Tag: পপ তারকা

  • ইরানে হামলার ভিডিওতে নিজের গানে ক্ষুব্ধ কেটি পেরি, বললেন—‘আমি এর অনুমতি দিইনি’

    ইরানের ওপর সামরিক হামলার দৃশ্য সংবলিত একটি ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া নিজের জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পপ তারকা কেটি পেরি।

    সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেরি লিখেন, ‘আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত… আমি এর অনুমতি দিইনি, আমার কাছে জানতেও চাওয়া হয়নি এবং আমি কোনোভাবেই এটিকে সমর্থন করি না।’ 

    তিনি আরও বলেন, ‘আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণার একটি বার্তাকে ধ্বংস ও সহিংসতার কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখাটা আমার গানের মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।’

    হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওটিতে সামরিক হামলার দৃশ্যের নেপথ্যে পেরির ওই গানটি বাজানো হয়। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইরানকে সতর্ক করা হলো’। 

    উল্লেখ্য, বিলবোর্ড হট ১০০-এর তালিকায় শীর্ষে থাকা গায়িকার ৯টি গানের মধ্যে এটি অন্যতম।

    ২০২৩ সালে কার্লাইল গ্রুপ ইনকরপোরেটেড-সমর্থিত লিটমাস মিউজিকে নিজের সবচেয়ে সফল পাঁচটি অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনাস্বত্ব বিক্রি করে দেন পেরি। এর মধ্যে ‘টিনেজ ড্রিম’ অ্যালবামটিও ছিল, যার অন্যতম একটি গান হলো ‘ফায়ারওয়ার্ক’। বিলবোর্ডের তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির অর্থমূল্য ছিল ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এই মার্কিন তারকা সবসময়ই ডেমোক্রেটিক দলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা খোলাখুলি প্রকাশ করে এসেছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন, ২০২০ সালে জো বাইডেন এবং ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বর্তমানে তিনি কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রেম করছেন বলে জানা গেছে।

    বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অনুমতি ছাড়াই নিজেদের শিল্পকর্ম বা সংগীত ব্যবহার করার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করা শিল্পীদের দীর্ঘ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলেন কেটি পেরি। নিজেদের আদর্শের সঙ্গে মেলে না, এমন কাজে অনুমতি ছাড়া গান বা শিল্পকর্ম ব্যবহারের প্রতিবাদ এর আগে করেছিলেন অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কারপেন্টার এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ বইয়ের সিরিজ ‘ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টল’-এর প্রকাশক কিডস ক্যান প্রেস।

    এর বাইরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে নিজেদের গান বাজানোর তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন, নিল ইয়াং, অ্যাডেল এবং রিহানার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

    সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ খ্যাত পপতারকা বনি টাইলার আর নেই

    আশির দশকের পপ ও রক মিউজিকের গতিপথ বদলে দেওয়া এবং নিজের জাদুকরী ও গম্ভীর কণ্ঠ দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করা ওয়েলশ রক সংগীতশিল্পী বনি টাইলার আর নেই। 

    গত ৮ জুলাই পর্তুগালের ফারো শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। 

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করা হয়। 

    পারিবারিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তিনি চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবেই শারীরিক জটিলতার কারণে মারা যান।’ উল্লেখ্য, গত মে মাসে পর্তুগালের ফারোতে নিজের বাসভবনের কাছে অন্ত্রের সমস্যার কারণে তার একটি জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। 

    মাঝে কিছুটা সুস্থতার লক্ষণ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি বিদায় নিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তার ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের জীবনসঙ্গী, সাবেক অলিম্পিক জুডো প্রতিযোগী রবার্ট সালিভানকে রেখে গেছেন। 

    উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালের ৮ জুন দক্ষিণ ওয়েলসের এক কয়লা খনি শ্রমিকের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বনি টাইলার, যার আসল নাম ছিল গেনর হপকিন্স। ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘বনি টাইলার’ মঞ্চনাম বেছে নেওয়ার পর সত্তর ও আশির দশকে তিনি বিশ্বসংগীতের অন্যতম চেনা কণ্ঠস্বরে পরিণত হন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ১৯৭০-এর দশকে গলার ভোকাল নডিউল অপসারণের এক অস্ত্রোপচারের পর তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত গম্ভীর ও খসখসে ভাব আসে, যা পরবর্তীতে তার গানের প্রধানতম শক্তি ও সিগনেচার স্টাইলে পরিণত হয়।

    ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালের আন্তর্জাতিক হিট গান ‘ইটস আ হার্টঅ্যাক’-এর মাধ্যমে আটলান্টিকের দুই পারেই তার ব্যবসায়িক সাফল্য আসে। তবে গীতিকার ও প্রযোজক জিম স্টেইনম্যানের সঙ্গে তার জুটি ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়। 

    ১৯৮৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার আইকনিক গান ‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে টানা চার সপ্তাহ অবস্থান করে এবং যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেলস চার্টেও এক নম্বরে জায়গা করে নেয়। নাটকীয় সুর আর বনির আবেগী কণ্ঠের এই গানটি আজও বিশ্বসংগীতের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। 

    সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সম্মানসূচক ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। 

    মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগেই স্পোটিফাই-এ বনি টাইলারের ‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ গানটি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) স্ট্রিমের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • টেইলর সুইফটের বিয়েতে কি হয়েছিল জানালেন তার বন্ধু

    বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট এবং আমেরিকান ফুটবল (এনএফএল) তারকা ট্রাভিস কেলসের বহুল চর্চিত ও গোপন বিয়ের গুঞ্জন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার তুঙ্গে। এরই মধ্যে এই তারকা যুগলের বিয়েতে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সেই গুঞ্জনের আগুনে ঘি ঢেলেছেন গায়িকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রিটিশ রেডিও উপস্থাপক গ্রেগ জেমস। 

    অনুষ্ঠানটিকে তিনি ‘অবিশ্বাস্য রকমের জমকালো এক রাত’ বলে অভিহিত করেছেন। 

    বিবিসি রেডিও ১-এর জনপ্রিয় উপস্থাপক গ্রেগ জেমস তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জানান, জীবনের ‘সেরা হ্যাংওভার’ থেকে তিনি এই মুহূর্তে সেরে উঠছেন। 

    বিয়ের আমন্ত্রণপত্র এবং এনডিএ (নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট বা গোপনীয়তার চুক্তি)-র দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, তিনি একটি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলেন এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন। অনুষ্ঠানটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পাশাপাশি পরে তিনি ও তার স্ত্রী বেলা ম্যাকি সেই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে সাজা একটি ছবিও পোস্ট করেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন
     

    গ্রেগ জেমস এবং টেইলর সুইফটের বন্ধুত্ব এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। ২০১৪ সালে লন্ডনে এক সাক্ষাৎকারের পর থেকে তাদের এই বন্ধুত্বের সূচনা। 

    এরপর সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ প্রমোশনের সময় গ্রেগ জেমস যখন ট্রেভিস কেলসের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে জানতে চান, তখন সুইফট রসিকতা করে বলেছিলেন যে তাকে (গ্রেগ) অবশ্যই নিজের বিয়েতে আমন্ত্রণ জানাবেন। 

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কে বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের এক হাজারেরও বেশি অতিথির উপস্থিতিতে সুইফট ও কেলসে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। 

    আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগেই এই জুটি একটি প্রাক-বিবাহ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। 

    তবে বিয়ের এই পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত টেইলর সুইফট বা ট্রাভিস কেলসে—কারো পক্ষ থেকেই কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • নতুন অধ্যায় শুরু করলেন টেইলর সুইফট

    গত তিন বছরের রোমাঞ্চকর প্রেমের মধুর সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিশ্বসংগীতের মেগাস্টার টেইলর সুইফট এবং মার্কিন এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসে। 

    এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৩ জুলাই) নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ‘ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন’-এ বসেছিল তারকাদের চাঁদের হাট। জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তারকা যুগল একে অপরের হাত ধরেন বলে নিশ্চিত করেছেন সুইফটের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

    শুক্রবার ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এই ক্রীড়া ও বিনোদন কেন্দ্রের বাইরের জায়ান্ট স্ক্রিনগুলোতে ভেসে ওঠে একটি বার্তা— ‘জাস্ট ম্যারিড’। 

    এরপর ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গায়িকার প্রতিনিধি নিশ্চিত করেন যে, ১৪ বার গ্র্যামিজয়ী এই গায়িকা এবং কানসাস সিটি চিফসের তারকা ফুটবলার ট্রাভিস কেলসে আনুষ্ঠানিকভাবে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন। 

    সুইফটের জনসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া বিবৃতিটির শিরোনাম ছিল, ‘টেইলর সুইফট অ্যান্ড ট্রাভিস কেলসে আর ম্যারিড!’। এই তারকা দম্পতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং জনপ্রিয় মার্কিন কমেডিয়ান অ্যাডাম স্যান্ডলার বিয়ের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। 

    বিয়েতে কনের পক্ষে ‘ম্যান অব অনার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন টেইলরের ভাই অস্টিন সুইফট। অন্যদিকে, বরের পক্ষে ‘বেস্ট ম্যান’ ছিলেন ট্রাভিসের ভাই ও সাবেক ফুটবল তারকা জেসন কেলসে। বিয়ের এই বিশেষ মূহূর্তে বর-কনে দুজনের পোশাকই ডিজাইন করেছে বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন হাউস ‘ক্রিশ্চিয়ান ডিয়র’ এবং সুইফটের অলংকার ছিল লাক্সারি ব্র্যান্ড ‘কারটিয়ের’-এর। তবে নবদম্পতির কোনো ছবি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তারকাদের মেলা, ভক্তদের উন্মাদনা

    নিউইয়র্কের প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরমের মাঝেই ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে একে একে হাজির হন জেনিফার লোপেজ, এড শিরান, জিমি ফ্যালন, অ্যাবি ওয়ামব্যাচ, হিউ গ্র্যান্ট, জেসন সুডেইকিস এবং ইথান হকের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা।

    আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর দীর্ঘ ছুটির শুরুতে আয়োজিত এই বিয়েকে অনেকেই ‘আমেরিকার রয়্যাল ওয়েডিং’ বা রাজকীয় বিয়ে বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মাঝে আয়োজিত এই বিয়ের এক ঝলক দেখতে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে ভিড় জমান সুইফটের হাজারো ভক্ত, যারা বিশ্বজুড়ে ‘সুইফটিস’ নামে পরিচিত। ভক্তদের হাতে ছিল নানা ধরনের ফ্রেন্ডশিপ ব্রেসলেট এবং হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড। 

    এই রাজকীয় বিয়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং’-এর চূড়া হালকা নীল আলোয় আলোকিত করা হয়। বিয়ের ঐতিহ্যে ‘সামথিং ব্লু’ বা নীল কিছু রাখাকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়, সেই ভাবনা থেকেই এই বিশেষ আলোকসজ্জা। 

    সম্পর্কের শুরু যেভাবে 

    টেইলর ও ট্রাভিসের এই প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। ট্রাভিস প্রথমবার টেইলরের একটি কনসার্টের ব্যাকস্টেজে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কিন্তু দমে না গিয়ে নিজের পডকাস্টে সেই মন খারাপের গল্প শোনান তিনি, যা নজর কাড়ে টেইলর সুইফটের। 

    পরবর্তীতে সুইফট কেলসের সেই উদ্যোগকে একটি ৮০-র দশকের রোমান্টিক সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘আমি ভাবলাম, এই ছেলেটা যদি পাগল না হয়ে থাকে—তবে এটাই তো সেই ঘটনা যা নিয়ে আমি কিশোরী বয়স থেকে গান লিখে আসছি।’ 

    পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে ইনস্টাগ্রামে একটি যৌথ পোস্টের মাধ্যমে তারা বাগদানের ঘোষণা দেন। বিয়ের আনন্দ উদযাপনের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে এই দম্পতি নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন চ্যারিটি বা দাতব্য সংস্থায় ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘ওপেনহাইমার’কে টপকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিক এখন ‘মাইকেল’

    কিং অব পপ মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীত নিয়ে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে বিশ্বজুড়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ ৯৭৭.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বায়োপিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। 

    এর মাধ্যমে ছবিটি ক্রিস্টোফার নোলানের অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘ওপেনহাইমার’—এর আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে, যার বৈশ্বিক আয় ছিল ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে এটি লায়ন্সগেট স্টুডিওর ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। 

    চলচ্চিত্রটিতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশবের ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের সদস্য থেকে বিশ্বমঞ্চে ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য গল্প তুলে ধরা হয়েছে। 

    সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা লায়ন্সগেটের মার্কেটিং কৌশল মূলত মাইকেলের মঞ্চ কাঁপানো পারফরম্যান্স, নিখুঁতভাবে পুনর্নির্মিত কনসার্ট এবং তার আইকনিক মিউজিক ভিডিওগুলোর ওপর আলোকপাত করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সিনেমা হলে টানতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছে। 

    অ্যান্টোনি ফুকো পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন তারই আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অবশ্য ব্যবসায়িক দিক থেকে রেকর্ড ভাঙা সাফল্য পেলেও চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছ থেকে পেয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

    বিখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি উল্লেখ করেছে, সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের একটি ‘পরিশীলিত’ বা পরিমার্জিত রূপ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে, তার জীবনের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়—শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সময়কাল শুরু হওয়ার আগেই চলচ্চিত্রটির কাহিনীর সমাপ্তি টানা হয়েছে, যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। 

    এদিকে, প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তোলার পর সিনেমাটি এবার ঘরে বসেই দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রোলিং স্টোন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে ফিজিক্যাল মিডিয়ায় মুক্তি পেয়েছে। অ্যামাজনে ছবিটির ‘ফোরকে আল্ট্রা এইচডি ব্লু-রে’ সংস্করণের প্রি-অর্ডার শুরু হয়ে গেছে। 

    উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী জয়যাত্রার অংশ হিসেবে গত ২২ এপ্রিল ইউক্রেনের প্রেক্ষাগৃহগুলোতেও ‘মাইকেল’ বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেয়েছিল। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • টেইলর সুইফট-ট্র্যাভিস কেলসের বিয়ে এ সপ্তাহেই!

    মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট এবং ন্যাশনাল ফুটবল লিগ তারকা ট্র্যাভিস কেলসে এ সপ্তাহেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন বলে চারদিকে ব্যাপকভাবে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। 

    যদিও এই তারকা জুটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি তবে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ম্যানহাটনে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে একটি জমকালো বিয়ের আয়োজন হতে যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন অনুমতিপত্র (সিটি পারমিটস) এবং অন্যান্য সূত্র সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। 

    কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকা সত্ত্বেও, এই শতাব্দীর অন্যতম প্রতীক্ষিত এই তারকা জুটির বিবাহকে ঘিরে ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

    নিউইয়র্ক পোস্টের পেজ সিক্স-এর স্টাইল অ্যান্ড শপিং ডিরেক্টর এলানা ফিশম্যান সুইফট-কেলসের বিয়ে প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি সত্যিই আমাদের জন্য একটি ‘রাজকীয় বিয়ে’। চারদিকে শুধু এটি নিয়েই গুঞ্জন চলছে।’ 

    সাধারণত রাজকীয় বিয়েগুলোর স্থান আগে থেকে জানা থাকলেও, এই জুটির বিয়ের সঠিক সময় ও স্থান কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমান্টিক কোনো স্থানের বদলে তারা বেছে নিয়েছেন নিউইয়র্কের বিখ্যাত ইনডোর স্পোর্টস অ্যারেনা ‘ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন’। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সুইফটের তারকা বন্ধুদের দীর্ঘ তালিকার কারণে এই বিয়েতে সেলেনা গোমেজ, এড শিরান, এমা স্টোন এবং গিগি হাদিদের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের এক বিশাল সমাগম আশা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সুইফটের জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

    ধারণা করা হচ্ছে, এই বিয়েটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন নিউইয়র্ক সিটিতে দুটি বড় ইভেন্টের কারণে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকবে। 

    শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে নিউইয়র্ক হারবারে ডজন খানেক বড় জাহাজ নোঙর করবে এবং রোববার (৫ জুলাই) পার্শ্ববর্তী নিউ জার্সিতে একটি বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বিয়ের কতটুকু অংশ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। 

    তবে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুইফট তার বিয়ের পোশাকে ও সাজে ওল্ড হলিউড রোমান্সের সঙ্গে মডার্ন গ্ল্যামারের একটি মিশ্রণ রাখবেন, যা আগামী বহু বছর ধরে নতুন কনেদের ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে অনুপ্রাণিত করবে। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • যে কারণে ম্যাডোনার বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক বাতিল হলো

    মার্কিন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। বেশ কিছু দিন ধরেই তার সুর-সংগীতে জমজমাট বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের আলোচনা চলছিল।  বিষয়টি তিনি নিজেই তদারকি করছিলেন। জানা গেছে, বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিকটি আর বানানো হচ্ছে না। 

    শেষ পর্যন্ত হলিউড স্টুডিও ‘ইউনিভার্সাল’র সঙ্গে বাজেট নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পপ তারকা নিজেই।

    ‘ইন্টারভিউ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা বলেন, ‘বাজেট নিয়ে ইউনিভার্সালের সঙ্গে আমাদের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। কারণ আমার একটি অসাধারণ এবং বিশাল জীবন রয়েছে, তাই এটি পর্দায় তুলে আনতে আমার বড় বাজেটের প্রয়োজন ছিল।’ 

    খরচ কমিয়ে আনতে ম্যাডোনা সিনেমার শুটিং সার্বিয়াতে স্থানান্তরের প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু স্টুডিও কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয়নি। ম্যাডোনা বলেন, ‘আমি সার্বিয়াতে কম খরচে সিনেমাটি বানানোর একটি পথ বের করেছিলাম, কিন্তু আমার মনে হয় তারা এই ধারণায় খুব একটা আগ্রহী ছিল না—আমি ঠিক জানি না। 

    সম্ভবত তারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেনি। তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি ছিল- আমাদের বিশ্বাস হয় না যে আপনি সার্বিয়াতে চার দিনের বেশি টিকতে পারবেন।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এর জবাবে ম্যাডোনা উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, আপনারা কি চিত্রনাট্যটি পড়েছেন? আমার পুরো জীবনটাই তো টিকে থাকার লড়াই (সারভাইভাল)। আমি সেখানে কোনো ছুটিতে যাচ্ছি না।’ 

    ২০২০ সালে প্রথম এই প্রজেক্টটির ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘ইয়াং অ্যাডাল্ট’ ঘরানার খ্যাতনামা লেখক ডায়াবলো কোডির লেখা চিত্রনাট্যে ম্যাডোনা নিজেই এটি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার নিজের কণ্ঠ ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আমার জীবনের এই রোলারকোস্টার রাইডটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’ 

    এর আগে ২০১৭ সালে ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ ম্যাডোনার প্রাথমিক ক্যারিয়ার নিয়ে ‘ব্লন্ড অ্যাম্বিশন’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের স্বত্ব কিনেছিল। ম্যাডোনা সেটির তীব্র সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ কেন সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করে আমার বায়োপিক বানাতে চাইবে?’ 

    পরবর্তীতে ম্যাডোনার নিজস্ব প্রজেক্টের জন্য ‘ম্যাডোনা বুটক্যাম্প’ খ্যাত এক কঠোর অডিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জুলিয়া গার্নারকে নির্বাচিত করা হয়। তবে ২০২৩ সালে খবর আসে যে, ‘হুজ দ্যাট গার্ল’ টাইটেলের এই সিনেমাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

    ম্যাডোনার পূর্ববর্তী চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার 

    পরিচালক হিসেবে ম্যাডোনার পূর্বের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। এর আগে তিনি দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন—‘ফিল্থ অ্যান্ড উইজডম’ (লন্ডনে সফল হতে চাওয়া এক ইউক্রেনীয় সংগীতশিল্পীকে নিয়ে) এবং ‘ডব্লিউ.ই.’ (ওয়ালিস সিম্পসন এবং সাবেক অষ্টম এডওয়ার্ডের কাহিনী নিয়ে)। 

    ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর চলচ্চিত্র সমালোচক পিটার ব্র্যাডশ এই দুটি সিনেমাকেই মাত্র ‘ওয়ান স্টার’ রিভিউ দিয়েছিলেন। 

    অবশ্য অভিনেত্রী হিসেবে ম্যাডোনার ঝুলিতে বেশ কিছু প্রশংসিত কাজ রয়েছে, যার মধ্যে ‘ডেসপারেটলি সিকিং সুসান’, ‘ডিক ট্রেসি’, ‘ইভিটা’ এবং ‘দ্য নেক্সট বেস্ট থিং’ অন্যতম। 

    সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা আরও জানান, তিনি নেটফ্লিক্সের জন্য একটি সিরিজ করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ। কারণ সিনেমাটির জন্য যে চিত্রনাট্য তিনি লিখেছিলেন, সেটির মালিকানা ছিল ইউনিভার্সালের হাতে।

    ম্যাডোনা আক্ষেপ করে বলেন, ‘নেটফ্লিক্স একটি সিরিজ করার জন্য যোগাযোগ করেছিল। সেটি ছিল আরেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কারণ ইউনিভার্সালের কাছে থাকা চিত্রনাট্যটি আমি ব্যবহার করতে পারছিলাম না, যদি না আমি তাদের কাছ থেকে সেটি চড়া দামে কিনে নিতাম—অথচ চিত্রনাট্যটি আমারই লেখা! এরপর আমি বোঝার চেষ্টা করলাম সিরিজ কীভাবে তৈরি হয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া। আপনাকে অনেক লেখকের সঙ্গে বসতে হবে, সঠিক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে যিনি শোটি এগিয়ে নেবেন… কিন্তু আমি তেমন কাউকেই খুঁজে পাইনি।’ 

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

    বিনোদন ডেস্ক

  • শাকিরার বদলে কি বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মঞ্চে ‘বডি ডাবল’ ছিল?

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পপ তারকা শাকিরা পারফর্ম করার পর থেকেই ইন্টারনেটে একটি অদ্ভুত গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেরই দাবি—মেক্সিকো সিটির মঞ্চে শাকিরার বদলে পারফর্ম করেছেন তার কোনো ‘বডি ডাবল’ বা রূপধারী ক্লোন। আসলেই কি তাই? 

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মেক্সিকো সিটিতে বর্ণিল এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী মঞ্চে জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের পাশাপাশি বরাবরের মতোই আলো ছড়িয়েছেন কলম্বিয়ান গায়িকা শাকিরা। 

    মজার বিষয় হলো, এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিতির দিক থেকে তার সাবেক সঙ্গী ফুটবলার জেরার্ড পিকেকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

    তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আতশবাজি কিংবা চোখ ধাঁধানো মিউজিক—কোনোটিই নেটিজেনদের ততটা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি, যতটা পেরেছে এই নতুন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা ‘কনস্পিরেসি থিওরি’। 

    অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দল দাবি করতে শুরু করেন যে, বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ গেয়ে যিনি মাঠ মাতাচ্ছিলেন, তিনি আসলে শাকিরা নন। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকে এই আলোচনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘উনি শাকিরা হতেই পারেন না। ‘দাই দাই’ গাওয়ার সময় উনার নাচের স্টেপটা খেয়াল করুন, উনি তাল হারিয়ে ফেলেছেন। এটা নিশ্চিতভাবেই একজন ডাবল (রূপধারী)। শাকিরা সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    কিন্তু এই দাবির পেছনে নেটিজেনদের যুক্তি বা প্রমাণ কী? যারা এই তত্ত্ব ছড়াচ্ছেন, তাদের মূল বক্তব্য হলো—মঞ্চে তারকাকে দেখতে কিছুটা অন্যরকম লাগছিল।

    সেদিন শাকিরা যখন মাঠে পারফর্ম করতে নামেন, তখন তার পরনে ছিল একটি জমকালো হলুদ পোশাক, সাদা শর্টস, প্ল্যাটফর্ম স্নিকার্স এবং চোখে ছিল একটি বড় ডার্ক সানগ্লাস। এছাড়া অনেক ভক্ত লক্ষ্য করেছেন, তার চুলের রঙও চিরচেনা শেডের চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিল। সানগ্লাসে মুখের সিংহভাগ ঢাকা থাকা এবং সচরাচর লুকের চেয়ে একটু ভিন্ন চেহারার কারণেই মূলত টিকটক ও এক্সে জল্পনা-কল্পনার ডালপালা গজাতে শুরু করে। 

    তবে এখন পর্যন্ত শাকিরার জনসংযোগ বা পিআর টিমের পক্ষ থেকে এই গুজব প্রসঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে একটি ছোট্ট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিখুঁত বিষয় প্রমাণ করে যে, মাঠে থাকা ব্যক্তিটি আসলে স্বয়ং শাকিরা নিজেই ছিলেন। 

    দীর্ঘদিন ধরে শাকিরার বিভিন্ন ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তার কপালে একটি ছোট্ট কাটা দাগ (স্কার) রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চলতি বছরের মে মাসে নিউইয়র্কের একটি ইভেন্ট থেকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তোলা হাই-ডেফিনিশন ছবিগুলোতে এই দাগটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। 

    আর আসল সত্য এটাই যে—বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ক্লোজ-আপ ফুটেজ এবং ছবিগুলোতেও ঠিক একই জায়গায় সেই নিখুঁত কাটা দাগটি দেখা গেছে। তাই গুঞ্জন যতই ডালপালা ছড়াক না কেন, সবকিছু থেকে ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানরে কেনো ‘বডি ডাবল’ নয়, স্বয়ং শাকিরাই পারফর্ম করেছেন। 

    সূত্র: ইউরোনিউজ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কনসার্টে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে ক্ষুব্ধ ম্যাডোনা

    গেল শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডের ঐতিহ্যবাহী বিকন থিয়েটারে পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা এবং তার ভক্তদের ঢল নেমেছিল। উপলক্ষ ছিল তার বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘কনফেশনস টু – দ্য ফিল্ম’র প্রিমিয়ার। 

    স্ক্রিনিং শেষে এই পপ কুইন এবং ছবির পরিচালক জুটি ডেভিড টোরো ও সোলোমন চেজ দর্শকদের মুখোমুখি হয়ে একটি বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। 

    সময়ের টানাপোড়েনের কারণে শেষ মুহূর্তে জনপ্রিয় সঞ্চালক জিমি ফ্যালনের পরিবর্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্ব নেন অ্যান্ডারসন কুপার। ম্যাডোনা সহ এই চারজনের আড্ডা জমার পর চলচ্চিত্র, শুটিং সেটের সৃজনশীল অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে ম্যাডোনার তারকাখ্যাতি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিবর্তনের গল্প—সবই উঠে আসে আলোচনায়। 

    কথার সূত্র ধরে কুপার দর্শকদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, মিলনায়তনে প্রবেশ করা প্রতিটি মানুষের ফোন একটি বিশেষ ‘ইয়ন্ডার পাউচ’-এ লক করে রাখা হয়েছিল, যা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে খোলার কোনো উপায় ছিল না। 

    এ প্রসঙ্গে ম্যাডোনা বলেন, বর্তমান যুগে মানুষের মধ্যে সবকিছু ফ্রেমবন্দি বা রেকর্ড করার এক নতুন এবং ‘অদম্য ক্ষুধা’ তৈরি হয়েছে, যা আমাদের জীবনযাত্রাকেই বদলে দিয়েছে। বাস্তবতা মেনে নিলেও নিজের ব্যক্তিগত দর্শনে তিনি অটল এই পপ তারকা বলেন, ‘আমি এই পৃথিবীতে এসেছি কাজ করতে, শুধু দর্শক হয়ে অন্যের জীবন দেখতে নয়।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    নিজের বক্তব্যের সপক্ষে কোচেলা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের উদাহরণ টানেন ম্যাডোনা, যেখানে তিনি তরুণ পপ তারকা সাবরিনা কার্পেন্টারের সঙ্গে পারফর্ম করেছিলেন। অভিজ্ঞতাটি দারুণ হলেও তার কাছে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত ও ভীতিকর লেগেছিল বলে জানান তিনি। 

    ম্যাডোনা বলেন, মঞ্চ থেকে যখনই সামনে তাকিয়েছেন, মানুষের মুখের চেয়ে হাজার হাজার মোবাইলের স্ক্রিনই বেশি চোখে পড়েছে তার। তার মতে, যেকোনো ধরনের নাচ বা পারফরমেন্স আসলে মানুষের সঙ্গে মহাবিশ্বের এবং একে অপরের এক ‘গভীর আদিম মেলবন্ধন’ তৈরি করে। কিন্তু বর্তমানের এই মোবাইল সংস্কৃতির কারণে মানুষ মুহূর্তের গভীরে ডুবে না গিয়ে তা ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত থাকে, যা এই পরম সত্যটিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। 

    অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কোনো বিদায়ী বার্তা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে, ম্যাডোনা কোনো রকম ভণিতা না করে সরাসরি চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, ‘আপনাদের ওই বিরক্তিকর ফোনগুলো এবার পকেটে রাখুন এবং একে অপরের সঙ্গে মন থেকে সংযুক্ত হোন।’ 

    আগামী ৮ জুন ইউটিউবে অফিশিয়ালি প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে ‘কনফেশনস টু – দ্য ফিল্ম’। এর পরপরই ৩ জুলাই ওয়ার্নার রেকর্ডসের ব্যানারে মুক্তি পাবে ম্যাডোনার বহুল প্রতীক্ষিত স্টুডিও অ্যালবাম ‘কনফেশনস টু’। 

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই গায়িকা আগামী মাসগুলোতে বেশ কিছু চমকপ্রদ সারপ্রাইজ পারফরমেন্সের আভাস দিলেও, নতুন কোনো কনসার্ট ট্যুরের ব্যাপারে এখনই মুখ খোলেননি। আপাতত তার পরবর্তী মেগা পারফরমেন্স হতে যাচ্ছে আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের জমকালো আয়োজনে। 

    সূত্র: ভ্যারাইটি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ৩৬ বছর বয়সেই দুই বিলিয়ন সম্পদের মালিক টেইলর সুইফট

    ‘ওয়ান ফর দ্য মানি, টু ফর দ্য শো’—টেইলর সুইফট যেন থামবার পাত্রী নন। ‘শ্যাম্পেন প্রবলেমস’ খ্যাত এই গায়িকার আনুমানিক মোট সম্পত্তি মাত্র দুই বছর আগে ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ফোর্বসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই অঙ্ক এখন এক লাফে পৌঁছে গেছে রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলা ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারে। 

    গত ৩ জুন প্রকাশিত ফোর্বসের ‘আইকনোক্লাস্ট ৫০’ তালিকা অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রথমবার বিলিয়নিয়ারের ক্লাবে পা রাখার পর মাত্র তিন বছরের মাথায় নিজের মোট সম্পত্তি দ্বিগুণ করেছেন এই গ্র্যামিজয়ী তারকা। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলা তার রেকর্ড-ব্রেকিং ‘ইরাস ট্যুর’ এবং পুরোনো অ্যালবামগুলোর রি-রেকর্ডেড সংস্করণ বিক্রির অভাবনীয় সাফল্যই মূলত তার এই আর্থিক সম্পত্তি বৃদ্ধির মূল কারণ। 

    এছাড়া বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী এই শিল্পী ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যথাক্রমে ‘টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’ এবং ‘লাইফ অব আ শোগার্ল’ শিরোনামে দুটি নতুন অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, গত বছর তিনি তার প্রথম ছয়টি অ্যালবামের মালিকানা স্বত্বও (রাইটস) সফলভাবে কিনে নিয়েছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ‘ওপালাইট’ খ্যাত এই গায়িকার বর্তমান মোট সম্পত্তির ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যায়, কনসার্ট ট্যুর ও রয়্যালটি থেকে তার আয় প্রায় ৮০ কোটি ডলার। এছাড়া তার মিউজিক ক্যাটালগের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ কোটি ডলার এবং আবাসন বা রিয়েল এস্টেট সম্পদ আছে প্রায় ১১ কোটি ডলারের। 

    ২ বিলিয়ন ডলারের এই বিপুল সাম্রাজ্যের মালিক হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পীর খেতাবটি নিজের দখলে আরও শক্তভাবে ধরে রাখলেন টেইলর। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে পপ তারকা রিয়ানাকে ছাড়িয়ে তিনি এই মুকুট মাথায় পরেছিলেন।  

    নারী শিল্পীদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও, সার্বিকভাবে সবচেয়ে ধনী সংগীতশিল্পী অবশ্য তিনি নন। ফোর্বসের হালনাগাদ অনুযায়ী, ২.৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে সেই শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছেন মার্কিন র্যাপার ও ব্যবসায়ী জে-জি। 

    তবুও টেইলর সুইফটের এই অর্জন ঐতিহাসিক। কারণ ফোর্বস আগেই ঘোষণা করেছিল, টেইলর হলেন ইতিহাসের প্রথম সংগীতশিল্পী যিনি কোনো ধরনের রিটেইল বা ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ব্যবসার ওপর নির্ভর না করে মূলত নিজের গান, অ্যালবাম এবং পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিলিয়নিয়ারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। 

    সূত্র: ইনিউজ 

    বিনোদন ডেস্ক