Tag: শাবনূর

  • সালমান-মৌসুমী ও শাবনূর ইস্যুতে যা জানালেন মনসুর আলী

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মারা যান ঢালিউড অভিনেতা সালমান শাহ। সেই সময় তার মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে বলা হলেও সালমানের পরিবারের দাবি—এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। তার অকালমৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের জট এবার হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। আদালত হত্যা মামলা হিসাবে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মামলায় প্রধান আসামি সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ডন, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন রয়েছে।

    এর আগে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআই বলেছিল— হত্যা নয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। পিবিআই নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি—দাবি করে ২০২১ সালে নারাজি দিয়েছিলেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। 

    এদিকে গুঞ্জন রয়েছে ঢালিউড অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর এ সম্পর্কের কারণেই নাকি সালমান-মৌসুমী জুটি ভেঙে গিয়েছিল। বিষয়টির সত্যতা নিয়ে এবার কথা বলেছেন অভিনেতার সহকারী হিসেবে কাজ করা মনসুর আলী। 

    সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে মনসুর আলী বলেন, সালমান শাহ ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও পরিবারের প্রতি নিবেদিত একজন মানুষ। শুটিং শেষে তিনি কখনো আড্ডা দিতেন না, তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে যেতেন। তিনি বলেন, সবসময় আমি ভাইকে নারীদের সম্মান করতে দেখেছি। শুধু শাবনূর কেন, কোনো নায়িকাকেই কুনজরে দেখতেন না তিনি। শুটিং শেষ হলে কারও সঙ্গে বসে আড্ডা দিতেন না। দ্রুত বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।

    সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক ভাইবোনের মতো উল্লেখ করে মনসুর আলী বলেন, আমি সাড়ে চার বছর সালমান ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই জানি না। বরং ভাই সব নায়িকাকেই সম্মান করতেন। শাবনূরকে প্রথম দেখেই বলেছিলেন— আমার তো কোনো বোন নেই, তুমি আমার ছোট বোনের মতো।

    মনসুর আলী আরও বলেন, আর শাবনূর নয়; চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে নিয়ে সন্দেহ ছিল সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকের। এমনকি সে কারণেই সালমান-মৌসুমী জুটি ভেঙে গিয়েছিল। তিনি বলেন,  সামিরা হক মৌসুমীকে নিয়ে সবসময় সালমান শাহকে সন্দেহ করতেন। সে কারণেই ‘দেনমোহর’ সিনেমার পর সালমান আর কোনো সিনেমায় মৌসুমীর সঙ্গে কাজ করতে চাননি। 

    মনসুর আলী বলেন, এ সিনেমার পর আরেকটির অফার আসে; কিন্তু সে সিনেমায় মৌসুমী থাকায় ভাই না করে দিয়েছিলেন। তাকে যখন বলি, ভাই সিনেমার গল্প তো ভালো ছিল, তখন ভাই আমাকে বলেন— তোমার ভাবি আমাকে এমনিতেই সন্দেহ করে। আমি আর মৌসুমীর সঙ্গে কাজ করব না। আমার সংসারে আমি সুখ চাই, শান্তি চাই।

    উল্লেখ্য, সালমান শাহ হত্যা মামলায় ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে। অন্য ১০ আসামি হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, নায়কের সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও  রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বোনের মেয়ের জন্মদিনে ভিন্ন সাজে শাবনূর

    ঢালিউডের
    একসময়ের
    জনপ্রিয়
    অভিনেত্রী শাবনূর বর্তমানে সিনেমা থেকে অনেক দূরে আছেন। একপ্রকার তিনি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাকাপাকি বসবাস করছেন। তবে অভিনয় জগত ছাড়লেও সামাজিক মাধ্যমে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিশেষ মুহূর্তের খবর অভিনেত্রী মাঝেমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তঅনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নেন। এবার তিনি হাজির হলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন সাজে, যা দেখে মুগ্ধ তার ভক্তঅনুরাগীরা।

    সম্প্রতি
    বোনের
    মেয়ের
    ১৪তম
    জন্মদিনে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। ছবিগুলো শেয়ার করে ক্যাপশনে মেয়েকে ভালোবাসা জানিয়েছেন। তারআদরের রাজকন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শাবনূর লিখেছেনশুভ জন্মদিন, আমার আদরের রাজকন্যা।

    স্বপ্নের
    রাজকন্যাকে শুভেচ্ছা জানালেও নিজের সাজেও ছিল রাজরানির আবহে। সেই ছবিগুলোতে তাকে দেখা যায় জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাককিমোনোপরে। মেয়ের জন্মদিনে এমন ব্যতিক্রমী পোশাকে যেন নতুন করে আলোচনায় এলেন শাবনূর।

    ভালোবাসার
    ইমোজিজুড়ে অভিনেত্রী আরও লিখেছেনতোমার জন্মদিনে আমার একটাই কামনাযেন পৃথিবীর সব সুখ, ভালোবাসা আর সাফল্য তোমার জীবনে আসে। সবসময় তোমায় ভালোবাসি।

    শাবনূরের
    এই
    পোস্টের
    কমেন্ট
    বক্সেও
    নেটিজেনরা তার মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক নেটিজেন লিখেছেনশুভ জন্মদিন। আল্লাহতাআলা আপনার রাজকন্যাকে নেক হায়াত দান করুক, আমিন। আরেকজন নেটিজেন লিখেছেনআপনার মেয়ে তো অনেক বড় হয়ে গেছে দেখতে, মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এই তিন নায়িকার ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু

    নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী। মডেলিং দিয়ে শোবিজ তার যাত্রা শুরু। ১৯৯৩ সালে সালমান শাহ’র বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে বড়পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। অভিষেকেই বাজিমাত করেন তিনি। এরপর তার ক্যারিয়ারে শুধুই যেন সাফল্যের গল্প। ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণ।  

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক হিট সিনেমার পাশাপাশি সিক্ত হন দর্শকদের ভালোবাসায়। অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার। তবে এখন তাকে অভিনয়ে খুব একটা দেখা যায় না। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সোনার চর’ নামে একটি সিনেমায় দেখা গেছে এ অভিনেত্রীকে। এদিকে প্রায় দুই বছর ধরেই তিনি বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন মেয়ে ফাইজা ও মা। তবে কী এ অভিনেত্রী আর সিনেমায় ফিরবেন না? কেনই বা এতদিন ধরে বিদেশে রয়েছেন? 

    এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলেও অভিনেত্রীকে পাওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন না তিনি। গণমাধ্যমের সঙ্গেও বেড়েছে তার দুরত্ব। তবে তার স্বামী অভিনেতা ওমর সানী রয়েছেন বাংলাদেশে। নিজের ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে তিনি ব্যস্ত। মৌসুমী প্রসঙ্গে জানতে হলে দ্বারস্থ হতে হয় সানির। 

    তিনি জানান, মৌসুমী সহসাই দেশে ফিরছেন না। মেয়ের পড়াশোনা ও শাশুড়ির অসুস্থতা মিলিয়ে এখন পরিবারকেই সময় দেয়া জরুরি অভিনেত্রীর। 

    সানী বলেন, ‘ও ভুলে যেতে চায় যে, সে মৌসুমী ছিল। এই কথাটা কিন্তু খুব কষ্টের। তার মতো একজন লেজেন্ড নিয়ে ভালো সিনেমা তৈরি করবে, এমন ভাবনা তো এখন কারও নেই। নতুনদের সৌজন্যতাবোধেও ঘাটতি আছে। তারা মৌসুমীর চেয়েও বড় তারকা হয়ে গেছেন। মূলত, আক্ষেপ ও অভিমানেই মৌসুমী সিনেমা থেকে দূরে আছেন। সে আর ফিরবে না এমন কথাও কষ্ট থেকেই বলেছে।’ 

    সানির কথাতেই স্পষ্ট মৌসুমী আর অভিনয়ে ফিরছেন না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখন নিয়মিত গান করতে দেখা যাচ্ছে এ নায়িকাকে। তাছাড়া আরও একটি কথা চাউর আছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেছেন এ অভিনেত্রী। সেটি পেয়েছেন কী না, তা খোদ মৌসুমী কিংবা স্বামী ওমর সানি, কেউই স্পষ্ট করে বলেননি।

    এদিকে দেশের আরেক জনপিয় নায়িকা শাবনূর দীর্ঘ বছর ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় পথ চলা শুরু তার। এরপর শুদুই সাফল্যের ইতিহাস। বিশেষ করে সালমান শাহ’র সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনেক হিট সিনেমায়। সালমান পরবর্তী অন্য নায়কদের সঙ্গেও তিনি বেশ সফল। কিন্তু বর্তমানে সিনেমা থেকে এ নায়িকার দূরত্ব অনেক বেশি। কারণ, তিনি দেশেই থাকেন না। 

    সর্বশেষ ২০১৮ সালে ‘পাগল মানুষ’ নামে একটি সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে। এরপর আর পর্দায় দেখা মেলেনি। তবে ২০২৩ সালে দেশে ফিরে দুটি সিনেমার ঘোষনা দিয়েছিলেন তিনি। আরাফাত হোসাইন নামে এক নাট্যনির্মাতার হাত ধরে ‘রঙ্গনা’ ও ‘এখনো ভালোবাসি’ নামে দুটি সিনেমার করার কথা ছিল তার। ঘোষণা মতে, ‘রঙ্গনা’ নামের সিনেমাটির শুটিংও করেছিলেন কয়েকদিন। এরপর বন্ধ হয়ে যায় এর কাজ। মিডিয়ায় চাউর হয়, এ সিনেমাটি আর আলোর মুখ দেখবে না। ফলে শাবনূরের ফেরাটা যেন আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। 

    তবে এসব বিষয়ে অভিনেত্রী জানান, তিনি সিনেমাটি ছাড়ছেন না। মিডিয়ায় চাউর হওয়া খবর ভিত্তিহীন। সময় সুযোগ করে আবারও এর কাজে অংশ নিবেন। এছাড়া নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর ‘মাতাল হাওয়া’ নামেও একটি সিনেমা করার কথা শোনা গিয়েছিল। দেড় বছর পার হয়ে গেলেও সিনেমা তিনটির আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। 

    এদিকে ২০২৩ সালে নতুন সিনেমার ঘোষণার সময় শাবনূর বলেছিলেন, তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। সময় লাগলেও তিনি একটি ভালো কাজ উপহার দিতে চান। নতুন নির্মাতার হাত ধরে শাবনূর কামব্যাক করছেন, সেটি কতটা ভালো হবে তার ক্যারিয়ারের জন্য এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কামব্যাক বলে কোনো কিছু নেই। শিল্পীদের কখনও মরণ হয় না। শিল্পীরা সারাজীবন বেঁচে থাকেন তার কর্মে।  তাই আমার ফেরাকে কামব্যাক বলতে চাই না। আর পরিচালক নতুন এমনটাও বলতে চাই না। কারণ তিনি শাবনূরকে তার মতো সম্মান দিয়েই পর্দায় আনবেন। নয়তো সিনেমাটি করব না।’ 

    এদিকে ঘোষণার পর থেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন শাবনূর ভক্তরা। প্রিয় নায়িকার ফেরার খবরে স্বস্তি ফিরেছিল সিনেমা প্রেমীদের মনে। কিন্তু আদৌ কি শাবনূর ফিরবেন? সংশয় থেকেই গেল।

    জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী ও শাবনূরের পর ঢাকাই সিনেমায় আলোচিত নায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। অনেক আলোচিত ও হিট সিনেমার রয়েছে তার ক্যারিয়ারে। নব্বই দশকের শেষপ্রান্তে সিনেমায় অভিষেক হলেও তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়েছে দুই প্রজন্মজুড়ে। রূপ ও অভিনয়ের মেলবন্ধনে দেড় যুগ পরেও সমানভাবে আলোচিত তিনি। 

    বর্তমানে নিয়মিত সিনেমার অভিনয়ে না থাকলেও শোবিজে তার উপস্থিতি বরাবরই নজরকাড়া। মাঝে কিছু নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে তাকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সিনেমার দর্শকপ্রিয় এ নায়িকা কেন সিনেমা থেকে দূরে? এর কোনো কারণ স্পষ্ট করেননি এ অভিনেত্রী। তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছে ‘আহারে জীবন’ নামে একটি সিনেমায়। যেটি গত বছরের ঈদে মুক্তি পায়। ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয় এটি। 

    এরপর নতুন আর কোনো সিনেমায় যুক্ত হবার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এ অভিনেত্রীর আরও দুটি সিনেমা। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ সিনেমা দুটির কাজ শুরু করেছিলেন ২০১৮ সালে, কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে এর নির্মাণকাজ। আদৌ শেষ হবে কিনা এ নিয়েও রয়েছে সংশয়। নির্মাতাও এ নিয়ে চুপ। 

    কারণ, দুটি সিনেমার মধ্যে ‘গাঙচিল’ ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। নায়ক হচ্ছেন ফ্যাসিস্টের আরেক দোসর ফেরদৌস। অন্যদিকে ‘জ্যাম’ সিনেমায় পূর্ণিমার বিপরীতে রয়েছেন আরিফিন শুভ। দুই নায়কই এখন রয়েছেন আড়ালে। ৫ আগস্টের পর থেকেই ফেরদৌস পলাতক, এদিকে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ শিল্পী হওয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন শুভ। পাচ্ছেন না সিনেমার কাজ। দুই নায়কের জন্যই হয়তো আর আলোর মুখ দেখতে পাবে না পূর্ণিমা অভিনীত সিনেমা দুটি। তাহলে কি এ অভিনেত্রীর নতুন সিনেমা দর্শক আর পাবে না? এ প্রশ্ন থেকেই গেল। 

    এদিকে টিভির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক লাইভ অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় নিয়মিত পূণিমা। এ ছাড়া বিভিন্ন রিয়েলিটি শোয়ের বিচারকের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। বর্তমানে দেশসেরা রন্ধনশিল্পীদের রান্নায় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, কুকিং রিয়েলিটি শোয়ের প্রধান বিচারকের একজনের দায়িত্ব পালন করছেন এ অভিনেত্রী।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় দুর্ঘটনায় আহত শাবনূর

    ঢালিউডের নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সিডনিতেই অবস্থান করছেন অভিনেত্রী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢালিউডে কাজ করেছেন তিনি। এখন পর্দার বাইরে আছেন অভিনেত্রী। কিন্তু পর্দার বাইরে থাকলেও তার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। সেখান থেকেই সামাজিকমাধ্যমে নিজের ছবি-ভিডিও ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এবার দুঃসংবাদ দিলেন শাবনূর। 

    একটি গণমাধ্যমকে অভিনেত্রী জানান, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটার সময় পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছেন তিনি। শাবনূর বলেন, আমি মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ল্যাকেম্বার রাস্তায় হাঁটছিলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত ফুটপাত থেকে হঠাৎ করেই পড়ে যাই। তখন পা মচকে যায়। হাঁটুর চামড়াও কিছুটা ছিলে গেছে।

    শনিবার (৮ মে) এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান অভিনেত্রী। এরপর পা প্লাস্টার করিয়েছেন। চিকিৎসক দুই সপ্তাহ পায়ে প্লাস্টার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।  অভিনেত্রী বলেন, পায়ে আঘাত পাওয়ায় প্রচুর ব্যথা পাই। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, উঠে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি ছিল না। পরে হেল্প নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। তারপর জানতে পারি— পায়ের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর পা প্লাস্টার করা হয়। ব্যথানাশক ওষুধও দেওয়া হয়। আমি এখন ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটছি।

    তিনি বলেন, আজ হয়তো আমার অল্প কিছুর ওপর দিয়ে গেছে। যদি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটত, তাহলে তখন আমার জন্য অন্য কোনো একজন মানুষেরও বিপদ হতে পারত। আবার আমিও মারাত্মক দুর্ঘটনায় পড়তে পারতাম।

    সমাজের জন্য এ দুর্ঘটনা একটি বার্তা জানিয়ে শাবনূর বলেন, কাজের সময় আর কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলবেন না তিনি। ব্যথা পাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি— জীবনে কখনো কোথাও হাঁটতে-চলতে গিয়ে মোবাইল ফোন দেখব না। গাড়ি চালানোর সময়ও মোবাইল ফোন দেখব না বলে জানান অভিনেত্রী।

    উল্লেখ্য, শাবনূর ১৯৯৩ সালে নির্মাতা-পরিচালক প্রয়াত এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয়। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন অভিনেত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘ভালোবাসি তোমাকে’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বউ শাশুড়ির যুদ্ধ’, ‘হৃদয়ের বন্ধন’, ‘মোল্লাবাড়ির বউ’ প্রমুখ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নব্বই দশকের আলোচিত নায়িকারা বর্তমানে কে কী করছেন?

    ঢাকাই সিনেমায় অনেক নায়িকার আবির্ভাব ঘটেছে। এসব নায়িকার মধ্যে কেউ স্থায়ী আসন গড়েছেন, আবার কেউ কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছেন। নব্বই দশকেও এমন অনেক আলোচিত নায়িকা ছিলেন, যাদের অনেকেই এখন সিনেমা থেকে দূরে, কেউবা চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন অভিনয়কে। এদের মধ্যে অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসে। নব্বই দশকের আলোচিত সেসব নায়িকা নিয়েই আজকের এ প্রতিবেদন। লিখেছেন রিয়েল তন্ময়

    মৌসুমী

    বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম মৌসুমী। ১৯৯৩ সালে সালমান শাহর বিপরীতে কেয়ামত থেকে কেয়ামত দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় সিনেমা। তার ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা। তবে তিনি সিনেমায় অনেকটাই অনিয়মিত এখন। প্রায় দুবছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মৌসুমী। সেখানে বিভিন্ন আয়োজনে পারফর্ম করছেন। গত ২৭ এপ্রিল নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালে’র মঞ্চে গান গেয়েছেন এ চিত্রতারকা। এ মুহূর্তে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফিরবেন না আর অভিনয়েও। এমন কথাই জানিয়েছেন অভিনেত্রীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী। কারণ হিসাবে তিনি মৌসুমীর অভিমান ও আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। সর্বশেষ মৌসুমীকে দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সোনার চর’ সিনেমায়।

    শাবনাজ

    ঢাকাই সিনেমার আরেক আলোচিত নায়িকা শাবনাজ। ‘চাঁদনী’ দিয়ে তার সিনেমা জগতে প্রবেশ। নব্বই দশকের শুরুর দিকে আলোচিত ও ব্যবসাসফল সিনেমা ছিল ‘চাঁদনী’। এরপর আরও অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর সঙ্গেও তিনি একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সে সময় আলোচিত এ নায়িকাও এখন সিনেমা থেকে দূরে রয়েছেন। তারও অভিনয়ে ফেরার আর সম্ভাবনা নেই।

    শাবনূর

    নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যস্ত নায়িকা শাবনূর। দীর্ঘসময় তিনি ঢাকাই সিনেমায় রাজত্ব করেছেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে পথচলা শুরু করেন তিনি। আলোচিত নায়ক সালমান শাহর নায়িকা হিসাবেই তিনি বেশি আলোচিত ছিলেন। জুটি হিসাবে অভিনয় করেছেন অনেক ব্যবসাসফল সিনেমায়। নব্বই থেকে এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন শাবনূর। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন অস্ট্রেলিয়ায়। 

    এ অভিনেত্রীকে সর্বশেষ দেখা গেছে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পাগল মানুষ’ সিনেমায়। এরপর আর কোনো সিনেমায় তাকে দেখা যায়নি। তবে অর্ধযুগ পর গেল বছর ‘রঙ্গনা’ ও ‘এখনো ভালোবাসি’ নামের দুটি সিনেমার যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেসব সিনেমার আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। 

    তবে শাবনূর গণমাধ্যমে বলেছেন, চলতি বছর দেশে ফিরে অসমাপ্ত সিনেমার কাজসহ আরও কিছু কাজ বাকি আছে সেগুলো শেষ করবেন। তবে ফিরতে একটু দেরি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

    এদিকে, সবশেষ গেল মার্চের শেষ সপ্তাহে মাত্র ৮ ঘণ্টার জন্য দেশে এসেছিলেন শাবনূর। অসুস্থ মাকে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতেই এসেছিলেন নন্দিত এই চিত্রনায়িকা।

    পপি

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পপি। ইন্ডাস্ট্রিতে টানা দুই দশক রাজত্ব করেছেন তিনি। পেয়েছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের ব্যবসাসফল সিনেমাগুলোর একটি। এক সময়ের ব্যস্ত এ নায়িকা হঠাৎ করেই সিনেমা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। নীরবে চলে যান আড়ালে। পরে জানা গেছে, বিয়ে করে সংসারি হয়েছেন তিনি, স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখেই রয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছেন অভিনয়। 

    যদিও বিয়ে নিয়ে বেশ গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন এ অভিনেত্রী। অবশেষে নিজেই স্বামী সন্তান নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন এবং অভিনয় থেকে নিজের বিদায়ের বিষয়টিও স্পষ্ট করেন। তার মানে এ নায়িকাকে আর সিনেমায় দেখা যাবে না। ক্যারিয়ারের শেষ দিকের একাধিক সিনেমার শুটিং শেষ না করেই ইতি টানেন ঢাকাই সিনেমা থেকে।

    আঞ্জুমান শিল্পী

    নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকাই সিনেমায় আসেন নায়িকা শিল্পী। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘নাগ নর্তকী’। তবে প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বাংলার কমান্ডো’। এরপর সালমান শাহর বিপরীতে ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া পান। ক্যারিয়ারে প্রায় ৩৬টি সিনেমা করেছেন। 

    তবে ২০০০ সাল থেকে তিনি নিজেকে সিনেমা থেকে গুটিয়ে নেন। মাঝে তাকে নাটকে অভিনয় করতেও দেখা গেছে। উপস্থাপনাও করেছেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ে দেখা যায় না তাকে। তবে শোবিজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার দেখা মেলে।

    তামান্না

    বাপ্পারাজের বিপরীতে ‘ত্যাজ্যপুত্র’ সিনেমা দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হয় নায়িকা তামান্নার। এটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। এরপর ১৯৯৮ সালে রুবেলের সঙ্গে ‘ভণ্ড’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। তার ক্যারিয়ারেও রয়েছে একাধিক সিনেমা। 

    সর্বশেষ এ অভিনেত্রীকে দেখা গেছে ‘পাগল তোর জন্যরে’ সিনেমায়। এটি ২০১৩ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এরপর আর তিনি সিনেমামুখী হননি। ২০২১ সালে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে সংসারি হয়েছেন। বর্তমানে সুইডেনে বসবাস করছেন এ নায়িকা।

    এ ছাড়া সে সময়ের আরও অনেক নায়িকা রয়েছেন, যারা বেশ আলোচনায়ও এসেছিলেন। তাদের অনেকেই এখন সিনেমা থেকে দূরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অলিভিয়া, অন্তরা, জেবা, সোনিয়া, লিমা, শাহনাজ প্রমুখ।

    রিয়েল তন্ময়

  • হঠাৎ ঢাকায় শাবনূর, জানা গেল কারণ

    চিত্রনায়িকা শাবনূর এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাসিন্দা। পরিবারের সঙ্গেই স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস করছেন তিনি।  মাঝেমধ্যে দেশে ফেরেন, কিছুদিন থাকেন, আবার ফিরে যান—গত দশ বছর ধরেই এমনভাবেই চলেছে একসময়ের ঢালিউড কাঁপানো এই নায়িকার জীবন।

    তবে এবার তার ফেরা ছিল একেবারেই ভিন্নরকম। একেবারে হঠাৎ করে, কোনো ঘোষণা ছাড়াই তিনি এসেছিলেন ঢাকায়; থেকেছিলেন মাত্র ৮ ঘণ্টা।  এত কম সময়ের জন্য আসাটা অবাক করলেও এর পেছনে রয়েছে এক গভীর ব্যক্তিগত কারণ।

    শাবনূর নিজেই জানিয়েছেন, এই সফর ছিল অন্যরকম। সাধারণত দেশে ফেরার আনন্দ থাকে, প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হয়, সময় কাটে চেনা পরিবেশে। কিন্তু এবারের সফরে সেই স্বস্তি ছিল না বরং ছিল প্রচণ্ড অস্থিরতা আর দুশ্চিন্তা।

    জানা গেছে, শাবনূরের এই হঠাৎ বাংলাদেশে আসার কারণ তার মায়ের অসুস্থতা। অসুস্থ মাকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাকে ঢাকায় আসতে হয়। সময় এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে কাউকে কিছু জানিয়ে ওঠার সুযোগও পাননি তিনি।

    সিডনির সময় অনুযায়ী গত ২৮ মার্চ তিনি একা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা রওনা দেন। ঢাকায় পৌঁছান এবং মাকে নিয়ে আবার উড়াল দেন—সব মিলিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার সফর।

    এই পুরো যাত্রাপথটা কিভাবে কেটেছে সেই অস্থিরতা কল্পনাও করতে পারেন না এ অভিনেত্রী। 

    এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে শাবনূর বলেন, এক মাস ধরে আম্মা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রতিনিয়ত ফোনে কথাবার্তা হচ্ছিল। ঢাকার বড় বড় হাসপাতালের ৩-৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তিনি দেখিয়েছেন। কিন্তু কোনোভাবেই তারা আম্মার রোগ ধরতে পারছিলেন না।

    এদিকে আম্মার শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। একটা সময় বোঝা গেল, আম্মার নিউমোনিয়া হয়েছে। এর বাইরে আরো কয়েকটি সমস্যা ছিল। ২৮ মার্চ তো এমন অবস্থা হয়েছিল, আম্মা কথা বলার মতো শক্তি হারিয়ে ফেলছেন। শ্বাসকষ্টে একদম কাবু হয়ে পড়েন। সেদিন আম্মার শারীরিক অবস্থা কেমন তা জানতে পারছিলাম না, কারণ তিনি কথা বলতেও পারছিলেন না। আম্মার দেখাশোনার দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তাকে শুধু বলেছি, আমি আসা পর্যন্ত আম্মার সঙ্গে থাকতে। আম্মাকে মানসিকভাবে শক্তি ও সাহস দিতে। 

    এরপর আমি টিকিট খোঁজা শুরু করলাম। সেদিন রাতেই অনেক কষ্টে টিকিট পেয়ে যাই। লাগেজ নিইনি, তাই কোনো কাপড়চোপড় নিইনি। বলা যায়, এক কাপড়েই উড়াল দিই। পাসপোর্ট, টিকিট ও একটা ব্যাগপ্যাক সঙ্গী করেই আমি বাসা থেকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা হই। প্লেনের পুরোটা সময়, ট্রানজিটের সময়—কিভাবে যে কেটেছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। আম্মার জন্য শুধু দোয়া করছিলাম।’

    শাবনূর বললেন, ‘ঢাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, চিকিৎসকরা একের পর এক শুধু আম্মার টেস্ট করাতে বলছেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালে ভর্তি করাতেও বললেন। কিন্তু এ অবস্থায় আমি কোনোভাবে হাসপাতালে ভর্তি করাতে ভরসা পাচ্ছিলাম না। আম্মারও কষ্ট হচ্ছিল। এসেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাড়াহুড়া করে আম্মার লাগেজ গুছিয়ে আবার উড়াল দিলাম।’

    জানা গেছে, সিডনি যাওয়ার পরপরই তার মাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরদিন থেকে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে বলে জানান শাবনূর। চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তার মা এখন পুরোপুরি সুস্থ। 

    শাবনূরের মা, ভাই ও বোন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থাকেন। তবে সবাই কোনো না কোনো সময় আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকেন। এবার তার মা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকায় ছিলেন। এর মধ্যে এক মাস ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শাবনূরের ফেরা নিয়ে সংকট কাটেনি

    ঢাকাই সিনেমার নব্বই দশকের জনপ্রিয় ও দাপুটে নায়িকা শাবনূর। ক্যারিয়ারে রেকর্ড পরিমান ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন অভিনয়ে অনিয়মিত এ অভিনেত্রী। 

    এক যুগের বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সর্বশেষ তাকে ২০১৮ সালে ‘পাগল মানুষ’ নামে একটি সিনেমায় দেখা গেছে। এরপর আর অভিনয় করেননি। 

    এ নায়িকাকে পর্দায় দেখতে এখনও দর্শকদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। তাইতো অর্ধযুগ পর গত বছরে ‘রঙ্গনা’ নামে একটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছিলেন শাবনূর। এটি পরিচালনা করছেন নাট্যনির্মাতা আরাফাত হোসাইন। কিছুদিন এর শুটিংও হয়েছে। এরপর বন্ধ হয়ে যায় সিনেমার কাজ। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সিনেমাটির কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। মাঝে চাউর হয়েছিল, সিনেমাটি আর করছেন না শাবনূর। 

    কিন্তু এমন খবরে বেশ বিব্রত হয়ে শাবনূর তার দর্শকদের উদ্দেশ্যে জানান, সিনেমার বিষয়ে তার দেয়া কোনো বক্তব্য না শুনে, কেউ যেন বিশ্বাস না করেন। এমনকি তাকে নিয়ে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধও জানান নায়িকা। শাবনূরের কথাতেই স্পষ্ট, সিনেমাটি এখনও তিনি ছেড়ে দেননি। তাহলে কেন আটকে আছে কাজ? 

    সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা শুটিং প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। তবে কবে নাগাদ শুটিং শুরু করবেন এ বিষয়েও তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা আরও অপেক্ষা করতে চান। সেটি কতদিন বা মাস, এ বিষয়ে এখনোও নিশ্চিত নন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। 

    জানা গেছে, চলতি বছরেও এ সিনেমার কাজ শুরু করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এদিকে নির্মাতা গণমাধ্যমে বলেন, ‘গল্পে খানিকটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সেজন্য শাবনূর আপুকে ওজন কমাতে হবে। তিনি এখন তাই করছেন। এখনো আমরা কোনো শুটিং শিডিউল ঠিক করিনি।’ 

    এই সিনেমা দিয়ে দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিলেও শাবনূরকে নিয়ে কিন্তু সমালেচনাও হয়েছে অনেক। শুভাকাক্সিক্ষরা বলছেন, শাবনূরের ফেরাটা জরুরী ছিল। তবে তাকে এমন কিছু দিয়েই ফেরা উচিত, যাতে তার পূর্বের তারকা ইমেজ বজায় থাকে। কিন্তু তিনি ফিরছেন এমন একজন কাচা হাতের কারিগরের (পরিচালকের) হাত ধরে, যার ক্যারিয়ারে উলে­খযোগ্য কোনো কাজ নেই। এমন সিদ্ধান্ত শাবনূরের ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও ‘রঙ্গনা’ সিনেমার একটি পোস্টার প্রকাশ করা হলে, সেটি নিয়েও বেশ সমালোচনা হয়।

    এদিকে এ সিনেমা ছাড়াও শাবনূর একই নির্মাতার ‘এখনো ভালোবাসি’ নামে আরও একটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছিলেন। সেটিরও কোনো আপডেট নেই। প্রথম সিনেমাই যেখানে শেষ করতে পারছেন না নির্মাতা, সেখানে দ্বিতীয় সিনেমার ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল, এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজাটাই বৃথা। 

    এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘সময় হলেই দেশে ফিরব এবং সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেব। এখানে (অস্ট্রেলিয়া) আমার ব্যক্তিগত কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি, তাছাড়া ছেলের স্কুলও খুলেছে। পাশাপাশি সিনেমার জন্য নিজের ফিটনেস ঠিক করারও একটি ব্যাপার রয়েছে। এখন তাই নিয়মিত জিম করে ওজন কমাচ্ছি।’ 

    সর্বশেষ দেশে থাকার সময় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় মাহফুজের বিপরীতে ‘মাতাল হাওয়া’ নামে একটি সিনেমাতেও শাবনূরের অভিনয়ের কথা শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। 

    এদিকে শাবনূরের ফেরার অপেক্ষায় এখনও অধীর আগ্রহে তার ভক্ত-দর্শক। আদৌ কি শাবনূর ফিরবেন? ফিরলেও সে অপেক্ষার ব্যাপ্তিকাল কত? কিন্তু শাবনূরের দেশে ফিরে আবারও সিনেমায় যুক্ত হবার ব্যাপারে এখনো ধোয়াশা কাটছে না বলে জানাচ্ছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • হে আল্লাহ, আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন: শাবনূর

    পবিত্র শবে বরাত, বিশ্বভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন এবার পড়েছে একই দিনে। একই দিনে ৩টি দিবস হওয়ায় বেশ আনন্দিত ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের নন্দিত নায়িকা শাবনূর। এ দিবস ৩টি নিয়ে তিনি তার ভক্ত-অনুরাগীদেরও মনে করেছেন। সেই সঙ্গে সবার উদ্দেশ্যে শবে বরাত, পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্বভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাল রঙের পোশাক পরা তিনটি ছবি আপলোড করেন শাবনূর। ক্যাপশনে লেখেন, ‘আজ পবিত্র শাবান মাসের মহিমান্বিত ও বরকতময় রাত, ‘শবে বরাত’।

    এ রাতে মহান আল্লাহর রহমত ও বরকত কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।’

    পহেলা ফাল্গুন নিয়ে শাবনূর লেখেন, ‘আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের আগমন ঘটেছে। ফাল্গুনের বর্ণিল হাওয়ায় সবার জীবন ভরে উঠুক আনন্দে।

    সবাইকে ফাল্গুনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।’ স্ট্যাটাসের শেষে শাবনূর তার ভক্তদের ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। লেখেন, ‘হ্যাপি ভ্যালেনটাইনস’।

    প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন শাবনূরের। প্রথম ছবি ব্যর্থ হলেও পরে প্রয়াত নায়ক সালমান শাহের সঙ্গে জুটি গড়ে ব্যাপক সফলতা পান।

    ক্যারিয়ারে রিয়াজ, শাকিল খান, ফেরদৌস,শাকিব খানসহ অনেক নায়কের সঙ্গে জুটি গড়ে অসংখ্য ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সম্মানী ইস্যুতে ‘রঙ্গনার’ শুটিং করছেন না শাবনূর, নাকি অন্যকিছু?

    দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় জগতে নেই চিত্রনায়িকা শাবনূর। পরিবার নিয়ে থাকছেন অস্ট্রেলিয়ায়। গতবছর ফিরেছিলেন অভিনয়ে। ‘রঙ্গনা’ নামের একটি সিনেমা করছিলেন তিনি। এতে করেছিলেন দ্বৈত চরিত্রে অভিনয়। তবে সিনেমাটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। কবে নাগাদ শেষ হবে তাও সঠিকভাবে বলতে পারছেন না পরিচালক। তার দাবি, শাবনূর দেশে ফিরলেই শেষ হবে শুটিং।

    রঙ্গনা সিনেমাটি পরিচালনা করছেন আরাফাত হোসাইন। গত বছরের এপ্রিলে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। পুরান ঢাকা, পুবাইল, টঙ্গী, উত্তরা ও ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় শুটিং হয়েছে। মে মাসে সিনেমার শুটিং করে সিডনিতে ফিরে গেছেন শাবনূর। এরপর কেটে গেছে ৯ মাসেরও বেশি সময়।

    গত ৮ আগস্ট থেকে রঙ্গনার বাকি অংশের শুটিং হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের পরিস্থিতির কারণে সেসময় দেশেই ফিরতে পারেননি শাবনূর। এরপর রঙ্গনার দ্বিতীয় ধাপের শুটিং ডিসেম্বরে শুরু করার কথাও জানিয়েছিলেন আরাফাত। সেটাও হয়নি। শাবনূর আসেননি দেশে।

    এর মধ্যে গুজব রটেছে, সম্মানীর কারণে নতুন করে শিডিউল দিচ্ছেন না শাবনূর। তবে পরিচালক গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন। জানালেন, ‘কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, রঙ্গনার শুটিং আর হচ্ছে না। এটা পুরোপুরি অবাস্তব কথা। কেন জানিনা অনেকে নেতিবাচক আচরণ করছেন সিনেমাটি নিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে আজেবাজে মন্তব্য ছড়াচ্ছে। ভুল তথ্য দিচ্ছে।’ অনুরোধ করে আরাফাত বলেন, ‘গুজবে কান দেবেন না। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী অবশ্যই আমাদের শুটিং হবে।’

    শুটিং কবে শুরু হবে এই তথ্য জানিয়ে আরাফাত বলেন, সেটি অনিশ্চিত। যখন শাবনূর আপা দেশে আসবেন তখনই শুটিং হবে। তবে, সেই সময়টি এখনই প্রকাশ করতে চাই না আমি। কারণ, শুটিং শিডিউল প্রকাশ হলে আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ছোট বোনের জন্মদিনে শাবনূরের অনন্য উপহার

    ছোট বোন ঝুমুরের গাওয়া গানে বড় বোন ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের একটি মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ঝুমুরের জন্মদিন উপলক্ষে গানটি সোমবার ঝুমুর মেলোডি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। 

    গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিওতে মডেলও হন ঝুমুর। গানটির সংগীত পরিচালনায় ছিলেন জে কে মজলিশ।

    ‘সুখ তুমি নিও, দুঃখ আমায় দিও’ গানটির ভিডিও বানিয়েছেন অভিনেত্রী শাবনূর। গত বছরের শেষদিকে তার কণ্ঠে একটি কাভার গান প্রকাশিত হয়েছে। মাসখানেকের ব্যবধানে এবার নতুন একটি গান প্রকাশিত হলো। 

    আর এর মধ্যদিয়েই নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরছেন শাবনূর। ইউটিউবের মাধ্যমে এবার গান নিয়ে শ্রোতাদের কাছে ফিরতে উৎসাহিত করেছেন ছোট বোনকে। বর্তমানে তারা দুজনই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থাকেন।

    ঝুমুর জানান, ২০০৫ সালের দিকে গানটির ভিডিও বানানো হয়। তখন ভিডিওটি পরিচালনা করেন শাবনূর। গানটি এর আগে অন্য একটি ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয়েছিল। এরপর গানটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর গানটি আবার প্রকাশ করা হলো। 

    তিনি জানান, শাবনূর এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে থাকেন। তিনিও পরিবার নিয়ে সেখানে থাকেন। তবে শখের বশে বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনে গান গেয়ে থাকেন।

    ঝুমুর বলেন, আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে এই গানের শুটিংয়ের দিনের কথা। সারা দিন পরিচালনা নিয়ে অনেক ব্যস্ত ছিল শাবনূর, আমি ভারি গাউন পরে একটা দিন শুধু গানের ভিডিওতে কাজ করেই বুঝে গিয়েছিলাম- এসব আমার জন্য নয়। সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, পর্দায় তারকাদের জীবন যতটা চাকচিক্যপূর্ণ মনে হয়, বাস্তবে তাদের প্রতিটা দিন অনেক বেশি পরিশ্রমের। আপুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সেদিন আরও অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিল।

    ২০০৫ সালে শাবনূরের উৎসাহেই ঝুমুরের গানে অভিষেক হয়েছিল। একই বছরে সাতটি বাংলা সিনেমায় গান গেয়েছিলেন ঝুমুর। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। একসময় শাবনূরও থিতু হন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। 

    গানের প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, এই গানের কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে। সিনেমার গানের দৃশ্যধারণ করতে করতে একসময় নিজেরও ইচ্ছা হয়, কোনো দিন যদি গানের ভিডিও ডিরেকশন দেওয়া যায়। সেই শখ পূরণ করে দিয়েছিল ঝুমুরই।

    বিনোদন ডেস্ক