও অ্যাকাডেমি পুরস্কারজয়ীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। সিনেমাটি সেরা পরিচালক এবং সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যসহ পাঁচটি পুরস্কার জিতেছে।

    পুরস্কার নেওয়ার সময় পরিচালক বেকার বলেন, ‘আমি অ্যাকাডেমিকে ধন্যবাদ জানাই একটি সত্যিকারের স্বাধীন চলচ্চিত্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। এই সিনেমাটি অসাধারণ স্বাধীন শিল্পীদের রক্ত, ঘাম ও পরিশ্রমের ফসল। দীর্ঘজীবী হোক স্বাধীন চলচ্চিত্র!’

    কান থেকে অস্কার পর্যন্ত ‘আনোরা’র যাত্রা

    ‘আনোরা’ সিনেমাটি প্রথমবারের মতো আলোচনায় আসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে। যেখানে এটি স্বর্ণপাম (Palme d’Or) জিতে নেয়। এটি ছিল ২০১১ সালে টেরেন্স মালিকের ‘দ্য ট্রি অফ লাইফ’ এর পর প্রথম কোনো মার্কিন চলচ্চিত্র, যা কান উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার জেতে।

    তবে অস্কার জেতার পথটি সহজ ছিল না।

    বেকারের আগের চলচ্চিত্রগুলো, যেমন ‘রেড রকেট’ (২০২১) যৌনকর্মীদের জীবন তুলে ধরলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সিনেমা হলগুলোতে সাফল্য পায়নি।

    এছাড়া জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত গোল্ডেন গ্লোবসে ‘আনোরা’ কোনো পুরস্কার জিততে ব্যর্থ হয়। ফলে অনেকেই ভেবেছিল সিনেমাটির পুরস্কারের দৌড় শেষ।

    কিন্তু এরপর যখন প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমাগুলো, যেমন- ‘এমিলিয়া পেরেজ’ বিতর্কের মুখে পড়ে। তখন ‘আনোরা’ দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করতে থাকে। বিশ্বব্যাপী এটি ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এবং পরিচালক, লেখক ও সমালোচকদের সংগঠনগুলো থেকে একাধিক পুরস্কার জিতে নেয়।

    অবশেষে রোববার রাতে সিনেমাটি হলিউডের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার—সেরা চলচ্চিত্র—জিতে নেয়।

    যৌনকর্মের বাস্তব চিত্রায়ন

    ‘আনোরা’ সিনেমাটির গল্প নিউ ইয়র্কের এক স্ট্রিপ ক্লাব থেকে শুরু হয় এবং এটি বেকারের পঞ্চম চলচ্চিত্র, যা যৌনকর্মের বাস্তবতা নিয়ে কাজ করেছে।

    বেকার তার আগের চলচ্চিত্রগুলোর মতো এবারও বাস্তব জীবনের নৃত্যশিল্পী ও যৌনকর্মীদের অভিনয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারা শুধু পর্দায় উপস্থিতই ছিলেন না, বরং চরিত্রগুলোর সংলাপ ও দৃশ্যগুলোর বাস্তবধর্মী উপস্থাপনাতেও পরামর্শ দিয়েছেন।

    চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র আনি (অস্কার বিজয়ী মিকি ম্যাডিসন) এক বিত্তশালী রুশ যুবক ইভান (মার্ক আইডেলস্টেইন)-এর সঙ্গে আকস্মিকভাবে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন এবং লাস ভেগাসে তারা গোপনে বিয়েও করেন।

    তবে এই গল্পটি ‘প্রিটি ওম্যান’-এর রূপকথার মতো নয়।

    বিয়ের পরপরই ইভান বুঝতে পারেন যে, তার ধনী বাবা-মা বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান।

    এরপর তোরাসের (কারেন কারাগুলিয়ান) নেতৃত্বে একদল গুন্ডা এসে আনি-কে আটকে রাখে। ফলে শুরু হয় নাটকীয় মোড়।

    হাস্যরস ও হৃদয় ভাঙার সংমিশ্রণ

    বেকার তার চলচ্চিত্রে নব্য-বাস্তববাদী শৈলী ব্যবহার করেন এবং গল্পে হাস্যরসও যোগ করেন।

    ‘আনোরা’-এর দ্বিতীয় অংশে রয়েছে একটি উন্মাদনাপূর্ণ অনুসন্ধান। যেখানে ইভানকে খুঁজতে গিয়ে নানা হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    বেকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি সত্যকে তুলে ধরতে চাই, বাস্তবতাকে যতটা সম্ভব কাছ থেকে দেখাতে চাই। আর সত্যের অংশ হিসেবে হাস্যরস প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় আমরা কষ্ট লুকোতে হাসি ব্যবহার করি’।

    কিন্তু শেষ দৃশ্যে এসে সেই হাস্যরস উধাও হয়ে যায়। আনি বুঝতে পারে তার স্বপ্নময় জীবন মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়েছে এবং প্রথমবারের মতো সে তার বাহ্যিক শক্তিমত্তার আড়াল থেকে প্রকৃত দুর্বলতাকে প্রকাশ করে।

    যৌনকর্মীদের অধিকারের পক্ষে বার্তা

    পুরস্কার গ্রহণের সময় পরিচালক বেকার এবং অভিনেত্রী মিকি ম্যাডিসন যৌনকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাদের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ও আইনগতভাবে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।

    বেকার বলেন, যারা তাদের জীবন কাহিনি আমার সঙ্গে ভাগ করেছেন, আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

    অন্যদিকে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী মিকি ম্যাডিসন বলেন, ‘আমি অসাধারণ সব নারীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি, যারা এই সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি তাদের পাশে থাকব এবং তাদের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলব’।

    মূলত এবারের অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রসহ পাঁচটি পুরস্কার জিতে ‘আনোরা’ প্রমাণ করেছে, স্বাধীন সিনেমা ও সাহসী গল্প বলার শক্তি এখনো বিদ্যমান। যৌনকর্মের বাস্তবতা, হাস্যরস এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে এটি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। সূত্র: হুরিয়েত ডেইলি নিউজ

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিয়ে না করেই শুভেচ্ছাবার্তায় সিক্ত, যা বললেন অভিনেত্রী

    ভারতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিধিমা পণ্ডিত সম্প্রতি ‘সিকান্দার কা মুকাদ্দর’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরই মাঝে তিনি পাবলিক লাইফের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। 

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তার শোনা সবচেয়ে মজার এবং অদ্ভুত গুজব সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন।

    তিনি বলেন, সবচেয়ে অদ্ভুত এবং মজার গুজব আমি যেটা শুনেছি, সেটা ছিলো- আমি নাকি ক্রিকেটার শুভমান গিলকে বিয়ে করছি। যার সঙ্গে আমার জীবনে কখনো, একবারও দেখা হয়নি!

    রিধিমা বলেন, এটা না হয় অন্য কথা হতো যে, যদি আমি কারও সঙ্গে দেখা করতাম, বন্ধুত্ব করতাম বা তাকে নিয়ে কথা বলতাম- তখন না হয় এমন গুজব কিছুটা যুক্তিসঙ্গত হতে পারত। কিন্তু এটি ছিল খুবই অদ্ভুত।

    ‘এটা এমন একটা গুজব ছিল, আর এটা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে, আমি শুভেচ্ছাবার্তা পেতে শুরু করি। তখন আমি ভাবলাম, নিজের খ্যাতি রক্ষার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমি এটি শুরুতেই পরিষ্কার করে দেই। কারণ একজন অভিনেত্রী এবং সেলিব্রিটি হিসেবে আপনি অন্যের সবচেয়ে সহজ লক্ষ্যে পরিণত হতে পারেন। যদিও আজকের দিনে আমাদের কাছে এর স্পষ্টীকরণের জন্য মাধ্যম আছে, যা আমি জানার পরই করেছি। তবুও গুজবটি ছড়িয়ে যেতে থাকে’, যোগ করেন অভিনেত্রী।

    রিধিমা পাণ্ডিত আরও বলেন, বিনোদন শিল্প তারকাদের পাবলিক লাইফের চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি সহনশীলতা গড়ে তুলতে শেখায়। কিন্তু যখন গুজব তাদের পরিবারের দিকে চলে আসে, তখন চাপ আরও বেশি হয়। 

    তিনি বলেন, এখন একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি জানি আমার জীবন সর্বদা সবার নজরের মধ্যে থাকে। কিন্তু এটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ আমাদের মা-বাবারা সেটি দেখেন। তারা কিন্তু এর থেকে আলাদা নন- তারা আমাদের ভালোবাসেন এবং আমাদের এ ধরনের গুজব থেকে রক্ষা করতে চান। তাই এটি তাদের প্রভাবিত করে। আর এজন্যই এটি আমাকেও প্রভাবিত করে’।

    ‘অন্যথায় এই ক্ষেত্রটি আমাদেরকে শক্তিশালী হতে শেখায় এবং আমরা তা হয়ে গেছি। কিন্তু যখন কোনো গুজব আমাদের পরিবারে পৌঁছায়, তখন আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। আমরা তখন বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করি; নাহলে হয়তো আমি এতে কিছু মনেই করতাম না,’ শেষ করেন অভিনেত্রী।

    উল্লেখ্য, ‘সিকান্দার কা মুকাদ্দর’ সিনেমাটি ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে। এতে রিধিমা ছাড়াও তামান্না ভাটিয়া, আভিনাশ তিওয়ারি এবং জিমি শেরগিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • কমিটিতে কিছু বিস্ময়কর নামও আছে, কাদের দিকে ইঙ্গিত ফারুকীর

    অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাতে শুরু হয়েছে সংস্কার। তারই অংশ হিসেবে গঠিত হয়েছে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড, চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি কমিটি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২৩ জুরি বোর্ড ও সর্বশেষ চলচ্চিত্রবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি। 

    নবগঠিত এসব কমিটি নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক মাধ্যমে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন নিজেদের মত। চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতে সবচেয়ে ভালো হয়েছে চলচ্চিত্রবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

    বুধবার সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে এসব কমিটি নিয়ে নিজের পর্যালোচনা তুলে ধরেন ফারুকী। 

    তিনি লিখেছেন, চলচ্চিত্রবিষয়ক যতগুলো কমিটি হয়েছে, তার মধ্যে পরামর্শক কমিটিই আমার বিবেচনায় সবচেয়ে ভালো হয়েছে। বাকি কমিটিগুলোতে যোগ্য লোক যেমন আছে, কিছু বিস্ময়কর নামও আছে। এই সমালোচনাটা করে রাখা দরকার, যাতে সরকার বুঝতে পারে। না হলে আগের আমলের মতো ‘কর্তা যা করেছেন মাইরি’ সিচুয়েশন বানিয়ে ফেলব আমরা।

    সেসব কমিটির বিষয়ে পরামর্শ হিসেবে ফারুকী লিখেছেন, আমার বিবেচনায় এখানে আরও কিছু অংশীজন থাকা উচিত ছিল। যেমন- ফাহমিদুল হক, বিধান রিবেরু, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মেজবাউর রহমান সুমন, নুহাশ হুমায়ুন। স্বচ্ছতার জন্য বলে নেওয়া ভালো, আমাকে অনুরোধ করা হয়েছিল পরামর্শক এবং আরেকটা কমিটিতে থাকার জন্য। আমি ব্যক্তিগত কারণে থাকতে চাইনি। এখন যাদের নাম উল্লেখ করলাম, তারা থাকতে অপারগতা জানিয়েছে কি না আমি জানি না।

    পরামর্শক কমিটিতে না থাকলেও কিছু পরামর্শ তুলে ধরে ফারুকী লিখেছেন, আমার বক্তব্য থাকবে-এই পরামর্শক কমিটি থেকে যেসব পরামর্শ যাবে তা যেন অংশীজনরাই তৈরি করে দেন। সরকারি কর্মকর্তাদের কেবল এক্সিকিউশনের দিকটা দেখা উচিত। নীতি প্রণয়নে তারা হাত না দেওয়াই ভালো হবে। কারণ তারা তো আমাদের সমস্যা এবং প্রয়োজনটা জানেন না।

    চলচ্চিত্র শিল্পে কার্যকর পরিবর্তন আনতে সিনেমা হলে ই-টিকিটিং ও রেভিনিউ শেয়ার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ফারুকী। 

    তিনি লিখেছেন, শিল্পকলা একাডেমির জমি আছে মোটামুটি দেশজুড়েই। কমপক্ষে ৩০ জেলায় শিল্পকলার জায়গায় মাল্টিপ্লেক্স করে সেটা দরপত্রের ভিত্তিতে প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু আমাদের জাতিগত দুর্নাম ‘আমরা শুরু করি, অব্যাহত রাখি না’, সেহেতু এসব মাল্টিপ্লেক্সকে মনিটরিংয়ে রাখতে হবে এর মেইনটেনেন্স ঠিকঠাক হচ্ছে কি না। না হলে লিজ বাতিলের শর্ত থাকতে হবে। এখন ঝামেলা হলো, শিল্পকলা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন। আর সিনেমা-টিভি-ওটিটি তথ্য ও সম্প্রচারে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করে হলেও এটা করা দরকার।

    চলচ্চিত্রে অর্থায়ন ও সহযোগিতা প্রসঙ্গেও পরামর্শ ব্যক্ত করেছেন ফারুকী। তিনি লিখেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটা হচ্ছে ফিল্ম ফান্ড এবং সাপোর্ট সিস্টেম। আমাদের সামনে বুসান, সানড্যান্স, বার্লিন, রটারডাম, ফিল্মবাজার স্ক্রিন রাইটার্স ল্যাবের উদাহরণ আছে। আমি মনে করি, পরামর্শক কমিটির উচিত অনুদান প্রথায় আমূল পরিবর্তন আনা। ৫০ ভাগ ছবি ফার্স্ট অ্যান্ড সেকেন্ড টাইম ফিল্মমেকারদের জন্য বরাদ্দ থাকা উচিত। এই ৫০ ভাগের মাঝে কমপক্ষে অর্ধেক নারী ফিল্মমেকারদের জন্য থাকা উচিত। তো এই নতুন পরিচালকদের স্রেফ ফান্ড দিয়েই হাত গুটিয়ে ফেলা যাবে না। স্ক্রিন ল্যাবের মতো ইনকিউবেটরে লোকাল এবং ইন্টারন্যাশনাল মেন্টর দিয়ে এদের সহায়তা করতে হবে। 

    তিনি বলেন, আমাদের অনুদান পলিসি নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবা উচিত। আমরা কোন ধরনের ছবিকে অনুদান দিব? ইরানের মতো সোশ্যালি রিলেভ্যান্ট এবং ইমপ্যাক্টফুল স্টোরিটোলিং? নাকি কলকাতা আর্টহাউজের দুর্বল ফটোকপি? নাকি বেলা তারের মতো ছবি? আমার বিবেচনা হচ্ছে, আমাদের এখানকার মানুষ, তাদের সম্পর্ক, আবেগ, পাগলামো এসব মিলিয়ে আমাদের আশেপাশে নিজস্ব গল্প এবং চরিত্রেরা হেঁটে বেড়াচ্ছে। এসব নিয়ে সোশ্যালি রিলেভ্যান্ট ছবির সংখ্যা বাড়লেই আমরা সত্যিকারের বাংলাদেশী নিউ ওয়েভ হতে পারব।

    ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন ফারুকী। লিখেছেন, লাতিন আমেরিকার স্বৈরশাসন এবং দুঃশাসন আপনি খুঁজে পাবেন তাদের সাহিত্যে-সিনেমায়। আমাদের গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের কাল তুলে ধরার কাজে এই অনুদান কাজে লাগানো যায় কি না দেখতে হবে। তবে আওয়ামী যুগের মতো শ্লোগান সর্বস্ব যেন না হয় খেয়াল রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরামর্শক কমিটির উচিত অনুদান কমিটি পুনর্গঠন করা। নতুন পলিসির আলোকে যারা এটা এক্সিকিউট করতে পারবে, তাদের রাখা উচিত। ব্যক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

    কমিটিতে থাকা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, এখন যে অনুদান কমিটি করা হয়েছে, সেখানে এক-দুই জন যোগ্য লোক থাকলেও এটা অনেকটাই আওয়ামী লীগ আমলের মতোই ব্যাকডেটেড কমিটি। আর এই কমিটির কে কীভাবে ফ্যাসিবাদের কালচারাল উইংয়ের ফুটসোলজার ছিল, সেই আলাপে গেলাম না। আমি মনে করি, এই কমিটিতে থাকা উচিত ছিল তাদের, যাদের সারা দুনিয়ায় এই কাজগুলো কীভাবে হচ্ছে, সেটার ফার্স্ট হ্যান্ড অভিজ্ঞতা আছে। বিদ্যমান কমিটির যোগ্য দুয়েকজনের পাশাপাশি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, নুহাশ হুমায়ুন, আরিফুর রহমান, তানভীর হোসেন, সালেহ সোবহান অনীম, আদনান আল রাজীব, কামার আহমেদ সায়মন, হোমায়রা বিলকিসদের মধ্য থেকে কেউ কেউ থাকলে আমরা একটা ফরওয়ার্ড লুকিং ভিশন পেতাম।

    ব্যক্তির ওপর অনেক কিছু নির্ভর-এমন ভাবনা প্রকাশ করে ফারুকী লিখেছেন, অনেকে ভাবতে পারেন, আমি ব্যক্তির ওপর কেন গুরুত্ব দিচ্ছি। দিচ্ছি, কারণ ব্যক্তির কারণেই আকাশ-পাতাল পার্থক্য রচিত হয়। মোহাম্মদ আযম আর মিডিওকার কোনো রাম-শ্যাম এক জিনিস না। সৈয়দ জামিল আহমেদ আর লাকী এক জিনিস না।

    বিনোদন ডেস্ক