অবশেষে যে সব শর্তে মিলল হিন্দি সিনেমা আমদানির অনুমতি

Written by

in

দেশের সিনেমা হল মালিকদের দাবি মেনে অবশেষে উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এখন থেকে উপমহাদেশের বিশেষ করে ভারতীয় হিন্দি সিনেমা দেশের সিনেমা হলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রদর্শন করা যাবে। তবে এজন্য একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

rnrn

উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এবং শর্তারোপিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাফটাভুক্ত দেশ থেকে উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত ১০টি সিনেমা বছরে আমদানি করা যাবে। বিপরীতে সমানসংখ্যক বাংলাদেশি সিনেমা রপ্তানি করতে হবে। আপাতত ২ বছরের জন্য পরীক্ষামূলক অনুমতি দেওয়া হলো। শুধু বাংলাদেশের বৈধ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশকরা এ সিনেমা আমদানি ও রপ্তানি করতে পারবেন। 

rnrn

আমদানি করা সিনেমাগুলো দুই ঈদ ও দুর্গাপূজার সপ্তাহে বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা যাবে না। এর বাইরে সারা বছরই সিনেমাগুলো উন্মুক্ত রাখা যাবে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। আমদানি করা সিনেমাগুলোতে অবশ্যই বাংলা সাবটাইটেল যুক্ত থাকতে হবে এবং প্রদর্শনের পূর্বে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিতে হবে।

rnrn

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেয়। মূলত সেই সূত্রেই ১০ এপ্রিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে সিনেমা আমদানি ও রপ্তানির এ সিদ্ধান্ত পাঠায় বিএফডিসিসহ সিনেমাসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে।

rnrn

এর আগে জানুয়ারিতে সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতের শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ সিনেমাটি আমদানি করতে আবেদন করে ঢাকার একটি পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয় চলচ্চিত্রাঙ্গনে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কাছে উপমহাদেশের সিনেমা আমদানিসহ চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করে চলচ্চিত্রের ১৯ সংগঠনের মোর্চা সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ। 

rnrn

একই সময় উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানি না করলে সিনেমা হল বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেন হল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। পরে বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানি কমিটি আলোচনায় বসে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চায়। অবশেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক মতামত দিলে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪-এর ২৫ (৩৬)(গ) উপ-অনুচ্ছেদের শর্ত মেনে উপমহাদেশের সিনেমা আমদানির অনুমতি দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

rnrn

জানা গেছে, সরকারি এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ দিয়েই বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে হিন্দি সিনেমার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। কারণ, এরই মধ্যে সিনেমাটি দেশে এনে হাতে নিয়ে বসে আছেন আমদানিকারকরা। যদিও সিনেমাটি এখন ওটিটি প্ল্যাটফরম অ্যামাজন প্রাইমে উন্মুক্ত হয়ে গেছে।

rnrn

বিনিময় প্রথার মাধ্যমে এতদিন ভারতীয় বাংলা (কলকাতা) সিনেমাও দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এবার হিন্দি সিনেমা কতটা সফলতা পায় সেটাই দেখার বিষয়। এর আগে ২০১৫ সালে সালমান খান অভিনীত ‘ওয়ান্টেড’ সিনেমাটিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হয়েছিল। কিন্তু সেটিও সফলতা পায়নি। 

rnrn

এই আমদানি প্রথার বিরুদ্ধে তখন রাজপথে কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন-শাকিব খান, মিশা সওদাগর, ওমর সানী, পরীমনিসহ দেশের প্রথম সারির নির্মাতা-শিল্পীরা। কিন্তু এবারের আমদানি প্রথা নিয়ে খোদ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিই শতকরা ১০ ভাগ লাভের অর্থ সমিতিতে পরিশোধ সাপেক্ষে হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে মত দিয়েছে। নির্মাতাদের মধ্যে অবশ্য এখনো এ আমদানি প্রথা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

যুগান্তর প্রতিবেদন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *