Tag: নারী

  • প্রতিটি নারীর স্বনির্ভর হওয়া উচিত: রুনা খান

    নারী দিবস, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও অহিংসতা নিয়ে মুখ খুলেছেন রুনা খান। মডেল ও অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন সাহসী নারী। সমাজের প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে নিয়মিত যুদ্ধ করেই টিকে আছেন অভিনেত্রী।

    দেশে চলমান সংকট, নারীদের ওপর অত্যাচার এসব নিয়ে আতঙ্কিত তিনি। দেশে নারীর স্বাধীনতার পাশাপাশি পুরুষেরও নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সম্মান দেখানোর কথা বলছেন তিনি। 

    সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের দেশে নারীদের প্রতি এতো সহিংস আচরণ, অত্যাচার করা হয়, সেটা পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়ভাবেই। নারীদের প্রতি এই হিংস্র আচরণ খুব ভয়াবহ ব্যাপার।

    একজন নারী হিসেবে দেশে আপনি কতটুকু নিরাপদ বোধ করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, কখনও খুব বেশি নিরাপদ বোধ করি না। কয়েকদিন আগেই আমি কথা প্রসঙ্গে বলছিলাম, একটু রাত হলে এদেশে বাইরে বের হওয়ার জন্য একজন পুরুষের সঙ্গে অন্য কাউকে লাগে না, কিন্তু একজন নারীর বাইরে বের হতে হলে সঙ্গে কাউকে না কাউকে প্রয়োজন। অন্য নারীরা কেমন নিরাপদ বোধ করেন জানি না, অন্তত আমি নিজে নিরাপদ বোধ করিনা।

    রুনা খান বলেন, আমার মনে হয় প্রতিটি নারীর স্বনির্ভর হওয়া উচিত। অর্থনৈতিকভাবে কারো ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কিন্তু হ্যাঁ, নারীর অধিকার আদায়ের জন্য শুধু স্বনির্ভর হলেই হয় না। আপনি যখন রাস্তায় বের হবেন, তখন আপনি কতটা নিরাপদ, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শুধু নারীদের সচেতন হয়ে লাভ নেই, সমাজের পুরুষদেরও নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে, নারীদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • নাটক সিনেমায় নারীদের গুরুত্ব কতটুকু?

    আজ বিশ্ব নারী দিবস। দিনটি এলেই প্রশ্ন উঠে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের অবস্থান কোথায়। কর্মক্ষেত্রে কতটা এগিয়ে আছেন? কিংবা কতটা বৈষম্যের শিকার। সব প্রশ্নের ইতিবাচক ও নেতিবাচক, দুই ধরনের উত্তরই নারীদের কাছ থেকে পাওয়া যায়। তবে নেতিবাচকই বেশি। বিশেষ করে বিনোদন মিডিয়ায়। 

    শোবিজ অঙ্গনে নারীদের উপস্থাপনই ছিল বরাবরই আলোচ্য। এ অঙ্গনে কাজের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা কতটা প্রাধান্য পাচ্ছেন, এমন প্রশ্ন হরহামেশাই শোনা যায়। আশি-নব্বই দশকে নাটক সিনেমায় নারীদের প্রাধান্য দেয়া হতো, প্রায় সময়ই গল্পে নারী সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠতো। তবে গল্পে তা কতটা গুরুত্ব পেত?

    নারী মানেই ছিল অসহায়, নিপীড়িত কোনো চরিত্র অথবা ভোগবিলাসী পণ্য। গল্পে নারীদের সন্তান ও সংসার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। এর বাইরে কী নারীর জীবন সংগ্রাম বলতে কিছু নেই? নাকি নারী স্বামী-সন্তান ও সংসারেই সীমাবদ্ধ? এর উত্তর খুঁজতে গেলে শিল্পী-নির্মাতা অনেকেই ‘না’ সূচক জবাব দেন। তবু নারী সংগ্রামের অন্যান্য বিষয়গুলো উঠে আসেনি নাটক বা সিনেমায়!  

    বর্তমান সময়ে তো নাটক-সিনেমায় নারী প্রধান গল্পের প্রাধান্য নেই বললেই চলে। এক সময় নারী চরিত্রের কিছুটা গুরুত্ব থাকলেও, বর্তমানে নারীকে শুধুই শো-পিস হিসাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে। এমনকি শুধুই পর্দায় নয়, নারীপ্রধান গল্পে কাজ করতে নির্মাতারাও পাচ্ছেন না তেমন সুযোগ। আবার নাটক সিনেমা তৈরির ক্ষেত্রে নারী নির্মাতারাও পাচ্ছেন না সহযোগিতা! নাটক সিনেমায় পুরুষ নির্মাতাদের পাশাপাশি নারী নির্মাতারাও নিজেদের মেলে ধরেছেন। তাদের নাটক সিনেমার বিষয়বস্তু বেশিরিভাগ নারীকেন্দ্রিক। তারা চেষ্টা করেন পর্দায় নারীর সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলার। কিন্তু তারা কি স্বাধীনভাবে কাজটি করতে পারছেন, নির্মাণের ক্ষেত্রে তারা কতটা সহযোগিতা পাচ্ছেন? 

    বাংলাদেশের প্রথম নারী পরিচালক মনজন আরা বেগম রেবেকা। ১৯৭০ সালে তিনি পরিচালনা করেন ‘বিন্দু থেকে বৃত্ত’ নামে একটি সিনেমা। ২০০৬ সালে তিনি মারা যান। এরপর তার পথ ধরে নির্মাণে আসেন অনেক নারী। তাদের মধ্যে শুধু পরিচালনা নিয়েই কাজ করছেন নারগিস আক্তার, চয়নিকা চৌধুরী, সামিয়া জামান, নুজহাত আলভী আহমেদ, শবনম ফেরদৌসী, শামীম আকতার, ফৌজিয়া খান, শাহনেওয়াজ কাকলী, মতিয়া বানু শুকু, রুবাইয়াত হোসেন, ইরানী বিশ্বাস, প্রীতি দত্ত, শ্রাবণী ফেরদৌস, রওশন আরা নিপা, জেসমিন আক্তার নদী, মারিয়া তুষার প্রমুখ। এছাড়াও অভিনয়ের পাশপাশি নির্মাণে এসেছেন এমন নারীদের মধ্যে রয়েছেন রোজী আফসারী, কবরী, সুজাতা, সুচন্দা, রোজিনা, নিমা রহমান, মৌসুমী, হৃদি হক, তানিয়া আহমেদ প্রমুখ। বর্তমান সময়ে নাটক সিনেমায় নারীর গুরুত্ব কতটুকু এসব বিষয়ে জানতে কয়েকজন নারী নির্মাতা ও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে যুগান্তর।

    পরিচালক নারগিস আক্তার বলেন, ‘প্রযোজকরা সাধারণত নারী নির্মাতাকে দিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে চান না। তারা ধরেই নেন নারীরা দুর্বল, কম মেধাবী, ধীরগতিতে কাজ করেন। তাই নারীদের কোণঠাসা করে রাখা হয়। ফলে নারীরা নির্মাণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাছাড়া সিনেমা পরিচালনায় এসে আমি যতটা বৈষম্য দেখেছি, সেটা আমার আড়ালে। আমার সামনে কেউ এসে ভয়েস রেইজ করতে পারেনি। আমি বলব, আমার আশপাশের পুরুষ সহকর্মীরা, তারা খুবই পজিটিভ ছিল।’

    দেশের আরেক নাট্যনির্মাতা ইরানী বিশ্বাস বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা প্রাধান্য পাই না। কারণ, আমি মেনে নিই। আমরা যদি মেনে না নিই তাহলে তারা আমাদের মূল্যায়ন করতে বাধ্য। নারীকেন্দ্রিক গল্পের ক্ষেত্রেও তাই সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেই আমাদের নিজেদের গল্পগুলো বলতে হবে। সবাই সহযোগিতা করবে না এটাই স্বাভাবিক।’

    নাটক-সিনেমায় অভিনয়ে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন অনেক অভিনেত্রী। নারী হিসাবে তাদের অবস্থান বেশ শক্ত হলেও কর্মক্ষেত্রে এখনও বৈষম্যের শিকার বলে মনে করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, শবনম ইয়াসমিন বুবলী ও বিদ্যা সিনহা মিম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার দর্শকদের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন দু’হাত ভরে। অভিনয়ের পাশাপাশি নারীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডেও তারা এগিয়ে। নাটক-সিনেমায় নারীদের গুরুত্ব কতটুকু এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন এ তিন নারী। 

    বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘বাংলাদেশের সিনেমা বলেন, টিভি নাটক বলেন আর ওয়েব সিরিজই বলেন-এখানে নারীকেন্দ্রিক গল্প খুবই কম হয়। এটা আসলে কেন হয় আমি ঠিক বুঝতে পারিনা। আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতে নারীকেন্দ্রিক গল্পের কাজ হতে দেখি। সেগুলো দর্শকরাও উপভোগ করেন। কিন্তু আমাদের দেশেই এটা খুবই সীমিত। হয়তো বাণিজ্যিক কারণে ঝুঁকি আছে, কিংবা দর্শকরা নেবে না এমন গল্প, এটা মনে করেন নির্মাতারা। কিন্তু বিষয়টি আমি যৌক্তিক বলে মনে করি না। এদেশে নারীকেন্দ্রিক গল্পের নাটক সিনেমার সাফল্যও আছে অনেক।’ 

    শবনম ইয়াসমিন বুবলী বলেন, ‘নারীপ্রধান গল্পে হাতেগোনা কিছু সিনেমা হয়েছে। তবে নারীদের নিয়ে কাজ করতে এখনো অনেকে (প্রযোজক-পরিচালক) সাহস করেনা। জানি না এটা কেন। তবে নারীদের সংগ্রামের গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণের অনেক জায়গা রয়েছে, এসব বিষয় নিয়ে কেউ ভাবছে না। সবাই এটাকে রিস্ক মনে করে। এর থেকে বের হয়ে আসা উচিত আমাদের। তবে আমি বিশ্বাস করি. একদিন নারী পুরুষের সমতা আসবে। পুরুষদের সহযোগিতাও এক্ষেত্রে প্রয়োজন।’

    আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘সমাজে নারীরা সবক্ষেত্রে বঞ্চিত। শুধু মিডিয়া কেন নারীরা পরিবারে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সর্বক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শোবিজে এখনো নারী প্রতিভা মেলে ধরার সেভাবে কোনো সুযোগ দেয়া হয় না বা থাকে না। নারী চরিত্রগুলোকে গল্পেই হত্যা করা হয়। চরিত্রের যদি ব্যাপ্তি না থাকে বা চরিত্রের যদি কাজ না থাকে তাহলে সে তার প্রতিভা কীভাবে দেখাবে। প্রযোজক-পরিচালকরা এগিয়ে আসলে আমাদের দেশে নারীপ্রধান গল্পের ভালো ভালো কাজ করা সম্ভব।’

    রিয়েল তন্ময়

  • মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষকের মন্তব্যে যা বললেন উরফি জাভেদ

    একুশ শতকেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যখনই ধর্ষণের মতো বিষয় নিয়ে কথা ওঠে, তখনই নারী সমালোচিত তার পোশাক নিয়ে। মেয়েরা শরীর ঢাকলেই নাকি নিরাপদ— এমন তথ্য বা বক্তব্য বহুবার বহুজন বলেছেন। বিশেষ করে ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এলে। একই বক্তব্য ফের শোনালেন পেশায় আত্মরক্ষা প্রশিক্ষক মার্শাল আর্ট একাডেমির কর্ণধার মান্নান দত্ত। 

    মেয়েদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এ উদ্যোক্তা বলেন, বিপজ্জনক রাস্তায় মেয়েরা যদি খোলামেলা পোশাক পরে হাঁটেন, তা হলে তাদের বিপদে পড়তেই হবে। তার এমন বক্তব্যের ঝলক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নজরে আসে বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মডেল উরফি জাভেদের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। 

    প্রশ্ন রেখে উরফি বলেন, মেয়েরা কি ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট পোশাক পরে বিপজ্জনক রাস্তায় হাঁটেন, ধর্ষণের শিকার হবেন বলে? তিনি বলেন, আফসোস তার, ধর্ষককে শাস্তি দেওয়ার বদলে ধর্ষিতার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলা বোধহয় আজও বেশি সহজ।

    উরফি বলেন, গা ঢাকা পোশাক পরেও চার বছরের শিশু কিংবা বোরকায় ঢাকা নারী ধর্ষিত হয়। তাদের মতে, পোশাক ধর্ষণের অন্যতম কারণ নয়। সেই মত মেনে নিয়ে মান্নানও কিছু যুক্তি দেখিয়েছেন। তার মতে, যে রাস্তায় চুরি-ছিনতাই বেশি হয়, সেই রাস্তা দিয়ে কেউ যদি দামি ঘড়ি, ফোন কিংবা ব্যাগভর্তি টাকা হাতে হাঁটেন— তার বিপদ হবেই। এ নিয়ম নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে পোশাক নির্বাচন করলে হয়তো কিছুটা হলেও নিন্দুনীয় ঘটনা আটকানো সম্ভব বলে জানান এ উদ্যোক্তা।

    কিন্তু উরফি বলেন, কোনো ব্যাংকে কম নিরাপত্তারক্ষী মানেই কি সেই ব্যাংক ডাকাতদের অবাধে লুটপাট চালানোর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে? তিনি বলেন, ৯০ শতাংশ ধর্ষিতা তাদের ধর্ষকদের চেনেন। অর্থাৎ পরিচিতরাই তাদের সঙ্গে এমন ঘৃণ্য ঘটনা ঘটান। 

    এ মডেল বলেন, এটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে— পোশাকের বিষয়টি কোনো কারণই নয়। কারণ এখনো শহরের থেকে গ্রামাঞ্চলে ধর্ষণ বেশি ঘটে। ফের প্রশ্ন তোলেন তিনি বলেন, রাস্তায় খুনি ওঁৎ পেতে থাকবে— এই আশঙ্কা থেকে কি কেউ স্বাধীনভাবে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করবেন না?

    উরফি উদ্যোক্তা মান্নানের মতো পুরুষের কাছ থেকে তার ভক্ত-অনুরাগীদের দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এবং বলেছেন, ২০২৫ সালে নারীর পোশাকের দিকে আঙুল তোলা পুরুষ প্রশিক্ষকের অস্তিত্ব থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রতারণার শিকার মডেল, খোয়া গেল লাখ টাকা

    নারী-শিশু ও মাদকপাচারের অভিযোগ নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে ফোন পেয়েই স্তম্ভিত হয়ে যান ভারতীয় মডেল শিবাঙ্কিতা দীক্ষিত। কারণ তিনি তখন শুনতে পান, তার নামে নাকি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে লাখ টাকা। 

    শুধু তাই নয়, একপর্যায়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে— গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়াতে চাইলে টাকা দিয়ে সমাধান করা যাবে। একপর্যায়ে সেই হুমকিদাতাকে টাকা দিতেও রাজি হন ওই মডেল, যার পরিমাণ ছিল প্রায় লাখ টাকা!  

    এটি ছিল একদল প্রতারক চক্রের ফন্দি। ভুয়া সিবিআই অফিসারের পরিচয় দিয়ে সেই মডেলের কাছে আসে কলটি। বিষয়টি পুলিশের কানেও গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আচমকা এ রকম অভিযোগে বিচলিত হয়ে পড়েন ওই মডেল। মূলত সাইবার প্রতারণার শিকার  হয়েছেন তিনি।

    পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্বেগ আর দুর্ভাবনায় ধরতেই পারেননি যে, তিনি সাইবার অপরাধীদের খপ্পরে পড়েছেন। পুলিশকে ওই মডেল জানিয়েছেন— ‘সিবিআই অফিসার’ তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নানাভাবে হুমকি ও ভয় দেখাতে থাকেন। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে হাজতে পাঠানোরও হুমকি দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগী সেই মডেলের দাবি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাদের মধ্যে কথোপকথন চলে। তার মধ্যেই ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শেষে নিজেকে বাঁচাতে চাপের মুখে সাইবার অপরাধীদের দাবি মেনে নেন মডেল শিবাঙ্কিতা। তাদের দাবিমতো ৯৯ হাজার রুপি দেন বলেও জানান এ মডেল।

    কিন্তু সেই মডেলের বোধদ্বয় হয় যখন বুঝতে পারেন তিনি সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তখন পুলিশকে বিষয়টি জানান। একটি অভিযোগ করেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • চরিত্র নিয়ে ফেসবুকে নারীর কু-মন্তব্য

    বিনোদন জগতের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অন্তরা মিত্র সারেগামাপার সেট থেকে একটি রিল শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

    সেটি দেখেই এক নারী আক্রমণ করল অন্তরাকে তার ‘যোগ্যতা’ ও ‘সমঝোতা করে কাজ পাওয়া’ নিয়ে। এ সংগীতশিল্পীও জবাব দিলেন মুখের ওপর। 

    হিন্দুস্তান টাইমস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে অনলাইনে ট্রল যেন একটা বড় অসুখে পরিণত হয়েছে। যেখানে তারকাদের পেলেই তাদের কটাক্ষে ভরাচ্ছেন নেটিজেনরা। সেই পরিণতিই হলো গায়িকা অন্তরা মিত্রের। 

    বর্তমানে তিনি সারেগামাপার বিচারক। আর সেখানেই সেটের কিছু মুহূর্ত নিয়ে একটি রিল ভিডিও বানিয়েছিলেন। দেখা গেল, সেটি দেখেই যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন কিছু নেটিজেন। এক নারী তো আক্রমণ করল অন্তরাকে তার ‘যোগ্যতা’ ও ‘সমঝোতা করে কাজ পাওয়া’ নিয়ে।

    জনৈক নারী ফেসবুক পোস্টে লিখলেন— সব কিছুই মানলাম, কিন্তু মুম্বাইতে উনি এমন কি প্লেব্যাক করেছেন যে, এত হাই ফাই ভাব হয়ে গেছে, কত টাকা পারিশ্রমিক পায়? এ গানের জগৎ যতটা ওপর দিয়ে দেখতে লাগে, সেরকম না। সামান্য বাপ্পী লাহিড়ীর সঙ্গে স্টেজ প্রোগ্রাম করাবে বলে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট কুপ্রস্তাব দেয়, যারা রাজি তারা ওপরে উঠেছে, আর যারা সমঝোতা করতে পারে না, তারা আমার মতো ঘরের বউ হয়ে থাকতে হয়। 

    তিনি বলেন, আমি নিজে একজন গানের শিল্পী হয়ে বলছি— যারা এখনো এই লাইনে স্ট্রাগল করছেন, তারা সব থেকে ভেতরের অন্ধকারটা জানেন। তাই অন্তরা খুব সোজা পথে আর শুধু ট্যালেন্ট দিয়ে এত বড় জায়গা পাননি। কারণ অন্তরার মতো এ রকম অনেক ট্যালেন্ট হয়তো ওর থেকেও বেশি আছে, তারা হারিয়ে গেছেন।

    এরপর তিনি সারেগামাপাখ্যাত নিহিরা বলে একটি মেয়েরও প্রসঙ্গ টানেন, যিনি সালাম এ ইশক মুভিতে টাইটেল সং গেয়েছিলেন। এ নারী যিনি অন্তরার ছবিতে মন্তব্য করেছেন, তিনি আরও লেখেন, গায়িকা সমঝোতা করেননি বলেই, হারিয়ে গেছেন। মন্তব্যের শেষ প্রান্তে লিখেছেন— আজ আর কোনো লাইম লাইটে নেই। লাস্ট দেখেছিলাম ১০ বছর আগে, তখন ওর বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। দুঃখ লাগে, এভাবে কত সিঙ্গার নিজের আত্মসম্মান বাঁচানোর জন্য গান ছেড়ে দেয়।

    এই নারী আরও বেশ কয়েকটি কমেন্ট করেন অন্তরার পোস্টে। যার মধ্যে একটিতে লিখেছেন— এই অন্তরা নাকি বিচারক? যে নিজেই ঠিকমতো ভালো গাইতে পারে না, সত্যিই করে ওর কি এক্সট্রা কোয়ালিটি আছে বলুন তো?

    তবে এ নারীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পালটা মন্তব্য করেন এক নেটিজেন। যিনি লিখেছেন— আপনার মধ্যে মনুষ্যত্বের শিশির কণাও দেখতে পাচ্ছি না, একজনকে এভাবে বিচার করা…! 

    এদিকে ওই নারীর মন্তব্য মোটেও চোখ এড়ায়নি গায়িকা অন্তরা মিত্রেরও। তিনি ওই নারীকে জবাব দিয়ে লিখেছেন— ভালো থাকবেন। সংগীত আপনার জীবনে যখন আছে, তার মানে আপনি সাধারণ তো নন। হতাশা জীবনের অনিবার্য অঙ্গ। আমার উত্থানকে সমালোচনা করে যদি আপনার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়, তা হলে ক্ষতি কি! আপনার সংগীত এবং মনন দুইয়ের উন্নতি কামনা করি। প্রণাম নেবেন।— অন্তরা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভাইরাল সুদীপ্তার পোস্ট, কী বলেছেন অভিনেত্রী

    আরজি করকাণ্ডে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে প্রথম থেকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও তার দিদি। সম্প্রতি প্রতীকী অনশনেও যোগ দেন তার দিদি বিদপ্তা চক্রবর্তী ও তার স্বামী বিরসা দাশগুপ্ত। আর এসবের মাঝেই এদিন আচমকা সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় অভিনেত্রীর করা দুই বছর পুরোনো একটি পোস্ট এবং তার কমেন্টের একটি স্ক্রিনশট। সেই পোস্টে কী বলেছিলেন অভিনেত্রী।

    এর আগে ২০২২ সালে কালার্স বাংলার একটি কুকারি শো সঞ্চালনা করতেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। সেই শোর প্রথম পর্ব সম্প্রচারিত হওয়ার পর অভিনেত্রী একটি পোস্ট করেন, সেখানেই তাকে কটাক্ষ করে বসেন এক ব্যক্তি। তিনি তার মন্তব্যে লিখেছিলেন— ঠিক কাজই নিয়েছেন। বাড়িওয়ালি সিনেমায় তো রান্নার কাজই করতেন। ওখান থেকেই হাতেখড়ি।

    এর জবাবে সেই সময়ই সুদীপ্তা লিখেছিলেন— একটু ভুল হয়ে গেল যে! বাড়িওয়ালি সিনেমায় রান্নার কাজ করিনি। অভিনয় করেছি একটি চরিত্রে, যে অভিনয়ের জন্য সেই বছরে সারা ভারতবর্ষের সব ছবির অভিনেত্রীদের মধ্যে আমাকে সেরা নির্বাচন করা হয় এবং সেই পুরস্কার হাতে তুলে দেন ভারতবর্ষের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি। 

    তিনি আরও বলেন, আর আমার অভিনয়ের হাতেখড়ি অনেক আগে। সেই নিয়ে বিস্তারে আর গেলাম না। আর এই শোয়ে আমি রান্না করছি না, শো সঞ্চালনা করছি মাত্র। এবার বলি— রান্না করা অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ, আর ভালো রান্না করা আরও কঠিন। তাই হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে জল বের করে ফেলে এই কঠিন কাজটাকে সামান্য করে দিতে কোনো অশিক্ষিত লোকই পারবে না। আপনিও না। আপনি রান্না করতে পারেন কিনা জানা নেই। তবে লেখা পড়ে মনে হচ্ছে পারেন না। পারলে রান্নাকে সম্মানের চোখে দেখতেন। বাড়িতে যে বা যারা রান্না করে দেন বলে দুমুঠো খেতে পান, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।

    এদিন সুদীপ্তা চক্রবর্তীর এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায় আরজি কর আন্দোলনের মাঝে। অভিনেত্রীর সমর্থনে অনেকেই পোস্ট করেন সেই স্ক্রিনশট। বলাই বাহুল্য, তার এভাবে স্পষ্ট কথা স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া, প্রতিবাদী সত্তাকে তার অনুরাগীরা বরাবর শ্রদ্ধা করে এসেছেন। 

    তাই এদিন এক ব্যক্তি এই স্ক্রিনশটগুলো পোস্ট করে লিখেছেন—চড় মারতে সবসময় যে গায়ের জোর লাগে তা নয়, কিছু ক্ষেত্রে চড় মারার জন্য শিক্ষাই যথেষ্ট। আবার অন্য এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন— সবার হাতে স্মার্টফোন আর সস্তার নেট এসে কে কাকে কি বলছে কোনো বোধ নেই৷ নিজেদের আয়নাতেও দেখে না৷ নিজের কি যোগ্যতা, পড়াশোনা, অবদান তার নেই ঠিক৷ শিল্পী দেখলেই তাকে যা ইচ্ছে বলে দিয়ে খুব বড় হনু হয়ে গেলাম আর কি! করুণা হয় এদের দেখে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • যিশু মজেছেন অন্য নারীতে, স্ত্রী গেছে অন্য পুরুষের বাড়িতে

    টালিউড অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের স্ত্রী নীলাঞ্জনা এখন আর সেনগুপ্ত নন। বরের পদবি আগেই মুছে ফেলেছেন তার নাম থেকে। যিশু-নীলাঞ্জনার দাম্পত্যের ফাটল এখন ধীরে ধীরে একটা গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এ কথা পরিচিত মহলে সবাই জানে। 

    খুব কম সময়ই কলকাতায় থাকেন যিশু সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরেই মুম্বাই ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। এই দূরত্বই নাকি কাল হয় দম্পতির জীবনে। এর মধ্যেই অভিনেতার জীবনে আসে সহকর্মী শিনাল সূর্তি। তার সঙ্গেই নাকি এখন প্রেম করছেন এ অভিনেতা। 

    সেই খবর নীলাঞ্জনার কানে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগেনি। আর এর জেরেই ভাঙতে চলেছে তাদের ২০ বছরের দাম্পত্য জীবন। বিচ্ছেদ চর্চার মাঝেই এক সাক্ষাৎকারে নীলাঞ্জনা বলেছেন, ‘মানুষের জীবনে প্রায়োরিটি সময়ে সময়ে চেঞ্জ হয়। প্রত্য়েক মানুষকে বুঝতে হবে। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তোমাকে কিছু একটা বেছে নিতে হবে। আর সেটায় বিশ্বাস করতে হবে। ছয় বছর আগে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কোনো রিগ্রেট আমার নেই। সবার জীবনেই কোনো না কোনো কঠিন পরিস্থিতি আসবে। বিশ্বজুড়েই অশান্ত পরিবেশ আমরা দেখছি। তবে সবার ওপরে কর্মফল এটি মনে রাখতে হবে।

    দুই মেয়ে সারা আর জারাকে ঘিরেই এখন আবর্তিত নীলাঞ্জনার জীবন। যিশু উজ্জ্বল সেনগুপ্ত প্রোডাকশন থেকেও এখন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। খুলেছেন দুই মেয়ের নামে ‘নিনি চিনিস মাম্মাস প্রোডাকশন হাউস’। 

    আর দুই মেয়েই নীলাঞ্জনার শক্তির উৎস। মুম্বাইতে বোন চন্দনার পাশাপাশি পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় নীলাঞ্জনাকে। কিন্তু নীলাঞ্জনার স্বভাবতই শহরে মন টিকল না। প্রিয়জনদের টানে দুই মেয়েকে নিয়ে উড়ে গেছেন মুম্বাইয়ে। নিজ শহরেই ফিরেছেন তিনি। যদিও যিশুর সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই সব ছেড়ে তার কলকাতায় স্থায়ী হওয়া। তবে স্বামীই যখন আর থাকছে না, তাই এই শহরেও মন টিকল না। দুর্গাপূজায় দুই মেয়ে ও বোন চন্দনাকে সঙ্গে নিয়ে হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় সঞ্চালক ও অভিনেতা অর্জুন বিজলানির বাড়িতে গেছেন তিনি। মেয়ে সারাকে সঙ্গে নিয়ে অভিনেতা অর্জুন বিজলানির সঙ্গে একফ্রেমে বন্দি হলেন নীলাঞ্জনা।

    সেই ছবি সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে নীলাঞ্জনা লিখেছেন—‘পঞ্চমী সর্টেড’। দুর্গাপূজায় যিশুর বাড়িতে জমত গানের আসর। স্ত্রী-মেয়েদের নিয়ে পুরোনো পাড়ার পূজাতে শামিল হতেন নায়ক। কিন্তু এ বছর সেই ছবিটা বদলে গেছে। নেপথ্যে যিশুর পরকীয়ার গুঞ্জন।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় যিশুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন নীলাঞ্জনা। ইনস্টাগ্রামে স্বামীকে আনফলো করেছেন তিনি। পাশাপাশি যিশুর সঙ্গে নিজের অধিকাংশ ছবিই ডিলিট করেছেন। যদিও ডিভোর্স নিয়ে এখনই খোলাখুলি কিছু বলতে চান না দুজনে। গত বছর পূজাটাও একসঙ্গে কেটেছিল। কিন্তু এবার আলাদা। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘নারীরা বাড়িতেও ন্যায়বিচার পায় না, বলছেন অভিনেত্রী

    ভারতীয় অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত জানিয়েছেন, নারীরা বাড়িতেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যায়ের শিকার হন, কর্মক্ষেত্রেও তারা সুরক্ষা পান না।

    গত মাসে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পুরো ভারতে তোলপাড়। সেই ধর্ষণের ঘটনার বিচার দাবিতে অন্যদের মতো দেবলীনাও রাস্তায় নেমেছিলেন। স্লোগানের ঝড় তুলে বিতর্ক সৃষ্টি করেন।

    অভিনেত্রী বলেন, ন্যায়বিচার বাড়ি থেকেই পাওয়া যায়। একথাটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আরেকটা বিষয়, তিলোত্তমার পর থেকে আমরা এটা শুনে আসছি, কাজের জায়গায় নারীদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। কিন্তু যারা হোমমেকার, তারা কিন্তু প্রত্যেকে নিজেদের বাড়িতে কাজ করেন। আর বাড়িতে তারা যেন সুরক্ষিত থাকে, এটা দেখতে হবে। 

    অভিনেত্রী বলেন, এই যে বিষয়টা নিজের বাড়ির লোকের মনে ঢুকিয়ে দিন। নিজের বাড়ির দেওয়ালে, দরজায়, এদিক ওদিক, কোনো বিশেষ কোণায় লিখে রাখুন। যাতে দেখলেই মনে পড়ে, সমস্ত বিষয়টা। আমি তো লিখে লাগিয়ে রাখব, কিন্তু আপনারা ভুলে যাবেন না।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কথা জানালেন ঋতাভরি

    আরজি করকাণ্ডে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যায় বিচারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন দুনিয়া তথা ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে। সেই মুহূর্তে টালিউড অভিনেত্রী ঋতাভরির জীবনে এক দুঃসংবাদ নেমে আসে। অভিনেত্রীর সঙ্গে বুচকির ৯ বছরের সম্পর্ক। ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে হারাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে চক্রবর্তীর পরিবারে।

    আরজি করকাণ্ডে নারী সুরক্ষা নিয়ে সরব হন অভিনেত্রী ঋতাভরি চক্রবর্তী। সম্প্রতি নবান্নে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে সিনেজগতে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকও করেন তিনি। এ ছাড়া নিজের কাজের ব্যস্ততা রয়েছে তার। এর মাঝেই প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কথা জানালেন অভিনেত্রী। 

    ঋতাভরির কাছে এ কষ্ট যেন আপনজন হারানোর মতোই। অভিনেত্রীর সঙ্গে বুচকির ৯ বছরের সম্পর্ক। ২০১৫ সালে তাদের বাড়িতে আসে বুচকি। ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের ছেড়ে চলে যায় সে। মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যমে বুচকির একটি কোলাজ ভিডিও পোস্ট করেছেন ঋতাভরি। সেখানে বুচকি কখনো তার মায়ের সঙ্গে খেলছে, কখনো সে আদর করছে অভিনেত্রীকে। প্রিয় পোষ্যের মৃত্যুতে মন খারাপ তার। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ঋতাভরি লিখেছেন— কত আনন্দ দিয়েছিস আমাদের সোনা। যেখানেই থাকিস খুব ভালো থাকিস। স্বর্গলোকে আজ আনন্দ। নিশ্চয়ই তোকে পেয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছে তারা। আমরা তোকে ভালোবাসি এবং তোর কথা খুবই মনে পড়বে। শান্তিতে ঘুমা বুচকি। 

    অভিনেত্রীর এমন শোকের সময় তাকে সমবেদনা জানিয়েছেন ভক্ত-অনুরাগীরা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আরজি করকাণ্ড নিয়ে একটি কথাও বলব না: মিঠুনের বউমা

    আরজি করকাণ্ডে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যায় যেখানে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন জগত তথা ভারতজুড়ে তোলপাড়, সেখানে বলিউড-টালিউড শক্তিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বউমা বলেছেন, আরজি করকাণ্ড নিয়ে তিনি একটি কথাও বলবেন না। কেন এ কথা বললেন অভিনেত্রী মাদলসা?

    টানা চার বছর ধরে হিন্দি মেগা ‘অনুপমা’র ‘কাব্য’ হচ্ছেন মাদলসা। রেটিং চার্টের এক নম্বর ধারাবাহিক থেকে সরে গেলেন তিনি। হিন্দি মেগা ‘অনুপমা’র অন্যতম আকর্ষণ মাদলসা। বাংলা ধারাবাহিক শ্রীময়ীর ‘জুন আন্টি’ই হিন্দিতে ‘কাব্য’। দীর্ঘদিন একটি চরিত্র নিজ অভিনয়গুণে জনপ্রিয় করার পর সেই ধারাবাহিক থেকে হঠাৎ করে বিদায় বলে দিলেন মাদলসা। গত সোমবার সেই মর্মে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও করেছেন এ অভিনেত্রী। তার ঘোষণায় অবাক ছোটপর্দার দর্শকরা। কোন সমস্যায় রেটিং চার্টের এক নম্বর ধারাবাহিক ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন মাদলসা— এমন প্রশ্ন উঠেছে দর্শকদের মনে? 

    আনন্দবাজার অনলাইনে শেয়ার করে অভিনেত্রী মাদলসা বলেছেন, শুরু থেকে ‘কাব্য’ চরিত্রটি ধারাবাহিকের অন্যতম জোরালো স্তম্ভ। জনপ্রিয়তার কারণ। দিন যত এগিয়েছে গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্দায় চরিত্রটির জৌলুস আরও বেড়েছে। আমিও অভিনয় করে আনন্দ পেয়েছি। 

    তিনি বলেন, ইদানীং তার মনে হয়েছে— চরিত্রের সেই জোরালো দিক আর যেন নেই। ‘কাব্য’ তার আকর্ষণ হারিয়েছে, যা অভিনেত্রীকে বিষণ্ন করে তুলেছে। তিনিও অভিনয় করে তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। তাই গত এক মাস ধরে ভাবছিলেন— এবার বোধহয় সরে আসাই মঙ্গল।

    মিঠুন চক্রবর্তীর বৌমা এরপর কথা বলেন ধারাবাহিকের পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে। তারাও ওর কথার মর্যাদা দিয়েছেন। এ অভিনেত্রী বলেন, চার বছর একটা চরিত্রকে দিয়ে ফেলা মানে অনেকটা সময় নিজেকে একটা খোলসে আটকে রাখা। এর পরও থেকে গেলে সেটা জোর করে থেকে যাওয়া হতো। ওটা একেবারেই চাই না। 

    চার বছর ধরে একটা চরিত্র বহন করলে তার ছাপ থেকে যায় উল্লেখ করে মাদলসা বলেন, ‘কাব্য’ ছোটপর্দার তথাকথিত নারী চরিত্র নয়। মানসিক দিকে থেকে যথেষ্ট জোরালো ও শক্তিশালী। ফলে এই চরিত্র তাকে কোনো তকমায় বন্দি করবে না। বরং তিনি ‘কাব্য’র বদৌলতে আগামীতে নতুনভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন।

    মাদলসা বলেন, বাস্তবেও ‘কাব্য’কে নিজের মধ্যে দেখতে পাই। আমিও শক্ত ধাঁচের মেয়ে। যতটা পরিবারকেন্দ্রিক, ততটাই বাইরের দুনিয়ায় সাবলীল। আমাকে চট করে বশে আনা যায় না। মাদলসার এই মানসিকতা হয়তো একুশ শতকের অনেক মেয়েরই বেঁচে থাকার অস্ত্র।

    কলকাতার আরজি করকাণ্ড কিংবা দক্ষিণী বিনোদন দুনিয়ার হেমা কমিটি রিপোর্ট যে বলছে, নারীনিগ্রহ এখনো মেয়েদের প্রধান বাধা— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আরজি করকাণ্ড নিয়ে একটি কথাও বলব না। কারণে-অকারণে বিতর্ক পছন্দ করি না। তা ছাড়া বিষয়টি বিচারাধীন। তিনি বলেন, জন্ম থেকেই নিরাপত্তার কারণে নারীকে প্রত্যেক মুহূর্তে সজাগ থাকতে হয়। তার পরও বলব— নিজেদের অস্তিত্ব যাতে সংকটে না পড়ে, তার জন্য আরও সজাগ থাকতে হবে। আরও বুদ্ধি করে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে চট করে কোনো সমস্যা তাকে কাবু করতে না পারে।

    যুগান্তর ডেস্ক