Tag: সালমান শাহ

  • সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিরা কে কোথায়?

    ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ ফ্ল্যাটে রহস্যজনকভাবে মারা যান তিনি। তার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে পিবিআই দাবি করলেও, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ২০২১ সালে নারাজি দিয়েছিলেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। শেষে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর হোসেন কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। হত্যা মামলার এজাহারে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লুছি ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী এবং অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনও আছেন আসামি তালিকায়। এসব আসামি কে কোথায় আছেন সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো।

    এ হত্যা মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লুছি, বিতর্কিত ব্যবসায়ী অলিম্পিক ইন্ড্রাস্ট্রিজের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, বাংলা চলচ্চিত্রের খলনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল হক ওরফে ডন। ডেভিড, জাভেদ ও ফারুক নামের তিন জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে রাজধানীর বিএফডিসি। এছাড়া আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- ফরিদপুরের রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, রুবী, আ. ছাত্তার ও সাজু।

    মামলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৩ অক্টোবর আদালতে শুনানির সময় এ প্রথম উপস্থিত ছিলেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক। এর এক সপ্তাহ পরই আদালতের নির্দেশে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলাটি করা হয়।

    প্রশ্ন উঠেছে- আসামিরা এখন কে কোথায় আছেন? অনেক আগে থেকেই ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। আসামি রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ অবস্থান করছেন লন্ডনে। সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুছি ও অপর খলনায়ক ডন দেশেই অবস্থান করছিলেন। ১৩ অক্টোবর আদালতেও উপস্থিত ছিলেন সামিরা। তবে ২০ অক্টোবর আদালত থেকে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিলে তারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অন্য আসামিদের অবস্থান এখনও নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ।

    মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের চারটি সংস্থা। প্রথমে রমনা থানার এসআই মাহবুবুর রহমান এ মামলার তদন্ত করেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন মামলাটি পর্যায়ক্রমে ডিবির দুই কর্মকর্তা তদন্ত করেন।

    তারা হচ্ছেন- সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হুমায়ুন কবীর ও এএসপি মো. মজিবুর রহমান। এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এএসপি খালেক-উজ-জামান। এরপর আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করে। এ সংস্থায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ইন্সপেক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম বাবুল। এ তদন্তে তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন পিবিআইর পুলিশ সুপার শফিউল আজম ও বশির আহমেদ। প্রত্যেকটি সংস্থার প্রতিবেদনেই চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ওরফে ইমন ওরফে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

    সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটির জুডিসিয়াল (বিচারিক) তদন্তও করা হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টের বিচারক ইমদাদুল হক মামলাটির জুডিসিয়াল তদন্ত করেন। তার তদন্তেও তখন একই চিত্র উঠে আসে।

    গত ২১ অক্টোবর হত্যা মামলার পর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে রমনা থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল আলম খান্দকারকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন করে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। পাশাপাশি আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

    আসামিরা দেশে আছেন, নাকি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানলে তো ধরেই ফেলতাম। তারা কে কোথায় আছেন, সেটা জানার চেষ্টা চলছে। আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সে জন্য ইমিগ্রেশনে মামলার তথ্য পাঠানো হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অবশেষে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর

    সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ সবচেয়ে বেশিবার বড়পর্দায় দেখা দিয়েছেন অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে। সালমান-শাবনূর জুটি সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় অভিযুক্ত না হলেও কেউ কেউ শাবনূরকে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছেন। বিষয়টি নজর এড়ায়নি ঢালিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর। 

    সোমবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া লম্বা এক পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, ‘আবারও সালমান শাহ প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু কথা! ২৯ বছর আগে কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালীন আমি সংবাদমাধ্যমের খবরে এ বিষয়ে অবহিত হয়েছি।’

    কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে সালমান শাহ হত্যা মামলায় সঙ্গে তার নাম জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য জানতে চাইছেন। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই শুরুতে এ নিয়ে কথা বলতে চাইনি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে সালমান শাহ সংক্রান্ত এই মামলার সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। আমার সম্পর্কে ভিত্তিহীন এসব গুজব ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সবাইকে অনুরোধ করছি সত্যতা বিবর্জিত ও ভ্রান্ত তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকুন।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শাবনূর আরও বলেন, ‘সালমান শাহ ছিল আমার অত্যন্ত প্রিয় সহঅভিনেতা। আমরা একসঙ্গে প্রায় ১৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। সালমান ছিল একজন জনপ্রিয়, অসাধারণ শক্তিমান এবং প্রতিভাবান অভিনেতা। নিঃসন্দেহে বলতে পারি তার সঙ্গে কাজ করে আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার বিকশিত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।’

    ঢালিউডের রাজপুত্রের মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন উল্লেখ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সালমান শাহর অকাল মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। আমাদের জুটির সাফল্য একসময় অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার মৃত্যুর পর কেউ কেউ হয়তোবা নিজেদের বাঁচাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে। আমাদের নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে যা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। তবে আজও আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই — সালমান শাহ কীভাবে মারা গেছে তা আমি সত্যিই জানি না। আমি শুধু তার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। যে-ই দোষী হোক না কেন তাকে যেন আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়। এটাই আমার একান্ত দাবি ও প্রত্যাশা।’

    সবশেষে তিনি লেখেন, ‘সন্তান হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের তা সালমানের মা নীলা (নীলা চৌধুরী) আন্টির আহাজারি দেখলেই অনুভব করতে পারি। আমি আন্টি এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি এবং সর্বোপরি সালমান শাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সামিরার কোনো দোষ নেই: ডন

    বাংলা সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।আদালত তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। 

    এই মামলার ৪ নম্বর আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। মামলার প্রধান আসামি সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য আসামিরা হলেন—প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।

    প্রায় পাঁচ বছর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে জানায়, এটি হত্যা নয়, আত্মহত্যা। তখন ডন স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। অবশেষে কলিজার বন্ধুকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্ত হলাম।’

    পরে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের জনপ্রিয় টকশো ‘সেন্স অব হিউমার’-এ অতিথি হয়ে আসেন ডন। সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সেই পুরনো সাক্ষাৎকারটি আবার ভাইরাল হয়েছে।সাক্ষাৎকারে জয় সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘সালমান ভাইয়ের আত্মহত্যার কারণ কে হতে পারেন—ওনার মা, না স্ত্রী?’

    ডন প্রথমে একে পারিবারিক বিষয় বলে এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন, তিনি সালমানের স্ত্রী সামিরা হকের মধ্যে কোনো দোষ দেখেননি। তার ভাষায়, ‘সালমানের সঙ্গে সামিরার যেরকম প্রেম ছিল, আমি এমন প্রেম জীবনে দেখিনি।’

    জয়ের প্রশ্নে যখন পুনরায় জানতে চাওয়া হয়, ‘সামিরার কোনো দোষই ছিল না?’—ডন জবাব দেন, ‘আমি তো দেখিনি কোনো দোষ।’

    ডন আরও বলেন, সালমান শাহ জীবনের শেষ দিকে মানসিকভাবে চরম অস্থির ছিলেন।

    তার ভাষায়, ‘সালমান শাহ একজন সুপারস্টার হয়েও, এত টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন আত্মহত্যা করলেন? ছয়-সাত মাস ধরে ওকে আমি কখনো স্থির দেখিনি—স্থিরভাবে বসে থাকা বা কথা বলার মতো অবস্থাতেও না।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহের মৃত্যুর দিন পাশের বাসায় ছিলেন দীপা খন্দকার

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ ফ্ল্যাটে রহস্যজনকভাবে মারা যান নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ। তার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে পিবিআই দাবি করলেও, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ২০২১ সালে নারাজি দিয়েছিলেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। শেষে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    ছেলে হত্যার বিচার চাওয়া সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী যেন এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, ন্যায়বিচার পেতে যাচ্ছেন তিনি। নীলা চৌধুরী বলেন, খুনের চিহ্ন আর আত্মহত্যার চিহ্ন আলাদা। সেটা তার শরীরেও ছিল। এটি খুন, বোঝাই যাচ্ছিল। প্রমাণও ছিল। সামিরার ঘনিষ্ঠরা পরে তো বলেই দিল— কীভাবে খুন করেছে।

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে। অন্য ১০ আসামি হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, নায়কের সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও  রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে অমর নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই দিনটি স্মৃতিতে অম্লান ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপা খন্দকারের। কারণ সেই দিনের এক মর্মস্পর্শী স্মৃতি শেয়ার করে নিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে দীপা খন্দকার বলেন, সালমান শাহের মৃত্যুর দিন তিনি ছিলেন ঠিক তার পাশের বাসাতেই—রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে। তিনি বলেন, সালমান শাহ যেদিন মারা যান, আমি তার পাশের বাসাতেই ছিলাম। মানে তখন ইস্কাটনেই থাকতাম।

    অভিনেত্রী বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন, আমি ১৯৯৪ সাল থেকে সালমান শাহের বাসার পাশেই ইস্কাটন গার্ডেনে থাকতাম। নায়কের মৃত্যুর খবর যখন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, তখনই প্রথমবার জানতে পারি—আমার পাশের বাসায় ছিলেন এমন একজন সুপার হিরো।

    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী দীপা খন্দকার ১৯৯৮ সালে একটি চায়ের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখেন। এরপর থেকে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। তবে সালমান শাহের মৃত্যুদিনের সেই ভয়াবহ সকাল এখনো যেন স্পষ্ট তার চোখে ভাসে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মৃত্যুর আগের দিনটি কেমন কেটেছিল সালমান শাহর

    ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নায়কের অকাল মৃত্যুর রহস্য আজও ঘিরে রেখেছে ভক্তদের মনে নানা প্রশ্ন। মৃত্যুর আগের দিনটি কেমন ছিল— তা নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনার শেষ হয়নি।

    সালমান শাহর মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। সেদিন সারাদিনই ব্যস্ত ছিলেন তার নতুন ছবি ‘প্রেম পিয়াসী’–র ডাবিং নিয়ে। কাজ চলছিল এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন সহ-অভিনেত্রী শাবনূর। শুটিং স্পটজুড়ে ছিল হাসিঠাট্টা আর খুনসুটিতে ভরা পরিবেশ। তবে আনন্দের আড়ালেই যেন লুকিয়ে ছিল অদৃশ্য অস্থিরতা।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরের দিকে সালমান শাহ বাবাকে ফোন করে অনুরোধ করেন তার স্ত্রী সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসতে। কিছুক্ষণের মধ্যে শ্বশুর সামিরাকে নিয়ে উপস্থিত হন সাউন্ড কমপ্লেক্সে। সেখানে ঢুকেই সামিরা দেখেন, সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে মজা করছেন।

    সেই সময়ের বিনোদন পত্রিকাগুলোতে দুজনকে নিয়ে প্রকাশিত নানা গুঞ্জন ও লেখা সামিরার মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর দ্রুত এফডিসি থেকে বেরিয়ে আসেন।

    সালমানের বাবা চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সামিরা গাড়িতে ওঠেন, আর বিষয়টি বুঝতে পেরে সালমান ও পরিচালক বাদল খন্দকারও একই গাড়িতে বসেন। কিন্তু পুরো পথেই সামিরা সালমানের সঙ্গে কথা বলেননি। বাদল খন্দকার চেষ্টা করেও দুজনের মধ্যে কোনো কথাবার্তা করাতে পারেননি।

    গাড়ি যখন এফডিসির মূল ফটকে পৌঁছায়, সালমান গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। বাদল খন্দকারও নামেন। দুজন কিছুক্ষণ আড্ডা দেন গেটের সামনে। তারপর সালমান আবার ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও সেদিন আর কাজ হয়নি।

    রাত ১১টার দিকে বাদল খন্দকার সালমান শাহকে তাঁর নিউ ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেন। তারপরই যেন সবকিছু থেমে যায়। পরদিন সকালেই ছড়িয়ে পড়ে সালমান শাহর মৃত্যুর খবর— যে খবর নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে।

    পরিচালক শাহ আলমসহ ঘনিষ্ঠদের ভাষায়, মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সালমান ছিলেন প্রবল মানসিক চাপে। পারিবারিক টানাপোড়েন, প্রযোজকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, এমনকি এক সময় শিল্পী সমিতির নিষেধাজ্ঞাও তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

    সালমান শাহ মাত্র চার বছরে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডে তৈরি করেছিলেন এক অনন্য ইতিহাস।

    তার মৃত্যুর ২৯ বছর পর, আদালতের নতুন নির্দেশে সেই রহস্যময় মৃত্যুর তদন্তে আবারও আলো জ্বলেছে— হয়তো এবার জানা যাবে, ঠিক কেমন ছিল সেই রাতের শেষ মুহূর্তগুলো, যখন থেমে গিয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনযাত্রা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান-মৌসুমী ও শাবনূর ইস্যুতে যা জানালেন মনসুর আলী

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মারা যান ঢালিউড অভিনেতা সালমান শাহ। সেই সময় তার মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে বলা হলেও সালমানের পরিবারের দাবি—এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। তার অকালমৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের জট এবার হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। আদালত হত্যা মামলা হিসাবে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মামলায় প্রধান আসামি সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ডন, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন রয়েছে।

    এর আগে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআই বলেছিল— হত্যা নয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। পিবিআই নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি—দাবি করে ২০২১ সালে নারাজি দিয়েছিলেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। 

    এদিকে গুঞ্জন রয়েছে ঢালিউড অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর এ সম্পর্কের কারণেই নাকি সালমান-মৌসুমী জুটি ভেঙে গিয়েছিল। বিষয়টির সত্যতা নিয়ে এবার কথা বলেছেন অভিনেতার সহকারী হিসেবে কাজ করা মনসুর আলী। 

    সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে মনসুর আলী বলেন, সালমান শাহ ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও পরিবারের প্রতি নিবেদিত একজন মানুষ। শুটিং শেষে তিনি কখনো আড্ডা দিতেন না, তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে যেতেন। তিনি বলেন, সবসময় আমি ভাইকে নারীদের সম্মান করতে দেখেছি। শুধু শাবনূর কেন, কোনো নায়িকাকেই কুনজরে দেখতেন না তিনি। শুটিং শেষ হলে কারও সঙ্গে বসে আড্ডা দিতেন না। দ্রুত বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।

    সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক ভাইবোনের মতো উল্লেখ করে মনসুর আলী বলেন, আমি সাড়ে চার বছর সালমান ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই জানি না। বরং ভাই সব নায়িকাকেই সম্মান করতেন। শাবনূরকে প্রথম দেখেই বলেছিলেন— আমার তো কোনো বোন নেই, তুমি আমার ছোট বোনের মতো।

    মনসুর আলী আরও বলেন, আর শাবনূর নয়; চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে নিয়ে সন্দেহ ছিল সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকের। এমনকি সে কারণেই সালমান-মৌসুমী জুটি ভেঙে গিয়েছিল। তিনি বলেন,  সামিরা হক মৌসুমীকে নিয়ে সবসময় সালমান শাহকে সন্দেহ করতেন। সে কারণেই ‘দেনমোহর’ সিনেমার পর সালমান আর কোনো সিনেমায় মৌসুমীর সঙ্গে কাজ করতে চাননি। 

    মনসুর আলী বলেন, এ সিনেমার পর আরেকটির অফার আসে; কিন্তু সে সিনেমায় মৌসুমী থাকায় ভাই না করে দিয়েছিলেন। তাকে যখন বলি, ভাই সিনেমার গল্প তো ভালো ছিল, তখন ভাই আমাকে বলেন— তোমার ভাবি আমাকে এমনিতেই সন্দেহ করে। আমি আর মৌসুমীর সঙ্গে কাজ করব না। আমার সংসারে আমি সুখ চাই, শান্তি চাই।

    উল্লেখ্য, সালমান শাহ হত্যা মামলায় ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে। অন্য ১০ আসামি হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, নায়কের সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও  রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এবার সামিরাকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন সালমান শাহর ছোট ভাই

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও রহস্যের ঘেরা কুয়াশা এখনো কাটেনি। এবার সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিলেন নায়কের ছোটো ভাই শাহরান চৌধুরী। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি মুখ খুলেছেন সালমানের সাবেক স্ত্রী ও হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সামিরা হককে নিয়ে।

    সম্প্রতি ৩৪ মিনিটের এক দীর্ঘ লাইভে শাহরান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি সাধারণত লাইভে আসি না। কিন্তু কিছু কথা না বললেই নয়। আমার উদ্দেশ্য কাউকে ছোটো করা নয়—শুধু সত্যিটা বলা’।

    সামিরাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই আপনাকে ভীষণ ভালোবাসতো। একবার ভেবে দেখুন, কী দেখে আপনি তাকে ভালোবেসেছিলেন, বিয়ে করেছিলেন, এমনকি নিজের পরিবার ছেড়ে তার সঙ্গে চলে এসেছিলেন। তখন নিশ্চয়ই তার মধ্যে বিশেষ কিছু দেখেছিলেন। আপনার পরিবার যখন এ বিয়ে মেনে নেয়নি, তখনও কিন্তু আমাদের পরিবার আপনাকে কখনো ফেলে দেয়নি।’

    এরপর কথা বলতে বলতে আবেগে ভেঙে পড়েন শাহরান। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা বলেন, আমার ভাইয়ের আত্মহত্যার প্রবণতা ছিল—একবার ভেবে দেখুন, আপনার সঙ্গে পরিচয়ের আগ পর্যন্ত সালমান শাহর জীবন ছিল একদম স্বাভাবিক। এই যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না।’

    সামিরার প্রতি হতাশা প্রকাশ করে শাহরান বলেন, ‘আমি আপনাকে ফোন করেছিলাম, কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি ধরেননি। হয়তো বয়স হয়েছে, অনেক কিছু মনে নেই। আমি আপনাকে ছোট করতে চাই না। তবে মনে করুন, বগুড়া থেকে আপনি কেন ঢাকায় এসেছিলেন, কোথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন—সব আমার ভাই আমাকে বলেছিল। আমি আজ কিছু বলব না, শুধু বলব—আপনার কর্মের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চান।’

    লাইভের শেষদিকে শাহরান আহ্বান জানান, ‘সালমান শাহ হত্যা মামলার অভিযুক্ত ১১ জন যেন নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চান।

    লাইভে শুধু সামিরা প্রসঙ্গেই নয়, আরও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন শাহরান। তার বক্তব্যে স্পষ্ট—তিনি আজও বিশ্বাস করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি; বরং এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মারা যান নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। সে সময় তার মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, সালমানের পরিবার বরাবরই দাবি করে আসছে—এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহকে নিয়ে লেখা বই নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ জানা গেল

    সাংবাদিক রবি আরমানের লেখা বহুল আলোচিত ও সমালোচিত গ্রন্থ—‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ নামের একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে হৈচৈ পড়ে যায়। এ বই প্রকাশিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরেই বাজার থেকে বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

    ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এ বই বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কারণ, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বইটি প্রকাশের পরই এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, বইটিতে প্রকাশিত তথ্য মিথ্যা ও মানহানিকর। এরপর তিনি লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে বইটির বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আদালতের নির্দেশের পর বাজার থেকে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সংগ্রহের অযোগ্য এক ‘বিতর্কিত দলিল’ হয়ে ওঠে।

    বইটির প্রচ্ছদের পেছনে লেখা ছিল এক আবেগঘন ভূমিকা—“আমাদের সিনেমার বাগানে একটি ফুল ফুটেছিল—সুবাসিত ও উজ্জ্বল। নাম তার সালমান শাহ। চন্দ্রালোকে ভেসে যাওয়া সেই সফল ও উচ্ছল যুবকের দেহে বিঁধেছিল গোপন এক বিষকাঁটা। অন্তর্লীন যাতনায় নীল হয়ে এক শুভ্রসকালে হঠাৎ সে আত্মদংশনে হারিয়ে যায়। তারপর সেই বাগানে পাখিরা আর গান গায় না, ফুল ফোটে না, বাতাসে ভাসে বিষাদের একটানা করুণ সুর।”

    এরপর লেখা ছিল— ‘দুর্ভেদ্য রহস্যের পর্দা সরিয়ে সালমানচরিতের সেই গোপনগাঁথা উঠে এসেছে এক অন্তরঙ্গজনের সাহসী কলমে। ঢাকার সিনেমা বলয়ের এক উজ্জ্বল সময় ও সেই সময়ের মহানায়ক সালমান শাহকে ঘিরে এটি এক বিরল দলিল।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আমার প্রিয় নায়ক সালমানের বুকে আমি নিজেই ছুরি চালাই’

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ঢালিউডের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার অকালমৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের জট এবার হত্যা মামলার রূপ নিয়েছে। সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী। 

    এর আগে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআই বলেছিল— হত্যা নয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। পিবিআই নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি—দাবি করে ২০২১ সালে নারাজি দিয়েছিলেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। এবার আদালত হত্যা মামলার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই হত্যা মামলায় তার  স্ত্রী সামিরা, খল-অভিনেতা ডন, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ  ১১ জন আসামি এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  

    সেই সূত্রেই আবারও সামনে এসেছে সালমানের মৃত্যুর দিন ঘিরে নানা অজানা তথ্য। এবার আলোচনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গকর্মী রমেশ, যিনি ময়নাতদন্তের সময় সালমানের মরদেহে ছুরি চালিয়েছিলেন। তবে রমেশ এখন আর রমেশ নেই; তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন। ইসলামধর্ম গ্রহণ করে এখন তার নাম হয়েছে— সেকান্দার। সম্প্রতি সেকান্দার এক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহের মরদেহ ময়নাতদন্তের সেই দিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিয়েছেন।

    তখনকার সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে সেকান্দার বলেন, আমার প্রিয় নায়কের বুকে আমি নিজেই ছুরি চালিয়েছিলাম। ফরেনসিক চিকিৎসকের নির্দেশে সব কিছুই করতে হয়েছিল আমাকে, কিন্তু কাটতে কাটতে বিশ্বাস হচ্ছিল না—সালমান মারা গেছেন।

    সেকান্দার আরও বলেন, সালমান শাহর ভক্ত ছিলেন এ দেশের লাখো মানুষ। আমি নিজেও ছিলাম তাদের মধ্যে একজন। হঠাৎ শুনলাম সালমান শাহ মারা গেছেন, মরদেহ আসছে মর্গে। 

    তিনি বলেন, সেদিন হয়তো সরকারি ছুটি ছিল—শুক্রবার। মর্গের সামনে তখন হাজার হাজার মানুষের ভিড়। চোখে পানি নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছেন, তাদের প্রিয় নায়কের শেষ দেখা পাওয়ার আশায়।

    সেকান্দার বলেন, তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ এত আধুনিক ছিল না। পুরোনো মর্গেই মরদেহটি আনা হয়। চিকিৎসকের নির্দেশে ময়নাতদন্ত করি আমি। তিনি বলেন, লাশ কাটার সময় মনে হচ্ছিল, যেন নিজের প্রিয় মানুষকে আঘাত করছি।

    অবসরে থাকা এই মর্গকর্মী বলেন, হাজার হাজার লাশ কাটার অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। কিন্তু সালমানের লাশে হাত দেওয়ার সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমানের কণ্ঠ নকল করতে পারতেন ডন, জানালেন নতুন তথ্য

    জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার অসমাপ্ত কয়েকটি ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। সালমানের কণ্ঠ নকল করার দক্ষতার কারণেই নির্মাতারা তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ডনের দেওয়া কণ্ঠে মুক্তি পায় সালমান অভিনীত কয়েকটি ছবি, যার মধ্যে রয়েছে ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘সত্যের মৃত্যু নেই’।

    সম্প্রতি বৈশাখী টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন ডন। সালমান শাহর সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্ব হলো এমন একটা জিনিস, মিশতে মিশতে আত্মার সঙ্গে একটা কানেকশন হয়ে যায়। এভাবে চলতে চলতে বন্ধুত্বের অনেক কিছু একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে চলে আসে। তেমনই সালমানেরও অনেক কিছুই আমার মধ্যে চলে আসে। আমি সালমানের ভয়সে নকল করে কথা বলতে পারতাম।’

    ডাবিং করা বিষয়ে ডন বলেন, ‘শিবলী ভাই ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিতে ডাবিংয়ের জন্য অনেককেই এনেছিলেন, কারোটাই মনমতো হচ্ছিল না, হয়তো মোটা গলা হয়ে যাচ্ছিল না হলে চিকন গলা হয়ে যাচ্ছিল। কিংবা মিলছিলো না। তিন-চার দিন এমন করার পর রিজেক্ট করে দিলেন। এরপর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শিবলী ভাইকে বললেন, ভাই আপনি ডন ভাইকে ট্রাই করতে পারেন। সালমানের ভয়েসের সঙ্গে অনেক মিল।’

    নির্মাতার অনুরোধেই পরে ডাবিং করেন জানিয়ে ডন বলেন, ‘পরে আমি শিবলী ভাইয়ের অনুরোধে ডাবিং করি। যদিও আমি করতে চাইনি। পরে চিন্তা করলাম, করি, এটা করে দিই। ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিতে পুরোটাই করলাম। আমি শিবলী ভাইকে বললাম, আপনি এটা প্রচার করেন না যে ভয়েস আমি দিয়েছি। এই প্রথম মানুষ জানল।’

    বিনোদন ডেস্ক