Tag: গান

  • ঢাকায় অনুপম রায়ের কনসার্ট আবারও স্থগিত

    কলকাতার শিল্পী অনুপম রায়ের সমস্ত আয়োজন ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে এসে থামতে হলো আয়োজকদের। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে হঠাৎ করেই স্থগিত হয়ে গেল ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড উইথ অনুপম রায়’ কনসার্টটি।

    বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন জানিয়েছে, কনসার্টটি আবারও স্থগিত করা হয়েছে।

    ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, ‘অনুষ্ঠানটি আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন করে। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে সকল প্রস্তুতি ও অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরও অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে কনসার্টটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরও লেখা হয়, ‘এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে হাজারো সংগীতপ্রেমী, টিকিটধারী, শিল্পী, স্পনসর, অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তবু আয়োজক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে তা সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করছে।’

    সব টিকিটধারীকে তাঁদের কেনা টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য অফিশিয়াল টিকেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ইরানে হামলার ভিডিওতে নিজের গানে ক্ষুব্ধ কেটি পেরি, বললেন—‘আমি এর অনুমতি দিইনি’

    ইরানের ওপর সামরিক হামলার দৃশ্য সংবলিত একটি ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া নিজের জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পপ তারকা কেটি পেরি।

    সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেরি লিখেন, ‘আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত… আমি এর অনুমতি দিইনি, আমার কাছে জানতেও চাওয়া হয়নি এবং আমি কোনোভাবেই এটিকে সমর্থন করি না।’ 

    তিনি আরও বলেন, ‘আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণার একটি বার্তাকে ধ্বংস ও সহিংসতার কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখাটা আমার গানের মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।’

    হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওটিতে সামরিক হামলার দৃশ্যের নেপথ্যে পেরির ওই গানটি বাজানো হয়। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইরানকে সতর্ক করা হলো’। 

    উল্লেখ্য, বিলবোর্ড হট ১০০-এর তালিকায় শীর্ষে থাকা গায়িকার ৯টি গানের মধ্যে এটি অন্যতম।

    ২০২৩ সালে কার্লাইল গ্রুপ ইনকরপোরেটেড-সমর্থিত লিটমাস মিউজিকে নিজের সবচেয়ে সফল পাঁচটি অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনাস্বত্ব বিক্রি করে দেন পেরি। এর মধ্যে ‘টিনেজ ড্রিম’ অ্যালবামটিও ছিল, যার অন্যতম একটি গান হলো ‘ফায়ারওয়ার্ক’। বিলবোর্ডের তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির অর্থমূল্য ছিল ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এই মার্কিন তারকা সবসময়ই ডেমোক্রেটিক দলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা খোলাখুলি প্রকাশ করে এসেছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন, ২০২০ সালে জো বাইডেন এবং ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বর্তমানে তিনি কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রেম করছেন বলে জানা গেছে।

    বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অনুমতি ছাড়াই নিজেদের শিল্পকর্ম বা সংগীত ব্যবহার করার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করা শিল্পীদের দীর্ঘ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলেন কেটি পেরি। নিজেদের আদর্শের সঙ্গে মেলে না, এমন কাজে অনুমতি ছাড়া গান বা শিল্পকর্ম ব্যবহারের প্রতিবাদ এর আগে করেছিলেন অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কারপেন্টার এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ বইয়ের সিরিজ ‘ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টল’-এর প্রকাশক কিডস ক্যান প্রেস।

    এর বাইরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে নিজেদের গান বাজানোর তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন, নিল ইয়াং, অ্যাডেল এবং রিহানার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

    সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গাইবেন কনা

    জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কনসার্টের উদ্দেশে আমেরিকা ট্যুরে গেছেন। তবে কবে, কোথায় গাইবেন, সেসব না জানিয়ে পাড়ি জমান সাতসমুদ্দর তেরো নদীর ওপারে। রেখেছিলেন গোপন। শনিবার সেটি প্রকাশ করলেন। কনা জানান, তার এই ট্যুর আয়োজন করছে দেশি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট।

    একটি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গান গাইবেন গায়িকা কনা। যেসব শহরে গাইবেন, তার মধ্যে রয়েছে— ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, আটলান্টিক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসে, ওকলোহামা সিটি, ডালাস, হিউস্টন, শিকাগো, বস্টন, অরল্যান্ডো, ওয়াশিংটন ডিসি, মিয়ামি, আটলান্টা, আবেয়া, অ্যারিজোনা ও নিউইয়র্ক। তার এ কনসার্ট ট্যুর শুরু হচ্ছে ২৫ জুলাই থেকে। আর শেষ হবে আগামী ৩ অক্টোবর। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি দেশটির বিভিন্ন শহরে গান শোনাবেন। দেশের শিল্পীদের মধ্যে এটা অন্যতম দীর্ঘ সংগীত সফর বটে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আমেরিকা যাওয়ার সামাজিক মাধ্যমে এ সংগীতশিল্পী ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে কনা  লিখেছেন— ‘প্রিয় আমেরিকাবাসী, আমি আসছি তোমাদের শহরে। চলো, একসঙ্গে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপভোগ করি।’ 

    এর আগে কনার সর্বশেষ গান প্রকাশ হয়েছে ১১ জুলাই সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে— ‘তোমার হতে চাই’ গানটি। রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় গানটির সুর ও সংগীত করেছেন সজীব দাস। গানে কনার সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছেনও সজীব। এটি ব্যবহৃত হয়েছে রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক ‘ভালোবাসার গল্প’তে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বন্যার্তদের সহায়তায় আজ গান গাইবেন রুনা লায়লা

    দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক কাজ শেষে দেশে ফিরেছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। দেশে ফিরেই মানবিক এক উদ্যোগের অংশ হচ্ছেন তিনি। 

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে তার বহুল প্রতীক্ষিত একক সংগীতানুষ্ঠান। এই আয়োজন থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হবে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায়।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে, যা বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। এ কারণেই সংগীতানুষ্ঠানটি শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, মানবিক উদ্যোগ হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

    ছয় দশকেরও বেশি সময়ের গৌরবময় সংগীতজীবনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চে গান গাইলেও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এটিই হতে যাচ্ছে রুনা লায়লার প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে তিনি তার ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনের বিভিন্ন সময়ের শ্রোতাপ্রিয় ও কালজয়ী ১০টি গান পরিবেশন করবেন। একই অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননায়ও ভূষিত করা হবে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আয়োজনটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, আমাদের সংগীতের দীর্ঘ পথচলা, গান ও স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। শ্রোতাদের প্রিয় কিছু গান পরিবেশনের চেষ্টা থাকবে। ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে ২-৩ বারের বেশি গাওয়া হয়নি। তবে একক গানের অনুষ্ঠান এবারই প্রথম। আশা করি, শ্রোতাদের সঙ্গে সুন্দর ও স্মরণীয় একটি সন্ধ্যা কাটবে।

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এমন বিশেষ সম্মাননা আয়োজন নতুন নয়। এর আগে একই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকেও সম্মাননা জানানো হয়েছিল।

    বিনোদন ডেস্ক

  • লন্ডনে পিটবুলের কনসার্টে গিনেস রেকর্ড, ২২ হাজার দর্শক পরলেন ‘টাক টুপি’

    ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরমে মাথায় আঁটসাঁট প্লাস্টিকের টুপি পরা খুব একটা আরামদায়ক বিষয় নয়। তবু লন্ডনের হাইড পার্কে ২২ হাজার ১৪১ জন মানুষ ঠিক এই কাজটিই করেছেন। পরনে ছিল সাদা শার্ট, কালো টাই এবং এভিয়েটর রোদচশমা। বিএসটি ফেস্টিভ্যালের মূল আকর্ষণ র‍্যাপার পিটবুলকে সম্মান জানাতে এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের টাক টুপি পরার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়তেই তাদের এই অদ্ভুত আয়োজন।

    কালো স্যুট পরে রেকর্ড ভাঙার এই স্বীকৃতি গ্রহণ করার সময় এই র‍্যাপার বলেন, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কে ভেবেছিল প্রথম প্রজন্মের একজন কিউবান এভাবে রেকর্ড ভাঙবে এবং গড়বে?

    পিটবুল নিজেও টাক মাথার অধিকারী, কিন্তু রেকর্ডের অংশ হতে তাকেও একটি ‘টাক টুপি’ পরতে হয়েছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিশিয়াল বিচারক উইল মুনফোর্ডের মতে, এটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক টাক মানুষের সমাবেশের কোনো রেকর্ড ছিল না। তাই ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ (র‍্যাপারের ডাকনাম) হিসেবে পরিচিত পিটবুলকেও রেকর্ডভুক্ত হতে এই টুপি পরতে হয়েছে।

    মুনফোর্ড জানান, সঠিক ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রবেশদ্বার ও অনুষ্ঠানস্থলে ৪০০ জন স্বেচ্ছাসেবক ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে চেক করেছেন এবং ব্যাকস্টেজে ৪২ জন গণনাকারীর সাহায্যে ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    কনসার্টের আগে এই টুপির চাহিদা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, অনেকেই শেষ মুহূর্তে এটি জোগাড় করতে হিমশিম খেয়েছেন। ৩০ বছর বয়সি লুসি তার সেরা বন্ধু হান্নাহর সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো পিটবুলের কনসার্টে এসেছিলেন। 

    তিনি বলেন, এই সপ্তাহে আমি তিনটি ভিন্ন ফ্যান্সি ড্রেসের দোকানে গিয়েছিলাম, কিন্তু সব জায়গায় টুপি শেষ হয়ে গিয়েছিল। লুসি ভয় পাচ্ছিলেন যে, টাক টুপির এই বিশাল সমুদ্রে আমরাই হয়তো একমাত্র টুপি ছাড়া থাকব। মনে হচ্ছিল, এটি যেন ৬০ হাজার মানুষের মধ্যকার নিজেদের একটি দারুণ মজার জোকস।

    এই বিশ্ব রেকর্ড গড়ার ধারণাটি পিটবুল, বিএসটি বা গিনেস কর্তৃপক্ষের কারও মাথা থেকেই আসেনি; এর শুরুটা করেছিলেন একজন ভক্ত।

    পডকাস্ট হোস্ট ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষক জ্যাক রেমিংটন মজা করে বলেন, এই পুরো ঘটনাটি আমার জন্যই ঘটেছে। গত বছর বিএসটি যখন পিটবুলের পারফরম্যান্সের ঘোষণা দেয়, তখন রেমিংটন টিকটকে একটি মজার ভিডিও পোস্ট করে বলেছিলেন, বিএসটি-র ৬৫ হাজার ধারণক্ষমতা পিটবুলের মতো সাজা মানুষদের দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার জন্য অনায়াসেই যথেষ্ট।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং শিগগিরই রেমিংটন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এবং বিবিসি রেডিও ১-এর গ্রেগ জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা পিটবুলকে মেসেজ পাঠিয়ে জানতে চান যে তিনি এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত কিনা। ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ আনন্দের সঙ্গেই উত্তর দিয়েছিলেন, ‘দেল!’ (স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ ‘এগিয়ে যাও’ বা ‘শুরু করো’, যা তার একটি অ্যালবামেরও নাম)।

    মুনফোর্ড বলেন, এই রেকর্ডটি শুধু চমক সৃষ্টির জন্য নয়। এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণ হলো—এত বিশাল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ এবং এমন অনেক মানুষ রেকর্ড গড়ার অংশ হতে পেরেছেন, যারা হয়তো আগে কখনো এমন সুযোগ পাননি। পিটবুলের মতো সাজগোজ করার এই ইন্টারনেটভিত্তিক ট্রেন্ডটি আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয় ছিল, যা এই রেকর্ড গড়তে সাহায্য করেছে।

    পিটবুলের অনুকরণ করার এই ট্রেন্ডটি ২০২১ সালে শুরু হয়েছিল, যখন কয়েকজন ভক্ত তাকে মজা করে নকল করে কনসার্টে এসেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ভাইরাল ভিডিওর সুবাদে এটি দ্রুত একটি বিশাল ফ্যান মুভমেন্টে পরিণত হয় এবং এখন ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর শো-তে তার মতো সেজে আসাটাই যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    কিউবান-আমেরিকান এ র‍্যাপার এই বিষয়টিকে সাদরে গ্রহণ করে তার ভক্তদের নাম দিয়েছেন ‘দ্য বাল্ডিস’। এমনকি তিনি নিজের ওয়েবসাইটে অফিশিয়াল ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড কিট’ এবং টাক টুপি যথাক্রমে ৪০ ও ১০ পাউন্ডে বিক্রি করছেন। যার দুটিই এখন সোল্ড আউট।

    শাওনা (যিনি টাক টুপি পরেছিলেন) এবং জ্যাক (যার মাথায় সত্যিই টাক), ৩৩ বছর বয়সি এই দুই বন্ধু পিটবুলের অন্ধ ভক্ত নন, তবে তারা এসেছিলেন নস্টালজিক ও বাঁধভাঙা আনন্দের একটি রাত কাটানোর আশায়।

    শাওনা বলেন, কোনো কনসার্টে দেখা এটি আমার সবচেয়ে কম অহংকারী দর্শকসারি। পৃথিবী আক্ষরিক অর্থেই পুড়ছে, তাহলে কেন আমি মাথায় একটা টাক টুপি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর সেই প্রিয় পপ গানগুলোর তালে নেচে একটু ভালো অনুভব করব না?

    সূর্য অস্ত যাওয়ার পর র‍্যাপার যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন হাজার হাজার অনুকরণকারীকে তার সঙ্গে প্রতিটি গানের কলি গাইতে দেখে তিনি দৃশ্যতই অবাক হয়ে যান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, লন্ডনে ‘বাল্ডিস’দের দেখা পাওয়া আমার জন্য এক আশীর্বাদ এবং সম্মানের বিষয়।

    সূত্র: দি গার্ডিয়ান

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফজলুর রহমান বাবুর কণ্ঠে— ‘আমায় ভাসাইলিরে’

    জনপ্রিয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর ‘মাস্তুল’সিনেমা আগামী ১৭ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে। এর মধ্যেই ‘মাস্তুল’ সিনেমার গান প্রকাশ পেয়েছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন খ্যাতনামা অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। 

    এর আগে প্রথম পোস্টার প্রকাশ করেই দর্শক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছিল মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত সিনেমা ‘মাস্তুল’। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটি এবার নিয়ে এলো তার প্রমোশনাল গান ‘আমায় ভাসাইলিরে…’। পল্লীকবি জসীম উদদীনের কালজয়ী লেখনীর একটি লাইন যেন নদী, ভাসমান মানুষ আর জীবনের অনিবার্য যাত্রার এক দীর্ঘ স্মৃতিকাতরতা বহন করে চলেছে। সেই চিরচেনা চিরন্তন আবেগকেই এবার নতুন আবহে যুক্ত করা হয়েছে ‘মাস্তুল’ সিনেমায়। আর লাবিক কামাল গৌরবের সংগীতায়োজনে বিশেষ এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। 

    এ গানের বিষয়ে পরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, এটি কেবল প্রচারের স্বার্থে তৈরি কোনো গান নয়; বরং সিনেমাটির আবহ, চরিত্রের অন্তর্জগৎ এবং নদীকেন্দ্রিক জীবনের গভীর অনুভূতিকে দর্শকদের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার একটি শৈল্পিক ভাষা।

    এ পরিচালক বলেন, ‘মাস্তুল’ সিনেমার প্রচারের প্রতিটি উপাদানেই সিনেমার আত্মাকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পোস্টারের পর গান প্রকাশের লক্ষ্যও ছিল সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের সিনেমার আবহের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    জানা গেছে, এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নুরাকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কের সমীকরণ ধরে পর্দায় উঠে এসেছে নদী ও বন্দরের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর টিকে থাকার গল্প। চারপাশের সেই রূঢ় বাস্তবতার আবহকেই যেন আরও বেশি গভীরে নিয়ে গেছে— ‘আমায় ভাসাইলিরে…’ গানটি।

    বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন, সিফাত বন্যা প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, ‘মাস্তুল’ সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সিনেমাটি ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল মেনশন’ এবং রাশিয়ার ১৮তম চেবোক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন’ পুরস্কার লুফে নিয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্লেব্যাকে ন্যান্সি-ইমরান

    বিনোদন জগতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও ইমরান মাহমুদুল একসঙ্গে অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। বেশ কিছু জনপ্রিয় গান সিনেমাতেও প্লেব্যাক করেছেন এ তারকা জুটি। মাঝে অনেক দিন বিরতি গেছে, আর প্লেব্যাকে একসঙ্গে পাওয়া যায়নি তাদের কণ্ঠ। দীর্ঘদিন পর আবার দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিলেন ন্যান্সি ও ইমরান। নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমানের ‘শিকার’ সিনেমায় তারা প্লেব্যাক করেছেন।

    ‘দুজন মিলে বাঁচব এক জীবন’ —এমন শিরোনামের একটি গান তারা গেয়েছেন। এ গানের কথা লিখেছেন কবির বকুল। সুর ও সংগীতায়োজনে ছিলেন ইমরান। রোববার (২৮ জুন) এ রোমান্টিক ঘরানার গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

    নতুন এ গান নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। তিনি বলেন, ‘ইমরানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময়ই দারুণ। গানটির কথা ও সুর এত চমৎকার যে, শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। অনেক দিন পর মনের মতো একটি সিনেমার গানে কণ্ঠ দিলাম।’

    ‘দুজন মিলে বাঁচব এক জীবন’ —এ গান প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, বাংলা গানের অনন্য কণ্ঠ ন্যান্সি। তার সঙ্গে দ্বৈত গান মানেই ইমরানের জন্য বিশেষ কিছু। তাই নতুন গানটি করেও ভীষণ আনন্দিত তিনি।

    উল্লেখ্য, পরিচালক কামরুজ্জামান রোমানের ‘শিকার’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন অপু বিশ্বাস ও মুরতজা পলাশ। এ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য এ গান নিয়ে নেপালে পাড়ি দেবেন পরিচালক। সেখানেই হবে এ গানের শুটিং। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফুটবল ভক্তদের জন্য নোরা-সঞ্জয় দেবের নতুন উপহার

    বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিশিয়াল থিম সং ‘সির সির’ প্রকাশের পর এবার ভক্তদের জন্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হলেন মরক্কো-কানাডিয়ান তারকা ও বলিউড নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি। সম্প্রতি এই তারকার নতুন অ্যান্থেম সং ‘চ্যাম্পিয়নস’ প্রকাশ করেছেন। 

    ‘সির সির’ প্রকাশের মাত্র দুই সপ্তাহ পর এই গানের মাধ্যমে আবারও জুটি বাঁধলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে, গায়ক ও সঙ্গীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব ও নোরা ফাতেহি। 

    প্রকাশিত গানটির মিউজিক ভিডিওতে রয়েছে নোরার দারুণ পারফরম্যান্স এবং ফুটবল থেকে অনুপ্রাণিত চমৎকার সব ভিজ্যুয়াল। 

    খোদ নোরা ফাতেহি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গানটি মুক্তির ঘোষণা দেন। মিউজিক ভিডিওতে নোরাকে একটি ফুটবল জার্সি পরা অবস্থায় ফুটবল ভক্তদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দারুণ সব ড্যান্স মুভ দিতে দেখা গেছে। 

    নোরার ভক্ত এবং শোবিজ অঙ্গনের তারকারা তার এই নতুন গানটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং বিশ্বকাপ উন্মাদনা বাড়াতে তাদের এই নতুন গানটির জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এর আগে ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয় দেব এবং নোরা ফাতেহির পরিবেশন করা অফিশিয়াল বিশ্বকাপ গান ‘সির সির’ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। মূলত সেই জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই ‘চ্যাম্পিয়নস’ গানটির মাধ্যমে আবারও একসঙ্গে জুটি বাঁধলেন নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দেব। 

    এদিকে মাঠের গানের পাশাপাশি বাস্তবেও ফুটবল বিশ্বকাপে মরক্কো দলের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রকাশ করেছেন এই মরক্কান ডিভা। সম্প্রতি বিশ্বকাপ আসরে মরক্কো দল রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেন নোরা।

    উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘এই ম্যাচটি দেখার সময় আমার তো প্রায় হার্ট অ্যাটাকই হয়ে যাচ্ছিল! বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার জন্য মরক্কো দলকে অনেক অনেক অভিনন্দন!’ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • যে কারণে ম্যাডোনার বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক বাতিল হলো

    মার্কিন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। বেশ কিছু দিন ধরেই তার সুর-সংগীতে জমজমাট বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের আলোচনা চলছিল।  বিষয়টি তিনি নিজেই তদারকি করছিলেন। জানা গেছে, বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিকটি আর বানানো হচ্ছে না। 

    শেষ পর্যন্ত হলিউড স্টুডিও ‘ইউনিভার্সাল’র সঙ্গে বাজেট নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পপ তারকা নিজেই।

    ‘ইন্টারভিউ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা বলেন, ‘বাজেট নিয়ে ইউনিভার্সালের সঙ্গে আমাদের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। কারণ আমার একটি অসাধারণ এবং বিশাল জীবন রয়েছে, তাই এটি পর্দায় তুলে আনতে আমার বড় বাজেটের প্রয়োজন ছিল।’ 

    খরচ কমিয়ে আনতে ম্যাডোনা সিনেমার শুটিং সার্বিয়াতে স্থানান্তরের প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু স্টুডিও কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয়নি। ম্যাডোনা বলেন, ‘আমি সার্বিয়াতে কম খরচে সিনেমাটি বানানোর একটি পথ বের করেছিলাম, কিন্তু আমার মনে হয় তারা এই ধারণায় খুব একটা আগ্রহী ছিল না—আমি ঠিক জানি না। 

    সম্ভবত তারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেনি। তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি ছিল- আমাদের বিশ্বাস হয় না যে আপনি সার্বিয়াতে চার দিনের বেশি টিকতে পারবেন।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এর জবাবে ম্যাডোনা উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, আপনারা কি চিত্রনাট্যটি পড়েছেন? আমার পুরো জীবনটাই তো টিকে থাকার লড়াই (সারভাইভাল)। আমি সেখানে কোনো ছুটিতে যাচ্ছি না।’ 

    ২০২০ সালে প্রথম এই প্রজেক্টটির ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘ইয়াং অ্যাডাল্ট’ ঘরানার খ্যাতনামা লেখক ডায়াবলো কোডির লেখা চিত্রনাট্যে ম্যাডোনা নিজেই এটি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার নিজের কণ্ঠ ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আমার জীবনের এই রোলারকোস্টার রাইডটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’ 

    এর আগে ২০১৭ সালে ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ ম্যাডোনার প্রাথমিক ক্যারিয়ার নিয়ে ‘ব্লন্ড অ্যাম্বিশন’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের স্বত্ব কিনেছিল। ম্যাডোনা সেটির তীব্র সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ কেন সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করে আমার বায়োপিক বানাতে চাইবে?’ 

    পরবর্তীতে ম্যাডোনার নিজস্ব প্রজেক্টের জন্য ‘ম্যাডোনা বুটক্যাম্প’ খ্যাত এক কঠোর অডিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জুলিয়া গার্নারকে নির্বাচিত করা হয়। তবে ২০২৩ সালে খবর আসে যে, ‘হুজ দ্যাট গার্ল’ টাইটেলের এই সিনেমাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

    ম্যাডোনার পূর্ববর্তী চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার 

    পরিচালক হিসেবে ম্যাডোনার পূর্বের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। এর আগে তিনি দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন—‘ফিল্থ অ্যান্ড উইজডম’ (লন্ডনে সফল হতে চাওয়া এক ইউক্রেনীয় সংগীতশিল্পীকে নিয়ে) এবং ‘ডব্লিউ.ই.’ (ওয়ালিস সিম্পসন এবং সাবেক অষ্টম এডওয়ার্ডের কাহিনী নিয়ে)। 

    ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর চলচ্চিত্র সমালোচক পিটার ব্র্যাডশ এই দুটি সিনেমাকেই মাত্র ‘ওয়ান স্টার’ রিভিউ দিয়েছিলেন। 

    অবশ্য অভিনেত্রী হিসেবে ম্যাডোনার ঝুলিতে বেশ কিছু প্রশংসিত কাজ রয়েছে, যার মধ্যে ‘ডেসপারেটলি সিকিং সুসান’, ‘ডিক ট্রেসি’, ‘ইভিটা’ এবং ‘দ্য নেক্সট বেস্ট থিং’ অন্যতম। 

    সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা আরও জানান, তিনি নেটফ্লিক্সের জন্য একটি সিরিজ করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ। কারণ সিনেমাটির জন্য যে চিত্রনাট্য তিনি লিখেছিলেন, সেটির মালিকানা ছিল ইউনিভার্সালের হাতে।

    ম্যাডোনা আক্ষেপ করে বলেন, ‘নেটফ্লিক্স একটি সিরিজ করার জন্য যোগাযোগ করেছিল। সেটি ছিল আরেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কারণ ইউনিভার্সালের কাছে থাকা চিত্রনাট্যটি আমি ব্যবহার করতে পারছিলাম না, যদি না আমি তাদের কাছ থেকে সেটি চড়া দামে কিনে নিতাম—অথচ চিত্রনাট্যটি আমারই লেখা! এরপর আমি বোঝার চেষ্টা করলাম সিরিজ কীভাবে তৈরি হয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া। আপনাকে অনেক লেখকের সঙ্গে বসতে হবে, সঠিক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে যিনি শোটি এগিয়ে নেবেন… কিন্তু আমি তেমন কাউকেই খুঁজে পাইনি।’ 

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

    বিনোদন ডেস্ক

  • হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি শিল্পীকে শাস্তি

    ঘটনা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর। সামাজিক মাধ্যম ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামে একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেছিলেন ২৯ বছর বয়সি ইরানি সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। সেই সময় তিনি হিজাব ছাড়াই পারফর্ম করেছিলেন। সেই গানটি পরবর্তী সময়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। কিন্তু ওই কনটেন্টটিকেই ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়েছেন ইরানের একটি আদালত।

    গান প্রকাশের কিছু দিনের মধ্যেই পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সতীর্থকে আটক করে ইরান প্রশাসন। পরে তারা মুক্তি পেলেও আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেই মামলার রায়ে দোররা ও নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট’-এর অভিযোগ এনে গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে কঠোর শাস্তি দিয়েছেন দেশটির আদালত। তিনি এবং তার দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারা হবে। এ ছাড়া এ সংগীতশিল্পীকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন কোম প্রদেশের আদালত।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমালোচনা হচ্ছে সারা বিশ্ব। মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন— এ রায় কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; বরং ভিন্নমত ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে দমনের একটি উদাহরণ। সরকারের সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকা শিল্পীদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে বলে জানান তারা। তা ছাড়া এ ঘটনায় ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থা ‘দাদবান’-এর মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেছেন, এ রায়ের কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া কিংবা সংগীত পরিবেশন করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা আইনের অপপ্রয়োগ।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেছেন, শুধু গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররা মারার সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক। এটি ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক