Tag: শাহরুখ খান

  • বিজ্ঞাপনে কাজ করে কেন আইনি বিপাকে এই তিন তারকা

    ভারতের মহারাষ্ট্রে নিষিদ্ধ পণ্য ‘পান মসলা’ পরোক্ষভাবে প্রচারের অভিযোগে তিন বলিউড তারকা শাহরুখ খান, অজয় দেবগন এবং টাইগার শ্রফকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্যটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। খবর এনডিটিভির।

    তুকারাম মুন্ধে চালিত এই খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার পাঠানো ৯ পৃষ্ঠার নোটিশে অভিনেতাদের অবিলম্বে এই বিজ্ঞাপনী প্রচার থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রচারমূলক কনটেন্ট ও পোস্ট মুছে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালে পান মসলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিমল’-এর এলাচির একটি বিজ্ঞাপনে এই তিন অভিনেতাকে একসঙ্গে দেখা যায়। এফডিএ-র নোটিশে বলা হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এটি ‘বিমল এলাচি’র বিজ্ঞাপন হলেও মূলত বিমল ব্র্যান্ডটি পান মসলার সঙ্গেই ব্যাপকভাবে পরিচিত, যা মহারাষ্ট্রে তৈরি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বণ্টন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ আইনিভাবে নিষিদ্ধ। বিজ্ঞাপনে বিমল নামটির এমন ব্যবহার ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং পরোক্ষভাবে নিষিদ্ধ পণ্যের মূল ব্র্যান্ড প্রচার করতে সাহায্য করে বলে উল্লেখ করা হয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ভুল তথ্যভিত্তিক বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার কারণে রাজ্যটির ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি তাদের যেকোনো পণ্যের প্রচারণায় সর্বোচ্চ ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার বিধানও রয়েছে। এ জন্য এফডিএ কর্তৃপক্ষ এই তারকাদের কাছে তাদের স্পন্সরশিপ চুক্তিপত্র, প্রচারের বিবরণ এবং পণ্যটি প্রচারের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রমাণাদি তলব করেছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে বিমল এলাচির একই ধরণের বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। পরবর্তী সময়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং চুক্তি থেকে সরে এসে বিজ্ঞাপনের সমুদয় পারিশ্রমিক জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার ঘোষণা দেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কোহলিকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষে শাহরুখ

    ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলে আবারও ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান তারকা ব্র্যান্ডের শীর্ষ খেতাব পুনরুদ্ধার করেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ক্রোল ইন্ডিয়া সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ২০২৫’-এ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। 

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা শাহরুখ খান বড় পর্দায় সফল প্রত্যাবর্তন এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে টানা চাহিদার মুখে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ (১৭৭.৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। 

    এবারের তালিকার শীর্ষস্থানে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। বিগত দুই বছরে শাহরুখ খানের ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ডলার। অন্যদিকে শীর্ষ থাকা তারকা বিরাট কোহলির ব্র্যান্ড মূল্য সবচেয়ে বেশি (৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার) কমে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। 

    শীর্ষে থাকা শাহরুখ খানের বর্তমানে ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার। এরপরই ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে তালিকার দুইয়ে রণবীর সিং। আর তিনে থাকা বিরাট কোহলির বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৫৮.৪ মিলিয়ন ডলার। 

    নারী তারকাদের মধ্যে শীর্ষে থাকা বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ব্র্যান্ড ভ্যালু বর্তমানে ৯৩.৯ মিলিয়ন ডলার। তিনি এই তালিকার ছয় নম্বরে স্থান পেয়েছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শীর্ষ দশে থাকা বাকি তারকারা হলেন পর্যায়ক্রমে দীপিকা পাডুকোন (৮৯.২ মিলিয়ন ডলার), হৃতিক রোশন (৮৮.৯ মিলিয়ন ডলার), অমিতাভ বচ্চন (৮০.৮ মিলিয়ন ডলার) ও অক্ষয় কুমার (৮০.০ মিলিয়ন ডলার) 

    শীর্ষ ১০-এর বাইরে থাকা অন্যান্য তারকাদের মধ্যে ১২তম স্থানে রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং ১৩তম স্থানে রয়েছেন সুপারস্টার সালমান খান।

    বলিউডের নতুন প্রজন্মের তরুণ তারকাদের বাণিজ্যিক প্রভাবও এই তালিকায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনন্যা পান্ডে ১৯তম, জাহ্নবী কাপুর ২৩তম এবং শ্রদ্ধা কাপুর ২৪তম স্থান দখল করে নিয়েছেন। 

    মূলত তারকাদের ব্র্যান্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট চুক্তি, স্পন্সরশিপ, গণমাধ্যমে উপস্থিতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে এই বাণিজ্যিক মূল্যায়ন বা র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। শাহরুখ খানের শীর্ষস্থানে ফেরা প্রমাণ করে ভারতীয় বিনোদন ও বিজ্ঞাপন জগতে তার প্রভাব এখনো অনন্য। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কিং খানের নতুন সিনেমার লুক ভক্তদের ক্যামেরায়

    এ মুহূর্তে ধুন্ধুমার চলছে ‘কিং’ সিনেমার শুটিং। এ নিয়েই ব্যস্ত বলি বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার সম্ভাব্য নতুন লুক সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ছুটি কাটানোর সময় এক ভক্তের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কিং খান। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। 

    ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদশাহ কালো রঙের হুডি ও ‘VR-46’ লেখা একটি কালো ক্যাপ পরে ছিলেন। মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও ক্যাপের ফাঁক দিয়ে তার ব্লিচ করা চুল দেখা যায়। এ থেকেই নেটিজেনদের ধারণা— পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমার নতুন লুক আড়াল করতেই এমন সতর্ক ছিলেন শাহরুখ খান।

    ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে সম্পূর্ণ ধূসর চুলের ভিন্নধর্মী লুকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা অভিনেতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ঘুরতে বের হওয়ার সময় শাহরুখ খানের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট। সাধারণ পোশাকে থাকলেও ভক্তদের আগ্রহ এড়াতে পারেননি তিনি। কয়েকজন ভক্ত-অনুরাগীর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এ অভিনেতা।

    এ ছাড়া লন্ডনে শাহরুখ খানের বাড়িও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তার বাড়ির সামনে ভিড় করছেন অসংখ্য ভক্ত। অনেকেই সেখানে ছবি ও সেলফি ভিডিও ধারণ করছেন। দৃশ্যটি মুম্বাইয়ে শাহরুখের বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে ভক্তদের ভিড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সত্যিই কি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শাহরুখ?

    ভারতের নিট (এনইইটি) পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর-মন্তরে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি বলিউডের কয়েকজন তারকাও প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহরুখ খানের নামেও একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। তবে সেটির সত্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

    সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শাহরুখ খান একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। 

    সেখানে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষার বিরুদ্ধে নয়; বরং স্বচ্ছ, ন্যায্য ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

    ভাইরাল সেই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, দেশের কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি মানসিক ও নৈতিক সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

    তবে বিষয়টি যাচাই করে দেখা গেছে, শাহরুখ খানের ভেরিফায়েড এক্স একাউন্টে এমন কোনো পোস্ট নেই। অর্থাৎ, তার নামে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটটি ভুয়া। জানা গেছে, এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী শাহরুখের নামে ওই পোস্টটি তৈরি করে শেয়ার করেন। পরে সেটিই দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ঘটনাটি সামনে আসার পর শাহরুখের ভক্তরা ভুয়া পোস্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভুয়া তথ্য প্রচারের সমালোচনা করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, নিট প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে বলিউডের কয়েকজন তারকা প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানালেও শাহরুখ খান এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে তার নামে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • গৌরীর সঙ্গে সংসার শুরু করা সেই বাড়িটি কিনলেন শাহরুখ

    বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান এ মুহূর্তে ‘কিং’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এর মধ্যেই তার জীবনের এক বিশেষ স্মৃতি আবারও ফিরে পেলেন তিনি। সম্প্রতি বাদশাহ দিল্লির পঞ্চশীল পার্কের একটি বাড়ি কিনে নিয়েছেন। যে বাড়িটি তার সংসার জীবনের শুরু। সেই বাড়িটি কত টাকায় কিনলেন বাদশাহ?

    ১৯৯১ সালে বিয়ের পর সেই বাড়িতেই স্ত্রী গৌরী খানের সঙ্গে প্রথম সংসার শুরু করেছিলেন শাহরুখ খান। এর আগে সেই বাড়ির কিছু অংশ কিং খান পরিবারের মালিকানায় থাকলেও বাকি অংশ অন্য মালিকের ছিল। যে বাড়িটির আংশিক তার ছিল। এবার বাকি অংশ কিনে সম্পূর্ণ মালিকানা নিজের করে নিলেন তিনি। এর আগে গত বছর শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানও সেই একই ভবনের কয়েকটি তলা কিনেছিলেন।

    জানা গেছে, শাহরুখ খানের জীবনের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং অভিনয়জীবনের শুরুর লড়াই। ১৯৯১ সালে গৌরী খানকে বিয়ে করার পর মুম্বাইয়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার আগে সেই বাড়িতেই কিছু দিন একসঙ্গে ছিলেন এ তারকা দম্পতি। সে কারণে ওই বাড়িটি শুধু একটি সম্পত্তি নয়, শাহরুখ-গৌরীর দাম্পত্য জীবনের প্রথম অধ্যায়েরও সাক্ষী; একটি স্বপ্নে আঁকা স্মৃতি।

    শাহরুখ খান পরিবারের মালিকানাধীন কিছু থাকলেও অন্য মালিকের বাকি অংশ কিনে নেন তিনি। প্রায় ৩৭ কোটি টাকায় পুরো অংশও কিনে নেওয়ায় ভবনটির মালিক এখন সম্পূর্ণভাবে বাদশাহর হাতে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সুহানার প্রথম সিনেমা ‘কিং’-এর বাজেট ৪৫০ কোটি রুপি, যে চমক থাকছে

    বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানকে দীর্ঘ তিন বছর পর আবার শীতের মৌসুমে বড়পর্দায় দেখা যাবে ‘কিং’ সিনেমার মাধ্যমে। এ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে শাহরুখকন্যা সুহানা খানের। বর্তমানে ‘কিং’ সিনেমার শুটিং চলছে জোরকদমে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে ‘কিং’ সিনেমাটি।

    প্রথমবার মেয়ে সুহানা খানকে সঙ্গী করে প্রায় ১৫০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করছেন শাহরুখ খান। আগস্টে শুটিং শেষ হওয়ার পর শুরু হবে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। মেয়ে সুহানা খানের বড়পর্দায় ডেবিউ সিনেমা এটি। তাই নিজের সবটা উজাড় করে দিচ্ছেন বাবা শাহরুখ খান। 

    জানা গেছে, গৌরী খান প্রযোজিত ও সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এ সিনেমার বাজেট  ৪৫০ কোটি রুপি। সিনেমার সংগীত পরিচালনায় সচিন-জিগর। অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং পরিচালনা করবেন আন্তর্জাতিক স্টান্ট দলের সদস্যরা। 

    জানা গেছে, শুরুতে যে মানের সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তার চেয়ে অনেক বড়মাপের সিনেমা তৈরি করা হচ্ছে। বলিউডে এমন অ্যাকশন দৃশ্য নাকি এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ‘কিং’ সিনেমার ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বা ভিএফএক্সের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এ কাজের দায়িত্ব নিয়েছে শাহরুখ খানের প্রযোজনা সংস্থা ‘রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট’। এ সিনেমার মাধ্যমেই সুহানা খানকে লঞ্চ করতে চলেছেন বাদশাহ। তাই কোনো খামতি রাখতে চান না তিনি।

    এটি শাহরুখের ক্যারিয়ারেও সাম্প্রতিক সময়ের নিরিখে সবচেয়ে বড় বাজেটের সিনেমা। এর আগে ‘জওয়ান’ সিনেমাটি ৪০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত হয়েছিল। আর ‘পাঠান’ সিনেমার বাজেট ছিল ৩৫০ কোটি রুপি। 

    সূত্রের খবর, ‘কিং’ সিনেমাটি বাজেটের দিক থেকে ‘জওয়ান’-কেও টেক্কা দেবে। কারণ প্রায় ৪৫০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত হচ্ছে। প্রচারের খরচ ও শাহরুখ খানের পারিশ্রমিক যদিও এই ৪৫০ কোটি রুপির মধ্যে ধরা হয়নি।

    উল্লেখ্য, এর আগে ‘কিং’ নামে একটি সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। কবীর খানের পরিচালনায় হৃতিক রোশন ছিলেন মুখ্য চরিত্রে। পরে সেই সিনেমা আর হয়নি। তখন নাদিয়াদওয়ালা এর ‘রাইট’ বিক্রি করেন রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের কাছে। এ সিনেমার পোস্টার মুক্তির পর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। 

    বাদশাহ শাহরুখ খান, সুহানা খান ছাড়াও এ সিনেমায় আরও অভিনয় করতে দেখা যাবে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন, রানি মুখার্জি, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, খরাজ মুখার্জি প্রমুখ। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সুহানাকে হাতে ধরে অভিনয় শেখাচ্ছেন শাহরুখ খান: খরাজ মুখার্জি

    বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান স্বমহিমায় বড়পর্দায় ফিরছেন। আগামী ডিসেম্বরেই আসছে সিনেমা ‘কিং’। ২০২৩ সালে পরপর তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল বাদশাহর। প্রায় তিন বছর পর মুক্তি পাবে তার অ্যাকশনে ভরপুর সিনেমা ‘কিং’। তোড়জোড় চলছে জোরকদমে। এ সিনেমা দিয়েই মেয়ে সুহানা খানের বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে। যে চারজন চিত্রনাট্য লিখছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ‘কাহানি’খ্যাত সুজয় ঘোষ। 

    এ সিনেমায় অভিনয় করছেন বাঙালি অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। কিছু দিন আগেই মুম্বাইয়ে শুটিং করে ফিরেছেন তিনি। ‘কিং’ সিনেমার শুটিংয়ের শেষে বাদশাহর কাছে কিছু একটা আবদারও করে বসেন খরাজ মুখার্জি। সেই আবদার পূরণ করেছিলেন ছিলেন কি শাহরুখ খান? 

    সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে সেই আবদার পূরণ ছাড়াও ‘কিং’ সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন টালিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। 

    তিনি বলেন, অসাধারণ অভিজ্ঞতা। দারুণ মানুষ শাহরুখ খান। কাজ পাগল মানুষ, কাজ ছাড়া কিছুই বোঝেন না তিনি। যতক্ষণ সেটে আছেন, অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনাও করেন না। জোরে কথাও বলেন না। তাই অন্যরাও একেবারে চুপ করেই কাজ করে থাকেন। ওর শুটিং শুরু হয় দুপুর ২টা থেকে। রাত ২টা পর্যন্ত চলে শুটিং। আমার জন্য সেটি খুবই সুবিধা হয়েছিল বলে জানান এ কৌতুক অভিনেতা।

    ‘কিং’ সিনেমার মাধ্যমেই সুহানাকে বড়পর্দায় ‘লঞ্চ’ করছেন শাহরুখ খান বলে জানিয়েছেন খরাজ মুখার্জি। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক কেমন জানতে চাইলে এ অভিনেতা বলেন, মেয়ের প্রথম সিনেমা বলে পুরোটাই গাইড করছেন শাহরুখ খান। খুব কেয়ারিং। মেয়েকে সবটাই অভিনয় করে দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি। 

    তিনি বলেন, শুয়ে থাকার একটা দৃশ্য আছে সুহানার। সেটার শুটিং হচ্ছে। সেই সময় শোয়ার ভঙ্গিও নিজে অভিনয় করে দেখিয়ে দিলেন শাহরুখ খান। মাথাটা কীভাবে হেলিয়ে রাখতে হবে, সবটা দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি। বাবার সত্তা তো কাজ করছেই। অভিনেতা হিসেবে যাতে সুহানার কোনো ত্রুটি না থাকে, সেই দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বাদশাহ বলে জানান খরাজ মুখার্জি। 

    তিনি বলেন, সুহানার সঙ্গেই বেশিরভাগ দৃশ্য ছিল আমার। শাহরুখজির সঙ্গেও দৃশ্য শেয়ার করেছি। তিনি প্রশংসা করেছেন— এটাই প্রাপ্তি।

    প্রথমার্ধের শুটিং শেষে কলকাতা ফিরে এসেছিলেন অভিনেতা। শাহরুখ-সুহানা পোল্যান্ড গিয়েছিলেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুটিংয়ে আবার গিয়েছিলেন খরাজ। তিনি বলেন, আমার শুটিং শেষের দিন দেখা করে আমি বললাম— আপনি তো চরিত্রের লুকে আছেন। তাই ছবি তো তোলা যাবে না। আপনার একটা অটোগ্রাফ পাওয়া যাবে কি? আমি তাহলে স্মৃতিটুকু আমার কাছে রেখে দেব। নিজে থেকেই এগিয়ে এসে শাহরুখ বললেন, অবশ্যই! অটোগ্রাফ দিলেন। 

    সুজয় ঘোষ এ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন। তিনিই আমার কথা শাহরুখকে বলেছিলেন। ‘কিং খান’ এ-ও বললেন, ‘আপনার অভিনয়ের প্রশংসা শুনেছি।’ আমিও ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে বললাম, ‘খুব ভালো অভিজ্ঞতা হলো, আরও কাজ করার ইচ্ছা রইল আপনার সঙ্গে।’ 

    মজা করে এও বললাম— আর এই যে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করলাম, এটা তো অনেকের কাছেই স্বপ্ন, আমিই না ঈর্ষার কারণ হয়ে যাই।’ শুনে হেসে ফেললেন শাহরুখ খান। এতটাই বিনয়ী যে, তিনি বললেন— ‘না না একেবারেই নয়’।

    চরিত্রটি নিয়ে খুব একটা খোলাসা করেননি অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। বলাই যায়, বাদশাহর সেটে দারুণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ফিরেছেন তিনি। এখন অপেক্ষা সিনেমা মুক্তির। ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে গৌরী খান প্রযোজিত ও শাহরুখ অভিনীত অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা ‘কিং’।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘স্বামীর চেয়েও আপনাকে বেশি ভালোবাসি’

    বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান। সারা বিশ্ব তার অসংখ্য ভক্ত-সমর্থক রয়েছে। পর্দায় তার ছবি মানেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। ষাটোর্ধ্ব হওয়ার পরেও তাকে দেখে অনুরাগীরা মুগ্ধ।

    সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন শাহরুখ খান। গতকাল (২৫ জুন) মেঙ্গালুরুর একটি অনুষ্ঠানে তাকে দেখে অনুরাগীর প্রতিক্রিয়া এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে।

    সাদা টি-শার্টের উপরে কালো জ্যাকেট, কালো প্যান্ট। হাতে চামড়ার বেল্ট দেওয়া ঘড়ি, চোখে কালো রঙের রোদচশমা, এক কানে দুল। ছিমছাম সাজে উপস্থিত ছিলেন শাহরুখ। তার ব্যক্তিত্বেই যেন অনুরাগীরা আলোকিত হয়ে ওঠেন মুহূর্তে। মেঙ্গালুরুর বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানে পৌঁছোনোর রাস্তা পর্যন্তও শাহরুখকে নিয়ে মেতেছিলেন অনুরাগীরা।

    বলিউডের বাদশা মঞ্চে ওঠার পরে সেই উন্মাদনা দ্বিগুণ হয়। মঞ্চ থেকে দর্শকের সঙ্গে কথোপকথন সারেন শাহরুখ। নিজের জনপ্রিয় কিছু গানের সঙ্গে পা-ও মেলান। এ সবের মধ্যেই এক অনুরাগিণী দর্শকাসন থেকে শাহরুখকে প্রেমপ্রস্তাব দেন।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক অনুরাগী দর্শকাসন থেকে শাহরুখকে দেখে চিৎকার করছেন। অবশেষে তিনি চেয়ারের উপর উঠে চেঁচিয়ে বলতে থাকেন, ‘আমি তোমাকে ভালবাসি।’ 

    প্রথমে শাহরুখ খান শুনতে পাননি। তখন অনুরাগিণীর হাতে মাইক দেওয়া হয়। মাইকে আবার সেই অনুরাগিণী বলেন, ‘আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। আমার স্বামীর চেয়েও আপনাকেই বেশি ভালোবাসি।’

    এই কথা শুনে প্রথমে হাসেন শাহরুখ। তার পরে চেনা কায়দায় রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘আরে এই কথাটা তো গোপনে বলতে হত।’ 

    তারপর শাহরুখ খান বলেন, ‘এটা তো একটা কথা মাত্র। তবে আমি তোমার অনুভূতি বুঝতে পারছি। আমি নিশ্চিত, তোমার স্বামীও তোমাকে খুব ভালোবাসে। আমি তোমাদের সকলকে খুব ভালোবাসি। তোমার স্বামীকেও আমি খুব ভালোবাসি। তোমার গোটা পরিবারকে অনেক ভালোবাসা। অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাদের জন্য।’

    এই অনুষ্ঠানেই আর এক অনুরাগী প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি অভিনেতা না হলে কী হতেন?’ উত্তরে শাহরুখ বলেন, ‘আমি মেঙ্গালুরুর মতো একটি শহরে থাকতে পারলে খুব খুশি হতাম। হয়তো আমি একজন শিক্ষক হতাম।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • শাহরুখ-দীপিকার বিরুদ্ধে আইনজীবীর মামলা

    একটি হুন্ডাই আলকাজার গাড়িকে কেন্দ্র করে এক অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রীতিমতো আলোচনার ঝড় উঠেছে। 

    এক্স (সাবেক টুইটার)-এ খান্না নামের এক ব্যবহারকারী এই ঘটনার বিস্তারিত শেয়ার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, যেখানে দুই বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনেরও নাম জড়িয়ে গেছে। 

    জানা গেছে, কীর্তি সিং নামের রাজস্থানের এক আইনজীবী প্রায় ২৪ লাখ টাকা দিয়ে একটি হুন্ডাই আলকাজার এসইউভি কিনেছিলেন। তবে গাড়িটি কেনার পর থেকেই তিনি বেশ কিছু গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন, যা গাড়ির পারফরম্যান্সের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। 

    অভিযোগ উঠেছে, গাড়িটিতে ইঞ্জিন ভাইব্রেশন (কম্পন), এক্সিলারেট করার সময় পাওয়ার লস (গতি কমে যাওয়া) এবং ওভারটেক করার সময় নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছিল। আইনজীবী কীর্তি সিংয়ের মতে, এই ত্রুটিগুলো গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছিল। এই বিষয়ে তিনি কোম্পানির কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানালেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাননি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত হুন্ডাই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে মামলার অন্য একটি দিক। আইনজীবী কীর্তি সিং এই মামলায় হুন্ডাইয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত থাকা বলিউডের দুই মেগাস্টার—শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোনকেও বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

    ভাইরাল হওয়া পোস্টে লেখা হয়, ‘ভাবুন একবার, গাড়ি কিনলেন আর শেষমেশ মামলা ঠুকে দিলেন বিজ্ঞাপনের তারকাদের নামে!’ 

    এই অদ্ভুত মামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

    এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের বিরুদ্ধে মামলা করার আইডিয়াটা শুনতে ভালোই লাগে, কিন্তু আদালত আদৌ তারকাদের বিরুদ্ধে এই মামলা গ্রহণ করবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’ 

    অন্য একজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘গাড়ি কেনার পর শাহরুখ খান আর দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বেন—এমন কিছু তো আর গাড়ির ইউজার ম্যানুয়ালে লেখা থাকে না!’ 

    তৃতীয় এক ব্যবহারকারী আবার আইনজীবীর এই কৌশলকে সমর্থন করে হিন্দি প্রবাদ টেনে লিখেছেন, ‘হয়তো এর পরেই হুন্ডাই কীর্তি সিংকে সঠিক জবাব দিয়েছে। কখনো কখনো সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে, আঙুল বাঁকা করতেই হয়।’ 

    তবে সবাই যে এই অভিযোগগুলো সত্য বলে মেনে নিচ্ছেন তা নয়। সন্দেহ প্রকাশ করে এক ব্যবহারকারী তীব্র ভাষায় লিখেছেন, ‘ইঞ্জিন ভাইব্রেশন আর এক্সিলারেশনের সময় পাওয়ার লস? কী সব ফালতু কথা! এগুলো বানিয়ে বলা সমস্যা। এই আইনজীবীদের হাতে কোনো কাজ না থাকলে নিজেদের প্রচারের জন্য বিনাকারণেই মানুষকে আদালতে টেনে নিয়ে যায়।’ 

