Tag: চলচ্চিত্র

  • সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    ঢালিউডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সিনেমায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তার মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের মান ধরে রাখতে হলে কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন চলচ্চিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে দেশীয় সিনেমার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও কারিগরি টিমের কাজের প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।

    অপু বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা টেকনিশিয়ান বা কারিগরি পারসন আছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। নাহলে আমরা বা আমাদের আগের-পরের শিল্পীরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। তাই সময়ের চাহিদা মেনে নিজেদের গড়ে তোলা ও আপডেট হওয়াটাও খুব জরুরি।’

    কাজের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত পরিকল্পনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যেসব টিম কাজ করছে, তারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রফেশনাল। প্রফেশনালিজম বলতে আমি এটাই বোঝাতে চাই যে কাজটাই করা হোক না কেন, সেখানে ডেডিকেশন থাকবে ১০০ পারসেন্ট, কোনো ছাড় থাকবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আগে অনেক সময় দেখা যেত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে লোকেশন বা অন্যান্য বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হতো। কিন্তু এখনকার নতুন টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনে কোনো আপস করে না। তাদের এই অদম্য মনোযোগই প্রমাণ করে তারা কতটা পেশাদার। সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে এই মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি দরকার।’

    তার কথায়, ‘স্বদেশি টিমের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সবসময়ই স্পেশাল। এখানে কাজের পাশাপাশি একটা আন্তরিকতা থাকে। আর একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে কাজের ভালো-মন্দ কিছুটা মূল্যায়ন করার জাজমেন্ট করার ক্ষমতা আমার তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই বলছি, আমাদের চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের এই নতুন ধারাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আমার হৃদয় চায় উড়ে পাকিস্তানে চলে যাই’

    নিজের ৮০তম জন্মদিনে পাকিস্তানের কাটানো স্মৃতি এবং সেখানকার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অফুরন্ত ভালোবাসার কথা গভীর অনুরাগের সঙ্গে স্মরণ করলেন প্রাক-স্বাধীন ও স্বাধীনোত্তর যুগের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শবনম। 

    ঢাকায় আয়োজিত জন্মদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘দেহলিজ’ খ্যাত এই কিংবদন্তি বাংলাদেশি অভিনেত্রী জানান, তার ভক্তরা ভালোবেসে নিজেদের কন্যাসন্তানদের নামও তার নামে রাখতেন।

    পাকিস্তান চলচ্চিত্রের স্মৃতিকাতরতায় তিনি বলেন, ‘আমি পাকিস্তানকে খুব মিস করি। আমার হৃদয় চায় উড়ে পাকিস্তানে চলে যাই।’ 

    নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তৎকালীন সময়ের প্রায় সব শীর্ষ নায়কের সঙ্গেই কাজ করার সুযোগ হয়েছে তার। তবে প্রবীণ অভিনেতা নাদিমের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ৮০তম জন্মদিনে পদার্পণ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত হন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। নন্দিত এই অভিনেত্রী ১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। 

    উল্লেখ্য, শবনম তার ক্যারিয়ারে উর্দু, বাংলা ও পাঞ্জাবি মিলিয়ে প্রায় ১৬০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের কিংবদন্তি অভিনেতা নাদিমের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন জুটি তৎকালীন সময়ে একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছিল, যা আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতর্কে মুখ খুললেন ধানুশ

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা ধানুশ। ‘ক্যাপ্টেন মিলার’ সিনেমার জন্য বিশেষ অভিনয় সম্মান এবং ‘রায়ান’ সিনেমার জন্য সেরা তামিল চলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এবার সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধানুশ বলেন, ওই বছর ‘রায়ান’-এর চেয়ে আরও ভালো তামিল সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। তবে তাই বলে তার অর্জন কিংবা সিনেমাটির জন্য দেওয়া পরিশ্রমকে খাটো করে দেখা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, ‘রায়ান-এর জন্য আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। ওই বছর অবশ্যই এর চেয়ে ভালো কিছু সিনেমা ছিল। যেসব সিনেমার ভক্তরা তাদের ভালোবাসার প্রকাশ করেছেন, আমি সেটিকে সম্পূর্ণ সম্মান করি।’

    ধানুশ কোনো নির্দিষ্ট সিনেমার নাম উল্লেখ না করলেও জানান, এর আগেও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারের জোরালো দাবিদার ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কার পাননি।

    তিনি বলেন, ‘আধু ওরু কানা কালাম’ মুক্তির সময় সবাই বলেছিলেন আমি নিশ্চিত পুরস্কার পাব। তখন আমি খুবই তরুণ ছিলাম, আমিও আশা করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। এরপর ছিল ‘পুধুপেট্টাই’।

    এরপর তিনি ‘থ্রি’, ‘মায়াক্কাম এন্না’, ‘ভাদা চেন্নাই’, ‘কার্নান’, ‘মারিয়ান’ এবং ‘রাঞ্জহানা’সহ নিজের আরও কয়েকটি প্রশংসিত সিনেমার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘আপনারা প্রতিবারই বলেছেন আমি জাতীয় পুরস্কার পাব, কিন্তু তা হয়নি।’

    সাম্প্রতিক পুরস্কার প্রসঙ্গে ধানুশ বলেন, ‘কিছু বিষয় অনেক চেষ্টা করেও নিজের সময়ের আগে আসে না। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। সুযোগটি এবার এসেছে। সিনেমাটি যেমনই হোক, এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করেছি। একজন তামিল হিসেবে আমি আরও দুটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। এটিকে খাটো না করে উদযাপন করুন।’

    ভক্তদের উদ্দেশে তিনি অভিনেতা অজিত কুমারের একটি বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন। ধানুশ বলেন, ‘থালা অজিত স্যার যেমন বলেছেন, আপনি নিজে হার না মানা পর্যন্ত কেউ আপনাকে হারাতে পারবে না।’

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করেন, কার্থি ও অরবিন্দ স্বামী অভিনীত ‘মেইয়াঝাগান’ এবং বিজয় সেতুপতি ও অনুরাগ কাশ্যপ অভিনীত ‘মহারাজা’ সিনেমা ‘রায়ান’-এর তুলনায় সেরা তামিল চলচ্চিত্রের পুরস্কারের বেশি যোগ্য ছিল। সমালোচকদের কাছ থেকে ‘রায়ান’ মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বক্স অফিসে ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়।

    সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • এফডিসিতে শিল্পী সমিতির নির্বাচন শুরু, ভোটার ৫৭৩ জন

    রূপালি পর্দার শিল্পীদের জন্য আজ এফডিসিপাড়ায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কেননা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন শুক্রবার (৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

    বিএফডিসি প্রাঙ্গণে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৯টা থেকে ভোট কাউন্ট শুরু হয়, চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। মাঝে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্য নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে। 

    এদিন আগামী দুই বছরের জন্য নিজেদের যোগ্য নেতা বেছে নেবেন চলচ্চিত্র শিল্পীরা। এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। সকাল থেকেই ভোটার, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে এফডিসি প্রাঙ্গণ। জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। 

    এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে। এর মধ্যে একটি প্যানেলের নেতৃত্বে আছেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী। অন্যদিকে, তাদের টেক্কা দিতে আরমান ও রুমানা ইসলাম মুক্তি গড়েছেন আরেকটি শক্তিশালী প্যানেল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শিবা সানু-জয় চৌধুরীর প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে লড়ছেন রোজিনা ও ডিএ তায়েব, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পলি, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোসাফকুল জামিল কাকন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জাদু আজাদ নির্বাচন করছেন। 

    অন্যদিকে, আরমান-মুক্তির প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে নূতন ও ইলিয়াস কোবরা, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রিনা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চুন্নু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে রাসেল মিয়া, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

    এছাড়া ১১টি কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদের বিপরীতে দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। 

    উল্লেখ্য, গত মেয়াদে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার কোনো পদেই শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেননি।  

    বিনোদন ডেস্ক

  • তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতল রাব্বানীর ‘সাঁতার’

    ‘এক মিনিট পরিবেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’-এ তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতল গোলাম রাব্বানীর চলচ্চিত্র ‘সাঁতার’। 

    বেস্ট এডিটর হিসেবে সানজিদ মাহমুদ, বেস্ট অ্যাক্টর হিসেবে মিজানুর রহমান এবং বেস্ট স্টুডেন্ট ফিল্ম ক্যাটাগরির পুরস্কার পায় ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই পরিবেশ বিষয়ক চলচ্চিত্রটি। 

    ৮ জুন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ন্যাশনাল ফাইন আর্টস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। 

    তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে ছবিটির নির্মাতা গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘পুরস্কার তো জীবনে আনন্দ যোগ করে। এই অর্জন আমাকে অনুপ্রাণিত করবে পরবর্তী কাজে আরও যত্নবান হতে। ২ ঘণ্টার সিনেমা বানাতে যে আয়োজন, আমার ১ মিনিটের সিনেমাতেও একই আয়োজনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ১ মিনিটের সিনেমা নির্মাণ সত্যিই দারুণ চ্যালেঞ্জের বিষয়।’ 

    বাংলাদেশে শুধুমাত্র মানবসৃষ্ট কারণে গত ৫৭ বছরে ১৫৮টি নদী শুকিয়ে গেছে। অনেক নদী হারিয়ে গেছে। এই বিষয়টিই রুপকভাবে সিনেমায় তুলে ধরেছেন নির্মাতা। 

    সেরা চিত্র সম্পাদকের পুরস্কার অর্জন করে সানজিদ মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন ফুটেজকে একসূত্রে গেঁথে একটি গল্প বলার চেষ্টা করেছি। বিচারকদের এই স্বীকৃতি আমার কাজের সফলতারই প্রতিফলন। এজন্য আয়োজক ও পুরো ‘সাঁতার’ টিমের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত ১৭টি এক মিনিটের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। ‘পজিটিভ বাংলাদেশ, প্রকৃতি ও পরিবেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে দর্শক ও বিচারকদের বিশেষ নজর কাড়ে ‘সাঁতার’। 

    ‘সাঁতার’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘এত ছোট পরিসরের একটি চলচ্চিত্রের জন্য এমন স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই আনন্দের। এই অর্জনের পেছনে ‘সাঁতার’ টিমের প্রত্যেক সদস্যের অবদান রয়েছে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ 

    সাদিয়া রোশনি সূচনার সঞ্চালনায় উৎসেব সভাপতিত্ব করেন রেজাদুল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব পরিচালক ও ঢেকি প্রযোজনা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মো. নিজাম উদ্দিন। পরবর্তী আলোচনা পর্বে অন্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-প্রশিক্ষক আমির হামজা, ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার গ্রিন ফিল্ম অ্যাম্বাসেডর আকতানিন খায়ের তানিন এবং প্রতিযোগিতা জুরি সদস্য কাজী নওশাবা আহমেদ। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • শিশু ও নারীদের ওপর চলমান নির্যাতন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘চকোলেট’

    বিশ্বব্যাপী সফল প্রদর্শনের পর এবার বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য মুক্তি পেয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চকলেট’। শিশু ও নারীদের ওপর চলমান নির্যাতনের প্রেক্ষিতে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে এর ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। 

    সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ২০ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জসীম আহমেদ। বর্তমানে এটি টাইমস অব বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে। 

    চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে নির্মাতা জসীম আহমেদ বলেন, ‘চকোলেট’ চলচ্চিত্রে শিশু ও নারীদের ওপর চলমান নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা সচরাচর পর্দায় উঠে আসে না। শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা এখানে দেখানো হয়েছে। নিজের ঘরেও কি শিশুরা নিরাপদ?— বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিই সিনেমাটি সামনে এনেছে। 

    ‘চকোলেট’-এ অভিনয় করেছেন গোলাম ফরিদা ছন্দা, শতাব্দী ওয়াদুদ, আজিজুল হাকিম ও শিল্পী সরকার অপু। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মুক্তির আগে ‘চকোলেট’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ‘শর্টস টিভি’ চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্স, মোবাইল প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও অন ডিমান্ড (ডিওডি) ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমেও চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হয়। 

    এর আগে ২০১৭ সালে এই একই পরিচালকের ‘দাগ’ সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেলস’ নির্মাণ করে জসীম আহমেদ তুরস্কে সেরা পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনয় ও চিত্রনাট্যে এআই নিষিদ্ধ করল অস্কার

    বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘অস্কার’-এর মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপট রুখে দিতে কঠোর অবস্থান নিল অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। 

    শুক্রবার (১ মে) এক যুগান্তকারী ঘোষণায় অ্যাকাডেমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অস্কারের জন্য যোগ্য হতে হলে অভিনয় ও চিত্রনাট্যের পেছনে অবশ্যই মানুষের সরাসরি সৃজনশীলতা থাকতে হবে।

    মানুষ বনাম মেশিন: কী বলছে নতুন নিয়ম? 

    চলচ্চিত্র শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকাডেমি তাদের যোগ্যতার শর্তাবলী বা এলিজিবিলিটি রুলসে পরিবর্তন এনেছে। 

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিনয়কে অস্কারের জন্য মনোনীত হতে হলে তা অবশ্যই ‘সরাসরি মানুষের দ্বারা প্রদর্শিত’ হতে হবে। কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো ডিজিটাল অভিনেতা বা এআই দিয়ে নির্মিত কোনো চরিত্র অভিনয়ের জন্য বিবেচিত হবে না।

    সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য অবশ্যই ‘মানুষের দ্বারা রচিত’ হতে হবে। এআই-এর তৈরি কোনো গল্প বা সংলাপ মৌলিক বা অভিযোজিত চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কারের অযোগ্য বলে গণ্য হবে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সম্প্রতি সিনেমা জগতে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রয়াত হওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা ‘ভ্যাল কিলমার’-এর ডিজিটাল সংস্করণকে একটি নতুন সিনেমার প্রধান চরিত্রে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি এ বিতর্কে ঘি ঢেলেছে। 

    এছাড়াও গত বছর অভিনেতা ও কমেডিয়ান এলিন ভ্যান ডার ভেলডেন একজন সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ এআই অভিনেতা তৈরি করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। অ্যাকাডেমির এ নতুন নিয়ম মূলত এ ধরনের কৃত্রিম সৃষ্টিকে মানুষের মেধার সমকক্ষ হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

    তবে অ্যাকাডেমি ছবি তৈরির অন্যান্য ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা সম্পাদনার মতো ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হবে না। 

    অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কোনো সিনেমার মনোনয়নের সম্ভাবনা বাড়াবেও না, আবার কমাবেও না। প্রতিটি শাখা বিচার করবে যে সৃজনশীল কাজের মূলে মানুষ কতটা সক্রিয় ছিল।’

    সতর্কবার্তা ও স্বচ্ছতা 

    অ্যাকাডেমি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যদি কোনো সিনেমার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে তারা সেই সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং মানুষের অবদানের গভীরতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় তথ্য তলব করার অধিকার রাখে।

    উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশক থেকে সিজিআই প্রযুক্তির ব্যবহার সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও অ্যাকাডেমি মনে করে সিজিআই হলো মানুষের দ্বারা পরিচালিত একটি শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। 

    পক্ষান্তরে, এআই কেবল একটি প্রম্পটের মাধ্যমে মানুষের কাজকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা সৃজনশীলতার মৌলিক সংজ্ঞার পরিপন্থি। 

    সূত্র: বিবিসি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফ্রান্সের চলচ্চিত্র উৎসবে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা ‘আনসিন’

    ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা নিকন চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবের ১৬তম আসরে প্রায় ৬ হাজার চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে বাংলাদেশি নির্মাতা সৈয়দ সাহিলের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনসিন’।

    এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ‘বিউটি’ বা সৌন্দর্য। নির্মাতা সাহিল তার চলচ্চিত্রে প্রচলিত চাক্ষুষ সৌন্দর্যের বাইরে মানবিক আবেগ ও অদৃশ্য অনুভূতিগুলোকে তুলে ধরেছেন।

    প্যারিসে নির্মিত এ সিনেমাটির সংলাপ সম্পূর্ণ ফরাসি ভাষায় হলেও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য এতে ইংরেজি সাবটাইটেল যুক্ত করা হয়েছে।

    নির্মাতার কথায়, ‘আনসিন’-এর মাধ্যমে এমন এক সৌন্দর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা চোখে দেখা যায় না। যে অনুভূতিগুলো আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি এবং যেসব মানুষকে আমরা প্রকৃত অর্থে দেখতে পাই না।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    চলচ্চিত্রটির অধিকাংশ কলাকুশলীই বাংলাদেশি। সাবরিনা ইসলামের প্রযোজনায় এর চিত্রগ্রহণ করেছেন পার্বত রায়হান এবং সম্পাদনা করেছেন নিশান মাহমুদ। এতে অভিনয় করেছেন ফরাসি শিল্পী জঁ-লুক জ্যাকো, জুলিয়েট পিরোত্তে, এলিজাবেথ সেলেম এবং বাংলাদেশি অভিনেতা ইমতিয়াজ রনি।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া প্রায় ৬ হাজার চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রথম ধাপেই ২,৫১১টি সিনেমার শর্টলিস্টে জায়গা করে নেয় ‘আনসিন’। পরে দর্শক ভোটের জন্য চলচ্চিত্রগুলো উন্মুক্ত করা হলে ব্যাপক সমর্থনে ১,১৫৮টি শর্ট ফিল্মের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এটি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়’, প্রসঙ্গে যা বললেন ফারুকী

    দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে সেই চলচ্চিত্রকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এর পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তথ্য ভবনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড আয়োজিত ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন: সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়।

    পরে মানসের তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বলা হয়, ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়।’ ফটোকার্ডের সূত্র ধরেই কেউ কেউ বিভ্রান্ত হন।

    তার জেরেই ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হবে না, এমন সংবাদ প্রকাশ হয়। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ফারুকী লেখেন, ‘আমি সরকারের কেউ না। ফলে সরকারকে ডিফেন্ড করা আমার কর্তব্য না। কিন্তু ফটোকার্ড সন্ত্রাস দেখে একটা কথা বলতেই হচ্ছে, হাতে গোনা এক-দুইটা প্ল্যাটফর্ম ছাড়া বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্মকে অবিশ্বাস করা এখন সবার ঈমানী দায়িত্ব হয়ে গেছে।

    সিনেমায় সিগারেট দেখালে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হবে না, এই ফটোকার্ড দেখেই আমি নিশ্চিত ছিলাম এটা আরেকটা গাঁজাকান্ড। কারণ এই সরকার এখনো চেয়ারে বসতেই পারল না আর এরকম দ্রুততার সঙ্গে এই রকম ছোট একটা কাজ করে ফেলবে? সরকার যন্ত্রের গতি ভেতর থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানতাম এটা অসম্ভব।’

    নির্মাতা আরও বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত দূরের কথা আলোচনাও হয় নাই। তাহলে ঘটনা কী?

    ধুমপান বিরোধী একটি প্রতিষ্ঠান এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই দাবী জানিয়েছে। আর তৈরি হয়ে গেল এমন এক কায়দা করা ফটোকার্ড যেটা দেখলে মনে হবে ঘটনাটা ঘটেই গেছে।’

    এদিকে বিষয়টি নজরে আসার পর শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। সার্টিফিকেশন বোর্ড লিখেছে, ‘ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে না’—এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সভায় গৃহীত হয়নি এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ারও ওই সভা কিংবা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের নেই।’

    তাদের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নির্দিষ্ট আইন ও বিধি দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়। এ সংস্থা তার গাইডলাইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ রাখে না।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • রটারড্যামে পুরস্কার জয়ী ‘মাস্টার’ কত টাকা পাচ্ছে

    নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (আইএফএফআর) পুরস্কার জিতেছে দেশীয় সিনেমা ‘মাস্টার’। চলচ্চিত্র উৎসবটির ৫৫তম আসরের ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগে ১২টি সিনেমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই পুরস্কার পায় সিনেমাটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ‘মাস্টার’ সিনেমার পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের তরফ থেকে সুখবরটি জানানো হয়।

    এটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত।  অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, নাসির উদ্দিন খান, ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ, শরিফ সিরাজসহ আরও অনেকে। 

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন কৃতিত্বের পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতেছি। আমাদের পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ও পুরো টিমকে অভিনন্দন। দেশের জন্য দারুণ একটি দিন।’ 

    ফেসবুকে আরেক অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যেখানে দেখা যায়, ‘মাস্টার’-এর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে উৎসবে যোগ দেওয়া সিনেমার পুরো টিম।  ভিডিওর ক্যাপশনে মম লিখেছেন, আইএফএফআর-এর ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড উইনার সিনেমা ‘মাস্টার’। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সিনেমাটি ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগের ১২টি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পুরস্কার জিতে নেয়। এই পুরস্কারের সঙ্গে ছবিটি পেয়েছে ১৫ হাজার ইউরো প্রাইজমানি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টাকার বেশি)। এছাড়া ছবিটির ডাচ ডিস্ট্রিবিউশন স্বত্ব অর্জনকারী পরিবেশককেও ১৫ হাজার ইউরো দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩ লাখ টাকার বেশি টাকা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশি ছবি ‘মাস্টার’। 

    সরকারি অনুদানে নির্মিত এই সিনেমায় বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া এক শিক্ষক জাহিরের উত্থানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে যার জীবনে সংসার, কলেজ আর ছোট পরিবারই তার পুরো পৃথিবী। একজন স্কুলশিক্ষকের রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা এবং উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও নানান সামাজিক বাস্তবতাকে উপজীব্য করে এটি নির্মিত হয়েছে। 

    পুরস্কার ঘোষণার সময় রটারড্যাম উৎসবের জুরিবোর্ড ‘মাস্টার’ সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি একজন ব্যক্তির আদর্শ ধরে রাখার সংগ্রামের এক সর্বজনীন গল্প, যিনি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ও পুঁজিবাদের প্রলুব্ধকর ও বিধ্বংসী শক্তির চাপে পিষ্ট হয়। আদর্শ বনাম দুর্নীতির একটি আপাত সহজ-সরল গল্প হিসেবে শুরু হলেও চলচ্চিত্রটি ধীরে ধীরে অত্যন্ত জটিল ও গভীর স্তরে উন্মোচিত হয়। চমৎকার অভিনয় আর প্রাণবন্ত দৃশ্যায়নের মাধ্যমে মূল চরিত্রটি নৈতিক দোলাচলের বিষয়টি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এবং দেখিয়েছে কীভাবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার জয় হয়।’ 

    উল্লেখ্য, এবারই প্রথম এই উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশনে একসঙ্গে বাংলাদেশের ‘দেলুপি’, ‘রইদ’ ও ‘মাস্টার’ সিনেমা বিভিন্ন বিভাগে অংশ নিয়েছে। 

    বিনোদন ডেস্ক