টেইলর সুইফটের গান নিয়ে গবেষণা, ইন্টারভিউ ছাড়াই অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ

Written by

in

মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের গানের লিরিক্স নিয়ে গবেষণা করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন ভিয়েতনামের এক শিক্ষার্থী। 

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, কোনো প্রকার ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার ছাড়াই ২২ বছর বয়সী এই নারী শিক্ষার্থীকে সরাসরি ভর্তির সুযোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হুইন কুয়ং এনগুয়েন নামের ওই মেধাবী শিক্ষার্থী গত মার্চ মাসে অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ—উভয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভর্তির চিঠি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য নাং’-এ ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক পড়ছেন। 

এনগুয়েনের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল তার গবেষণার বিষয়। তিনি মূলত টেইলর সুইফটের গানের ‘কনসেপচুয়াল মেটাফোর’ বা ধারণাগত রূপক নিয়ে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন তিনি এ গবেষণা শুরু করেন, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে সুইফটের গানে মানুষের আবেগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বিভিন্ন মেটাফোরের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। যেমন- ভালোবাসাকে একটি ‘ভ্রমণ’ হিসেবে দেখা, স্মৃতিকে একটি ‘নির্দিষ্ট স্থান’ হিসেবে উপস্থাপন করা, খ্যাতিকে একটি ‘রাজ্য’ হিসেবে চিত্রায়িত করা। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

এনগুয়েন তার গবেষণায় যুক্তি দিয়েছেন, এ মেটাফোরিক বা রূপক প্যাটার্নগুলোর কারণেই সুইফটের গান বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মানুষের হৃদয়ে এত গভীরভাবে জায়গা করে নিতে পারে।

সাধারণত অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার একটি বাধ্যতামূলক ধাপ। কিন্তু এনগুয়েনের স্বাধীন গবেষণার দক্ষতা এবং তার অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে তারা তাকে সরাসরি ভর্তির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 

এমনকি নিজের ব্যক্তিগত বিবৃতিতেও তিনি সুইফটের ‘লং লিভ’ গানের উক্তি দিয়ে শুরু করেছিলেন। 

তার গবেষণার বিশেষত্ব হলো- এটি কোনো শিক্ষকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে করা। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মেটাফোর বা রূপক ব্যবহার করে ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে আরও সহজ ও প্রাণবন্ত করা যায়।

তার এ গবেষণাটি ভিয়েতনামের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পুরস্কারও লাভ করেছে।

শুধুমাত্র গবেষণাই নয়, এনগুয়েনের একাডেমিক রেকর্ডও অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। তার সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৯৭। পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও বেশ সক্রিয়। এ শিক্ষার্থী একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন যা ১২ হাজারের বেশি শিক্ষক তাদের পাঠদানে ব্যবহার করেছেন। 

পাশাপাশি তিনি সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন বিনামূল্যে ইংরেজি ক্লাস নিতেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে দোভাষী হিসেবেও কাজ করেছেন। 

বর্তমানে অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ—উভয় জায়গা থেকে ডাক পেলেও এনগুয়েন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি মূলত স্কলারশিপের ফলের অপেক্ষায় আছেন। তার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো ভাষা নিয়ে আরও গভীর গবেষণা করা এবং ভিয়েতনামে ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর কোনো পরিবর্তন আনা। 

সূত্র: ভিএনএক্সপ্রেস 

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *