Tag: থালাপতি বিজয়

  • তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের পথে বিজয়

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। অভিনেতা থালাপতি বিজয় এবং তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর জন্য সরকার গঠনের জটিলতা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। 

    বিধানসভায় সরকার গঠনের লক্ষ্যে টিভিকে-কে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে থিরুমাভালাভানের নেতৃত্বাধীন দল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে)। 

    এর ফলে তামিলনাড়ু রাজ্যে প্রথম কোনো জোট সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হলো। 

    এদিকে প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-এর ভেতরে বড় ধরনের বিদ্রোহের খবর পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগাম দল ত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। জানা গেছে, ৩২ জনেরও বেশি বিধায়ক তার পাশে রয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শনিবার (৯ মে) পদুচেরির একটি রিসোর্ট থেকে বিধায়করা ফেরার পর চেন্নাইতে শানমুগামের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসপি ভেলুমণি, এমআর বিজয় ভাস্কর, নাথাম বিশ্বনাথন এবং সি বিজয় ভাস্করের মতো প্রভাবশালী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

    এদিকে শুক্রবার (৮ মে) অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় তৃতীয়বারের মতো তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর.ভি. আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। লোক ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানান।

    এর আগে রাজ্যপাল আরলেকার বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। রাজ্যপাল সচিবালয়ের দাবি ছিল, বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ বা ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি বিজয়। 

    গত বুধবার (৬মে) এবং বৃহস্পতিবারের (৭ মে) সাক্ষাতেও একই কারণে বিজয়ের দাবি নাকচ করে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। তবে ভিসিকে-র সমর্থন এবং এআইএডিএমকে-র বিদ্রোহী বিধায়কদের সম্ভাব্য যোগদানের খবরে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ এখন বিজয়ের অনুকূলে বলে মনে করা হচ্ছে। 

    সূত্র: এনডিটিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিজয়ের দলে তৃষার যোগদান নিয়ে নতুন জল্পনা!

    ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপথি বিজয়। তার নবগঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৭টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্যে নিজেদের একক আধিপত্য বিস্তার করেছে। 

    অন্যদিকে বিজয়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে ‘জন নায়াগান’ মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও এই মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই সবার নজর আটকে আছে। 

    নির্বাচনি উত্তাপের মাঝেই এবার জোর গুঞ্জন উঠেছে দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘নিউজ২৪’-এর বরাতে জানা গেছে, টিভিকে দলের শীর্ষ নেতারা তৃষাকে দলে টানতে অত্যন্ত আগ্রহী। 

    গুঞ্জন রয়েছে, বিজয় দুটি আসনে (চেন্নাইয়ের পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লী পূর্ব) জয়ী হওয়ায় তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে তিরুচিরাপল্লী পূর্ব আসনের উপ-নির্বাচনে তৃষাকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা করছে দলটি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বিজয় এবং তৃষার সম্পর্ক নিয়ে যখন চারদিকে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তৃষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। তামিলনাড়ু নির্বাচনের সময় দেওয়া সেই পোস্টে তিনি ভালোবাসা ও আত্মসম্মান নিয়ে বেশ কিছু রহস্যময় উক্তি শেয়ার করেন। 

    একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভালোবাসাই সব কিছু নয়, আবার ভালোবাসা ছাড়া সব কিছুই অর্থহীন।’ তৃষার এই পোস্টে ভক্তদের নজর কেড়েছে তার ব্যবহৃত মিউজিক এবং ভিডিও। ওই পোস্টে জনৈক এক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, ‘গানই সব বলে দিচ্ছে।’ 

    এছাড়া আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যায়, বিজয়ের দল যখন ১০০ আসনের মাইলফলক স্পর্শ করছে, তখন তৃষা বিজয়ের বাসভবনে প্রবেশ করছেন। অনেকে বলছেন, ৪৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই সাক্ষাৎ হলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

    এদিকে বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা ‘জন নায়াগান’ নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় সিনেমার মুক্তি কিছুটা বিলম্বিত হলেও এই নির্বাচনি জয় মুভিটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

    এখন দেখার বিষয়, বড় পর্দার ‘লিও’ জুটি বাস্তবের রাজনীতির মাঠেও জুটি বাঁধেন কিনা। 

    সূত্র: ফার্স্টপোস্ট 

    বিনোদন ডেস্ক

  • মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তৃষাকে বিয়ে করছেন বিজয়? কত টাকা দিচ্ছেন প্রথম স্ত্রীকে

    দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, তেমনটাই মনে করছেন সবাই। যদিও এর মধ্যে কিন্তু রয়েছে। অভিনেতা নির্বাচনে জয়ের পর অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান তার বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এর আগে সুপারস্টারের স্ত্রী সংহীতা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করার পরও সেই একই ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

    থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে। টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিজয়ের এ শক্তি তামিলনাড়ুর দুটি প্রভাবশালী দলের (ডিএমকে ও এআইএডিএমকে) আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে। তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য থালাপতি বিজয়ই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী। সরকার গঠনের জন্য তার আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। তার এই বিপুল বিজয়ের মাঝেও থালাপতির ব্যক্তিগত জীবনের তোলপাড় আবারও শিরোনামে উঠে এসেছে। 

    জানা গেছে, থালাপতি বিজয় তার স্ত্রী সংগীতাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভাবছেন। এদিকে বিজয়ের জয়ের পর তার চর্চিত প্রেমিকা তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে বিয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

    বিধানসভা নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের জয়ের মাঝে সবার নজর এখন তার স্ত্রী সংগীতার দিকে। ২৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিশ্বাসঘাতকতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং অবহেলার অভিযোগ এনে সংগীতা ফেব্রুয়ারিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। এক কথোপকথনে তিনি বিজয়ের জীবনে অন্য এক নারীর অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছিলেন, যা কখনো প্রমাণিত হয়নি; কিন্তু মানুষ ধরে নিয়েছিল যে, এটি তৃষা কৃষ্ণানের প্রতি ইঙ্গিত ছিল। এখন সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হচ্ছে, তারা সম্পত্তি ভাগাভাগি ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সংগীতা তার বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে এক শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্ককে উল্লেখ করেন। এ রপর তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে বিজয়ের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। নিজের আবেদনে সংগীতা আরও দাবি করেন, বিজয় বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তাদের অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যান।

    তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের ভূমিধস জয়ের মাঝে তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে তার বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৬ সালের মার্চে একটি বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পরও তাদের বিয়ের গুঞ্জন উঠেছিল। সংগীতা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করার পর তাদের একসঙ্গে উপস্থিতি বিশেষ সম্পর্কের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল।

    থালাপতি বিজয়ের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, যদি তার স্ত্রী সংগীতা ভরণপোষণ দাবি করেন, তবে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ ও সম্পত্তি পাবেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিজয় সংগীতাকে ভরণপোষণ হিসেবে ২৫০ কোটি টাকা দিতে পারেন এবং তাদের সন্তানদের লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে পারেন। 

    সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি দুই পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ হয়ে যাবে; কিন্তু তা ঘটেনি। 

    প্রকৃতপক্ষে, সংগীতার আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত থালাপতি বিজয়কে তলব করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, যে বিচারক মামলাটি শুনছিলেন, তাকে বদলি করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে যে, তারা দুজন পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, থালাপতি বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা একজন ব্যবসায়ীর কন্যা।

    প্রকৃতপক্ষে সংগীতার আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত থালাপতি বিজয়কে তলব করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে যে বিচারক মামলাটি শুনছিলেন, তাকে বদলি করা হয়েছে। 

    জানা গেছে, তারা দুজন পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, থালাপতি বিজয়ের স্ত্রী সংগীতা একজন ব্যবসায়ীর কন্যা।

    সম্প্রতি থালাপতি বিজয় এক সাক্ষাৎকারে সংগীতার সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন। ‘লাভ টুডে’ সিনেমার সেটে তাদের দেখা হয়েছিল এবং সংগীতা তার একজন ভক্ত ছিলেন। বিজয় বলেন, সংগীতা ঠিক তার মতোই মৃদুস্বরে কথা বলতেন। তিনি যখন সংগীতাকে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান, তখন তার বাবা তাকে পছন্দ করেন। বাবার জেদেই তিনি তাকে বিয়ে করেছিলেন।

    থালাপতি বিজয় সংগীতার প্রশংসা করে বলেন, সংগীতা তাদের বিয়েতে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো সাড়া দেননি। সংগীতা পরে অনুভব করেন যে, তার প্রচেষ্টা বৃথা গেছে। তিনি বলেন, ‘বিয়ের আগে সে অনেক চেষ্টা করত। বিয়ের পর ততটা করত না। সে ভাবত এটা অর্থহীন। কারণ আমি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতাম না। এদিকে সে আমাকে গাড়ি এবং অন্যান্য জিনিস উপহার দিতেই থাকত। সে খুব বুঝদার এবং সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদি কোনো সিনেমা ফ্লপ হতো, সে আমাকে বলত মন খারাপ না করতে।’

    উল্লেখ্য, সংগীতা ও বিজয় ১৯৯৬ সালে প্রেম শুরু করেন এবং ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন। ১৯৯৮ সালে তারা ইংল্যান্ডে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। এক বছর পর তারা চেন্নাইতে হিন্দু ও খ্রিস্টান উভয় রীতি মেনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

    সংগীতা একটি তামিল হিন্দু পরিবার থেকে এসেছেন। অন্যদিকে বিজয়ের বাবা খ্রিস্টান এবং মা হিন্দু। বিয়ের প্রায় এক বছর পর তাদের ছেলে জেসন সঞ্জয়ের জন্ম হয়। এ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান হয় ২০০৫ সালে, তাদের মেয়ে দিব্যা সাশা৷ অভিনেতার দুই সন্তানই তার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • রাজনীতির কারণে বাবার বিরুদ্ধে মামলা করা বিজয় তামিলনাড়ুর সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে

    তামিলনাড়ুর দীর্ঘ ছয় দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন সামনে এলো। ১৯৬৭ সাল থেকে রাজ্যটিতে পালাক্রমে দুই রাজনৈতিক দল-ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে শাসন করে আসলেও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ‘দ্বি-দলীয়’ প্রথা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়। 

    মাত্র দুই বছর আগে তার গঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ১০৭টি আসন জিতে রাজ্যের একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    এবারের নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১১৮ আসন) না পেলেও ম্যাজিক ফিগারের খুব কাছে পৌঁছে গেছেন বিজয়।

    অথচ একটা সময় ছিল যখন বিজয় নিজেই রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। এমনকি নিজের বাবা প্রখ্যাত পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেননি তিনি। 

    ঘটনাটি ২০২০ সালের। সেসময় তার বাবা বিজয়ের অনুমতি ছাড়াই তার ফ্যান ক্লাবকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামক রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করলে পরিস্থিতির অন্যদিকে মোড় নেয়। ২০২১ সালে নিজের বাবাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন বিজয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সেসময় আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এই অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার নাম বা ছবি যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয়। এই ঘটনার পর বাবা-ছেলের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। 

    তবে ২০২৪ সালে এসে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন জনপ্রিয় এই তারকা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে গঠন করেন। মাত্র দুই বছরের মাথায় সেই দলই আজ তামিলনাড়ুর সব বড় শক্তিকে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। 

    যদিও টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১১টি আসন দূরে রয়েছে, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র এবং ছোট দলগুলোর সমর্থনে বিজয়ই হতে যাচ্ছেন তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। 

    ডিএমকে-এর দীর্ঘদিনের একাধিপত্য আর এআইএডিএমকে-এর জনভিত্তিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজয়ের এই জয়কে তামিল রাজনীতির ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সিনেমার পর্দা কাঁপানো এই নায়ক এখন বাস্তব জীবনে রাজ্যের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এখন দেখার পালা, পর্দার ‘থালাপতি’ বাস্তব রাজনীতির ময়দানে কতটা সফল মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেন। 

    সূত্র: ফিল্মি ফোকাস 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিজয়ের জয়ে যা বললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রজনীকান্ত

    দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সাফল্যে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল প্রদর্শন করেছে। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই রাজ্যের বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে টিভিকে। তার এ জয়ের পর আরেক দক্ষিণী কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্ত বিজয়ের বিজয়কে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন।

    প্রথমবারের মতো নির্বাচনে এসে ভূমিধস জয় পেয়েছেন থালাপতি বিজয়। তার এ জয়ে বিনোদন জগতের তারকারা তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বর্ষীয়ান অভিনেতা কমল হাসান, রাশমিকা মান্দানা, মডেল-অভিনেত্রী পূজা হেগড়ে, এআর রহমানসহ অনেক তারকা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    বিশেষ করে থালাপতি বিজয়ের জয়ে কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্ত সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেই পোস্টে বিজয় ও তার দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ বর্ষীয়ান অভিনেতা পোস্টে লিখেছেন— জনগণের আস্থা অর্জন করে এই জয় সত্যিই প্রশংসনীয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    থালাপতি বিজয়ের এই সাফল্য শুধু রাজনৈতিক নয়, দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ছেড়ে রাজনীতিতে পা রাখা থালাপতি বিজয়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

    উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮ আসনে জয় পেয়ে টিভিকে রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য টিভিকের প্রয়োজন ছিল ১১৮ আসন। তবু এই ফলকে বড় রাজনৈতিক উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সিনেমার তারকাদের সফলতার রহস্য

    ভারতের অন্যান্য রাজ্যে সিনেমা ও রাজনীতি মাঝে মধ্যে একে অপরের পরিপূরক হলেও তামিলনাড়ুতে এ দুটি ক্ষেত্র গত পাঁচ দশক ধরে একই সূত্রে গাঁথা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সেই পরম্পরাকেই আরও একবার জোরালোভাবে প্রমাণ করল। 

    দক্ষিণ ভারতের রুপালি পর্দার জগত থেকে রাজনীতির ময়দানে নাম লেখানো সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০৭টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা রাজ্যটির রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।

    বিজয়ের ঐতিহাসিক বিজয় 

    সেখানকার নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ের দল ১০৭টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১১৮ আসন) খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দীর্ঘ ৫০ বছর পর এই প্রথম দ্রাবিড় রাজনীতির দুই প্রধান শক্তি—ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—কে পেছনে ফেলে কোনো নতুন শক্তি এভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে সক্ষম হলো। 

    এ যাত্রায় বিজয় নিজে পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিজের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কোলাথুর আসনে পরাজিত হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সিনেমা থেকে রাজনীতি: বিজয়ের কাঁধে যে লিগ্যাসি 

    তামিলনাড়ুর ভোটাররা বরাবরই সিনেমার আইকনদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বিজয়ের এই উত্থান মূলত এমজিআর এবং জয়ললিতার তৈরি করে যাওয়া পথেরই ধারাবাহিকতা।

    এর আগে তামিলনাড়ুর দুই প্রভাবশালী রাজনীতিবদি সি এন আন্নাদুরাই এবং এম করুণানিধির মতো নেতারা সিনেমাকে আদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। রাজনীতে আসার আগে এম করুণানিধি তামিল সিনেমার একজন সফল চিত্রনাট্যকার ছিলেন। চিত্রনাট্য ও সংলাপের মাধ্যমে তারা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং তামিল জাতীয়তাবাদের ধারণা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। 

    এমজিআর: রুপালি পর্দার ‘গরিবের রক্ষাকর্তা’ ভাবমূর্তি ব্যবহার করে এমজিআর ভারতের প্রথম অভিনেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং টানা ১০ বছর শাসন করেন। তার ফ্যান ক্লাবগুলোই পরবর্তীতে শক্তিশালী রাজনৈতিক ক্যাডারে পরিণত হয়।

    জয়লিতা: সেই একই পথে আগান তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়ললিতাও। এমজিআরের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘আম্মা’ হিসেবে। সিনেমাটিক জনপ্রিয়তাকে তিনি অটুট রাজনৈতিক আস্থায় রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনিও রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 

    কেন বারবার সফল হন রুপালি পর্দার নায়করা? 

    তামিলনাড়ুর ভোটারদের কাছে সিনেমা কেবল বিনোদন নয়, বরং সামাজিক বার্তার মাধ্যম। বিজয়ের ক্ষেত্রেও তার দরিদ্রবান্ধব এবং দুর্নীতিবিরোধী পর্দার ইমেজ বাস্তব রাজনীতির মাঠে ভোটারদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছে। এছাড়া বিজয়ের সুসংগঠিত ফ্যান ক্লাবগুলো নির্বাচনের মাঠে শক্তিশালী সাংগঠনিক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। 

    তামিলনাড়ুর মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে বিজয়ের দল টিভিকে পেয়েছে ১০৭টি আসন, ডিএমকে-র আসন সংখ্যা ৫৯, এআইএডিএমকে ৪৭টি এবং অন্যান্যরা ২১টি আসন পেয়েছে। 

    এমতাবস্থায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিজয় এখন জোট গঠনের দিকে নজর দিচ্ছেন। কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দলগুলো ইতোমধ্যে তাকে সমর্থনের ইঙ্গিতও দিয়েছে। 

    তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এটি কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং সিনেমার পর্দার নায়ককে বাস্তবের ত্রাণকর্তা হিসেবে গ্রহণ করার দীর্ঘদিনের আবেগের এক নতুন বহিঃপ্রকাশ।

    সূত্র: বিজনেস টুডে 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বুথফেরত জরিপে প্রথম নির্বাচনেই থালাপতি বিজয়ের বাজিমাত

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন থেকেই একটি প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল—২০২৬-এর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে কি তার দল ‘তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম’ (টিভিকে) বিজয়ী হতে পারবে? 

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রকাশিত বুথফেরত জরিপ সেই কৌতূহলের কিছুটা আভাস দিয়েছে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন।

    যদিও বিজয়ের দলের সরাসরি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবে রাজ্যের প্রথাগত দ্বিমুখী রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়ে একটি ‘নির্ণায়ক শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে টিভিকে।

    বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপে তামিলনাড়ুর রাজনীতির একটি খণ্ডিত চিত্র ফুটে উঠেছে। 

    ‘পোল অব পোলস’ বা সব জরিপের গড় বলছে, বিজয়-এর দল ১৩ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে। কোনো কোনো জরিপে এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। তবে বিজয় শেষ পর্যন্ত ‘কিংমেকার’ বা সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠিও হয়ে উঠতে পারেন।

    অন্যদিকে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন ‘সেক্যুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স’ ১৩৭ থেকে ১৫০টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে নিয়েও পূর্বাভাসে ভিন্নতা রয়েছে। টাইমস নাউ-জেভিসি এবং স্পিক মিডিয়ার মতে, পালানিস্বামীর দল ১২৪ থেকে ১৪৭টি আসন পেয়ে সরাসরি ক্ষমতায় ফিরতে পারে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    টিভিকে-র ভোট ব্যাংক ও প্রভাব

    জরিপগুলোতে দেখা গেছে, বিজয়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। টিভিকে মূলত বিরোধী জোটের ভোট ব্যাংক, বিশেষ করে এআইএডিএমকে-র ভোটে ভাগ বসাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, টিভিকে-র সম্ভাব্য আসন জয়ে অবশ্য ভিন্নতা রয়েছে। পিপল ইনসাইটের জরিপে ৩০-৪০টি আসন, রিপাবলিক-পি মার্কের হিসাব অনুযায়ী ১৬-২৬টি আসন, এনডিটিভি-পিপলস পালসের জরিপ মতে ১৮-২৪টি আসন, ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার হিসাব মতে ৯৮-১২০টি আসন পেতে পারে অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। 

    নতুন রাজনীতির সূচনা 

    দুর্নীতি বিরোধী বার্তা, সুশাসন এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর ভিত্তি করে চালানো বিজয়ের হাই-ভোল্টেজ প্রচারণা তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। যদিও তামিলনাড়ুর জটিল জাতিগত সমীকরণ এবং প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর শক্ত কাঠামোর কারণে বিজয়ের আসন সংখ্যা ঠিক কত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবে এটি নিশ্চিত যে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক বয়ান বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। 

    নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, বিজয়ের এই রাজনৈতিক অভিষেক তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। চলচ্চিত্র জগত থেকে এসে তিনি কি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার সিংহাসন স্পর্শ করতে পারবেন, নাকি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন—তা জানতে এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ফলাফলের অপেক্ষা।

    সূত্র: ওয়ানইন্ডিয়া

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফুলের পাপড়ি ছুড়তেই ছুটে পালালেন বিজয়, হাসির রোল নেটদুনিয়ায়

    সম্প্রতি দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়কে ঘিরে এক মজার কাণ্ড ঘটে গেল রাস্তার মাঝখানে। নিজের সিনেমার প্রচার বা হয়তো কোনো কর্মসূচির জন্য সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই এক অতি-উৎসাহী ভক্ত তার ওপর একরাশ ফুলের পাপড়ি ছুড়ে মারেন। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। যে কিনা পর্দায় একাই একশ গুণ্ডাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারেন, সে কিনা বাস্তবে একমুঠো ফুলের পাপড়িই যে তাকে এভাবে নাজেহাল করে ছাড়বে, তা কে জানত।

    এমনিতেই থালাপতি বিজয় তার শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত। তবে এই সাইকেল সফরের মাঝপথে ঘটা ছোট্ট দুর্ঘটনাটি যে তাকে এভাবে খবরের শিরোনামে নিয়ে আসবে, তা সম্ভবত তিনি নিজেও কল্পনাও করেননি। এর আগে বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং যেমন কোনো কথা না বলে ধ্রুব রাঠীকে বিঁধেছিলেন, ঠিক তেমনি এ অভিনেতাও যেন কোনো কথা না বলে স্রেফ নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়ে নেটপাড়া মাতিয়ে দিলেন।

    সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, থালাপতি বিজয় বেশ মনোযোগ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পাপড়িগুলো তার মুখের সামনে আসতেই তিনি থতমত খেয়ে যান। ব্যালেন্স সামলাতে গিয়ে তার চোখেমুখে যে আতঙ্কের ছাপ ফুটে ওঠে, তা ফ্রেমবন্দি হতেই মিমারদের পোয়াবারো। 

    ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে ট্রলিং আর মিমের বন্যা। ভক্তদের একাংশ যখন এই ভালোবাসার বহির্প্রকাশ দেখে মুগ্ধ, তখন নেটিজেনরা রসিকতা করে বলছেন— ‘ভাই, এটা ফুলের পাপড়ি ছিল, বোমা নয়!’ আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘বিজয় ভাবছিলেন হয়তো কোনো শত্রু আক্রমণ করল!’ 

    সাইকেলের প্যাডেল আর পাপড়ির এই যুগলবন্দিকে হরেক রকমের মজার ক্যাপশনে ভরিয়ে দিয়েছেন। বিজয়ের সেই মুহূর্তের ‘প্যানিক ফেস’ বা আতঙ্কিত মুখভঙ্গি এখন স্টিকার আর জিআইএফ হিসেবে স্মার্টফোনে ফোনে ঘুরছে।

    উল্লেখ্য, অভিনেতা থালাপতি বিজয় এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। আসন্ন তামিলনাড়ু নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্রি কড়গম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’ এখনো মুক্তি পায়নি। যদিও সিনেমাটি অন্তর্জালে লিক হয়ে গেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ৪০০ কোটির ফিক্সড ডিপোজিট বিজয়ের, কত সম্পত্তির মালিক অভিনেতা?

    দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয় অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। জনপ্রিয় এর মধ্যেই এ অভিনেতা রাজনীতির ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন-২০২৬ সামনে রেখে তিনি এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিজয়।

    প্রার্থীর হলফনামা তথ্যানুযায়ী, থালাপতি বিজয়ের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০৪.৫৮ কোটি রুপি। ৪০০ কোটি রুপির ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে তার। শুধু সম্পদ নয়, অন্যদের ব্যক্তিগত ঋণ দিয়েছেন তিনি। মোট ৭৬ কোটি টাকা তিনি ঋণ হিসেবে দিয়েছেন তার নিকটাত্মীয়দের। এ ঋণের তালিকায় আছেন— তার বাবা এসএ চন্দ্রশেখর, মা শোভা চন্দ্রশেখর, স্ত্রী ও সন্তানরাও।

    স্থাবর সম্পত্তির দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তার নামে রয়েছে একাধিক বাড়ি—নীলঙ্করাই, উরুর, মইলাপুর, পল্লীপাট্টু, পদুর, কোরাট্টুর, সলিগ্রাম ও শোলিঙ্গানাল্লুসহ বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে সংগীতার নামে রয়েছে সোনা, রুপা ও হীরার গহনা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫.৫১ কোটি রুপি।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামায় আরও উঠে এসেছে তার মোট সম্পদ ও পারিবারিক আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য। সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই পরিষ্কার—২০২৬ সালে দেশের ধনী অভিনেতা-রাজনীতিকদের তালিকায় শীর্ষস্থানেই আছেন থালাপতি বিজয়।

    হলফনামা অনুসারে বিজয়ের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০৪.৫৮ কোটি রুপি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার আয় হয়েছে প্রায় ১৮৪ কোটি রুপি। হাতে দুই লাখ রুপি থাকলেও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় ৩২০ কোটি রুপি। তার দুই সন্তান—জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা সাশার অ্যাকাউন্টে চার লাখ রুপি রয়েছে।

    অন্যদিকে তার স্ত্রী সংগীতা সোর্নালিঙ্গমের ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১০.৪৩ কোটি রুপি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • থালাপতি বিজয়কে সিবিআইয়ের তলব

    তামিল সিনেমার সুপারস্টার ও রাজনীতিবাদ থালাপতি বিজয়। রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর প্রধানও তিনি। গত বছর করুরে তার দলের জনসংযোগ কর্মসূচিতে পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় অভিনেতাকে তৃতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।

    তামিলনাড়ুর করুরে অনাকাঙিক্ষত এই ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। তারপর থেকেই এর বিস্তারিত তদন্ত চলমান। সংস্থা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিজয়কে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    এদিকে ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজির হওয়ার আগে বিজয় দুইটি বিষয় সংক্রান্ত অনুরোধ করেছেন—১৫ দিনের সময় বৃদ্ধি ও জিজ্ঞাসাবাদের স্থান পরিবর্তন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই অভিনেতাকে শুরুতে নয়াদিল্লিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ে ভীষণ ব্যস্ত সময পার করছেন তিনি। সক্রিয় প্রচারণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকছেন।

    তাই বিজয় সিবিআইকে চেন্নাই বা কাছাকাছি যেকোনো স্থানে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর ফলে তার রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার সময় ভ্রমণ জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।

    বিজয় তার চলমান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কারণে জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১৫ দিনের সময়ও চেয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত সিবিআই স্থান পরিবর্তন বা সময় বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি বলে জানা যায়।

    বিনোদন ডেস্ক