    বিপরীতে অনেকেরই মত, যেসব তারকারা বড় বড় ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা নেন, পণ্যের মান খারাপ হলে তাদেরও কিছুটা দায়ভার নেওয়া উচিত। 

    সূত্র: নিউজ১৮

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফুটবলপ্রেমী শাহরুখ যেভাবে ‘কেকেআর’র মালিক হলেন

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। যদিও এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ভিত্তিপ্রস্তর কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করপোরেট বোর্ডরুমে কিংবা কলকাতায় স্থাপিত হয়নি; এর বীজ রোপিত হয়েছিল জয়পুরের একটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। 

    ঘটনাটি ঘটেছিল সেদিন, যেদিন গ্যালারির হাজার হাজার দর্শককে উন্মাতাল হতে দেখেছিলেন ললিত মোদি—আর এর নেপথ্যে কোনো ক্রিকেটার ছিলেন না, ছিলেন স্বয়ং বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। 

    সম্প্রতি হিউম্যানস অব বোম্বে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইপিএলের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বিসিসিআই-এর সাবেক সহ-সভাপতি ললিত মোদি টুর্নামেন্টের অন্যতম জনপ্রিয় এই দলটির শুরুর গল্প শুনিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উন্মোচন করেছেন, কীভাবে ক্রিকেট সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ এবং ফুটবলপ্রেমী এক বলিউড তারকাকে এমন একটি দল কিনতে রাজি করানো হয়েছিল, যার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত অর্থও সে সময় তার সঞ্চয়ে ছিল না। 

    ললিত মোদি সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি যখন বিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি, তখন শাহরুখকে রাজস্থানের একটি ম্যাচ দেখতে নিয়ে যাই। জয়পুরের মাটিতে সেটিই ছিল প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আইপিএল শুরুর প্রায় এক বছর আগের ঘটনা এটি। মাঠে শাহরুখ পা রাখামাত্রই পুরো গ্যালারি যেভাবে ফেটে পড়েছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য। চোখের পলকে সে ম্যাচের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়।’ 

    দর্শকদের এই অভাবনীয় উন্মাদনা ললিত মোদির মনের একটি ধারণাকে শতভাগ নিশ্চিত করে দেয়—ভারতবর্ষে যদি ক্রিকেট ও বলিউডকে এক সুতোয় গাঁথা যায়, তবে এমন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ তৈরি করা সম্ভব যা ভারতীয় টেলিভিশনের প্রাইম-টাইম বা মূল সম্প্রচার সময়কে পুরোপুরি শাসন করতে পারবে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে বিসিসিআই-এর মাধ্যমে ললিত মোদি ইতোমধ্যেই ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞাপন বাজার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিলেন। তবে আইপিএল নিয়ে তার চ্যালেঞ্জটা ছিল একদমই ভিন্ন। বর্তমান বিশ্বের সেরা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগটিকে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে হতো ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় ‘শাশুড়ি-বউ’ ধারার ধারাবাহিক নাটকগুলোর সঙ্গে, তাও আবার রাত ৮টার সবচেয়ে মূল্যবান স্লটে। 

    মোদি বলেন, ‘ভারতে মূলত দুটি জিনিস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়—ক্রিকেট এবং বলিউড। ক্রিকেটীয় বিজ্ঞাপনের টাকা আমি আগেই বিসিসিআই-এর জন্য নিশ্চিত করেছিলাম। আর বাকি সব বড় বড় ব্র্যান্ডের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেট যাচ্ছিল বিনোদন দুনিয়ায়। আইপিএলকে সফল করতে আমার রাত ৮টার ওই স্লটটি দরকার ছিল। ক্রিকেটকে এর আগে কখনো রাতের প্রাইম-টাইম প্রোডাক্ট হিসেবে ভাবা হয়নি। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও দিনের আলোতেই হতো। রাতের বেলা এই মেগা ইভেন্ট নামানোটা ছিল এক বিশাল ঝুঁকি।’ 

    ললিত মোদি হিসাব কষে দেখলেন, দলগুলোর মালিকানায় যদি তারকাদের রাখা যায়, তবে কেবল ক্রিকেটপ্রেমীরাই নন, বরং বিনোদন দুনিয়ার বিশাল দর্শক শ্রেণিও খেলা দেখতে মাঠ ও টেলিভিশনের পর্দায় ভিড় জমাবে। আর এই ভাবনায় তার প্রথম পছন্দই ছিলেন শাহরুখ খান।

    তবে পরিকল্পনার মাঝে বড় একটি বাধা ছিল—শাহরুখ খান মোটেও ক্রিকেটের ভক্ত ছিলেন না।

    ললিত মোদি হেসে বলেন, ‘দল মালিকানার জন্য শাহরুখের চেয়ে যোগ্য আর কে হতে পারত? কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, শাহরুখ ক্রিকেট পছন্দ করতেন না এবং খেলাটি ভালো বুঝতেনও না। তিনি ছিলেন মূলত ফুটবলের ভক্ত। আমি যখন তাকে দল কেনার প্রস্তাব দিই, তিনি বেশ দ্বিধায় পড়ে যান এবং বলেন, ‘আমি তো ক্রিকেট বুঝি না।’ আমি তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলাম, ফুটবল নিয়েই থাকুন, ক্রিকেট ও সঠিক দল গোছানোর দায়িত্ব আমার।’ 

    এরপরের বাধাটি ছিল আর্থিক। শাহরুখ জানতে চেয়েছিলেন, ‘আমি যদি নিলামে দল পেয়েও যাই, তবে আমাকে কত রুপি দিতে হবে?’ মোদি জানান, প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট হিসেবে লাগবে ২০ কোটি রুপি। শুনে শাহরুখের চটজলদি উত্তর ছিল, ‘কিন্তু এটা তো আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ!’ 

    এই আর্থিক জটিলতার একটি দারুণ ও সময়োপযোগী সমাধান বের করেন ললিত মোদি। সেই সময়ে মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারের শীর্ষ ব্র্যান্ড ‘নকিয়া’ দীর্ঘদিন ধরে শাহরুখকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পেতে চাচ্ছিল, কিন্তু শাহরুখ তাতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। 

    ললিত মোদি এই সুযোগটি কাজে লাগান। তিনি বলেন, ‘শাহরুখের ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ আমার ছিল না। তাই আমি সরাসরি নকিয়াকে প্রস্তাব দিই—শাহরুখ যদি একটি দল কেনেন, তবে তারা সেই দলের জার্সির প্রধান স্পনসর হবে কিনা? আমি তাদের গ্যারান্টি দিয়েছিলাম যে শাহরুখ স্বয়ং তাদের লোগো সম্বলিত জার্সি ও ক্যাপ পরবেন। বিনিময়ে তাদের কাছে ৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০ কোটি রুপি) অগ্রিম দাবি করি। তারা এক বাক্যে রাজি হয়ে যায়।’ 

    সে সময়ে এই দূরদর্শী চুক্তি সবার জন্যই এক দারুণ সমীকরণ নিয়ে আসে। নকিয়ার জন্য শাহরুখের দলের স্পনসর হতে পারাটা ছিল বিশাল ব্র্যান্ডিং, আবার নকিয়ার অগ্রিম টাকার কারণে শাহরুখের পকেট থেকে কোনো বাড়তি টাকাই খরচ হলো না। ললিত মোদির ভাষায়, ‘সে মূলত একদম বিনামূল্যে দলটি পেয়ে গিয়েছিল।’ 

    আর এই পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল মাত্র এক দিনের ব্যবধানে। দুপুর ১২টায় শাহরুখ দল কেনার চেকে সই করেন, আর বিকেলের মধ্যেই নকিয়া কেকেআর কনসোর্টিয়ামের স্পনসরশিপের অগ্রিম চেকটি বুঝিয়ে দেয়। 

    পরবর্তীতে জুহি চাওলা এবং ব্যবসায়ী জয় মেহতার যৌথ মালিকানায় কলকাতা নাইট রাইডার্স বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয়, বাণিজ্যিকভাবে সফল এবং একাধিক শিরোপাজয়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর এভাবেই ক্রিকেট না বোঝা এক ফুটবলপ্রেমী মালিকের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় কেকেআরের। 

    সূত্র: এমএসএন 

    বিনোদন ডেস্ক