Tag: মিঠুন চক্রবর্তী

  • বিজেপি কর্মীদের তোপের মুখে মিঠুনের সভাত্যাগ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি বিধানসভা হলো জামালপুর। সোমবার জামালপুর ব্লকের পাঁচড়া এলাকায় বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে যান জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। 

    সেখানে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় অভিনেতা সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। তিনি বর্ধমানে বিজেপির কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়েও তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের স্লোগান, পালটা স্লোগানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে পড়েন। 

    বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হলে মিঠুন চক্রবর্তী বিজেপি কর্মী সমর্থকদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করে বলেন, তিনি চাইলে ভালো কোনো হোটেলে থাকতে পারতেন; কিন্তু তা না করে কর্মীদের জন্য সবকিছু ছেড়ে সভায় এসেছেন। মিঠুনের অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শেষপর্যন্ত সভা না করেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান মিঠুন।

    পরে বিজেপি নেতা যান বর্ধমানে বিজেপির সদর দফতরে। সেখানে যেতেই আম্বেদকর ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। পালটা বিজেপি কর্মীরা স্লোগান দেন। এর ফলে দুই দলের কর্মী সমর্থকদের স্লোগান পালটা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অন্য রাস্তা দিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীকে বিজেপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশালসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    এ দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি দলের কিছু কর্মীর নিন্দা করে বলেন, অনেক কর্মী রয়েছে যাদের দলের প্রতি ভালোবাসা কম। তারা দলকে ভালোবেসে কাজ করছে না, নিজেদের স্বার্থের জন্য দলে এসেছেন। তার ফলে দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়ছে। একজন কর্মীকে পদ দেওয়া হলে অন্যজন তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

    রাজ্যের বাইর থেকে নেতা নিয়ে বিজেপি রাজ্য পরিচালনা করছে, দিলীপ ঘোষের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, তিনি অনেক বড় নেতা। তিনি যা বলেছেন নিশ্চয়ই জেনে শুনেই বলেছেন। 

    সদস্য সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে মিঠুন জানান, জেলার সদস্য সংগ্রহ অভিযান এখনও পর্যন্ত ঠিকঠাক আছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • লড়াইয়ের দিনগুলো মনে পড়লে খুব ভয় করে, হাত-পা কাঁপে: মিঠুন

    চলতি বছরের শেষ মাস। মুক্তির অপেক্ষায় তার দ্বিতীয় বাংলা ছবি ‘সন্তান’। ছবি মুক্তির আগে আনন্দবাজার অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। টালিউড-বলিউডের এ অভিনেতা সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় সাক্ষাৎকারে বেঙ্গালুরুর থেকে ভিডিওকলে ধরা দিলেন। তার এ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক অভিনন্দন দত্ত। এটি যুগান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

    তাকে হাতের নাগালে পাওয়া খুব কঠিন। শেষে পাওয়া গেল বেঙ্গালুরুর থেকে ভিডিওকলে। ফোন করতেই তার সহকারী ফোন হাতে দিতেই ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠস্বর—কী জানতে চান, বলুন। শুধু তার অনুরোধ ছিল, ছবি মুক্তি পাচ্ছে। তাই রাজনীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। পরবর্তী আধ ঘণ্টায় খোলস ছেড়ে ‘ব্যক্তি’ মিঠুনই যেন বেশি করে ধরা দিলেন। 

    কখনো শৈশবের দিন থেকে সুপারস্টার হওয়ার যাত্রাপথ, কখনো আবার স্ট্রাগলের কঠিন দিন থেকে পরিবার এবং অবশ্যই আগামীর পরিকল্পনা— খোলামনে কথা বললেন অভিনেতা।

    প্রশ্ন: কেমন আছেন আপনি?

    মিঠুন: ভালোই আছি। এই যে (ফোন তুলে দেখালেন) বেঙ্গালুরুতে আমার নতুন হোটেলের লবিতে বসে আছি। পেছনেই দেখছেন প্রবেশপথ। আপাতত এখানেই কাজে ব্যস্ত রয়েছি। সবেমাত্র হোটেলটা খুলেছে। তাই সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, দেখতে হচ্ছে।

    প্রশ্ন: আপনার হাতের চোট এখন কেমন আছে?

    মিঠুন: বলতে পারি— ২৫ শতাংশ ঠিক হয়েছে। আগের থেকে হাত অনেকটাই সোজা করতে পারছি।

    প্রশ্ন: ‘সন্তান’-এর শুটিংয়ের সময় দেখেছিলাম, শটের ফাঁকে আপনি এক মনে ফোনে ভিডিও দেখতেন।

    মিঠুন: আমি কিন্তু ‘রিলস’ দেখি না! আমি নানা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করি। কিছু চোখে পড়লে, তখন হয়তো সেটা নিয়ে ইন্টারনেট ঘাঁটতে শুরু করলাম।

    প্রশ্ন: কিন্তু শুনেছি, আপনি ফোন ব্যবহার করেন না। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পছন্দ করেন।

    মিঠুন: মোবাইল তো ব্যবহার করি না। আর যে মোবাইলটা আপনি দেখেছিলেন, সেটি আমার স্ত্রীর ফোন। আউটডোরে এলে আমার হাতে দিয়ে দেন। তাতে কোথায় রয়েছি, কী করছি, ট্র্যাক করতে পারেন (হাসি)।

    প্রশ্ন: আপনি ব্যস্ত মানুষ। রান্না করতে পছন্দ করেন। শুটিং না থাকলে বাড়িতে সারা দিন কীভাবে সময় কাটে?

    মিঠুন: বাড়িতে থাকলে আমার ছেলেমেয়েদের জন্য অন্তত একটা পদ রান্না করতেই হবে। তা ছাড়া বাড়িতে আমার ১৮টা বাচ্চা (সারমেয়) রয়েছে। আমার বাড়িতে প্রায় ৭০০টা গাছ রয়েছে। সেগুলোর পরিচর্যা নিজের হাতে করি। এসব নিয়ে দিব্যি সময় কেটে যায়।

    প্রশ্ন: ‘সন্তান’ তো বাবা-ছেলের সম্পর্কের ছবি। আপনার বাবা বসন্ত কুমার চক্রবর্তী কি খুব কড়া মানুষ ছিলেন?

    মিঠুন: (হেসে) প্রচণ্ড! একসময় মনে হতো, লোকটা আমার জীবনে ভিলেন! তবে এখন বুঝতে পারি— তিনি যদি কড়া না হতেন, তা হলে আমি হয়তো মিঠুন চক্রবর্তী হতে পারতাম না। এখন মনে হয়, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ যদি কিছু হয়, তিনি আমার বাবা। তবে এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আমি বাবা-মায়েদের প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলতে চাই।

    প্রশ্ন: অবশ্যই, বলুন না…

    মিঠুন: আমরা ভাবতাম, মা-বাবা যে শিক্ষা দেন, সেটাই শ্রেষ্ঠ। আমি অন্তত সেটাই মনে করে বড় হয়েছি। কিন্তু এখন সমাজ বদলে গেছে। মানুষের চিন্তাধারা বদলে গেছে। অনেক মূল্যবোধ আমরা হারিয়ে ফেলেছি। তাই সমাজের বয়স্ক মা-বাবাদের সঙ্গে আজকে যেভাবে অন্যায় বেড়ে চলেছে, সেটিই এই ছবিতে আমরা দেখাতে চেয়েছি। আর সব থেকে বড় বিষয়— এই ছবির বাবা সব কিছু মাথা নিচু করে মেনে নেয় না, সে ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এবং শেষ পর্যন্ত মামলাও করে।

    প্রশ্ন: এই ছবির শুটিংয়ের সময় রাজ চক্রবর্তী (ছবির পরিচালক) বলেছিলেন— আবেগঘন দৃশ্যে আপনার অভিনয় দেখে তার চোখে পানি এসেছিল। রাজের সঙ্গে প্রথম ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা কী রকম?

    মিঠুন: (একটু ভেবে) আগে তো ও আমাকে রিয়্যালিটি শোয়ে পরিচালনা করেছে। তবে এই ছবিটার গল্পটা অসাধারণ। রাজ বলতেই আমি রাজি হয়ে যাই। ও খুবই শান্ত ও কাজটা ভালো বোঝে। ‘সন্তান’-এর মতো ছবি কিন্তু পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। রাজ অসাধারণ কাজ করেছে। বিশেষ করে বলেই দিচ্ছি— ছবির ক্লাইম্যাক্স কিন্তু দর্শককে কাঁদাবেই।

    প্রশ্ন: ক্যারিয়ারে সাড়ে তিনশর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। জানতে ইচ্ছে করছে— মিঠুন চক্রবর্তীকে কি এখনো কোনো চরিত্রের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হয়?

    মিঠুন: ওরে বাবা! নিতে হয় না নাকি! সব বাবার চরিত্র তো এক রকম নয়। এই ছবিতে যে বাবা, সে তো অন্য ছবির থেকে আলাদা। এটা ‘প্রজাপতি’র বাবা নয়। তাই আমাকে আলাদা করে ভাবতেই হয়।

    প্রশ্ন: আপনার ছেলেমেয়েরা আপনাকে কতটা আগলে রাখেন?

    মিঠুন: আমাকে তো সবাই বকাবকি করে (মুচকি হাসি)।

    প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশি কে বকেন?

    মিঠুন: (হেসে) মেয়ে (দিশানি চক্রবর্তী) বেশি বকাবকি করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা— মেয়ের কাছে বকুনি খাই। আমার তো একটাই মেয়ে। তাই কিছু করার নেই (হাসি)। যাদের একটিই মেয়ে রয়েছে, তারা হয়তো বিষয়টা আরও ভালো বুঝতে পারবেন। তবে আমার ছেলেরাও কিন্তু আমার প্রতি ততটাই দায়িত্বশীল। আসলে আমার সঙ্গে আমার সন্তানদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

    প্রশ্ন: আপনার ছেলে মিমো ও নমশির সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, আপনাকে নিয়ে তারা খুবই গর্বিত। মন খুলে বলেন, আপনি নাকি তাদের জন্য কখনো কারও কাছে কোনো রকম সুপারিশ করেননি— এটি কি সত্যি?

    মিঠুন: দুই হাজার শতাংশ সত্যি! কিন্তু আমি সবসময়েই ওদের বলেছি— তোমাদের নিজের লড়াই লড়তে হবে। আমি জানি, ওরা এখনো লড়াই করছে, খুব কষ্ট করছে। পাশাপাশি এটাও জানি, ওরা সময়ের সঙ্গে আরও শক্ত হয়েছে। কেউ বেশি পেয়েছে, কেউ কম। যেমন— নমশি এখন বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দিল্লি ফাইলস’-এ অভিনয় করছে। মিমো আবার নীরজ পাণ্ডের ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ এবং বিক্রম ভাটের ‘হন্টেড ২’-এ অভিনয় করছে। ওরা সবাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। কাজ নিয়ে আলোচনা হয়। মতামত বা পরামর্শ দিই। আমি গাইড করি। কিন্তু বলি— ফ্লোরে শট দেওয়ার সময় নিজেকেই সেই চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে হবে।

    প্রশ্ন: একজন বাবা হিসেবে আপনার কোনো আক্ষেপ রয়েছে?

    মিঠুন: খুব বেশি হলে কী আর করতাম, হয়তো আদর দিয়ে ছেলেমেয়েদের মাথায় তুলতাম! কিন্তু ওরা আমার কাছে আদরও পেয়েছে, শাসনও পেয়েছে। মা-বাবার মূল্যবোধটাও পেয়েছে। বিশেষ করে পিঙ্কি (মিঠুনের স্ত্রী যোগিতা বালি) একজন অসাধারণ মা। আমি যখন শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতাম, তখন ও একা হাতে পরিবারটাকে আগলে রাখত।

    প্রশ্ন: কখনো মনে হয়, পরিবারকে আরও একটু বেশি সময় দিতে পারতেন?

    মিঠুন: সে রকম মনে হয় না। কারণ খুব ব্যস্ত শিডিউল থাকলে, মাঝে হয়তো এক মাস ছুটি নিয়ে নিতাম। তারপর পরিবারকে নিয়ে বিদেশে ঘুরতে চলে যেতাম। চার-পাঁচটা দেশ ঘুরে একসঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার ফিরে আসতাম। তবে আদর দিয়ে সন্তানদের মাথায় তোলার মতো বাবা আমি নই (হাসি)। তাই আমার মধ্যে কোনো আক্ষেপ নেই।

    প্রশ্ন: আপনি তখন ছেলেমেয়েদের থেকে বকুনির কথা বলছিলেন। আপনার স্ত্রী আপনাকে বকাবকি করেন?

    মিঠুন: (হেসে) আগে ও খুবই শান্ত ছিল। খুবই শান্ত মেয়ে। এখন জানি না কী হয়েছে, সব কথাতেই একটু চেঁচামেচি শুরু করে দেয়! আগে মনে হতো, এ রকম বউ ভাবাই যায় না। আর এখন মনে হয়, ওরে বাবা— এ তো ডেঞ্জারাস! এখন একটু ভয় পেতে শুরু করেছি (হাসি)।

    প্রশ্ন: আপনাদের প্রজন্মের ‘পেরেন্টিং’ এবং বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন?

    মিঠুন: বাবা-মায়েরা কিন্তু একই রয়েছেন। একইভাবে ভালোবেসে সন্তানদের বড় করে তুলছেন। কিন্তু ছেলেমেয়েরা বদলে গেছে। যার ফলে যাবতীয় আশান্তির সূত্রপাত। তবে আনন্দবাজার অনলাইনের পাঠকদের বলব— এই ছবিটা দেখার পর আপনারা কিন্তু বুঝতে পারবেন যে, যেখানে রয়েছেন, সেটা মা-বাবার জন্যই। জীবনে মা-বাবার অবদানকে ভুলে গেলে বেঁচে থাকা অর্থহীন।

    প্রশ্ন: ক্যারিয়ারে অজস্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো স্বপ্নের চরিত্রকে ধাওয়া করেন?

    মিঠুন: কোনো দিনই ভাবিনি। যা এসেছে, সেভাবেই নিজেকে ভেঙেছি এবং কাজ করেছি। তবে প্রত্যেক বারেই নতুন নতুন চরিত্র পেয়েছি। আর এখন তো সিনেমাও অনেকটাই বদলে গেছে। আগে তো একই রকমের ছবি করতাম। নাচ, গান আর অ্যাকশন। একটু ভালোবাসা একটু কমেডি— ব্যস ছবি শেষ! এখন অর্থপূর্ণ চরিত্র করছি বলে অনেক বেশি প্রস্তাব আসে।

    প্রশ্ন: এখন আপনি কোনো ছবিতে রাজি হওয়ার আগে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন?

    মিঠুন: আমার মনকে নাড়া দিতে হবে। আমি চাইলে প্রতি দিন ১০টা ছবি সাইন করতে পারি— হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে এত বেশি প্রস্তাব আসে। কিন্তু আমি রাজি হই না। বলি, পারব না। কখনো শরীর ভালো নেই-গোছের মিথ্যাও বলি। এড়িয়ে যাই। আসলে এখন আমার গল্প পছন্দ না হলে, আমি সেই ছবি করব না।

    প্রশ্ন: ঋত্বিক (ঋত্বিক চক্রবর্তী) বলেছেন, এই ছবিতে প্রথমে আপনার সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে একটু ভয় পেয়েছিলেন। কেমন লেগেছে ওর অভিনয়?

    মিঠুন: টেরিফিক অভিনেতা! ও কেন এ রকম বলছে জানি না। আমরা কিন্তু খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেছি। আর বন্ধুত্ব তখনই হয়, যখন নিজেদের মধ্যে সম্পর্কটা মধুর হয়ে ওঠে। এ ছবিতে ঋত্বিক দর্শককে চমকে দেবে। এতটাই সাবলীল অভিনয়, দর্শকদের ইচ্ছে হবেই ওকে গিয়ে একটা চড় মারতে বা ওর গলা টিপে দিতে! এটাই ওর ক্রেডিট। এটাই তো ভালো অভিনয়ের দৃষ্টান্ত।

    প্রশ্ন: ইন্ডাস্ট্রিতে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলা ছবির পরিস্থিতি নিয়ে কাটাছেঁড়া হচ্ছে। মিঠুন চক্রবর্তীর ছবি মুক্তির আগে এখনো একটা আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়। বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন?

    মিঠুন: এই উন্মাদনা তৈরি হয়, কারণ দর্শক জানেন মিঠুন চক্রবর্তীর ছবি মানেই সেখানে নতুন কিছু থাকবে। কিছু তো একটা ম্যাজিক থাকবে। তাই একই রকমের ছবি করলে একদিন এই উন্মাদনাও নষ্ট হয়ে যাবে। দর্শকের এই উন্মাদনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই কিন্তু আমি প্রচুর স্বার্থত্যাগ করি। অর্থ সবাই উপার্জন করতে চান। কিন্তু খুব কম অভিনেতা আমার মতো স্বার্থত্যাগ করতে পারেন।

    প্রশ্ন: আপনাকে দর্শক ফাটাকেস্টর চরিত্রে দেখেছেন। খুব জানতে ইচ্ছে করছে মিঠুন চক্রবর্তীর বায়োপিক তৈরি হলে, সেখানে কোন অভিনেতা চরিত্রটার সঙ্গে জাস্টিস করতে পারবেন বলে মনে হয়?

    মিঠুন: প্রথমত এ রকম প্রস্তাব এলে আমি না বলে দিই। অনেকেই তৈরি করতে চেয়েছেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি।

    প্রশ্ন: কেন বলুন তো?

    মিঠুন: আমি চাই না, আমার বায়োপিক তৈরি হোক। কারণ সেখানে শুধুই দুঃখ! আমার প্রত্যেকটা দিন স্ট্রাগল। নতুন প্রজন্মের যারা মন শক্ত করে পায়ের নিচের জমি শক্ত করার জন্য লড়াই করছেন, আমার বায়োপিক দেখলে তাদের মন ভেঙে যাবে। কেউ কেউ হয়তো অভিনয় ছেড়েই দেবেন। আর আমি সেটি চাই না। আমি শুধু একটাই কথা বলি— আমি যদি পারি, তা হলে তুমিও একদিন পারবে।

    প্রশ্ন: কিন্তু স্ট্রাগলের পর আপনার প্রাপ্তির ঝুলিও তো বিশাল। সাড়ে তিনশর ওপর ছবি। জাতীয় পুরস্কার, পদ্মশ্রী, দাদা সাহেব ফালকে সম্মান…

    মিঠুন: (থামিয়ে দিয়ে) নিশ্চয়ই আছে। অবশ্যই আছে। কিন্তু ৯৭ শতাংশ যন্ত্রণা এবং আমার লড়াই। আমি নিশ্চিত, এতটা কষ্ট কেউ মেনে নিতে পারবে না।

    প্রশ্ন: শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও এই বয়সে পর পর অভিনয় করে চলেছেন। কখনো একঘেয়েমি লাগে না? অবসর নিয়ে কোনো ভাবনা?

    মিঠুন: একদম নয়। বরং নতুন নতুন চরিত্র আমাকে আরও বেশি অভিনয় করার মনোবল জোগাচ্ছে। আমার মোটিভেশন এখনো বেঁচে রয়েছে।

    প্রশ্ন: মিঠুন চক্রবর্তীর পর বাংলা থেকে জাতীয় স্তরে আর কোনো সুপারস্টার উঠে এলো না কেন?

    মিঠুন: (একটু ভেবে) জানেন, উঠে আসতেই পারত। অনেকেই ছিলেন, যারা নিশ্চিত পারতেন। কিন্তু তারা তখন আমার মতো ঝুঁকি নিতে পারেননি। তারা ভাবেননি যে, যাই, একটু বম্বেতে গিয়ে চেষ্টা করি। আসলে তখন হয়তো তাদের মনে হয়েছিল, বম্বেতে সফল না হলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিও হাতছাড়া হয়ে যাবে। এখানে তো তখন তাদের স্টারডম রয়েছে, পায়ের নিচের মাটি শক্ত। সেই নিরাপত্তাহীনতার ভয় থেকেই হয়তো তারা ঝুঁকি নিতে পারেননি। তবে এই ভাবনার মধ্যে আমি তাদের কোনো দোষ দেখি না।

    প্রশ্ন: কিন্তু ‘মৃগয়া’র পর উত্তর কলকাতার গলি থেকে আজ থেকে পাঁচ দশক আগে আপনি কীভাবে ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন?

    মিঠুন: (হেসে) একটু হিম্মত চাই। কিছুটা ঝুঁকি তো ছিলই। আসলে আমি ভেবেই নিয়েছিলাম যে, আমি স্টার হব। আমাকে পারতেই হবে। আমার এই গায়ের রঙ আমাকে পিছিয়ে দিয়েছে। সেটাকে ভোলাতে হবে। ‘মৃগয়া’য় একটা আদিবাসীর চরিত্রে অভিনয় করে হিরো হলাম। সেখান থেকে জাতীয় পুরস্কার পেলাম। সেখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে এক নম্বর হিরো— সুপারস্টার! তার পর সেই স্টারডমকে ধরে রাখা। প্রচুর ঝুঁকি নিয়েছি জীবনে। লড়েছি এবং গন্তব্যে পৌঁছেছি।

    প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন। আজকে কখনো আপনার লড়াইয়ের দিনগুলোকে ফিরে দেখলে কী মনে হয়?

    মিঠুন: (একটু ভেবে) খুব ভয় লাগে। হাত-পা কাঁপে! নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকি।

    প্রশ্ন: জীবনে তো আপনি এত কিছু পেয়েছেন। তারপরও নিরাপত্তাহীনতা!

    মিঠুন: (ভাবুক মনে) মনে হয়, আবার যেন সেই জীবন ফিরে না আসে। আমার ছেলেমেয়েরা যেন আমার মতো কষ্ট না পায়। সত্যিই বলছি, ভাবলে খুব…খুব ভয় পাই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • হুমায়ূন আহমেদের গল্পে মিঠুন চক্রবর্তী

    প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে একটি সিনেমা। এতে কাজ করবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। এমন খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। 

    সিনেমাটি নির্মাণ করবেন কলকাতার নির্মাতা মানসমুকুল পাল। এতে মিঠুনের বিপরীতে কাজ করবেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী আফসানা মিমি। তবে সিনেমাটি হুমায়ূন আহমেদের কোন গল্প নিয়ে নির্মিত হবে, বা সিনেমার নাম কী হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য গণমাধ্যমকে দেননি নির্মাতা। 

    জানা গেছে, চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করার আগেই নির্মাতা আসবেন বাংলাদেশ ভ্রমণে। তিনি নিজে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে উল্লেখিত জায়গাগুলো ঘুরে দেখবেন। তারপরই চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করবেন। 

    এ প্রসঙ্গে নির্মাতা মানসমুকুল বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের যে উপন্যাস অবলম্বনে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করছি, তাতে বাংলাদেশের একাধিক জায়গা উল্লেখ রয়েছে। তাই ওখানকার ঢাকা, কিশোরগঞ্জসহ অন্যান্য জায়গায় যাওয়ার কথা আছে। সে জায়গাগুলো নিজে গিয়ে দেখলে সেই উপলব্ধি আমার থাকবে, আর তাতে চিত্রনাট্য লেখার কাজও সহজ হবে।’ 

    তিনি আরও জানান, সিনেমার অনেকটা শুটিং বাংলাদেশে হবে। কিন্তু এখনই সিনেমাটির শুটিং শুরু হচ্ছে না। এ নির্মাতার হাতে বর্তমানে আরও তিনটি সিনেমার কাজ রয়েছে। সেগুলো শেষ করে তবেই তিনি নতুন সিনেমার কাজে হাত দেবেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মিঠুনকে যে কারণে প্রাণনাশের হুমকি

    বলিউড অভিনেতা সালমান ও শাহরুখ খানের পর এবার পাকিস্তান থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। লাগামহীন মন্তব্য়ের জেরেই অভিনেতার একসময়ের ফ্য়ান দিলেন হুমকি। এবার প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের ডন শাহজাদ ভাট্টি। 

    সরাসরি তিনি জানিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে সদ্য দাদাসাহেব ফালকে জয়ী অভিনেতাকে, তা না হলে ফল ভুগতে হবে। দুবাই থেকে দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন ভাট্টি। ভিডিওতে বাঙালির প্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে দেখা গেছে।

    কিন্তু কেন মিঠুনের ওপর চটেছেন পাক ডন? মিঠুনের মন্তব্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে দাবি শাহজাদ ভাট্টির। তারই প্রতিশোধ নিতে এ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন তিনি। 

    গত ২৭ অক্টোবর কলকাতার জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে হুঙ্কার দিয়েছিলেন মিঠুন। মিঠুন নাম না করে বলেছিলেন—একজন নেতা বলেছিলেন, এখানকার (বাংলার) জনসংখ্যার ৭০ শতাংশই মুসলিম। ৩০ শতাংশ হিন্দু, ভাগীরথীতে হিন্দুদের কেটে ভাসিয়ে দেব। ভেবেছিলাম— মুখ্যমন্ত্রী তাকে কিছু বলবেন, বলেননি।’ কিন্তু আমি বলছি— তোমাকে তোমার মাটিতেই পুঁতে দেব।

    পাক গ্যাংস্টার ওই ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘এই ভিডিওটি মিঠুন চক্রবর্তীর জন্য। কিছু দিন আগে তিনি বলেছিলেন— মুসলিমদের মাটিতে কবর দেবেন। মিঠুন সাহেব, আমি আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি যে ১০-১৫ দিনের মধ্যে এই ফালতু কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন, অন্যথায় আপনি এর জন্য অনুতপ্ত হবেন।’ ভাট্টি আরও বলেন, ‘আপনার ভক্তরাও মুসলিম। মুসলমানরা আপনাকে সম্মান দিয়েছে এবং আপনি তাদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। আমরাও আপনার ফ্লপ সিনেমা দেখতে যেতাম। আজ আপনি যা কিছু হয়েছেন, তা ভক্তদের কারণেই। যে বয়সে আছেন সে বয়সে পাগলামি করা উচিত নয়, পরে আফসোস করবেন।’  ডন হুমকির সুরে বলেন, ‘এটা সিনেমা নয়, বাস্তবজীবন। মঞ্চে উঠে আপনি ভিলেন হয়ে যাচ্ছেন। 

    উসকানিমূলক বক্তব্য়ের জেরে মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্য়ে দুটি এফআইআর  করা হয়েছে। একটি এফআইআর হয়েছে বিধাননগর দক্ষিণ থানায়, দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের হয়েছে বউবাজার থানায়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মিঠুন চক্রবর্তীর প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী হেলেনার মৃত্যু

    বলিউড ও টালিউডে সমান জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তার প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী হেলেনা লিউক মারা গেছেন। রোববার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন তার বান্ধবী, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী কল্পনা আইয়ার। তার সঙ্গে মিঠুনের বিবাহিত জীবন ছিল মাত্র চার মাসের। ১৯৮৫ সালে অমিতাভ বচ্চনের সিনেমা ‘মর্দ’-এ অভিনয় করেছিলেন হেলেনা।

    যদিও হেলেনা লিউকের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শেষ পোস্টে হেলেনা লিউক লিখেছেন, ‘আজব লাগছে। মিশ্র অনুভূতি এবং ঠিক জানি না কেন, বিভ্রান্ত লাগছে।’

    এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে মিঠুনের সঙ্গে চার মাসের বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন হেলেনা। স্টারডাস্ট ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শুধু মনে হয়, এমনটা যদি না হতো! তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি আমার ব্রেনওয়াশ করেছিলেন যে তিনি আমার জন্য আদর্শ মানুষ। আর দুর্ভাগ্যের কথা, তিনি সেটা আমাকে বোঝাতে সক্ষমও হন।’

    মাঝে একবার হেলেনার সঙ্গে মিঠুনের পুনরায় সংসারের গুজব রটেছিল। তখন তিনি বলেন, ‘আমি তার কাছে কখনো ফিরে যাব না, যদি তিনি আশপাশের সবচেয়ে ধনী মানুষ হন তাও। আমি খোরপোশও চাইনি। ওটা একটা দুঃস্বপ্ন ছিল, আর তা শেষ হয়ে গিয়েছে।’

    প্রসঙ্গত, এর আগে মিঠুনের বিয়ের কথা পাকা হয়ে গিয়েছিল মমতা শঙ্করের সঙ্গে। তবে নানা কারণে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর চন্দ্রদয় ঘোষকে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে করেন মমতা শঙ্কর।

    আর তার এক বছর পর মিঠুন আর হেলেনের বিয়ে। ১৯৭৯ সালে বিয়ে আর ডিভোর্স দুটিই। এরপর ১৯৭৯ সালে মিঠুন দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন যোগিতা বালিকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফেসবুকে পোস্টের পর মারা গেলেন মিঠুনের প্রথম স্ত্রী

    ভারতের খ্যাতিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর প্রথম স্ত্রী হেলেনা হিউকের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। 

    সামাজিক মাধ্যমে হেলেনার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন ভারতীয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী কল্পনা আইয়ার।জানা গেছে, এক অজানা অসুখে ভুগছিলেন তিনি; সে অসুস্থতা থেকে হেলেনার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে

    হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ১৯৮৫ সালে অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে ‘মর্দ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেসময় একের পর হিট সিনেমা উপহার দিচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তীর। তাকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন হেলেনা। তবে সেই সংসার মাত্র চার মাসের মাথায় ভেঙে গিয়েছিল।

    হেলেনা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তার ক্যারিয়ার শুরু বলিউডেই। মৃত্যুর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৯ টায় ফেসবুকে তার শেষ পোস্ট। যেখানে লেখা, ‘অদ্ভুত লাগছে। মিশ্র আবেগ। কেন এরকম হচ্ছে, কোনো ধারণাই নেই’। 

    তারপরই খবরে আসে হেলেনা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। অভিনেত্রী কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি এখনও।তার এই পোস্ট দেখে নেটিজেনদের মনে করছেন, হেলেনা কি তাহলে আগাম মৃত্যুকে অনুভব করতে পেরেছিলেন?

    পরে বেশ কিছু রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, হেলেনার শরীর ভাল ছিল না এবং তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেননি।

    মিঠুনের সঙ্গে হেলেনার প্রেম সত্তরের দশকে। ১৯৭৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। এক পুরোনো সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, প্রথম প্রথম সব কিছুই ঠিক ছিল। ক্রমশ সম্পর্ক বিষিয়ে উঠতে থাকে। বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় আলাদা হয়ে যান তারা। 

    সেই সময় মুম্বাইয়ের একাধিক সংবাদমাধ্যমকে হেলেনা জানিয়েছিলেন, মিঠুনের সঙ্গে বিয়েটা দুঃস্বপ্ন ছিল! তিনি বিয়ের আগে অভিনেতাকে একভাবে চিনেছিলেন। এক ছাদের নীচে বসবাসের সময় তার ভিন্ন রূপ দেখেন, যা তার কাছে অত্যন্ত ভয়ংকর ছিল।

    হেলেনার আগে মিঠুনের বিয়ের কথা পাকা হয়ে গিয়েছিল মমতা শঙ্করের সঙ্গে। তবে নানা কারণে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর চন্দ্রদয় ঘোষকে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে করেন মমতা শঙ্কর। আর তার এক বছর পর মিঠুন আর হেলেনা বিয়ে করেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এবার ‘সন্তান’র মুখ্য চরিত্রে ফাটাকেষ্ট

    দুর্গাপূজার ছবির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বাংলা ছবির পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছে। দুই মাসের ব্যবধানে আরও একবার বড়পর্দায় শক্তিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতির ইঙ্গিত। বছরশেষে মুক্তি পেতে চলেছে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ছবি ‘সন্তান’। ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফাটাকেষ্টখ্যাত মিঠুন চক্রবর্তী। 

    কালীপূজার দিনই নির্মাতারা ছবির প্রথম পোস্টার প্রকাশ্যে আনলেন। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ছবিটি আগামী ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ছবির যে পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে মিঠুন ছাড়াও দেখা গেছে ঋত্বিক চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে। বাবা ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই এ ছবির অন্যতম আকর্ষণ।

    ছবিতে বাবার চরিত্রে রয়েছেন মিঠুন এবং ছেলে ঋত্বিক। ছবিতে আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টালি অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। আইনি লড়াই ছবির অন্যতম আকর্ষণ। যদিও নির্মাতারা এ প্রসঙ্গে এখনই খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করতে নারাজ। এ ছাড়া ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনসূয়া মজুমদার, খরাজ মুখোপাধ্যায়, অহনা দত্ত প্রমুখ।

    এর আগে গত মার্চ মাসে কলকাতায় ছবির শুটিং শুরু করেছিলেন রাজ। তখন শোনা গিয়েছিল, ছবিটি পূজায় মুক্তি পেতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগামী ডিসেম্বরে ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে। পূজায় ‘শাস্ত্রী’ ছবিতে দর্শকদের সামনে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। এবার অন্য অবতারে তিনি কী চমক হাজির করেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। 

    প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ জানিয়েছে, ‘সন্তান’ ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে। কিন্তু সেটি বড়দিনে কিনা , তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ছবিটি বড়দিনে মুক্তি পেলে বক্স অফিসে ফের বাংলা ছবির জোর টক্কর হতে পারে। নেপথ্যে অন্য কারণও রয়েছে।

    এখন পর্যন্ত বড়দিনে দুটি বাংলা ছবির মুক্তি নিশ্চিত। রয়েছে দেব অভিনীত ‘খাদান’ এবং প্রতিম ডি গুপ্ত পরিচালিত ছবি ‘চালচিত্র’। এখন এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে ‘সন্তান’। পূজায় হিন্দি ছবির পরিবর্তে বাংলা ছবি দেখেছেন দর্শকরা। বছরশেষেও তাদের মধ্যে একই প্রবণতা বজায় থাকে কিনা, সেটিই দেখার বিষয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এবারের পূজায় কলকাতা মাতাবে যে ৩ সিনেমা

    শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মামলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে গতকাল মুক্তি পেয়েছে তিন সিনেমা। সিনেমাগুলোতে দেখা গেছে জনপ্রিয় সব অভিনয়শিল্পীদের। তাই তো ছবিগুলোকে ঘিরে সিমেনাপ্রেমিকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা। 

    সৃজিতের ‘টেক্কা’

    এবার পূজার অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি হলো ‘টেক্কা’। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারস প্রযোজিত ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন দেব, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও রুক্মিণী মৈত্র।

    বেশ অনেক দিন পর আবারও একটি থ্রিলার অ্যাকশন ছবিতে দেখা যাবে দেবকে। নিজের চাকরি ফেরত পেতে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ইকলাখ ওরফে দেব। ট্রেলারেই উত্তেজনা বাড়িয়েছে ‘টেক্কা’, মুক্তির পর থেকেই দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি। আর কিছুদিন পরে বোঝা যাবে বক্স অফিসে অন্য সিনেমাগুলোকে টেক্কা দিতে পেরেছে কি না সিনেমাটি।

    পথিকৃতের ‘শাস্ত্রী’

    এবার বক্স অফিসে মুখোমুখি থাকছেন মিঠুন চক্রবর্তী ও দেব। দীর্ঘদিন পর দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ‘মহাগুরু’।

    ‘শাস্ত্রী’ হয়ে ফিরেছেন মিঠুন। ছবির গল্প অনুযায়ী, খুবই জ্যোতিষ বিশ্বাসী মিঠুনের চরিত্রটি। একসময় নানা ঘটনার পর ছা-পোষা মধ্যবিত্ত থেকে শাস্ত্রী হয়ে ওঠেন তিনি।

    ছবিতে মিঠুন দেবশ্রী ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সোহম চক্রবর্তী। পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ছবিটি প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সুরিন্দর ফিল্মস এবং সোহমস এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ সলিউশনস।

    নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ‘বহুরূপী’

    গত বছর থেকে পূজায় ছবি মুক্তি দিচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা উইন্ডোজ প্রোডাকশন। গত বছরের আলোচিত ‘রক্তবীজ’-এর পর এবার তাদের পরিবেশনা ‘বহুরূপী’। দীর্ঘদিন পর পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ও করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

    এই সিনেমাটিতে রয়েছেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতাভরী চক্রবর্তী। ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে ছবিতে। এ ছবিটিও মুক্তির পর প্রশংসিত হচ্ছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • দাদাসাহেব ফালকে পাচ্ছেন মিঠুন, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভাসছে টালিউড

    বলিউড-টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী চলতি বছরের শুরুর দিকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানের পর এবার তার ঝুলিতে এলো দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। আজ ৩০ সেপ্টেম্বর সেই কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। 

    এ কথা ছড়িয়ে পড়তেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভাসছে টালিউড। টিভি ৯ বাংলাকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পরমব্রতরা। 

    মিঠুন চক্রবর্তী দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেতেই যে প্রতিক্রিয়া জানালেন টালিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীরা—

    এদিন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এ বিষয়ে জানান, ‘ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। এই সম্মান, এই পুরস্কার মিঠুন দার প্রাপ্য। আমাদের কাছে দাদা অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি আমি মিঠুন দার কাবুলিওয়ালা দেখে খুব কেঁদেছি। উনি আমাদের দেশের গর্ব।’ প্রসঙ্গত ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন।

    এদিন মহাগুরুর আরেক সহ-অভিনেতা তথা আজকের বার্থডে বয় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও ভীষণ খুশি এই খবরে। তার জন্মদিনের দিনই এমন সুখবর আসায় তিনি জানান, ‘এ মুহূর্তটাকে আমাদের উচিত সবার উদযাপন করা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওর ভীষণ বড় ভক্ত। যে মানুষটা ডিস্কো ড্যান্সার থেকে তাহাদের কথা করতে পারে, সে আমার কাছে অনুপ্রেরণা। এত বছর ধরে নিজের অভিনয়ের গুণে তিনি তার এই জায়গা তৈরি করেছেন। দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা তিনি। দাদাকে আমার প্রণাম।’

    রুদ্রনীল ঘোষের কথায় মিঠুন চক্রবর্তী যে সম্মান পেয়েছেন, সেটা খুব কমসংখ্যক অভিনেতাই তার জীবনে পান বা তাদের ভাগ্যে থাকে। তার কাছে এটা দারুণ খুশির খবর। একই সুর শোনা গেল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের গলাতেও। তার কথায়— ‘যেদিন থেকে সিনেমা বুঝতে শিখেছি, জ্ঞান হয়েছে দাদার কাজ দেখেছি। উনি এখনো সেই একই উদ্যম নিয়েই কাজ করেন।’

    মিঠুন চক্রবর্তী নিজে এদিন এ পুরস্কার পেয়ে এএসআইকে জানিয়েছেন, তিনি ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না বলার মতো। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। এত বড় সম্মান পেয়ে তিনি না পারছেন হাসতে, না পারছেন কাঁদতে। এই পুরস্কার তিনি তার পরিবার এবং ভক্তদের উৎসর্গ করেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘শাস্ত্রী’ সিনেমায় মিঠুনের কোলে পা, যা বললেন রজতাভ

    পূজায় মুক্তি পাচ্ছে মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ছবি ‘শাস্ত্রী’। সম্প্রতি ছবির ট্রেলার প্রকাশ্যে এসেছে। আর মিঠুনের বিপরীতে খলঅভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেছেন টালিউডের শক্তিমান অভিনেতা রজতাভ দত্ত। শাস্ত্রী ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তীর কোলে পা তুলে শট দিলেন এ খলঅভিনেতা। এরপর আনন্দবাজার অনলাইনে শেয়ার করে এ ছবির দৃশ্যটির অভিজ্ঞতা ও অতীত স্মৃতি রোমন্থন করলেন রজতাভ দত্ত।

    আনন্দবাজার সূত্রে জানা যায়, ট্রেলারের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, নিরাপত্তারক্ষীর পোশাকে মিঠুন, উল্টো দিকে বসে আছেন রজতাভ। একসময় বর্ষীয়ান অভিনেতার কোলে দুই পা তুলে দিয়েছেন তিনি। ট্রেলার প্রকাশেই মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছে ‘শাস্ত্রী’। পুরোনো চেনা অবতারে দেখা যাচ্ছে মিঠুনকে। সঙ্গী দেবশ্রী।

    ট্রেলারের শেষে পরিস্থিতি উল্টে যাচ্ছে একেবারে। সেখানে রজতাভের দুই কাঁধে শোভা পাচ্ছে মিঠুনের পা। মিঠুনের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক রজতাভের। ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে যে প্রথমে কুণ্ঠা বোধ করেছিলেন, সে কথা স্বীকার করে নিলেন এ খলঅভিনেতা। তিনি বলেন, একটু অস্বস্তি হয়েছিল বইকি। কিন্তু চিত্রনাট্যে এমনই ছিল। মিঠুন দাকে সেটা জানাতেই বললেন, আরে, চল তো, শট দে।

    রজতাভ বলেন, বাণিজ্যিক ছবিতে দর্শকদের মন জয় করার জন্য কিছু ফর্মুলা মানা হয়। তিনি বলেন, পরে যখন মিঠুন দা আমার কাঁধে পা তুলে দিচ্ছেন, ওই দৃশ্যে সবচেয়ে বেশি হাততালি পড়বে প্রেক্ষাগৃহে। এরই সঙ্গে রজতাভ যোগ করে বললেন, ওই দৃশ্যের পর মিঠুন দার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলাম।

    ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘রাস্তা’ ছবিতে মিঠুন ও রজতাভ প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন। তবে মিঠুনের সঙ্গে অভিনেতার বাণিজ্যিক ছবিগুলোই দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়। নায়ক মিঠুন ও খলঅভিনেতা রজতাভ— বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় জুটি। এই জুটির প্রথম ছবি ছিল ‘বারুদ’। রজতাভের কথায়, আমি তখন নতুন। প্রথম খলঅভিনেতা। আমার ধারণা— আমাকে নির্বাচনের নেপথ্যে মিঠুন দার বড় অবদান ছিল। যদিও তিনি জানালেন— ‘শাস্ত্রী’র সেটে মিঠুনকে সে কথা জিজ্ঞাসা করতে অভিনেতা জানান, পুরোনো স্মৃতি তার আর মনে নেই। 

    রজতাভ বলেন, সাধারণত এ রকম ক্ষেত্রে অনেকেই হয়তো কৃতিত্ব নিতে চাইবেন। কিন্তু মিঠুন দা সরল মনেই বলে দিলেন যে তিনিই আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কিনা, সেটা আর মনে করতে পারছেন না।

    শুরুর দিন থেকেই মিঠুনের কাছে অভিনয় শেখার সুযোগ পেয়েছেন। অভিনেতা হিসেবে এটা তার বিশেষ প্রাপ্তি বলেই মনে করেন রজতাভ। ‘বারুদ’ ছবির একটি ঘটনার কথা তার মনে পড়ে। একটি ‘অবাস্তব’ দৃশ্যে কীভাবে শট দেবেন বুঝতে পারছিলেন না রজতাভ। মিঠুন নাকি মজা করে তাকে বলেছিলেন—বেশি থিয়েটার করলে এ অবস্থাই হয়। একই সঙ্গে সমস্যার সমাধানও করে দেন মিঠুন দা।

    রজতাভ বললেন, প্রথমে দৃশ্যটার সংলাপ মুখস্থ আছে কিনা, জানতে চাইলেন দাদা। তার পর আমার চরিত্রে দাদা এবং আমি দাদার চরিত্রে— এভাবেই একবার রিহার্সাল করে দেখিয়ে দিলেন। সারাজীবনে ওই একবারই ফ্লোরে কেউ আমাকে অভিনয় দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে বাণিজ্যিক ছবির চরিত্রকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সেটি আয়ত্ত করে নিই।

    রজতাভ বলেন, মিঠুন দা নিজে অভিনয়ের বিশ্বকোষ। ‘মহাগুরু’র সঙ্গে তার অজস্র স্মৃতি। তিনি হেসে বললেন, সেই মানুষটার কোলে পা তুলে দিচ্ছি ভেবেই মনের মধ্যে একটা দ্বিধা কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত মিঠুন দাই বিষয়টাকে সহজ করে দেন। ‘শাস্ত্রী’ ছবিতেই একটি দৃশ্যে মিঠুনকে মিষ্টি খেতে হয়। তার জন্য পরে অভিনেতার শরীরও খারাপ হয়। 

    রজতাভ বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করতেই মিঠুন দা বলেছিলেন— কী করব! শটে তো প্রয়োজন। সত্যিই মানুষটার থেকে এ রকম অজস্র জিনিস শেখার সুযোগ পেয়েছি।

    রজতাভ জানালেন, তিনি জানেন অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে মিঠুন বিভিন্ন জায়গায় তার প্রশংসা করতেন। তার কাছে এটা যে কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম নয়, তা জানাতে দ্বিধা করেন না রজতাভ। 

    ‘রহমত আলি’ মুক্তির ১৪ বছর পর আবার দুজনে ‘শাস্ত্রী’ ছবিতে কাজ করছেন। রজতাভ বললেন, মনে আছে— একটা ছবিতে আমাকে কয়েক লাইন লিখে দিয়েছিলেন মিঠুন দা। এখনো যত্ন করে রেখে দিয়েছি। বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানেও আমাদের দেখা হয়। দাদা সুস্থ থাকুন— এটাই চাই।

    বিনোদন ডেস্ক