Tag: সালমান শাহ

  • আবার মুক্তি পেয়েছে সালমান-শাবনূরের সিনেমা

    নব্বই দশকের ঢালিউড সিনেমার প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ধূমকেতুর মতো  আবির্ভূত হয়েছিলেন। অল্প দিনের ক্যারিয়ারে তিনি জনপ্রিয়তায় আকাশ ছুঁয়েছিলেন। হয়ে উঠেছিলেন কোটি তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। ফ্যাশন, স্টাইল, সংলাপ ও সাবলীল অভিনয়ে অনন্য ছিলেন সালমান শাহ।

    ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমাটি। সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী পেয়েছিলেন দুটি নতুন মুখ—মৌসুমী ও সালমান শাহ। মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যারিয়ার শুরু করা সালমান শাহ সুপারহিট সিনেমা হিসাবে উপহার দেন। পরে ক্ষণজন্মা সালমান খান অনেক নায়িকার সঙ্গেই হিট সিনেমা উপহার দিলেও সেরা জুটিটি গড়ে উঠেছিল জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে। সালমানের ক্যারিয়ারের সর্বাধিক সিনেমাও শাবনূরের সঙ্গেই। তার মধ্যে অন্যতম হিট সিনেমা ‘জীবন সংসার’।

    গল্প, নির্মাণ, গানে-অভিনয়ে সমৃদ্ধ এ সিনেমাটির পরিচালক জাকির হোসেন রাজু। সিনেমাটিতে সালমান-শাবনূরের সঙ্গে সাদাকালো যুগের হিট জুটি ফারুক-ববিতাও অভিনয় করেছেন। ১৯৯৬ সালের ১৮ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সেই সময় ব্যবসা সফল হয়েছিল।

    দীর্ঘদিন পর আবারও সিনেমাটি হলে মুক্তি পেয়েছে। এ প্রজন্মের অনেক দর্শক সালমান শাহকে পছন্দ করেন এবং ভালোবাসেন। তাকে নিয়ে গর্বও করেন। তারা প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে আক্ষেপ করেন— সালমানের সিনেমা হলে বসে দেখতে পারেননি বলে। তাদের জন্য নতুন করে ‘জীবন সংসার’ মুক্তি পাওয়াটা দারুণ সুযোগ বলে মনে করেন পরিচালক জাকির হোসেন রাজু।

    গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজধানীর বিজিবি সিনেমা হলে সালমান শাহর ‘জীবন সংসার’ সিনেমাটি চলছে। এর আগে তারা সালমান-শাবনূরের ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ ছবিটিও মুক্তি দিয়েছিলেন। 

    বিজিবি সিনেমা হলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হলে আগের মতো দর্শক এখন আর আসেন না। সেটি নতুন সিনেমা চলুক আর পুরোনো সিনেমাই চলুক। দর্শক এখন আর আগের মতো সিনেমা দেখেন না। এর পরও আমাদের তো হল চালু রাখতে হয়। এ সপ্তাহে সালমান শাহর কালজয়ী সিনেমা ‘জীবন সংসার’ চলছে।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • রয়েল এনফিল্ড কাঁপাচ্ছে দেশ, ২৯ বছর আগেই ব্যবহার করেছিলেন সালমান

    বর্তমানে বাংলাদেশে বহুল জনপ্রিয় রয়েল এনফিল্ড বাইক, যা আমরা ২০২৫ সালে পেয়েছি। অথচ বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ ‘৯০ দশকেই বাংলাদেশের রোড কাঁপিয়ে গেছেন রয়েল এনফিল্ড দিয়ে।

    খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ছবিটি মূলত ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ সিনেমা থেকে নেওয়া হয়েছে। সিনেমার ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ গানটি শুরু হয় এই বাইকে চড়ে কালো পোশাক পরা সালমান শাহকে দেখিয়ে। ১৯৯৬ সালে এমএম সরকার পরিচালিত এ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এতে সালমানের নায়িকা ছিলেন শাবনূর।

    রয়েল এনফিল্ডে চড়া ছবিটির পোস্টে সালমানভক্তরা মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন— এ জন্যই সালমান শাহকে উত্তরাধুনিক নায়ক বলা হয়। তিনি ছিলেন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। আরেক নেটিজেন লিখেছেন— আমাদের সালমান শাহ ছিলেন আন্তর্জাতিক মানের একজন স্টাইলিশ নায়ক। তার রুচি ও ফ্যাশন আজও প্রাসঙ্গিক।

    জেকে খোকন নামে একজন প্রশ্ন তুলেছেন— এত বছর আগে বাংলাদেশে রয়েল এনফিল্ড এলো কোত্থেকে? অনুমতি ছিল কি? তাকে উত্তর দিয়েছেন বেশ কয়েকজন। এক নেটিজেন লিখেছেন—আগে রাস্তায় বাইকের সিসি লিমিট ছিল না। ২০০০ সালের পর থেকে সিসি লিমিট চালু হয়। তার আগে হোন্ডা কোম্পানি ২০০ সিসির বাইকও বাংলাদেশে বিক্রি করেছে।

    রাশেদ নিজাম বিপলু নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন—কেউ কি এই বাইকের অরিজিনাল মালিকের কথা জানেন? এই বাইকের মালিক হচ্ছে— মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসকারী বাংলা সিনেমার ভিলেন ফকিরার। এখনো তার কাছে এই বাইকটি আছে।

    মোহাম্মাদ ইমরান হাসান জানতে চেয়েছেন, বাইকটি এখন কোথায় আছে? জাফিরুল ইসলাম নামে একজন উত্তর দিয়েছেন, ‘বাইকটি এখনো এফডিসিতেই আছে।’ তবে এফডিসিতে এমন কোনো বাইকের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    এভাবেই প্রিয় নায়ককে ২৯ বছর আগে বর্তমানের ট্রেন্ডি স্টাইলিশ বাইক রয়েল এনফিল্ড চালাতে দেখে সালমানভক্তরা বন্দনায় মেতেছেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। অনেকে নস্টালজিক হয়ে সালমান শাহর ব্যবহার করা বিভিন্ন গাড়ি ও বাইকের ছবি শেয়ার করেছেন ফেসবুকের সেই পোস্টে। 

    মোটরবাইক ব্র্যান্ড রয়েল এনফিল্ড বাংলাদেশের বাজারে এখন ভীষণ জনপ্রিয় । দেখতে আকর্ষণীয় এ ব্র্যান্ডের বাইক তরুণদের দারুণ আগ্রহে রয়েছে। এটি হয়ে উঠেছে তাদের ফ্যাশন ও প্যাশনের অনুষঙ্গও। সম্প্রতি বাজারে আসার পর বাইকটি নিয়ে রীতিমতো হইচই হয়েছে বাংলাদেশে।

    মজার একটি তথ্য সামনে এসেছে ‘রয়েল এনফিল্ড ফ্যান ক্লাব-বাংলাদেশ’ নামের একটি পেজ। সেখানে অমর নায়ক সালমান শাহের একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে— আজ থেকেই ২৯ বছর আগে এই ব্র্যান্ডের বাইক ব্যবহার করে গেছেন সবার প্রিয় নায়ক। ছবিতে সালমানকে দেখা গেছে সাদা রঙের একটি বাইকে। ছবির পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে। প্রায় ৩৬ হাজার রিয়েক্ট পড়েছে ছবিটিতে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহর নায়িকার অ্যাকাউন্ট যে কারণে ফ্রিজ হলো

    ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী। নব্বই দশকের মাঝামাঝি বিনোদন জগতে আবির্ভাব হয় তার। প্রায় ৩৫ সিনেমায় অভিনয় করা শিল্পী একসময় বড়পর্দা থেকে দূরে সরে যান, আত্মনিয়োগ করেন উপস্থাপনায়। টিভি নাটকেও উপস্থিতি ছিল তার। তবে এবার হঠাৎ একেবারেই ভিন্ন এক কারণে তার নাম আলোচনায়।

    শিল্পীর স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল। সম্প্রতি ইকবালসহ তাদের পরিবারের আরও তিন সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, আগামী ৩০ দিন জব্দ করা হিসাবে সব লেনদেন বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্যও জমা দিতে হবে।

    ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকার পাশাপাশি ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) একসময়ের সদস্য ইকবাল গত এক যুগে অনেক কোম্পানির মালিক হয়েছেন। তিনি সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

    আর ইকবালের পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণেই অ্যাকাউন্ট জব্দ হয়েছে চিত্রনায়িকা শিল্পীর। স্ত্রীর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোনো অবৈধ লেনদেন করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে বিএফআইইউ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সেদিন সারা রাত সালমানের বাসায় ছিলেন শাবনূর

    শেষবারের মতো এফডিসিতে এলেন সালমান শাহ। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে নায়ককে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছুটল সিলেটের পথে। নায়কের জন্মভূমি। হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ প্রাঙ্গণে হলো দ্বিতীয় জানাজা। সেখানকার কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো সালমানকে। 

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. তেজেন্দ্র চন্দ্র দাস রিপোর্টে লিখলেন- ‘মৃত্যু ফাঁসের দরুন ঝুলিয়া শ্বাসরুদ্ধ হইয়া সম্পন্ন হইয়াছে, যাহা মৃত্যুপূর্ব ও আত্মহত্যাজনিত।’

    ওই রাতে মৃতের বাসা থেকে অন্যান্য আলামতের সঙ্গে উদ্ধার হয় আকাশি রঙের প্যাডের একটি ছেঁড়া পাতা। যাতে কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা, ‘আমি চৌঃ মোঃ শাহরিয়ার।…এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আজ অথবা আজকের পরে যে কোনো দিন আমার মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’ প্যাডের ওপরে ইংরেজি হরফে বড় করে লেখা ‘সালমান শাহ’। হস্তলিপিবিশারদ নিশ্চিত করেন, হ্যান্ডনোটটি সালমানেরই লেখা।

    সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা মানতে পারেননি স্ত্রী সামিরা। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। নায়কের বাসায়ও শাবনূর আসতেন মাঝেমধ্যে। বিষয়টি ভালো চোখে দেখতেন না সামিরা। 

    পিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের জুলাই নাগাদ মৃত্যুর দুই মাস আগে সালমানের হাতে ছিল ২৭টি সিনেমার কাজ, বেশির ভাগেই তার সহশিল্পী শাবনূর। অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে। শুটিংয়ের সময় শাবনূরকে নিয়ে সালমান শাহ বিভিন্ন স্থানে থাকতেন। 

    সালমানের বাসার কাজের মেয়ে জরিনা বেগম আদালতে জানান, সামিরা চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় শাবনূর দুই দিন সালমানের বাসায় আসেন। একদিন সারা রাত ছিলেন, অন্যদিন চলে যান রাত ১২টার দিকে। সামিরা চট্টগ্রাম থেকে ফিরে এ নিয়ে জরিনাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সত্যিটাই জানিয়ে দেন। 

    যত দিন যাচ্ছিল এ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল সালমান-সামিরার দাম্পত্যে। এমনকি সালমানের মৃত্যুর আগের রাতেও এ নিয়ে ঝগড়া হয় তাদের মধ্যে। তার আগে সন্ধ্যায় এফডিসিতে গিয়ে সামিরা দেখেন, ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূর ঘনিষ্ঠ অবস্থায় বসে আছেন। রাগ করে বেরিয়ে আসেন সামিরা।

    শাবনূরের সঙ্গে ছেলের এ সম্পর্কে পূর্ণ সমর্থন ছিল সালমানের মা নীলা চৌধুরীর। তিনি চাইতেন, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের আবার বিয়ে দেবেন। শাবনূরকে বিয়ে করে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে রাখতে চাইতেন সালমানও।

    ৯ দিন পরে আবার তোলা হলো সালমানের লাশ। কারণ সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর লিখিত এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় যে অপমৃত্যুর মামলাটি হয়, তার তদন্তে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সালমানের পরিবার। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখায়। 

    ১৫ সেপ্টেম্বর সালমানের লাশ তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। পাশাপাশি চলতে থাকে আলামত সংগ্রহ ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ। 

    সালমানের মৃত্যুর পরের বছর ১৯৯৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে ডিবি যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয়, তাতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় ‘আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু’। এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজির আবেদন করেন সালমানের বাবা। পুনঃতদন্তের আদেশ দেন আদালত।

    সালমান শাহ যে আত্মহত্যা করতে পারেন, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না নায়কের পরিবার। তাদের দাবি ছিল, হত্যা করা হয়েছে সালমানকে। সালমানের মা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, সামিরাসহ ১১ জনের যোগসাজশে সালমানকে চেপে ধরে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে গলায় ইলেকট্রিক তার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনো প্রমাণ মিলছিল না। 

    থানা-পুলিশ ও ডিবির তদন্তে যখন বেরিয়ে আসছিল সালমানের মৃত্যুর একটাই কারণ—আত্মহত্যা, তখন একটি ঘটনা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় অন্যদিকে।

    এবারো সিআইডি রিপোর্ট ও বিচার বিভাগীয় তদন্তে সালমানের মৃত্যুর আগের কারণটাই বহাল থাকে— আত্মহত্যা। তবে সিআইডির রিপোর্টে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে উঠে আসে চিত্রনায়িকা শাবনূরের নাম। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহর অপমৃত্যু নিয়ে যা বললেন সামিরা

    ‘তুমি আমার’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটি সালমান শাহ ও শাবনূর। এরপর ১৪টি সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তারা।

    গুঞ্জন আছে তাদের দুইজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের কারণেই সালমান-সামিরার সংসার জীবনে অশান্তি শুরু হয়েছিল। 

    সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা খান জানান, শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সালমান শাহর।

    ১৯ সেপ্টেম্বর সালমানের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কথা বলেন প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী সামিরা। সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টা এত সহজে বলা যায় না। এর পেছনে অনেক বড় গল্প আছে। সেই গল্পটা আমি শুরু করলে শেষ করতে অনেক সময় লেগে যাবে। তবে সহজ প্রশ্নে কেউ যদি জানতে চান, সালমান শাহ ও শাবনূরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা? তাহলে আমি এক বাক্যে বলব যে হ্যাঁ, তাদের সম্পর্ক ছিল।’

    শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সালমানের সঙ্গে তার ঝামেলা হয়েছিল বলে জানান তিনি। সামিরা বলেন, ‘এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের সমস্যা হয়েছে। আমি রাগ করে আমার বাবার বাসাতেও চলে গিয়েছিলাম। সালমান আমাকে অনেক বুঝিয়েছে, মাফও চেয়েছিল। পরে আমাকে মানিয়ে নিয়ে আসে। দুই মাস পর ঢাকায় আমাদের বাসায় ফিরে আসি। সালমান আমাকে বলেছিল, শাবনূরের সঙ্গে যে সিনেমাগুলোর চুক্তি আছে, সেগুলো শেষ হলেই তার সঙ্গে আর কোনো সিনেমায় কাজ করবে না।’

    ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের বাসায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সালমান শাহর মরদেও উদ্ধার করা হয়। তার পরিবার শুরু থেকেই বলে আসছে, সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

    তবে স্ত্রী সামিরা জানান, এর আগেও তিনবার সালমান শাহ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

    সামিরা বলেন, ‘সালমান মেন্টালি সুইসাইডাল বাই নেচার। এর আগে তিনবার সুইসাইডের চেষ্টা করেছে। মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রেকর্ড চেক করলে জানা যাবে। ওখানে দুইবারের রেকর্ড আছে। আরেক হাসপাতালে একবার আছে। তিনটাই আমার বিয়ের আগে। তিনটা ঘটনাই আমি জানি। একবার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে করেছিল। আরেকবার আমাকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য করেছে। আরেকবার ওর কিছু একটা হয়েছিল, সেটার জন্যও করেছিল।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন সামিরা

    ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছিলেন তিনি। হয়ে উঠেছিলেন সবার স্বপ্নের নায়ক। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ছিল ক্ষণজন্মা এই নায়কের শুভ জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ ৫৩ বছরে পা রাখতেন তিনি। 

    সালমান শাহর পরিবার মনে করে, এই নায়কের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। পরিকল্পিতভাবে ‘হত্যা’ করা হয়েছে তাকে, এমন অভিযোগ এনে সালমানের মা নীলা চৌধুরী আইনের আশ্রয়ও নিয়েছেন। তার অভিযোগের আঙুল, সালমানের স্ত্রী সামিরার দিকে। শুধু তাই নয়, সামিরাকে করা হয়েছে মামলার এক নম্বর আসামিও।

    সালমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি সামিরা। যা বলেছেন আদালতেই। সংবাদমাধ্যমে দু-একটি সাক্ষাৎকার দিলেও সবসময় চেয়েছেন নিজেকে আড়াল রাখতে।

    আপনারা কি সংসার জীবনে সুখী ছিলেন? জানতে চাইলে সামিরা বলেন, ‘কেন না! আমরা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসতাম। আমি অনেক হ্যাপি ছিলাম। আমাদের মাঝে মনোমালিন্য হলে ইমন তা ভরিয়ে দিত ভালোবাসা দিয়ে।’

    কী হয়েছিল সেদিন (৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬), যার কারণে সালমান আত্মহত্যা করল? সামিরা বলেন, ‘আত্মহত্যা করার মতো তেমন কিছুই হয়নি। সেদিন ওর সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। একটা পর্যায়ে অভিমান করে ও রুমে চলে যায় আর দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি তখন অন্য রুমে ছিলাম। এর মধ্যেই সব কিছু ঘটে যায়। আমার চিৎকার শুনে ফ্লাটের লোকজন ছুটে আসে। খবর পেয়ে ইমনের মা-ও ছুটে আসে। এরপর রুম থেকে বেরিয়ে আসে ওর ঝুলন্ত দেহ।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এমন কথা কাটাকাটি ওর সঙ্গে আগেও হয়েছে। আমার ওপর অনেক অভিমানও করেছিল ও। আরেকটা বিষয় ইমন কিন্তু এর আগেও তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু চতুর্থবার ওকে আর ফেরানো যায়নি। আপনার যদি খোঁজ নেন, তাহলে সেটি জানতে পারবেন।’

    কী কারণে তিনবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন—জানতে চাইলে সামিরা বলেন, ‘কেন সেটি আমার সঠিক জানা নেই। তিনবারই ছিল আমার বিয়ের আগে। দুইবার ওকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ও একবার ওকে নেওয়া হয় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে। আপনারা চাইলে হাসপাতালের রেকর্ড চেক করে দেখতে পারেন। আসলে, মানসিকভাবে ওর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাটা বেশি কাজ করত।’

    মৌসুমী ছিলেন সালমান শাহর প্রথম নায়িকা। কিন্তু খুব বেশি সিনেমাতে দেখা যায়নি তাকে। সালমান শাহর বেশিরভাগ সিনেমার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। পরবর্তী সময়ে সালমান শাহ এবং শাবনূরের প্রেমের গুঞ্জনও শোনা যায়। কীভাবে শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর অভিনয়ের শুরু সে প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, সালমান শাহ এবং মৌসুমী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অভিনয় না করার। এই ঘটনার শুরু একটা সিনেমার শুটিং সেট থেকে। শুটিং এর সময়ে খুব ছোট একটা বিষয় নিয়ে মৌসুমীর মা এবং সালমান শাহয়ের মায়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে সালমান শাহ এবং মৌসুমী সিদ্ধান্ত নেয় তারা একসঙ্গে সিনেমা করবে না। এরপর আমরা নায়িকার সংকটের মধ্যে দিয়ে যাই। তখন শাবনাজ এবং নাইম বিয়ে করেন। বিয়ের পর গুজম শুরু হয় শাবনাজ অভিনয় ছেড়ে দিবেন। তখন তাই নতুন নায়িকা খুঁজতে হয়। পরে আমরা শাবনূরকে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেই অর সঙ্গেই কাজ করা হবে।

    সালমান শাহ এবং শাবনূরের প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টা এত সহজে বলা যায় না। এর পেছনে অনেক বড় গল্প আছে। সেই গল্পটা আমি শুরু করলে শেষ করতে অনেক সময় লেগে যাবে। সালমান শাহ এবং শাবনূরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তাহলে এমি এক বাক্যে বলবো যে হ্যাঁ তাদের সম্পর্ক ছিল।

    শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্কের রেশ ধরে সালমান শাহর সঙ্গে সমস্যা হতো কিনা সে প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, হ্যাঁ এই বিষয়টা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। আমি রাগ করে আমার বাবার বাসাতেও চলে গিয়েছিলাম। সালমান শাহ আমাকে অনেক বুঝিয়ে ছি, মাফ চেয়েছিল। আমাকে মানিয়ে নিয়ে আসে। আমি  দুইমাস পর ঢাকায় আমাদের বাসায় ফিরে আসি। সালমান শাহ আমাকে বলেছিল সে শাবনূরের সঙ্গে যে সিনেমাগুলোর চুক্তি আছে সেগুলো শেষ হলেই তার সঙ্গে আর কোনো সিনেমায় কাজ করবে না। আমরা নতুন নায়িকা খুঁজব। সে সব কথাগুলো রেখেছিল। 

    প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহের। স্মার্টনেস ও ব্যক্তিত্ববোধের কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হন তিনি। চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন এই নায়ক। যার অধিকাংশই সুপারহিট। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহর বিষয়ে নতুন তথ্য দিলেন সামিরা

    ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছিলেন তিনি। হয়ে উঠেছিলেন সবার স্বপ্নের নায়ক। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ২৭টি সিনেমা। যার সবগুলো ছিল সুপারহিট। 

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর ছিল ক্ষণজন্মা এই নায়কের শুভ জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ ৫৩ বছরে পা রাখতেন তিনি। 

    সালমান শাহর পরিবার মনে করে, এই নায়কের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। পরিকল্পিতভাবে ‘হত্যা’ করা হয়েছে তাকে, এমন অভিযোগ এনে সালমানের মা নীলা চৌধুরী আইনের আশ্রয়ও নিয়েছেন। তার অভিযোগের আঙুল, সালমানের স্ত্রী সামিরার দিকে। শুধু তাই নয়, সামিরাকে করা হয়েছে মামলার এক নম্বর আসামিও।

    সালমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি সামিরা। যা বলেছেন আদালতেই। সংবাদমাধ্যমে দু-একটি সাক্ষাৎকার দিলেও সবসময় চেয়েছেন নিজেকে আড়াল রাখতে।

    অমর এই নায়কের জন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন সামিরা। জানিয়েছেন অজানা অনেক কথা। শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, বেঁচে থাকতে সালমান শাহর জন্মদিনে বিশেষ কী আয়োজন থাকত? উত্তরে সামিরা বলেন, ‘ইমন (সালমান শাহ’র ডাক নাম) আসলে সবসময় নিজের নয়, অন্যের কথা ভাবতেন। এটি ছিল ওর অনেক বড় একটি গুণ। বেঁচে থাকতে ইমন কখনো সেভাবে নিজের জন্মদিন পালন করত না। তবে আমার জন্মদিনে ও সবসময়ই চেষ্টা করত বিশেষ কিছু করার। একবার ১১ তলা বিল্ডিং থেকে আমার চোখ বেঁধে নিচে নামানো হয়। এরপর চোখ খুলে দেখি, উপহারের প্যাকেটে মোড়ানো একটি গাড়ি। সেদিন অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, ওর উপহার দেখে। যে লাল গাড়িটি সবাই দেখেছেন সেটি ইমন আমাকে উপহার দিয়েছিল জন্মদিনে। এমন অসংখ্য সারপ্রাইজ ও আমাকে দিয়েছে।’

    আপনারা কি সংসার জীবনে সুখী ছিলেন? জানতে চাইলে সামিরা বলেন, ‘কেন না! আমরা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসতাম। আমি অনেক হ্যাপি ছিলাম। আমাদের মাঝে মনোমালিন্য হলে ইমন তা ভরিয়ে দিত ভালোবাসা দিয়ে।’

    তাহলে সালমানের মায়ের (নীলা চৌধুরী) অভিযোগ… সামিরার কথায়, ‘বিয়ের আগে সালমানের মা আমাকে খুব পছন্দ করতেন। বিয়ের পর তিনি যখন জানতে পারেন এ বিয়েতে আমার পরিবারের মত ছিল না। তখন থেকে তিনি আমাকে অপছন্দ করতে লাগলেন। আমি সবসময়ই তাকে শাশুড়ি নয়, মা হিসেবে দেখতাম। কিন্তু তারপরও তার সঙ্গে আমার এমন দূরত্ব কেন হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

    কী হয়েছিল সেদিন (৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬), যার কারণে সালমান আত্মহত্যা করল? সামিরা বলেন, ‘আত্মহত্যা করার মতো তেমন কিছুই হয়নি। সেদিন ওর সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। একটা পর্যায়ে অভিমান করে ও রুমে চলে যায় আর দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি তখন অন্য রুমে ছিলাম। এর মধ্যেই সব কিছু ঘটে যায়। আমার চিৎকার শুনে ফ্লাটের লোকজন ছুটে আসে। খবর পেয়ে ইমনের মা-ও ছুটে আসে। এরপর রুম থেকে বেরিয়ে আসে ওর ঝুলন্ত দেহ।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এমন কথা কাটাকাটি ওর সঙ্গে আগেও হয়েছে। আমার ওপর অনেক অভিমানও করেছিল ও। আরেকটা বিষয় ইমন কিন্তু এর আগেও তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু চতুর্থবার ওকে আর ফেরানো যায়নি। আপনার যদি খোঁজ নেন, তাহলে সেটি জানতে পারবেন।’

    কী কারণে তিনবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন—জানতে চাইলে সামিরা বলেন, ‘কেন সেটি আমার সঠিক জানা নেই। তিনবারই ছিল আমার বিয়ের আগে। দুইবার ওকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ও একবার ওকে নেওয়া হয় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে। আপনারা চাইলে হাসপাতালের রেকর্ড চেক করে দেখতে পারেন। আসলে, মানসিকভাবে ওর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাটা বেশি কাজ করত।’

    সঙ্গে যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘ওদিন আত্মহত্যার পর ইমনকে ওর পরিবারের লোকজন দ্রুত নিয়ে যায় হাসপাতালে। চিকিৎসক ওকে মৃত ঘোষণা করলে ইমনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরে, সেখান থেকে সিলেটে। ওর শেষ মুখটাও আমাকে দেখতে দেওয়া হয়নি।’

    কেন? উত্তরে সামিরা বলেন, ‘যেদিন ইমন আত্মহত্যা করে সেদিনই ইস্কাটনের বাসাতে ওর মা আমাকে অনেক আজেবাজে কথা বলে বাসা থেকে বের করে দেয়। সেখানে ওর ছোট ভাই ও মামাও ছিল। ইমনকে তারা নিয়ে যায় হাসপাতালে। আমি হাসপাতালে বা সিলেট যেতে চাইলে ওরা আমাকে আসতে দেয়নি।’

    সালমানের মা নীলা চৌধুরী বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন, আলোচিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ছিল! আর এ কারণেই নাকি তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে? সামিরা বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা ও ভিত্তিহীন। এসব কথা উনি রটিয়েছে। শুধু তাই নয়, এমন কথাও রটানো হয়েছে—একটা অনুষ্ঠানে আজিজ মোহাম্মদ ভাই আমার গায়ে হাত রাখে। সেই অনুষ্ঠানে ইমনের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বও হয়। এটাও মিথ্যা কথা। আসলে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও আমাকে জড়িয়ে যেসব কথা রটানো হয়েছে সবগুলো মিথ্যা কথা। আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে আমি ঠিকমতো চিনতামই না। তবে ইমনের মা তাকে চিনতেন। তিনি আরও অনেককেই চিনতেন।’

    সবশেষে সামিরা বলেন, ‘ইমনের বাবা একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ওনি যখন রমনা থানায় কেসটি ফাইল করেন, তখন কিন্তু ইউডি মামলা (অপমৃত্যু) হিসেবে ফাইল করেন। পরবর্তীতে সালমানের মা এটি হত্যা বলা শুরু করেন। এবং সবশেষ মামলাও করেন।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • এক অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম সালমান শাহ: শাবনূর

    আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ঢালিউডের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর জন্মদিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনেতা। এদিন সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের অনেকে স্মরণ করছেন প্রিয় নায়ককে।

    মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে সালমান সবচেয়ে বেশি সিনেমা করেছেন শাবনূরের সঙ্গে। সালমান-শাবনূর জুটির রসায়নে মন ভরে গিয়েছিল দেশের সিনেমাপ্রেমীদের। ঢালিউডের অন্যতম জুটিতে পরিণত হন তারা। এতটাই সমাদৃত হন যে, আজও সালমান নামটি নিলেই উঠে আসে শাবনূরের নাম।

    সালমানের জন্মদিনে সহকর্মীরা যখন তাকে স্মরণ করলেন তখন শাবনূরও প্রিয় সহকর্মীকে নিয়ে জানালেন অনুভূতি।

    নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের যুবরাজ সালমান শাহ এক অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম, এক ইতিহাসের নাম। প্রিয় এই নক্ষত্র এখনো আমাদের সবার হৃদয়ে, ভাবনায়, অনুভবে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে চিরকাল।’

    এরপর লেখেন, ‘জন্মদিনে বরাবরের মতো পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি তোমাকে। আল্লাহপাক তোমাকে জান্নাতবাসী করুন।’

    ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস ও ব্যক্তিত্ববোধের কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হয়ে ওঠেন এ নায়ক। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন। যার অধিকাংশই সুপারহিট। মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্রে পা রাখলেও সালমানের বেশিরভাগ ছবির নায়িকা ছিলেন শাবনূর। এই জুটি তখন এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, তাদের কোনো ছবি মুক্তি পেলেই দর্শক প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সাবেক পিবিআই প্রধান বনজের বিরুদ্ধে সালমান শাহর মায়ের অভিযোগ

    ১৯৯৬ সালে সালমান শাহ মৃত্যুবরণ করেন। দেখতে দেখতে ২৮ বছর পেরিয়ে গেছে। অথচ এখনো তার মৃত্যুরহস্য উন্মোচিত হয়নি। সালমান শাহ কি আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি পরিকল্পিতভাবে খুব করা হয় তাকে, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায় না। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, প্রয়াত এই নায়ক আত্মহত্যা করেননি।

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্তের দায়িত্বে ছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে পিবিআইয়ের তৎকালীন প্রধান বনজ কুমার মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ঠিকঠাকভাবে তৈরি করেননি বলে অভিযোগ নীলা চৌধুরীর।

    সম্প্রতি লন্ডন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘বনজ কুমার অনেক টাকা খেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমাদের কাছে বারবার টাকা চাওয়া হয়েছে। সালমান শাহর অডিও রেকর্ডের ক্যাসেট পিবিআইতে দিয়েছিলাম, কিন্তু সেটা ফেরত পাইনি’।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহর অভাব অনুভব করছেন দীঘি

    ১৯৯৬ সালে ২৪ বছর বয়সে ধরাধাম ত্যাগ করেন নায়ক সালমান শাহ। তার ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। সালমান শাহর মৃত্যু এখনো রহস্যে ঘেরা। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন, এই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তবে খুব অল্প সময়েই সালমান শাহ যে মানের কাজ করেছেন, তাতে এখনো তরুণ প্রজন্মের নায়ক-নায়িকাদের আদর্শ হয়ে আছেন তিনি।

    সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করেছেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে সালমান শাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক অনন্য রত্ন, যিনি তার অভিনয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছিলেন। তার প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি দৃশ্য ছিল একেকটি জীবন্ত অনুভূতি, যা আমাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছিল’।

    সালমান শাহর অভাব অনুভব করছেন জানিয়ে দীঘি যোগ করেন, ‘যতই দিন গড়াচ্ছে, আপনার উপস্থিতি এবং প্রতিভার অভাব ততই অনুভব হচ্ছে। আপনার স্মৃতি চিরকাল আমাদের মনে থাকবে এবং আপনার শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। সালমান শাহ আমাদের অশ্রুসিক্ত চোখে ও হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আজও অমলিন’।

    প্রসঙ্গত, শিশুশিল্পী হিসেবে দেশের চলচ্চিত্র জগতে আবির্ভাব হয় দীঘির। অনেক চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করা দীঘি এখন বড় পর্দা এবং ওটিটিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

    বিনোদন ডেস্ক