Tag: আজমেরী হক বাঁধন

  • ‘সেই মুহূর্তটাই আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি’

    জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সরব ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কখনো সোশ্যাল মিডিয়ায়, কখনো শিল্পীদের সংগঠিত করে রাজপথে আন্দোলন মুখর ছিলেন তিনি, তুলে ধরেছেন জনগণের কণ্ঠস্বর।

    গত বছরের ৫ই আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। আজকে এক বছর পার হয়েছে সেই দিনটির। এই আগস্টের শুরু থেকেই নিজের সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের নানা স্মৃতি আর অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন বাঁধন। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪—এই দিনটির প্রতি তার আবেগ ও স্মৃতিচারণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

    মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লেখেন, আমি এই দিনটি চিরকাল মনে রাখব। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর সকাল—ভয় আর আশায় ভরা, কিন্তু সাহস আর অটল দৃঢ়তায় পূর্ণ ছিল। কী এক মুহূর্ত ছিল! কী এক অভিজ্ঞতা! এই দিনটা চিরদিনের জন্য আমার স্মৃতিতে খোদাই হয়ে গেছে।

    এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি পোস্ট দেন তিনি। তাতে তিনি জানান, ৫ আগস্টের দুপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যেন তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত।

    তিনি লেখেন, যখন খবর ছড়িয়ে পড়ে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন—জনতার গর্জনে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তখন যে উল্লাস, যে বিস্ফোরণ জনতার মাঝে দেখা গিয়েছিল, তা আমি জীবনে কখনো দেখিনি। বাসায় বসে, অফিস থেকে বা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করে এই অনুভূতি বোঝা যাবে না। এটা বুঝতে হলে আপনাকে সেখানে থাকতে হতো।

    তিনি আরও লেখেন, পুরো জাতি একসঙ্গে জেগে উঠেছিল। কেউ কেঁদেছে, কেউ হেসেছে, কেউ নেচেছে, কেউ স্লোগান দিচ্ছিল। বাতাসে ছিল স্বাধীনতার বিদ্যুৎ। সেই মুহূর্তটাই আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। আমি বাংলাদেশের মানুষদের নিয়ে গর্বিত। কী এক বিজয়! কী এক অসাধারণ সাফল্য!

    উল্লেখ্য, আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে নানা সময়ে রাজপথ ও অনলাইন মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে আজমেরী হক বাঁধনকে। সেই স্মৃতিই এখন গর্বের অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে তার মনে।

    অনলাইন ডেস্ক

  • যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী বাঁধন

    ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে প্রায়ই নিজের বিভিন্ন ভাবনা-চিন্তা ও অনুভূতির কথা শেয়ার করেন। এবারও তার অনুরাগীদের জানালেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। 

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই সামাজিকমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথে সরব ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একমত পোষণ করে সরব ছিলেন অভিনেত্রী। সবসময় ছাত্র-জনতার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

    এবার সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন বাঁধন। বৃষ্টিতে ভিজে গত বছর ১ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটে শিল্পীদের সমাবেশে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এ অভিনেত্রী।

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) একটি স্ট্যাটাসে বাঁধন লিখেছেন— রাত থেকেই মানসিকভাবে আমি অতিরিক্ত চাপে ছিলাম। তবে এক ধরনের উত্তেজনাও বোধ করছিলাম, যে কারণে হয়তো সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ভোরে বিছানা থেকে উঠি। স্নিকার্স পায়ে দিই। কারণ আমি জানতাম না, আমার জীবনে আজ কি ঘটতে যাচ্ছে।

    ১ আগস্টের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী লিখেছেন—আমার একমাত্র মেয়ে সেদিন মা-বাবার সঙ্গে ছিল। তারা তিনজনই জানত না আমি কোথায় যাচ্ছি। আমি তাদের এতটুকুই বলেছিলাম— কিছু মিডিয়ার বন্ধু মিলে একটা ইভেন্টে যাচ্ছি। তারপরেই শঙ্কা নিয়ে বাসা থেকে বের হই। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি বলেন, এ আন্দোলন জোরালো করতে আগে থেকেই ব্যানার, পোস্টারসহ যাবতীয় প্রস্তুত ছিল। বাসা থেকে বের হয়েই আমি চলে যাই নিকেতনে। সেখান থেকে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, মাইক ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে নিয়ে নিই। তখন কারফিউ ছিল। এর মধ্যে আমরা জানতাম না সামনে কি হতে চলেছে। আমার ড্রাইভারকে বলেছিলাম— আপনার সঙ্গে মোবাইল আছে, যদি কিছু ঘটে ভিডিও করে রাখবেন। ড্রাইভার ভিতুর মতো আমার দিকে তাকিয়ে ছিল, আমিও ভীত ছিলাম সেই সময়।

    বাঁধন বলেন, সেই সময় ক্রমেই তারকা, শিল্পী, কলাকুশলীসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ভিড় করতে থাকেন। সময় ছিল ১১টার মতো। এর মধ্যে বৃষ্টি দেখা দেয়। আমি খামারবাড়ি এলাকায় বাবার গাড়িটি রেখে ফুটপাতে অপেক্ষা করি। আরও কয়েকজনকে দেখি। 

    তিনি বলেন, পুলিশ এসে বলে আমরা কোনো সভা বা প্রতিবাদ করতে পারব না। কারণ পাশেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। তখনই রাজীব ভাই, মোমেন ভাই, মামুন ভাই এলেন। প্রোগ্রাম বাতিল করতে সিনিয়র পুলিশ তাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করলেন। আমি চুপচাপ এসব দেখে সামনে পা বাড়ানো শুরু করি। 

    অভিনেত্রী সেই সময় পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান। কারণ পুলিশ তাদের নিরাপত্তার কারণে বারবার সরে যেতে বলেন। বাঁধন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের ভয়ও দেখান। কারণ আমরা সবকিছুকে অবজ্ঞা করে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে যাচ্ছিলাম। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে প্রতিবাদের অনুমতি পাই।

    প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সেই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তারা চেষ্টা করেছিল মামুন ভাইকে গাড়িতে করে নিয়ে যেতে। কিন্তু লিমা আপা, রাজীব ভাই সবাই মিলে আমরা হেঁটে ফার্মগেট চলে আসি। পুলিশ আমাদের ওপর খুশি ছিল না। পরে বৃষ্টির মধ্যে ব্যানার নিয়ে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাই। 

    অভিনেত্রী বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করি। এটা ছিল আমার জীবনের সেরা পাওয়ারফুল মোমেন্টস। আমি কখনই দিনটির কথা ভুলব না।

    তিনি বলেন, ১ আগস্টের দিন শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের নেতারা প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দেন। অনেক সাধারণ মানুষও শিল্পীদের সঙ্গে এ সমাবেশে অংশ নেন। এখানে জমায়েত বেশ বড় হয়ে ওঠে। সেই সময় বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মামুনুর রশীদ, আকরাম খান, পিপলু আর খান, ঋতু সাত্তার, আমরিন মুসা, আশফাক নিপুন, মোশাররফ করিম, সুকর্ণ শাহেদসহ অনেকে। বৃষ্টির কারণে সবাই বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন।

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা নূরুল আলম আতিক, মাতিয়া বানু শুকু, রেদওয়ান রনি, তানিম নূর, নুহাশ হুমায়ূন, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আদনান আল রাজীব, শঙ্খ দাশ গুপ্ত, ইরেশ যাকের, সিয়াম আহমেদ, জাকিয়া বারী মম, সুকর্ণ শাহেদ, মোস্তফা মন্ওয়ার, দিপু ইমাম, সাবিলা নূর, প্রবর রিপন, শ্যামল মাওলা, রাফিয়াত রশিদ মিথিলাসহ আরও অনেকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘সন্তানের বাবা হয়েও সে আমাকে ধ্বংস করার পথ বেছে নিল’

    ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
    তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে প্রায়ই নিজের বিভিন্ন ভাবনা-চিন্তা ও অনুভূতির কথা শেয়ার
    করেন নেন। এবার তার অনুরাগীদের জানালেন তার মনের কথা। পুরোনো সেই ভেঙে যাওয়া জীবনের
    গল্পগাঁথা কথা।

    সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি
    স্ট্যাটাসে দিয়ে জানিয়েছেন তার জীবনের বেশিরভাগ শিক্ষা এসেছে কষ্ট ও বিশ্বাসঘাতকতা
    আর অপমানের কথা। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রী সেখানে নিজের সাবেক স্বামীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড
    নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

    বাঁধন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
    আমার জীবনের বেশিরভাগ শিক্ষা এসেছে না বই থেকে, না কারও উপদেশ থেকে—এসেছে কষ্ট, বিশ্বাসঘাতকতা
    আর অপমানের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, আমার মেয়ের অভিভাবকত্ব মামলা চলাকালে, আমাকে এমন
    কিছু শিখিয়েছে, যা আমি কখনো ভুলতে পারব না।

    অভিনেত্রী বলেন, আমার সাবেক স্বামী,
    তার কিছু সহকর্মী ও একজন ফটোসাংবাদিকের সহায়তায় যিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করার জন্য
    পরিচিত—আমার বিরুদ্ধে নোংরা এক প্রচার শুরু করে। তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা
    গল্প ছড়ায়, যেন প্রমাণ করতে পারে— আমি ‘খারাপ মা’ এবং ‘লজ্জাহীন নারী’। আমার ছবি ছাপানো
    হয় সর্বত্র, শিরোনামগুলো চিৎকার করে মিথ্যা বলে।

    বাঁধন বলেন, আমি যাদের আপন ভাবতাম,
    তাদের অনেকেই তখন চুপ করে ছিল। কেবল কিছু বিনোদন সাংবাদিক বন্ধু এবং অনেক অচেনা শুভাকাঙ্ক্ষী
    পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে কষ্টকর ছিল— প্রকাশ্য চরিত্র হনন। সবচেয়ে বেশি ব্যথা
    দিয়েছিল বিশ্বাসঘাতকতা।

    অভিনেত্রী বলেন, শুধু আমার সাবেক
    স্বামী ছিল না—সে ছিল আমার সন্তানের বাবা। তবু সে আমাকে ধ্বংস করার পথ বেছে নিয়েছিল।
    আমি তাকে ভালোবাসতাম না, কিন্তু আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। আর সেই বিশ্বাসটাই সে সবচেয়ে
    নির্মমভাবে ভেঙে দিয়েছিল।

    তিনি বলেন, পর দিন আমি এক বন্ধুর
    বাড়িতে ভেঙে পড়েছিলাম। এত কাঁদছিলাম যে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমি জানতাম
    না কী করব, কী বলব। কারণ আমার যে কোনো পদক্ষেপ মামলার রায়কে প্রভাবিত করতে পারত।

    বাঁধন বলেন, তখন আমার সেই বন্ধুর
    স্বামী একটি কথা বললেন, যা আমার জীবন বদলে দিল, তোমার সামনে দুটি পথ খোলা আছে। এক—তুমি
    তারচেয়েও বেশি রাগী আর হিংস্র হয়ে ওঠ। আর দুই—তুমি বেছে নাও কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ পথ—
    নীরবতা, সত্য আর আত্মসম্মান। প্রথমটি হয়তো তাৎক্ষণিক প্রশান্তি দেবে, কিন্তু সেটা ধীরে
    ধীরে তোমাকেই গ্রাস করবে। দ্বিতীয়টি—যদি তুমি আঁকড়ে ধরতে পারো—তোমায় সারিয়ে তুলবে,
    মুক্তি দেবে।

    অভিনেত্রী বললেন, আমি দ্বিতীয় পথটি
    বেছে নিয়েছিলাম। সহজ ছিল না। কিন্তু এটা আমাকে এক ধরনের শক্তি দিয়েছিল, যা আমার নিজের
    মধ্যেই লুকিয়ে ছিল।  তিনি বলেন, সেই সময়ের পর
    থেকে, যখনই কেউ আমাকে অপমান কিংবা আক্রমণ করতে চায়, আমি সাড়া দিই না। আমি তাদের হাতে
    কাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া তুলে দিই না।

