Tag: শাবনূর

  • ‘মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী’—শাবনূরের রহস্যময় বার্তা

    ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের সম্প্রতি দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টের রহস্যময় বার্তা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিজের একাধিক ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে মাত্র পাঁচটি শব্দের এই বার্তায় লেখা ছিল—‘মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী।’ 

    সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলাকে ঘিরে নানা আলোচনা ও শাবনূরকে নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে আসার মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেত্রী এমন রহস্যময় বার্তা দিলেন, যা নেটিজেনদের মাঝে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। 

    তবে এই বার্তায় তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি বা সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রসঙ্গও সরাসরি উল্লেখ করেননি। 

    উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে এর আগে নানা সময়ে শাবনূরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কেউ কেউ তাকে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন। এর মধ্যেই সালমান শাহ হত্যা মামলার শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে অভিনেতা ডনের আগের দেওয়া জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। 

    জবানবন্দির বরাত দিয়ে এই পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, ঘটনার দিন সালমান শাহর বাসায় সামিরা, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, প্রথমে সালমান শাহর নাক-মুখে ক্লোরোফর্ম প্রয়োগ করে তাকে অচেতন করা হয়। পরে অচেতনতা আরও গভীর করতে বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    ওমর ফারুক ফারুকীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডন তার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়ি নিজের কোমরে বেঁধে সালমান শাহর বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবি দীর্ঘদিনের। নায়কের ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকেও মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও ঘটনার প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি উঠে এসেছে। 

    এসব ব্যাপারে বরাবর নিশ্চুপ থাকলেও মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ফেসবুকে এই ছোট্ট বাক্য লিখেই যেন না বলা নানা কথা জানালেন এই অভিনেত্রী। 

    যদিও সালমান শাহ হত্যা মামলার সঙ্গে বিভিন্ন সময় অনেকেই শাবনূরের সম্পৃক্ততাও খোঁজার চেষ্টা করলেও নায়কের মা নীলা চৌধুরীর আবার ভিন্নমত। 

    সালমান-শাবনূরকে নিয়ে নব্বইয়ের দশক থেকেই ‘প্রেমঘটিত’ গুঞ্জন ছিল। কিন্তু এই নায়িকা বরাবরই বলে এসেছেন, সালমান শাহকে তিনি ভাইয়ের মতোই দেখতেন। সম্প্রতি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীও শাবনূরের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন, তার ছেলের সঙ্গে শাবনূরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল না; সালমান তাকে বোনের মতোই দেখতেন। 

    প্রসঙ্গত, ঢালিউড ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন সালমান শাহ ও শাবনূর। ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে তাদের জুটি শুরু হয়। এরপর ‘সুজন সখী’, ‘বিচার হবে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’সহ ১৪টি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। এই জুটির বেশিরভাগ সিনেমাই ছিল ব্যবসাসফল। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • তিন দশক পর সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী

    বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো এই চিত্রনায়ককে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ তিন দশক পরও এতটুকুও কমেনি। অভিনেতার ছোট্ট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি জুটি বেধে কাজ করা অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে তার পর্দার রসায়নটাও ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। 

    সালমানের মৃত্যুর পর এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে—এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই গুঞ্জন এখনো চলছেই। এবার প্রসঙ্গটি নিয়ে মুখ খুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তার দাবি, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন তিনি। 

    সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী। তিনি জানান, শাবনূর সালমানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমানও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সালমানের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরকে তিনি বোনের মতো স্নেহ করতেন। 

    শাবনূরও বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তাদের সম্পর্ক ছিল ভাই–বোনের মতো। 

    তবে এই অভিনেত্রীকে নিয়ে কিছু অভিযোগও করেছেন প্রয়াত সালমানের মা। তার দাবি, শাবনূর কখনো কখনো সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা ধরনের গল্প ছড়িয়ে পড়ে। 

    অন্যদিকে, শাবনূর বরাবরই এসব প্রেমের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি, বরং ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ ও গণমাধ্যম তাদের বন্ধুত্বকে ঘিরে মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এ প্রসঙ্গে শাবনূর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’ 

    উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় সালমান শাহর। এতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনীত ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। 

    সালমান-শাবনূর জুটির ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমা আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহ হত্যা মামলার রাজসাক্ষীর বক্তব্যের পালটা জবাব দিলেন শাবনূর

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজের বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ঢালিউডের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহকে। সেই মৃত্যু নিয়ে এখনো চলছে চর্চা। মামলাও রয়েছে চলমান। সালমান শাহর মৃত্যুর পর এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। সেই সময় রাজসাক্ষী হয়ে ‘সালমান শাহ’কে হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনের সঙ্গে নিজেও দায়ী বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন তিনি। 

    সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ প্রসঙ্গে বারবার শাবনূরের নাম টেনে এনেছেন রিজভী আহমেদ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী অভিনেত্রী। শনিবার (৮ আগস্ট) দীর্ঘ এক ফেসবুক বার্তায় সেই ঘটনা প্রসঙ্গে বিশদ এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন শাবনূর।

    সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে  ‘রিজভীর গালগল্প ও অসত্য বয়ান’ শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই স্ট্যাটাসে শাবনূর লিখেছেন— সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায় সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী (বিল্টু)-কে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। 

    তিনি বলেন, ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দি ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে— কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছু দিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়। পরে সেখানে অবস্থানকালে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় সে আবারও সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ২০১৯ সালে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘সময় টিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দাবি করে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিল। 

    অভিনেত্রী বলেন, আশ্চর্যের বিষয়— সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছু দিন আগে ‘আরজে নীরব’ ও ‘সময় টিভি’কে দেওয়া দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারেও সে আবার একই দাবি করে যে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তাই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং আমাকেও ওই ঘটনার জন্য বারবার দায়ী করে কথা বলে।

    তাহলে রিজভীর কোন বক্তব্য সঠিক প্রশ্ন করে শাবনূর বলেন, একই ব্যক্তি যখন সময়ে সময়ে একই ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়, তখন তার সর্বশেষ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। 

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে প্রকাশিত তার দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে সে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক অসঙ্গগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে সবার কাছেই সেগুলো সাংঘর্ষিক, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হবে। 

    অভিনেত্রী বলেন, সম্প্রতি ‘আরজে নীরব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে— আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে কোনো দিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসতো যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল এবং এখনো চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— প্রায় একই সময়ে ‘সময় টিভি’কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে— আমি নাকি তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ছিলাম। 

    শাবনূর বলেন, শুধু তাই নয়, সে আরও দাবি করেছে যে, ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়! এখন প্রশ্ন হলো— সে তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে এবং তার নিজের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। আর আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো, কীভাবে হলো? এর প্রমাণই বা কী? 

    অভিনেত্রী বলেন, আরও মজার বিষয় হচ্ছে— সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগ থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনো দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’-ই হয়েছিল!

    শাবনূর রিজভীকে আগে থেকে চিনতেন না। সালমান শাহর মৃত্যুর পর রাজসাক্ষী হওয়ার ঘটনায় সেই ব্যক্তির নাম প্রথম শোনেন বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।  তিনি বলেন, রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে, আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম এবং তার আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভীর নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। 

    অভিনেত্রী বলেন, তাহলে প্রশ্ন হলো— সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে, আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম? রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামী করতাম বা সালমান ও তার স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। 

    এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানান শাবনূর। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনো দিন বলতে পারবেন না যে, আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামী করেছি।

    এ ছাড়া ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে যাওয়া, সেখানে বাড়ি কেনা কিংবা সালমান খান ও শাহরুখ খানদের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়াসহ বিভিন্ন দাবি করেছেন রিজভী। এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী (আন্টি) তার ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে পুনরায় মামলা করার পর, ওই মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার মোড় ঘুরে যাওয়ার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আমার ধারণা— তাদের প্ররোচনায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য— এমনকি আর্থিক প্রলোভনে পড়েও রিজভী আহমেদ আমার ও নীলা আন্টির বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 

    তিনি বলেন, নিজেদের রক্ষা করা এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করাই হয়তো তাদের উদ্দেশ্য। আমি বরাবরের মতোই স্পষ্ট করে বলতে চাই— সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সংযোগ ছিল না। তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। 

    শাবনূর বলেন, সালমান শাহ শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ। তার অকাল মৃত্যু আজও আমাকে ব্যথিত করে।

    ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি করে অভিনেত্রী বলেন, আমি আন্তরিকভাবে চাই, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

    সবশেষে শাবনূর বলেন, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ ছিল না— এখনো নেই। সে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত মানহানিকর।  

    উল্লেখ্য, অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় করা হত্যা মামলায় মোট ১১ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার আসামিদের তালিকায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্র খলঅভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড জাভেদ ফারুক রুবী, আব্দুস ছাত্তার সাজু, রিজভি আহমেদ ফরহাদ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শাবনূরকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট পূর্ণিমার

    নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় দুই নায়িকা শাবনূর ও দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন এই দুই অভিনেত্রী। অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তারা। আর অনবদ্য অভিনয়গুণে দুজনই শক্ত অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে।

    সম্প্রতি শাবনূরের সঙ্গে কাটানো পুরোনো কিছু সুন্দর মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন পূর্ণিমা। 

    ভিডিওর ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘কিছু মানুষ শুধু তারকা নন, তারা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শাবনূর আপু। পর্দার সাফল্যের বাইরেও তিনি একজন অসাধারণ মনের মানুষ।’

    স্মৃতির পাতা হাতড়ে পূর্ণিমা আরও উল্লেখ করেন, ‘২-৩ বছর আগে তার সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তটি আজও আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় স্মৃতিগুলোর একটি। বাংলা সিনেমায় আপনার অবদান যেমন অবিস্মরণীয়, তেমনি মানুষ হিসেবেও আপনি অসাধারণ।’

    বর্তমানে শাবনূরকে রূপালী পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও ভক্তদের পাশাপাশি সহকর্মীরাও যে তাকে কতটা মিস করেন, তা স্পষ্ট পূর্ণিমার কথায়। শাবনূরের সুস্থতা কামনা করে পূর্ণিমা তার পোস্টে লেখেন, ‘আপনাকে বড় পর্দায় খুব মিস করি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’

    প্রসঙ্গত, ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শাবনূর ও পূর্ণিমা দুজনেই নিজেদের অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এক সময় পর্দায় তাদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হলেও, বাস্তব জীবনে তাদের এই পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসা ইন্ডাস্ট্রির নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিনামূল্যে বড়পর্দায় দেখা যাবে সালমান-শাবনূরের সিনেমা

    নব্বই দশকে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি ছিল সালমান শাহ ও শাবনূর। এমনকি এই জুটিকে দেশের বড়পর্দার ইতিহাসেরই অন্যতম দর্শকপ্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন পর আবারও এই তারকা জুটির সিনেমা বড়পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়েছে সিনেমাপ্রেমীরা। 

    বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সালমান-শাবনূরের দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তোমাকে চাই’-এর বিশেষ উন্মুক্ত প্রদর্শনী। দর্শকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন। 

    মতিন রহমান পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে সালমান শাহ ও শাবনূর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন আনোয়ারা ও রীনা খান। মুক্তির পর ছবিটি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক বাংলা সিনেমার অন্যতম আলোচিত কাজে পরিণত হয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে পুরনো দিনের জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রগুলো নতুন করে বড় পর্দায় উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বড় পর্দায় ‘তোমাকে চাই’ সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী, তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজ দায়িত্বে মিলনায়তনে উপস্থিত হতে পারবেন। 

    বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতেই নিয়মিত এমন আয়োজন করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ সূত্রে জানা গেছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের সেই পুরোনো গানে নাচলেন অমিত-শাবনূর

    ঢালিউডের একসময়ের জনপ্রিয় দুই অভিনয় শিল্পী অমিত হাসান ও শাবনূর। যদিও এখন আর সেভাবে ক্যামেরার সামনে দেখা যায় না তাদের। দুজনই এখন বড়পর্দায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তবে আবারও হঠাৎ করেই ঢাকাই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতির সমুদ্রে ভাসালেন একসময়ের জনপ্রিয় এই জুটি। 

    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আরেক ঢালিউড অভিনেতা কাজী মারুফের বাসায় দেখা মিলল অমিত হাসান ও শাবনূরের। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন কাজী মারুফ। যেখানে দেখা যায়, অমিত-শাবনূর অভিনীত সিনেমার জনপ্রিয় ‘একদিকে পৃথিবী, আরেকদিকে তুমি যদি চাও’ গানের তালে নাচছেন দুজন। নাচের পাশাপাশি অমিতের সঙ্গে এই চিত্রনায়িকাকে গাইতেও দেখা যায়। 

    ভিডিওটি প্রকাশের পর সেটা নেটদুনিয়ায় বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে দুই তারকাকে দেখে ভক্ত-অনুরাগীরাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    জানা গেছে, ছেলে আইজানের ইচ্ছাতেই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে গেছেন শাবনূর। এই সফরে দেশটিতে অবস্থানরত ঢালিউডের একাধিক তারকার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে শাবনূরের সঙ্গে ইতোমধ্যে মামুন ইমন, রেসিসহ আরও বেশ কজন তারকার সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানে তাদের সঙ্গে শাবনূরকে আনন্দমুখর সময় কাটাতে দেখা যায়। 

    উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গেও শাবনূরের সাক্ষাতের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • জন্মদিনে যে বার্তা দিলেন ঢাকাই সিনেমার ‘রানি’

    ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের আজ (১৭ ডিসেম্বর) জন্মদিন। জন্মদিনের প্রথম প্রহর থেকেই অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। বিশেষ এই দিনে ভক্তদের ভালোবাসায় আপ্লুত অভিনেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

    জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শাবনূর জানান, দিনটি তার কাছে সত্যিই ভীষণ স্পেশাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোন ও মেসেজে যে অগাধ ভালোবাসা ও অসংখ্য শুভেচ্ছা পাচ্ছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    স্ট্যাটাসে শাবনূর লেখেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার অগণিত ভক্ত-শ্রোতা, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও অনুপ্রেরণা। সবার দোয়া ও ভালোবাসা তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে এবং ভালো কাজ করার শক্তি জোগায় বলেও জানান তিনি। শেষে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানান এবং সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

    দেশীয় চলচ্চিত্রের সফল নায়িকাদের মধ্যে শাবনূর অন্যতম। নজরকাড়া চেহারা, মায়াবী হাসি, মধুমাখা চাহনি ও অনবদ্য অভিনয় দিয়ে অল্প সময়েই তিনি ঢাকাই সিনেমায় নিজের অবস্থান শক্ত করেন। একসময় শাবনূরের সিনেমা মানেই ছিল বক্স অফিসে সাফল্যের নিশ্চয়তা। দর্শকদের কাছে তিনি পরিচিতি পান ঢাকাই সিনেমার ‘রানি’ হিসেবে।

    ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন শাবনূর। তার পর্দার নাম নূপুর। কিংবদন্তি পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও ১৯৯৪ সালে জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ সিনেমা থেকেই শুরু হয় শাবনূরের জনপ্রিয়তার উত্থান।

    অমর নায়ক সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে শাবনূর ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন। সবগুলোই ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য পায়। সালমান শাহ–শাবনূর জুটি ঢাকাই সিনেমার অন্যতম সফল ও স্মরণীয় জুটি হিসেবে পরিচিত, যাকে অনেকেই ইন্ডাস্ট্রির ‘মিথ’ বলে অভিহিত করেন।

    এ ছাড়া ওমর সানী, অমিত হাসান, আমিন খান, বাপ্পারাজের সঙ্গে অভিনয় করে সফলতা পান শাবনূর। সালমান শাহর মৃত্যুর পর রিয়াজ, শাকিব খান ও ফেরদৌসসহ একাধিক জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখেন। বিশেষ করে রিয়াজের সঙ্গে প্রায় অর্ধশত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

    ব্যক্তিজীবনে ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদের সঙ্গে তার আংটি বদল হয়। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে শাবনূর অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন এবং সেখানকার নাগরিকত্ব লাভ করেন।

    বর্তমানে সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও আলোচনায় শাবনূরের নাম আজও উচ্চারিত হয় সমান গুরুত্বে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শাবনূরের ‘রঙ্গনা’ মুক্তির আগেই ইউটিউবে

    বেশ ঘটা করেই মহরত হয়েছিল শাবনূর অভিনীত ‘রঙ্গনা’র। পুবাইল ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ছবিটির বেশির ভাগ শুটিংও হয়েছে। তবে বাকি শুটিং শেষ না করেই অস্ট্রেলিয়া চলে যান অভিনেত্রী। কথা ছিল, অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে শুটিং করবেন।

    কিন্তু সহসা তিনি ফিরতে পারছেন না। তাই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এম এস মুভিজ শুটিং হওয়া অংশটুকু পর্ব করে করে মুক্তি দিচ্ছে ইউটিউবে। 

    এর মধ্যে ২০ মিনিটের একটি পর্ব প্রকাশ হয়েছে। আরাফাত হোসেন পরিচালিত ছবিটি প্রযোজনা করেছেন মৌসুমী মিথিলা।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি বলেন, ‘শাবনূর আপু দেশে ফিরলে আবার নতুন করে ছবিটি শুরু করব। তখন গল্পেও পরিবর্তন আসবে। ফলে এই দৃশ্যগুলো কাজে লাগাতে পারব না। তা ছাড়া মাঝখানে বড় একটা বিরতি পড়াতে লুকও মিলবে না।

    ভাবলাম দর্শকের বঞ্চিত করে লাভ কী! যেটুকু শুটিং করেছি সেটুকুই দেখুক।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমানের সঙ্গে কি প্রেম ছিল, যা বললেন শাবনূর

    একসময়ের ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর বর্তমানে সিনেমা থেকে দূরে আছেন। এমনকি দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় সপরিবারের বসবাস করছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে রুপালি পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। চার বছরের সংক্ষিপ্ত সময়েই তারা একসঙ্গে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে গড়ে তোলেন এক অধ্যায়। সময় গড়িয়ে গেছে, কিন্তু সালমান–শাবনূরের জুটির জনপ্রিয়তা আজও অমলিন রয়েছে।

    দীর্ঘদিন পর সালমান শাহের মৃত্যু কেন্দ্র করে আবার আলোচনায় এলেন শাবনূর। সালমানের মৃত্যুতে তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাবনূর বলেন, সালমান শাহ আর আমাকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তাদের উদ্দেশে শুধু বলব— এসবের কোনো কথাই সত্য নয়। সালমানের কোনো বোন ছিল না, তাই আমাকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন। আমাকে ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন। তার মা-বাবাও আমাকে খুব আদর করতেন, মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন বলে জানান অভিনেত্রী।

    তিনি বলেন, আমিও সালমানকে ভাইয়ের মতোই দেখতাম। তবে আমাদের মধ্যে ছিল দারুণ বন্ধুত্ব। সালমান নাচে একটু দুর্বল ছিল। প্রায়ই বলতেন—আমাকে একটু নাচ দেখিয়ে দে তো। আমি হাসতে হাসতে দেখিয়ে দিতাম।

    সালমান–শাবনূরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, কিছু মানুষ আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা মুখরোচক গল্প বানিয়েছে। কেউ কেউ সেটি দিয়ে ব্যবসাও করেছে। এতে আমার কষ্ট হয়েছে। কারণ আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে গড়েছি। অথচ সালমানকে আমি ভাই ছাড়া অন্য কোনো চোখে দেখিনি।

    সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, সামিরা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। শুটিংয়ে প্রায় সবসময়ই সে থাকত। আমাদের মধ্যে কখনো কোনো মনোমালিন্য হয়নি। সামিরা নিজে আমার হাতে চুড়ি পরিয়ে দিয়েছে, পোশাক মিলিয়ে দিয়েছে, কানের দুল বেছে দিয়েছে—আমরা সত্যিই খুব ভালো সময় কাটিয়েছি।

    সালমানের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার মুহূর্তটিকে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা বলে মনে করেন শাবনূর— হঠাৎ কেউ একজন জানাল— সালমান মারা গেছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। ভেবেছিলাম কেউ মজা করছে। পরে নিশ্চিত হয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। এরপর এফডিসিতে গিয়ে ওকে শেষবার দেখি।

    শাবনূর বলেন, সালমান যদি বেঁচে থাকত, বাংলা চলচ্চিত্রের চেহারাটা আজ ভিন্ন হতো। যেমন উত্তম কুমার আর সুচিত্রা সেনের জুটি এখনো কিংবদন্তি, আমরা হয়তো তেমনভাবেই জায়গা করে নিতে পারতাম।  তিনি বলেন, যদি কোনো দিন সালমানের সঙ্গে দেখা হতো, আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম— সালমান, তুমি কেন মরে গেলে? তোমার কী কষ্ট ছিল? এত সাফল্য, এত ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও কেন তুমি চলে গেলে?’

    এদিকে সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক ভাইবোনের মতো ছিল বলে জানিয়েছেন সেই সময়ের সালমান শাহের সহকারী মনসুর আলী । তিনি বলেন, আমি সাড়ে চার বছর সালমান ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই জানি না। বরং ভাই সব নায়িকাকেই সম্মান করতেন। শাবনূরকে প্রথম দেখেই বলেছিলেন—আমার তো কোনো বোন নেই, তুমি আমার ছোট বোনের মতো।

    উল্লেখ্য, এফডিসিতে মৌসুমীর সঙ্গে সালমানের শুটিং চলাকালীন শাবনূরের প্রথম দেখা হয়েছিল। পরে ‘তুমি আমার’ সিনেমায় সালমানের সঙ্গে কাজের সুযোগ হয় শাবনূরের। সেই সিনেমার সাফল্যের পর দর্শকরা তাদের নতুন জুটিকে ভালোবাসতে শুরু করেন। শাবনূর বলেন, আমাদের বোঝাপড়াটা ছিল অসাধারণ, একই দৃশ্যে আমরা একে অন্যের চোখের ইশারা বুঝতে পারতাম।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অবশেষে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর

    সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ সবচেয়ে বেশিবার বড়পর্দায় দেখা দিয়েছেন অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে। সালমান-শাবনূর জুটি সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় অভিযুক্ত না হলেও কেউ কেউ শাবনূরকে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছেন। বিষয়টি নজর এড়ায়নি ঢালিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর। 

    সোমবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া লম্বা এক পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, ‘আবারও সালমান শাহ প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু কথা! ২৯ বছর আগে কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালীন আমি সংবাদমাধ্যমের খবরে এ বিষয়ে অবহিত হয়েছি।’

    কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে সালমান শাহ হত্যা মামলায় সঙ্গে তার নাম জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য জানতে চাইছেন। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই শুরুতে এ নিয়ে কথা বলতে চাইনি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে সালমান শাহ সংক্রান্ত এই মামলার সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। আমার সম্পর্কে ভিত্তিহীন এসব গুজব ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সবাইকে অনুরোধ করছি সত্যতা বিবর্জিত ও ভ্রান্ত তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকুন।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শাবনূর আরও বলেন, ‘সালমান শাহ ছিল আমার অত্যন্ত প্রিয় সহঅভিনেতা। আমরা একসঙ্গে প্রায় ১৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। সালমান ছিল একজন জনপ্রিয়, অসাধারণ শক্তিমান এবং প্রতিভাবান অভিনেতা। নিঃসন্দেহে বলতে পারি তার সঙ্গে কাজ করে আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার বিকশিত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।’

    ঢালিউডের রাজপুত্রের মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন উল্লেখ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সালমান শাহর অকাল মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। আমাদের জুটির সাফল্য একসময় অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার মৃত্যুর পর কেউ কেউ হয়তোবা নিজেদের বাঁচাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে। আমাদের নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে যা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। তবে আজও আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই — সালমান শাহ কীভাবে মারা গেছে তা আমি সত্যিই জানি না। আমি শুধু তার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। যে-ই দোষী হোক না কেন তাকে যেন আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়। এটাই আমার একান্ত দাবি ও প্রত্যাশা।’

    সবশেষে তিনি লেখেন, ‘সন্তান হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের তা সালমানের মা নীলা (নীলা চৌধুরী) আন্টির আহাজারি দেখলেই অনুভব করতে পারি। আমি আন্টি এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি এবং সর্বোপরি সালমান শাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

    বিনোদন ডেস্ক