স্পাইডারম্যান নিয়ে নিজের পুরোনো মন্তব্য থেকে সরে এলেন হল্যান্ড

Written by

in

স্পাইডারম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে নিজের করা অন্যতম আলোচিত ও বহুল প্রচারিত একটি মন্তব্য থেকে অবশেষে সরে এসেছেন হলিউড তারকা টম হল্যান্ড। 

২০২১ সালে বিশ্বখ্যাত লাইফস্টাইল সাময়িকী জিকিউ ম্যাগাজিন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হল্যান্ড বলেছিলেন, ‘৩০ বছর বয়সের পরেও যদি আমি স্পাইডারম্যান চরিত্রে অভিনয় করতে থাকি, তবে বুঝতে হবে আমি নিশ্চিতভাবেই কোনো ভুল করছি।’

তবে সম্প্রতি এই অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেছেন, যখন তিনি ওই মন্তব্যটি করেছিলেন, তখন আসলে ঠিক কী ভেবে করেছিলেন তা তার নিজেরও জানা নেই।

বর্তমানে হল্যান্ডের বয়স ঠিক ৩০ বছর। অথচ স্পাইডারম্যান হিসেবে তার নতুন সিনেমা ব্র্যান্ড নিউ ডে আগামী ৩১ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এবং এখনই এই সুপারহিরো স্যুটটি তুলে রাখার কোনো পরিকল্পনা তার নেই বলে জানান অভিনেতা। 

সম্প্রতি ক্রিস্টোফার নোলানের আসন্ন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’র প্রচারণামূলক কাজের অংশ হিসেবে আবারও জিকিউ-এর মুখোমুখি হয়ে নিজের এই স্ববিরোধী মন্তব্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। 

নিজের পুরোনো মন্তব্যটি নিয়ে হাসতে হাসতে টম হল্যান্ড বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, সম্প্রতি কোটেশনটি আবার কোথাও আমার চোখে পড়েছে এবং আমি নিজেই কিছুটা ভড়কে গিয়েছিলাম। কারণ আমি মনে করার চেষ্টা করছিলাম যে আসলে কোন অর্থে আমি কথাটা বলেছিলাম।’ 

নিজের পুরোনো মন্তব্যের সপক্ষে একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তিনি জানান, সেটি আসলে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনো ব্যক্তিগত ডেডলাইন ছিল না, বরং চরিত্রটির উত্তরাধিকার নিয়ে কথা ছিল। বিশেষ করে, অন্য কারো হাতে এই ব্যাটন বা চরিত্রটি তুলে দেওয়ার দীর্ঘদিনের সুপ্ত ইচ্ছার কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

হল্যান্ড বলেন, ‘আমি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে আমি চরিত্রটির ব্যাটন পরবর্তী কারো হাতে তুলে দিতে পারলে খুশি হব, যা আমি এখনো অর্জন করতে পারিনি। স্টুডিওতে আমরা এটা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা করি। 

তাই হয়তো এখন আমার কোটেশনটি পরিবর্তন করে ৩০-এর জায়গায় ৩৭ বছর করা উচিত!’ 

তবে এর পেছনে আরও একটি হিসাবনিকাশের তত্ত্বও উড়িয়ে দিচ্ছেন না এই অভিনেতা। তিনি রসিকতার ছলে বলেন, ‘এমনও হতে পারে যে সনি-র সঙ্গে তখন আমার নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তাই স্পাইডারম্যান ৪-এ আমি থাকব না—এমন একটা ভয় দেখিয়ে তাদের ওপর একটু চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত নই আসলে কী ছিল, এটি ভয় দেখানোর একটি কৌশলও হতে পারে।’ 

অতীতের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, চরিত্রটি নিয়ে বর্তমানে তার অবস্থান একদম পরিষ্কার। হল্যান্ড বলেন, ‘সত্যি বলতে, স্পাইডারম্যান চরিত্রে অভিনয় করাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। আমি এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে আমি বলতে পারি—যতদিন তারা আমাকে চাইবে, আমি এই চরিত্রে অভিনয় করে যাব।’ 

স্পাইডারম্যান চরিত্রের প্রতি হল্যান্ডের এই ভালোবাসার প্রমাণ আগেও পাওয়া গেছে। তিনি নিজে সনি পিকচার্সের কাছে লবিং করে ব্র্যান্ড নিউ ডে সিনেমার কাজ কিছুটা পিছিয়ে দেন, যাতে তিনি প্রথমে ক্রিস্টোফার নোলানের দ্য ওডিসি-র শুটিং শেষ করতে পারেন। 

এর চেয়েও বড় প্রমাণ মেলে ২০১৯ সালে, যখন ডিজনী ও সনির মধ্যকার চুক্তি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স থেকে স্পাইডারম্যান বাদ পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। তখন হল্যান্ড নিজে ডিজনীর প্রধান নির্বাহী বব আইগারকে ফোন করে কেঁদে ফেলেছিলেন এবং চরিত্রটির ভবিষ্যতের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

পরবর্তীতে বব আইগার সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, ‘টম ফোনে কাঁদছিল। ওর সেই অকৃত্রিম আবেগ দেখেই আমি নিজে সনির সঙ্গে আবার কথা বলার সিদ্ধান্ত নিই—টম এবং ভক্তদের স্বার্থে। আর এভাবেই চুক্তিটি রক্ষা পায়।’ 

যে মানুষটি একসময় ভেবেছিলেন ৩০ বছর বয়সেই স্পাইডার-ম্যান অধ্যায় শেষ করবেন, ২০২৬ সালে এসে মনে হচ্ছে পিটার পার্কার হিসেবে তার আসল যাত্রা তো কেবল শুরু হলো! 

সূত্র: জিও নিউজ 

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *