Tag: চলচ্চিত্র

  • যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

    নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইথাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ (অন্যতম আইবেলিক বিশ্ববিদ্যালয়) কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের এক অভূতপূর্ব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গুয়েজ রিসোর্স সেন্টারে নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় এ ব্যতিক্রমধর্মী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়।

    দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে ছিলো ‘নির্বাসিত জীবনের স্মৃতি ও মানব চেতনার শেষ আশ্রয় : ঋত্বিক ঘটক ও থিও এঞ্জেলোপোলাসের তুলনামূলক পাঠ’ শীর্ষক সেমিনার। দ্বিতীয় পর্বে ছিল ঋত্বিকের কালজয়ী ছবি ‘মেঘে ঢাকা তারার’ সঙ্গীত নিয়ে পুনর্বিবেচনা  ও সঙ্গীত-পরিবেশনা। পুরো অনুষ্ঠান একই সঙ্গে ভার্চুয়ালি সম্প্রচারিত হবার কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং সিনেমাপিপাসু দর্শক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও অংশগ্রহণ করেছেন।

    কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গুয়েজ রিসোর্স সেন্টার ও ব্রিটেনভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংস্থা সৌধ সোসাইটি অব পোয়েট্রি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান মিউজিকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদযাপনের সেমিনার পর্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক, কবি ও ঔপন্যাসিক অধ্যাপক শামীম রেজা। চলচ্চিত্র সমালোচক ও ল্যাংগুয়েজ রিসোর্স সেন্টারের শিক্ষাক্রম সমন্বয়ক ড. আহমেদ শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সেমিনারে মূল প্রবন্ধকার ছিলেন- অধ্যাপক শামীম রেজা।  গ্রিক চলচ্চিত্রকার থিও ও বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিকের সিনেমায় মাইগ্রেশন, পার্টিশন ইত্যাকার অনুষঙ্গের ভেতর উদ্বাস্তু মানুষের এপোক্যালিপ্টিক রিয়েলিটি ও অস্তিত্ব সংকটের স্বরূপ উন্মোচনে ব্রতী হন।

    এসব দার্শনিক অনুষঙ্গের গভীরতা আরও নিবিড়ভাবে উদঘাটনের জন্য ঋত্বিকের সিনেমার পাশাপাশি  প্রতীচ্যের বিভিন্ন সিনেমার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তারা ‘সুবর্ণরেখা’ সীতা চরিত্রের উদ্বাস্তু জীবনের সঙ্গে বাল্মিকীর রামায়ণের সেই পরাধীন সম্রাজ্ঞী অপহৃতা সীতার তুলনামূলক আলোচনা করেন । ‘ইউলিসিস গেইজ‘ এ মূলত (আলেকজান্ডার) চরিত্রের যে বলকান দেশগুলো উদ্বাস্তু ‘এ’ চরিত্রের যুদ্ধ বিধ্বস্ত বলকান অঞ্চল ভ্রমণ যেমন হোমারের ওডিসিয়াসের ইউলিসিসে দেশ থেকে দেশে যুদ্ধ থেকে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন।

    সেমিনারে মূল আলোচক কবি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক সেজান মাহমুদ সেমিনার-প্রবন্ধ ও সেমিনারের থিমকে ‘জরুরি ও অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আজকের আধুনিক মানুষের সংকটের স্বরূপ বোঝার জন্য আমরা বারবার এ উদ্বাস্তু মানুষের গল্পগুলো, সিনেমাগুলো পাঠ এবং পুনর্পাঠ করতে হবে। একই সঙ্গে জর্জিও আগামবেন এবং জগতের অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের তত্ত্বগুলোও এসব সিনেমার বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা বা ভাষ্য নির্মাণে কতটা জরুরি ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে তা নিয়েও আলোকপাত করেন। 

    বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক সালমা বাণী তার আলোচনায় নিজের লেখা উপন্যাস ‘ইমেগ্রেশন’ উদ্বাস্তু মানুষের জীবন বাস্তবতা ও ঋত্বিকের সিনেমার বিবিধ প্লট ও চরিত্র ইত্যাকার অনুষঙ্গ টেনে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

    কবি ও সৌধ পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, নীটশের ঈশ্বরবিহীন বিশ্বে জগতের সকল আধুনিক মানুষই একই সঙ্গে উদ্বাস্তু এবং শোচনীয়ভাবে নিঃসঙ্গ। তাই উদ্বাস্তু মানুষ নিয়ে সিনেমা প্রকারান্তরে আধুনিক মানুষের জটিল সঙ্কটের সঙ্কেতবাহী দ্যোতকপুঞ্জ। 

    দ্বিতীয়পর্বে ঋত্বিকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় ব্যবহৃত সঙ্গীত, প্রাসঙ্গিক ভাষ্যসহ পরিবেশন করেন বহির্বিশ্বে কিরানা ঘরানার শীর্ষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী। তিনি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিশেষত রাগ হংসধ্বনি গাওয়া কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী পন্ডিত এ কাননের সঙ্গীত শিষ্যা। ফলে পন্ডিত এ কাননের ঋত্বিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে  তার স্মৃতিচারণ এবং ‘মেঘে ঢাকা তারা’র দৃশ্য-বিন্যাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তার কন্ঠে গাওয়া রাগ ভাটিয়ার ও হংসধ্বনি ঋত্বিক উদযাপনে যোগ করে এক নতুন মাত্রা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আজ সপ্তম দিনে ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবে যেসব সিনেমা দেখা যাবে

    আজ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সপ্তম দিন। আজও প্রধান প্রধান ভেন্যুতে একাধিক সিনেমা দেখা যাবে। এর মধ্যে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে বেলা ৩টায় ‘লাইট মেমোরিজ’ (ইকুয়েডর, জার্মানি), সন্ধ্যা ৭টায় ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল (বাংলাদেশ) সিনেমা দেখা যাবে। 

    এদিকে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বেলা ৩টায় ‘টিয়ারস ইন কুয়ালালামপুর’ (মালয়েশিয়া), ৫টায় ইন্দাস ইকোজ (পাকিস্তান), সন্ধ্যা ৭টায় ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ (বাংলাদেশ) সিনেমা দেখা যাবে।

     আর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় সকাল সাড়ে ১০টায় ডিবেট (জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড), বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ‘আ কোয়াইট লাভ’ (আয়ারল্যান্ড) ও বিকাল সাড়ে ৪টায় ‘ম্যাক্স অ্যান্ড দ্য জাঙ্কমেন’ (ফ্রান্স ইতালি) সিনেমা দেখা যাবে। 

    এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় ‘উই আর টু অ্যাবিসেস’ (পর্তুগাল) ও ‘ডেসটিনি অব আ মাইগ্র্যান্ট’ (সেনেগাল), বেলা ১টায় সালুম (ফিলিপাইন), বেলা ৩টায় ‘লাইসেন্স টু লাভ’ (রাশিয়া) ও ৫টায় দ্য হাজব্যান্ড (ইরান) সিনেমাগুলো দেখা যাবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি অভিনেতা মোহাম্মদ বাকরি আর নেই

    ফিলিস্তিনের প্রখ্যাত অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ বাকরি ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ৭২ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

    প্রয়াত এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার ছেলে, জনপ্রিয় অভিনেতা সালেহ বাকরি। পরে ফিলিস্তিনের নিজ গ্রামেই তাকে দাফন করা হয়।

    থিয়েটার থেকে বিশ্ব সিনেমায় যাত্রা

    ১৯৫৩ সালে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ বাকরি আশির দশকে থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন। ফিলিস্তিনি নাগরিক হয়েও তিনি আরবি ও হিব্রু—দুই ভাষাতেই সমান দক্ষ ছিলেন, যা তাকে বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়।

    অস্কারজয়ী গ্রিক-ফরাসি পরিচালক কস্তা-গাভরাসের চলচ্চিত্র ‘হানা কে’–এর মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর খুব অল্প সময়েই তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

    ‘বিয়ন্ড দ্য ওয়ালস’ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বিয়ন্ড দ্য ওয়ালস’ সিনেমায় এক ফিলিস্তিনি কয়েদির চরিত্রে অভিনয় করে মোহাম্মদ বাকরি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। সিনেমাটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের (অস্কার) জন্য মনোনীত হয়েছিল, যা তার অভিনয়জীবনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    সাহসী নির্মাতা ও বিতর্কিত কণ্ঠস্বর

    মোহাম্মদ বাকরি শুধু অভিনেতা নন, বরং একজন প্রতিবাদী ও সাহসী চলচ্চিত্র নির্মাতাও ছিলেন। ২০০২ সালে তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘জেনিন, জেনিন’ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার চিত্র তুলে ধরায় ইসরাইল সরকার সিনেমাটি নিষিদ্ধ করে।

    ফিলিস্তিনি শিল্পী হিসেবে তার অবস্থান ও স্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ইসরাইলি মহলের নানা চাপ ও হুমকির মুখে ছিলেন।

    এক বিদায়, রেখে গেলেন প্রতিরোধের শিল্প

    মোহাম্মদ বাকরির মৃত্যু শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়—এটি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধী শিল্পচর্চার এক উজ্জ্বল কণ্ঠের নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া। অভিনয় ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি নিপীড়িত মানুষের কথা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন সাহস ও সততার সঙ্গে। তার কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বাংলাদেশে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু করল আইওএম

    নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ শুরু করল আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। জনপ্রিয় এই ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এশিয়ায় পদার্পণ করছে। 

    নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গঠনমূলক আলোচনা উৎসাহিত করতে ২০১৮ সাল থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তিন দফায় এই অংশগ্রহণমূলক গণযোগাযোগ প্রচারণা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

    ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আইওএম ১৩ অক্টোবর থেকে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশে এই ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করবে। ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ মাদারীপুর, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলায় ভ্রমণ করবে, যেখানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাট্য পরিবেশনা, সংগীতানুষ্ঠান, কর্মশালা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক আলোচনা আয়োজনের মাধ্যমে ১৩টি পৌরসভা ও প্রায় ৪৮০টি গ্রামে পৌঁছাবে। জেলাভিত্তিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনী চলবে। 

    এই ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় জনগণকে অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জানাতে ও দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতে অনুপ্রাণিত করবে।

    ২০০২ সালে ইতালীয় সহযোগিতার উদ্যোগে প্রথম শুরু হওয়া ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ মূলত সামাজিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৮ সাল থেকে আইওএমর অংশীদারিত্বে এটি অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি তুলে ধরতে এবং সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎসাহিত করার এক আন্তর্জাতিক প্রচারণায় রূপ নেয়।

    গত সাত বছরে ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ সেনেগাল, কোত দি’ভোয়ার, গিনি, দ্য গাম্বিয়া, নাইজেরিয়া ও তিউনিসিয়াসহ ছয়টি দেশে ৬৭০টিরও বেশি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে এবং প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

    এই প্রচারণা শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলে চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, কর্মশালা ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে শক্তিশালী বার্তা প্রদান করবে। এটি সম্ভাব্য অভিবাসীদের সচেতন ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করবে এবং দেশের ভেতরে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সুযোগ নিয়ে আলোচনাকে উৎসাহিত করবে। 

    আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ল্যান্স বোনো বলেন, “যখন অভিবাসন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে হয়, তখন তা উন্নয়নের এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ এমন এক সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম যা সরাসরি জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তাগুলো পৌঁছে দেয় এবং মানুষকে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।”

    আইওএমর ভূমধ্যসাগরীয় সমন্বয় অফিসের পরিচালক সালভাতোরে সর্তিনো বলেন,“বাংলাদেশে ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ প্রচারণা এক নতুন সূচনা। আফ্রিকার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে নতুন অভিজ্ঞতা। আমরা আনন্দিত যে আইওএম এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি এমন এক দেশে বাস্তবায়ন করছে, যেখানে সম্ভাবনার কোনো ঘাটতি নেই। এটি ইতিবাচক বার্তা প্রচার, গঠনমূলক আলোচনা ও অভিবাসন বিষয়ে পারস্পরিক শেখার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করবে।”

    সামাজিক সংগঠন, তরুণ শিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসা উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনাকে উৎসাহিত করে, ‘সিনেমা আঙ্গিনা’ বাংলাদেশে নিরাপদ, নিয়মিত ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসনের পথে সম্মিলিত উদ্যোগকে অনুপ্রাণিত করতে চায়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফতেহ লোহানী: যার হাত ধরে এসেছিল বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত

    আবু নজীর মোহাম্মদ ফতেহ আলী খান। যিনি ফতেহ লোহানী নামেই অধিক পরিচিত।
    তিনি একজন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার, অনুবাদক,
    লেখক ও সাংবাদিক ছিলেন। দক্ষ আবৃত্তিকার হিসাবেও প্রশংসিত ছিলেন। অভিনয় করেছেন ৪৪টি
    সিনেমা ও অনেক নাটকে।

    ১৯২৩ সালের ১১ মার্চ সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এ গুণী ব্যক্তিত্ব। তার
    পিতা আবু লোহানী ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। মা ফাতেমা লোহানী ছিলেন কলকাতা করপোরেশন
    স্কুলের শিক্ষিকা ও লেখিকা। তাই কলকাতায় ছেলেবেলা ও শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয় ফতেহ লোহানীর।
    তিনি কলকাতার সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল মিশন হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক, রিপন কলেজ থেকে
    উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাশ করেন।

    এরপরে ১৯৫০-এ তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ওল্ডভিক থিয়েটার স্কুলে নাট্য
    প্রযোজনা বিষয়ে দুবছরের কোর্স সম্পন্ন করেন। সে সময় ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সদস্য
    হিসাবে তিনি সিনেমা বিষয়েও অধ্যয়ন করেন। দেশবিভাগের আগে কলকাতায় ফতেহ লোহানী সাংবাদিকতা
    ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত হন।

    তিনি দৈনিক আজাদ ও সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসাবে কাজ
    করেছেন। সাহিত্য শাখায় তিনি একজন গল্পকার ও অনুবাদক হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের
    ১২ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন ফতেহ লোহানী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পাকিস্তানে ‘সরদার জি-৩’র জয়জয়কার

    ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বয়কটের ডাকের মাঝেও পাকিস্তানে নতুন রেকর্ড গড়েছে পাঞ্জাবি ভাষার চলচ্চিত্র ‘সরদার জি-৩’।প্রথম দিনেই আয় করেছে ৪.৫ কোটি রুপি।এখন পর্যন্ত এটিই দেশটিতে মুক্তিপ্রাপ্ত যেকোনো ভারতীয় সিনেমার মধ্যে প্রথম দিনে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্র।

    গত ২৭ জুন ভারত বাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে পাকিস্তানে বিশেষ ব্যবস্থায় মুক্তি পায় সিনেমাটি।আর মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি আয় করে প্রায় ৪.৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি বা প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার। 

    সোমবার শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো।

    চলতি বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়, তার জেরে ভারতে মুক্তি পায়নি ‘সরদার জি-৩’। তবে পাকিস্তানে সিনেমাটি দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবের শহুরে এলাকায় সিনেমাটি পেয়েছে হাউসফুল সাড়া।

    পেছনে ফেলেছে সালমানের ‘সুলতান’কে 

    ২০১৬ সালে বলিউড সুপারস্টার তথা ভাইজান খ্যাত সালমান খান অভিনীত ‘সুলতান’ এতদিন ধরে পাকিস্তানে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় সিনেমার মধ্যে প্রথম দিনে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ‘সরদার জি-৩’।

    এমনকি যখন পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি ও বলিউড নিষেধাজ্ঞার কারণে একাধিক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে, তখনো এই সিনেমাটি দর্শকদের হলে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে।

    হানিয়া আমির বিতর্ক ও কৌতূহলে বাড়ে দর্শকপ্রবাহ

    চলচ্চিত্রটিতে মূলত পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের উপস্থিতি নিয়েই ভারতে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলে। তবে এই বিতর্কই পাকিস্তানের দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। যা সিনেমাটির সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    ৪০ শতাংশ রাজস্ব ক্ষতি

    তা সত্ত্বেও, চলচ্চিত্রটির প্রযোজক গুনবীর সিং সিধু জানিয়েছেন, সিনেমাটি ভারতের বাজারে মুক্তি না পাওয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ আয়ের ক্ষতি হয়েছে।

    তার ভাষায়, “আমাদের আগের সিনেমা ‘জাট অ্যান্ড জুলিয়েট-৩’ এর মোট আয়ের ৪০ শতাংশই এসেছিল ভারত থেকে। এবার সেই বাজার পুরোপুরি বন্ধ।”

    হানিয়া প্রসঙ্গে গুনবীর সিং বলেন, “যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল, তখনই হানিয়াকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখনকার সময়ে হয়তো সেই সিদ্ধান্ত নিতাম না।”

    সিনেমাটির মূল চরিত্র অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সিনেমাটি যুক্তরাজ্যে শুটিং করা হয়, তখন অবশ্য প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। প্রযোজকরা তখনই ঠিক করেন, পরিস্থিতি বুঝে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি দেওয়া হবে, যাতে খরচ পুষিয়ে ওঠা যায়।”

    প্রবাসী বাজারেও তৃতীয় সর্বোচ্চ ওপেনার

    এদিকে আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে ‘সরদার জি-৩’ এখন পাঞ্জাবি ভাষার তৃতীয় সর্বোচ্চ ওপেনার। ‘জাট অ্যান্ড জুলিয়েট-৩’ ও ‘ক্যারি অন জাটা’র পর। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি সিনেমাই সপ্তাহের মাঝামাঝি মুক্তি পেয়েছিল, আর ‘সরদার জি-৩’ মুক্তি পায় শুক্রবারে—যার ফলে সিনেমাটি সাধারণত বেশি দর্শক টানতে সক্ষম হয়।

    সংস্কৃতি ও কূটনীতির জটিলতা

    ‘সরদার জি-৩’র এই সফলতা দেখায় যে, পাকিস্তানে এখনো ভারতীয়-পাঞ্জাবি সিনেমার যেমন দর্শক আছে, তেমনি এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সীমান্ত ছাড়িয়ে যৌথ প্রযোজনায় কাজ করার ক্ষেত্রে কী ধরনের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক জটিলতা মোকাবিলা করতে হয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘মুখ ও মুখোশ’ শুধু সিনেমা নয়, এক সমুচিত জবাব

    ১৯৫৪ সালের ৬ আগস্ট হোটেল শাহবাগে মহরত হয় বাংলা ভাষায় প্রথম সবাক সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’র। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর ইস্কান্দার মির্জা মহরত উদ্বোধন করেন। এতে যারা অভিনয় করেছেন তাদেরও অভিনয়ের বিষয়ে কোনো ধারণা ছিল না। অনেকটা মনের সাহসে নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয় করেন তারা। 

    কারণ সংশ্লিষ্টরা চেয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সিনেমা নির্মাণ নিয়ে পশ্চিমের নেতিবাচক মন্তব্যের সমুচিত জবাব দিতে। শুটিং আরম্ভ হলে দৃশ্যধারণের পর নেগেটিভ ডেভেলপের জন্য লাহোরে পাঠানো হয়। সে সময় স্থানীয়ভাবে কোনো স্টুডিও না থাকায় বাধ্য হয়ে লাহোরের স্টুডিওর দ্বারস্থ হতে হয়। 

    দীর্ঘ দুই বছর যাবত নির্মাতা জব্বার খানের নিজ হাতের অতি-যত্নের ফসল এই সিনেমা। পুড়িয়েছেন বহু কাঠখড়। কলকাতা থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আনা মরিচা ধরা একটি আইএসও ক্যামেরা ও অতি সাধারণ মানের একটি ফিলিপস টেপ রেকর্ডার দিয়ে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল। টেপ রেকর্ডারটি ব্যবহার করা হয়েছিল শব্দ গ্রহণের কাজে। ওইসময় ধারেকাছে কোনো ফিল্ম প্রোডাকশন স্টুডিও ছিল না। তাই এর নেগেটিভ ডেভেলপের জন্য সুদূর লাহোরে পাঠানো হয়। লাহোরের শাহনূর স্টুডিওতে ‘মুখ ও মুখোশ’-এর মুদ্রণ, পরিস্ফুটন ও সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হয়।

    সিনেমার শুটিং শুরু হয় ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। সিদ্ধেশ্বরী, কমলাপুর বৌদ্ধ বিহারের পুকুরপাড়, মিরপুর ও তেজগাঁওয়ের জঙ্গল, বুড়িগঙ্গার ওপারে কালীগঞ্জ, তেজগাঁওয়ের জঙ্গল, জিঞ্জিরা, রাজারবাগ ও লালমাটিয়ার ধানক্ষেত এবং টঙ্গীর বিভিন্ন জায়গা হয়েছে এর শুটিং। ১৯৫৫ সালের ৩০ অক্টোবর শেষ হয় সমস্ত দৃশ্য ধারণ। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালের ২৩ আগস্ট। পরিচালনা করেন জব্বার খান। 

    মতান্তরে এর নির্মাণ ব্যয় ছিল তৎকালীন পাকিস্তানী মুদ্রায় ৬৪ হাজার রুপি। আবার কোনো কোনো জায়গায় বলা আছে এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৮২ হাজার রুপি। এর মধ্যে ৪২ হাজার রুপি দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক আলমগীরের বাবা কলিম উদ্দিন আহমেদ দুদু মিয়া। বাকি ৪০ হাজার দিয়েছেন তার চার বন্ধু। মুক্তির পর সিনেমাটি প্রথম দফায় আয় করে প্রায় ৪৮ হাজার রুপির মতো।

    শুরু থেকেই দেশের দর্শকমহলে সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। কারণ, নিজ দেশের তৈরি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক সিনেমা, উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকারই কথা। 

    এটি নিয়ে চরম উৎসাহের আরেকটি কারণ হলো, সেসময়ে পূর্ব পাকিস্তানে নিজস্ব কোনো সিনেমাশিল্প গড়ে উঠেনি। স্থানীয় যেসব প্রেক্ষাগৃহ ছিল, সেগুলোতে হিন্দি, উর্দু এবং কলকাতার বাংলা সিনেমা প্রদর্শিত হতো। তখন সময় সিনেমার পরিপূর্ণ বিকাশ না হওয়া এবং নানা প্রতিবন্ধকতায় নারী অভিনয়শিল্পী খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। পরিচালক চেয়েছিলেন, কোনো এক পুরুষ শিল্পীকে ধরে নারী সাজিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দেবেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা থেকে পরে সরে যেতে হয়। তাই নারী শিল্পী খোঁজার জন্য বেছে নেওয়া হয় পত্রিকার বিজ্ঞাপন। 

    ‘চিত্রালী’ ম্যাগাজিনের বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জহরত আরা ও ইডেন কলেজের ছাত্রী পিয়ারী বেগম। কলকাতা থেকে এসেছিলেন পূর্ণিমা সেন গুপ্ত। পরবর্তীতে তিনিই নায়িকা কুলসুমের চরিত্র করেছেন। পিয়ারী অভিনয় করলেন নায়ক আফজালের বোন রাশিদার চরিত্রে। ডাকাত সরদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ইনাম আহমেদ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, নায়ক আফজাল চরিত্রে বিনাপারিশ্রমিকে কোনও অভিনেতা রাজি না হওয়াতে পরিচালক নিজেই সে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে ছিলেন অভিনেতা আলী মনসুর। আর তার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন জহরত আরা। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন রফিক, নুরুল আনাম খান, সাইফুদ্দীন, বিলকিস বারী প্রমুখ। দর্শকনন্দিত এ সিনেমাটি গভীরভাবে হৃদয়ে দাগ কাটে তরুণ সমাজের। ফলে ‘মুখ ও মুখোশ’র নির্মাণ কথা যেন আপাদমস্তক এক রূপকথার গল্প।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • কেমন কাটছে ‘বেহুলাকন্যা’ সুচন্দার সময়

    ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী কোহিনুর আক্তার সুচন্দা।  লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনে বন্দি একসময়ের দারুন ব্যস্ত এ অভিনেত্রীর এখন সময় কাটে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। সিনেমাপর্দা থেকে দুরে আছেন বহু বছর। পারিবারিক কাজের পাশাপাশি কিছু অনুষ্ঠানে অবশ্য অংশ নেন। তবে সময়টা নিজ বাসাতেই কাটাতে ভালোবাসেন তিনি। 

    ঢাকাই সিনেমায় নন্দিত একটি নাম কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে অনেক ব্যবসা সফল সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি গড়েছেন এক স্বতন্ত্র পরিচয়। তার অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকেও সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা সিনেমার সঙ্গে সুচন্দার গোটা পরিবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার আপন দুই বোন ববিতা ও চম্পা- দুজনও সমৃদ্ধ করেছেন ঢাকাই সিনেমাকে। ব্যক্তিজীবনে সুচন্দা এ দেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সহধর্মিণী।

    ১৯৬৪ সালে প্রখ্যাত অভিনেতা কাজী খালেকের একটি প্রামাণ্যচিত্রে প্রথম কাজ সুচন্দার। ১৯৬৬ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘কাগজের নৌকা’ সিনেমা দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয়। একই বছরে মুক্তি পায় এ অভিনেত্রীর আরও দুটি সিনেমা, সালাহ উদ্দিন পরিচালিত ‘রুপবান’ ও জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’। রাজ্জাকের বিপরীতে ‘বেহুলা’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান। 

    এরপর তার দর্শকপ্রিয় সিনেমার মধ্যে উলে­খযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘কুচবরণ কন্যা’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘নয়নতারা’, ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’, ‘আনোয়ারা’, ‘আয়না ও অবশিষ্ট’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘মনের মত বউ’, ‘কুচবরণ কন্যা’, ‘কথা দিলাম’, ‘যোগ বিয়োগ’, ‘ফুলের মতো বউ’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘কাচের স্বগর্’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘দুই ভাই’, ‘বিচার’, ‘গলি থেকে রাজপথ’, ‘মনের মতো বউ’, ‘দুই ভাই’ প্রভৃতি। তাছাড়া পাকিস্তানের বেশ ক’টি সিনেমাতেও অভিনয় করেন এবং সেখানে পুরস্কৃত হন।

    ১৯৯২ সালে তিনি জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও অর্জন করেছেন। ১৯৭২ সালে মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তিনিই প্রথম বাংলাদেশের পতাকা গর্বের সঙ্গে নিজ হাতে উড়িয়েছিলেন এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরষ্কার নিজের দখলে নিয়েছিলেন। শুধু অভিনয় করেই থেমে থাকেননি। পরবর্তীতে নাম লিখিয়েছেন প্রযোজনা ও পরিচালনাতেও। তার স্বামী জহির রায়হানের জীবদ্দশায় ‘টাকা আনা পাই’ ও ‘প্রতিশোধ’ সিনেমা দুটি প্রযোজনা করেন। এছাড়াও ‘তিন কন্যা’, ‘বেহুলা লখিন্দর’, ‘বাসনা’ ও ‘প্রেম প্রীতি’ সিনেমা প্রযোজনা করেছেন এ অভিনেত্রী। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সবুজ কোট কালো চশমা’। 

    ২০০৫ সালে স্বামী জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস অবলম্বনে একই শিরোনামে সিনেমা নির্মাণ করেন এবং সেরা প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এরপর সিনেমার অবস্থা মন্দা হতে শুরু করলে চরম ক্ষোভ নিয়ে এ জগৎ থেকে দূরে সরেন তিনি।

    চোখ আর হাসির অদ্ভুত মেশালে দর্শক হৃদয়ে রাজ করছেন দীর্ঘ ছয় দশক। সংসারধর্ম আর বয়সজনিত কারণে এখন সিনেমার সঙ্গে তার দূরত্ব আরও বেড়েছে। তবে তার জনপ্রিয়তা এবং ভক্তদের ভালোবাসা অটুটই রয়ে গেছে। অনেক নবীন শিল্পীই প্রেরণা। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন এবং নিজের মতো করে সময় কাটান।  সিনেমার বাইরে তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। অনেক সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। যদিও তিনি বড় পর্দার কাজ থেকে একেবারে সরে এসেছেন, তবে মাঝে মাঝে টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন, যা তার ভক্তদের জন্য এক বড় উপহার। 

    মাঝে কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন, চলতি বছরের শুরুতেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হয়েছিল তাকে। তবে এখন সুস্থ আছেন বলেই জানিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে তার দিন কাটছে। সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও, সূচন্দার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং সমাজসেবামূলক কাজে তার ব্যস্ততা অব্যাহত রয়েছে।

    ২০১৯ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন সুচন্দা। ৬০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘ছোট্ট এই জীবনে চলার পথে পেয়েছি দর্শকের অকুণ্ঠ ভালোবাসা। এটাই আসলে জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। সিনেমার সোনালি দিন নিয়ে যখন ভাবি, তখন ভাবনায় চলে আসে বর্তমান সিনেমার কথা। আমাদের সময় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে মেধাবী পরিচালকরা, অভিনয়শিল্পীরা তাদের সেরা কাজটুকু উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে যেসব তরুণ পরিচালক সিনেমা নির্মাণ করছেন তাদের ওপরই নির্ভর করছে আমাদের ঢাকাই সিনেমার ভবিষ্যৎ। কারণ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তরুণ নির্মাতারা তাদের ভালোবাসা ও প্রচেষ্টা দিয়ে নিশ্চয়ই ভালো ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারবেন। আমি সর্বোপরি সিনেমার মঙ্গল চাই।’

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • ছোটর্পদায় ঈদের দিনের নাটক-সিনেমা

    নাগরিক টিভিতে ঈদের দিন বিকেল ৫টায় প্রচার হবে বাংলা সিনেমা ‘দরদ’। অনন্য মামুনের পরিচালনায় নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের শাকিব খান ও ভারতের সোনাল চৌহান।

