লাদাখ থেকে ফিরেই মিঠুনকে দেখতে হাসপাতলে দেব

Written by

in

‘দেশু সাত’ সিনেমার শুটিং সেরে লাদাখ থেকে দিল্লিতে ফিরেছেন টালিউডের পাগলুখ্যাত অভিনেতা দেব। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরেই ফিরেই রাতে ছুটে গেলেন হাসপাতালে বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখতে। এর আগে বৃহস্পতিবার একটি অপারেশন হয় ফাটাকেষ্টখ্যাত অভিনেতার। 

‘দেশু সাত’ সিনেমার একটি গানের শুটিং করতে লাদাখে গিয়েছিলেন দেব। সঙ্গে ছিলেন এ সিনেমার নায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলি। আর রাতেই দেবকে দেখা গেল হাসপাতালে। মিঠুন চক্রবর্তীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এলেন শহরে পা রেখেই।

মিঠুন আর দেবের সম্পর্কের এই উষ্ণতা নতুন নয়; এমনকি বাংলার সাবেক শাসক দলের কিছু নেতার চোখরাঙানিতেও দমেনি। এদিনও এ বর্ষীয়ান অভিনেতাকে দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেব বললেন,  মিঠুনদা যেই দলে থাকুন না কেন, মিঠুনদা আমার বাবার মতো— ছিল, আছে আর থাকবে। এবং আমি ওর ছেলের মতো।

তিনি বলেন, আমি কামনা করি উনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। আর যেন উনাকে হাসপাতালে থাকতে না হয়। সুস্থভাবে কাজ করুক। আগামী দিনেও আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। সেটা যেন আমরা সুস্থভাবে করতে পারি।

মিঠুনের সঙ্গে হাসপাতালের সাক্ষাতের ছবি শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যমে দেব লিখলেন— আপনি সবসময়ই আমার কাছে একজন বাবার মতো। আপনার সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং আপনার প্রাপ্য সবকিছুই যেন আপনি পান—এ কামনাই করি।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন দেব। যদিও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখনো কোনো কথা বলেননি পাগলু। এমনকি সাবেক তৃণমূল সংসদ সদস্য, যারা বর্তমানে এনসিপিতে, তারা মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ-বৈঠক করলেও সেখানে ছিলেন না দেব। যদিও এর কারণ হিসেবে তার লাদাখে থাকাকেই জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কোনো দিনই রাজনীতির মাপকাঠিতে আটকে ছিল না দেব ও মিঠুনের সম্পর্ক।

দেব-মিঠুনের জুটিতে বক্স অফিসে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল প্রজাপতি আর প্রজাপতি ২। সঙ্গে বাংলার রাজনীতিতেও। দেবের বিপক্ষে চলে গিয়েছিলেন সেই সময় বহু তৃণমূল নেতা। এমনকি প্রজাপতিকে নন্দনে জায়গা দেওয়া হয়নি। শুধু বিজেপি করা মিঠুনের উপস্থিতির কারণে। তবে শত বিতর্কও টলাতে পারেনি দেবকে। কুণাল ঘোষের সঙ্গে মতানৈক্যও হয়েছিল এ নিয়ে।

প্রসঙ্গত, ডান হাতে একটি ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়েছে কিংবদন্তি  অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর। প্রায় দুই বছর আগে মিঠুনের ডান হাতে একটি চোট লেগেছিল, যার কারণে তখন সেখানে একটি প্লেট বসানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেই পুরোনো প্লেটটি বের করার জন্যই তার হাতে এই অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে। আপাতত তিনি কলকাতায় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। 

এদিকে শুক্রবার সকালেই মিঠুনকে দেখতে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও আশঙ্কামুক্ত।

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *