খেলার আগে চোখ পরীক্ষা করার নিয়ম, বাবা রাজি হননি: সাইফ আলি

Written by

in

পতৌদি পরিবারের নবাব বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের স্মৃতিতে আজও তার বাবা কিংবদন্তি, ‘রিয়েল হিরো’। ‘টাইগার পতৌদি’ স্মৃতি বক্তৃতা’র মাধ্যমে সেই নায়ককে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াসকে তাই কুর্নিশ। 

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গাঢ় নীল ব্লেজার পরিহিত অভিনেতা। কলকাতায় ঘিয়েরঙা ট্রাউজারে সাইফ আলি খান। সেই শহরে, যে শহর তার মা-বাবার গোপন প্রেমের সাক্ষী! এদিন তার দায়িত্ব, ‘কৃতী বাবা’ টাইগার পতৌদির স্মৃতিচারণ।

তিনি যখন বিরলা সভাঘরে পা রাখেন, তখন মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছেন সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় ইয়ান বথাম। কখনো রসিকতা, কখনো কড়া সত্য তার ‘টাইগার পতৌদি’ স্মৃতি বক্তৃতার বিষয়। সাইফ আসতেই নড়াচড়া পড়ল বিরলা সভাঘরে উপস্থিত আমন্ত্রিতদের মধ্যে। প্রথম সারিতে বসে টাইগারপুত্র তখন মনোযোগী শ্রোতা। বথামের রসিকতার জবাবে তার ঠোঁটেও চিলতে হাসি।

সাইফের পালা আসতেই সিঁড়ি টপকে মাইক্রোফোনের সামনে। গাঢ় গলায় তিনি বললেন, বাবা মাঠে ‘টাইগার’, বাড়িতে স্নেহশীল। কিন্তু কখনো আমাদের অযথা শাসন করেননি। বরং স্বাধীনভাবে বড় হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মা শর্মিলা ঠাকুরের ওপর সংসারের ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা। নিজে থেকে কখনো মাথা ঘামাতেন না ঘরোয়া বিষয়ে। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

বাড়িতে ক্রিকেটীয় আবহ প্রতিমুহূর্ত। সারাক্ষণ খেলা নিয়ে কথা হয়। বাড়ির মালিক থেকে বাড়ির মালি— সবার মুখে মুখে একই কথা! সেই বাড়ির ছেলে অভিনেতা সাইফ আলি খান। বাবা মনসুর আলি খান পতৌদি। ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। বাবার কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন অভিনেতা।

 সাইফ আলি খান বলেন, ভারতের তিনিই সম্ভবত একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি খেলতে গিয়ে চোখের দৃষ্টি হারিয়েছিলেন। কিন্তু খেলা ছাড়েননি।

এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বাবা। ভালো দেখতে পান না। চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিশেষভাবে তৈরি লেন্স পরলে অনেকটাই দেখতে পাবেন তিনি। কিন্তু সেটিও সময়সাপেক্ষ। বাবা দমে যাননি। সেই অবস্থাতেই ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। প্রথম দুই-তিনটি খেলায় স্বল্প রান করেন। অভ্যস্ত হয়ে যেতেই আবার মাঠে বিধ্বংসী হন তিনি।

মাঠে মনসুর আলি খানের দাপটের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, খেলার আগে খেলোয়াড়দের চোখ পরীক্ষা করা নিয়ম। বাবা রাজি হননি। উনি জানতেন— চোখ পরীক্ষা করাতে গেলে উনি খেলতে পারবেন না। কারণ বিশেষভাবে তৈরি লেন্স না পরলে তিনি কিছুই দেখতে পেতেন না। কিন্তু তার জন্য তিনি নিজেকে অসহায় ভাবেননি। কারও থেকে বাড়তি সুযোগ নেননি। বরং কেউ তাকে ‘প্রতিবন্ধী’ বললে আপত্তি জানাতেন। 

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *