Tag: মিঠুন চক্রবর্তী

  • শিবপ্রসাদ-নন্দিতার নতুন সিনেমায় মিঠুন, যা বললেন অভিনেতা

    সম্প্রতি হাতে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। আপাতত তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তবে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরতে না ফিরতেই সুখবর পেলেন এ ফাটাকেষ্টখ্যাত অভিনেতা। এবার শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের সঙ্গে জুটি বাঁধতে চলেছেন তিনি। 

    আগামী বছর উইন্ডোজের পঁচিশ বছরপূর্তিতে আসবে সেই নতুন সিনেমা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সব চূড়ান্ত হওয়ার পর সবার সঙ্গে সেই খবর শেয়ার করে নিলেন পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। যদিও টালিউডের প্রায় সব পরিচালকই এ অভিনেতাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের স্বপ্ন দেখে থাকেন। চিত্রনাট্য যদি মনের মতো হয় তিনি বাংলা ছবি করতে সবসময় রাজি। বলিউডে নিজের জায়গা পোক্ত করেও তিনি বাংলাকে ভোলেননি। হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি প্রতি বছরই বাংলায় এসে ছবি করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী।

    পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজেই এ খবর জানান সামাজিক মাধ্যমে। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে উচ্ছ্বসিত হয়ে নির্মাতা লিখেছেন—হ্যাঁ ফাইনালি আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। আমি আর নন্দিতা দি, সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী। 

    তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে। আমার তেমনই একটি স্বপ্ন ছিল — কোনো একদিন মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করব। কারণ বড় হয়েছি তাকে পর্দায় দেখে। ‘অগ্নিপথ’, ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘দো আনজানে’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’ — আরও কত ছবি! 

    শিবপ্রসাদ বলেন, আবার বাংলা সিনেমায় তার অসামান্য সব কাজ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়— একজন অভিনেতার কোনো ভাষা হয় না, কোনো সীমানা হয় না। তার অভিনয়, তার ব্যক্তিত্ব, তার পর্দাজুড়ে থাকা— সব মিলিয়ে ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার কাছে শুধু একজন তারকা নন, এক অদ্ভুত বিস্ময়। আমার কাছে উনিই রামকৃষ্ণ, উনিই মৃগয়া, উনিই ডিস্কো ড্যান্সার।

    এর আগে এ কিংবদন্তি অভিনেতাকে নিজে চিত্রনাট্য পড়ে শুনিয়েছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই অভিজ্ঞতাও শেয়ার করে নিলেন তিনি। এ নির্মাতা বলেন, কিছু কিছু অপেক্ষা বোধহয় ঠিক গল্পটার জন্যই থেকে যায়। যেদিন ওর সঙ্গে দেখা করে গল্পটা শোনালাম, বুকের ভেতরটা কোথাও সেই ছোটবেলার আমিটা বোধহয় তখনো চুপ করে বসেছিল। গল্প বলা শেষ হতেই মিঠুনদা হাত মিলিয়ে বললেন— ফাটিয়ে দিয়েছিস! এ তো আমার জীবনের গল্প।

    এর আগে আমেরিকায় থাকাকালে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পরিচালক। নিজের পরিচয় দিয়ে একটা ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলেন তিনি, যা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এ বর্ষীয়ান অভিনেতা। সেদিন মিঠুনদা কল ব্যাক করে বলেছিলেন—শিবু! নিজেকে শিবপ্রসাদ বলে এত বড় ফিরিস্তি দিচ্ছিস কেন? বসে আছি তো কাজ করব বলে!

    আগেবতাড়িত হয়ে শিবপ্রসাদ বলেন, কয়েকটা শব্দ কখনো কখনো অনেক বছরের স্বপ্নকে ছুঁয়ে যায়। সেই মুহূর্তটা আমার কাছে ঠিক তেমনই। আর কয়েকটি দিনের অপেক্ষা। তারপর বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তিরত হবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন মিঠুন

    অবশেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। হাতের জটিল অস্ত্রোপচারের পর শনিবার (৮ আগস্ট) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষ বার্তা দেন তিনি। 

    হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় মিঠুন বলেন, ‘তিন দিন চোখের নিমেষে কেটে গেল। বুঝতেই পারিনি। সব চিকিৎসককে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষজ্ঞদের পুরো টিম, যারা আমাকে সুস্থ করে তুললেন, তাদের অনেক ধন্যবাদ।’ 

    হাসপাতালে থাকাকালীন নার্সদের কাছ থেকেও বেশ যত্ন পেয়েছেন উল্লেখ করে অভিনেতা বলেন, ‘নার্সদের কাছ থেকেও খুব যত্ন পেয়েছি। তার জন্যই আমি এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারছি। অস্ত্রোপচারের দিনেই লক্ষ করলাম, আমার আঙুল দিয়ে কিছু ধরার মতো অবস্থা ফিরে পাচ্ছি। আমাকে এত সুন্দর সেবা করার জন্য মন থেকে সবাইকেই ধন্যবাদ জানাই।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয় মিঠুনের। হাসপাতাল সূত্রে তখনই জানানো হয়েছিল, অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরদিন শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে হাসপাতালে মিঠুনকে দেখতে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

    এদিকে, শুক্রবার রাতেই মিঠুনকে দেখতে অভিনেতা দেবও হাসপাতালে যান। চিকিৎসারত অবস্থায় অভিনেতার সঙ্গে দেখা করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এই টালিউড তারকা। 

    উল্লেখ্য, এর আগে একই হাতের কনুইয়েও অস্ত্রোপচার হয়েছিল অভিনেতার। এবারের অস্ত্রোপচারের পর তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • লাদাখ থেকে ফিরেই মিঠুনকে দেখতে হাসপাতলে দেব

    ‘দেশু সাত’ সিনেমার শুটিং সেরে লাদাখ থেকে দিল্লিতে ফিরেছেন টালিউডের পাগলুখ্যাত অভিনেতা দেব। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরেই ফিরেই রাতে ছুটে গেলেন হাসপাতালে বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখতে। এর আগে বৃহস্পতিবার একটি অপারেশন হয় ফাটাকেষ্টখ্যাত অভিনেতার। 

    ‘দেশু সাত’ সিনেমার একটি গানের শুটিং করতে লাদাখে গিয়েছিলেন দেব। সঙ্গে ছিলেন এ সিনেমার নায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলি। আর রাতেই দেবকে দেখা গেল হাসপাতালে। মিঠুন চক্রবর্তীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এলেন শহরে পা রেখেই।

    মিঠুন আর দেবের সম্পর্কের এই উষ্ণতা নতুন নয়; এমনকি বাংলার সাবেক শাসক দলের কিছু নেতার চোখরাঙানিতেও দমেনি। এদিনও এ বর্ষীয়ান অভিনেতাকে দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেব বললেন,  মিঠুনদা যেই দলে থাকুন না কেন, মিঠুনদা আমার বাবার মতো— ছিল, আছে আর থাকবে। এবং আমি ওর ছেলের মতো।

    তিনি বলেন, আমি কামনা করি উনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। আর যেন উনাকে হাসপাতালে থাকতে না হয়। সুস্থভাবে কাজ করুক। আগামী দিনেও আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। সেটা যেন আমরা সুস্থভাবে করতে পারি।

    মিঠুনের সঙ্গে হাসপাতালের সাক্ষাতের ছবি শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যমে দেব লিখলেন— আপনি সবসময়ই আমার কাছে একজন বাবার মতো। আপনার সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং আপনার প্রাপ্য সবকিছুই যেন আপনি পান—এ কামনাই করি।

    গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন দেব। যদিও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখনো কোনো কথা বলেননি পাগলু। এমনকি সাবেক তৃণমূল সংসদ সদস্য, যারা বর্তমানে এনসিপিতে, তারা মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ-বৈঠক করলেও সেখানে ছিলেন না দেব। যদিও এর কারণ হিসেবে তার লাদাখে থাকাকেই জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কোনো দিনই রাজনীতির মাপকাঠিতে আটকে ছিল না দেব ও মিঠুনের সম্পর্ক।

    দেব-মিঠুনের জুটিতে বক্স অফিসে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল প্রজাপতি আর প্রজাপতি ২। সঙ্গে বাংলার রাজনীতিতেও। দেবের বিপক্ষে চলে গিয়েছিলেন সেই সময় বহু তৃণমূল নেতা। এমনকি প্রজাপতিকে নন্দনে জায়গা দেওয়া হয়নি। শুধু বিজেপি করা মিঠুনের উপস্থিতির কারণে। তবে শত বিতর্কও টলাতে পারেনি দেবকে। কুণাল ঘোষের সঙ্গে মতানৈক্যও হয়েছিল এ নিয়ে।

    প্রসঙ্গত, ডান হাতে একটি ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়েছে কিংবদন্তি  অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর। প্রায় দুই বছর আগে মিঠুনের ডান হাতে একটি চোট লেগেছিল, যার কারণে তখন সেখানে একটি প্লেট বসানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেই পুরোনো প্লেটটি বের করার জন্যই তার হাতে এই অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে। আপাতত তিনি কলকাতায় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। 

    এদিকে শুক্রবার সকালেই মিঠুনকে দেখতে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও আশঙ্কামুক্ত।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বাগদান সেরেছেন মিঠুনকন্যা দিশানী, পাত্র কে?

    ডিস্কো ড্যান্সারখ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও যোগিতা বালী বিয়ে করেন ১৯৭৯ সালে। তাদের ঘরে তিন পুত্রসন্তান— মিমো, উষ্মে ও নমোশি। তিন পুত্রের পর কন্যাসন্তানের বাবা হন এ বর্ষীয়ান অভিনেতা। দিশানীকে তিনি দত্তক নিয়েছিলেন। 

    বহু বছর আগেকার কথা। কলকাতার রাস্তা থেকে এক শিশুকন্যাকে দেখতে পান কয়েকজন পথচারী। খবর যায় পুলিশের কাছে। উদ্ধার করা হয় ওই শিশুটিকে। তাকেই দত্তক নিয়েছিলেন মিঠুন-যোগিতা দম্পতি। এবার সেই মিঠুনকন্যার বাগদান সারলেন মিঠুন। দীর্ঘ দিনের প্রেমিক মাইলস ম্যান্টজারিসের সঙ্গে বাগদান সেরেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুললেন মিঠুনপুত্র মিমো চক্রবর্তী।

    সম্প্রতি মিঠুনকন্যা দিশানী চক্রবর্তী থাকেন লস অ্যাঞ্জেলেসে। ছোট থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা তার। সেখানেই নিউইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন দিশানী। সেখানেই বাগদান সেরেছেন। বোনের বাগদান নিয়ে উচ্ছ্বসিত মিমো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছেন, বাড়ির সবাই খুব খুশি ওর আনন্দে। এখনো আমরা এই সুখবরের রেশ উপভোগ করছি। 

    তিনি বলেন, দিশানী আমাদের ছোট বোনের মতো। তাই এ খবর আমরা ভাইয়েরা তো আবেগপ্রবণ বটেই। তবে আমাদের বাবা-মা আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। এমন মুহূর্তই বুঝিয়ে দেয় পরিবারের বন্ধন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মনে হচ্ছে, এ বছরটা আমাদের জন্য খুব ইতিবাচক।

    দিশানীর সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। একটি অনলাইনের মাধ্যমে কথা হয়েছে তাদের। দিশানীর মুখে সুখবর পেয়েই আনন্দ উপভোগ করছেন তিনি। হবু জামাইকে পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানাতেও খুবই আগ্রহী মিমো। 

    এ অভিনেতা বলেন, আমরা ভাইবোনেরা ভিডিওকলে কথা বলেছি। ওকে এত খুশি দেখে একজন দাদা হিসাবে আমার খুব ভালো লেগেছে। কথা বলতে বলতে আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। এটা আমাদের জন্য খুব আবেগের মুহূর্ত।

    জানা গেছে, আগামী ৬ ডিসেম্বর বিয়ের পরিকল্পনা করেছেন দিশানী চক্রবর্তী। তাই পরিবারের হাতে প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় রয়েছে। মিমো বলেন, সেই বিশেষ দিনের প্রস্তুতির জন্য আমাদের হাতে সময় আছে। এখন অনেক কিছু পরিকল্পনা করা বাকি রয়েছে। দুই পরিবারের জন্যই অনেক কাজ রয়েছে। এবার কোথায় বিয়ে হবে, ভারতে না কি আমেরিকায়, সেই সিদ্ধান্ত দিশানী এবং ওর হবু স্বামীর।

    তিনি বলেন, বিয়ে সবসময়ই বিশেষ একটি বিষয়। আর যখন এমন কেউ বিয়ে করে যাকে পুরো পরিবার ভালোবাসে, তখন হইচই দ্বিগুণ বেড়ে যায়। কী উপহার দেবেন বোনকে? এমন প্রশ্নের উত্তরে এ অভিনেতা বলেন, উপহারের কথা বলতে গেলে— আমি এমন কিছু দিতে চাই, যা ওর সঙ্গে সবসময় থাকবে। আমার স্ত্রী এসব বিষয়ে খুব ভালো এবং পরিকল্পনা করতেও বেশি দক্ষ। 

    নিজের বোনের সঙ্গে দেখা করতে শিগগিরই বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মিমোর। নিজের বিয়ের স্মৃতিও মনে পড়ে গেছে তার। সেই সময়ে ব্যস্ততা ছিল। কিন্তু বোনের বিয়ে পুরোদমে উপভোগ করবেন বলে আশা মিমোর।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মিঠুনদার দুষ্টুমিতে একবার আমি মরতে বসেছিলাম: দেবশ্রী

    আজ টালিউড ও বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন। তার এই জন্মদিনে না বলা কথাই জানালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। 

    ফাটাকেষ্টখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনেত্রীর ১৩ বছর বয়সেই প্রথম সাক্ষাৎ হয়। সেই প্রথম দিনের কথা স্মরণ করে দেবশ্রী রায় বলেন, মিঠুনদার সঙ্গে আমার ১৩ বছর বয়সে দেখা। তখন আমি বাচ্চা মেয়ে আর মিঠুনদা ‘মৃগয়া’ করে ফেলেছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন অভিনেতা তিনি। তবে স্টুডিওপাড়ায় যাতায়াত থাকার কারণে ততদিনে জেনে গিয়েছিলাম মিঠুন চক্রবর্তী কে?

    তিনি বলেন, ‘নদী থেকে সাগরে’ বলে একটি সিনেমায় মিঠুনের বিপরীতে আমাকে কাস্ট করা হলো। সেই সিনেমার সেটে আলাপ। সত্যি বলতে, আমি একটু উত্তেজিত ছিলাম। কারণ মিঠুনদার মতো অমন সুপুরুষ, সুন্দর চেহারার এক নায়ক আমার বিপরীতে! বেশ উত্তেজনা ছিল। আমরা দুজন ছাড়াও ছিলেন সন্ধ্যা রায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। 

    অভিনেত্রী বলেন, মিঠুনদার প্রথম বাংলা সিনেমা কিন্তু আমার সঙ্গে। সিনেমার সেটে ফ্রক পরে যেতাম। সিনেমায় প্রেমের একটা দৃশ্যে আমাকে শাড়ি পরানো হয়। অভ্যাস তো ছিল না শাড়ি পরার, শটের মাঝেই হঠাৎ শাড়িটা গেল খুলে। তখন আমার মায়ের উদ্দেশ্যে মিঠুনদার চিৎকার— মাসিমা, শিগগির এসো! তোমার মেয়েকে দেখো, শাড়ি খুলে দাঁড়িয়ে আছে। সেই থেকে মিঠুনদার সঙ্গে সম্পর্ক। শুধু ওর সঙ্গে নয়, গোটা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এই হচ্ছে মিঠুনদা। সর্বক্ষণ দুষ্টুমি।

    দেবশ্রী বলেন, মিঠুনদার সঙ্গে যে কটা সিনেমা করেছিলাম সবই হিট। উনি সেটে থাকা মানেই আর কাউকে কিছু চিন্তা করতে হবে না। সবাইকে মাতিয়ে রাখেন। হই-হুল্লোড় মানুষ। আবার যেমন দুষ্টু তেমনই বুদ্ধি। অসম্ভব মেধাবী অভিনেতা। ওর সঙ্গে আমার সারাক্ষণ ঝগড়া হতো। সারাক্ষণ যা খুশি তাই বলতাম। সেসব আর এখানে বললাম না। ভীষণ পেছনে লাগত, আমাকে রাগাতে ভালোবাসতেন। আমি রেগে গেলেই ওর উপরে যেভাবে অগ্নিবর্ষণ করতাম, সেটায় খুব মজা পেতেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অভিনেত্রী বলেন, মিঠুনদার দুষ্টুমির চোটে একবার আমি মরতে বসেছিলাম। রামোজি ফিল্ম সিটিতে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ সিনেমার শুটিং হচ্ছে, সেই সময় আমার গায়ে সাপ ছেড়ে দেন। কী সাংঘাতিক লোক! আসল সাপ নয় ওটা; কিন্তু কোত্থেকে যেন সেই ‘সাপ’ কিনে এনে আমার কাঁধে রেখে দিয়েছিলেন। আচমকা সেটা দেখেই আমার তো অবস্থা খারাপ! হৃদস্পন্দন প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়। তারপর পুরো রামোজি ফিল্ম সিটি আমার চিৎকার শুনেছে। আমিও তো কম নই! মিঠুনদাকে এমন এমন সব কথা শুনিয়েছি। কিন্তু উনি সেসব কখনো গায়ে মাখেননি। 

    তিনি বলেন, শুধু আমি না, পদ্মিনী কোলহাপুরীও নাকি এমন করেছিলেন! তারও অবস্থা এমনই হয়েছিল। রামোজি ফিল্ম সিটির ঘটনার পর আমার দিদি কৃষ্ণাকে (রানি মুখার্জির মা) মিঠুনদা রসিয়ে রসিয়ে বলেছিলেন— তোর বোনকে যা রাগিয়েছি না!

    দেবশ্রী বলেন, মিঠুনদা যখন মুম্বাই থেকে আসতেন, বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে আসতেন আমাদের বাড়ি। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতেন। কত আড্ডা হতো। মিঠুনদার তিন বোন। তাদের সঙ্গেও খুব ভাব ছিল আমার। আমাদের সম্পর্কটা এতটাই পারিবারিক ছিল যে, আমরা একই গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিই। আমরা সেই অর্থে ‘গুরুভাই’। আসলে আমাদের স্নেহের সম্পর্ক। এই তো, ‘শাস্ত্রী’ সিনেমার সময় আমি ইলিশ মাছ, পাবদা মাছ রেঁধে নিয়ে গিয়েছিলাম ওর জন্য। মিঠুনদা নিজেও দারুণ রান্না করতে পারেন। যদিও মাংস রাঁধতেন বেশিরভাগ সময়। সেটা আমি খাই না, তাই চেখে দেখা হয়নি বলে জানান অভিনেত্রী।

    তিনি বলেন, আমি মানুষটার ওপর রাগ দেখাতে পারি। তাকে বকতে পারি, আমার সেই জায়গা আছে। ‘শাস্ত্রী’ সিনেমার সময় উনি অসুস্থ হতেই হাসপাতালে যাই। ছেলে মিমো মুম্বাই থেকে আসে। যদিও ছেলের কোনো কথা কানে তোলেন না। আমি ধমক দিয়ে বলেছিলাম— এই সময় যাতে হোটেলে না থাকেন। কথা শুনেছিলেন। মিমো বলেছিল— আমাদের কথা তো শোনে না, আপনি বলুন। যাই হোক, আমার কথা ফেলতে পারেননি। যদিও বাবা হিসাবে মিঠুনদা দারুণ। ওর ছেলেমেয়েরা ‘মিঠুন’ বলেই সম্বোধন করে। আসলে মানুষটার তো সত্যিই বয়স বাড়ে না। উনি চিরযুবক।

    অভিনেত্রী বলেন, তবে একটা কথা খালি মনে হয় যে, কষ্ট করে মানুষটা মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করেছেন। সেটা মুখের কথা নয়। মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে পয়লা নম্বর নায়ক, তাও আবার বাঙালি। কম বড় কথা নয়। শুধু কি মুম্বাই? ওর পরিচিতি আন্তর্জাতিক স্তরে। একটা সময় মিঠুনদার মা একটা বছর মৌনব্রত নিয়েছিলেন ছেলের জন্য। ছেলে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অবধি সেই ব্রত ভাঙেননি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি বলেন, কিন্তু এমন একটা মানুষকেই যখন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ব্রাত্য রাখা হয়, তখন আহত হই— প্রতিবাদ করি। এতগুলো বছর ধরে মুম্বাই থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে তারকারা আসতেন ওই উৎসবে। কিন্তু মিঠুন চক্রবর্তীকে কেন ডাকা হতো না? উনি যে দলেই থাকুন না কেন, আখেরে তো বাংলার ছেলে! উনি আমাদের রাজ্যকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় কটূক্তি সহ্য করতে হয়েছে আমাকেও। আমাদের সময় আর কোনো অভিনেতা ছিলেন যিনি মুম্বাই গিয়ে এমন সাফল্য পেয়েছেন? 

    দেবশ্রী বলেন, কিন্তু তাও তিনি চলচ্চিত্র উৎসবে ছিলেন ব্রাত্য। রাজ্যসরকার সম্মান দেয়নি। কিন্তু বাংলার বাইরে ‘পদ্মভূষণ’ থেকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’— সবই পেয়েছেন। যদিও মিঠুনদাকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বলতেন— ছাড় তো, এসব ছোটখাটো বিষয় মাথায় নিস না। তিনি বলেন, উনি মানুষটাই এ রকম প্রাণশক্তিতে ভরপুর। তাই আমি চাই না, ওর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এতটুকু বদল ঘটুক। উনি যেমন মানুষ তেমনই থাকুন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মিঠুনদার দুষ্টুমিতে একবার আমি মরতে বসেছিলাম: দেবশ্রী

    আজ টালিউড ও বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন। তার এই জন্মদিনে না বলা কথাই জানালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়।

    ফাটাকেষ্টখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনেত্রীর ১৩ বছর বয়সেই প্রথম সাক্ষাৎ হয়। সেই প্রথম দিনের কথা স্মরণ করে দেবশ্রী রায় বলেন, মিঠুনদার সঙ্গে আমার ১৩ বছর বয়সে দেখা। তখন আমি বাচ্চা মেয়ে আর মিঠুনদা ‘মৃগয়া’ করে ফেলেছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন অভিনেতা তিনি। তবে স্টুডিওপাড়ায় যাতায়াত থাকার কারণে ততদিনে জেনে গিয়েছিলাম মিঠুন চক্রবর্তী কে?

    তিনি বলেন, ‘নদী থেকে সাগরে’ বলে একটি সিনেমায় মিঠুনের বিপরীতে আমাকে কাস্ট করা হলো। সেই সিনেমার সেটে আলাপ। সত্যি বলতে, আমি একটু উত্তেজিত ছিলাম। কারণ মিঠুনদার মতো অমন সুপুরুষ, সুন্দর চেহারার এক নায়ক আমার বিপরীতে! বেশ উত্তেজনা ছিল। আমরা দুজন ছাড়াও ছিলেন সন্ধ্যা রায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

    অভিনেত্রী বলেন, মিঠুনদার প্রথম বাংলা সিনেমা কিন্তু আমার সঙ্গে। সিনেমার সেটে ফ্রক পরে যেতাম। সিনেমায় প্রেমের একটা দৃশ্যে আমাকে শাড়ি পরানো হয়। অভ্যাস তো ছিল না শাড়ি পরার, শটের মাঝেই হঠাৎ শাড়িটা গেল খুলে। তখন আমার মায়ের উদ্দেশ্যে মিঠুনদার চিৎকার— মাসিমা, শিগগির এসো! তোমার মেয়েকে দেখো, শাড়ি খুলে দাঁড়িয়ে আছে। সেই থেকে মিঠুনদার সঙ্গে সম্পর্ক। শুধু ওর সঙ্গে নয়, গোটা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এই হচ্ছে মিঠুনদা। সর্বক্ষণ দুষ্টুমি।

    দেবশ্রী বলেন, মিঠুনদার সঙ্গে যে কটা সিনেমা করেছিলাম সবই হিট। উনি সেটে থাকা মানেই আর কাউকে কিছু চিন্তা করতে হবে না। সবাইকে মাতিয়ে রাখেন। হই-হুল্লোড় মানুষ। আবার যেমন দুষ্টু তেমনই বুদ্ধি। অসম্ভব মেধাবী অভিনেতা। ওর সঙ্গে আমার সারাক্ষণ ঝগড়া হতো। সারাক্ষণ যা খুশি তাই বলতাম। সেসব আর এখানে বললাম না। ভীষণ পেছনে লাগত, আমাকে রাগাতে ভালোবাসতেন। আমি রেগে গেলেই ওর উপরে যেভাবে অগ্নিবর্ষণ করতাম, সেটায় খুব মজা পেতেন।

    অভিনেত্রী বলেন, মিঠুনদার দুষ্টুমির চোটে একবার আমি মরতে বসেছিলাম। রামোজি ফিল্ম সিটিতে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ সিনেমার শুটিং হচ্ছে, সেই সময় আমার গায়ে সাপ ছেড়ে দেন। কী সাংঘাতিক লোক! আসল সাপ নয় ওটা; কিন্তু কোত্থেকে যেন সেই ‘সাপ’ কিনে এনে আমার কাঁধে রেখে দিয়েছিলেন। আচমকা সেটা দেখেই আমার তো অবস্থা খারাপ! হৃদস্পন্দন প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়। তারপর পুরো রামোজি ফিল্ম সিটি আমার চিৎকার শুনেছে। আমিও তো কম নই! মিঠুনদাকে এমন এমন সব কথা শুনিয়েছি। কিন্তু উনি সেসব কখনো গায়ে মাখেননি। 

    তিনি বলেন, শুধু আমি না, পদ্মিনী কোলহাপুরীও নাকি এমন করেছিলেন! তারও অবস্থা এমনই হয়েছিল। রামোজি ফিল্ম সিটির ঘটনার পর আমার দিদি কৃষ্ণাকে (রানি মুখার্জির মা) মিঠুনদা রসিয়ে রসিয়ে বলেছিলেন— তোর বোনকে যা রাগিয়েছি না!

    দেবশ্রী বলেন, মিঠুনদা যখন মুম্বাই থেকে আসতেন, বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে আসতেন আমাদের বাড়ি। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতেন। কত আড্ডা হতো। মিঠুনদার তিন বোন। তাদের সঙ্গেও খুব ভাব ছিল আমার। আমাদের সম্পর্কটা এতটাই পারিবারিক ছিল যে, আমরা একই গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিই। আমরা সেই অর্থে ‘গুরুভাই’। আসলে আমাদের স্নেহের সম্পর্ক। এই তো, ‘শাস্ত্রী’ সিনেমার সময় আমি ইলিশ মাছ, পাবদা মাছ রেঁধে নিয়ে গিয়েছিলাম ওর জন্য। মিঠুনদা নিজেও দারুণ রান্না করতে পারেন। যদিও মাংস রাঁধতেন বেশিরভাগ সময়। সেটা আমি খাই না, তাই চেখে দেখা হয়নি বলে জানান অভিনেত্রী।

    তিনি বলেন, আমি মানুষটার ওপর রাগ দেখাতে পারি। তাকে বকতে পারি, আমার সেই জায়গা আছে। ‘শাস্ত্রী’ সিনেমার সময় উনি অসুস্থ হতেই হাসপাতালে যাই। ছেলে মিমো মুম্বাই থেকে আসে। যদিও ছেলের কোনো কথা কানে তোলেন না। আমি ধমক দিয়ে বলেছিলাম— এই সময় যাতে হোটেলে না থাকেন। কথা শুনেছিলেন। মিমো বলেছিল— আমাদের কথা তো শোনে না, আপনি বলুন। যাই হোক, আমার কথা ফেলতে পারেননি। যদিও বাবা হিসাবে মিঠুনদা দারুণ। ওর ছেলেমেয়েরা ‘মিঠুন’ বলেই সম্বোধন করে। আসলে মানুষটার তো সত্যিই বয়স বাড়ে না। উনি চিরযুবক।

    অভিনেত্রী বলেন, তবে একটা কথা খালি মনে হয় যে, কষ্ট করে মানুষটা মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করেছেন। সেটা মুখের কথা নয়। মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে পয়লা নম্বর নায়ক, তাও আবার বাঙালি। কম বড় কথা নয়। শুধু কি মুম্বাই? ওর পরিচিতি আন্তর্জাতিক স্তরে। একটা সময় মিঠুনদার মা একটা বছর মৌনব্রত নিয়েছিলেন ছেলের জন্য। ছেলে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অবধি সেই ব্রত ভাঙেননি।

    তিনি বলেন, কিন্তু এমন একটা মানুষকেই যখন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ব্রাত্য রাখা হয়, তখন আহত হই— প্রতিবাদ করি। এতগুলো বছর ধরে মুম্বাই থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে তারকারা আসতেন ওই উৎসবে। কিন্তু মিঠুন চক্রবর্তীকে কেন ডাকা হতো না? উনি যে দলেই থাকুন না কেন, আখেরে তো বাংলার ছেলে! উনি আমাদের রাজ্যকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় কটূক্তি সহ্য করতে হয়েছে আমাকেও। আমাদের সময় আর কোনো অভিনেতা ছিলেন যিনি মুম্বাই গিয়ে এমন সাফল্য পেয়েছেন?

    দেবশ্রী বলেন, কিন্তু তাও তিনি চলচ্চিত্র উৎসবে ছিলেন ব্রাত্য। রাজ্যসরকার সম্মান দেয়নি। কিন্তু বাংলার বাইরে ‘পদ্মভূষণ’ থেকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’— সবই পেয়েছেন। যদিও মিঠুনদাকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বলতেন— ছাড় তো, এসব ছোটখাটো বিষয় মাথায় নিস না। তিনি বলেন, উনি মানুষটাই এ রকম প্রাণশক্তিতে ভরপুর। তাই আমি চাই না, ওর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এতটুকু বদল ঘটুক। উনি যেমন মানুষ তেমনই থাকুন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বর্তমান প্রজন্মে ডিভোর্স-ব্রেকআপ বাড়ার কারণ জানালেন মিঠুন

    ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিভোর্স কেসের ওপর নির্মিত পথিকৃৎ বসুর ‘শ্রীমান ভার্সেস শ্রীমতি’ সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই।

    আলোচিত এই সিনেমাটির মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে মিঠুন চক্রবর্তী, অঞ্জন দত্ত এবং অঞ্জনা বসুকে। সেই ছবি মুক্তির আগে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্কসহ টালিউড, বলিউডের অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন মহাগুরু খ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী ব্যাখ্যা করেন যে কেন আজকালকার অধিকাংশ সম্পর্কের আয়ু এত অল্প। অভিনেতার কথায়, এই প্রজন্ম ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেছে। ভালোবাসা বিষয়টাকে আজকাল আর কেউ সিরিয়াসলি নেয় না। সবাই যেন স্রোতে গা ভাসাতে ব্যস্ত। সম্পর্কের আয়ু এই জন্যই কমছে। সবাই চাইছেন নিজের মতো করে বাঁচতে। যদিও এটা অপরাধ নয়।

    মিঠুন চক্রবর্তী জানান, তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেম পরিণত হওয়ার বদলে লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট কথায় বিশ্বাস করেন। তার কথায়, ভালোবাসা প্রথম দেখায় হয়। সেই সম্পর্কই যখন বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় তখন সেটা কিছুদিন পর একঘেয়ে হয়ে যায়।’ 

    নিজের সফল দাম্পত্য জীবন প্রসঙ্গে মিঠুন জানান, তিনি সেই একঘেয়েমি কাটাতে পেরেছেন বলেই ৫০ বছর ধরে চুটিয়ে সংসার করছেন।

    মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, কেবল টালিউড নয়, বলিউডেরও দুর্দিন চলছে। তার কথায়, বাংলা ছবির বাজেট তো উঠতেই পারল না। আমি এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিই। তার বেশি উঠতেই পারল না। তাড়াহুড়ো করে যে টাকা খরচ হয় শুটিং করতে গিয়ে তাতে একটু বেশি সময় নিয়ে ছবি বানালে বাজেট বাড়ে। 

    তিনি আরও জানান, বলিউডেরও দুর্দিন। একটা বিশেষ দিনের অপেক্ষা করতে হয় ছবি রিলিজের জন্য।

    প্রসঙ্গত আগামী ১ মে মুক্তি পাবে শ্রীমান ভার্সেস শ্রীমতি। শাস্ত্রীর পর এটা পথিকৃতের সঙ্গে মিঠুনের দ্বিতীয় কাজ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মিঠুন-শ্রীদেবী সত্যিই কি বিয়ে করেছিলেন?

    বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবীর মোহনীয় চেহারা যে শুধু দশর্ক মনে দোলা দিতো, তা নয়। বলিউড অভিনেতা থেকে শুর করে অনেক প্রযোজক-পরিচালকও তার প্রেমে হাবুডুবু খেতেন।  

    বলিউডে অভিষেকের আগে শ্রীদেবী কাজ করেছেন বেশ কিছু দক্ষিণী সিনেমায়।  সফলতাও পেয়েছেন ব্যাপক। 

    বলিউডে অভিষেকের কয়েক বছর পরই তিনি জিতেন্দ্রর সঙ্গে একের পর এক ছবি করেন, আর তখনই বলিউডে রটে যায় তাদের প্রেমের গুঞ্জন। এমনকি শুটিংয়ের সময় তারা একসঙ্গে হোটেলের একই রুমে থাকতেন বলেও শোনা যেত। তবে জিতেন্দ্রর সঙ্গে নয়, পরবর্তীতে বরং বাঙালি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে শ্রীদেবীর প্রেমের গুঞ্জন আরও বেশি আলোচিত হতে থাকে। বলিউডে তাদের গোপনে বিয়ে করার কথাও প্রচলিত ছিল।

    মিঠুন ও শ্রীদেবীর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে বিভিন্ন বিদেশি শোতে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে। তখন মিঠুন ছিলেন অভিনেত্রী যোগিতা বালির স্বামী এবং তাদের দুই সন্তান ছিল—মিমো ও নমশী। 

    যদিও মিঠুন-শ্রীদেবী সম্পর্কের কথা বারবার গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন। তবে পরে এক পত্রিকায় তাদের ‘ম্যারেজ সার্টিফিকেট’ প্রকাশিত হলে মিঠুন নাকি সম্পর্কের সত্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হন। এমনও শোনা যায়, তারা মাড আইল্যান্ডে প্রায় সাত মাস একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন।

    অভিনেত্রী সুজাতা মেহতার মতে, মিঠুন ও শ্রীদেবী একে অপরকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। কিন্তু মিঠুনের দাম্পত্য জীবনের জটিলতার কারণেই তাদের সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর শ্রীদেবী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। শুটিং সেটে গিয়ে এক কোণে চুপচাপ বসে থাকতেন, কারো সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। তবে ক্যামেরা চালু হলেই নিজেকে সামলে নিয়ে অভিনয়ে মন দিতেন।

    গুঞ্জন আছে, মিঠুনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শ্রীদেবী তিন মাসের জন্য চেন্নাই চলে যান এবং সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রযোজক বনি কাপুরের। তখন বনি কাপুর বিবাহিত ছিলেন, তার স্ত্রী মোনা কাপুর ও দুই সন্তান—অর্জুন ও অংশুলা ছিলেন। 

    মোনা কাপুর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বনির সঙ্গে আমার ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক আর বাঁচানোর সুযোগ ছিল না, কারণ ততো দিনে শ্রীদেবী অন্তঃসত্ত্বা।’

    শেষ পর্যন্ত বনি ও মোনার বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং শ্রীদেবী-বনি মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর প্রথম পক্ষের সন্তানদের সঙ্গে বনির সম্পর্ক অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। 

    অর্জুন কাপুর একবার বলেছিলেন, ‘শ্রীদেবীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কখনো স্বাভাবিক হবে না। তিনি আমার বাবার স্ত্রী, এর বেশি কিছু নন।’

    একবার শ্রীদেবী নিজের প্রেমের ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘১৯৮৪ সালে বনি কাপুর আমাকে ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে সাইন করানোর জন্য এসেছিলেন। পরে তিনি জানান, আমাকে প্রথম দেখাতেই তিনি প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। যদিও প্রেমের প্রস্তাব দিতে তার কয়েক বছর সময় লেগেছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যখন বনিকে মানুষ হিসেবে চিনতে শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম যে আমি ওর প্রেমে পড়েছি। তবে এটা মেনে নিতে আমার অনেক বছর লেগে গিয়েছিল যে, আমার নিয়তি বনির সঙ্গেই জড়িত। যদি আরও আগে ভালোবাসাটা বুঝতে পারতাম! যখন বুঝলাম, তত দিনে আমার মা-বাবা কেউই জীবিত ছিলেন না, আর আমার বোনও এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড অবাক হয়েছিল।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • রঙ খেলতে মিঠুনের হোটেল কক্ষে দুই নায়িকা

    দোলের আগেই রঙ খেললেন টালিউড-বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। এ মুহূর্তে তার রিয়্যালিটি শোর শুটিংয়ের জন্য শহরে রয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। পাশাপাশি শুরু হচ্ছে তার অভিনীত নতুন বাংলা ছবি ‘শ্রীমান ভার্সেস শ্রীমতী’র প্রচার। ছবির কলাকুশলীদের সঙ্গে দোলের উদ্যাপনে মাতলেন ‘মহাগুরু’।

    কলকাতায় এলে রাজারহাটের একটি বিলাসবহুল হোটেলে থাকেন মিঠুন। অভিনেতার সঙ্গে রঙ খেলতে মিঠুনের হোটেলের ঘরেই পৌঁছে গিয়েছিলেন ‘শ্রীমান ভার্সেস শ্রীমতী’ ছবির দুই অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু ও রোশনি ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন ছবির পরিচালক পথিকৃৎ বসু। কলাকুশলীদের যে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, মিঠুন হাসিমুখে গালে আবির মাখছেন এবং অন্যদেরও রঙ মাখিয়ে দিচ্ছেন।

    নতুন ছবিটি বিবাহবিচ্ছেদের বিরুদ্ধে বার্তা দেবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা। মিঠুনের সঙ্গে দোল খেলার পরিকল্পনা কেন?—গণমাধ্যমের এমন একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন পরিচালক পথিকৃৎ বসু। নির্মাতা বলেন, ভালোবাসার রঙ তো কোনো দিন মরে যায় না। আমার ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন মিঠুনদা। তাই তার সঙ্গে দোল খেলেই আমরা সিনেমার প্রচার শুরু করতে চেয়েছিলাম।

    এর আগে পথিকৃৎ পরিচালিত ‘শাস্ত্রী’ ছবিতে মিঠুনকে দেখেছেন দর্শকরা। দ্বিতীয় সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা-পরিচালকের সম্পর্ক আরও পোক্ত হয়েছে বলেই মনে করেন পথিকৃৎ। তাই আপাত গম্ভীর স্বভাবের মিঠুনও পরিচালকের অনুরোধে হাসিমুখে সিনেমার অভিনেতাদের সঙ্গে রঙ খেলতে রাজি হয়ে যান। পথিকৃৎ বলেন, দাদা আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। প্রথমে রঙ শুনে একটু অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু ভেষজ আবির জেনে দাদা আর কোনো আপত্তি করেননি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মিঠুনের বাড়িতে নৈশভোজে শাশ্বত, ছবি নিয়ে গুঞ্জন

    মুম্বাইয়ে একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন টালিউড-বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও টালিউড অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। বিনোদন দুনিয়ার দুই চর্চিত ব্যক্তিত্বকে একসঙ্গে দেখার পরই টালিপাড়ায় জোরালো গুঞ্জন-তবে কি দুই অভিনেতা একসঙ্গে নতুন কোনো কাজ করতে চলেছেন? 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার সকালে একটি ছবি পোস্ট করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে এই অভিনেতার দেখা মেলে। সঙ্গে রয়েছেন মিঠুনপুত্র নমশি চক্রবর্তী। শাশ্বত এই ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, বাঘ এবং বাঘের বাচ্চা। 

    গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ে শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন শাশ্বত। এর মাঝেই মিঠুন চক্রবর্তীর তরফে আসে নৈশভোজের আমন্ত্রণ। আনন্দবাজার অনলাইনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অভিনেতা বলেন, মিঠুনদার বাড়ির খুব কাছেই শুটিং চলছিল। তাই দাদা একদিন চলে আসতে বললেন।

    মিঠুনের সঙ্গে যেমন শাশ্বতের যোগাযোগ রয়েছে, তেমনই রয়েছে নমশির সঙ্গেও। কারণ নমশির প্রথম ছবি ‘ব্যাড বয়’তে অভিনয় করেছিলেন শাশ্বত। অভিনেতা বলেন, ওর সঙ্গে তো হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছেই। ভালো লাগল, মিঠুনদার বাড়িতে যোগিতা বৌদিও ছিলেন। মিমো এবং ওর স্ত্রী ছিলেন। অনেক দিন পর সবাই মিলে আড্ডা দিলাম।

    উল্লেখ্য, গত বছর ‘শাস্ত্রী’ ছবিতে মিঠুন ও শাশ্বতকে দেখেছিলেন দর্শকরা। মুম্বাইয়ে দুজন কি নতুন কোনো শুটিং করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তর সরাসরি না দিলেও বিষয়টি এড়িয়েও যাননি শাশ্বত। অভিনেতা বলেন, নির্মাতাদের অনুমতি ছাড়া আমি এ নিয়ে কোনো কথা বলতে পারি না। 

    বলিউডে সম্প্রতি ‘খাকি ২’ ওয়েব সিরিজের ডাবিং শেষ করেছেন শাশ্বত। নতুন বছরে মিঠুনের সঙ্গে তাকে নতুন কোনো ছবিতে দেখা যাবে কিনা, তার উত্তর সময়েই পাওয়া যাবে।

    বিনোদন ডেস্ক