Tag: রাজনীতি

  • বিজয়ের দলে তৃষার যোগদান নিয়ে নতুন জল্পনা!

    ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপথি বিজয়। তার নবগঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৭টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্যে নিজেদের একক আধিপত্য বিস্তার করেছে। 

    অন্যদিকে বিজয়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে ‘জন নায়াগান’ মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও এই মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই সবার নজর আটকে আছে। 

    নির্বাচনি উত্তাপের মাঝেই এবার জোর গুঞ্জন উঠেছে দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘নিউজ২৪’-এর বরাতে জানা গেছে, টিভিকে দলের শীর্ষ নেতারা তৃষাকে দলে টানতে অত্যন্ত আগ্রহী। 

    গুঞ্জন রয়েছে, বিজয় দুটি আসনে (চেন্নাইয়ের পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লী পূর্ব) জয়ী হওয়ায় তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে তিরুচিরাপল্লী পূর্ব আসনের উপ-নির্বাচনে তৃষাকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা করছে দলটি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বিজয় এবং তৃষার সম্পর্ক নিয়ে যখন চারদিকে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তৃষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। তামিলনাড়ু নির্বাচনের সময় দেওয়া সেই পোস্টে তিনি ভালোবাসা ও আত্মসম্মান নিয়ে বেশ কিছু রহস্যময় উক্তি শেয়ার করেন। 

    একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভালোবাসাই সব কিছু নয়, আবার ভালোবাসা ছাড়া সব কিছুই অর্থহীন।’ তৃষার এই পোস্টে ভক্তদের নজর কেড়েছে তার ব্যবহৃত মিউজিক এবং ভিডিও। ওই পোস্টে জনৈক এক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, ‘গানই সব বলে দিচ্ছে।’ 

    এছাড়া আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যায়, বিজয়ের দল যখন ১০০ আসনের মাইলফলক স্পর্শ করছে, তখন তৃষা বিজয়ের বাসভবনে প্রবেশ করছেন। অনেকে বলছেন, ৪৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই সাক্ষাৎ হলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

    এদিকে বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা ‘জন নায়াগান’ নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় সিনেমার মুক্তি কিছুটা বিলম্বিত হলেও এই নির্বাচনি জয় মুভিটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

    এখন দেখার বিষয়, বড় পর্দার ‘লিও’ জুটি বাস্তবের রাজনীতির মাঠেও জুটি বাঁধেন কিনা। 

    সূত্র: ফার্স্টপোস্ট 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভোটে হেরে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা রাজ চক্রবর্তীর

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। এর মধ্যে তারকাসমৃদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস দলের ভরাডুবি হয়েছে। এ দলেরই সংসদ সদস্য ছিলেন টালিউড নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন ব্যারাকপুরের গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এ নির্মাতা। রাজনীতির ময়দান কুসুমাস্তীর্ণ নয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন তিনি। 

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর এবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার ঘোষণা দিলেন রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ফল ঘোষণার ৯৬ ঘণ্টা পর নীরবতা ভেঙে সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানিয়েদিলেন— তার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা এখানেই শেষ।

    রাজকে একটা সময় যারা তার গলায় ফুলের মালা পরানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, আজ তাদের একাংশই ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে তার দিকে কাদা ও চটি ছোড়েন বলে অভিযোগ। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সেই সময়ে নিজেকে সংযত রাখলেও এ অপমান যে তার মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্ট তার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে। নীরবতা ভেঙে এ পরিচালক সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে নিয়েছেন। সেই পোস্টে ব্যারাকপুরের মানুষের রায়ের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল বলে জানান। তবে যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তাকে হতে হয়েছে, তারপর আর রাজনীতির আঙিনায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না তিনি। 

    এ পরিচালক বলেন, ২০২৬ সালে রাজনীতির ময়দান ছাড়লাম। এই সফরটা ছিল অনেক অভিজ্ঞতার, অনেক চড়াই-উতরাইয়ের। এবার নিজের আসল কাজ, অর্থাৎ সিনেমা তৈরিতেই সম্পূর্ণ সময় দিতে চাই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • রাজনীতির কারণে বাবার বিরুদ্ধে মামলা করা বিজয় তামিলনাড়ুর সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে

    তামিলনাড়ুর দীর্ঘ ছয় দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন সামনে এলো। ১৯৬৭ সাল থেকে রাজ্যটিতে পালাক্রমে দুই রাজনৈতিক দল-ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে শাসন করে আসলেও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ‘দ্বি-দলীয়’ প্রথা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়। 

    মাত্র দুই বছর আগে তার গঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ১০৭টি আসন জিতে রাজ্যের একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    এবারের নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১১৮ আসন) না পেলেও ম্যাজিক ফিগারের খুব কাছে পৌঁছে গেছেন বিজয়।

    অথচ একটা সময় ছিল যখন বিজয় নিজেই রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। এমনকি নিজের বাবা প্রখ্যাত পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেননি তিনি। 

    ঘটনাটি ২০২০ সালের। সেসময় তার বাবা বিজয়ের অনুমতি ছাড়াই তার ফ্যান ক্লাবকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামক রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করলে পরিস্থিতির অন্যদিকে মোড় নেয়। ২০২১ সালে নিজের বাবাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন বিজয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সেসময় আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এই অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার নাম বা ছবি যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয়। এই ঘটনার পর বাবা-ছেলের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। 

    তবে ২০২৪ সালে এসে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন জনপ্রিয় এই তারকা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে গঠন করেন। মাত্র দুই বছরের মাথায় সেই দলই আজ তামিলনাড়ুর সব বড় শক্তিকে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। 

    যদিও টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১১টি আসন দূরে রয়েছে, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র এবং ছোট দলগুলোর সমর্থনে বিজয়ই হতে যাচ্ছেন তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। 

    ডিএমকে-এর দীর্ঘদিনের একাধিপত্য আর এআইএডিএমকে-এর জনভিত্তিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজয়ের এই জয়কে তামিল রাজনীতির ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সিনেমার পর্দা কাঁপানো এই নায়ক এখন বাস্তব জীবনে রাজ্যের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এখন দেখার পালা, পর্দার ‘থালাপতি’ বাস্তব রাজনীতির ময়দানে কতটা সফল মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেন। 

    সূত্র: ফিল্মি ফোকাস 

    বিনোদন ডেস্ক

  • তৃণমূলের পরাজয়ে পরমব্রতর ‘স্বস্তির নিঃশ্বাস’

    আলোচিত টালিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূলের হারের পর টালিউড তারকাদের অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। এবার সেই ধারায় যোগ দিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

    সম্প্রতি কলকাতার সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘আসলে জনসাধারণের মধ্যে একটা রাগ ছিল। সেই রাগটা থাকা স্বাভাবিক। কারণ তৃণমূলের কজন নেতা-মন্ত্রী, বিধায়কের জুলুমবাজি জনতার কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভালো কাজকে গৌণ করে দিয়েছে। এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্য কিংবা কর্মীও নই।’ 

    পরমব্রত আরও বলেন, ‘বাংলার সাবেক শাসক দলের যেমন কিছু ভালো প্রকল্প কাজ ছিল, তেমনই তাদের একটা অংশের কর্মীদের ঔদ্ধত্য, মানুষের জীবনে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা, একই সঙ্গে দুর্নীতি – এগুলো কোনোটাই তো অস্বীকার করা যায় না।’ 

    এর আগে জল্পনা উঠেছিল, তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন এই অভিনেতা। এমনকি দলটির হয়ে মঞ্চে বক্তৃতা দিয়ে বেশ সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। সেই দল নিয়ে এত সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও কেন তৃণমূলের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতার স্পষ্ট বার্তা, ‘ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেটা আমার অসাংবিধানিক মনে হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার রয়েছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বর্তমানে রাজ্যে বামেরা সেভাবে নেই, আর কংগ্রেস তো অস্তিত্ব সংকটে, তাই প্রতিবাদের পথ হিসেবে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলাম। তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল এবং রয়েছে। উনিও জানতেন, আমি এসআইআর বিরোধী। সেকারণেই নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বেশ কটা প্রচারে গিয়েছিলাম।’ 

    অর্থাৎ তার কথা থেকে স্পষ্ট, মূলত বিকল্প না থাকায় তৃণমূলের সঙ্গে প্রচারে ছিলেন ‘বাইশে শ্রাবণ’ খ্যাত এই তারকা।

    টালিউডে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার প্রসঙ্গে পরমব্রত বলেন, ‘তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনোভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়। 

    আর আমার সেই লড়াইয়ের উপরই রাজনৈতিক রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। অনেকের মতো আমাকেও অনেক অপমান হজম করতে হয়েছে। নির্বাচনি রেজাল্ট নিয়ে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কাঁটাছেড়া হতে পারে, কিন্তু এহেন ফলাফলে যদি আখেরে সিনেমার উন্নতি হয় কিংবা ফেডারেশনের খবরদারি বন্ধ হয়, তাহলে সেটা স্বস্তির।’  

    বিনোদন ডেস্ক

  • পল্টি নিলেন কবীর সুমন

    ‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না। মমতা আমার প্রায় হাতে–পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই আমি পদত্যাগ করি।’ 

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পর এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন দীর্ঘদিন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওপার বাংলার সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। 

    কলকাতার সংবাদমাধ্যম আজতক বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

    যদিও ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের জাদবপুর থেকে তৃণমুলের মনোনয়নে লোকসভা নির্বাচন করে তিনি সংসদ সদস্য হন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কবীর সুমনের এ মন্তব্য তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

    সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তার আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না।’ 

    ভোটের ফল নিয়ে কবীর সুমনের ভাষ্য, ‘যেভাবে ভোটটা হলো, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে ট্যাংক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    মমতার শাসনের সমালোচনা করে এই গায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর, না। তিনি পারেননি।’

    তবে নির্বাচনে নিজের ভোট তিনি তৃণমূলেই দিয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন ‘সবুজ সাথী’। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কত বড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।’ 

    পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের প্রতি সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সুমন। তার মতে, ‘আমাদের সমাজে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ আছেন… কিন্তু এখনো অনেকেই মুসলমানদের আলাদা করে দেখেন।’ 

    সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও ইঙ্গিত দেন সুমন। তিনি জানান, এখন ভোট হলে তিনি আবার তৃণমূলকেই ভোট দেবেন। তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোনো কমিউনিস্ট দল সামনে এলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এমনকি তাদের জন্য গান বাঁধার কথাও বলেন কবীর সুমন। 

    এদিকে সুমনের এই অবস্থান বদল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর এমন বক্তব্যে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • তোপের মুখে দেব, প্রকাশ্যে ‘চোর’ বলে স্লোগান

    ওপার বাংলার টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দেব। তার আরও একটি পরিচয় আছে। সেটি হলো দেব তিনবারের নির্বাচিত লোকসভার সদস্য। ২০১৪ সালে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতির মাঠে নেমে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই অভিনেতা। 

    রাজনীতির পাশাপাশি রুপালির পর্দার ব্যস্ততাও একহাতে সামলে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে তার রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর তোপের মুখে পড়েছেন এই তারকা। 

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় দেবকে ঘিরে কিছু মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিচ্ছে। 

    যদিও এতদিন ‘সৌজন্যের রাজনীতি’র জন্যই দেবের বিশেষ পরিচিতি ছিল। রাজনৈতিক মঞ্চে বিরোধীদের বিরুদ্ধে কখনো কটু ভাষা ব্যবহার না করা এবং শালীন আচরণের জন্যও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। লোকসভা বা বিধানসভা—সব নির্বাচনেই তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরেই ভোট চেয়েছেন তিনি। কিন্তু তৃণমূলের পরাজয়ের পরই যেন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ পুরো বদলে গেল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি যার অকাট্য প্রমাণ। ভিডিওটি নিয়ে অভিনেতার ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 

    দেবের উদ্দেশে কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, ‘দয়া করে, আপনি এবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।’ কেউ আবার তাকে সব ছেড়ে শুধুমাত্র সিনেমার পর্দাতেই সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। 

    অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, জনতার এই ক্ষোভ মূলত ‘রাজনীতিক দেব’-এর প্রতি, ‘অভিনেতা দেব’-এর প্রতি নয়। কারণ ব্যক্তি এবং অভিনেতা হিসেবে এখনো দর্শকদের ভালোবাসার জায়গায় রয়েছেন তিনি। 

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনবারের লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সিনেমার তারকাদের সফলতার রহস্য

    ভারতের অন্যান্য রাজ্যে সিনেমা ও রাজনীতি মাঝে মধ্যে একে অপরের পরিপূরক হলেও তামিলনাড়ুতে এ দুটি ক্ষেত্র গত পাঁচ দশক ধরে একই সূত্রে গাঁথা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সেই পরম্পরাকেই আরও একবার জোরালোভাবে প্রমাণ করল। 

    দক্ষিণ ভারতের রুপালি পর্দার জগত থেকে রাজনীতির ময়দানে নাম লেখানো সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০৭টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা রাজ্যটির রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।

    বিজয়ের ঐতিহাসিক বিজয় 

    সেখানকার নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ের দল ১০৭টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১১৮ আসন) খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দীর্ঘ ৫০ বছর পর এই প্রথম দ্রাবিড় রাজনীতির দুই প্রধান শক্তি—ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—কে পেছনে ফেলে কোনো নতুন শক্তি এভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে সক্ষম হলো। 

    এ যাত্রায় বিজয় নিজে পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিজের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কোলাথুর আসনে পরাজিত হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সিনেমা থেকে রাজনীতি: বিজয়ের কাঁধে যে লিগ্যাসি 

    তামিলনাড়ুর ভোটাররা বরাবরই সিনেমার আইকনদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বিজয়ের এই উত্থান মূলত এমজিআর এবং জয়ললিতার তৈরি করে যাওয়া পথেরই ধারাবাহিকতা।

    এর আগে তামিলনাড়ুর দুই প্রভাবশালী রাজনীতিবদি সি এন আন্নাদুরাই এবং এম করুণানিধির মতো নেতারা সিনেমাকে আদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। রাজনীতে আসার আগে এম করুণানিধি তামিল সিনেমার একজন সফল চিত্রনাট্যকার ছিলেন। চিত্রনাট্য ও সংলাপের মাধ্যমে তারা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং তামিল জাতীয়তাবাদের ধারণা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। 

    এমজিআর: রুপালি পর্দার ‘গরিবের রক্ষাকর্তা’ ভাবমূর্তি ব্যবহার করে এমজিআর ভারতের প্রথম অভিনেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং টানা ১০ বছর শাসন করেন। তার ফ্যান ক্লাবগুলোই পরবর্তীতে শক্তিশালী রাজনৈতিক ক্যাডারে পরিণত হয়।

    জয়লিতা: সেই একই পথে আগান তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়ললিতাও। এমজিআরের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘আম্মা’ হিসেবে। সিনেমাটিক জনপ্রিয়তাকে তিনি অটুট রাজনৈতিক আস্থায় রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনিও রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 

    কেন বারবার সফল হন রুপালি পর্দার নায়করা? 

    তামিলনাড়ুর ভোটারদের কাছে সিনেমা কেবল বিনোদন নয়, বরং সামাজিক বার্তার মাধ্যম। বিজয়ের ক্ষেত্রেও তার দরিদ্রবান্ধব এবং দুর্নীতিবিরোধী পর্দার ইমেজ বাস্তব রাজনীতির মাঠে ভোটারদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছে। এছাড়া বিজয়ের সুসংগঠিত ফ্যান ক্লাবগুলো নির্বাচনের মাঠে শক্তিশালী সাংগঠনিক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। 

    তামিলনাড়ুর মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে বিজয়ের দল টিভিকে পেয়েছে ১০৭টি আসন, ডিএমকে-র আসন সংখ্যা ৫৯, এআইএডিএমকে ৪৭টি এবং অন্যান্যরা ২১টি আসন পেয়েছে। 

    এমতাবস্থায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিজয় এখন জোট গঠনের দিকে নজর দিচ্ছেন। কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দলগুলো ইতোমধ্যে তাকে সমর্থনের ইঙ্গিতও দিয়েছে। 

    তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এটি কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং সিনেমার পর্দার নায়ককে বাস্তবের ত্রাণকর্তা হিসেবে গ্রহণ করার দীর্ঘদিনের আবেগের এক নতুন বহিঃপ্রকাশ।

    সূত্র: বিজনেস টুডে 

    বিনোদন ডেস্ক

  • পরিণীতির স্বামীকে বিয়ে করতে চাওয়া কে এই অভিনেত্রী

    ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১৬’-এর আলোচিত প্রতিযোগী এবং বলিউড অভিনেত্রী অর্চনা গৌতম আবারও তার সাহসী ও স্পষ্টভাষী মন্তব্যের জন্য সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন। সম্প্রতি ‘ফিল্মিজ্ঞান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্রাশ, পছন্দের পুরুষের ধরন এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    সাক্ষাৎকারে অর্চনা প্রকাশ করেন যে, আম আদমি পার্টির সাবেক নেতা ও বর্তমান বিজেপি সংসদ সদস্য রাঘব চাড্ডার ওপর একসময় তার বেশ ‘ক্রাশ’ ছিল। তিনি জানান, বিগ বস-এ থাকাকালীন তিনি যখন কোনো এক সংসদ সদস্যের কথা উল্লেখ করতেন, তখন মূলত রাঘব চাড্ডাকেই বোঝাতেন। তবে রাঘব ও অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মজার ছলে অর্চনা বলেন, ‘ক্রাশ ছিল ঠিকই, কিন্তু ওর তো বিয়েই হয়ে গেল।’

    নিজের পছন্দের পুরুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে অর্চনা বেশ চমকপ্রদ তথ্য দেন। তিনি জানান, তিনি একটু ‘রাউডি’ বা দাপুটে স্বভাবের পুরুষ পছন্দ করেন। হিন্দিতে যাকে ‘গুন্ডা’ বা ‘ধাকড়’ বলা হয়, তেমন ব্যক্তিত্বের প্রতি তার দুর্বলতা রয়েছে। 

    তবে অর্চনা স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো অপরাধী বা খারাপ মানুষকে পছন্দ করার কথা বলছেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এমন ছেলে পছন্দ করি যার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত দৃঢ় এবং যার সামনে কেউ কথা বলতে সাহস পাবে না।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অর্চনা জানান, এই মুহূর্তে তিনি নিজের ব্যক্তিত্ব আরও কঠোর ও সাহসী করতে মনোনিবেশ করছেন। তিনি মজা করে বলেন, তিনি এখন নিজেই ‘গুন্ডি’ (সাহসী ও প্রভাবশালী) হয়ে উঠতে চান, যাতে তিনি মানুষকে রক্ষা করতে পারেন। অর্চনার মতে, বর্তমান পৃথিবীতে যারা সাহসী ও নির্ভীক, তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি।

    কে এই অর্চনা গৌতম 

    অর্চনা গৌতম একই সঙ্গে একজন অভিনেত্রী, মডেল এবং রাজনীতিবিদ। 

    ২০১৮ সালে ‘মিস বিকিনি ইন্ডিয়া’ খেতাব জয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম পরিচিতি পান। এরপর ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্তি’ ও ‘হাসিনা পারকর’-এর মতো বলিউড সিনেমায় তাকে দেখা গেছে। ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে হস্তিনাপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মাধ্যমে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। 

    বর্তমানে বিনোদন জগত এবং রাজনীতির মাঠ—উভয় জায়গাতেই নিজের সরব উপস্থিতি বজায় রেখেছেন তিনি।

    সূত্র: ফ্রি প্রেস জার্নাল 

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পরামর্শে আপ ছেড়ে বিজেপিতে রাঘব!

    আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে রাঘব চাড্ডার ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়া নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

    গত ২৪ এপ্রিল রাঘব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে এবার পাঞ্জাবের সাবেক বিধায়ক নভজ্যোত কৌর সিধু এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, রাঘবের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

    নভজ্যোত কৌর সিধুর দাবি অনুযায়ী, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে যখন আম আদমি পার্টির সম্পর্কের অবনতি ঘটতে শুরু করে, তখন তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। 

    আশঙ্কা ছিল যে, রাঘবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে এবং এরপর তাকে ইডি বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মুখোমুখি হতে হবে।

    পরিণীতি এই বিপদ থেকে বাঁচতেই তার বোন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সাহায্য চান। 

    সিধু দাবি করেন, প্রিয়াঙ্কা তার ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রাঘব চাড্ডার জন্য একটি নিরাপদ রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সাক্ষাৎকারে সিধু অভিযোগ করেন, এই ‘পলিটিক্যাল সেটিং’ বা গোপন সমঝোতার কারণেই রাঘব চাড্ডাকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর তদন্ত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। 

    তিনি আরও দাবি করেন, এই সমঝোতার কথা জানতে পেরেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল হঠাৎ করে রাঘবের সমালোচনা করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। রাঘব নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন যে ‘আপ’ তাকে বের করে দেবে, তাই আগেভাগেই প্রিয়াঙ্কার মাধ্যমে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করেন তিনি।

    পডকাস্ট চলাকালীন নভজ্যোত কৌর সিধু রাঘব চাড্ডার রাজনৈতিক সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘এতদিন ক্ষমতার সব সুবিধা ভোগ করে এখন তিনি (রাঘব) বড় বড় কথা বলছেন। যদি কিছু বলারই থাকতো, তবে দুই বছর আগেই বলা উচিত ছিল।’ 

    রাঘবের দীর্ঘদিনের নীরবতা এবং হঠাৎ দলবদলকে একটি ‘বড় রাজনৈতিক খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

    উল্লেখ্য, রাঘব চাড্ডা গত ২৪ এপ্রিল আম আদমি পার্টি ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন, যা পাঞ্জাব ও দিল্লির রাজনীতিতে বড় ধরনের সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মধ্যেই সিধুর এমন দাবি এই বিতর্ক যেন আরও উস্কে দিল।

    সূত্র: ফ্রি প্রেস জার্নাল 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বুথফেরত জরিপে প্রথম নির্বাচনেই থালাপতি বিজয়ের বাজিমাত

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন থেকেই একটি প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল—২০২৬-এর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে কি তার দল ‘তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম’ (টিভিকে) বিজয়ী হতে পারবে? 

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রকাশিত বুথফেরত জরিপ সেই কৌতূহলের কিছুটা আভাস দিয়েছে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন।

    যদিও বিজয়ের দলের সরাসরি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবে রাজ্যের প্রথাগত দ্বিমুখী রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়ে একটি ‘নির্ণায়ক শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে টিভিকে।

    বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপে তামিলনাড়ুর রাজনীতির একটি খণ্ডিত চিত্র ফুটে উঠেছে। 

    ‘পোল অব পোলস’ বা সব জরিপের গড় বলছে, বিজয়-এর দল ১৩ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে। কোনো কোনো জরিপে এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। তবে বিজয় শেষ পর্যন্ত ‘কিংমেকার’ বা সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠিও হয়ে উঠতে পারেন।

    অন্যদিকে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন ‘সেক্যুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স’ ১৩৭ থেকে ১৫০টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে নিয়েও পূর্বাভাসে ভিন্নতা রয়েছে। টাইমস নাউ-জেভিসি এবং স্পিক মিডিয়ার মতে, পালানিস্বামীর দল ১২৪ থেকে ১৪৭টি আসন পেয়ে সরাসরি ক্ষমতায় ফিরতে পারে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    টিভিকে-র ভোট ব্যাংক ও প্রভাব

    জরিপগুলোতে দেখা গেছে, বিজয়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। টিভিকে মূলত বিরোধী জোটের ভোট ব্যাংক, বিশেষ করে এআইএডিএমকে-র ভোটে ভাগ বসাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, টিভিকে-র সম্ভাব্য আসন জয়ে অবশ্য ভিন্নতা রয়েছে। পিপল ইনসাইটের জরিপে ৩০-৪০টি আসন, রিপাবলিক-পি মার্কের হিসাব অনুযায়ী ১৬-২৬টি আসন, এনডিটিভি-পিপলস পালসের জরিপ মতে ১৮-২৪টি আসন, ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার হিসাব মতে ৯৮-১২০টি আসন পেতে পারে অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। 

    নতুন রাজনীতির সূচনা 

    দুর্নীতি বিরোধী বার্তা, সুশাসন এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর ভিত্তি করে চালানো বিজয়ের হাই-ভোল্টেজ প্রচারণা তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। যদিও তামিলনাড়ুর জটিল জাতিগত সমীকরণ এবং প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর শক্ত কাঠামোর কারণে বিজয়ের আসন সংখ্যা ঠিক কত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবে এটি নিশ্চিত যে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক বয়ান বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। 

    নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, বিজয়ের এই রাজনৈতিক অভিষেক তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। চলচ্চিত্র জগত থেকে এসে তিনি কি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার সিংহাসন স্পর্শ করতে পারবেন, নাকি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন—তা জানতে এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ফলাফলের অপেক্ষা।

    সূত্র: ওয়ানইন্ডিয়া

    বিনোদন ডেস্ক