দেড় কোটি টাকার কর বাকি রাজেশ খান্নার, সালমান এগিয়ে এলে যা ঘটে

Written by

in

বলিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা রাজেশ খান্না ও বলি ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের মধ্যে এক চমৎকার ও ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে, যা সম্প্রতি তাদের মধ্যকার সম্পর্কের একটি অজানা দিক প্রকাশ করেছে।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে অভিনয় শুরু করেছিলেন রাজেশ খান্না। বলিপাড়ার তারকার খ্যাতি পাওয়া প্রথম অভিনেতা বলা হয় তাকে। কিন্তু রাজেশ খান্নার জনপ্রিয়তার স্থায়িত্ব বেশি দিনের ছিল না। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকাকালে মুম্বাইয়ের কার্টার রোডের একটি পরিত্যক্ত বাংলো সেই সময় ৬৫ হাজার টাকায় কিনে নেন এ অভিনেতা। কিন্তু সেই বাংলোর দেড় কোটি টাকার কর বাকি পড়ে। এমন খবরে সাহায্যের হাত বাড়ালেন ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খান। আর তাতে চটে যান রাজেশ খান্না।

কার্টার রোডের সেই বাড়িটি ছিল পঞ্চাশের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা ভরত ভূষণের। তারপর সেটি কেনেন রাজেন্দ্র কুমার। সেই সময় বাড়িটির নাম ছিল ‘ডিম্পল’। রাজেন্দ্রর মেয়ের নামে ছিল বাড়িটি। অবশেষে সত্তরের দশকে সেই বাড়িটি কিনে নেন রাজেশ খান্না। রাজেন্দ্রর শর্ত ছিল— বাড়ির নামটা বদলে ফেলতে হবে। রাজেন্দ্রই বলে যান এ বাড়ি রাজেশের ভাগ্যবদলে দেবে। তা শুনেই রাজেশ বাড়ির নাম রাখেন ‘আশীর্বাদ’। 

সেই সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে বাংলোটি অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল। ‘আশীর্বাদ’-এর বাইরে সবসময় ভক্ত-অনুরাগীদের ভিড় লেগে থাকত। রাজেশকে ঘিরে নারী ভক্ত-অনুরাগীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সত্তর থেকে আশির দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী বলি অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন রাজেশ খান্না। সেই সময় বলিউডে উত্থান ঘটে অমিতাভ বচ্চনের। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

বলিউড সিনেমা সহজ-সরলমনা নায়ক নয়, ঝুঁকতে থাকে ‘অ্যাংরি ইয়ংম্যান’ অমিতাভের দিকে। সেই সময় বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে শুরু করে রাজেশ খান্নার সিনেমা। আর তাতে দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন অভিনেতা। তার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তার সঙ্গে কোনো পরিচালকই কাজ করতে রাজি হচ্ছিলেন না। 

স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে ফাঁকা বাংলোয় থাকতে ভালো লাগত না রাজেশ খান্নার। লিঙ্কিং রোডের অফিসেই বেশি সময় কাটাতে শুরু করেন অভিনেতা। তখনই ওই বাড়িটি কেনার প্রস্তাব পাঠান সালমান খান। মাধ্যম হিসাবে যান চিত্রনাট্যকার রুমি জাফরি।

রুমি জাফরি গিয়ে রাজেশকে জানান, ওই বাড়ির সেই সময়ের বাজারমূল্য দিয়ে কিনতে চান সালমান খান। এমনকি রাজেশের সব ঋণ শোধ করে দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি। সেই সঙ্গে অভিনেতার প্রযোজনা সংস্থার হয়ে বিনামূল্যে একটি সিনেমায় কাজ করারও প্রস্তাব দেন। এমন প্রস্তাব শুনে রেগে যান রাজেশ খান্না। সালমানের এহেন প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন অভিনেতা।

শুধু তাই নয়, অভিনেতা রেগেও যান সালমানের ওপর। আমৃত্যু নিজের বাংলোতেই ছিলেন রাজেশ খান্না। কর বাকি ছিল কোটি কোটি টাকা। রাজেশের মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে বাংলোটি ৯০ কোটি টাকায় এক শিল্পপতির কাছে বিক্রি হয়ে যায়।

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *