Tag: ঢালিউড

  • নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক শিল্পী ব্যবসায় যুক্ত। রেস্তোরাঁ, বিউটি পারলার এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্তর অনেকে। এবার ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখালেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

    ‘স্পিডটাচ অটোস’ নামে একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    নতুন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সামিরা খান মাহি বলেন, ‘আমার ভিশন, এনার্জি ও আইডিয়া দিয়ে এই কোম্পানির জার্নিতে অবদান রাখতে চাই। স্পিডটাচ অটোসের মাধ্যমে ব্র্যান্ড নিউ, রিকন্ডিশন্ড ও প্রি-ওউনড গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আরও ভালো মান, সঠিক মূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল মাহির। অভিনয়ের পাশাপাশি আরও দুটি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন এই অভিনেত্রী।

    মাহি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলাম। মূলত দুটি ভিন্ন ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি ব্যবসার কথা সবাইকে জানালাম। আশা করছি, শিগগির অন্যটির খবরও জানাতে পারব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তখন মনে হয়েছিল অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু করা উচিত। অভিনয় তো আমার আর্নিং সোর্সের জায়গা। সেখানে আমাকে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ, আমি সব কাজ করব না, গল্প ভালো লাগলেই করব। তাই রোজগারের জন্য আমাকে ভিন্ন কিছু ভাবতেই হবে। ভিন্ন আয়ের পথ থাকতে হবে। সে কারণেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    ঢালিউডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সিনেমায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তার মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের মান ধরে রাখতে হলে কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন চলচ্চিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে দেশীয় সিনেমার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও কারিগরি টিমের কাজের প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।

    অপু বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা টেকনিশিয়ান বা কারিগরি পারসন আছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। নাহলে আমরা বা আমাদের আগের-পরের শিল্পীরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। তাই সময়ের চাহিদা মেনে নিজেদের গড়ে তোলা ও আপডেট হওয়াটাও খুব জরুরি।’

    কাজের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত পরিকল্পনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যেসব টিম কাজ করছে, তারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রফেশনাল। প্রফেশনালিজম বলতে আমি এটাই বোঝাতে চাই যে কাজটাই করা হোক না কেন, সেখানে ডেডিকেশন থাকবে ১০০ পারসেন্ট, কোনো ছাড় থাকবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আগে অনেক সময় দেখা যেত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে লোকেশন বা অন্যান্য বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হতো। কিন্তু এখনকার নতুন টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনে কোনো আপস করে না। তাদের এই অদম্য মনোযোগই প্রমাণ করে তারা কতটা পেশাদার। সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে এই মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি দরকার।’

    তার কথায়, ‘স্বদেশি টিমের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সবসময়ই স্পেশাল। এখানে কাজের পাশাপাশি একটা আন্তরিকতা থাকে। আর একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে কাজের ভালো-মন্দ কিছুটা মূল্যায়ন করার জাজমেন্ট করার ক্ষমতা আমার তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই বলছি, আমাদের চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের এই নতুন ধারাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • পূজা চেরির হুঁশিয়ারি

    সম্প্রতি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বিয়ে নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও তার বিয়ের ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের পাশাপাশি বিয়ের তারিখ নিয়েও নানা দাবি করা হচ্ছে। এসব পোস্ট ঘিরে ভক্ত ও দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    বিভ্রান্তিকর খবরে চরম বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই চিত্রনায়িকা। সোমবার (১৭ আগস্ট) মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে অভিনেত্রী এ নিয়ে কড়া বার্তা দেন; পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।

    পূজা লিখেন, গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো অমুক পেশার কারো সঙ্গে, কখনো অন্য কারো সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ তৈরি করা হচ্ছে— যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।

    নিজের বাগদান ও বিয়ের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে পূজা বলেন, আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম— আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। আমি এটাও নিশ্চিত করেছিলাম— যে যখনই আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, আমি নিজেই তা প্রকাশ্যে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সবাইকে জানাব। লুকানোর কিছু নেই।

    বর্তমানে ক্যামেরার নেপথ্যে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, বর্তমানে আমি নিজেকে কিছুটা সময় দিচ্ছি, নতুন কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি এবং সেই কারণেই ক্যামেরার সামনে অনুপস্থিত।

    তিনি কড়া ভাষায় বলেন, কোনো তথ্য যাচাই না করে বারবার আমাকে জড়িয়ে এভাবে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করার পেছনে উদ্দেশ্য কী, তা আমার বোধগম্য নয়। বারবার বলতে চাই— আমার এখনও বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং কোনো নাগরিককে নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারা অনুযায়ী ইন্টারনেটে বা ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    সবশেষে পূজা লিখেন, আমি সবসময় আপনাদের ভালোবাসা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে সম্মান জানিয়ে এসেছি। কিন্তু আমার নীরবতাকে কেউ যদি ভিত্তিহীন সংবাদের সুযোগ বানিয়ে নেয়, তবে আমি নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় বাধ্য হব। আশা করি, সাংবাদিক ভাই-বোনেরা ও গণমাধ্যমকর্মীরা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করবেন এবং অসত্য নিউজ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • যেভাবে রিয়াজকে খুঁজে পেয়েছিলেন কিংবদন্তি জসিম

    ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে অ্যাকশনধর্মী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম। খলনায়ক হিসেবে সিনেমা জগতে অভিষেক হলেও পরবর্তী সময়ে নায়ক হিসেবেও তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। শুধু অভিনয় নয়, নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও ছিল তার আলাদা নজর। 

    ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান এ কিংবদন্তি অভিনেতা জসিম। তার মৃত্যুর পরও চলচ্চিত্রাঙ্গনে স্মৃতি ধরে রাখা হয়েছে। এফডিসির একটি ফ্লোর ‘জসিম ফ্লোর’ নামে পরিচিত। আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এ কিংবদন্তি অভিনেতা। 

    শুধু একজন জনপ্রিয় নায়ক হিসেবেই নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধাও— ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছিলেন তিনি।

    অ্যাকশন তারকা ও নতুন প্রতিভার আবিষ্কারক হিসেবেও স্মরণ করা হয় দুর্ধর্ষ খলঅভিনেতা জসিমকে। তার জীবনের অসংখ্য সাফল্যের গল্পের মধ্যে রিয়াজকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি যেন একটু আলাদা। কারণ একজন কিংবদন্তির চোখে সেদিন ধরা পড়েছিল আরেক ভবিষ্যৎ তারকার। আর সেই দেখাই বদলে দিয়েছিল রিয়াজের জীবন। তার আবিষ্কারক রিয়াজ আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম। আর তাই জসিমের জন্মদিনে তার অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ফিরে ফিরে আসে সেই গল্প, যেভাবে রিয়াজকে খুঁজে পেয়েছিলেন নায়ক জসিম। তার হাত ধরেই সিনেমা জগতে এসেছিলেন সময়ের আলোচিত অভিনেতা রিয়াজ।  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    প্রায় দুই দশকের চলচ্চিত্রজীবনে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন জসিম। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘রংবাজ’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘সবুজ সাথী’, ‘লাইলী মজনু’, ‘জনি’, ‘সারেন্ডার’, ‘লালু মাস্তান’, ‘মাস্তান রাজা’, ‘কালিয়া’, ‘স্বামী কেন আসামি’সহ আরও অনেক সিনেমা। 

    চলচ্চিত্রে জসিমের পথচলা সত্তরের দশকের শুরুতে। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু। পরের বছর ‘রংবাজ’ সিনেমায় অ্যাকশন পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান জসিম। ‘দোস্ত দুশমন’ ছিল ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা ‘শোলে’র আদলে নির্মিত। এতে জসিম অভিনয় করেছিলেন গাফফার চরিত্রে। তার অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে ‘শোলে’র গব্বর সিং চরিত্রে অভিনয় করা আমজাদ খানও জসিমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন বলে নানা প্রতিবেদনে উঠে আসে।

    তবে খলনায়ক হিসেবেই থেমে থাকেননি জসিম। ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর একের পর এক অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন দর্শকদের প্রিয় নায়ক। আশির দশকে শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে তার জুটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সিনেমায় তার চরিত্র দর্শকদের মনে গভীর দাগ কাটে। ব্যক্তিজীবনেও জসিম ছিলেন আলোচিত। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী সুচরিতা। পরে নাসরিনকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের তিন ছেলে রাতুল, রাহুল ও সামি। তিনজনই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত।

    এদিকে রিয়াজ তখনো চলচ্চিত্রের মানুষ নন। বিমানবাহিনীতে বিমানচালক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চাকরি হারিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। তার চাচাতো বোন ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতা। একদিন ববিতার সঙ্গে এফডিসিতে গিয়েছিলেন রিয়াজ। আর সেখানেই তার দিকে চোখ পড়ে জসিমের। ১৯৯৪ সালের সেই ঘটনা বদলে দেয় রিয়াজের জীবন। সুদর্শন তরুণ রিয়াজকে দেখে তার মনে হয়, তাকে চলচ্চিত্রে নেওয়া যেতে পারে। তিনি রিয়াজকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। তখন অভিনয় সম্পর্কে রিয়াজের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। জসিমের প্রস্তাবের পাশাপাশি ববিতার উৎসাহও তাকে চলচ্চিত্রে আসার সাহস জোগায়।

    পরের বছরই জসিমের সঙ্গে ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান রিয়াজ। মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমাটিতে জসিম অভিনয় করেছিলেন ডন চরিত্রে। শাবানা ছিলেন রোকেয়া আর রিয়াজ অভিনয় করেন মুন্না চরিত্রে। সেই সিনেমাটিই হয়ে ওঠে রিয়াজের চলচ্চিত্রে অভিষেক। শুধু অভিনয়ের সুযোগ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি জসিম।  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    নবাগত রিয়াজকে অভিনয় ও অ্যাকশনের নানা কৌশলও শেখান তিনি। পরে জসিমকে স্মরণ করে রিয়াজ বলেছিলেন— এফডিসিতে জসিমের শুটিং চলার সময় তিনি ফাইট প্র্যাকটিস করতেন। এমনও হয়েছে, নিজের শুটিং রেখেও জসিম তাকে ফাইট শিখিয়েছেন।

    রিয়াজ আরও বলেন, জসিমের কারণেই তিনি নায়ক রিয়াজ হয়ে উঠতে পেরেছেন। অর্থাৎ জসিমের জীবনে রিয়াজকে আবিষ্কারের ঘটনাটি ছিল শুধু একজন নবাগতকে সুযোগ দেওয়ার বিষয় নয়; পরবর্তী সময়ে সেটি হয়ে ওঠে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।

    ‘বাংলার নায়ক’র পর অবশ্য নিজের জায়গা তৈরি করতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি রিয়াজকে। পরে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’সহ একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু তার সেই দীর্ঘ চলচ্চিত্রযাত্রার প্রথম দরজাটি খুলে দিয়েছিলেন জসিমই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • যেভাবে নায়ক রিয়াজকে খুঁজে পেয়েছিলেন কিংবদন্তি জসিম

    ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে অ্যাকশনধর্মী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম। খলনায়ক হিসেবে সিনেমা জগতে অভিষেক হলেও পরবর্তী সময়ে নায়ক হিসেবেও তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। শুধু অভিনয় নয়, নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও ছিল তার আলাদা নজর। 

    ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান এ কিংবদন্তি অভিনেতা জসিম। তার মৃত্যুর পরও চলচ্চিত্রাঙ্গনে স্মৃতি ধরে রাখা হয়েছে। এফডিসির একটি ফ্লোর ‘জসিম ফ্লোর’ নামে পরিচিত। আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এ কিংবদন্তি অভিনেতা। 

    শুধু একজন জনপ্রিয় নায়ক হিসেবেই নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধাও— ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছিলেন তিনি।

    অ্যাকশন তারকা ও নতুন প্রতিভার আবিষ্কারক হিসেবেও স্মরণ করা হয় দুর্ধর্ষ খলঅভিনেতা জসিমকে। তার জীবনের অসংখ্য সাফল্যের গল্পের মধ্যে রিয়াজকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি যেন একটু আলাদা। কারণ একজন কিংবদন্তির চোখে সেদিন ধরা পড়েছিল আরেক ভবিষ্যৎ তারকার। আর সেই দেখাই বদলে দিয়েছিল রিয়াজের জীবন। তার আবিষ্কারক রিয়াজ আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম। আর তাই জসিমের জন্মদিনে তার অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ফিরে ফিরে আসে সেই গল্প, যেভাবে রিয়াজকে খুঁজে পেয়েছিলেন নায়ক জসিম। তার হাত ধরেই সিনেমা জগতে এসেছিলেন সময়ের আলোচিত অভিনেতা রিয়াজ। 

    প্রায় দুই দশকের চলচ্চিত্রজীবনে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন জসিম। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘রংবাজ’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘সবুজ সাথী’, ‘লাইলী মজনু’, ‘জনি’, ‘সারেন্ডার’, ‘লালু মাস্তান’, ‘মাস্তান রাজা’, ‘কালিয়া’, ‘স্বামী কেন আসামি’সহ আরও অনেক সিনেমা। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    চলচ্চিত্রে জসিমের পথচলা সত্তরের দশকের শুরুতে। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু। পরের বছর ‘রংবাজ’ সিনেমায় অ্যাকশন পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান জসিম। ‘দোস্ত দুশমন’ ছিল ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা ‘শোলে’র আদলে নির্মিত। এতে জসিম অভিনয় করেছিলেন গাফফার চরিত্রে। তার অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে ‘শোলে’র গব্বর সিং চরিত্রে অভিনয় করা আমজাদ খানও জসিমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন বলে নানা প্রতিবেদনে উঠে আসে।

    তবে খলনায়ক হিসেবেই থেমে থাকেননি জসিম। ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর একের পর এক অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন দর্শকদের প্রিয় নায়ক। আশির দশকে শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে তার জুটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সিনেমায় তার চরিত্র দর্শকদের মনে গভীর দাগ কাটে। ব্যক্তিজীবনেও জসিম ছিলেন আলোচিত। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী সুচরিতা। পরে নাসরিনকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের তিন ছেলে রাতুল, রাহুল ও সামি। তিনজনই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত।

    এদিকে রিয়াজ তখনো চলচ্চিত্রের মানুষ নন। বিমানবাহিনীতে বিমানচালক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চাকরি হারিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। তার চাচাতো বোন ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতা। একদিন ববিতার সঙ্গে এফডিসিতে গিয়েছিলেন রিয়াজ। আর সেখানেই তার দিকে চোখ পড়ে জসিমের। ১৯৯৪ সালের সেই ঘটনা বদলে দেয় রিয়াজের জীবন। সুদর্শন তরুণ রিয়াজকে দেখে তার মনে হয়, তাকে চলচ্চিত্রে নেওয়া যেতে পারে। তিনি রিয়াজকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। তখন অভিনয় সম্পর্কে রিয়াজের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। জসিমের প্রস্তাবের পাশাপাশি ববিতার উৎসাহও তাকে চলচ্চিত্রে আসার সাহস জোগায়।

    পরের বছরই জসিমের সঙ্গে ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান রিয়াজ। মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমাটিতে জসিম অভিনয় করেছিলেন ডন চরিত্রে। শাবানা ছিলেন রোকেয়া আর রিয়াজ অভিনয় করেন মুন্না চরিত্রে। সেই সিনেমাটিই হয়ে ওঠে রিয়াজের চলচ্চিত্রে অভিষেক। শুধু অভিনয়ের সুযোগ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি জসিম। 

    নবাগত রিয়াজকে অভিনয় ও অ্যাকশনের নানা কৌশলও শেখান তিনি। পরে জসিমকে স্মরণ করে রিয়াজ বলেছিলেন— এফডিসিতে জসিমের শুটিং চলার সময় তিনি ফাইট প্র্যাকটিস করতেন। এমনও হয়েছে, নিজের শুটিং রেখেও জসিম তাকে ফাইট শিখিয়েছেন।

    রিয়াজ আরও বলেন, জসিমের কারণেই তিনি নায়ক রিয়াজ হয়ে উঠতে পেরেছেন। অর্থাৎ জসিমের জীবনে রিয়াজকে আবিষ্কারের ঘটনাটি ছিল শুধু একজন নবাগতকে সুযোগ দেওয়ার বিষয় নয়; পরবর্তী সময়ে সেটি হয়ে ওঠে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।

    ‘বাংলার নায়ক’র পর অবশ্য নিজের জায়গা তৈরি করতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি রিয়াজকে। পরে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’সহ একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু তার সেই দীর্ঘ চলচ্চিত্রযাত্রার প্রথম দরজাটি খুলে দিয়েছিলেন জসিমই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তানজিন তিশার জামিন শুনানিতে যা হলো

    বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আত্মসমর্পণ পূর্বক আবেদনের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দেন।

    এদিন ঢাকার সিএমএম আদালতে তানজিন তিশা আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

    শুনানিতে তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বলেন, তানজিন তিশা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ জন্য আদালতে এসেছেন। বাদীর ‘অ্যাপোনিয়া’ পেজে শাড়ি দেখে কিনতে আগ্রহী ছিলেন। তখন বাদীপক্ষ তিশাকে বলেন, আমরা একটি শাড়ি দিচ্ছি। আমাদের পেজ মেনশন দিয়ে পোস্ট দিয়েন। 

    তানজিন তিশা তখন বলেন, ‘ঠিক আছে। শাড়ি পাঠান। আমি পেজে আপলোড দেব।’ তিনি ভিডিও আপলোডও করেছেন। পিকচারও আপলোড করবেন বলেছিলেন। এরই মধ্যে বাদী মামলা করে দিয়েছেন কোর্টে। 

    আইনজীবী আরও বলেন, ‘তিশা খুবই ফেমাস একজন অভিনেত্রী। সামনে একটা বড় পর্দার সিনেমা হাতে নিয়েছেন। তাকে জামিন দেন।’

    এ সময় পেজ থেকে নেওয়া সেই শাড়ি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান আসামিপক্ষের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, এই দেখেন সেই শাড়ি। আসামি শাড়ির ভাজও ভাঙেননি।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল শুনানিতে বলেন, একটু আগে বলা হলো শাড়ি পরে ভিডিও আপলোড করেছেন তানজিন তিশা। এখন বলা হচ্ছে, শাড়ির ভাজ ভাঙা হয়নি। শাড়ির ভাজ না ভাঙলে বা প্যাকেট থেকে না খুললে, ভিডিও করল কীভাবে ?

    আইনজীবী আরও বলেন, এমনি এমনি মামলা হয়নি। আগে আসামিকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশ বার বার ডাকলেও তানজিন তিশা হাজির হননি। তিনি প্রতারণা করেছেন। মামলাটি জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। অভিনেত্রীদের জন্যও সমান। তাকে জেল-হাজতে আটক রাখার আবেদন করছি।

    জানা গেছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি সংগ্রহ করেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা চালানো এবং মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • জোভান ও তানজিন তিশার ‘প্রতিশোধ’

    বিনোদন জগতে একসময়ে ছোটপর্দার জনপ্রিয় জুটি ছিলেন অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান ও অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন— ‘আই হেট লাভ স্টোরি’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘কি করে বলব তোকে’, ‘কাপল ক্যাম্পাস’সহ আরও অনেক নাটকে। তাদের জুটি হয়ে একসঙ্গে কাজ  ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার নতুন নাটক ‘প্রতিশোধ’ -এ জুটি হয়ে কাজে  ফিরলেন এ তারকা জুটি।

    জোভান ও তানজিন তিশা একই সময়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তারা নিজেরাই একসময় একসঙ্গে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা জোভান বলেন, ‘অনেক দিন পর আমাদের কাজ। এর শুটিং করেছিলাম ঈদের আগে।’

    ‘প্রতিশোধ’ নাটকের গল্পে ভিন্নতা রয়েছে। এ নাটকে দেখা যাবে, বিদেশে পড়াশোনা শেষে এক বছর চাকরি করে দেশে আসে এক তরুণ। দেশে এসে একটি প্রতিষ্ঠানে সিইও পদে চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের আগেই নানা রকম অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। তেমন কিছু প্রসঙ্গ এতে রয়েছে। তার পরের গল্প ক্যারিয়ার নিয়ে ভিন্ন এক প্রতিশোধের কাহিনি। এর মধ্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে সচেতনতার বার্তা। 

    নাটকটি পরিচালনা করেছেন মাহমুদ মহিন। আরও অভিনয় করেছেন আরেফিন জিলানী, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, বড়দা মিঠু। এটি লিখেছেন শাহজাহান সৌরভ ও মাহমুদ মহিন। 

    ‘প্রতিশোধ’ নাটকটি সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে। নাটকটির প্রকাশের পরপরই ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। এ নিয়ে রুদ্র নামে এক দর্শক লিখেছেন— ‘অনেক আগে থেকে তিভানদের সব নাটক দেখি। পুরোনো জুটির মধ্যে তাদের দুর্দান্ত লাগে। এ জুটির রসায়নে আলাদা একটা আকর্ষণ আছে, এক ধরনের মায়া আছে। দুজনেই একসঙ্গে অসাধারণ কিছু হয়ে যায়। আচ্ছা, কেন এই জুটির কাজ কম আসে, নিয়মিত কাজ আসে না? এ জুটির বেশি বেশি কাজ আসা উচিত।’

    তোফাজ্জল হোসেন নামে এক দর্শক লিখেছেন— ‘অনেক দিন পর জোভান–তানজিন তিশা জুটির নতুন নাটক দেখলাম। এ জুটির অন স্ক্রিন কেমিস্ট্রিতে মুগ্ধ। গল্প যেমনই হোক না কেন, দুজনের ন্যাচারাল অভিনয়, বোঝাপড়া দারুণ হয় বলেই জুটির রসায়ন এত ভালো জমে ওঠে। এ কারণে তাদের নাটক মিস করি। তাদের আবার নিয়মিত হওয়া উচিত।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনয় থেকে কি একেবারেই সরে দাঁড়াচ্ছেন হাসান মাসুদ?

    জনপ্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদ হজ করে আসার পর দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে আছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন— আপাতত অভিনয় করছেন না। তিনি ধর্মকর্মেই মনোযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি এমন মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

    হাসান মাসুদের সেই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে অনেক বিতর্ক ওঠে। অনেকে আবার প্রশ্ন তোলেন— তাহলে কি অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াচ্ছেন হাসান মাসুদ? অবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন এ অভিনেতা। তিনি বলেন, অভিনয় ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। বরং তার বক্তব্য ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে।

    হজ করে দেশে ফেরার পর এরই মধ্যে দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছেন বলেও জানান হাসান মাসুদ। পছন্দসই গল্প ও কাজের প্রস্তাব পেলে ভবিষ্যতেও অভিনয় করবেন তিনি। একসময়ের জনপ্রিয় এ অভিনেতার অভিনয়জীবনের শুরু অবশ্য অন্যভাবে। সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। পরে অবসর নিয়ে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন।

    ২০০৩ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এ অভিনেতার। এরপর নাটকেও নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন হাসান মাসুদ। ‘হাউসফুল’, ‘এফডিসি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’, ‘খুনসুটি’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি গানও করেছেন হাসান মাসুদ। ২০০৬ সালে প্রকাশ করা হয় তার গানের অ্যালবাম।

    সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসান মাসুদ বলেন, ‘ওই কথাটা বলা আমার ভুল হয়েছে। আমি বলেছিলাম— দুই বছর ধরে অভিনয় করছি না, এবং মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছি। এ মুহূর্তে ভালো কনটেন্টও তেমন নেই। কিন্তু আমি কখনো বলিনি যে, আর অভিনয় করব না।

    এ অভিনেতা বলেন, তবে ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে এখনো অভিনয়ে ফিরতে  চান তিনি। ধর্মচর্চার সঙ্গে অভিনয়কে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করেন না হাসান মাসুদ। তিনি  বলেন, আপনি ধর্ম পালন করতে পারেন, আবার শুটিং সেটেও নামাজ পড়তে পারেন।

    গত চার-পাঁচ বছরে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা সবাই জানেন যে আমি ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ পড়ি। শুটিংয়ের সময় সবাই আমাকে নামাজ পড়ার জন্য বিরতি দিতেন। আমি চেষ্টা করতাম ওই সময়ে যেন আমার কোনো দৃশ্যের শুটিং না থাকে। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে পরিচালকরাই বলতেন— বিরতির সময় হয়েছে হাসান ভাই। যান নামাজ পড়ে আসেন। এভাবেই চলত।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে নাও, কেন প্রেমিককে এমন পরামর্শ দেন হিনা খান

    অভিনেত্রী হিনা খান এবং ব্যবসায়ী, প্রযোজক ও পরিচালক রকি জয়সওয়াল দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী ও স্বামী-স্ত্রী। স্টার প্লাসের বিখ্যাত ধারাবাহিক ‘ইয়ে রিশতা কেয়া কেহলাতা হ্যায়’-এর সেটে তাদের পরিচয় ও প্রেম হয় এবং দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর সম্পর্কের পর তারা ২০২৫ সালের জুন মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। 

    ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে সারার পরেই অবশ্য তাদের নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে ‘পতি, পত্নী অউর পঙ্গা’ রিয়্যালিটি শোয়ে তারা একসঙ্গে আসার পর অনেকে দাবি করেছিলেন, শোর প্রচারের জন্যই নাকি বিয়ে করেছিলেন তারা। সম্প্রতি নিজের পডকাস্টে সেই জল্পনার জবাব দিলেন হিনা ও রকি।

    তবে বিয়ের সঙ্গে কোনো প্রচার কৌশলের সম্পর্ক নেই বলে জানান হিনা খান। বিগ বস ১১-এ দ্বিতীয় স্থানের অধিকার এ প্রতিযোগী অভিনেত্রী বলেন, আমরা জানি, সত্যিটা কী। কেউ যদি সব কিছু প্রচারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখে, তাহলে আসল কারণটাই হারিয়ে যায়। 

    বিয়ের পরিকল্পনা হয়েছিল অনেক আগেই। এমনকি বিয়ের দিনক্ষণও আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। তাদের বিয়ে হয়েছে ‘স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’-এর অধীনে। তাই হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও ছিল না বলে জানান এ অভিনেত্রী।

    তবে জীবনের অন্যতম কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন হিনা খান। স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। সেই সময়ে তাদের সম্পর্কেরও কঠিন পরীক্ষা হয়েছিল। হিনা বলেন, শুধু তার নিজের অসুস্থতা নয়, রকির মায়ের অসুস্থতাও তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সেই কঠিন সময়ে রকিকে অন্য কাউকে বিয়ে করার কথাও বলেছিলেন হিনা খান। অভিনেত্রী বলেন,  আমি ওকে বলেছিলাম— তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে নাও। সব কিছু আর আগের মতো থাকবে না।

    কেন এমন কথা বলেছিলেন অভিনেত্রী? উত্তরে তিনি বলেন, চেয়েছিলেন রকি যেন নিজের সুখের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমি ওকে এতটাই ভালবাসি যে, ওর সুখ আমার সঙ্গে থাকার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে রকি তার পাশ থেকে সরে যাননি বলেও জানান এ অভিনেত্রী। বরং হিনা খানের কঠিন চিকিৎসার সময়ে প্রতিটি পরিস্থিতিতে সঙ্গ দিয়েছেন। তিনি বলেন, রকি ছাড়া আমার পক্ষে এত কিছু করা সম্ভব হতো না। ও সব কিছু সহজ করে দিয়েছিল।

    উল্লেখ্য, স্টার প্লাসে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ইয়ে রিশতা কেয়া কেহলাতা হ্যায়ে অক্ষরা চরিত্রে অভিনয় করে ভারতীয় টেলিভিশন অ্যাকাডেমি পুরস্কার ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারসহ প্রায় ১৮টির মতো পুরস্কার জয়লাভ করেছেন হিনা খান। তিনি ইস্টার্ন আই দ্বারা প্রকাশিত শীর্ষ ৫০ আবেদনময়ী এশিয়ান নারীর তালিকায় চারবার উপস্থিত হন। ২০১৭ সালে কালারসে প্রচারিত জনপ্রিয় রিয়্যালিটি অনুষ্ঠান বিগ বস ১১-এ একজন প্রতিযোগী হিসেবে উপস্থিত হন। যেখানে তিনি ২য় স্থান অধিকার করেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তারা দুজন আমার লাইফের পার্ট: শাকিব খান

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খানকে নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে আলোচনার শেষ নেই। বিশেষ করে তার ব্যক্তিগত জীবন সবসময় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতে থাকা এক ‘অপূর্ণ প্রেম’-এর গল্প শোনান তিনি। জানালেন অতীতে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কিছুই ঘটেছে, যা নাকি ছিল তার সম্পূর্ণ ‘ভুল’।  

    সেই সাক্ষাৎকারে দুই যুগের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন এবং চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন শাকিব খান। অতীতের ভুলগুলো নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও সেই ভুলগুলো আদতে কি, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি এ ঢালিউড কিং খান।

    ব্যক্তিজীবনে কোনো ভুল করেছেন কিনা?—এমন প্রশ্নের উত্তরে জীবনে অনেক ভুল করেছেন জানিয়ে শাকিব খান বলেন, অনেক ভুল করেছি। অনেক সময় মনে হয়, এমন ভুল না করলেও পারতাম। অনেক কথা আমি বলার আগেই মানুষ জেনে যায়। আমার বলা পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে হয় না। যতটুকু বলার বলছি, অনেক সময় পেছন ফিরে তাকালে আফসোস লাগে বলে জানান এ অভিনেতা।

    তিনি বলেন, সেই ভুলগুলো না হলে ব্যাপারটা এখন হয়তো আরও স্মুথ হতে পারত। আসলে ভুল আমাদের প্রত্যেক মানুষেরই হয়।

    শাকিব খান বলেন, নিভৃতে যখন নিজের সঙ্গে বসি, তখন সেই হিসাব-নিকাশগুলো আমাকে পীড়া দেয়। কিন্তু কি আর করব, অনেক কিছু চাইলেও তো চেঞ্জ করা সম্ভব না, হাতে নেই আমাদের। তিনি বলেন, যখন জেনে যাই এটা ভুল, তখন জেনেশুনে সেটা আর করা যায় না, আর সম্ভাবনা নেই।

    শাকিব খানের দুই স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীকে নিয়েও প্রশ্ন করেন সঞ্চালক। উত্তরে কিং খান বলেন, তারা দুজন আমার লাইফের পার্ট। তবে আমি কিছু বলতে চাই না তাদের নিয়ে। আমি বিষয়গুলো নিজের মধ্যেই রাখি। তাদের সতর্ক করা হয় কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিব খান বলেন, তাদের সঙ্গে দেখা হলে মাঝে মাঝে বলি।

    কিং খান বলেন, আজকাল কোনো ঘটনা ঘটার আগেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় আজব সব ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়, যার সঙ্গে বাস্তবে তার কোনো সম্পর্কই নেই। এসব অতিরঞ্জিত প্রচারের কারণেই তিনি এখন অনেকটা অন্তর্মুখী হয়ে গেছেন বলেও জানান শাকিব খান।

    উল্লেখ্য, ‘সোলজার’ সিনেমা নিয়ে শাকিব খান। আগামী অক্টোবরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে সিনেমাটি। 

    বিনোদন ডেস্ক