Tag: সালমান শাহ

  • ১০০ কোটির প্রস্তাব এলে যা বলেছিলেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় ঢালিউডের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যা— এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা-সমালোচনা থামেনি।

    এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আবারও সামনে এসেছে। সম্প্রতি সালমান শাহর মা লন্ডনে বাঙালি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

    সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে সালমানভক্তদেরও প্রত্যাশা— তিন দশক ধরে চলা এই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে একদিন সত্য সবার সামনে চলে আসবে। নব্বই দশকের জনপ্রিয় এ নায়কের মৃত্যুরহস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আলোচনা-সমালোচনা আর বিতর্ক অবসান ঘটবে। 

    সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবার ও ভক্তরা আবার বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর পর তাকে দেওয়া কথিত প্রলোভন ও হুমকির বিষয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। 

    লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী বলেন, সালমানের মৃত্যুর পর মামলা নিয়ে আর না বাড়াবাড়ি করার বিনিময়ে তাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে সালমান মারা যায়। ওই বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাসে জাতীয় পার্টির তৎকালীন একজন মন্ত্রী, যিনি আজিজ মোহাম্মদের বন্ধু ছিলেন, আমার বাসায় এসেছিলেন। তার নাম বলতে চাই না। মনে হয় তিনি এখন আর বেঁচে নেই। ওই ব্যক্তির দেওয়া প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে নীলা চৌধুরী বলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন— ভাবি আপনাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এসব নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনার বয়স হয়ে যাচ্ছে, এই টাকাগুলো খরচ করেন। আমি তাকে বলেছিলাম— ভাই, আমি ১০০ কোটি টাকা চাই না, আমার ছেলেটাকে এনে দেন।

    সালমানের মায়ের দাবি, তিনি তার ছেলের মৃত্যুর পর শুধু অর্থের প্রস্তাবই নয়, বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো প্রলোভন বা হুমকিই তাকে ছেলের মৃত্যুর সত্য উদ্ঘাটনের দাবি থেকে সরাতে পারেনি।

    সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও তার সাবেক স্ত্রী সামিরা প্রসঙ্গে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সামিরা দোষী। ও খুনি। ওর বিচার চাই। খুনি না হলে ও পালাবে কেন? 

    সামিরার শাস্তি চেয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি সামিরা পালিয়ে ভারতের এলাহাবাদ অথবা হায়দরাবাদে গেছে। ভারত থেকে সালমান শাহর এক ভক্ত আমাকে জানিয়েছে— ‘সে নিশ্চিত হয়ে বলেছে সামিরা ভারতে পালিয়ে গেছে।’ তবে সামিরার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা দাবির স্বাধীন সত্যতা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়নি।

    অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন প্রসঙ্গে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।’

    তিনি বলেন, ‘সালমান শাবনূরকে নিজের বোনের মতোই দেখত। শাবনূরের সঙ্গে আমার ছেলের কোনো প্রেম ছিল না। শাবনূর আমার ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং সালমান তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করত। সালমানের কোনো বোন ছিল না। তাই সে শাবনূরকে বোনের মতোই দেখত ও স্নেহ করত’ বলেও জানান নীলা চৌধুরী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ডনের অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে যা বললেন সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী

    নব্বইয়ের দশকের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহ মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। এ ক্ষণজন্মার মৃত্যুর কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ তর্কবিতর্কের যেন শেষ নেই।

     তার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। সেই সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রী সামিরাকে ঘিরেও নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। 

    এর আগে ১৯৯২ সালের আজকের এই দিনে (১২ আগস্ট) ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সালমান শাহ ও সামিরা। কয়েক বছরের দাম্পত্যের পর সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু তাদের জীবনে গভীর শোকের অধ্যায় তৈরি হয়। এরপরও সামিরাকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন সামনে এসেছে। 

    কয়েক বছর আগে খলঅভিনেতা ডনের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা গুঞ্জন। ছবির সেই নারীকে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা বলে দাবি করা হলেও পরে ছবিটি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসে। 

    সেই সময় ছবির নেপথ্যের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছিলেন সামিরা ও সালমান শাহর বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ। 

    এদিকে সালমানের মৃত্যুর পর সামিরা মোস্তাক ওয়াইজকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে তাদের সেই দাম্পত্যেরও অবসান ঘটে। ভাইরাল ছবিটি নিয়ে আলোচনার সময় মোস্তাক দাবি করে বলেছিলেন, ডনের পাশে থাকা নারী সামিরা নন; তিনি অভিনেত্রী সাবরিনা। ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় ছবিটি তোলা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সামিরা আমাকে বলেছে— এ ছবির পেছনের কাহিনি। ছবিটি ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালে তোলা।

    ছবিটির নেপথ্যের ঘটনা ব্যাখ্যা করে মোস্তাক ওয়াইজ আরও বলেন, ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার মূল নায়ক-নায়িকা ছিলেন সালমান শাহ ও শাবনাজ। সাবরিনা ছিলেন পার্শ্বনায়িকা। শুটিংয়ের সময় দুষ্টুমি করে ঘরের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ছবিটি তুলেছিলেন সালমান শাহ। পরে সেই ছবি নিয়ে বিভিন্ন সময় ডনের সঙ্গে মজা করতেন বলেও দাবি করেন মোস্তাক।

     তবে ডনের সঙ্গে সামিরার একটি আলাদা ছবির কথাও জানিয়েছেন মোস্তাক ওয়াইজ। তিনি বলেন, একবার সামিরা ম্যাগাজিন পড়ার সময় সালমান শাহ ছবি তুলছিলেন। সেই সময় ডন হাত বাড়িয়ে দিলে সামিরার সঙ্গে তার একটি ছবি তোলা হয়।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডন ও সামিরার অন্য ছবিগুলো সম্পাদিত বলেও দাবি করে মোস্তাক ওয়াইজ বলেন, এসব ছবির বেশিরভাগই ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

    অন্যদিকে সেই সময়ের ভাইরাল হওয়া ছবি ঘিরে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেছিলেন সামিরা। তিনি বলেছিলেন, আমার একটি ছবি দেখিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। ওর ভক্তরা না জেনে আমাকে ভুল বুঝছেন, অপবাদ দিচ্ছেন। তারা আসলে ইমনের ভালোবাসার মানুষকেই ছোট করছেন। সামিরা বলেন, ডন তার কাছে ছোটভাইয়ের মতো এবং প্রতি ঈদে তার পা ছুঁয়ে সালাম করতেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • তিন দশক পর সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী

    বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো এই চিত্রনায়ককে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ তিন দশক পরও এতটুকুও কমেনি। অভিনেতার ছোট্ট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি জুটি বেধে কাজ করা অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে তার পর্দার রসায়নটাও ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। 

    সালমানের মৃত্যুর পর এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে—এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই গুঞ্জন এখনো চলছেই। এবার প্রসঙ্গটি নিয়ে মুখ খুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তার দাবি, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন তিনি। 

    সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী। তিনি জানান, শাবনূর সালমানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমানও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সালমানের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরকে তিনি বোনের মতো স্নেহ করতেন। 

    শাবনূরও বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তাদের সম্পর্ক ছিল ভাই–বোনের মতো। 

    তবে এই অভিনেত্রীকে নিয়ে কিছু অভিযোগও করেছেন প্রয়াত সালমানের মা। তার দাবি, শাবনূর কখনো কখনো সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা ধরনের গল্প ছড়িয়ে পড়ে। 

    অন্যদিকে, শাবনূর বরাবরই এসব প্রেমের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি, বরং ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ ও গণমাধ্যম তাদের বন্ধুত্বকে ঘিরে মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এ প্রসঙ্গে শাবনূর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’ 

    উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় সালমান শাহর। এতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনীত ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। 

    সালমান-শাবনূর জুটির ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমা আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ডনকে গ্রেফতারের পর অন্য আসামিদের নিয়ে প্রশ্ন নীলা চৌধুরীর

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ডনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।

    আজ (১০ আগস্ট) বিকালে যুক্তরাজ্য থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে? কেন এসব কথা সামনে আসছে না? কেন অন্যরা এখনো ঘরে বসে আছে, কেন গ্রেফতার হচ্ছে না?’

    নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, ডন বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং সালমান শাহ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানান কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আসামি হওয়ার পরও ডন বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন। তার প্রশ্ন, এতদিনেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।

    সালমান শাহর মা বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল, ছেলের হত্যার বিচার পাব। আসামিরা দ্রুত গ্রেফতার হবে। সেটা হয়নি। এখনো মূল আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার একটাই চাওয়া, কোনোভাবেই যেন ডন জামিন না পায়। সে ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাকে এজন্য শাস্তি পেতেই হবে।’

    নীলা চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, সালমান শাহ জীবিত থাকা অবস্থায় ডন তার কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিতেন। তার ভাষায়, স্বার্থ ছাড়া এমন মানুষ কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।

    সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানান আলোচনা ও জল্পনা রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে, কেন ডিপজলকে বলে দিতে হয়? ডিপজল কেন বলবে সে বিমানবন্দরে? আগে থেকেই তো এরা চোখের সামনেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারণে সাহস বেড়েছিল।’

    নীলা চৌধুরীর ধারণা, ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

    সবশেষে নীলা চৌধুরী বলেন, এখনো মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রধান আসামি সামিরাসহ সবাইকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে নন, চারপাশেই আছেন। তার একমাত্র প্রত্যাশা, সালমান শাহ হত্যার বিচার যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ডনের গ্রেফতার নিয়ে যা বললেন মামা আলমগীর

    চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। আজ রোববার সকালে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমের করা মামলায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম জানান, ‘সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলায় তার বাসার পরিচারিকা ডলি, মনোয়ারা ও আবুলের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যার মূল রহস্য বের হয়ে আসবে। অথচ পুলিশ বলছে, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।’

    কুমকুম বলেন, ‘এই মামলায় পুলিশ সালমান শাহর বন্ধু ও মিডিয়ার অনেকের সাক্ষ্য নিয়েছে। বাসার পরিচারিকা ডলি, মনোয়ারা ও আবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি পুলিশ। বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক। এতে মনে হয় হত্যার রহস্য ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন- আবুল ডলি মনোয়ারাকে কেন গ্রেফতার করা হয় না?’

    সালমান শাহর হত্যা মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম আরও বলেন, আদালতে জবানবন্দিতে ডন বলেছেন, ‘সালমান শাহ যেদিন মারা যান। সেদিন হরতাল ছিল, এজন্য তিনি তার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। এরপর তিনি সিলেটে মাজারে যান। সেখানে গিয়ে প্রিয় বন্ধুর মাকে দেখতে যায়নি ডন। বন্ধু হলে এমন হওয়ার কথা নয়।’

    গতকাল রোববার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।  

    আদালতে সিআইডির আবেদনে বলা হয়, ডনসহ অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছে বলে বাদী এজাহারে বলেছে। মামলার তদন্ত চলছে। এ আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ডন গ্রেফতার, যা বললেন সালমান শাহর মা

    ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন সালমান শাহ। ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় নাম থাকার কারণে ঢাকাই সিনেমার খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

    গত কয়েক দশক ধরে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আসছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। এর আগেও অভিনেতা ডনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি।

    ডন গ্রেফতার হওয়ার পর নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সালমান আমার সন্তান। সে আমার বুকের মধ্যে আছে, থাকবে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর সালমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই ডন।’ 

    নীলা চৌধুরীর আরও বলেন, ‘শুধু তাই নয়, সালমানের মৃত্যুর পর সে আমাকে নানাভাবে অপমান করেছে। আমার ছেলের নামে অনেক মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আজ সে গ্রেফতার হয়েছে, একদিন সবকিছুই প্রমাণ হবে।’ 

    বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থার কথা স্মরণ করে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা ও বর্তমান সরকারের প্রতি আমার আস্থা আছে। সালমান হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হোক। আশা করি, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার একদিন পাব।’

    ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। লাশ উদ্ধারের পর ধারণা করা হয়, আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি—তাকে খুন করা হয়েছে।

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন—সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ।  

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিমানবন্দর থেকে ডন গ্রেফতার হলেন যেভাবে

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

    বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশনের স্টপ লিস্টেও তার নাম ছিল। আজ সৌদি আরব যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সিআইডির কর্মকর্তারা এসে তাকে নিয়ে যান।

    ডনকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজীর বলেন, সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ আসামির তালিকায় অভিনেতা ডনের নামও রয়েছে। গত বছর আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি দিয়ে এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আজ (৯ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ডন বিমানবন্দরে যান। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এই ঘটনায় হত্যা মামলা হিসেবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পূর্বের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একাধিক সংস্থার তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করে। তবে এ সিদ্ধান্ত তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও কার্যকর তদন্তের অভাব নিয়ে সমালোচনা ছিল। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে রয়েছে এবং নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    মামলার অগ্রগতি এবং ডন হকের গ্রেফতার ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত এই মৃত্যু রহস্য।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • সালমান শাহ হত্যা মামলার রাজসাক্ষীর বক্তব্যের পালটা জবাব দিলেন শাবনূর

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজের বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ঢালিউডের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহকে। সেই মৃত্যু নিয়ে এখনো চলছে চর্চা। মামলাও রয়েছে চলমান। সালমান শাহর মৃত্যুর পর এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। সেই সময় রাজসাক্ষী হয়ে ‘সালমান শাহ’কে হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনের সঙ্গে নিজেও দায়ী বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন তিনি। 

    সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ প্রসঙ্গে বারবার শাবনূরের নাম টেনে এনেছেন রিজভী আহমেদ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী অভিনেত্রী। শনিবার (৮ আগস্ট) দীর্ঘ এক ফেসবুক বার্তায় সেই ঘটনা প্রসঙ্গে বিশদ এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন শাবনূর।

    সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে  ‘রিজভীর গালগল্প ও অসত্য বয়ান’ শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই স্ট্যাটাসে শাবনূর লিখেছেন— সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায় সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী (বিল্টু)-কে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। 

    তিনি বলেন, ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দি ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে— কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছু দিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়। পরে সেখানে অবস্থানকালে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় সে আবারও সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ২০১৯ সালে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘সময় টিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দাবি করে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিল। 

    অভিনেত্রী বলেন, আশ্চর্যের বিষয়— সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছু দিন আগে ‘আরজে নীরব’ ও ‘সময় টিভি’কে দেওয়া দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারেও সে আবার একই দাবি করে যে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তাই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং আমাকেও ওই ঘটনার জন্য বারবার দায়ী করে কথা বলে।

    তাহলে রিজভীর কোন বক্তব্য সঠিক প্রশ্ন করে শাবনূর বলেন, একই ব্যক্তি যখন সময়ে সময়ে একই ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়, তখন তার সর্বশেষ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। 

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে প্রকাশিত তার দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে সে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক অসঙ্গগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে সবার কাছেই সেগুলো সাংঘর্ষিক, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হবে। 

    অভিনেত্রী বলেন, সম্প্রতি ‘আরজে নীরব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে— আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে কোনো দিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসতো যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল এবং এখনো চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— প্রায় একই সময়ে ‘সময় টিভি’কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে— আমি নাকি তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ছিলাম। 

    শাবনূর বলেন, শুধু তাই নয়, সে আরও দাবি করেছে যে, ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়! এখন প্রশ্ন হলো— সে তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে এবং তার নিজের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। আর আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো, কীভাবে হলো? এর প্রমাণই বা কী? 

    অভিনেত্রী বলেন, আরও মজার বিষয় হচ্ছে— সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগ থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনো দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’-ই হয়েছিল!

    শাবনূর রিজভীকে আগে থেকে চিনতেন না। সালমান শাহর মৃত্যুর পর রাজসাক্ষী হওয়ার ঘটনায় সেই ব্যক্তির নাম প্রথম শোনেন বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।  তিনি বলেন, রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে, আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম এবং তার আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভীর নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। 

    অভিনেত্রী বলেন, তাহলে প্রশ্ন হলো— সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে, আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম? রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামী করতাম বা সালমান ও তার স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। 

    এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানান শাবনূর। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনো দিন বলতে পারবেন না যে, আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামী করেছি।

    এ ছাড়া ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে যাওয়া, সেখানে বাড়ি কেনা কিংবা সালমান খান ও শাহরুখ খানদের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়াসহ বিভিন্ন দাবি করেছেন রিজভী। এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী (আন্টি) তার ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে পুনরায় মামলা করার পর, ওই মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার মোড় ঘুরে যাওয়ার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আমার ধারণা— তাদের প্ররোচনায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য— এমনকি আর্থিক প্রলোভনে পড়েও রিজভী আহমেদ আমার ও নীলা আন্টির বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 

    তিনি বলেন, নিজেদের রক্ষা করা এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করাই হয়তো তাদের উদ্দেশ্য। আমি বরাবরের মতোই স্পষ্ট করে বলতে চাই— সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সংযোগ ছিল না। তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। 

    শাবনূর বলেন, সালমান শাহ শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ। তার অকাল মৃত্যু আজও আমাকে ব্যথিত করে।

    ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি করে অভিনেত্রী বলেন, আমি আন্তরিকভাবে চাই, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

    সবশেষে শাবনূর বলেন, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ ছিল না— এখনো নেই। সে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত মানহানিকর।  

    উল্লেখ্য, অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় করা হত্যা মামলায় মোট ১১ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার আসামিদের তালিকায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্র খলঅভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড জাভেদ ফারুক রুবী, আব্দুস ছাত্তার সাজু, রিজভি আহমেদ ফরহাদ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মৃত্যুর আগে সালমান শাহর সঙ্গে যে চার ব্যক্তি দেখা করতে গিয়েছিলেন

    ঢালিউডের নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে এই অভিনেতার মৃত্যুর ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তার সঠিক কারণ কি ছিল তা নিয়ে জল্পনা থামছেই না। 

    সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। 

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। 

    এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

    বুধবার (১০ জুন) তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    জানা গেছে, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাদীর বোন জামাতা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তার ছোট ছেলে শাহরান শাহ্ সহ নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তার ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। 

    তখন স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানান যে, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তখন তারা তাদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তখন তারা দ্রুত নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় এসে দেখেন যে, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের উপরে মরার মতো পড়ে আছেন। 

    তাৎক্ষণিকভাবে তারা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিম সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। 

    অতঃপর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সংক্রান্তে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিনামূল্যে বড়পর্দায় দেখা যাবে সালমান-শাবনূরের সিনেমা

    নব্বই দশকে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি ছিল সালমান শাহ ও শাবনূর। এমনকি এই জুটিকে দেশের বড়পর্দার ইতিহাসেরই অন্যতম দর্শকপ্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন পর আবারও এই তারকা জুটির সিনেমা বড়পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়েছে সিনেমাপ্রেমীরা। 

    বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সালমান-শাবনূরের দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তোমাকে চাই’-এর বিশেষ উন্মুক্ত প্রদর্শনী। দর্শকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন। 

    মতিন রহমান পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে সালমান শাহ ও শাবনূর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন আনোয়ারা ও রীনা খান। মুক্তির পর ছবিটি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক বাংলা সিনেমার অন্যতম আলোচিত কাজে পরিণত হয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে পুরনো দিনের জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রগুলো নতুন করে বড় পর্দায় উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বড় পর্দায় ‘তোমাকে চাই’ সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী, তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজ দায়িত্বে মিলনায়তনে উপস্থিত হতে পারবেন। 

    বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতেই নিয়মিত এমন আয়োজন করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ সূত্রে জানা গেছে। 

    বিনোদন ডেস্ক