Tag: হলিউড

  • ১০ বছর এক চোখে অর্ধেক অন্ধ ছিলেন হলিউড অভিনেত্রী

    পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর গ্ল্যামার দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করলেও, দীর্ঘ ১০ বছর এক চোখে তীব্র দৃষ্টিহীনতার সমস্যায় ভুগেছেন ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা’ খ্যাত ৪৩ বছর বয়সি হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে। 

    গত ২২ এপ্রিল দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘পপকাস্ট’-এ হাজির হয়ে জীবনের এই গোপন ও কঠিন লড়াইয়ের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে আনেন তিনি।

    পডকাস্টের সঞ্চালক জন কারামানিকা ও জো কসকারেল্লির সঙ্গে আলাপকালে হ্যাথাওয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন, ‘তথ্যটা হয়তো একটু বেশিই ব্যক্তিগত হয়ে যাচ্ছে, তবে আমি প্রায় ১০ বছর এক চোখে অর্ধেক অন্ধ ছিলাম।’ 

    অ্যান হ্যাথাওয়ে জানান, মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তার বাম চোখে ‘আর্লি অনসেট ক্যাটারাক্ট’ বা সময়ের আগেই চোখের ছানি পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, যা সাধারণত বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। 

    চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ছানি পড়ার কারণে চোখের ভেতরের স্বচ্ছ লেন্সটি ঘোলাটে হয়ে যায়, যার ফলে চারপাশের সবকিছু কুয়াশাচ্ছন্ন বা ফ্রস্টেড জানালার মতো দেখায়। এতে পড়ালেখা করা, রাতে গাড়ি চালানো বা মানুষের মুখের অভিব্যক্তি দেখাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

    এই পরিস্থিতি তার জীবনে তীব্র মানসিক চাপের সৃষ্টি করেছিল। হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে আমার বাম চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আমি অস্ত্রোপচার করাই। অপারেশন সফল হওয়ার পর যখন আমি চারপাশের পৃথিবীর সব রং স্পষ্ট দেখতে পেলাম, তখনই কেবল বুঝতে পারলাম যে আমার চোখের অবস্থা আসলে কতটা খারাপ হয়েছিল।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার পর আমার মানসিক উত্তেজনা অনেকটাই কমে এসেছে। আমি আগে বুঝতেই পারিনি যে এই সমস্যাটি আমার স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কতটা মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছিল। এখন প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাই, তখন একে আমার কাছে একটি অলৌকিক ঘটনা বা মিরাকল মনে হয়।’ 

    চোখের সমস্যার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিখ্যাত ফ্যাশন সাময়িকী ‘এল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্লাস্টিক সার্জারি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেছেন হ্যাথাওয়ে। সম্প্রতি কান উৎসবের রেড কার্পেটে তার টানটান তরুণ লুক দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রটে যায় যে, তিনি ফেসলিফট বা প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন। 

    এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পরার পর হ্যাথাওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চুলের স্টাইল করার টিউটোরিয়াল ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখানো হয় কীভাবে নির্দিষ্ট উপায়ে বেণী করলে ফেসলিফটের মতো একটি টানা বা লিফটেড লুক পাওয়া যায়। 

    এই প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে মানুষ কোনো কিছুকে খুব সহজেই সত্য বলে ধরে নেয়, যা অনেক সময়ই ভুল প্রমাণিত হয়। গুঞ্জনটা এত বেশি জোরালো হয়ে উঠেছিল যে আমার নিজের সত্যটা সামনে আনা জরুরি হয়ে পড়েছিল। 

    মানুষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই ধরে নেয় যে কেউ একজন এত বড় একটি মেডিকেল সিদ্ধান্ত (সার্জারি) নিয়ে ফেলেছে। আমি শুধু দেখাতে চেয়েছিলাম যে, না, আমি কোনো সার্জারি করাইনি। এটা কোনো বড় মেডিকেল সিদ্ধান্ত ছিল না, এটা ছিল কেবলই দুটি বেণী!’ 

    তবে বেশ খোলামেলা মেজাজে সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি এটিও স্বীকার করেন, ‘অবশ্য, এই সব কথার পরেও একটা কথা বলে রাখি—ভবিষ্যতে কোনো একদিন আমি হয়তো সত্যিই ফেসলিফট করাতে পারি!’ 

    সূত্র: পিপল 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আমেরিকা চরম শোচনীয় অবস্থায় আছে’

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ ট্রাম্পের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন অভিনেতা সেবাস্টিয়ান স্ট্যান। কানের মঞ্চে সেই সিনেমাটি প্রিমিয়ার হওয়ার দুই বছর পর, নিজের নতুন সিনেমা ‘ফিওর্ড’-এর সংবাদ সম্মেলনে এসে মার্কিন রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন এই অভিনেতা। 

    তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আমেরিকা বর্তমানে ‘সত্যিই এক চরম শোচনীয় অবস্থায়’ রয়েছে। 

    সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক স্ট্যানকে জিজ্ঞেস করেন—২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের ঠিক আগে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ মুক্তি পেয়েছিল, আর এখন ট্রাম্প এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আবারও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন; এই পুরো বিষয়টিকে তিনি এখন কীভাবে দেখছেন? 

    প্রশ্নটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সংবাদ কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর ও নার্ভাস হাসির রোল পড়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নেননি স্ট্যান। তিনি গম্ভীর কণ্ঠে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা মোটেও হাসির কোনো বিষয় নয়। একদমই নয়।’ 

    ‘আমার মনে হয় আমরা খুবই বাজে একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমি সত্যিই তা বিশ্বাস করি। আপনি যদি চারপাশের পরিস্থিতির দিকে তাকান—গণমাধ্যমের একচেটিয়াকরণ, সেন্সরশিপ, প্রতিনিয়ত হুমকি এবং তথাকথিত আইনি মামলার পাহাড়, যা কখনো শেষ হয় না কিন্তু কোনো ফলও বয়ে আনে না—তবে বুঝবেন ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে। আমরা যখন এই সিনেমাটি (দ্য অ্যাপ্রেন্টিস) বানাচ্ছিলাম, তখনই দেওয়ালে এই বিপদের লিখন স্পষ্ট ছিল। আমরা সিনেমাটি তৈরি করতে গিয়ে এই সবকিছুর মুখোমুখি হয়েছি’, যোগ করেন তিনি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কান উৎসবে প্রিমিয়ারের আগে পরিচালক আলী আব্বাসির এই সিনেমাটির মুক্তি আটকে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেমাটিকে ‘আবর্জনা’ ও ‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ আখ্যা দিয়ে আইনি মামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। 

    স্ট্যান জানান, উৎসব শুরুর মাত্র তিন দিন আগেও তারা নিশ্চিত ছিলেন না যে সিনেমাটি আদৌ প্রদর্শিত হতে পারবে কিনা। 

    এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি পেশাগত দিক থেকে কান উৎসবে এক অবিস্মরণীয় রাত পার করেছেন সেবাস্টিয়ান স্ট্যান। সোমবার (১৮ মে) রাতে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ফিওর্ড’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার শেষে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে টানা ১০ মিনিট করতালি দিয়ে সিনেমাটিকে অভিবাদন জানান।

    রোমানিয়ান খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউ পরিচালিত এই হৃদয়স্পর্শী পারিবারিক ছবিটিতে সেবাস্টিয়ান স্ট্যান এবং রেনাটে রেইনসভে এক দম্পতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। 

    কড়া ধর্মীয় অনুশাসনে বিশ্বাসী এক রোমানিয়ান-নরওয়েজিয়ান পরিবারকে নিয়ে সিনেমার গল্প, যারা নরওয়ের একটি ছোট গ্রামে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু স্কুলে পড়াশোনা করা তাদের মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর, নরওয়ের শিশু সুরক্ষা দপ্তর তাদের পাঁচ সন্তানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। এরপর শুরু হয় এক টানটান আইনি ও মানসিক লড়াই। 

    চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে—পরিচালক মুঞ্জিউ, সেবাস্টিয়ান স্ট্যান এবং রেনাটে রেইনসভের এই ত্রয়ী কম্বিনেশন ‘ফিওর্ড’ সিনেমাটিকে এবারের কানের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘পাম দ’অর’ জেতার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে।

    পরিচালক ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউ এর আগেও ২০০৭ সালে তার বিশ্বখ্যাত সিনেমা ‘ফোর মান্থস, থ্রি উইকস অ্যান্ড টু ডেস’-এর জন্য পাম দ’অর জিতেছিলেন। অন্যদিকে অভিনেত্রী রেনাটে রেইনসভে ২০২১ সালে ‘দ্য ওরস্ট পারসন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার জন্য কানের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। এমনকি গত বছরও তার অভিনীত ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ সিনেমাটি গ্র্যান্ড প্রিক্স জয়ের পর অস্কারের মঞ্চে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্মের মনোনয়ন পেয়েছিল। 

    সূত্র: ভ্যারাইটি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • নতুন জেমস বন্ডের খোঁজে অডিশন শুরু

    হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘জেমস বন্ড’-এর নতুন অভিনেতার খোঁজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ফলে ২০২১ সালে ড্যানিয়েল ক্রেইগ এই আইকনিক চরিত্র থেকে বিদায় নেওয়ার পর, কে হবেন পরবর্তী বিশ্বস্ত গুপ্তচর—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। 

    ইয়ান ফ্লেমিংয়ের কালজয়ী চরিত্রটিকে পর্দায় নতুনভাবে বাঁচিয়ে তুলতে স্টুডিওগুলো ইতোমধ্যেই নতুন অভিনেতার জন্য অডিশন শুরু করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এই স্পাই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একটি নতুন মুখের আগমন ঘটতে যাচ্ছে সেটা নিশ্চিত। 

    বিনোদন দুনিয়ার অন্যতম বড় মাধ্যম ‘অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর, এটি এখন একটি নতুন যুগে পদার্পণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই বন্ড সিনেমার কাস্টিং ডিরেকশনে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে। নতুন জেমস বন্ডকে খুঁজে বের করার এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হলিউডের নামকরা কাস্টিং ডিরেক্টর নিনা গোল্ড-কে। 

    স্টুডিওর অভ্যন্তরীণ সূত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী জেমস বন্ডকে অবশ্যই এমন একজন হতে হবে যিনি এই আইকনিক ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ‘আভিজাত্য ও চপলতা’ এবং একই সঙ্গে ‘বিপজ্জনক ভাব’ পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    স্টুডিওর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পরবর্তী জেমস বন্ড খুঁজে পাওয়ার এই প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে।’ সঠিক সময়ে ভক্তদের সঙ্গে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। 

    এদিকে কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে নিনা গোল্ডের অন্তর্ভুক্তি এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি এর আগে বিশ্ব কাঁপানো প্রজেক্ট ‘গেম অব থ্রোনস’ এবং ‘দ্য ক্রাউন’-এর মতো বড় প্রোডাকশনের কাস্টিংয়ের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।

    পরবর্তী জেমস বন্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেতার নাম নিয়ে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা চললেও, ড্যানিয়েল ক্রেইগের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের খবরের বরাতে জানা গেছে, অডিশন প্রক্রিয়াটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক, সামনে কেবল ‘ওপেনহাইমার’

    মাইকেল জ্যাকসনের জীবনী নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘মাইকেল’। হলিউড পরিচালক অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত ছবিটি প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকদের দারুণভাবে মোহিত করে রেখেছে। পাশাপাশি বায়োপিকটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের থেকে তুমুল ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। 

    ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে ছবিটি দুর্দান্ত ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। 

    মুক্তির পর তৃতীয় সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত মার্কিন বাজারে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৪৫.৫ মিলিয়ন ডলার। বক্স অফিস বিশ্লেষক লুইজ ফার্নান্দোর মতে, এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সিনেমাটি একই দিনে ৩.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করা ‘দ্য ডেভিল ওয়ার্স প্রাডা ২’ কে ছাড়িয়ে গেছে। 

    একই সঙ্গে এটি যেকোনো বায়োপিকের ইতিহাসে তৃতীয় সোমবারের আয়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে। যদিও সিনেমাটির গত সপ্তাহের সোমবারের তুলনায় আয় ২১.৭ শতাংশ কমেছে। এরপরও চলমান সাফল্য প্রমাণ করে, প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি এখনো বেশ শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তৃতীয় সোমবারের ঘরোয়া আয়ের দিক থেকে ‘মাইকেল’ এখন ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’ (যা তৃতীয় সোমবারে ৪.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল) এর ঠিক পেছনে অবস্থান করছে। এছাড়া এটি ২০২৬ সালের তৃতীয় সোমবারের আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড, যেখানে শীর্ষে থাকা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ আয় করেছিল ৩.৭ মিলিয়ন ডলার। 

    সিনেমাটির এমন ধারাবাহিকতা দেখে এখন হলিউডপাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে— ঘরোয়া আয়ের ক্ষেত্রে ‘মাইকেল’ কি শেষ পর্যন্ত ‘ওপেনহাইমার’ কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে? 

    ‘ওপেনহাইমার’ এর ঘরোয়া বক্স অফিস রেকর্ড ভাঙতে হলে ‘মাইকেল’ কে উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে আরও অন্তত ৮৪.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ছবিটির ঘরোয়া আয়ের দৌড় ৩১০ থেকে ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের ঘরে গিয়ে থামতে পারে। সিনেমাটি যদি আগামী দিনগুলোতে এই ধারা বজায় রাখতে পারে, তবে উত্তর আমেরিকায় ‘ওপেনহাইমার’ এর মোট আয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। 

    অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত ‘মাইকেল’ সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। এতে একজন প্রতিভাবান শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী পপ তারকায় পরিণত হওয়ার জার্নি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

    সিনেমাটিতে জ্যাকসনের অবিশ্বাস্য সংগীত প্রতিভা, বিশ্বজোড়া খ্যাতি এবং একই সঙ্গে তার বর্ণাঢ্য জীবনের নানা ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও চ্যালেঞ্জগুলো উঠে এসেছে। বক্স অফিসের এই জমজমাট লড়াইয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে সিনেমাটি আর কী কী রেকর্ড ভাঙে, তা দেখার জন্য দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। 

    সূত্র: জুম 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘দ্য ব্যাটম্যান ২’ সিনেমায় যোগ দিচ্ছেন ‘ব্ল্যাক উইডো’ খ্যাত স্কারলেট

    মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ‘ব্ল্যাক উইডো’ খ্যাত জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন এবার পা রাখছেন ডিসি ইউনিভার্সে। পরিচালক ম্যাট রিভসের বহুল প্রতীক্ষিত ‘দ্য ব্যাটম্যান: পার্ট ২’ সিনেমার কাস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন তিনি। 

    ২০২২ সালের ব্লকবাস্টার হিট ‘দ্য ব্যাটম্যান’ সিনেমার এই সিক্যুয়েলে রবার্ট প্যাটিনসনের চরিত্র ‘ব্রুস ওয়েন’ (ব্যাটম্যান)-এর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।

    বরাবরের মতোই বেশ রহস্যময় ও চমকপ্রদ উপায়ে এই নতুন কাস্টের ঘোষণা দিয়েছেন ৬০ বছর বয়সী পরিচালক ম্যাট রিভস। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিজের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে কোনো প্রথাগত প্রেস রিলিজ না দিয়ে, স্কারলেটের পুরনো কাজের একটি জিআইএফ শেয়ার করে এই সুখবর জানান তিনি। 

    ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত স্কারলেটের ‘আন্ডার দ্য স্কিন’ সিনেমার একটি ক্লিপ পোস্ট করে রিভস ক্যাপশনে লেখেন, ‘পরবর্তী স্টপেজ, গথাম… স্বাগতম।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    পরিচালকের এই সংকেত পাওয়ার পর থেকেই ব্যাটম্যান ভক্তরা নিজেদের মতো করে হিসাব মেলাতে শুরু করেছেন। অনেকেরই ধারণা, ছবিতে স্কারলেট জোহানসনকে ‘হার্ভি ডেন্ট’-এর স্ত্রী ‘গিল্ডা ডেন্ট’-এর চরিত্রে দেখা যেতে পারে। 

    এই সিক্যুয়েলে কেবল স্কারলেট জোহানসনই একমাত্র নতুন মুখ নন। জানা গেছে, ৪৩ বছর বয়সী অভিনেতা সেবাস্টিয়ান স্ট্যানকে দেখা যাবে গথাম সিটির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি থেকে ভিলেনে রূপ নেওয়া চরিত্র ‘হার্ভি ডেন্ট’ (টু-ফেস) হিসেবে। এছাড়া ৭৯ বছর বয়সী প্রবীণ অভিনেতা চার্লস ড্যান্স তার বাবা ‘ক্রিস্টোফার ডেন্ট’-এর চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। 

    প্রসঙ্গত, সিক্যুয়েলে বরাবরের মতোই ‘কেপড ক্রুসেডার’ বা ব্যাটম্যান চরিত্রে ফিরছেন ৪০ বছর বয়সী রবার্ট প্যাটিনসন। তার সঙ্গে জিম গর্ডন চরিত্রে জেফরি রাইট, আলফ্রেড চরিত্রে অ্যান্ডি সার্কিস এবং ‘পেঙ্গুইন’ চরিত্রে বাজিমাত করা কলিন ফারেলকে আবারও দেখা যাবে। 

    তবে প্রথম পর্বে ‘সেলিনা কাইল’ (ক্যাটওম্যান) চরিত্রে অভিনয় করা জো ক্রাভিটস সিক্যুয়েলে থাকছেন না বলে গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে। 

    ম্যাট রিভস এবং ম্যাটসন টমলিনের যৌথ চিত্রনাট্যে ‘দ্য ব্যাটম্যান: পার্ট ২’ সিনেমার শুটিং চলতি বছরেই শুরু হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স। 

    সিনেমাটি ২০২৭ সালের ১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। 

    সূত্র: জিও নিউজ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও এক হচ্ছেন টম ক্রুজ-নিকোল কিডম্যান!

    হলিউডের একসময়ের সবচেয়ে আলোচিত দম্পতি টম ক্রুজ এবং নিকোল কিডম্যান দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারও একে অপরের সংস্পর্শে এসেছেন। 

    সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে তাদের মধ্যে পুনরায় যোগাযোগ শুরু হওয়ার খবরটি বিশ্বজুড়ে বিনোদনপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, টম ও নিকোলের এই নতুন করে কাছাকাছি আসার পেছনে রয়েছে তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দম্পতি রব রেইনার ও মিশেল রেইনারের মর্মান্তিক মৃত্যু। 

    ২০২৫ সালের শেষভাগে রেইনার দম্পতির মৃত্যু হলিউড পাড়ায় শোকের ছায়া ফেলেছিল। এই শোকের সময় টম ক্রুজ নিকোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুজনে তাদের স্মৃতিচারণ ও একে অপরের প্রতি সমবেদনা জানান। 

    সূত্র মতে, শোকাতুর এই পরিস্থিতি তাদের মধ্যকার পুরনো তিক্ততা দূর করতে সহায়তা করেছে। দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে তারা এখন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বর্তমান কঠিন সময়ে একে অপরের মানসিক শক্তি হিসেবে কাজ করছেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    টম ক্রুজ (৬৩) এবং নিকোল কিডম্যান (৫৮) ১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিবাহিত ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান ইসাবেলা এবং কনর-এর ইচ্ছা তাদের বাবা-মাকে আবার এক টেবিলে দেখা।

    একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সন্তানরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাবা-মাকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় ছিল। নিকোল এবং টম দুজনেই এখন সন্তানদের এই ইচ্ছাকে প্রধান্য দিচ্ছেন এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।

    এই পুনর্মিলনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে কারণ বর্তমানে দুজনেই সিঙ্গেল। 

    নিকোল কিডম্যান ২০২৫ সালে তার ১৯ বছরের দাম্পত্য সঙ্গী স্বামী কিথ আরবান-এর সঙ্গে বিচ্ছেদের আবেদন জানান, যা চলতি বছরের শুরুতে চূড়ান্ত হয়। অন্যদিকে টম ক্রুজও গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আনা ডি আরমাস-এর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন।

    রাডার অনলাইন-এর তথ্যমতে, টম ও নিকোল এখন এতটাই ইতিবাচক অবস্থানে আছেন যে শিগগিরই তারা লন্ডন বা ফ্লোরিডায় একটি ঘরোয়া নৈশভোজে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একে বলা হচ্ছে ‘ব্রেকিং ব্রেড’ বা একসঙ্গে আহার ভাগ করে নেওয়া, যা তাদের দীর্ঘ ২৫ বছরের শীতল সম্পর্কের বরফ গলার চূড়ান্ত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    হলিউড সংশ্লিষ্টদের মতে, যদিও এটি কোনো প্রেমের সম্পর্কের শুরু কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে সন্তানদের স্বার্থে এবং পুরনো বন্ধুত্বের টানে তাদের এই বন্ধুসুলভ অবস্থান একটি বিশাল পরিবর্তন। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • মদ্যপান ত্যাগ জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত ছিল: টম হল্যান্ড

    বিশ্বখ্যাত স্পাইডারম্যান তারকা টম হল্যান্ড সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার ব্যক্তিগত জীবনের এক বড় পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। মাত্র ২৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা মদ্যপান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তার জীবনের একটি ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

    তিনি জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত এবং পেশাদার উভয় জীবনকেই ইতিবাচকভাবে বদলে দিয়েছে।

    টম হল্যান্ড জানিয়েছেন, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি সম্পূর্ণ মদ্যপানমুক্ত জীবনযাপন করছেন। 

    জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, গ্ল্যামার জগতের পেছনে থাকা নিরন্তর চাপ এবং মানসিক অস্থিরতা মোকাবিলা করতেই তিনি এই পরিবর্তনটি এনেছিলেন। তার মতে, মদ্যপান সমস্যার সমাধান না করে বরং তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল।

    মদ্যপান ত্যাগের ফলে নিজের প্রতিদিনের জীবনে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, সেগুলো নিয়ে তিনি দারুণ উচ্ছ্বসিত। টম জানিয়েছেন, এখন তিনি প্রতিদিন সকালে আরও সতেজ মন এবং দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন।অ্যালকোহল ছেড়ে দেওয়া তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী এবং আবেগীয়ভাবে স্থিতিশীল করে তুলেছে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি মনে করেন, এ পরিবর্তনের ফলে নিজের জীবনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ এবং লক্ষ্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    ব্যক্তিগত এ শৃঙ্খলার ছাপ পড়েছে তার ক্যারিয়ারেও। মদ্যপান ত্যাগের পর থেকেই টম হল্যান্ডের ক্যারিয়ার আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে তার হাতে বেশ কিছু বড় বাজেটের হলিউড প্রজেক্ট রয়েছে।

    বর্তমানে এই অভিনেতা বেশ কিছু আলোচিত সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত, যার মধ্যে ‘দ্য ওডিসি’, ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ অন্যতম। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • একজন খুনির সঙ্গে আমার ঘর বাঁধা উচিত হবে?

    নেটফ্লিক্সের নতুন ডকুসিরিজ ‘শুড আই ম্যারি আ মার্ডারার?’-এ উঠে এসেছে এক লড়াকু নারীর গল্প। নিজের হবু স্বামী যে একজন খুনি, তা জানার পর পুলিশকে সাহায্য করতে গিয়ে তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তার প্রতিদান মিলেছে চরম অবহেলা আর উদাসীনতায়।

    পৃথিবীতে এমন কিছু অসাধারণ নারী আছেন, যাদের গল্প শুনলে বিস্ময়ে বিমূঢ় হতে হয়। বিশেষ করে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত অপরাধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্রগুলো (ট্রু ক্রাইম ডকুমেন্টারি) দেখলে বোঝা যায়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নানা নিষ্ঠুরতা সহ্য করেও নারীরা কীভাবে লড়াই চালিয়ে যান। নেটফ্লিক্সের তিন পর্বের নতুন ডকুসিরিজ ‘শুড আই ম্যারি আ মার্ডারার?’ (Should I Marry a Murderer?) এমনই এক অদম্য নারী ক্যারোলিন মুয়ারহেডের গল্প বলছে।

    ২৯ বছর বয়সী প্যাথলজিস্ট ক্যারোলিন ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারের মাধ্যমে প্রেমে পড়েন স্কটিশ কৃষক স্যান্ডি ম্যাককেলারের। একটি ভাঙা সম্পর্কের বিষাদ কাটিয়ে স্যান্ডির মাঝে আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। স্যান্ডি দেখতে সুদর্শন, মিশুক এবং ক্যারোলিনের প্রতি দারুণ অনুরাগী। যদিও মাঝেমধ্যে মদ্যপ অবস্থায় স্যান্ডির আচরণ কিছুটা ‘অন্ধকার’ হয়ে উঠত এবং তার যমজ ভাই রবার্ট একবার সতর্কও করেছিলেন যে, স্যান্ডির ‘মাথা ঠিক নেই’। কিন্তু ভালোবাসার আতিশয্যে ক্যারোলিন সেসব পাত্তা দেননি। দ্রুতই তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। বন্ধুরা খুব একটা উৎসাহিত না হলেও ক্যারোলিন তখন ভেবেছিলেন— ‘খারাপ আর কী-ই বা হতে পারে?’

    ঠিক সেই মুহূর্তেই গল্পের মোড় ঘোরে। বাগদানের পরপরই স্যান্ডি স্বীকার করেন, তিন বছর আগে তার ট্রাকের ধাক্কায় টনি পারসনস নামের এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছিলেন। স্যান্ডি এবং তার ভাই রবার্ট সেই মরদেহটি একটি নির্জন জলাভূমিতে পুঁতে ফেলেছিলেন।

    ক্যারোলিন সব শুনে পুলিশকে জানান। কিন্তু বিশাল ওই এলাকায় মরদেহ খুঁজে পাওয়া ছিল অসম্ভব। পুলিশ তাকে অনুরোধ করে স্যান্ডির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে মরদেহের সঠিক অবস্থান বের করতে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্যারোলিন তা-ই করেন। একটি ‘রেড বুল’-এর ক্যান দিয়ে তিনি মরদেহের জায়গাটি চিহ্নিত করেন। পুলিশ কথা দিয়েছিল, প্রধান সাক্ষী হিসেবে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

    স্যান্ডি ও তার ভাইকে গ্রেফতারের পর পুলিশ ক্যারোলিনকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলে। কিন্তু ক্যারোলিন জানতেন, হুট করে সরে গেলে খুনিরা বুঝে ফেলবে যে, সে-ই পুলিশকে ধরিয়ে দিয়েছে। নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং পুলিশকে আরও তথ্য দিতে তিনি স্যান্ডির সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ অভিনয় শুরু করেন। এ প্রচণ্ড মানসিক চাপে তিনি মদ্যপান ও মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়েন, এমনকি তার মানসিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। তবুও তিনি পুলিশকে জানান যে, ওই সাইকেল আরোহী তাৎক্ষণিক মারা যাননি; খুনিরা তাকে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে কবর দেওয়ার সরঞ্জাম আনতে গিয়েছিল এবং ফিরে এসে দেখে তিনি মারা গেছেন।

    এত কিছুর পরও পুলিশের ভূমিকা ছিল হতাশাজনক। তারা কি ক্যারোলিনকে সুরক্ষা দিয়েছিল? না। যখন তিনি প্রাণভয়ে নিরাপত্তার জন্য কাকুতি-মিনতি করছিলেন, তখন কি তাকে সাহায্য করা হয়েছিল? না। এমনকি দ্বিতীয়বার যখন পুলিশ স্যান্ডিকে গ্রেফতার করতে আসে, তখন একজন গোয়েন্দা ক্যারোলিনের উপস্থিতি খেয়াল না করেই চিৎকার করে ওঠেন— ‘ক্যারোলিন, তুমি তো আমাদের সাক্ষী!’ এতে তার পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়।

    আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আচরণ। স্কটল্যান্ডের তৎকালীন হোমিসাইড প্রধান ডেভিড গ্রিন যেন এই লড়াকু নারীর প্রতি অবজ্ঞাই প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ক্যারোলিন একজন উচ্চশিক্ষিত ডাক্তার হয়েও কেন সেই খুনির কাছে ফিরে গিয়েছিলেন, তা তার বোধগম্য নয়। হবু খুনি স্বামীর হাত থেকে চিকিৎসক হওয়ার শপথ যে রক্ষা করতে পারে না, সেই সাধারণ জ্ঞানটুকুও হয়তো এই পুলিশ কর্মকর্তার ছিল না। আবার আসামিপক্ষের আইনজীবীর মতে, চাপের মুখে ক্যারোলিন যেভাবে ভেঙে পড়েছেন, তাতে তার প্রতি কোনো সহমর্মিতা দেখানোর সুযোগ নেই।

    এই ডকুসিরিজটি মূলত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, এ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা একজন সাহসী নারীকেও কতটা একা করে দিতে পারে। তবে সবকিছুর শেষে একটি কথাই সত্য— ক্যারোলিন, আপনি সত্যিই অদম্য এবং অসাধারণ।

    ‘শুড আই ম্যারি আ মার্ডারার?’ ডকুসিরিজটি এখন নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে।

    অনলাইন ডেস্ক

  • ‘জিরো সাইজ’ মডেলদের ছাঁটাইয়ের খবর নাকচ করলেন অ্যান হ্যাথাওয়ে

    হলিউড সিনেমা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’-র বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ফ্যাশন বা ‘বডি ইনক্লুসিভিটি’ নিশ্চিত করতে গিয়ে কোনো ‘সাইজ-জিরো’ মডেলকে ছাঁটাই করা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে। সম্প্রতি ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

    মূলত গত মার্চ মাসে হার্পার’স বাজার ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সহ-শিল্পী মেরিল স্ট্রিপের একটি মন্তব্য থেকে এ আলোচনার সূত্রপাত। স্ট্রিপ জানিয়েছিলেন, শুটিং সেটে মডেলদের মাত্রাতিরিক্ত কৃশকায় দেখে তিনি এবং হ্যাথাওয়ে দুজনেই অবাক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘অ্যানি বিষয়টি লক্ষ্য করে সরাসরি প্রযোজকদের কাছে যায় এবং প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেয় যে, আমাদের সিনেমার ফ্যাশন শো-তে মডেলদের যেন কঙ্কালসার দেখায় এমন কাউকে না রাখা হয়।’ স্ট্রিপ হ্যাথাওয়েকে একজন ‘সাহসী নারী’ হিসেবেও অভিহিত করেন।

    গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে হ্যাথাওয়েকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি পর্দায় বিভিন্ন শারীরিক গড়নের মানুষের উপস্থিতি দর্শক বেশি উপভোগ করবেন। আমি কেবল প্রযোজকদের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম যে—আকারের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনলে কি দৃশ্যটি আরও শক্তিশালী হবে না? তারা আমার কথা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন যে বিষয়টি আগে তাদের মাথায় আসেনি। তবে বিষয়টি বোঝার এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।’

    তবে এ আলোচনার জেরে গুঞ্জন ছড়ায় যে, হ্যাথাওয়ের আপত্তিতে অনেক জিরো-সাইজ মডেল কাজ হারিয়েছেন। ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে এ ভুল ধারণা ভাঙতে হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘কিছু ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে যে আকারের ভিন্নতা আনতে গিয়ে মানুষ চাকরি হারিয়েছে। বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। কেউ কাজ হারাননি বরং এতে আরও মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

    উল্লেখ্য, মূল সিনেমার ২০ বছর পর এ সপ্তাহান্তেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’, ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ কিংবা মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ সিক্যুয়েলটিও বক্স অফিসে ঝড় তুলবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অনলাইন ডেস্ক

  • দুই অভিনেত্রীর চেহারায় অদ্ভূত মিল, যেন তারা যমজ বোন!

    হলিউড অভিনেত্রী গ্রেস ভ্যান প্যাটেন এবং শেইলিন উডলিকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি কৌতূহল ছিল—তারা কি আসলেই যমজ? দুই তারকার চেহারার অদ্ভূত মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই চর্চা হয়। এবার সেই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ হলো, কারণ প্রথমবারের মতো এই দুই ‘লুক-অ্যালাইক’ বা হুবহু দেখতে তারকাকে একসঙ্গে জনসমক্ষে দেখা গেছে।

    সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত ‘ডেডলাইন কনটেন্ডার্স টেলিভিশন’ অনুষ্ঠানে পাশাপাশি দেখা মেলে গ্রেস ও শেইলিনের। তাদের এ সাক্ষাৎ ভক্তদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। অনুষ্ঠানে অভিনেতা থমাস ডোহার্টি এই দুই তারকাকে একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের দাবি—তাদের দুজনকে নিয়ে অবিলম্বে কোনো সিনেমায় ‘বোনের’ চরিত্রে কাস্ট করা উচিত।

    ফেব্রুয়ারিতে ‘কসমোপলিটান’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রেস জানিয়েছিলেন, অভিনয় জীবন শুরুর আগে থেকেই মানুষ তাকে শেইলিন উডলি ভেবে ভুল করত। তিনি বলেন, ‘হাইস্কুলে পড়ার সময় অনেকেই আমাকে শেইলিন ভেবে আটকে দিত। মনে আছে, একবার বিমানবন্দরে একদল কিশোরী আমাকে ‘ডাইভারজেন্ট’ (শেইলিনের জনপ্রিয় সিনেমা) তারকা ভেবে ঘিরে ধরেছিল। আমি যখন বললাম আমি সে নই, তারা বিশ্বাসই করতে চাইছিল না।’

    অন্যদিকে শেইলিন উডলিও এ সাদৃশ্য নিয়ে বেশ আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘গ্রেসের সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছে। প্রতিবারই আমরা একে অপরকে ‘টুইন’ বা যমজ বলে সম্বোধন করি। কারণ সবাই আমাদের চেহারার মিল খুঁজে পায়, এমনকি আমিও পাই। সে খুবই চমৎকার একজন মানুষ, তাই তার সঙ্গে আমার তুলনা করাটা বড় প্রশংসার বিষয়’।

    চেহারায় এমন মিল থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিনেমা বা টিভি সিরিজে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। গ্রেস সম্প্রতি ‘বিগ লিটল লাইজ’ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করেছেন। অন্যদিকে শেইলিন বর্তমানে নিউইয়র্কে লিন্ডসে লোহান এবং কিট হ্যারিংটনের সঙ্গে নতুন ড্রামা সিরিজ ‘কাউন্ট মাই লাইজ’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। 

    সূত্র: কসমোপলিটান/এএফপি

    অনলাইন ডেস্ক