শাহরুখ-দীপিকার বিরুদ্ধে আইনজীবীর মামলা

Written by

in

একটি হুন্ডাই আলকাজার গাড়িকে কেন্দ্র করে এক অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রীতিমতো আলোচনার ঝড় উঠেছে। 

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ খান্না নামের এক ব্যবহারকারী এই ঘটনার বিস্তারিত শেয়ার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, যেখানে দুই বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনেরও নাম জড়িয়ে গেছে। 

জানা গেছে, কীর্তি সিং নামের রাজস্থানের এক আইনজীবী প্রায় ২৪ লাখ টাকা দিয়ে একটি হুন্ডাই আলকাজার এসইউভি কিনেছিলেন। তবে গাড়িটি কেনার পর থেকেই তিনি বেশ কিছু গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন, যা গাড়ির পারফরম্যান্সের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। 

অভিযোগ উঠেছে, গাড়িটিতে ইঞ্জিন ভাইব্রেশন (কম্পন), এক্সিলারেট করার সময় পাওয়ার লস (গতি কমে যাওয়া) এবং ওভারটেক করার সময় নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছিল। আইনজীবী কীর্তি সিংয়ের মতে, এই ত্রুটিগুলো গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছিল। এই বিষয়ে তিনি কোম্পানির কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানালেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাননি। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত হুন্ডাই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে মামলার অন্য একটি দিক। আইনজীবী কীর্তি সিং এই মামলায় হুন্ডাইয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত থাকা বলিউডের দুই মেগাস্টার—শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোনকেও বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ভাইরাল হওয়া পোস্টে লেখা হয়, ‘ভাবুন একবার, গাড়ি কিনলেন আর শেষমেশ মামলা ঠুকে দিলেন বিজ্ঞাপনের তারকাদের নামে!’ 

এই অদ্ভুত মামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের বিরুদ্ধে মামলা করার আইডিয়াটা শুনতে ভালোই লাগে, কিন্তু আদালত আদৌ তারকাদের বিরুদ্ধে এই মামলা গ্রহণ করবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’ 

অন্য একজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘গাড়ি কেনার পর শাহরুখ খান আর দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বেন—এমন কিছু তো আর গাড়ির ইউজার ম্যানুয়ালে লেখা থাকে না!’ 

তৃতীয় এক ব্যবহারকারী আবার আইনজীবীর এই কৌশলকে সমর্থন করে হিন্দি প্রবাদ টেনে লিখেছেন, ‘হয়তো এর পরেই হুন্ডাই কীর্তি সিংকে সঠিক জবাব দিয়েছে। কখনো কখনো সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে, আঙুল বাঁকা করতেই হয়।’ 

তবে সবাই যে এই অভিযোগগুলো সত্য বলে মেনে নিচ্ছেন তা নয়। সন্দেহ প্রকাশ করে এক ব্যবহারকারী তীব্র ভাষায় লিখেছেন, ‘ইঞ্জিন ভাইব্রেশন আর এক্সিলারেশনের সময় পাওয়ার লস? কী সব ফালতু কথা! এগুলো বানিয়ে বলা সমস্যা। এই আইনজীবীদের হাতে কোনো কাজ না থাকলে নিজেদের প্রচারের জন্য বিনাকারণেই মানুষকে আদালতে টেনে নিয়ে যায়।’ 

বিপরীতে অনেকেরই মত, যেসব তারকারা বড় বড় ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা নেন, পণ্যের মান খারাপ হলে তাদেরও কিছুটা দায়ভার নেওয়া উচিত। 

সূত্র: নিউজ১৮

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *