পাকিস্তানি টিকটকার আয়েশাকে গুলি করে হত্যা, নেপথ্যে যা জানা গেল

Written by

in

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ২৬ বছর বয়সি এক টিকটকারকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারী। শামসু বিবি (যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামনা’ নামে পরিচিত) আর্থিক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য প্রিন্টের। 

পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিহতের ভাই নিয়ামাতুল্লাহ জানান, তারা ন্যায়বিচারের জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজ শরিফের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে নারীদের ওপর চলমান সহিংসতার বিষয়টি আবারও জোর আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি বাজারে একটি গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে তারা আয়েশার গাড়ির কাছাকাছি এসে ভেতরে একাধিক গুলি চালায় এবং স্থান ত্যাগ করে। 

মৃত্যুর পর আয়েশার টিকটক অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যেখানে তার ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১৩ লাখেরও বেশি। রাওয়ালপিন্ডি-ইসলামাবাদ অঞ্চলে টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণীদের লক্ষ্য করে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিক ঘটনায় এটি নতুন সংযোজন।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

আয়েশার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্বতন্ত্র পাকিস্তানি সাংবাদিক আম্মারা আহমেদ সংবাদ পরিবেশনায় দেখা যাওয়া অসংবেদনশীলতা এবং নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করেছেন। 

একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ তার জানাজায় মানুষের কম উপস্থিতি নিয়ে ব্যঙ্গ করে লেখে, ‘১৩ লাখ ফলোয়ার থাকার পরও তার জানাজায় খুব অল্প মানুষ উপস্থিত ছিল, যা সোশ্যাল মিডিয়ার আসল চেহারা তুলে ধরে।’ 

এই প্রসঙ্গে আম্মারা আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘পাকিস্তানি নারীরা মৃত্যুর পরও ন্যুনতম সম্মান পান না। শামসু বিবি ট্যাক্সিলায় নিহত একজন তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পেজের শিরোনাম হলো এটি! ছবিগুলো তার আসল জানাজার কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে যিনি বা যারা এটি পোস্ট করেছেন তাদের জন্য লজ্জা।’ 

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *