Tag: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

  • সুচিত্রা সেনের মতো হঠাৎ হারিয়ে যেতে চান ঋতুপর্ণা

    বিনোদন জগতের টালিউডের জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মাঝে মধ্যেই গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে বলেন থাকেন—নায়িকা জীবন খুবই কঠিন। সেই জীবনের সঙ্গে অন্য পেশার কোনো মানুষের জীবন মেলানো আরও কঠিন। কোনোভাবে দুটি জীবন মিলে গেলে তার থেকে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। তাই অভিনেত্রী প্রতিদিন নিজেকে নির্মাণ করেন। সেই নির্মাণের কিছু অংশ নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যে শেয়ার করে দেন। আমি তো কিছুই নিয়ে যেতে পারব না বলেও জানান ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। 

    সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে আবারও তার মনের কথা তার ভক্ত-অনুরাগীদের জানালেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বলতে পারেন— আমার জীবনে এ যেন এক বিশেষ সময়। ১৫ বছর পর আমার প্রযোজিত ছবি ‘পুরাতন’ দিয়ে বাংলা ছবিতে ফিরছেন শর্মিলা ঠাকুর। পর্দায় তিনি মা, আর আমি মেয়ে। কাজের সুবাদে তাকে খুব কাছ থেকে দেখার আমার সৌভাগ্য হলো। অনেক কিছু জানার সুযোগ ঘটল। এটাই আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি।

    ঋতুপর্ণা বলেন, এ রকমই আরও এক প্রাপ্তি— সুচিত্রা সেনের জন্মদিনে ওর নাতনি রাইমা সেনের আমন্ত্রণ। অভিনেত্রী মুনমুন সেন, রিয়া সেন আর রাইমার হাত ধরে এই প্রথম ম্যাডাম সেনের ‘উত্তর ফাল্গুনী’ সিনেমার পুরোনো, আসল পোস্টার দেখার সৌভাগ্য হলো। জানতে পারলাম অনেক অজানা কথা।

    অভিনেত্রী বলেন, ছেলে অঙ্কন আজ আমার সঙ্গী। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করাব বলেই ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেনবাড়িতে পা রাখা মানেই অজানা রোমাঞ্চ ঘিরে ধরে আমায়, আজও। তিনি বলেন, এখনো সুচিত্রা সেন মানে আমার কাছে একরাশ মুগ্ধতা ও স্বপ্ন। কেউ ওর চোখের প্রেমে পাগল, আবার কেউ ওর হাসির। আমার সত্তা জুড়ে ওর সামগ্রিক উপস্থিতি। আমি তাই ‘উত্তর ফাল্গুনী’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে ওর হাজতের গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে অনন্য সৌন্দর্য খুঁজে পাই। কিংবা ‘দীপ জ্বেলে যাই’ সিনেমাতে যখন কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়ে বলছেন— বিশ্বাস করুন, আমি অভিনয় করিনি। আমি অভিনয় করতে পারি না…। ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়।

    ঋতুপর্ণা বলেন, তখনই মনে হয়, দ্বিতীয় সুচিত্রা সেন আর হবে না। তার রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের উত্তরসূরি মুনদি, রাইমা ও রিয়া— বোঝাচ্ছিলাম ছেলেকে। নিজেও ভাবছিলাম, আমিও তো কাজের মধ্য দিয়ে ওকে অনুসরণ করার চেষ্টা করি। যেমন— প্রতিদিন নিজেকে তৈরি করি। আমার নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে শেয়ার করে দিই। এই দেওয়া-নেওয়াই আমার জীবন।

    অভিনেত্রী বলেন, সুচিত্রা সেন সত্যিই তারকা— যেন দূর আকাশের তারা। যার জ্যোতিতে আলোকিত হওয়া যায়। কিন্তু তাকে ছোঁয়া যায় না। সবার মধ্যে থেকেও যেন অনেক দূরে ও অন্তরালে। ঠিক যেমন— রাতের তারা লুকিয়ে থাকে দিনের আকাশে। তাই তো একান্তে দিনযাপন তার। আর তাই ঠিক সময়ে নিজেকে সবার থেকে সরিয়ে নিতে পেরেছেন! 

    তিনি বলেন, আমারও কোনো কোনো সময় সুচিত্রা সেনের মতো মনে হয়— হঠাৎ একদিন হারিয়ে যাই। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও পারি না। আমার যে পিছুটান অনেক। অনেকে আমার ওপরে নির্ভরশীল। তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রেখে যাই কী করে?

    ঋতুপর্ণা বলেন, আমার সান্ত্বনা তাই এ টুকুই। মুনদি বলছেন, আমার ছবি ম্যাডাম সেন দেখেছেন। শুধু দেখেননি, প্রশংসাও করেছেন। বলেছেন— মেয়েটি কেবল সুন্দরী নয়, অভিনয়ও পারে। এই জোরেই ও অনেক দূর যাবে। আমিও ওর বলা কথা আঁকড়ে লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আমার যে এখনো অনেকটা পথ হাঁটা বাকি…।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নারী মানেই দেহসর্বস্ব নয়— এটা বোঝাতে আর কতদিন: ঋতুপর্ণা

    হতেই পারে— কোনো পুরুষের মধ্যে নারীসুলভ গুণ বা বৈশিষ্ট্য বেশি। তাতে সমস্যা কোথায়? আমার তো কোনো সমস্যা হয় না। উদাহরণ হিসাবে মনে পড়ছে ঋতুপর্ণ ঘোষের কথা। 

    গতকাল শনিবার (৮ মার্চ) নারী দিবস উপলক্ষ্যে একটি গণমাধ্যমে জানালেন তার মনের কথা। নারী মানেই দেহসর্বস্ব নয়, তাদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তাও রয়েছে। এটা বোঝাতে আর কত যুগ কেটে যাবে বলে জানান টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। যা যুগান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

    ঋতুপর্ণা বলেছেন, নারীদের লড়াইয়ের কোনো আদি-অন্ত নেই। লড়াই চলতেই থাকে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। আমার জীবনে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে লড়াই। এই জায়গা থেকে আমার উপলব্ধি— লড়াই আর লড়াইয়ের ক্ষমতা নিয়েই বুঝি নারী জন্মেছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যে সে লড়ে যায়, লড়ে নেয়। যতদিন থাকব, থাকবে সে আমাদের সঙ্গে। তবে হ্যাঁ, লড়াইয়ের লক্ষ্য যেন স্থির থাকে। লক্ষ্যহীন লড়াই একটা সময়ের পর অর্থহীন, মূল্যহীন— অন্তত আমার কাছে তা-ই। এই লক্ষ্য নিজেকেই তৈরি করতে হবে। সেই লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। অনেক সময়েই হয়তো নানা কারণে পিছু হটতে হয়। তার পরও এগিয়ে চলাই কাম্য।

    অভিনেত্রী বলেন, আমার মনে হয়, নারী যেন বহমান নদী। নদীপথে অনেক নুড়ি, বালি, কাঁকর জড়ো হয়। তাতে নদীর গতি রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। নদী কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেসব পেরিয়ে এগিয়ে চলে। আমরা নারীরাও যেন তাই-ই। এভাবেই বাধা-বিপত্তি ঠেলে সরিয়ে প্রতিমুহূর্তে এগিয়ে যাই। যতক্ষণ না আমাদের কেউ এসে ধ্বংস করে দেয়। যদিও নারীকে ধ্বংস করা এত সহজ নয়।

    তিনি বলেন, একুশ শতকেও নারী পণ্য না মানুষ— এই নিয়ে তর্ক হয়। আমার চোখে নারী স্বাধীন, নিজস্ব পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকা সম্পূর্ণ। যে নারী সংসার-সন্তান সামলে এগিয়ে চলেন। যিনি পারেননি, পারেন না বা করতে চান না— তিনিও। নারীকে দশভুজা হতেই হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সে যেমন, তাতেই সে পরিপূর্ণ। হ্যাঁ, একসঙ্গে অনেক কিছু করতে পারলে আরও ভালো। অবশ্যই সেটি তার বাড়তি গুণ। একইভাবে না থাকলেও কোনো ক্ষতি নেই।

    ঋতুপর্ণা বলেন, এগুলো যদি নারীর গুণ হয় তা হলে কোনো পুরুষ যদি নারীসুলভ হন সেটিও তার গুণ, অন্তত আমি মনে করি। হতেই পারে, কোনো পুরুষের মধ্যে নারীসুলভ গুণ বা বৈশিষ্ট্য বেশি। তাতে সমস্যা কোথায়? আমার তো কোনো সমস্যা হয় না! বরং যারা এই ধরনের মানুষদের কটাক্ষ করেন, ব্যঙ্গ করেন— আমার তাদের নিয়ে আপত্তি, তাদের নিয়ে সমস্যা। 

    অভিনেত্রী বলেন, এটা তাদের অশিক্ষা। উদাহরণ হিসাবে মনে পড়ছে ঋতুপর্ণ ঘোষের কথা। ঋতুদার সঙ্গে যতগুলো কাজ করেছি, সেগুলো আলাদা মাত্রা যোগ করেছে আমার জীবনে। আজ মনে হয়, ঋতুদা শরীরে-মনে নারীর বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছিলেন বলেই যে কোনো মেয়েকে খুব ভালো বুঝতে পারতেন। ওর ছবিতে নারী চরিত্র তাই অন্যভাবে ধরা দিত। ওকেও অনেক কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছে। ঋতুদার জীবদ্দশায় ওর কাজ, ওর গুণের থেকে ওর নারীসুলভ আচরণ বেশি আলোচিত। এটা সমাজের অশিক্ষা, আমাদের সমস্যা। ঋতুপর্ণ ঘোষের নয়। এই জায়গা থেকেই বলতে ইচ্ছে করছে— নারী মানেই দেহসর্বস্ব নয়, তাদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তাও রয়েছে। এটা বোঝাতে আর কত যুগ কেটে যাবে? 

    ঋতুপর্ণা বলেন, প্রকৃতি নারীকে এভাবেই তৈরি করেছে, তাকে সাজিয়েছে। তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। সেই দেহকাঠামোই নারীর প্রতি লোলুপ করেছে পুরুষকে, আজও! আদিম, বর্বর যুগের কথা না হয় আলাদা। তখন মানুষের শিক্ষা ছিল না। নারী-পুরুষ লিঙ্গভেদ নয়, সবাই মানুষ— এই বোধ তাদের ছিল না। এখন তো আমরা নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করি! তার পরও নারীদেহ কেন ভোগ্যপণ্য? কেন তার ওপর এখনো পাশবিক অত্যাচার চলবে? আমাদের সমাজের ত্রুটি। প্রকৃত শিক্ষার অভাব। তাই এখনও নারী পাশবিক অত্যাচারের শিকার। আরও সচেতনতার প্রয়োজন। আরও বেশি করে প্রতিবাদী হতে হবে। নারীর নিজের অধিকার নিয়ে সরব হতে হবে, তবে যদি অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ইদানীং কেন জানি মনে হয়, সহ্য করতে করতে নারী এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে সে-ও প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই নীরব!

    অভিনেত্রী বলেন, হ্যাঁ, আমাদের পেশায় এখনো নায়করাই এগিয়ে। উপার্জন, সম্মান, যশ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি— সব দিক থেকে। ইদানীং কখনো-সখনো নায়িকা বেশি পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। সেটা যদিও খুব কমই ঘটে। এখন আগের তুলনায় নারীকেন্দ্রিক ছবিও বেশি তৈরি হচ্ছে। সেসব ছবিতে কাজ করে উপার্জনের ক্ষেত্রে হয়তো নায়িকা এগিয়ে থাকেন। কিন্তু তার সংখ্যাও খুবই কম। যেদিন নায়ক-নায়িকা উভয়েই সমান গুরুত্ব পাবেন, একমাত্র সে দিন এ সমস্যা মিটবে।

    তিনি বলেন, এর সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। সেই নায়িকা যদি উচ্চাকাঙক্ষী হন, তা হলে কী হবে? কেন বললাম এই কথা? কারণ একজন নারীর এই চাওয়া পেশা এবং ব্যক্তিগত জীবন— দুদিকেই চরম অশান্তি ডেকে আনে। আশা ভোঁসলেজিও এই মত সমর্থন করে একসময় বলেছিলেন, এই মানসিকতার মেয়েদের সংসার করা উচিত নয়। মেয়েদের উচ্চাশা এখনো পরিবার, সমাজ এবং পুরুষ মেনে নিতে পারে না। নারীদের উচ্চাকাঙক্ষী হওয়াতে আমি দোষের কিছু দেখি না। উঁচুতে উঠতে কে না চায়?

    অভিনেত্রী বলেন, এ প্রসঙ্গে শর্মিলা ঠাকুরের একটা কথা মনে পড়ছে। সুমন ঘোষ পরিচালিত ‘পুরাতন’ ছবি দিয়ে ১৪ বছর পর বাংলা ছবিতে ফিরলেন। ছবির প্রযোজনা এবং অভিনয়ের সুবাদে খুব কাছ থেকে দেখলাম ওকে। পরিপূর্ণ এক নারী। সৌন্দর্য, শিক্ষা, রুচি, অভিনয় প্রতিভার সমাহার তার মধ্যে। পেশাজীবনের পাশাপাশি সংসার সামলানো, নিখুঁতভাবে স্ত্রী-মা-দিদার ভূমিকা পালন করা— একজন নারীই পারে এত কিছু করতে। আমার চোখে শর্মিলা ঠাকুর তাই আদর্শ নারী।

    ঋতুপর্ণা বলেন, আর এক নারীর কথা না বললে নারী দিবস নিয়ে আমার ভাবনা যে অসম্পূর্ণ হবে। তিনি আমার মা নন্দিতা সেনগুপ্ত। মাত্র তিন মাস আগে মাকে হারিয়েছি। আমার জীবনপথের ধ্রুবতারা। সারাক্ষণ মাকে মনে পড়ছে। মায়ের বলা কথা, মায়ের গায়ের গন্ধ, মায়ের ভাবনা— আমাকে যেন আচ্ছন্ন করে রেখেছে। মা আমার জীবনকে যেভাবে গুছিয়ে দিয়ে গেছেন, তিনি না থাকলে আজকের ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে কেউ পেতেন না। মায়ের কথা বলতে বসলেই ইদানীং চোখ ভিজে যায়, ‘মা হারানো কী যন্ত্রণা বোঝাই বলো কেমন করে।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • যাকে সুপুরুষ নায়ক মনে করেন ঋতুপর্ণা

    ওড়িয়া সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা উত্তম মহান্তি গত বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুতে টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত শোকস্তব্ধ। কারণ তিনি কখনো অভিনেত্রীর নায়ক ছিলেন, আবার কখনো বাবা। 

    তার মৃত্যুতে শোকাহত ঋতুপর্ণা বলেন, বাংলায় যেমন উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তা, ওড়িয়ায় সমান জনপ্রিয় উত্তম মহান্তি। যেমন সুপুরুষ তেমনই সুন্দর হাসি। আচার-আচরণেও তিনি উত্তম। তিনি বলেন, আমার অভিনয়ের প্রথম জীবনের নায়ক। ওর হাসিমুখ দেখলেই মন ভালো হয়ে যেত।

    ওড়িয়ার এ খ্যাতনামা নায়কের সঙ্গে ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের লম্বা সফর। এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, পাঁচটি ছবিতে সম্ভবত আমরা অভিনয় করেছিলাম। ওর জন্মস্থান বারিপদায় আমরা কত নাচের দৃশ্যের শুটিং করেছি। এত হিট সিনেমার নায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু কী মিষ্টি ব্যবহার। আমাকে উল্টে ডাকতেন ‘সুইট মেয়ে’ বলে। 

    ঋতুপর্ণা তখন সদ্য অভিনয় দুনিয়ায় এসেছেন। উত্তম তাকে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন। সেটে বাকিদের বলেছিলেন— এই ছোট্ট, মিষ্টি মেয়েটা কে? তার পর থেকেই ওই বিশেষ নামে সম্বোধন করেন।

    তিনি বলেন, উত্তম যেমন অনেক বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন, তেমনই আমিও ওর কয়েকটি ওড়িয়া ছবির নায়িকা। কিছু সিনেমায় আমাদের সঙ্গে মহাশ্বেতাদিও অভিনয় করেছিলেন। সেটে সবাই মিলে খুবই মজা করতাম। 

    পরে পরিচালক স্বপন সাহার একটি সিনেমায় তিনি নায়িকার বাবা। নায়িকা তখন লেক মার্কেটে থাকেন। বাংলা ছবিতে অভিনয়ের সময় উত্তম মহান্তি লেক মার্কেটের এক গেস্ট হাউসে প্রায়ই থাকতেন। সেই সময় ঋতুপর্ণার বাড়িতে যেতেন। খাওয়াদাওয়া, আড্ডায় দিনগুলো যেন পাখা মেলে উড়ে যেত। অভিনেত্রীর বাবাকে খুবই শ্রদ্ধা করতেন সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা। তারপরও অনেক বার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে দুজনের। এখন সেসব স্মৃতি।

    প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ঋতুপর্ণার বলেন, উত্তমদা ওড়িয়া বিনোদন দুনিয়ায় এক আলাদা রোমান্টিক ঘরানা তৈরি করেছিলেন, যা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ওর রাজ্য। উত্তমদার ছেলে বাবুসানও নিজের প্রতিভায় খ্যাতনামা। আশা করি, আগামী দিনে বাবার ঐতিহ্য যথার্থভাবে বহন করে নিয়ে যাবে।

    উল্লেখ্য, ১৯৫৮ সালে বারিপদায় জন্ম উত্তম মোহান্তির। ওড়িয়া সিনেমার জগতে অতি জনপ্রিয় মুখ এ অভিনেতা। কর্মজীবনে ১৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে সিনেদুনিয়ায় পথচলা শুরু হয় তার সাধু মেহের পরিচালিত ‘অভিমান’ ছবি দিয়ে। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে ওড়িয়ার পাশাপাশি বাংলা সিনেমাতেও নজর কাড়েন।

    অন্তত ৩০টি বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নয়া জাহির নামে একটি হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন অভিনেতা। ১৯৯৯ সালে জয়দেব পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাকে। ২০১২ সালে তিনি ওডিশা লিভিং লিজেন্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। ওড়িয়া সিনেমায় তার অবদানের জন্য একাধিকবার ওড়িশা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পান অভিনেতা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বইমেলায় ঋতুপর্ণা, শোনালেন গল্প

    ৪৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা প্রাঙ্গণে দুপুর গড়তেই বইপ্রেমীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এসবিআই অডিটোরিয়ামের বাইরে বইপ্রেমীদের হাতে মোবাইল ক্যামেরা তাক করা। সবার সঙ্গে হাসিমুখে সেলফি তুলছেন টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তবে বই কিনতে নয়, রবিবার অভিনেত্রী বইমেলায় গিয়েছিলেন তার নতুন ছবির সঙ্গেই দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিতে।

    আকাশবাণীর কর্মী ও লেখিকা বেলা দে-র জীবনীচিত্রে অভিনয় করেছেন টালি অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ছবির নাম ‘বেলা’। অভিনেত্রী বলেন, বেলা যে সময়ে নারী ক্ষমতায়নে ব্রতী হয়েছিলেন, সেই সময়ে মেয়েদের সেভাবে নিজের কথা বলার অধিকার ছিল না। এ রকম একটি চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সৌভাগ্য মনে করছেন অভিনেত্রী। 

    ‘বেলা’র কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা। বেলা নিজে রান্না করতে পছন্দ করেন। অভিনেত্রী মুচকি হেসে বলেন, ব্যস্ততার কারণে কলকাতায় বাড়িতে রান্না করতে সময় পাই না। তবে সিঙ্গাপুরে অনেক সময়েই নিজের হাতে রান্না করি এবং আমার হাতের রান্না সবাই বেশ পছন্দও করেন।

    তিনি বলেন, তার মা ছিলেন বেলার রন্ধনশিল্পসংক্রান্ত বইগুলোর ভক্ত। সম্প্রতি মাকে হারিয়েছেন তিনি। মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল ছবিটা দেখার। কিন্তু সেটা হলো না। ঋতুপর্ণা বলেন, আমার বিশ্বাস, মা যেখানেই রয়েছেন, এই ছবিকে আশীর্বাদ করবেন। তিনি বলেন, মা যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, সেই সময় এ ছবির শুটিং করেছিলেন তিনি।

    সেই কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত জীবন এবং পর্দায় বেলার জীবন যেন কোথাও মিলেমিশে গিয়েছিল অভিনেত্রীর। আজ ঋতুপর্ণার বাড়িতে সরস্বতী পূজার আয়োজন। কিন্তু মায়ের কথা ভেবেই চলতি বছরে বিশেষ একটা জাঁকজমকের ইচ্ছে নেই তার।

    অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘বেলা’ ছবিতে একঝাঁক অভিনেতা অভিনয় করেছেন। রয়েছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, সৌরভ চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, ভদ্রা বসু প্রমুখ।

    নিজের প্রথম ছবির জন্য বেলা দে-র মতো একজন নারীকেই কেন বেঁচে নিলেন পরিচালক?—এমন প্রশ্নের উত্তরে অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিন নারীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি— যারা সারাদিন বাড়িতে কাটান, তারা কোনো শিল্পীর থেকে কম নয়। যিনি রান্না করছেন তিনিও শিল্পী। এ ছবির মাধ্যমে নারী স্বাধীনতার বার্তা দিয়ে ‘বেলা’কে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে চান তিনি। পরিচালক বলেন, ছবিটির শুটিং শেষ হয়েছে। মুক্তির দিনক্ষণ শিগগিরই জানানো হবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমি বোধহয় এক ইঞ্চি হলেও বেশি সুখী: ঋতুপর্ণা

    আগে প্রেম তার পর বিয়ে। এরপর সাতপাকে বাঁধা ২৫ বছরের সফর। ২৫তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আনন্দবাজার অনলাইনের মুখোমুখি হলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললেন ২৫ বছর একছাদে বসবাসের জীবনকাহিনি, যা যুগান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

    শুরুতেই বলি— নায়িকা জীবন খুব কঠিন। সেই জীবনের সঙ্গে অন্য পেশার কোনো মানুষের জীবন মেলানো আরও কঠিন। কোনোভাবে দুটি জীবন মিলে গেলে তার থেকে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। ২৫ বছর ধরে সঞ্জয় চক্রবর্তী, মানে আমার স্বামীর সঙ্গে একছাদের নিচে কাটানোর পর আমাদের দাম্পত্য নিয়ে এটিই আমার উপলব্ধি।

    সঞ্জয়কে সেই কত ছোট থেকে চিনি— তখন আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। ও ক্লাস টেনে পড়ে। তখন থেকে আমাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা। ও বরাবরের মতো গুরুগম্ভীর। পড়াশোনায় বেশ ভালো। পরে বিদেশে পড়তে যায়। আমার বাবার একটাই চাওয়া— ছেলেকে শিক্ষিত হতে হবে। মায়ের দাবি— সেই সঙ্গে ভালো পরিবারেরও হওয়া যাই। সঞ্জয় তাই যখন বাড়িতে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন আমার মা-বাবা দ্বিতীয়বার ভাবেননি। আরও কাণ্ড শুনবেন— যেদিন ও আমাদের বাড়িতে বিয়ের কথা বলতে এসেছিল, সেদিন আমি বাড়িতে ছিলাম না, শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

    এই জায়গা থেকেই বলব— নায়িকার সঙ্গে ঘর করা খুব সহজ কথা নয়। সঞ্জয়ও একইভাবে প্রচণ্ড ব্যস্ত। তবু সে একা হাতে নিজের বাড়ি, আমার বাড়ি সামলে গেছে। তাই বলে কি মনোমালিন্য হয়নি? কথা কাটাকাটি হয়নি? রাগে-অভিমানে আমরা সাময়িক বিপরীত মেরুর বাসিন্দা হইনি?— সব হয়েছে। আবার সব মিটেও গেছে। আমার মায়ের সঙ্গে সঞ্জয়ের কী যে ভালো সম্পর্ক! মাকে মান্য করে। আবার বন্ধুর মতো ভালোবাসে। আজ তাই আমাদের খুব মনখারাপ। মা নেই, ২৫ বছরের উদযাপনও নেই। কলকাতাতেই আছি। কাছের কয়েকজন বলেছেন— দেখা করতে আসবেন, ব্যস! ওই পর্যন্ত।

    আমার মা চোখে চোখে রাখত সঞ্জয়কে। আমার সঙ্গে যখনই ঝগড়া হয়েছে, মা-বাবা দুজনেই সঞ্জয়ের পক্ষে। উল্টে আমায় ধমক দিত—সঞ্জয়ের ভুল হতেই পারে না। শিক্ষিত, তোর থেকে বয়সে বড়। অভিজ্ঞতাও বেশি। ওর কথা শুনে চলবি। একদম ওর বিরুদ্ধে কিছু বলতে আসবি না। 

    সঞ্জয়ও তেমনি। রাগারাগি হলে মাকে সালিশি মানত। আরও একটা ব্যাপার ছিল। জামাইষষ্ঠীতে মা জামাইকে খাওয়াতে খুব ভালোবাসত। সঞ্জয় ফিশফ্রাই খেতে ভালোবাসে। কলকাতায় থাকলে নিজের হাতে ফ্রাই বেঁধে, ভেজে খাওয়াত। আমরা সিঙ্গাপুরে। মা বাঁধা ফিশফ্রাই বাক্সে ভরে পাঠিয়ে দিত। আমি যেন ভেজে ওকে খাওয়াই। ও আমেরিকায় অনেকটা সময় কাটিয়ে ফিরেছে। খাওয়াদাওয়া সে দেশের মতো হয়ে গেছে। 

    এদিকে মা তো জামাইয়ের জন্য রকমারি রান্না করেছে। সঞ্জয়ের খাওয়ার অভ্যাস বদলে গেছে জেনে আবার নিজে পাতলা করে স্ট্যু রেঁধে দিয়েছে। শুরুতে তাই জামাই শাশুড়িকে প্রায়ই অনুরোধ জানাত—যেন আসামিকে শাস্তি দেওয়া হয়। এত খাবার খাওয়া যায়? আমি এত খেতে পারি না।

    কতবার এমন হয়েছে— মা সিঙ্গাপুরে মেয়ের কাছে গেছে। এদিকে মেয়ে অন্য কোথাও শুটিংয়ে ব্যস্ত। মায়ের মুখ ভার বলেন, তোমার তো আমার জন্য সময়ই নেই! সারাক্ষণ শুটিং। সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জয় বলে উঠত— চিন্তা করবেন না ‘মিল’ (মাদার ইন ল)। আমি আছি, সঙ্গ দেব। দিতও তাই। এক বার হঠাৎ মায়ের দাঁতে ব্যথা। সঞ্জয় দায়িত্ব নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে সব করে দিল। শেষের দিকে আমরা মাকে ড্রেস পরাতাম। মা আর শাড়ি সামলাতে পারত না বলে। সঞ্জয় বলত— ঝটপট ড্রেস পরে আমার সঙ্গে ঘুরতে চলুন।

    এতগুলো বছর পেরিয়ে মাঝেমধ্যে পেছন ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে। বিনোদন দুনিয়ায় অনেকেই দম্পতি। তারা খুবই ভালো আছেন।ওদের দেখতে দেখতে তবু মনে হয়— আমি বোধহয় এক ইঞ্চি হলেও বেশি সুখী। কারণ একই পেশায় থেকে হাতের ওপরে হাত রাখা সহজ কথা নয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘সরকার পড়ে যাওয়ার পর ঋতুপর্ণার বাড়িতে নাকি ছিল ফেরদৌস’

    গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গা ঢাকা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতাকর্মী। তাদের মতোই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদও। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি।

    ফেরদৌস লাপাত্তা হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে গুঞ্জন শুরু হয়, ভারতে পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী ঋতুপর্ণার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। যদিও ঋতুপর্ণা এটিকে স্রেফ গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন।

    তবে সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-র সঙ্গে আলাপে আবার সে প্রসঙ্গ ফিরিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের আরেক অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলেছেন, ‘সরকার পড়ে যাওয়ার পর ঋতুপর্ণার বাড়িতে নাকি ছিল ফেরদৌস। যাই হোক, ওখানে তো একটা রেভ্যুলুশন হয়েছে। ওখানকার মানুষদের চাহিদার কথা তো মাথায় রাখতেই হবে।’

    ফেরদৌসের সঙ্গে সখ্যতার কারণে বাংলাদেশের সিনেমা ‘তরী’ থেকে বাদ পড়েছেন ঋতুপর্ণা। সিনেমাটির পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন, বিতর্ক সৃষ্টি না করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ঋতুপর্ণাকে বাদ দিয়ে শ্রীলেখা মিত্রকে সিনেমায় কাস্ট করেছেন নির্মাতা রাশিদ পলাশ। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেছেন, ’আমি জানতাম না ঋতুপর্ণার বিষয়টা। ওরা আমার সঙ্গে সিনেমার ব্যাপারে সেপ্টেম্বরের আগে যোগাযোগ করে। তখন কিছু ইস্যু হয়ে যাওয়ায়, আমার আর কাজটা করা হয়নি। পরে গল্পটা শুনে ভাল লেগেছিল। তারপর ওরা আমার সঙ্গে আলোচনা করল, কীভাবে কাজটা কি করা যায়। এভাবেই সম্পর্কটা তৈরি হলো।’

    শ্রীলেখা যোগ করেন, ‘তিনটা মেয়ের গল্প এই ছবিটা। ঐ দেশের নায়িকারা রয়েছেন। খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফেরদৌসের বন্ধু ঋতুপর্ণা আউট, শ্রীলেখা ইন

    ঢাকাই সিনেমার নায়ক ফেরদৌসের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ ওপার বাংলার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। প্রায় অর্ধশত ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেই ফেরদৌসের বাড়িতে ঘুরতে যান ঋতুপর্ণা। ভারত গেলে ঋতুপর্ণার বাসায় না গিয়ে আসেন না বাংলাদেশের চিত্রনায়ক।

    জুলাই বিপ্লবের আগে আগে সেই ঋতুপর্ণাকে নিয়ে নতুন সিনেমার কাজ শুরু করেন ঢালিউডের রাশিদ পলাশ। ছবির নাম ‘তরী’। প্রথম লটের শুটিং হয়ে আটকে যায় বিপ্লবে অচলাবস্থার কারণে।

    তবে অবশেষে ৫ মাসের মাথায় জানা যায়, সিনেমা থেকে বাদ পড়েছেন ঋতুপর্ণা। যুক্ত হয়েছেন একই শহরের শ্রীলেখা মিত্র।

    রোববার (৮ ডিসেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা রাশিদ পলাশ। তিনি বললেন, শ্রীলেখা মিত্রের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে সম্প্রতি কলকাতায় গিয়েছিলাম। গতকাল (৭ ডিসেম্বর) ফিরেছি। শ্রীলেখাকে পেয়ে আমরা আনন্দিত।’

    নির্মাতা জানান, চিত্রনাট্যে ঋতুপর্ণার চরিত্রের যে পরিধি ছিলো সেটি আরও বাড়ছে শ্রীলেখাকে ভেবে।

    কিন্তু এক লটের শুটিং হয়েও ঋতুপর্ণাকে কেন বাতিল করা হলো? এমন প্রশ্নের জবাব সরাসরি না দিলেও এটুকু জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ বদল করেছেন তিনি।

    বলা দরকার, এ ক্ষেত্রে ‘তরী’ থেকে ঋতুপর্ণার বাদ পড়ার মূল কারণে রয়েছেন নায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌস। নির্মাতা চাননি, ফেরদৌসের সূত্র ধরে ছবিটির শুটিং ও মুক্তিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হোক।

    নির্মাতা বলেন, ‘আমরা ছবিটির প্রথম ধাপের শুটিং শেষ করেছি। সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এসে শুটিংয়ে যোগ দেওয়ার কথাও ছিল ঋতুপর্ণার। জুলাইর প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় ও শেষ লটের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। এরই মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিডিউল ভেস্তে যায়। এখন নতুন করে শুটিংয়ে পরিকল্পনার কথা ভাবছি।’

    এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় ছবির প্রথম ধাপের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মাসেই সিলেটে দ্বিতীয় ধাপের শুটিংয়ে যুক্ত হবেন শ্রীলেখা।

    আহাদুর রহমানের গল্পে ‘তরী’ সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। ছবিতে আরও অভিনয় করছেন তুষার খান, সুমন আনোয়ার, রেহনুমা। ২০২৫ সালে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতার।

    ঋতুপর্ণার মতো অতোটা জনপ্রিয় না হলেও শ্রীলেখা মিত্রও বাংলাদেশে ভালোই পরিচিত। এর আগে যৌথ প্রযোজনায় বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছেন। সর্বশেষ বাংলাদেশের ওয়েব সিনেমা ‘কলকাতা ডায়েরিজ’-এ তিনি অভিনয় করছেন। যা তৈরি করেছেন নির্মাতা রাশেদ রাহা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের বীজ বুনেছিল মা: ঋতুপর্ণা

    টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের মা নন্দিতা সেনগুপ্ত মারা গেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার বিকালে ৩টা নাগাদ বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭৬। 

    অভিনেত্রী সেই মাকে নিয়ে স্মৃতিকথা জানালেন আনন্দবাজারে। মাকে হারানোর কষ্ট আর এক বুক ভালোবাসা নিয়েই এ অভিনেত্রী বললেন, মায়ের জোরেই আজ আমি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। মা স্পষ্ট জানিয়েছিল— সব কিছুতে এগিয়ে যেতে হবে তোকে। তিনি বলেন, আজ সেই মা চলেই গেল। আটকাতে পারলাম না। সব কেমন ওলটপালট। 

    অভিনেত্রী ঋতুপর্ণার কথা সবাই জানে। নন্দিতা সেনগুপ্তের মেয়েকে কতজনই বা জানত! আমার জীবনে এগিয়ে যাওয়া, সফল ভাবে কাজ করা, ভেঙে পড়া, উঠে দাঁড়ানো— সব মায়ের কঠোর সমর্থনে বলে জানান ঋতুপর্ণা। 

    তিনি বলেন, শুধুই মা। মা আমার দুর্গা। আমার মনের জোর। জন্ম থেকে আমার মধ্যে যে আত্মবিশ্বাসের বীজ বুনে দিয়েছিল, সে মা। তার জেরেই আমি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সব কিছুতে এগিয়ে যেতে হবে আমাকে, এটাই মায়ের স্পষ্ট বার্তা ছিল। তিনি আরও বলেন, মেয়ে বলে আলাদা করে মানুষ করা, এমন কখনো দেখিনি মায়ের মধ্যে।

    ঋতুপর্ণা বলেন, মা আচমকাই অক্টোবরের শেষের দিকে হাসপাতালে ভর্তি হলো। আগেও হয়েছে। কিন্তু ফিরে এসেছে। সে কারণেই ভাবলাম, যার এত মনের জোর সে ঠিক ফিরবেই। কিন্তু ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হতে শুরু করল। একদিন মনে হলো কার কাছে যাব? মা বাড়িতে নেই। মা কথাও বলছে না। কাছে যাচ্ছি কিন্তু গেলেও তো জড়িয়ে ধরে সব কথা, সমস্যার কথা বলতে পারছি না। কী করি? 

    এ অভিনেত্রী বলেন, হাসপাতালে মাকে দেখে রবিনসন স্ট্রিটে মায়ের বাড়ি চলে গেলাম। অস্থির মন। মাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছি। মন ডুকরে উঠছে। কোথায় মা? কী মনে হলো, মায়ের শাড়ির আলমারি খুললাম। ওখান থেকে আর সরতে পারি না। কত শাড়ি। আমার কত স্মৃতি জড়িয়ে ওই আলমারিতে। আর তখনই মায়ের গন্ধটা পেলাম। মাকে না পেয়ে ওই শাড়িগুলোই ঘাঁটছিলাম আমি। মনটা সেদিন স্থির হলো। যেন মাকেই খুঁজে পেলাম।

    তিনি বলেন, তখনো ভাবিনি মাকে হাসপাতালেই শেষ দেখব। বিগত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের ঘেরাটোপে আমার মাকে শুধু কষ্ট পেতেই দেখলাম। আমি কাজের জন্য যেমন নিয়মিত বাইরে যাই, এবার আর যাইনি। দুটো দিন জরুরি কাজ ছিল, তাই যেতেই হলো। বাকি দিনগুলো শহর ছাড়িনি। মনে হতো মায়ের কাছেই আছি।

    ঋতুপর্ণা বলেন, ছোটখাটো প্রতিটা সুখ-দুঃখের অনুভূতি মনে পড়ে যাচ্ছিল। স্কুলজীবনে ভোর চারটে নাগাদ আমাকে ঘুম থেকে তুলে দিত মা। আমাকে পড়াত। এত সুন্দর বাংলা লিখতে পারত। মায়ের থেকেই সব শিখেছি আমি। এই কিছু দিন আগেও রবিঠাকুর বা নজরুল মা অনায়াসে আবৃত্তি করতে পারত। সারাটা জীবন দেখে এলাম মায়ের ঘরে রাত তিনটে পর্যন্ত আলো জ্বলছে। মা যেখানেই থাকুক রাতে আগে বই পড়ে তার পরে ঘুম। 

    তিনি বলেন, রবীন্দ্রসংগীত মা খুব ভালোবাসত। অন্য গানও ভালোবাসতো। আমার ছোটবেলা মায়ের সঙ্গে খুব আনন্দে কেটেছে, নিশ্চিত আশ্রয়ের কোল, আমার মায়ের কোল। ছোট বয়স থেকেই মা শিখিয়েছিল, যার যা নেই আমার থাকলে তাকে সেটি দিতে হয়। তখন থেকেই সামাজিক সচেতনতার বোধ তৈরি হয়েছিল আমার মধ্যে। তাই কিছু যদি দিতে পারি কাউকে, আমার খুব আনন্দ হয়। মা বুঝিয়ে দিয়েছিল দায়িত্ববোধ কী। এগুলো নিয়ে চলতে চলতেই জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।

    এ অভিনেত্রী বলেন, বকাও খেতাম খুব মায়ের কাছে। বড় হয়েও সেসব চলত পুরো মাত্রায়। খাবার নষ্ট করলে খুব রেগে যেত মা। আমার ছেলেমেয়েদেরও একই শিক্ষা দিয়েছে আমার মা। 

    তিনি বলেন, সব গুলিয়ে যাচ্ছে আমার। কোনো কথা বলতেই ভালো লাগছে না। এখন মায়ের কোলে মাথা রেখে একলা বড় একটা আকাশের তলায় যদি চলে যেতে পারতাম! কার কাছে পরামর্শ নিতে যাব আমি? কে বলবে—তুই কাজ করে যা, সব ঠিক হয়ে যাবে, ভেঙে পড়বি না! কার সঙ্গে মন খুলে ঝগড়া করব?

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘পুরাতন’ নিয়ে আসছি: ঋতুপর্ণা

    টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বাঙালির নতুন বছরে মায়ের কথা ভেবে সিনেমা ‘পুরাতন’ নিয়ে আসছেন। এ নিয়ে অভিনেত্রী কথা বলেছেন আনন্দবাজার অনলাইনে। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

    এ অভিনেত্রী বলেছেন, ৬ নভেম্বরের পর কথা বলা বন্ধ হয়ে গেল আমাদের। এখন দিনরাত্রি কাচের বাইরে থেকে উদ্বেগের চোখ নিয়ে মাকে দেখছি। আর পাঁচটা মানুষের মতোই আমাদের মা-মেয়ের সম্পর্ক। একে অপরের আবেগকে ঘিরে আমার এই লম্বা জীবন।

    ঋতুপর্ণা বলেন, ‘পুরাতন’ করতে গিয়ে পুরোনো বইয়ের গন্ধে ধুলোমাখা কবিতার কথাই মাকে বারবার খুঁজে পেয়েছি। ‘পুরাতন’ ছবিতে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর আমার মা হয়ে যেমন পুরোনোকে লালন করে রাখছেন, খুঁজে বেড়াচ্ছেন মুদিখানার দোকানের বিল। আমার মাকেও দেখেছি ঠিক সেভাবেই প্রাচীনকে আঁকড়ে থাকতে। মাকে যেমন কয়েক দিন আগেই মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম তার লেখা কবিতাগুলো। ছবিতেও আমি আমার মাকে অনেক পুরোনো কথা মনে করিয়ে দিতে থাকি…।

    তিনি বলেন, কষ্ট পাচ্ছে আমার মা। ক্রমাগত হাসপাতালে মাকে দেখতে দেখতে ঠিক করলাম— বাঙালির নতুন বছরে, মানে আগামী পহেলা বৈশাখে মা-মেয়ের গল্প ‘পুরাতন’ নিয়ে আসব। এই গল্প নির্ভরতার, আশ্রয়ের। আমার জীবনের সঙ্গে আচমকাই যেন আরও গভীর হয়ে মিশে গেছে ‘পুরাতন’।

    মুম্বাইয়ে ‘পুরাতন’ ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে ফের সাক্ষাৎ হয়েছিল ঋতুপর্ণার। ‘ভাবনা আজ ও কাল’ প্রযোজিত এই ছবি মা-মেয়ের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে। এই ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে শর্মিলার পাশে তার দুই মেয়ে সাবা আর সোহা ছিলেন। ছিলেন ছেলে অভিনেতা নবাব সাইফ আলি খান। ওদেরও মাকে নিয়ে নানা আবেগ। সাইফ তো সিঁড়িতে বসেই মায়ের ছবি দেখল। সারা আর সোহা মায়ের অভিনয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত। সেই ‘পুরাতন’ এবার কলকাতায়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এত সহজে কালিমা লাগানো যাবে না: ঋতুপর্ণা

    কলকাতার আলোচিত আরজি কর কাণ্ডের পর শ্যামবাজারের প্রতিবাদী অবস্থানে গিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছিল টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। এই ঘটনায় পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। এবার দুর্গাপূজার কার্নিভ্যালে নৃত্য পরিবেশন করে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। তবে ট্রলকারীদের উদ্দেশ্যে এবার মুখ খুললেন ঋতুপর্ণা। 

    ভাতরীয় সংবাদমাধ্য আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘আমি একজন শিল্পী শিল্পসত্তা নিয়েই আমার জীবন। আমার বিবেক-বোধ কারও কাছে জমা রাখিনি। অনেক বছরের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের ফলে আমার আজকে এই অবস্থান। আজও একইভাবে পরিশ্রম করি। আমার সম্বন্ধে অনেক কথা শুনি। কিন্তু নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকি। আমি অত্যন্ত পীড়িত এবং বিধ্বস্ত তিলোত্তমার ঘটনা নিয়ে। 

    কটাক্ষের বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, অনেক অনুষ্ঠান, অনেক পূজার উদ্বোধন বাতিল করেছি। পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি। কিন্তু দু’একটা কাজের দিকে আমার নাচের দল তাকিয়ে থাকে। তাদেরও সংসার খরচ বহন করতে হয়।

    তিনি বলেছেন, তিলোত্তমা কাণ্ডে বিচার চাই প্রতিনিয়ত। আমাকে কটাক্ষ করে, ছোট করে কিছু পাওয়া যাবে না। আমি নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার। একদম পরিষ্কার আকাশের মতো। কালিমা লাগানো যাবে না এত সহজে।

    ঋতুপর্ণা বলেন, আমাকে কোনো তকমা দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করি। মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান করি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর শেষ যাত্রাতেও গিয়েছিলাম। সিবিআই, সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টের কাছে আশা প্রার্থী যে তিলোত্তমা এবং ডাক্তাররা বিচার পাক।

    অভিনেত্রীর ভাষ্য, মাননীয়ার কাছেও প্রার্থনা জানাই। তবে আমাদের সবাইকে কর্ম করতে হবে। কর্ম আমাদের ধর্ম। কর্মের মধ্যেই প্রতিবাদ থাকবে। থাকবে সুবিচারের প্রতীক্ষা। তিলোত্তমার পরিবারকে আমার প্রণাম। ডাক্তারদের প্রতি সহমর্মিতা রইল। সুস্থ হয়ে উঠুক সবাই এই কামনা করি।

    বিনোদন ডেস্ক