Tag: কঙ্গনা রানাউত

  • রিলে পাকিস্তানি গায়কের গান দিয়ে সমালোচনার মুখে কঙ্গনা

    বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত সবসময় আলোচনায় থাকেন। বলিপাড়ায় ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে প্রায় দিন নিজের জীবন নিয়ে নানা কথা আপডেট দিতে থাকেন তিনি। 

    পেশায় তিনি অভিনেত্রী, পর্দায় বলিষ্ঠ চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলতে পারদর্শী। আবার অন্যদিকে হিমাচলের সংসদ সদস্য। অভিনেত্রী গুণমুগ্ধ আসমুদ্র হিমাচল। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই পরিচয় ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের বাহক। 

    গত লোকসভা নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে বিজেপির সংসদ সদস্য হয়েছেন কঙ্গনা রানাউত। ২০২৪ সালে তিনি নির্বাচনে জিতে নিজের রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু দিন আগে ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমাতেও ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাকে। সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্য না পেলেও কঙ্গনার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

    হিমাচলকন্যা নানাভাবে দলীয় বক্তব্যের সমর্থনে গলা তোলেন। এমনকি একসময় অভিনেত্রী দাবি করে বলেছিলেন, ভারতের আসল স্বাধীনতা এসেছে ২০১৪ সালে— নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর। পাঞ্জাবের কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার বিতর্কের পাশাপাশি নিজেকে করে তুললেন হাস্যরসের মানুষ হিসাবে।

    গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ নিরপরাধ পর্যটকের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। ৬ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরও সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলেন। পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদে পূর্ণ, জঘন্য দেশ’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে পাকিস্তানকে মুছে দেওয়া উচিত বলেও দাবি করেছিলেন কঙ্গনা। 

    কিন্তু গত রোববার অভিনেত্রী ইনস্টাগ্রামে একটি রিল পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, রাজস্থানের কোনো প্রাসাদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। সবুজ বাগানে সবুজ-গোলাপি রেশমি শাড়িতে মোহময়ী লাগছিল তাকে। তারই সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেচে ওঠে ময়ূর, কিশোরীর মতো লাফালাফি করে গাছ থেকে ফল পাড়তে দেখা যায় অভিনেত্রীকে।

    কঙ্গনা  বলেন, বেঁচে থাকার জন্য কেবল একটি জিনিসই প্রয়োজন, তা হলো— জীবন। আশা রাখি, আমরা শুধু বেঁচে থাকার জন্যই বাঁচব না। জীবনটাকে উপভোগ করব। আর এখানেই একটি ভুল করে বসেন অভিনেত্রী। এই রিলে তিনি জুড়ে দেন পাকিস্তানি গায়ক জায়েন জোহেবের গান— ‘রানঝেয়া ওয়ে’। ২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছিল এই পাকিস্তানি গান। 

    এমন পরিস্থিতিতে কঙ্গনার মতো স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদের রিলে পাকিস্তানি গান ব্যবহার করায় নতুন করে উসকে উঠেছে বিতর্ক। পাকিস্তানি নেটিজেনরা তুলাধোনা করেছেন কঙ্গনাকে। সেই সঙ্গে তার ভক্ত-অনুরাগীরাও ছুড়ে দিয়েছেন কটু মন্তব্য। তবে অভিনেত্রীর অমনোযোগিতায় হাসির রোলও তুলেছেন অনেক নেটিজেন।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জম্মু-কাশ্মীরের উরিতে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতে নিষিদ্ধ ছিল। প্রায় ৯ বছর পর সম্প্রতি তাদের নিয়ে ফের কাজ করার কথা শুরু হচ্ছিল ভারতে। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটে যায় পহেলগাঁওকাণ্ড। ফলে ফের পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর দাবি ওঠে। বন্ধ হয়ে যায় ফাওয়াদ খানের আসন্ন সিনেমা ‘আবির গুলাল’-এর মুক্তি। এমনকি পাকিস্তানি তারকাদের অভিনীত ছবিগুলোর পোস্টার থেকে তাদের সিনেমা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও এসেছে। 

    এদিকে কঙ্গনা রানাউত শিগগিরই হলিউডে পা রাখতে চলেছেন। তাকে ভৌতিক সিনেমা  ‘ব্লেসড বি দ্য ইভিল’-এ প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে। তার সেই সিনেমায় সহ-অভিনেতা হিসেবে থাকবেন টাইলার পোসি ও স্কারলেট রোজ স্ট্যালোন। অনুরাগ রুদ্র সিনেমাটি পরিচালনা করছেন। সিনেমার শুটিং শুরু হবে নিউইয়র্কে বলে জানা গেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ময়ূর পেখম মেলতেই নাচ শুরু করলেন কঙ্গনা

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত সবসময় সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় থাকেন। প্রায় দিনই তিনি ভক্ত-অনুরাগীদের নিজের জীবন নিয়ে নানা কথা আপডেট দিতে থাকেন। 

    সামাজিক মাধ্যমে গতকাল রোববার (১১ মে) একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এ ভিডিওতে কঙ্গনাকে ময়ূরের মতো নাচতে দেখা যায়। আবার কখনো তাকে আম পাড়তেও দেখা যায়। নিজের পোস্টের সঙ্গে প্রাণবন্ত জীবনের কথাও বলেছেন অভিনেত্রী।

    যে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন কঙ্গনা রানাউত, সেখানে এক সবুজে ঘেরা বাগানে একটি ময়ূরকে পেখম মেলে নাচতে দেখা যায়, যা দেখে তিনি নিজেই তার মতো করে নাচতে শুরু করেন। পরের ভিডিওতে তাকে একটি গাছ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে আম পেড়ে আনতেও দেখা যায়। এ ভিডিওরই ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন—বেঁচে থাকার জন্য কেবল একটি জিনিসই প্রয়োজন আর তা হলো— জীবন। আশা করি আমরা শুধু বাঁচব না, বরং বেঁচে থাকব এবং প্রাণবন্তও থাকব।

    এই ভিডিও নেটিজেনদের বেশ পছন্দ হয়েছে। এক নেটিজেন লিখেছেন— ‘অ্যায়সে খিলখিলাতি আচ্ছে লাগতে হো’। আরেক নেটিজেন লিখেছেন—  ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর। অন্য আরেক নেটিজেন লিখেছেন—আপনার হৃদয়ে আমার জন্যও একটা জায়গা আছে। 

    কেউ আবার কঙ্গনা রানাউতকে ‘সুন্দর রানী’র তকমা দিয়েছেন। অভিনেত্রীকে এক নেটিজেন প্রশ্ন করেছেন—আপনার কাছে কত রঙ আছে? কেউ আবার মজা করে লিখেছেন— আমরাও এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে লম্বা হই।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে বিজেপির সংসদ সদস্য হয়েছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। ২০২৪ সালে তিনি নির্বাচনে জিতে নিজের রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু দিন আগে ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমাতেও ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাকে। সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্য না পেলেও কঙ্গনার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

    কঙ্গনা রানাউত শিগগিরই হলিউডে পা রাখতে চলেছেন। তাকে ভৌতিক সিনেমা  ‘ব্লেসড বি দ্য ইভিল’-এ প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে। তার সেই সিনেমায় সহ-অভিনেতা হিসেবে থাকবেন টাইলার পোসি ও স্কারলেট রোজ স্ট্যালোন। অনুরাগ রুদ্র সিনেমাটি পরিচালনা করছেন। সিনেমার শুটিং শুরু হবে নিউইয়র্কে বলে জানা গেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার দাবি কঙ্গনার

    ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন বলিউড অভিনেত্রী ও  বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদীতে পরিপূর্ণ জঘন্য দেশ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং দাবি জানান দেশটিকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার।

    কঙ্গনা লেখেন, ‘তেলাপোকা কোথাকার। সন্ত্রাসবাদীতে ভরা ধূর্ত এবং জঘন্য দেশ… এটিকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা উচিত।’

    সীমান্তে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বলিউডের একাধিক অভিনেতা ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অক্ষয় কুমার, সানি দেওলসহ অনেকে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি তারকা মাহিরা খান ও ফাওয়াদ খান ভারতের অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

    এই প্রেক্ষাপটে বিনোদনজগতের দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে একপ্রকার ‘শীতল যুদ্ধ’।

    কঙ্গনার মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার রাতে তিনি দেশ ছাড়েন। যদিও এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়; বরং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি পাড়ি দেন আমেরিকায়। জানা গেছে, নিউইয়র্কে তার আসন্ন হলিউড সিনেমা ‘বি দ্যা এবিল’-এর শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে গিয়েছেন কঙ্গনা। এই হরর সিনেমায় কঙ্গনার পাশাপাশি অভিনয় করছেন হলিউড তারকা টাইলার পোজে এবং স্কারলেট রোজ স্ট্যালোন। ছবিটি পরিচালনা করছেন অনুরাগ রুদ্র।

    এটাই প্রথম নয়, কঙ্গনা আগেও জাতীয় নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর পক্ষে বক্তব্য রেখে শিরোনামে এসেছেন। সম্প্রতি তিনি জম্মু ও কাশ্মির প্রসঙ্গে একটি পোস্টে লেখেন, ‘জম্মু নিশানায় রয়েছে। ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স জম্মুতে পাকিস্তানি ড্রোনকে গুলি করে নামিয়েছে। সাহস হারাবেন না জম্মু।’

    গত এপ্রিলেই কঙ্গনার পরিচালিত ও অভিনীত ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিটি মুক্তি পায়, যেখানে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেন। যদিও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই ছবি বক্স অফিস বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বর্তমানে, ‘বি দ্যা এভিল’ ছাড়া কঙ্গনার হাতে আর কোনও বড় কোনো কাজ নেই।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ভারত-পাকিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হলিউডে যাচ্ছেন কঙ্গনা

    পেহেলগামকাণ্ডের পর শুরু হয়েছে অপারেশন সিঁদুর। গত মঙ্গলবার (৬ মে) মধ্যরাতে পাকিস্তানের ৯টি স্থান গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ভারতীয় সেনারা। আসমুদ্র হিমাচল ভাসছে দেশের সেনাবাহিনীর প্রশংসায়। বলিউড, টালিউডসহ দক্ষিণ ইন্ডাস্ট্রির একাধিক তারকা এই এয়ার স্ট্রাইকের প্রশংসায় সরব হয়েছেন। এর মধ্যেই বলিউডের ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী মান্ডির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউতও ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। 

    ভারত ও পাকিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সন্ত্রস্ত হয়ে আছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যেই দেশ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি দিতে চলেছেন কঙ্গনা রানাউত। এবার অভিনেত্রী যাচ্ছেন হলিউডে। বলিউডে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে একাধিকবার। এবার হলিউডে কাজ করতে চলেছেন অভিনেত্রী। 

    একটি ভৌতিক সিনেমার প্রধান চরিত্রে সুযোগ পেয়েছেন বলিউড ‘কুইন’। সিনেমার নাম ‘বি দ্য ইভিল’। এ সিনেমায় কঙ্গনা ছাড়াও রয়েছেন হলিউডের অভিনেতা টাইলার পোজে, সিলভারস্টার স্ট্যালোনের কন্যা স্কারলেট রোজ স্ট্যালোন।

    খুব শিগগিরই নিউইয়র্কে এ সিনেমার শুটিং শুরু হবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বিদেশি সিনেমার ওপরে ১০০ শতাংশ শুল্ক জারি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য নিউইয়র্ককেই বেছে নিয়েছেন সিনেমার নির্মাতারা। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন অনুরাগ রুদ্র।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কঙ্গনা বলেছেন, দেশ এখন যুদ্ধের মধ্যে। তাই আমরা সবাই সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছি। কিন্তু দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের রক্ষা করছে। তাই আমরাও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি— ওরাও যেন সুরক্ষিত থাকে। নিজেদের লক্ষ্যে যেন ওরা সফল হয়। আমাদের প্রার্থনা করা উচিত— সব রকমের আতঙ্কের থেকে আমাদের দেশ যেন সুরক্ষিত থাকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • রোহিতকে কুকুর বলেছিলেন কঙ্গনা, কংগ্রেস মুখপাত্রের পালটা অভিযোগ

    কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মোহাম্মদ বলেছেন, রোহিত শর্মাকে কুকুর বলে অপমান করেছিলেন কঙ্গনা রানাউত। ভারতের জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারকে ‘মোটা-খারাপ অধিনায়ক’ বলে কটাক্ষ করে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন শামা। 

    বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে। পাশাপাশি বিজেপির আরও অনেকে কংগ্রেসের এই নেত্রীর দিকে তেড়ে যান।  এরপরই এবার বিজেপিকে একহাত নিতে কঙ্গনার পুরোনো পোস্টকে হাতিয়ার করলেন শামা। 

    ২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময় এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন রোহিত। দেশের উন্নয়নে কৃষকদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, সমস্যার দ্রুত সমাধান করা উচিত। 

    রোহিতের সেই পোস্টেই অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা। তার বার্তা ছিল, ‘এই ক্রিকেটারগুলোর কথা শুনে মনে হচ্ছে, এরা ধোবি কা কুত্তা! না ঘর কা না ঘাট কা।’ 

    যদিও রোহিতকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করা সেই পোস্ট কিছুক্ষণ পরই ডিলিট করে দেন বিজেপির বর্তমান এই সংসদ সদস্য।

    কঙ্গনার পুরোনো সেই পোস্টের স্ক্রিনশট তুলে ধরেই এবার আক্রমণ করেছেন শামা। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে তার প্রশ্ন, রোহিতকে নিয়ে এমন অপমানজনক মন্তব্য করার পরে কঙ্গনাকে কী বলেছেন? 

    শামার পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরে মাণ্ডব্য বলেছিলেন, এমন পোস্ট অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাই গেরুয়া শিবিরকে পাল্টা জবাব দিতে কঙ্গনার পোস্টকেই হাতিয়ার করলেন শামা।

    প্রসঙ্গত, রোহিতকে নিশানা করে সোশাল মিডিয়ায় শামা লিখেছিলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে অত্যন্ত মোটা রোহিত শর্মা। ওনার উচিত ওজন কমানো। ভারতের যত ক্রিকেট অধিনায়ক ছিলেন, তাদের সকলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিত্বহীন ক্যাপ্টেন হলেন রোহিত।

    এরপরই তোপের মুখে পড়েন শামা মোহাম্মদ। চরম সমালোচনায় তড়িঘড়ি এক্স হ্যান্ডেল থেকে রোহিতকে নিয়ে লেখা বার্তা মুছে ফেলেন তিনি। এরপর কংগ্রেসের তরফ থেকে জানানো হয়, এই মন্তব্য একান্তই শামার ব্যক্তিগত।

    অনলাইন ডেস্ক

  • জাভেদের কথা শুনে ভয়ে কাঁপছিলেন কঙ্গনা

    বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত ও বর্ষীয়ান লেখক-চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারের সমীকরণ সবারই জানা। তাদের মধ্যে কখনই মধুর সম্পর্ক ছিল না। রাজনৈতিক মতাদর্শেও দুজনে বিপরীতমুখী। কিন্তু এবার ছন্দপতন নয়। একই ছবিতে ধরা দিলেন কঙ্গনা ও জাভেদ। সেই ছবি আবার নিজেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নেন অভিনেত্রী। সেই ছবিতে দেখা যায়, কঙ্গনা ও জাভেদের মুখে হাসি। অথচ একটা সময় জাভেদ-কঙ্গনার সম্পর্ক তিক্ততা তৈরি হয়।

    ২০২০ সালে এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা রানাউত। তিনি বলেন, জাভেদ আখতার আমাকে তার বাড়িতে ডেকে পাঠান ও বলেন— রাকেশ রোশন এবং ওর পরিবার খুব প্রভাবশালী। তুমি যদি ওদের কাছে ক্ষমা না চাও তা হলে তোমার কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। এখানেই শেষ নয়; কঙ্গনা বলেন, জাভেদ আমাকে বলেছিলেন— তোমাকে জেল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে তুমি। আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, আমার ওপর চিৎকার করেছিলেন লাগাতার, ধমকও দিয়েছিলেন। আমি তো ওর ঘরে কাঁপছিলাম বসে বসে।

    কঙ্গনার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন জাভেদ। তারপর থেকে দুজনের মধ্যে আইনি লড়াই জারি ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মধ্যস্থতায় রাজি হন দুজনেই। অবশেষে শুক্রবার সেই আইনি লড়াইয়ে ইতি টানলেন কঙ্গনা ও জাভেদ।

    ঘটনা ২০১৬ সাল। খবরের শিরোনামে বারবার উঠে আসছিলেন অভিনেতা হৃতিক রোশন ও কঙ্গনা। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজের বাড়িতেই কঙ্গনা ও হৃতিকের মুখোমুখি কথা বলার ব্যবস্থা করেছিলেন জাভেদ। রোশন পরিবারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই এ বিষয়ে উদ্যোগী হন গীতিকার।

    জাভেদ আখতার জানিয়েছেন, কঙ্গনা ক্ষমা চেয়েছেন বলেই মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতে অভিনেত্রী বলেছিলেন— আমার কারণে জাভেদ আখতার মহাশয়কে যে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। চলচ্চিত্র জগতে তিনি একজন খ্যাতনামা বর্ষীয়ান শিল্পী, তাকে আমি শ্রদ্ধা করি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তুলোধুনো করার পর নতুন রেস্তোরাঁয় দীপিকাকে আমন্ত্রণ কঙ্গনার

    কঙ্গনা রানাউতকে বলিপাড়ায় ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী হিসেবে সবাই জানে। সেই সঙ্গে পরিচিত ‘কুইন কঙ্গনা’ হিসেবে। কিন্তু সামান্য কিছুতেই মেজাজ হারিয়ে রুদ্র রূপ ধারণ করেন অভিনেত্রী। একাধিকবার বেফাঁস মন্তব্যও করেন কঙ্গনা। তাই অভিনেত্রীর নিন্দুকের সংখ্যাও কম নয়। আর ইদানিং মাঝেমধ্যে দেখা যায়, অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে নানান বিষয়ে কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী। আর দীপিকা কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও কঙ্গনার দিক থেকে ধেয়ে আসে নানা তির্যক মন্তব্য। 

    তবে এবার সব কিছু ভুলে নতুন রেস্তোরাঁ উদ্বোধনের আগেই সেই দীপিকা পাড়ুকোনকে আমন্ত্রণ জানালে কঙ্গনা রানাউত। নিজের রেস্তোরাঁয় দীপিকাকেই চান কঙ্গনা প্রথম অতিথি হিসেবে। আজ বৃহস্পতিবারই নিজের নতুন সফরের ঘোষণা করেছেন অভিনেত্রী। 

    রেস্তোরাঁ খুলবেন— এটা অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল কঙ্গনার। সেই স্বপ্নই সত্যি হতে চলেছে। হিমাচল প্রদেশে পাহাড়ের বুকে খুলেছেন নিজের প্রথম রেস্তোরাঁ। এর আগে এক পুরোনো ভিডিওতে রেস্তোরাঁ খোলার পরিকল্পনা শেয়ার করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই গোলটেবিল সাক্ষাৎকারে কঙ্গনার সঙ্গে ছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন, বিদ্যা বালান ও নিমরত কৌর। 

    সাক্ষাৎকারে কঙ্গনার রেস্তোরাঁ খোলার পরিকল্পনা শুনেই দীপিকা জানিয়েছিলেন— সেই রেস্তোরাঁর প্রথম অতিথি তিনিই হবেন। সব তর্কবিতর্ক ভুলে গিয়ে সেই কথাই আবার দীপিকাকে মনে করিয়ে দিলেন কঙ্গনা রানাউত।

    সেই পুরোনো সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছিলেন— আমি একটা রেস্তোরাঁ খুলতে চাই। সারা বিশ্বের নানা রকমের খাবার থাকবে সেই রেস্তোরাঁয়। আমি সারা বিশ্বের খাবার খেয়েছি। নানা ধরনের খাবারের প্রণালি আমার কাছে রয়েছে। কোনো একদিন আমার নিজের একটা খুব সুন্দর ক্যাফে দেখতে হবে। খাবারের ব্যাপারে আমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এই শুনেই দীপিকা বলে উঠেছিলেন—আমি তোমার রেস্তোরাঁয় প্রথম অতিথি হব।

    সেই পুরোনো ভিডিও কঙ্গনার এক অনুরাগী সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নেন। সেই ভিডিও দেখেই কঙ্গনা মনে করিয়ে দেন দীপিকাকে। নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি স্টোরি শেয়ার করে নিয়ে সেখানে দীপিকাকে ট্যাগ করেন অভিনেত্রী। তবে দীপিকার তরফ থেকে আসেনি কোনো প্রতিক্রিয়া।

    আজ বৃহস্পতিবার কঙ্গনা তার রেস্তোরাঁর বেশ কিছু ছবি শেয়ার করে নিয়েছেন। বরফাবৃত সেই ক্যাফের ছবি মুহূর্তে ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে, অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এই রেস্তোরাঁ চালু হচ্ছে। আর সেদিনের প্রধান অতিথি হিসাবে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের উপস্থিতির অপেক্ষায় কঙ্গনা রানাউতের ভক্ত-অনুরাগীরা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কঙ্গনার ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি নিয়ে ব্রিটেন ও বাংলাদেশে এতো বিতর্ক কেন?

    ভারতে বলিউডের একটি বাণিজ্যিক সিনেমাকে ঘিরে বিশ্বের অন্তত দুই প্রান্তে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে – তাও আবার আলাদা আলাদা কারণে– এমন ঘটনা শেষ কবে ঘটেছে বলা মুশকিল। বিজেপি এমপি তথা বলিউড তারকা কঙ্গনা রানাওয়াতের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ইমার্জেন্স’ কিন্তু আপাতত সেই বিরল কৃতিত্বেরই দাবিদার!

    ‘ইমার্জেন্সি’ হলো আসলে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি আংশিক বায়োপিক, যা তৈরি হয়েছে ১৯৭৫ সালে দেশে তার জারি করা জরুরি অবস্থা বা ইমার্জেন্সির পটভূমিতে।

    ছবিটির কাহিনিকার, পরিচালক ও অন্যতম প্রযোজক কঙ্গনা নিজেই। ছবিতে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন তিনি।

    তবে ইমার্জেন্সি ছাড়াও এই ‘পলিটিক্যাল ড্রামা’তে ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের আরও বহু ঘটনাই চিত্রায়িত হয়েছে, যার মধ্যে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে ঘটা ১৯৭১-র যুদ্ধ কিংবা ১৯৮৪-তে স্বর্ণমন্দিরে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন ব্লু স্টারে’র প্রসঙ্গও এসেছে।

    ছবিটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্কের সূত্রপাতও সেখানেই। দেশের ভিতরেও এই ছবিটিকে নিয়ে নানা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সে কারণে ছবিটির মুক্তিও বারবার বিলম্বিত হয়েছে, তবে সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।

    ব্রিটেনের বিভিন্ন শিখ গোষ্ঠী দাবি করছে, এই ছবিতে খালিস্তানি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নায়ক জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালের মুখে এমন সংলাপ বসানো হয়েছে, যা তিনি কখনো বলেনইনি।

    ব্রিটেনের বিভিন্ন সিনেমা হলে ‘ইমার্জেন্সি’ ছবির স্ক্রিনিং-য়ের বিরুদ্ধে এই গোষ্ঠীগুলো তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছে –অন্তত দুটি সিনেমা হল চেইন তাদের দাবির মুখে ছবিটি প্রত্যাহার করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ব্রিটেনের একজন প্রভাবশালী এমপি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন, ভারত সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে যে এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। বাংলাদেশে এই ছবিটিকে নিয়ে বিতর্কের কারণও সিনেমায় শেখ মুজিবর রহমানের মুখে কিছু ‘বিতর্কিত’ সংলাপ।

    বাংলাদেশে যদিও ‘ইমার্জেন্সি’ বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পায়নি, তারপরও ছবিতে শেখ মুজিবকে চিত্রায়িত করা হয়েছে এমন কিছু অংশের ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে এবং সেখানেও অনেকেই তা নিয়ে তর্কবিতর্কে মেতেছেন।

    তবে ‘ইমার্জেন্সি’ নিয়ে বাংলাদেশে যাবতীয় বিতর্ক অবশ্য এখনো সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ, ব্রিটেনের মতো তা রাস্তায় নামেনি। কিন্তু ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিতে শেখ মুজিবুর রহমান বা জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালের মুখে ঠিক কী শোনা গেছে – যা নিয়ে এই বিতর্কের অবতারণা?

    মুজিবের কণ্ঠে ভারতমাতার বন্দনা

    ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেতা ঋষি কৌশিক। 

    সিনেমার একটি অংশে নদীর ধারে বিরাট জনতার সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ভারতমাতা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন। আজ আমরা শপথ নিচ্ছি, যতদিন এখানে ব্রহ্মপুত্রের পানি বইবে, যতদিন আমরা বাংলা বলব, ততদিন আমরা ভারতমাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করে যাব।

    তারপরেই সিনেমায় তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘এত জোরে আপনারা ইন্দিরা গান্ধীর নামে জয়ধ্বনি দিন, যাতে তার রেশ দিল্লি পর্যন্ত শোনা যায়’! এরপরই ‘জয় মা ইন্দিরা, জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্রর তীর।

    একাত্তরে যে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি – ভারত তাতে কতটা কৃতিত্ব দাবি করতে পারে, অথবা একাত্তরকে একটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হিসাবে দেখানোর চেষ্টা কতটা সঙ্গত – সেটি বাংলাদেশে যথারীতি একটি স্পর্শকাতর বিতর্কের ইস্যু।

    সেই জায়গায় যদি একটি ভারতীয় সিনেমায় শেখ মুজিবকেও বলতে শোনা যায়, ভারতমাতা আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন– তাহলে বাংলাদেশে তার সামাজিক বা রাজনৈতিক অভিঘাত সুতীব্র হতে বাধ্য।

    ইমার্জেন্সিতে শেখ মুজিবের সেই বক্তব্যের ক্লিপ বাংলাদেশে ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিক্রিয়াতেও সেটা স্পষ্ট।

    সোয়েব মাহমুদ নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে যেমন লিখেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রোপাগাণ্ডার সিনেমা – ইমার্জেন্সি-তে শেখ মুজিব। পলাতক লীগের ইতিহাসবিদদের মন্তব্য আশা করছি।

    একই ভিডিও পোস্ট করে এম এইচ রনির মন্তব্য, কঙ্গনা তার ইমার্জেন্সি মুভিতে শেখ মুজিবকে এত অপদস্থ করল কিন্তু এটা নিয়ে জাতির আব্বার একনিষ্ঠ সন্তানদের প্রতিবাদ করতে দেখলাম না।

    ছবিটিতে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট (ভারতে তখন জরুরি অবস্থা চলছে) শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের যে রেফারেন্স এসেছে, সেই প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘ইমার্জেন্সি মুভিতে শেখ মুজিবকে যেভাবে উপস্থাপন করেছে এইটা শেখ মুজিবের সঙ্গে বিগেস্ট মকারি (প্রহসন)। শেখ মুজিবের হত্যাকারী পর্যন্ত কোনো দিন বলে নাই যে পলাইতে গিয়া গুলি খাইছে। অথচ লীগের বন্ধু বিজেপির কর্মী কঙ্গনা রানাওয়াত দিদির ইমার্জেন্সি মুভিতে দেখাইছে কাপুরুষের মত মুজিব দৌড়াতে গিয়ে গুলি খাইছে!’

    প্যারিসে বসবাসকারী বাংলাদেশি রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য তার ইউটিউব চ্যানেলে ইমার্জেন্সি ছবির ওই ক্লিপটি দেখিয়ে বলেছেন, এটা যে কত বড় ড্যামেজিং (ক্ষতিকর) ইন্ডিয়ার জন্য এবং মুজিবের জন্যও – এটা বোঝার মতো বুদ্ধিও ইন্ডিয়ার নাই!

    বলিউডে এর আগের আরও অনেক ছবির মতো ‘ইমার্জেন্সি’ও যে একাত্তর নিয়ে ইতিহাস চেতনা এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশের সংবেদনশীলতার কোনো ধার ধারেনি– তা বোধহয় এই সব প্রতিক্রিয়া থেকেই পরিষ্কার। 

    খালিস্তানপন্থি বিভিন্ন শক্তি যেভাবে যুক্তরাজ্যে ‘ইমার্জেন্সি’ ছবির স্ক্রিনিংয়ে বাধা দিচ্ছে, গত শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ভারত সরকার সেই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত আশা করবে এই সব ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলছেন, ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোর এই ধরনের সহিংস প্রতিবাদ বা ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাগুলোর ব্যাপারে আমরা সব সময় যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের উদ্বেগ জানিয়ে থাকি।]

    তিনি আরও বলেন, ‘মত ও বক্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতা কখনো সিলেক্টিভ (বাছাই করে প্রয়োগ) হতে পারে না। ফলে যারা এই (সিনেমাটির প্রদর্শনে) বাধা দিচ্ছে, আশা করব যুক্তরাজ্যর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এর আগে বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ শিখ গোষ্ঠী এই ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিটি সে দেশের সিনেমা হলগুলোতে দেখানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তারা এই ছবিটির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন চালায়।

    শিখ প্রেস অ্যাসোসিয়েশন যেমন বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করে, কঙ্গনা রানাওয়াতের ‘ইমার্জেন্সি’ একটি ‘অ্যান্টি-শিখ’ ছবি।

    তাদের হুমকির মুখে ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের দুটি বড় শহর – বার্মিংহাম ও উলভারহ্যাম্পটনে ছবিটির স্ক্রিনিং বাতিল করতে হয়।

    ‘ইনসাইট ইউকে’ নামে ব্রিটেনের একটি কমিউনিটি চ্যানেলের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা ভিডিওতেও দেখা যায়, মুখোশ-পরা বিক্ষোভকারীরা লন্ডনের একটি সিনেমা হলে ইমার্জেন্সি ছবিটির প্রদর্শনে বাধা দিচ্ছে ও ভাঙচুর চালাচ্ছে।

    এই ছবিটির বিরুদ্ধে শিখ গোষ্ঠীগুলোর মূল অভিযোগ, এটিতে খালিস্তানপন্থি নেতা জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালেকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

    গত বছর যখন ‘ইমার্জেন্সি’র ট্রেলার মুক্তি পায়, তখনই সেটিতে সিনেমার ভিন্দ্রানওয়ালেকে ইন্দিরা গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আপনার দল ভোট চায়, আমরা চাই খালিস্তান।’

    আপাতদৃষ্টিতে ছবির এই সংলাপটিই শিখ গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে, কারণ তাদের বক্তব্য ভিন্দ্রানওয়ালে তারা সারা জীবনে কখনো এমন দাবি জানাননি।

    এদিকে যুক্তরাজ্যের একজন কনজার্ভেটিভ পার্টির এমপি বব ব্ল্যাকম্যানও সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন, তার কেন্দ্রের কয়েকজন ভোটারকে সিনেমা হলে এই ছবিটি দেখার সময় মুখোশধারী প্রতিবাদকারীরা হুমকি দিয়েছে। তিনি বিষয়টিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন।

    লন্ডনের হ্যারো ইস্ট আসনের এমপি বব ব্ল্যাকম্যান হাউস অব কমন্সেও জানান, এই অতি বিতর্কিত সিনেমাটির বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা গেছে উলভারহ্যাম্পটন, বার্মিংহাম, স্লাও, স্টেইনস, ম্যানচেস্টার-সহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে। এর জেরেই ভিউ বা সিনেওয়ার্ল্ডের মতো সুপরিচিত সিনেমা চেইন তাদের বহু থিয়েটার থেকে ছবিটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    বব ব্ল্যাকম্যান অবশ্য সেই সঙ্গেই যোগ করেছেন, এই সিনেমাটি অবশ্য খুবই বিতর্কিত, আমি এর গুণগত মান বা বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু আমার কেন্দ্রের ভোটারদের ও আমার সতীর্থ এমপিদের ভোটারদের পূর্ণ অধিকার আছে এই সিনেমাটি দেখে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার, আমি সেই অধিকারের পক্ষে কথা বলতে চাই!

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি নিয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রী সরব, চুপ ভারতের নেতা ও নারীবাদীরা: কঙ্গনা

    বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ছবি ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তি পেয়েছে।  ছবিটি মুক্তির আগে থেকেই নানা সমস্যার মুখে পড়ে। শেষে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে বাধাবিঘ্ন দূর করে মুক্তি পায় ‘ইমার্জেন্সি’। ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন অভিনেত্রী।

    ইমার্জেন্সি ছবিটি পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা ছাড়াও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রেও অভিনয় করেছেন কঙ্গনা রানাউত। এ ছাড়া মুক্তির পরও বিতর্ক অব্যাহত আছে। যদিও ছবিটি মুক্তির আগেই বাংলাদেশেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ইংল্যান্ডেও ‘ইমার্জেন্সি’র প্রদর্শন বন্ধ করা হয়। কিন্তু এ সিয়ে কথা বলেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিক বব ব্ল্যাকম্যান। 

    এর আগে প্রথমে পাঞ্জাবে এ ছবির প্রদর্শন নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। গত ১৮ জানুয়ারি লন্ডনের একটি প্রেক্ষাগৃহেও খলিস্তানি সমাজকর্মীদের হস্তক্ষেপে ছবির প্রদর্শন বন্ধ করা হয়। তার পর থেকেই ইংল্যান্ডেও এ ছবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে। কিন্তু এমতাবস্থায় কেন চুপ ভারতের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নারীবাদীরা? প্রশ্ন তুলেছেন খোদ অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।

    লন্ডনে ‘ইমার্জেন্সি’র প্রদর্শন বন্ধ করায় ব্রিটিশ মন্ত্রী বব ব্ল্যাকম্যান খলিস্তানিদের সমালোচনা করেছেন। বাকস্বাধীনতা খণ্ডন করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন তিনি। প্রেক্ষাগৃহে খলিস্তানিদের বিক্ষোভের সমালোচনায় সামাজিক মাধ্যমে কথা বলেন মন্ত্রী।

    ব্রিটিশ রাজনীতিকের পোস্ট দেখেই কঙ্গনার প্রশ্ন— ভারতের রাজনীতিকরা কী করছেন? আমার মৌলিক অধিকারের জন্য ব্রিটিশ মন্ত্রী সরব হয়েছেন। কিন্তু ভারতের রাজনীতিক ও নারীবাদীদের মধ্যে পিনপতনের নীরবতা।

    ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তির আগের দিনই শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (এসজিপিসি) বিরোধিতা শুরু করেছিল। ছবি মুক্তি পেলে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়াবে বলে দাবি ছিল এ সংগঠনের। পাঞ্জাবে এই ছবির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন সংগঠনের সভাপতি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি ছবিটির ওপর। 

    উল্লেখ্য, এর আগে ইমার্জেন্সি ছবিটি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেন্সর বোর্ডের কারণে ছবির মুক্তি স্থগিত হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে কিছু সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করা নিয়ে ছবিটিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে এত বাধা পেরিয়ে অবশেষে ১৭ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পায়। 

    এ ছাড়া ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি মুক্তির পূর্ব মুহূর্তে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির জন্য নাগপুরে ছবিটি প্রদর্শন করা হয়। ছবিটি দেখার পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি লিখেছিলেন— ভারতের ইতিহাসের কালো অধ্যায়কে সততার সঙ্গে উৎকৃষ্টভাবে উপস্থাপন করার জন্য মন থেকে পরিচালক এবং ছবির সব অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিতে। সবাইকে এ ছবি দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। 

    অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ‘ইমার্জেন্সি’  ছবি থেকে বেশ কিছু দৃশ্য বাদও দিতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। সব মিলিয়ে প্রথম পরিচালনা করতে গিয়ে ভালোই বেগ পেতে হয়েছে কঙ্গনাকে। তাই আগামী দিনে আর রাজনৈতিক ছবি তৈরির কথা ভাবছেন না তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রতিবাদের মুখে যুক্তরাজ্যে কঙ্গনার সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ

    বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের সিনেমা ‘ইমার্জেন্সি’ শুরু থেকেই নানা সমস্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে গত ১৭ জানুয়ারি সিনেমাটি স্বল্প পরিসরে মুক্তি পায়। ভারতের বিভিন্ন শহরসহ অনেক দেশেই এটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই নতুন করে ঝামেলায় পড়ল কঙ্গনার এই সিনেমা। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে খালিস্তানপন্থীদের প্রতিবাদের মুখে ইমার্জেন্সির শো বন্ধ করা হয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

    ভারতীয় গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, লন্ডনের স্থানীয় সময় রোববার রাতে হ্যারো ভ্যু সিনেমা হলে দেখানো হচ্ছিল ‘ইমার্জেন্সি’। সিনেমা চলাকালীন এক পর্যায়ে কয়েকজন মাস্ক পরিহিত লোক সিনেমাহলে ঢুকে পড়েন। তারা ভারতবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে হল কর্তৃপক্ষ সিনেমাটি বন্ধ করে দেয়।

    ওই সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন সালোনি বেলাইত নামে একজন ব্রিটিশ-ভারতীয়, সঙ্গে ছিল তার কয়েকজন বন্ধুও। তিনি জানান, সিনেমা শুরু হওয়ার ৪০ মিনিট বাদে এই ঘটনা ঘটে। মাস্ক পরিহিত কয়েকজন নারী ও পুরুষ ঢুকে ‘ডাউন উইথ ইন্ডিয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। তারা কিছু লিফলেটও দেয়। এসব লিফলেটে শিখ সম্প্রদায়ের গণহত্যার কথা উল্লেখ ছিল।

    এদিকে মাস্ক পরিহিতদের প্রবেশের ১০ মিনিট বাদেই হলটিতে পুলিশ হাজির হয়। তবে তারা কাউকে গ্রেফতার করেনি। তারা সিনেমা হলে উপস্থিত দর্শকদের বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে সকলেরই। যেহেতু কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তাই কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

    ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েন সিনেমা হলটিতে থাকা কর্মরতরা। তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ করে দেন।

    কঙ্গনার বহুল আলোচিত ইমার্জেন্সি সিনেমা ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেন্সর বোর্ড সিনেমার মুক্তি আটকে দেয়।  প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে কিছু সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করা নিয়ে ছবিটিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বাদ দিতে হয় কিছু দৃশ্যও। সিনেমাটিতে ইন্ধিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন কঙ্গনা। সিনেমাটির পরিচালক ও প্রযোজকও তিনি।  

    বিনোদন ডেস্ক