Tag: হত্যা

  • পাকিস্তানি টিকটকার আয়েশাকে গুলি করে হত্যা, নেপথ্যে যা জানা গেল

    পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ২৬ বছর বয়সি এক টিকটকারকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারী। শামসু বিবি (যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামনা’ নামে পরিচিত) আর্থিক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য প্রিন্টের। 

    পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিহতের ভাই নিয়ামাতুল্লাহ জানান, তারা ন্যায়বিচারের জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজ শরিফের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

    এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে নারীদের ওপর চলমান সহিংসতার বিষয়টি আবারও জোর আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি বাজারে একটি গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে তারা আয়েশার গাড়ির কাছাকাছি এসে ভেতরে একাধিক গুলি চালায় এবং স্থান ত্যাগ করে। 

    মৃত্যুর পর আয়েশার টিকটক অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যেখানে তার ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১৩ লাখেরও বেশি। রাওয়ালপিন্ডি-ইসলামাবাদ অঞ্চলে টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণীদের লক্ষ্য করে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিক ঘটনায় এটি নতুন সংযোজন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আয়েশার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্বতন্ত্র পাকিস্তানি সাংবাদিক আম্মারা আহমেদ সংবাদ পরিবেশনায় দেখা যাওয়া অসংবেদনশীলতা এবং নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করেছেন। 

    একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ তার জানাজায় মানুষের কম উপস্থিতি নিয়ে ব্যঙ্গ করে লেখে, ‘১৩ লাখ ফলোয়ার থাকার পরও তার জানাজায় খুব অল্প মানুষ উপস্থিত ছিল, যা সোশ্যাল মিডিয়ার আসল চেহারা তুলে ধরে।’ 

    এই প্রসঙ্গে আম্মারা আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘পাকিস্তানি নারীরা মৃত্যুর পরও ন্যুনতম সম্মান পান না। শামসু বিবি ট্যাক্সিলায় নিহত একজন তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পেজের শিরোনাম হলো এটি! ছবিগুলো তার আসল জানাজার কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে যিনি বা যারা এটি পোস্ট করেছেন তাদের জন্য লজ্জা।’ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহ হত্যা মামলার রাজসাক্ষীর বক্তব্যের পালটা জবাব দিলেন শাবনূর

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজের বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ঢালিউডের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহকে। সেই মৃত্যু নিয়ে এখনো চলছে চর্চা। মামলাও রয়েছে চলমান। সালমান শাহর মৃত্যুর পর এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। সেই সময় রাজসাক্ষী হয়ে ‘সালমান শাহ’কে হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনের সঙ্গে নিজেও দায়ী বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন তিনি। 

    সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ প্রসঙ্গে বারবার শাবনূরের নাম টেনে এনেছেন রিজভী আহমেদ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী অভিনেত্রী। শনিবার (৮ আগস্ট) দীর্ঘ এক ফেসবুক বার্তায় সেই ঘটনা প্রসঙ্গে বিশদ এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন শাবনূর।

    সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে  ‘রিজভীর গালগল্প ও অসত্য বয়ান’ শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই স্ট্যাটাসে শাবনূর লিখেছেন— সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায় সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী (বিল্টু)-কে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। 

    তিনি বলেন, ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দি ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে— কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছু দিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়। পরে সেখানে অবস্থানকালে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় সে আবারও সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ২০১৯ সালে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘সময় টিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দাবি করে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিল। 

    অভিনেত্রী বলেন, আশ্চর্যের বিষয়— সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছু দিন আগে ‘আরজে নীরব’ ও ‘সময় টিভি’কে দেওয়া দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারেও সে আবার একই দাবি করে যে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তাই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং আমাকেও ওই ঘটনার জন্য বারবার দায়ী করে কথা বলে।

    তাহলে রিজভীর কোন বক্তব্য সঠিক প্রশ্ন করে শাবনূর বলেন, একই ব্যক্তি যখন সময়ে সময়ে একই ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়, তখন তার সর্বশেষ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। 

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে প্রকাশিত তার দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে সে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক অসঙ্গগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে সবার কাছেই সেগুলো সাংঘর্ষিক, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হবে। 

    অভিনেত্রী বলেন, সম্প্রতি ‘আরজে নীরব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে— আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে কোনো দিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসতো যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল এবং এখনো চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— প্রায় একই সময়ে ‘সময় টিভি’কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে— আমি নাকি তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ছিলাম। 

    শাবনূর বলেন, শুধু তাই নয়, সে আরও দাবি করেছে যে, ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়! এখন প্রশ্ন হলো— সে তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে এবং তার নিজের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। আর আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো, কীভাবে হলো? এর প্রমাণই বা কী? 

    অভিনেত্রী বলেন, আরও মজার বিষয় হচ্ছে— সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগ থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনো দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’-ই হয়েছিল!

    শাবনূর রিজভীকে আগে থেকে চিনতেন না। সালমান শাহর মৃত্যুর পর রাজসাক্ষী হওয়ার ঘটনায় সেই ব্যক্তির নাম প্রথম শোনেন বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।  তিনি বলেন, রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে, আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম এবং তার আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভীর নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। 

    অভিনেত্রী বলেন, তাহলে প্রশ্ন হলো— সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে, আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম? রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামী করতাম বা সালমান ও তার স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। 

    এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানান শাবনূর। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনো দিন বলতে পারবেন না যে, আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামী করেছি।

    এ ছাড়া ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে যাওয়া, সেখানে বাড়ি কেনা কিংবা সালমান খান ও শাহরুখ খানদের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়াসহ বিভিন্ন দাবি করেছেন রিজভী। এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী (আন্টি) তার ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে পুনরায় মামলা করার পর, ওই মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার মোড় ঘুরে যাওয়ার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আমার ধারণা— তাদের প্ররোচনায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য— এমনকি আর্থিক প্রলোভনে পড়েও রিজভী আহমেদ আমার ও নীলা আন্টির বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 

    তিনি বলেন, নিজেদের রক্ষা করা এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করাই হয়তো তাদের উদ্দেশ্য। আমি বরাবরের মতোই স্পষ্ট করে বলতে চাই— সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সংযোগ ছিল না। তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। 

    শাবনূর বলেন, সালমান শাহ শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ। তার অকাল মৃত্যু আজও আমাকে ব্যথিত করে।

    ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি করে অভিনেত্রী বলেন, আমি আন্তরিকভাবে চাই, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

    সবশেষে শাবনূর বলেন, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ ছিল না— এখনো নেই। সে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত মানহানিকর।  

    উল্লেখ্য, অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় করা হত্যা মামলায় মোট ১১ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার আসামিদের তালিকায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্র খলঅভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড জাভেদ ফারুক রুবী, আব্দুস ছাত্তার সাজু, রিজভি আহমেদ ফরহাদ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের জ্যোতিকা

    টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ এবং আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ তারকাদের মধ্যে অন্যতম এক অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। যিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত এবং হোয়াটসঅ্যাপের ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। আর এ অভিনেত্রী এবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতিকা জানান― দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অনলাইনে হয়রানি ও কাজের সংকটে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত তিনি। আর একপর্যায়ে এ অভিনেত্রী বলেন, আমি আর পারছি না।

    জ্যোতিকা শুরুতেই বলেন, নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনার পর অনেক কথা বলি আমরা। কিন্তু যে মানুষটি এমন অবস্থার মধ্যে থাকে, তার কষ্ট শুধু তিনি নিজেই জানেন। আমি নিজেকে সবসময় শক্ত রাখার চেষ্টা করেছি, যা এখন আর পারছি না।

    তার দাবি―গত দুই বছর ধরে তেমন কোনো কাজ নেই তার। কিন্তু এই সময় নিয়মিত অনলাইনে হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কথাও জানান তিনি। বলেন, অনেক সময় মা-বাবার কাছ থেকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাকে অধিকতর মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এ সময় জ্যোতিকা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়ে যায়। তার ভাষ্য, তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে একাধিক পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন।রাজনৈতিক সংবাদ

    তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণ দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। নানা সময় তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। যা তার জন্য খুবই কষ্টের। আর এসব ঘটনার প্রভাব তার পেশাগত জীবনে পড়ছে বলেও জানিয়েছেন জ্যোতিকা।

    এ অভিনেত্রীর দাবি, তাকে নিয়ে কাজ করতে এখন অনেকেই ভয় পান। এ কারণে তার পেশাগত জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না। আবার আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবন একদম নরকের মতো হয়ে গেছে।

    এছাড়া লাইভের শেষ দিকে জ্যোতিকা বলেন, আমি হেল্পলেস। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। মনে হচ্ছে, আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।

    এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরেও আলোচনায় আসেন জ্যোতিকা জ্যোতি। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তাকে অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গায়িকাকে কানাডা থেকে এসে হত্যা

    টানা ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হলো ভারতের পাঞ্জাবের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইন্দর কৌর ওরফে যশিন্দর কৌরের (২৯) মরদেহ। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে লুধিয়ানার নীলো খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। 

    বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কানাডা প্রবাসী এক যুবক অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নেপাল রুট ব্যবহার করে ভারতে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই ঘটনা পুরো পাঞ্জাবি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে শোক ও স্তব্ধতার ছায়া ফেলে দিয়েছে। 

    নিহত গায়িকার ভাই যতিন্দর সিংয়ের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ মে রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ইন্দর কৌর তার ‘ফোর্ড ফিগো’ গাড়িতে করে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি, তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

    ইন্দরের এই রহস্যজনক নিখোঁজের পর তার পরিবার মোগা জেলার ভালোঁর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে। সুখবিন্দর দীর্ঘদিন ধরে ইন্দরকে বিয়ে করার জন্য মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে আসছিল। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ইন্দর ও সুখবিন্দরের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব হয়। তবে কিছুদিন আগে ইন্দর জানতে পারেন, সুখবিন্দর আসলে বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। এই সত্য জানার পর ইন্দর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তার বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পেরে সুখবিন্দর মনে মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন পুষে রেখেছিল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ইন্দরকে হত্যার উদ্দেশ্যে কানাডা থেকে একটি নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল সুখবিন্দর। সে কানাডা থেকে সরাসরি ভারতে না এসে প্রথমে নেপালে পৌঁছায়। এরপর নেপাল সীমান্ত দিয়ে অত্যন্ত গোপনে পাঞ্জাবে প্রবেশ করে।

    গত ১৩ মে রাতে সুখবিন্দর ও তার সহযোগীরা ইন্দর কৌরের গাড়িটি পথিমধ্যে আটকে বন্দুকের মুখে তাকে অপহরণ করে। এরপর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহটি নীলো খালে ফেলে দেওয়া হয়। অপরাধ ঘটানোর পরপরই সুখবিন্দর আবারও সেই একই নেপাল রুট ব্যবহার করে লুধিয়ানা থেকে পালিয়ে কানাডায় চলে যায়। 

    এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ও ধীরগতির তদন্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছে নিহত ইন্দরের পরিবার। গায়িকার ভাই জানান, গত ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং এবং তার সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট তথ্যসহ এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ যদি নিখোঁজের পরদিনই তৎপর হতো এবং সময়মতো পদক্ষেপ নিত, তবে হয়তো ইন্দরকে আজ জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো। 

    পুলিশ ইতোমধ্যে খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সমরালার সিভিল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। জামালপুর থানার এসএইচও বলবীর সিং জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

    পলাতক মূল আসামি সুখবিন্দরকে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে থাকা তার বাকি সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালাচ্ছে। 

    সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে 

    বিনোদন ডেস্ক

  • হ্যালোইন পার্টি শেষে ব্রিটিশ মডেলকে নির্মমভাবে হত্যা

    ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারে হ্যালোইন পার্টি শেষে ফেরার পথে ৩৬ বছর বয়সি পুরুষ মডেল লুক হার্ডেন নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাকআপ এলাকায় গত বছরের ১ নভেম্বর ভোরে এই ঘটনাটি ঘটে।

    প্রসিকিউটরদের মতে, হামলাটি এতই আকস্মিক ছিল যে, হার্ডেন নিজেকে রক্ষা করার ন্যূনতম সুযোগ পাননি। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২৬ বছর বয়সি ভেকি সানি মাতাবিসওয়ানা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

    বর্তমানে প্রিস্টন ক্রাউন কোর্টে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

    আদালতে পেশ করা তথ্যানুযায়ী, ঘটনার রাতে লুক হার্ডেন এবং অভিযুক্ত মাতাবিসওয়ানা উভয়ই স্ট্যাকস্টেডসের ‘রোজমাউন্ট ওয়ার্কিং মেনস ক্লাব’-এ একটি হ্যালোইন পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা পূর্ব পরিচিত ছিলেন না।

    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হার্ডেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় টলমল পায়ে ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। রাত বারোটার কিছু আগে নিউচার্চ রোডে তাদের দুজনের দেখা হয়।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো উসকানি ছাড়াই হার্ডেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন মাতাবিসওয়ানা। তাকে মাটিতে ফেলে মাথায় সজোরে লাথি মারা হয়। 

    প্যাথলজিস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, হার্ডেন মাথায় এবং মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন, যার ফলে তার মাথার খুলিতে ফাটল ধরে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি জরুরি সেবা সংস্থাকে ফোন করতে পারেননি।

    প্রসিকিউটররা আদালতকে জানিয়েছেন, ঘটনার দুই দিন পর অভিযুক্ত মাতাবিসওয়ানা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। 

    আদালতে অ্যালকোহল এবং কেটামিন ও কোকেনের মতো মাদক সেবনের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে।

    অভিযুক্ত মাতাবিসওয়ানা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করলেও মামলার বিচার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। জুরি বোর্ড বর্তমানে বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। 

    সূত্র: জিও নিউজ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহ হত্যা মামলা: আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে যা বলল পুলিশ

    বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর নতুন মোড় নিয়েছে তার আলোচিত মামলা। আদালতের নির্দেশে আত্মহত্যা নয়, এবার এটি ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    গত সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালেই রমনা থানা পুলিশ ১১ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে নামে। ইতোমধ্যে আসামিদের দেশত্যাগে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

    সালমান হত্যার আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম ফারুক বলেন, ‘সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন দেশের বাইরে আছেন। যারা দেশে আছেন তাদের অবস্থান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

    এদিকে সালমানের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সে রাতের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি রেজভী আহমেদ ফরহাদ। এরপরই নতুন করে আলোচনায় আসে দীর্ঘ ২৮ বছর আগে ১৯৯৭ সালের রেজভীর দেওয়া একটি জবানবন্দি।

    ওই জবানবন্দিতে রেজভী সালমান শাহর হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে সামিরা ও তার পরিবারসহ অনেকে জড়িত। হত্যাযজ্ঞে আমিও ছিলাম।’

    ১৯৯৭ সালের ১৬৪ ধারার সেই জবানবন্দিতে তিনি আরও জানান, সালমান শাহর মৃত্যু ছিল ১২ লাখ টাকার এক হত্যার চুক্তি। যে চুক্তি করেছিলেন সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। এ হত্যা চুক্তিতে আরও ছিলেন বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • সোহাগকে পিটিয়ে হত্যা, ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন বাঁধন

    রাজধানী মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নৃশংস হত্যার ঘটনায় হতবিহ্বল সারা দেশের মানুষ। চলছে প্রতিবাদ। মর্মান্তিক এ ঘটনা নাড়া দিয়েছে দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেক তারকা। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের কণ্ঠেও ফুটে উঠল তীব্র প্রতিবাদ ও হতাশা।

    শুক্রবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ অভিনেত্রী এই ক্ষোভ জানিয়েছেন।

    বাঁধনের পোস্টে লিখেছেন, ‘এটা এক ধরনের মর্মান্তিক ছবি। কারো হত্যা হতে দেখা, যেখানে বাকি সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে। কিছুই করছে না। এটা কীভাবে সম্ভব? কী ধরনের দেশে আমরা বেঁচে আছি? মানুষ দাঁড়িয়ে দেখল। কিন্তু কেউ এগিয়ে গেল না। কতটা ভয়াবহ?’

    অভিনেত্রী বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি আর কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা কি আর কেউ অনুভব করছেন? মনে হচ্ছে না আমরা যেন নরকে বাস করছি? আর সরকার? সবসময়কার মতোই নিশ্চুপ। তারা কোথায়? কথা বলে না কেন? কিছু করে না কেন?’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাঁধন বলেন, ‘আমি কি এই দেশে নিরাপদ? আমি কি সত্যিই যা মনে করি তা বলতে পারি? না কি সত্যি কথা বলার অপরাধে আমিই হব পরবর্তী টার্গেট?’

    একদল লোক লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেই ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

    রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে গত বুধবার বিকালে সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে একদল লোক। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নড়ে ওঠে দেশবাসী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমানের এই দুঃসময়ে শাহরুখ কেন চুপ

    বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুর পর থেকেই আতঙ্কে মুম্বাই। বিশেষ করে বলিউড অভিনেতা সালমান খান। কারণ এনসিপি (অজিত) নেতাকে খুন করার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোইর নেতৃত্বাধীন বিষ্ণোই গ্যাং। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার পর থেকেই এই গ্যাংয়ের নিশানায় বলি ভাইজান সালমান খান। ফলে তার জীবন নিয়েও এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও সেসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন ভাইজান। 

    নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুর খবরে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। সাবেক মন্ত্রীর পরিবারেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন সালমান। 

    যে কারণে সালমানকে উদ্দেশ্য করে আবারও হুমকিবার্তা পাঠিয়েছে বিষ্ণোই গ্যাং। এমন অবস্থায় শুরু থেকেই চুপ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। বাবা সিদ্দিকীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও তার মৃত্যুতে নিশ্চুপ তিনি। 

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি পুরোনো ছবি। যেখানে দাবি করা হচ্ছে— সালমানকে ‘শত্রু’ মনে করা বিষ্ণোইদের কাছ থেকেই সংবর্ধনা পেয়েছিলেন বলি বাদশাহ শাহরুখ খান। 

    জানা গেছে, শাহরুখের সংবর্ধনার এই ছবিটি ২০১৭ সালের। ‘হ্যারি মেট সেজল’ সিনেমার শুটিং করতে রাজস্থানে গিয়েছিলেন সুপারস্টার। সেই সময় তাকে বিষ্ণোই সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

    তারকার পরনে ছিল কালো প্যান্ট, টি-শার্ট আর জ্যাকেট। চোখে চশমা। মাথায় পাগড়িও পরেছিলেন বলিউড বাদশাহ। সেই সময় একটি প্রশংসাপত্রও দেওয়া হয়েছিল কিং খানকে।

    প্রসঙ্গত, এক সময় এমন ছিল যখন শাহরুখ-সালমান একে অন্যের ছায়া থেকেও দূরে থাকতেন। শোনা যায়, ক্যাটরিনা কাইফের জন্মদিনের একটি ঘটনা কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছিল। কিন্তু বন্ধু বাবা সিদ্দিকীর ইফতার পার্টিতেই এই তিক্ততার অবসান হয়। আলিঙ্গনে নতুন করে বন্ধুত্বের সূচনা হয়।

    তবু সেই বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুতে নিশ্চুপ শাহরুখ খান। তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, নতুন করে জীবনে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না বলিউড বাদশাহ। তাই চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমানকে হত্যার হুমকি, কে এই গ্যাংস্টার বিষ্ণোই?

    লরেন্স বিষ্ণোই ভারতের একটি আলোচিত এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার, যার নাম বিভিন্ন বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ৩১ বছর বয়সি এই ব্যক্তি পাঞ্জাব থেকে উঠে আসলেও তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলেও।

    বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি থাকলেও তার অপরাধ জগতে প্রভাব এতটুকু কমেনি। ২০২২ সালে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসে ওয়ালার হত্যাকাণ্ডে তার নাম উঠে এসেছে।

    এছাড়া বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধ জগতে প্রবেশ ছাত্রজীবন থেকেই। চণ্ডীগড়ের একটি কলেজে পড়াশোনা চলাকালীন ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করে, সেখানে সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সে। কলেজে মারামারি এবং গোলাগুলির মতো অপরাধে নাম উঠে আসার পর থেকেই তার অপরাধ জগতের উত্থান শুরু হয়।

    ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, চাঁদাবাজি এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ পরিচালনা করে বিষ্ণোইয়ের গ্যাং। তার গ্যাং-এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০০, যারা পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং দিল্লিতে সক্রিয়। পুলিশ জানায়, কানাডায় বসবাসরত বিষ্ণোইয়ের সহযোগী গোল্ডি ব্রার দূর থেকে এই গ্যাং পরিচালনা করছে।

    কানাডার পুলিশও সম্প্রতি দাবি করেছে, ভারত সরকার খালিস্তানি নেতাদের টার্গেট করতে বিষ্ণোইয়ের গ্যাংকে ব্যবহার করছে।

    যদিও ভারত সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি বর্তমানে বিচারাধীন। তবুও তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেমে নেই, কারাগারে থেকেও সে নির্বিঘ্নে তার গ্যাং পরিচালনা করছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

    এই গ্যাংস্টারের প্রভাব শুধু অপরাধেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্পষ্ট। অনেক তরুণের কাছে সে অপরাধী জীবনযাপন এবং গ্ল্যামারের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা পাঞ্জাবের সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতির এক বিকৃত প্রতিফলন।

    বিষ্ণোইয়ের অপরাধী জীবনের শুরু এবং তার প্রভাব বিস্তারের গল্পটি ভারতের অপরাধ জগতের একটি অন্ধকার দিককে প্রকাশ করে, যা পুলিশ এবং সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

    সূত্র: বিবিসি

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘মববাজি’ বন্ধ করুন: ফারুকী

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তোফাজ্জল নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সারাদেশ। এমন হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী।

    শুধু ঢাবির তোফাজ্জলের ঘটনাই নয়, আইনের ফাঁক ফোঁকরে সারাদেশেই বাড়ছে মব জাস্টিস তথা এমন গণপিটুনির মত ঘটনা। একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় ঘটছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। সাম্প্রতিক এ সকল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ফারুকী। জানিয়েছেন ‘মববাজি’ বন্ধ করার আহ্বান।

    বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ফারুকী এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন,‘তুমি যদি স্বাধীনতার মর্ম না বোঝো, তাহলে তুমি স্বাধীনতার স্বাদ হারাবে। আব্বার কাছে শুনতাম, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই জোশ চলে আসছিলো যে সে-ই সব। সে নিজেই অভিযোগকারী, নিজেই বিচারক, নিজেই এক্সিকিউশনার। হাতে অস্ত্র আছে, অথবা আছে মবের শক্তি। সুতরাং মার, মেরে ফেল। ফল কি হয়েছিল আমরা জানি।’

    ফারুকী লেখেন,‘আচ্ছা স্বাধীনতার পর না হয় একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল, এমন কি যখন আওয়ামী লীগের কঠিন আঁটুনির ভেতর আটকা ছিল দেশ, তখনও কি আমরা বাড্ডার এক মাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারি নাই? রংপুরে নামাজের পর এক মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে মেরে পুড়িয়ে দেই নাই?’

    ফারুকী লেখেন,‘আমি আশা করছিলাম, এই নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্তির সাথে সাথে নতুন দায়িত্বের ব্যাপারটা আমরা উপলব্ধি করব। আমাদের দিলে রহম জিনিসটা আসবে। একশ জন মববাজি করতে আসলে দুইজন হলেও রুখে দাঁড়াবে। ঢাবি আর জাহাঙ্গীরনগরে কি এরকম চারজন ছিল না রুখে দাঁড়ানোর? এটা লজ্জার, বেদনার।’

    সবশেষ ফারুকী লেখেন,‘সবাই দায়িত্ব নিই চলেন। মববাজি বন্ধ করেন। ফ্যাসিবাদিদের ফাও আলোচনার বিষয় উপহার দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, প্লিজ। আলোচনাটা থাকতে দেন রিফর্মে, ফ্যাসিবাদের বিচারে।’

    উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের সামনে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তোফাজ্জল ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    বিনোদন ডেস্ক