    দীপ্ত টিভিতে ঈদের দিন রাত ৮টায় প্রচার হবে একক নাটক ‘বাবলার জাদুর বাক্স’। মারুফ হোসেন সজীবের পরিচালনায় নির্মিত এ নাটকে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার ও প্রিয়ন্তী উর্বী। 

    দুরন্ত টিভির ঈদের দিন বিকাল ৩টায় প্রচার হবে সিনেমা ‘হোটেল ট্রান্সিলভেনিয়া’। কাউন্ট ড্রাকুলা এক বিশাল হোটেল নির্মাণ করেন। একমাত্র কন্যা মেভিসের ১১৮তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে সে সবাইকে তার হোটেলে নিমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মানুষহীন এই হোটেলে যখন জোনাথন নামক এক যুবক ঢুকে পড়ে, তখনই শুরু হয় নতুন চমক।

    মাছরাঙা টিভিতে ঈদের দিন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে প্রচার হবে একক নাটক ‘ঘ্রাণ’। মাসরিকুল আলম রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজনীন নিহা।

    চ্যানেল আইতে ঈদের দিন বেলা ২টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে টেলিফিল্ম ‘চাঁদের হাট’। কে এম সোহাগ রানার রচনা ও পরিচালনায় এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ ও কেয়া পায়েল। তাদের সঙ্গে আরও রয়েছেন মুনিরা মিঠু, ড. এজাজ, কে এম সোহাগ রানা প্রমুখ।

    বৈশাখী টিভিতে ঈদের দিন রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রচার হবে একক নাটক ‘কাস্টিং আউচ’। পথিক সাধনের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত এ নাটকে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, রিয়া ঘোষ, নাদের চৌধুরী, হিমে হাফিজ প্রমুখ।

    এনটিভিতে ঈদের দিন বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে প্রচার হবে বাংলা সিনেমা ‘পোড়ামন-২’। রায়হান রাফির পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, পূজা চেরী, বাপ্পারাজ, ফজলুর রহমান বাবু প্রমূখ।

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্র-সম্পাদক দুলু মারা গেছেন

    আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্র সম্পাদক মুজিবুর রহমান দুলু আর নেই। রাজধানীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুর সাড়ে বারটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মুজিবুর রহমান দুলুর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দুই ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    এর আগে শুক্রবার (৩০ মে) হাসপাতালে এই খ্যাতনামা চিত্র সম্পাদককে দেখতে যান এডিটর গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু।  এরপর তিনি জানান, ছোট ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। বড় ছেলে দেশের বাইরে থাকায় ছোট ছেলে ও তার স্ত্রীর সাথেই থাকতেন খ্যাতিমান এই চিত্র সম্পাদক। বড় ছেলের অবর্তমানে সব সম্পত্তি ছোট ছেলের নামে লিখে দিতে দীর্ঘদিন যাবত মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন তার ছোট ছেলে ও ছেলের স্ত্রী। ছোট ছেলের এরকম অনৈতিক আবদার ও চাপে রাজী না হওয়াতেই দেশবরেণ্য এই চিত্র সম্পাদককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে ছেলে ও ছেলের বউ। নির্যাতনের নির্মমতায় তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ছেলে ও ছেলের বউ অন্যরুমে চলে যায়। তখন প্রতিবেশিরাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। 

    এই ঘটনায় তখন তিনি দুলুর ছোট ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।  

    মুজিবুর রহমান দুলুর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুলু দীর্ঘদিন তিনি কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চলচ্চিত্রের এই গুণী। এর আগে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যথা পান। এরপর হাঁটাচলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি।

    আগামীকাল বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে  পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। 

    উল্লেখ্য, ‘নয়ন মনি’ ছবির মধ্য দিয়ে নিজের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেন মজিবুর রহমান দুলু। পরবর্তীতে ‘সুজন সখী’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘অভাগী’, ‘নাত বৌ’, ‘প্রাণ সজনি’, ‘ভাত দে’, ‘তিন কন্যা’, ‘ভেজা চোখ’, ‘সত্যমিথ্যা’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘বাংলার বধূ’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘নাগর দোলা’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘৭১ এর মা জননী’সহ চাহিদার নিরীখে প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে সম্পাদনার কাজ করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক