Tag: চলচ্চিত্র

  • ‘চলচ্চিত্র নির্মাতার গলা চেপে ধরার সংস্কৃতি আর বন্ধ করা যাবে না’

    কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বিনোদন জগতের একটি অংশ সমর্থন জানিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সরাসরি রাস্তায় ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে গলা ফাটিয়েছেন, আবার অনেকেই সামাজিকমাধ্যমে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়ে পোস্ট দেন। যার ফলে আন্দোলনে সরকার পতনের একদফা দাবিতে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ভারতে।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর পরই বিনোদন জগতের নির্মাতারা আশায় বুক বাঁধেন। তাদের সৃষ্ট শিল্পকর্ম, যাদের জন্য নির্মাণ করেছেন, সেই আটকেপড়া সিনেমা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন— এমনটিই আশা করেন পরিচালকরা। 

    ‘নমুনা’, ‘রানা প্লাজা’, ‘অমীমাংসিত’, ‘শনিবার বিকেল’, ‘মেকআপ’, ‘আমার বাইসাইকেল-মং থেংগারি’—এসব ছবির কোনোটির নির্মাণ শেষ হয় ১৫ বছর আগে। আবার কোনোটি ১০ বছর আগে। কোনোটি তারও কম সময়ে। আগে-পরে যখনই নির্মাণ করা হোক না কেন— এসব কোনো ছবিই দর্শক দেখার সুযোগ পাননি। 

    এসব ছবির কোনোটি আইনি মারপ্যাঁচে আটকা পড়েছে, আবার কোনোটি সেন্সর বোর্ড সদস্যদের অজানা কারণে আটকা পড়েছে—এমনটিই জানিয়েছেন ছবিগুলোর পরিচালকরা। আর সেই আটকেপড়া ছবির খোঁজ নিয়ে জানিয়েছে একটি গণমাধ্যম। আমরা তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি— 

    ১৫ বছর আগে ‘নমুনা’ ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি অনুদানের ছবি ‘নমুনা’ নির্মাণ করেছেন স্থপতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক এনামুল করিম নির্ঝর। এটি তার দ্বিতীয়  ছিল। এর আগে ‘আহা’ বানিয়ে প্রশংসা কুড়ান এ পরিচালক। 

    প্রথম ছবিটি জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর, দ্বিতীয় ছবি নির্মাণে হাত দেন পরিচালক। নিরীক্ষাধর্মী ছবি ‘নমুনা’র জন্য অনুদান পান তিনি। বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ছবিটি নির্মাণ হয়েছে। সরকারি অনুদানের যেসব প্রক্রিয়া থাকে, সব মেনেই ছবিটি নির্মাণ করেছেন নির্ঝর। এরপর সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য জমা দেন; কিন্তু ১৫ বছর ধরে ছবিটির ছাড়পত্র মেলেনি। 

    শুক্রবার এ ছবিটি নিয়ে কথা হয় পরিচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছবিটি এখনো আটকে আছে। যারা একটু তরুণমনস্ক, তাদের খুব ভালো লাগবে ছবিটি। নির্ঝর বলেন, আমি পরিস্থিতি বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নেব। যদি কখনো সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসে, তাহলে অবশ্যই একটা উদ্যোগ নেব। এ ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’ 

    নির্ঝর আরও বলেন, নির্মাণের যাবতীয় কাজ শেষে লম্বা সময় ধরে এভাবে সেন্সর বোর্ডে ছবি আটকে থাকাটা পরিচালকের জন্য হতাশার। তাই একটা সময় পর এ ছবি প্রসঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন তিনি।

    রায়হান রাফী পরিচালিত ‘অমীমাংসিত’ ছবিটি তিন মাস আগে প্রদর্শন উপযোগী নয় বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড। ছাড়পত্র না দেওয়ার পেছনে চারটি উল্লেখযোগ্য কারণ লিখিত চিঠিতে জানানো হয়েছে। 

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে চারটি কারণ উল্লেখ করে লেখা হয়—‘চলচ্চিত্রটিতে নৃশংস খুনের দৃশ্য রয়েছে। কাল্পনিক কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপের বিষয়বস্তু বাস্তবতার সঙ্গে মিল রয়েছে— এ ধরনের কাহিনি বাস্তবে ঘটেছে এবং ঘটনাসংশ্লিষ্ট মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ও চলচ্চিত্রটির কাহিনি/বিষয়বস্তু বিচারাধীন মামলার সঙ্গে মিল থাকায় ভুল বার্তা দিতে পারে এবং তদন্তের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।’

    কথা হয় ‘অমীমাংসিত’ ছবির পরিচালক রায়হান রাফীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সেন্সর বোর্ড আমাদের ছবিটি দেখেছে। শুনেছিলাম— আনকাট ছাড়পত্র পাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ কী কারণে জানি ছবিটি আটকে দেওয়া হলো। এখন যেহেতু নতুন একটা সরকার এসেছে, আমি মনে করি, যারা আসলে দুর্নীতি বা এসব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে। আমরা আবার আবেদন করে ছবিটা মুক্তি দেব।’

    কয়েক দফা সেন্সর বোর্ড ও আইন-আদালতের জটিলতা পেরিয়ে মুক্তির জন্য প্রস্তুত ছিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনা নিয়ে নির্মিত ‘রানা প্লাজা’। ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তির পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরিচালক। আগের দিন সন্ধ্যায় নির্মাতা জানতে পারেন, ছবির মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেশে-বিদেশের প্রেক্ষাগৃহ বা অন্য যে কোনো মাধ্যমেও ছবিটি দেখানো যাবে না। 

    দীর্ঘ ৯ বছরে ছবিটি মুক্তি পায়নি। ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রে নানা ভীতিকর দৃশ্য দেখানোর অভিযোগ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রিট আবেদন করেন।

    রানা প্লাজা’ ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম খান তখন সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, ছবিতে নেতিবাচক কিছু নেই; বরং ছবিটির মধ্যে গার্মেন্টস মালিক-শ্রমিক আরও সচেতন হওয়ার সুযোগ খুঁজে পাওয়া যাবে। 

    গতকাল বিকালে কথা হয় ছবির পরিচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছবিটি বানানো থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই ছবি বানাতে গিয়ে তিনি নিঃস্বও হয়েছেন। এরপর আর কোনো ছবি বানাননি।

    পরিচালক আশাবাদী হয়েছেন। নতুন সরকারের সময়ে তার ছবিটি মুক্তি পাবে বলে মনে করেন তিনি। পরিচালক বলেন, ‘দেশে যেসব অন্যায়ের অবসান হচ্ছে দেখছি, আমার ছবিটি ঘিরেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন কর্মকর্তার অবিচারের ন্যায়বিচার পাব। আমি ভুক্তভোগী, বর্তমান সরকারের কাছে হয়তো ন্যায়বিচার পাব। আমার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, এমনটা যদি হতে থাকে, তাহলে এই দেশে ভালো কোনো নির্মাতা ভালো কোনো ছবি নির্মাণে এগিয়ে আসবে না।’

    নজরুল ইসলাম বলেন, ৯ বছর আগে তৈরি ছবিটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার পরও ছবিটি দর্শক দেখবেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গার্মেন্টস বিপর্যয় নিয়ে আগে কোনো ছবি তৈরি হয়নি তো, তাই বিষয়টি ভালো লাগবে। ‘রানা প্লাজা’র মতো গার্মেন্টসে কীভাবে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় হলো, একটা মেয়ে কীভাবে বেঁচে থাকল—তা নিয়েই আমার ছবি।’

    বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের মেকআপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্প নিয়ে অনন্য মামুন বানিয়েছে ‘মেকআপ’। দুই বছর আগে ছবিটি সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা দেখার পর প্রদর্শন উপযোগী নয় বলে জানিয়ে দেন। দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষকে দৃষ্টিকটুভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগে মেকআপ ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানান সেন্সর বোর্ডের সদস্য খোরশেদ আলম খসরু। গতকাল কথা হয় মেকআপ ছবির পরিচালক অনন্য মামুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছবি নিষিদ্ধ করার কোনো নিয়ম নেই। চাইলে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা পর্যবেক্ষণ দিতে পারেন। কিন্তু এর পরও মুক্তির অনুমতি দিতে হবে। ছবি নিষিদ্ধ করা একজন নির্মাতার স্বপ্ন হত্যা করার মতো। আমাকে কারণ দেখিয়েছিল— চলচ্চিত্রের লোকজনকে খারাপ দেখানো হয়েছে। এখন যদি চিকিৎসক নিয়ে ছবি বানাই—তারা বলবেন— আমাদের ছোট করা হয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে বানালে, তারাও একই কথা বলবে। রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেও তাই। তাহলে তো কাউকে নিয়ে ছবিই বানাতে পারবে না কেউ।’

    নতুন সরকারের এই সময়ে ‘মেকআপ’ সেন্সর ছাড়পত্র পাবে—এমনটিই আশা করছেন অনন্য মামুন। সেন্সর বোর্ড ও এফডিসিকে রাজনীতিমুক্ত রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে— চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড, এফডিসি—এসব ক্ষেত্রে রাজনীতিমুক্ত লোকজন রাখা উচিত। ভালো ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব প্রয়োজন। সত্যিকারের সংস্কৃতিমনা লোকজন এখানে থাকা উচিত। যাদের রাজনীতির গন্ধ আছে, তাদের এখানে রাখাই উচিত না।’

    সেন্সর বোর্ডে প্রায় ৯ বছর ধরে আটকে আছে চাকমা ভাষায় নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা ‘আমার বাইসাইকেল-মর থেংগারি’। তরুণ নির্মাতা অং রাখাইনের মর থেংগারি সিনেমা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন অনেকে। অং রাখাইন বলেন, ২০১৫ সালের মে মাসে সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডে জমা দিয়েছেন তিনি; মাঝে ৯ বছর পেরোলেও সেন্সর ছাড়পত্র মেলেনি।
    তিনি বলেন, ‘আমার বাইসাইকেল-মর থেংগারি’ ছবির দৈর্ঘ্য ৬৪ মিনিটের। প্রথমে সেখান থেকে ২০ সেকেন্ড কর্তন করার কথা বলা হয়। এরপর ২৫ মিনিট কেটে ফেলতে বলে! ৬৪ মিনিটের ছবির ২৫ মিনিট কাটলে ছবিটাই তো আর থাকে না। সেই ছবির সেন্সর ছাড়পত্র নিয়ে আমি কী করব?’ পাল্টা এই প্রশ্ন ছুড়ে দেন পরিচালক।

    প্রথম সিনেমা ‘মর থেংগারি’ ছাড়পত্র না পেলেও দ্বিতীয় সিনেমা ‘দ্য লাস্ট পোস্ট অফিস’ বানিয়ে এরই মধ্যে মুক্তি দিয়েছেন অং রাখাইন। গতকাল শুক্রবার কথা হলে তিনি বলেন, তৃতীয় ছবির শুটিং চলছে। ম্রো জনগোষ্ঠী নিয়ে নির্মীয়মাণ ছবিটি ২০২৬ সালে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে তার। ‘আমার বাইসাইকেল–মর থেংগারি’ নিয়ে আপাতত ভাবতে চাইছি না। তিনি বলেন, ‘এই ছবি নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। আমাকে অনেক ভোগানো হয়েছে। যখন এমনটি হচ্ছিল, আমি সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানকে বলেও আসছিলাম, সেন্সর সনদ লাগবে না। আপনারা যখন মনে করবেন, সনদটা আমার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েন।’

    তাহলে কি আর আবেদন করবেন না?— এমন প্রশ্নে অং রাখাইন বলেন, ‘সময় আর আগ্রহ কোনোটাই নেই। আমি এখন তৃতীয় ছবির কাজ শুরু করেছি। ৫০ ভাগ কাজ শেষও হয়েছে। ছবি বানানোটা আমার কাছে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি অঙ্গীকারের ও দায়বদ্ধতার। সেই অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতা থেকে ছবির বিষয়বস্তু নির্বাচন করেছি। ছবি বানিয়ে সেন্সর বোর্ডে জমা দিয়েছি। এরপর তাদের দায়িত্ব মুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। রাষ্ট্র যদি এখন স্বপ্রণোদিত হয়ে ছবিটি মুক্তির পথ তৈরি করে, তাহলে ভাবব। অন্যথায় নয়। এ ছাড়া দর্শকরাও যদি মনে করেন, তাহলেই তারা ছবিটি দেখতে পাবেন।’

    কয়েক বছর ধরে আটকে আছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’। ছবিটি মুক্তির দাবিতে গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা হয়। এর মধ্যে গত বছরের শুরুর দিকে সিনেমাটি নিয়ে সেন্সর বোর্ডের আপিল কমিটির শুনানির দিন ঠিক করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। শুনানি শেষে পরিচালক জানতে পারেন, ছবিটির মুক্তি অনিশ্চিতের খবর।
    তবে পরিচালকের বিশ্বাস ছিল— দর্শকের জন্য বানানো শনিবার বিকেলে দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন। কারণ ছবিটি দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎসবে পুরস্কৃতও হয়। 

    গত বছর গণমাধ্যমে ফারুকী এ–ও বলেছিলেন— শনিবার বিকেল ছবিটি বানিয়ে আমরা কোনো অন্যায় করিনি। এ ছবি আটকে দিয়ে কে বা কারা আমাদের দেশকে হেয় করার চেষ্টা করছেন। ফারুকী মনে করছেন, ‘শনিবার বিকেল’ আর আটকে থাকবে না। শুধু ‘শনিবার বিকেল’ নয়, দেশের কোনো ছবিই আটকে থাকবে না।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বললেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে— কোনো ছবিই আটকে রাখা যাবে না। এই যে ছবি আটকানোর সংস্কৃতি, মানুষের মুখ বন্ধ করার সংস্কৃতি, সংবাদমাধ্যমের গলা চেপে ধরার সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাতার গলা চেপে ধরার সংস্কৃতি— এসব সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশকে বের হয়ে আসতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্যই কিন্তু বিপ্লবগুলো হয়েছে। সেই পরিবর্তন ঘটতে হবে। আমি নিশ্চিত, সে পরিবর্তন ঘটবে। আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই, আমরা জেলখানায় থাকতে চাই না— এটাই তো এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য যেহেতু এটা, সেহেতু মূল লক্ষ্যের সঙ্গে এই সরকার একমত, এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘চলচ্চিত্র যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তখনই বড় আঘাত’

    কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন বিনোদন জগতের একাংশ। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী সরব ছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে সরকার পতনের একদফা দাবিতে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। এখন তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তার পতনের পরেই বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর করে ছাত্র-জনতা। এমনকি দেশের প্রথমসারির প্রেক্ষাগৃহেও ভাঙচুর করা হয়। সেই ভাঙচুরের ছবি সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করে পোস্ট দিয়েছেন ঢালিউড পরিচালক অনন্য মামুন।

    দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ভাঙচুরের খেলায় উদ্বিগ্ন বিনোদন জগত। এ দেখে চুপ থাকতে পারেননি চিত্রপরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, অভিনেত্রী নুসরত ইমরোজ তিসা, অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন, অভিনেতা আফরান নিশো। 

    তারা সামাজিকমাধ্যমে নিজেদের মতপ্রকাশ করেছেন। কখনো দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন, আবার কখনো দ্রুত প্রশাসনিক পরিকাঠামো গঠনের আর্জি জানিয়েছেন তারা। 

    এরই মধ্যে বুধবার দেশের প্রেক্ষাগৃহ ভাঙচুরের ছবি শেয়ার করে পরিচালক অনন্য মামুন লিখেছেন, আমার দেশের চলচ্চিত্র যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই এত বড় আঘাত।

    অনন্যের শেয়ার করা ছবিতে শুধুই ঘরবাড়ি, দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটতরাজ চলছে না। একই অঘটন ঘটেছে স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহেও। তিনি বিবরণীতে লিখেছেন— রাজশাহী হাইটেক পার্কে ৫ আগস্ট সারারাত লুটপাট হয়েছে। সিনেপ্লেক্স ভেঙে চুরমার। ওয়াশরুমের কমোড, পানির ট্যাপটাকেও ছাড়েনি। শুনেছি সিরাজগঞ্জের রুটস্ সিনেপ্লেক্সও লুটপাট করা হয়েছে। 
    সিনেমা প্রেক্ষাগৃহ ভাঙচুরে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন এ ঢালিউড পরিচালক। 

    তিনি বলেন, এ ধরনের আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হয়েছে বলেই ছবি দেখার জন্য নতুন দর্শক আসতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের পরিচালকরাও বড় বাজেটের ছবি বানানোর স্বপ্ন দেখন। তিনি আরও লিখেছেন— সবাইকে অনুরোধ করব, চলচ্চিত্র বাঁচাতে হলে প্রেক্ষাগৃহ বাঁচাতে হবে। 

    নিজের দেশের শাসনব্যবস্থার আশু উন্নতি চেয়ে সামাজিকমাধ্যমে পরিচালক ফারুকী বলেন, আপনারা দয়া করে দ্রুত সরকার গঠন করুন। পুলিশ বাহিনীকে (কিছু অপরাধী অফিসার বাদে) অভয় দিয়ে তাদের কাজে নামান দ্রুত। তারা আমাদেরই বাহিনী। মিলিটারি ভাইয়েরা— সার্বিক নিরাপত্তার দিকে নজর রাখুন। দেশটা দ্রুত স্বাভাবিক করার দিকে এগিয়ে যাই, চলুন। নষ্ট করার মতো এক মুহূর্তও সময় নেই।

    উল্লেখ্য, চলতি মাসে পরিচালক অনন্য মামুনের ‘দরদ’ সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল। তার আগে দেশের শাসনব্যবস্থা বদলে যাওয়ায় ছবি মুক্তি আপাতত স্থগিত করেছেন। 

    এ ছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সৃজিত মুখোপাধ্যায়র ‘পদাতিক’ ছবিটি আপাতত মুক্তি পাচ্ছে না। আর মৃণাল সেনের জীবন থেকে তৈরি এ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। কথা ছিল আগামী ১৫ আগস্ট ভারতে মুক্তির পর ১৬ আগস্ট বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তি পাবে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় বন্ধ রয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব শুরুর অপেক্ষায়

    সারা বিশ্বের সিনেমাপ্রেমীরা তাকিয়ে আছেন ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের দিকে। আর এ সিনেপরিচালকদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হচ্ছে আগামী ২৮ আগস্ট। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো এই চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হবে ৭ সেপ্টেম্বর। ইতোমধ্যে চলতি বছরের মনোনীত সিনেমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। 

    গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্বর্ণসিংহের জন্য লড়বে ২১টি সিনেমা। উৎসবে মনোনীত সিনেমায় যেসব তারকা আছেন, তারা হলেন— লেডি গাগা, হোয়াকিন ফিনিক্স, জুলিয়ান মুর, টিলডা সুইনটন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, কেট ব্ল্যাঞ্চেট। আশা করি এ উৎসবে তাদের পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে এবারের উৎসব হতে যাচ্ছে তারকাবহুল।

    ভেনিস উৎসবে একমাত্র এশীয় সিনেমা হিসেবে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়েছে সিউ হুয়া ইয়ের ‘স্ট্রেঞ্জার আইস’। এ ছবিটি নির্মিত হয়েছে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায়।

    জর্জ ক্লুনি ও ব্রাড পিটকে দেখা যাবে জন ওয়াটসের অ্যাকশন কমেডি সিনেমা ‘উলফ’-এ। ছবিটি প্রদর্শিত হবে আউট অব কমপিটিশন বিভাগে। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পাওয়া ২১ সিনেমার পাঁচটিই ইতালীয় পরিচালকের।

    উৎসবে সেরা ছবির অন্যতম দাবিদার স্প্যানিশ নির্মাতা পেড্রো আলমোদোভার। তার পরিচালিত ‘দ্য রুম নেক্সট ডোর’ও রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই প্রথম পুরোপুরি ইংরেজি ভাষায় চলচ্চিত্র বানিয়েছেন আলমোদোভার। এ ছবিতে দেখা যাবে টিলডা সুইনটন ও জুলিয়ান মুরকে। 

    সেরা ছবির দৌড়ে হ্যালিনা রেজিনের ইরোটিক থ্রিলার ‘বেবিগার্ল’কেও রাখতে হবে। কারণ এ সিনেমাটিতে দেখা যাবে নিকোল কিডম্যান, হ্যারিস ডিকিনসনের মতো তারকাদের।

    আলোচনায় আছে মার্কিন ক্রাইম থ্রিলার ‘দ্য অর্ডারও। জাস্টিন কারজেল পরিচালিত এ সিনেমায় এফবিআই এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুড ল। এটি ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত কেভিন ফ্লিনের বই ‘দ্য সাইলেন্ট ব্রাদারহুড’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে।

    এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলো মধ্যে একটি হচ্ছে— ‘জোকার: ফলি আ ডিউ’। টড ফিলিপস পরিচালিত ‘জোকার’ সিনেমার সিকুয়েলটি জায়গা করে নিয়েছে ভেনিস উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে। আগামী ৪ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই ভেনিসে প্রিমিয়ার হবে হোয়াকিন ফিনিক্স ও লেডি গাগা অভিনীত সিনেমাটি। এ সংবাদ সম্মেলনে সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উৎসবের আর্টিস্টিক পরিচালক আলবার্তো বারবারা।

    এ ছাড়া ভেনিস উৎসবে স্বর্ণসিংহের অন্যতম দাবিদার আলোচিত ইতালীয় নির্মাতা লুকা গুদানিনোর ছবি ‘কুইয়ার’। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম এস বরোজের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে এ ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ড্যানিয়েল ক্রেগ। এ ছবিটিতে ক্রেগ তার ক্যারিয়ারসেরা অভিনয় করেছেন বলে মত দিয়েছেন আলবার্তো বারবারা।

    আরও স্বর্ণসিংহের দৌড়ে আছে পাবলো লরেইনের ‘মারিয়া’। চিলিয়ান নির্মাতা ছবিটি বানিয়েছেন প্রখ্যাত অপেরা গায়িকা মারিয়া ক্যালাসের জীবন অবলম্বনে। এতে অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে মারিয়ার চরিত্রে দেখা যাবে ।

    সূত্র: এএফপি, ভ্যারাইটি

    বিনোদন ডেস্ক

  • চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নির্বাচন দাবি করে নিপুণের রিট

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (২০২৪-২৬) মেয়াদি নির্বাচনের ফল বাতিল চেয়ে নতুন নির্বাচন দাবি করে রিট করেছেন পরাজিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ আক্তার। 

    বুধবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে নিপুণের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ চন্দ্র রায় এ রিট আবেদন করেন।

    রিটে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে এ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও মিশা-ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

    এর আগে গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণা হয় শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে। ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার খোরশেদ আলম খসরু। এতে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বিগত দুই মেয়াদের সফল সভাপতি মিশা সওদাগর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন চলচ্চিত্রের মুভি লর্ড ও দানবীর খ্যাত অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। 

    নির্বাচনে সভাপতি মিশা সওদাগর মোট ভোট পান ২৬৫টি। অন্যদিকে মাহমুদ কলি ১৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত ডিপজল পান ২২৫ ভোট। ১৭ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন নিপুণ আক্তার (২০৯)। সহসভাপতি পদে ২৩১ ও ২৩৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয় মাসুম পারভেজ রুবেল ও ডিএ তায়েব। এ ছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক আরমান ২৩৭, সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী ২৫৫, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আলেকজান্ডার বো ২৯৬, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর ২৪৫, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মামনুন হাসান ইমন ২৩৫ এবং কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী কমল ২৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

    কার্যনির্বাহী সদস্যপদে মিশা-ডিপজল পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয় ৯ জন। তারা হলেন সুচরিতা (২২৮), রোজিনা (২৪৩), আলীরাজ (২৩৯), সুব্রত, দিলারা ইয়াসমিন (২১৮), শাহনূর (২৪৫), নানা শাহ (২১০), রত্না কবির (২৬৩) ও চুন্নু (২৪৮)। কলি-নিপুণ পরিষদ থেকে রিয়ানা পারভিন পলি (২২০) ও সনি রহমান (২৩০) জয়ী হন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যপদ ফিরে পাচ্ছেন জায়েদ খান

    জায়েদ খানসহ বেশ কয়েকজন শিল্পীকে সুখবর দিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে বিজয়ী মিশা-ডিপজল পরিষদ। সমিতির সদস্যপদ ফিরিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল।

    ডিপজল বলেন, ঠিক কী কারণে জায়েদ খানের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে তা জানা নেই। তবে বাদ দেওয়াটা মনে হয় বেআইনি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সভায় কথা বলব। সেখানে সবার পরামর্শ ও সম্মতিতে সবার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

    গত ২ মার্চ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের সদস্যপদ বাতিল করা হয়। তখন কমিটিতে ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ আক্তার। তাদের কমিটিই বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে জায়েদের সদস্যপদ বাতিল করে।

    ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে মিশা সওদাগর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জায়েদ খানসহ সমিতি থেকে বাদ পড়া সবার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। নতুন সদস্যও নেওয়া হবে।
     

    বিনোদন ডেস্ক

  • সুড়সুড়ি টাইপের অভিনয় দেখে তো আমি অভ্যস্ত নই: ববিতা

    সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতা। যার রূপে এখনো বুঁদ হয়ে থাকেন অনেকেই। ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে এখন আর আগের মতো রুপালি পর্দায় দেখা যায় না দাপুটে এই অভিনেত্রীকে। বর্তমানে বেশিরভাগ সময় কানাডা অথবা আমেরিকায় থাকেন ববিতা। সুযোগ পেলেই নিজের জন্মভূমিতে ছুটে আসেন। কিছু দিন আগেই দেশে ফিরেছেন ববিতা। আর দেশে ফিরেই স্বজনদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাচ্ছেন বরেণ্য এ নায়িকা।

    এবার চলচ্চিত্র নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ববিতা। বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে ববিতার ধারণা খুব একটা সুখকর নয়। এখনকার চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা খুঁজে পান তিনি। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ববিতা।

    দেশের বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে ববিতা বলেন, এখন খুব একটা সিনেমা দেখা হয় না। মাঝে মধ্যে দুই-একটি কাজ হয়তো দেখি। কিন্তু সেসব সিনেমা দেখে মনে হয়েছে গল্প ও নির্মাণে কিছুটা উন্নতি হলেও অশ্লীলতা অনেক বেড়ে গেছে। কারণ সুড়সুড়ি টাইপের অভিনয় দেখে তো আমি অভ্যস্ত নই। তাই আর সেভাবে এখন আর সিনেমা দেখা হয় না।

    প্রসঙ্গত, ক্যারিয়ারে ২৫০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ববিতা। পর পর তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন এ নায়িকা। সর্বশেষ ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ সিনেমায় দেখা গেছে ববিতাকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নিপুণ কি একা হয়ে যাচ্ছেন?

    চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নিপুণের প্যানেলের সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন এবার অংশ নেবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন। বিগত নির্বাচনে এ প্যানেলে ছিলেন অভিনেতা নানা শাহ, শাহনূর ও ডিএ তায়েব। আগামী শিল্পী সমিতির নির্বাচনে এই প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তারাও। মিশা-ডিপজল প্যানেল থেকে তারা নির্বাচন করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এরপরই সবার মুখে মুখে একটি প্রশ্ন-নিপুণ কি চলচ্চিত্র সমিতির রাজনীতিতে একা হয়ে যাচ্ছেন?

    নিপুণকে ছেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে চিত্রনায়িকা শাহনূর বলেন, এই প্যানেলে থাকছি না, তার কারণ অনেক কিছুই জানতে পারতাম না। আমার অগোচরে সবকিছু হতো। শুধু কোনো মিটিং হলে জানতে পারতাম। তারা কোথাও গেলে জানতে পারতাম না। এসব কারণে এই প্যানেলে এবার থাকার কোনো ইচ্ছা নেই আমার।

    বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা শাহ বলেন, নির্বাচনের পর নিপুণ আমাদের কোনো কথা রাখেননি। তার প্যানেলে গিয়ে ভুল করেছিলাম। আমি এবং ডি এ তায়েব তার সঙ্গে নির্বাচন করেছিলাম। ভালো কিছু কাজের আশা করেই তাদের সঙ্গে নির্বাচন করেছিলাম।

    এফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আগামী ১৯ এপ্রিল। সেটা পিছিয়ে ২৭ এপ্রিল  করা হয়েছে।

    শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আছেন খোরশেদ আলম খসরু, আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম।

    নিপুণের প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী কে সেটি এখনও জানা যায়নি। এদিকে মিশা সওদাগর ও ডিপজল প্যানেল করতে যাচ্ছেন। 
     

    বিনোদন ডেস্ক

  • আফরান নিশোর ছবি দেখে লাফিয়ে উঠেন স্বস্তিকা!

    ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জী। 

    আগামী ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মিলনায়তনে দেখা যাবে অভিজিৎ শ্রী দাস পরিচালিত স্বস্তিকার ‘বিজয়ার পরে’ সিনেমা। প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন তিনি। যে কারণে কয়েক দিন আগেই ঢাকায় এসেছেন। 

    রোববার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা ক্লাবের স্যামসন লাউঞ্জে আয়োজিত ‘উইমেন ইন সিনেমা’ বিষয়ক কনফারেন্সে যোগ দেন স্বস্তিকা। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। 

    স্বস্তিকা জানান, বাংলাদেশের বেশ কিছু অভিনেতার কাজই তার দেখা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন পছন্দের অভিনেতা রয়েছেন। তবে আফরান নিশোর বিরাট বড় ভক্ত তিনি। 

    অভিনেত্রী বলেন, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশোর কাজের খুবই ভক্ত আমি কিন্তু আফরান নিশোর বিরাট বড় ভক্ত। তার ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমাটি দুবার দেখেছি। এছাড়া চরকি ও হইচই প্লার্টফর্মে ‘সিন্ডিকেট’, ‘কাইজার’সহ অভিনেতার সব কাজ দেখেছি।

    নিশোভক্ত স্বস্তিকা বলেন, আমি বিমানবন্দর থেকে আসার সময় আমার গাড়ির পাশে কোনো একটি ভ্যানে তার (আফরান নিশো) বিজ্ঞাপনের ছবি দেখেছি। যেটা দেখেও লাফিয়ে উঠেছি। আমি আসলে তার অনেক বড় ভক্ত।

    অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সজাগ হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেন স্বস্তিকা। তিনি বলেন, শিল্পীদেরও একটা দায়িত্ব থাকে, শিল্পী হিসেবে তারা কী ধরনের ন্যারেটিভের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে অথবা চাইছে না। অসংখ্য তরুণ দর্শক আমার সিনেমা দেখে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করে, অনুসরণ করতে চায়। সুতরাং মাথায় সব সময় থাকে, এমন চরিত্র আমার বেছে নেওয়া উচিত, যা সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। যদিও অভিনয়ই আমার রুটি-রোজগার। তবে শুধু রোজগারের জন্য আমাদের সিনেমা করা উচিত নয়।

    এর আগে বাংলাদেশে পা রেখে গানবাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও সংগীত পরিচালক তাপসের সঙ্গে দেখা করেন স্বস্তিকা। গত শনিবার (২০ জানুয়ারি) গানবাংলার স্টুডিওতে হাজির হন এই তারকা। এ সময় তাপসের সঙ্গে গানের আড্ডা দিতে দেখা যায় তাকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • দেশে অনেক ভালো সিনেমা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে: দীপু মনি

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। অনেক ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে।

    rnrn

    সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে দ্বাবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

    rnrn

    উৎসব কমিটির সদস্য গবেষক মফিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    rnrn

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, জীবনধারা ফোটে উঠে। সরকার দেশের চলচ্চিত্র উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।  আমাদের দেশে কালজয়ী চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে দেশের চলচ্চিত্রে সুদিন ফিরে এসেছে। চলচ্চিত্রের ভবিষ্যত আরও উজ্জলতর হবে বলে আশা পোষণ করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

    rnrn

    এ সময় দ্বাবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে দীপু মনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি উৎসব চালিয়ে নেওয়া অসাধারণ একটি কাজ। এটা একটা বিরাট সাফল্য। আর আমাদের যারা চলচ্চিত্র তৈরি করেন, তাদের জন্যও এটি একটি বড় সম্ভাবনা ও সুযোগের জায়গা। যারা চলচ্চিত্র দেখেন, পছন্দ করেন, তাদের জন্যও বড় সুযোগ। তারা নিজেদের ছবিসহ অন্যান্য অনেক দেশেরও ছবি দেখার সুযোগ পাবে। একটা ভালো সিনেমা দেখা মানে একটা দারুণ ব্যাপার। আর এমন উৎসবের মধ্যদিয়েই তো আমাদের চলচ্চিত্র আরও ভালো হবে। আমাদের অনেক ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে এবং আরও হবে বলে আমি আশা করি।

    rnrn

    পরে মন্ত্রী চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

    rnrn

    উল্লেখ্য, রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে চলছে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’। এটি ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানে উৎসবের দ্বাদশ আসর। 

    rnrn

    এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোসপেকটিভ বিভাগ, ট্রিবিউট, বাংলাদেশ প্যানারোমা, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন্স ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম, উইমেন্স ফিল্ম সেশনে বাংলাদেশসহ ৭৪ দেশের ২৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর সবগুলোই বিনামূল্যে বড় পর্দায় দেখা যাবে।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ‘এটা ১৯২৪ সাল না, ২০২৪’ শাবনূরকে সতর্ক করলেন পরিচালক

    পুরোদমে অভিনয়ে ফিরছেন চলচ্চিত্র নায়িকা শাবনূর। একে একে তিনটি সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন- রঙ্গনা, মাতাল হাওয়া ও দুই নয়নের আলো ২। 

    তরুণ নির্মাতা আরাফাত হোসাইন শাবনূরকে নিয়ে নির্মাণ করতে যাচ্ছেন ‘রঙ্গনা’। এর ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে ৫ জানুয়ারি। সেখানে তিনটি লুকে দেখা গেছে নব্বই দশকের এই শীর্ষ নায়িকাকে। পোস্টারটি প্রকাশের পর যেমন পজেটিভ মন্তব্য এসেছে, তেমনি নেগেটিভ মন্তব্যও এসেছে। তবে ভক্তদের একটি অংশ চান না যে তিনি এ সিনেমায় অভিনয় করুক।

    শাবনূরের অভিনয়ে ফেরা এবং ‘রঙ্গনা’ ইস্যুতে পরিচালক হিসেবে নয় শাবনূরভক্ত হিসেবে তার প্রতি কিছু আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- অন্য শাবনূর ভক্তদের মতো তিনিও চান ‘মানহীন’ সিনেমায় যেন শাবনূর অভিনয় না করেন।

    মোস্তাফিজুর রহমান মানিক চান প্রয়োজনে তার ‘দুই নয়নের আলো ২’ সিনেমাটি বাদ দিয়ে হলেও শাবনূর যেন সিনেমা নির্বাচনে সতর্ক হন। দীর্ঘদিন পর তিনি আবার অভিনয়ে নিয়মিত হতে যাচ্ছেন, এ সময়ে ভুল করলে ভক্তরা মুখ ফিরিয়ে নিবে। তিনি লিখেন- এটা ১৯২৪ সাল না, ২০২৪ সাল।

    মানিকের স্ট্যাটাস পাঠকদের জন্য দেওয়া হলো। 

    মানিক লিখেছেন- গত কয়েক দিনে একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে, সবার প্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরকে যেভাবে ট্রল করা হয়েছে, তা মনে হয় শাবনূরের এত বছরের অভিনয় জীবনে কোনোদিন করা হয়নি। একজন শাবনূর ভক্ত হিসেবে এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। খোদ শাবনূর ভক্তরা একে বয়কটের ডাক দিয়েছে। 

    যাই হোক, এই ট্রলের যুগে শাবনূরের যদি আবার মুভি করতেই হয়, বুঝে শুনে করা উচিত। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ের অনেক মেধাবী এবং জনপ্রিয় পরিচালক তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। চয়নিকা চৌধুরী, রায়হান রাফি, নিয়ামূল মুক্তা, বুলবুল বিশ্বাস ইতোমধ্যে তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ আমাকে নিজে বলেছেন তাকে নিয়ে কাজ করার কথা।

    আমার মনে হয় নিজেকে ফিট করে আরও সময় নিয়ে এসব পরিচালকদের সাথে রাজকীয়ভাবে তার ফেরা উচিত। এক্সপেরিমেন্টের কোনো সুযোগ নেই এ সময়ে। মনে রাখতে হবে এটা ১৯২৪ না, এটা ২০২৪। বিখ্যাত সব পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনিকার, ডিওপি, এমনকি অসংখ্য স্পট বয়ের প্রচেষ্টার সঙ্গে শক্তিশালী অভিনয় দক্ষতার মিশেলে গড়ে উঠেছে শাবনুরের আজকের সার্বজনীন ইমেজ। কিছু লোকের অদক্ষতা, ভাইরাল হওয়ার প্রচেষ্টা আর শাবনুরের নিজের খামখেয়ালির জন্য, এই ইমেজ, এই জনপ্রিয়তা, এই প্রতিমা ধ্বংস হোক, আমিসহ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অগনিত শাবনূর ভক্ত তা কোনোদিন চায় না। 

    প্রয়োজনে আমার মুভিও রিজেক্ট করুন, তবু কাউকে নিজের ইমেজ শেষ করার সুযোগ দিবেন না, প্লিজ। 

    মুর্খ অদক্ষ কোনো মেকাপম্যান যদি আপনার উপদেষ্টা হয় তাহলে বলার কিছু নাই। আপনি এদের ব্যাক্তিগতভাবে ভালোবাসুন কোনো সমস্যা নাই; কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এদের বর্জন করুন, দরকারে আমাকেও বর্জন করুন। 

    আপনাকে ব্যক্তিগত এই কথাগুলো বলতে না পেরে এই পোস্ট দিলাম। আশা করি ভুল বুঝবেন না।
     

    বিনোদন ডেস্ক