    আর এ নীরবতা—এই আত্মনিয়ন্ত্রণ—তাদের
    বেশি কষ্ট দেয়, যে কোনো কথার চেয়েও। কারণ যখন তারা এখনো নিজেদের ঘৃণা আর রাগে ডুবে
    থাকে, আমি তখন অনেক দূর এগিয়ে গেছি—শান্তি, স্পষ্টতা আর সম্মান নিয়ে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় বুবলী, ইমরান, আরশ ও বাঁধনের মানবিক সিদ্ধান্ত

    মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে এখনো শোকে বিহ্বল দেশের মানুষ। সর্বত্রই চলছে
    আলোচনা। কেন হলো, কীভাবে ঘটল এত বড় দুর্ঘটনা। এর জন্য দায়ী কে? এ নিয়ে চলছে চুলচেরা
    বিশ্লেষণ। থেমে নেই বিনোদন জগতও। এ জগতের বাসিন্দারাও কেউ করছেন রাষ্ট্রের সমালোচনা,
    কেউ দুষছেন পাইলটকে, কেউবা স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

    তবে এসবের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের মুক্তি প্রতীক্ষিত কাজ পিছিয়ে দিয়ে
    জানিয়েছেন মৃত ও আহত শিশু এবং তাদের পরিবারের প্রতি সম্মান। ঢাকাই সিনেমার নায়িকা শবনম
    বুবলী প্রথমবার তিনি একটি মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন। গানের শিরোনাম ‘ময়না’। এতে বুবলীর
    সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নাটকের অভিনেতা ও নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন। ভিডিওটি পরিচালনা
    করেছেন তানিম রহমান অংশু। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল ও নিলয়। এটি ২৪ জুলাই গানচিল
    মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মুক্তি
    পেছানো হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়েছে, গানটি মুক্তির নতুন তারিখ পরে জানিয়ে
    দেওয়া হবে।

    এদিকে এটিই বুবলীর ক্যারিয়ারে প্রথম মিউজিক ভিডিওর কাজ। স্বভাবতই এটি
    নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন অভিনেত্রী। তবে প্রকাশ পিছিয়ে যাওয়াতে একটুও মন খারাপ হয়নি
    তার।

    এ প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, ‘মিউজিক ভিডিওটির মুক্তির জন্য শুরু থেকেই অপেক্ষা
    করছিলাম। কিন্তু এখন এমন পরিস্থিতিতে আমরা রয়েছি, এ মুহূর্তটি আসলে গান দেখা বা শোনার
    সময় নয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্তে আমিও তাদের ধন্যবাদ জানাই। দিন শেষে
    আমরা তো মানুষের জন্যই কাজ করি।’

    একই সঙ্গে তিনি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে যারা মারা গেছেন এবং আহত হয়েছে
    সেসব শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    এদিকে এমন ঘটনার পর থেকেই মর্মাহত সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল। তিনি
    সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরো জুলাই মাসেই আর কোনো গান প্রকাশ করবেন না। ইমরান বলেন, ‘আমার
    নতুন একটি গান প্রকাশের কথা ছিল। শিরোনাম ‘পারবো না তোমাকে ছাড়তে’। এটি চলতি মাসে আর
    প্রকাশ করব না। শুধু এটি নয়, এ মাসে কোনো গানই আর আমি দেব না। আগস্টে নতুন গান আসবে।
    সময়টা ভালো যাচ্ছে না। মানসিকভাবেও খুব ভেঙে পড়ছি। আকাশ দিয়ে বিমানের শব্দ শুনলেই ভয়
    লাগছে।’

    এদিকে ২৪ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির কথা ছিল ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’
    নামে একটি সিনেমার। আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত এ সিনেমাটি গত কুরবানি ঈদেই দেশের প্রেক্ষাগৃহে
    মুক্তি পেয়েছিল। ওটিটিতে মুক্তি নিয়ে এর আগে বাঁধন বলেন, ‘সিনেমাটি সাধারণ দর্শকের
    কাছে পৌঁছানো দরকার। এমন নারী প্রধান গল্পের সিনেমা বেশি বেশি নির্মাণ করাও প্রয়োজন।’

    ওটিটির মুক্তি নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদীও ছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহের বেশি
    সময় ধরে প্রচার করে এলেও, মুক্তির একদিন আগে ওটিটি প্ল্যাটফর্মটি জানায়, সিনেমাটির
    প্রকাশ স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। সিনেমাটি বানিয়েছেন
    সানী সানোয়ার।

    গল্পে দেখা যায়, একই জেলায় খুন-ধর্ষণের শিকার হয় তিন মেয়ে। তদন্তে নামে
    পুলিশ কর্মকর্তা লিনা। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। আরও রয়েছেন ফারুক
    আহমেদ, মিশা সওদাগর, শরীফ সিরাজ, পূজা ক্রুজ প্রমুখ।

    এদিকে দেশের এমন মর্মান্তিক ঘটনায় গণমানুষের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালক-প্রযোজকদের
    প্রতি নিজের অভিনীত নাটক মুক্তি না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন অভিনেতা আরশ খান। বিমান বিধ্বস্তের
    ঘটনার দিনই সামাজিক মাধ্যমে অভিনেতা লেখেন, ‘সাধারণ জনগণের মানসিক অবস্থা এ মুহূর্তে
    ঠিক নেই। চোখ বন্ধ করলে বাচ্চাগুলোর আর্তনাদ ভাসে। এমন অবস্থায় আগামী চলতি মাসের বাকি
    যে কয়দিন আছে, এসময়ে আমার সব নাটক রিলিজ থেকে বিরত রাখার জন্য অনুরোধ করছি।’

    আরশ খান বলেন, ‘আমি সবসময় মানুষের কথা বলি। এজন্য আমাকে সবাই বিরোধীদল
    ভাবে। কিন্তু যে ঘটনাটি ঘটেছে এটি খুবই হৃদয়বিদারক। এমন ঘটনার পর মানুষ আসলে নাটক দেখার
    মতো পরিস্থিতিতে নেই। একজন মানুষ হিসাবে মনে হয়েছে এ মুহূর্তে নাটক-সিনেমা নয়, দোয়া
    করাটা বেশি প্রয়োজন।’

    এমন ঘটনায় আরও একাধিক প্রজেক্টের মুক্তি পেছানো হয়েছে। ২৪ জুলাই মুক্তির
    কথা ছিল ‘অনুতপ্ত’ নামে একটি নাটকের। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তা স্থগিত করা
    হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘নাটকটি ২৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২৭ জুলাই মুক্তি
    পাবে। আমরা সবাই নিহতদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

     কে এম সোহাগ রানার পরিচালিত
    নাটকটিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন পার্থ শেখ ও মালাইকা চৌধুরী। এছাড়া একই সময় ‘দেনা
    পাওনা’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটকের নতুন পর্বের প্রচারও স্থগিত করা হয়েছে। প্রযোজনা
    প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেনা পাওনা সিরিজের
    ৫৯তম ও ৬০তম পর্ব এ সপ্তাহে সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সপ্তাহ অর্থাৎ ২৯ জুলাই
    থেকে যথারীতি সম্প্রচার চলবে।’

    পারিবারিক গল্পের ধারাবাহিকটি পরিচালনা করছেন কে এম সোহাগ রানা। অভিনয়
    করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মনিরা মিঠু, এজাজুল ইসলাম, শিল্পী সরকার অপু, সুষমা সরকারসহ
    অনেকে।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • শিশুরা জানতেও পারেনি সেটাই তাদের জীবনের শেষ দিন: বাঁধন

    রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মর্মাহত সারা দেশ। স্কুল শিক্ষার্থীদের এমন হতাহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে শোকের মাতম। যার রেশ ছুঁয়ে গেছে তারকাদের মাঝেও। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর উত্তরার এই ঘটনা বেশ বাজেভাবে প্রভাব ফেলেছে। কারণ দুর্ঘটনার সেই এলাকার পাশেই বসবাস তার। এমনকি মেয়েকে নিয়ে সেই রাস্তা ব্যবহার করেই যাতায়াত করেন তিনি। 

    ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাঁধন লিখেছেন, উত্তরার এই ঘটনা খুব ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি। সেই রাস্তা দিয়ে আমি প্রতিদিন আমার মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাই। তার স্কুল ঐ প্রতিষ্ঠানের খুব কাছেই। সৌভাগ্যবশত, এখন তাদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। কিন্তু এই ঘটনা আমাকে এতটাই মানসিকভাবে আঘাত করেছে যে, আমি আসলে কী অনুভব করছি তা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশও করতে পারছি না।

    তিনি লেখেন, আমি যখন দূর থেকে দেখেই এতটা ভেঙে পড়েছি, তখন যারা সরাসরি এই ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাদের এবং তাদের বাবা-মায়ের যন্ত্রণা কতটা গভীর, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা বর্ণনা করার মতো কোনো শব্দ আমার কাছে নেই।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অভিনেত্রীর কথায়, সেই নিষ্পাপ শিশুরা প্রতিদিনের মতোই সকালে স্কুলে গিয়েছিল, তারা জানতেও পারেনি যে সেটাই তাদের জীবনের শেষ দিন হবে। তারা নিরাপদে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতায় তাদের জীবন সেদিনই থেমে গেল। যারা বেঁচে গেছে, তাদের জীবনে যে যন্ত্রণা ও ট্রমা থেকে যাবে, তা ভাষায় প্রকাশের ঊর্ধ্বে।

    সবশেষ অভিনেত্রী লিখেছেন, আল্লাহ নিহতদের শান্তি ও আরাম দান করুন, এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের এই অসহনীয় শোক সইবার শক্তি দান করুন। জীবন কতটা অনিশ্চিত, এই ঘটনা আমাকে সবচেয়ে বেদনাদায়কভাবে তা মনে করিয়ে দিয়েছে।

    আল্লাহ তার রহমত বর্ষণ করুন এবং মৃত আত্মাদের জান্নাত নসীব করুন। আহত ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ও তাদের পরিবারকে আরোগ্য ও সান্ত্বনা দান করুন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সোহাগকে পিটিয়ে হত্যা, ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন বাঁধন

    রাজধানী মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নৃশংস হত্যার ঘটনায় হতবিহ্বল সারা দেশের মানুষ। চলছে প্রতিবাদ। মর্মান্তিক এ ঘটনা নাড়া দিয়েছে দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেক তারকা। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের কণ্ঠেও ফুটে উঠল তীব্র প্রতিবাদ ও হতাশা।

    শুক্রবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ অভিনেত্রী এই ক্ষোভ জানিয়েছেন।

    বাঁধনের পোস্টে লিখেছেন, ‘এটা এক ধরনের মর্মান্তিক ছবি। কারো হত্যা হতে দেখা, যেখানে বাকি সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে। কিছুই করছে না। এটা কীভাবে সম্ভব? কী ধরনের দেশে আমরা বেঁচে আছি? মানুষ দাঁড়িয়ে দেখল। কিন্তু কেউ এগিয়ে গেল না। কতটা ভয়াবহ?’

    অভিনেত্রী বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি আর কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা কি আর কেউ অনুভব করছেন? মনে হচ্ছে না আমরা যেন নরকে বাস করছি? আর সরকার? সবসময়কার মতোই নিশ্চুপ। তারা কোথায়? কথা বলে না কেন? কিছু করে না কেন?’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাঁধন বলেন, ‘আমি কি এই দেশে নিরাপদ? আমি কি সত্যিই যা মনে করি তা বলতে পারি? না কি সত্যি কথা বলার অপরাধে আমিই হব পরবর্তী টার্গেট?’

    একদল লোক লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেই ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

    রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে গত বুধবার বিকালে সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে একদল লোক। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নড়ে ওঠে দেশবাসী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘নারীদের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্রের এক ধরণের অবহেলা আছে’

    জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন ছিলেন প্রথম সারির তারকাদের একজন। ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকারের পতনের দাবিতে প্রকাশ্যেই রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরেও বিভিন্ন জাতীয় ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। যদিও তিনি একাধিকবার হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের পর তিনি দেশের কাছে আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু কিছু ঘটনা তাকে নিরাশ করেছে।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনলাইন হয়রানি এবং তাকে ‘খারাপ মেয়ে’হিসেবে আখ্যায়িত করার পেছনে সমাজের এক ধরনের অবহেলা ও দ্বিচারিতা কাজ করছে। তিনি মনে করেন, নারীদের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্রের এক ধরণের অবহেলা আছে।

    একটু ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘অনলাইনে মেয়েদের নানাভাবে হ্যারেজ করা হচ্ছে। আমিও যার শিকার। তারা মনে করছে, আমি এটা ডিজার্ভ করি। কারণ, আমি একটা খারাপ মেয়ে….!’

    কেন খারাপ মেয়ে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘আমার ঠোঁটকাটা। সময়ের প্রয়োজনে দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। বাজে ব্যাপার হচ্ছে, তারা আমাকে কোনো দলে ফেলতে পারছে না। যে কারণে সবকিছুতেই সমস্যা দেখছে।’

    বাঁধন আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভুত্থ্যানে যখন গিয়েছি, তখন একটা আশার আলো দেখেছি। যারা টিভিতে সংবাদ দেখেছে, তারা আসলে বুঝতে পারবে না বাস্তবের অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল। ভেবেছিলাম, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। তবে আমরা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্থ একটা জাতি, যিনি পালিয়ে গেছেন, তার রেখে যাওয়া সেই করাপ্টেড সিস্টেম থেকে বের হতে পারিনি।’

    সম্প্রতি জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এক স্ট্যাটাসে বাঁধন বলেন, যারা বলে জুলাই বিপ্লব ভুল ছিল — সত্যি বলতে, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। ওই সময় ওই বিপ্লব একদম প্রয়োজনীয় ছিল। মানুষ যে পরিমাণ অবিচার, অন্যায় এবং দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছিল, তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সরকার তো একদিনে ফ্যাসিস্ট হয়ে যায়নি— ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার আর কণ্ঠস্বর কেড়ে নিতে নিতে তারা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। তখন আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না।

    ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, যারা সেদিন, ৫ আগস্ট রাস্তায় ছিল না, তারা কোনো দিন বুঝতে পারবে না সেই আনন্দ কতটা বিশুদ্ধ ছিল— যখন সে ভীতুর মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই আনন্দ ছিল একদম বাস্তব, এবং আমি তা নিজের প্রতিটি হৃদস্পন্দনে অনুভব করেছিলাম। ওইরকম স্বাধীনতা আর শক্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে একসঙ্গে অনুভব করার অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই আসে।

    সবশেষ বাঁধন লিখেছেন, হ্যাঁ, বিপ্লবের পরে অনেক কিছু ঘটেছে, এবং সবকিছু সুখকর হয়নি। কিন্তু এক জিনিস স্পষ্ট: জুলাই বিপ্লব সঠিক সময়ে, সঠিক কাজ ছিল।

    বিনোদন ডেস্ক

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে যা বললেন বাঁধন

    গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, সরাসরি আন্দোলনের ময়দানে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

    আজ বর্ষপূর্তির দিনে ইংরেজিতে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন বাঁধন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘জুলাই আন্দোলন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই আন্দোলন আমাকে আশার আলো দেখিয়েছিল, সাহস দিয়েছিল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তবুও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।’

    বাঁধন বলেন, ‘আমরা এক হয়েছিলাম এমন একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে রাষ্ট্র নিজের জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র তাক করেছিল তার জনগণের দিকে। কোনো কারণ ছাড়া মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছিল। নির্দোষ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছিল। রিয়া মণির মতো ছোট ছোট শিশুরা জীবন দিয়েছিল। কিন্তু তারা বুঝেই উঠতে পারেনি কেন জীবন দিচ্ছে।’

    অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আন্দোলনের সময় আমরা এক হয়েছিলাম আমাদের অধিকার আর দেশকে ভালোবেসে। সেটা ছিল স্মরণীয় মুহূর্ত। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম ভালো কিছুর। আমি সেই আশা সবসময় বুকে ধারণ করেই চলব।’

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • যারা ভিডিও ছড়িয়ে দেয় তারাও অপরাধী: বাঁধন

    কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে বসতঘরে ঢুকে তাকে (২৫) ধর্ষণের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে ছাত্রলীগ নেতা সুমন তার লোকজন নিয়ে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও করেন। বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় ওই নারী শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় যুবক ফজর আলীকে।

    এদিকে নির্যাতনের ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শনিবার রাতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। 

    রোববার (২৯ জুন) সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্টে অভিনেত্রী দাবি করেন, যারা ধর্ষণের মতো ভয়াবহ বিষয় সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারাও অপরাধী। তাদেরও শাস্তির দাবি তুলেছেন অভিনেত্রী।

    পোস্টে বাঁধন লিখেছেন, ‘ধর্ষণ একটি ভয়ানক অপরাধ। কিন্তু এই দেশে এটি যেন স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হয়ে গেছে। মানুষ তখনই প্রতিবাদ করে, যখন কোনো ভয়ানক ঘটনা ভাইরাল হয়। একটা ভিডিও, খবরের ক্লিপ বা পোস্ট। কোনো ঘটনা ভাইরাল হলে হঠাৎ সবাই রেগে যায়। কিন্তু সেটাও খুব অল্প সময়ের জন্য। তারপর আবারও সবাই নিজের মতো চলতে থাকে।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে সামনে চলে যায়। আগের ঘটনা ভুলে যায়। কারণ, প্রতিদিনই তো কোনো না কোনো নতুন কাণ্ড, নতুন স্ক্যান্ডাল ঘটে। এক নারীর যন্ত্রণা ভাইরাল কনটেন্ট হয়ে দাঁড়ায়।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘কেন আমরা ধর্ষণের মতো ভয়াবহ বিষয়কে একটি খবরের মতো ট্রিট করি, সংকটের মতো না? কেন এটা স্বাভাবিক হয়ে গেল? আরও ভয়াবহ হচ্ছে, কেউ কেউ এই অপরাধের ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। যেন সেটা বিনোদনের কিছু! যারা ভিডিও ছড়িয়ে দেয় তারা নির্দোষ নয়। তারাও অপরাধী। তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।’

    সবশেষে বাঁধন লিখেছেন, ‘আমি ভেঙে পড়েছি। আমি রাগান্বিত। আর হ্যাঁ, আমি ভয় পাচ্ছি। কারণ, আমি একজন নারী। আমি কোথাও নিরাপদ বোধ করি না। না বাস্তব জীবনে, না অনলাইনে। ধর্ষণ কোনো কনটেন্ট নয়। মানসিক যন্ত্রণা কোনো ড্রামা নয়। এভাবে চলতে পারে না।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • দেশ ছাড়ার বিষয়ে জবাব দিলেন বাঁধন

    জুলাই আন্দোলনে দারুণ সক্রিয় থেকে আলোচনায় ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কিন্তু এরপরের কয়েক মাস তিনি একেবারেই চুপ ছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তাকে সেভাবে পাওয়া যায়নি। 

    গত কুরবানির ঈদে মুক্তি পায় তার অভিনীত সিনেমা ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’। সিনেমাটির প্রচারণায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এরই মধ্যে মিডিয়াপাড়ায় গুঞ্জন উঠেছে, অভিনেত্রী দেশ ছাড়ছেন। 

    এ বিষয়ে এবার স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। বাঁধন বলেন, ‘আমার জীবনে অনেকবার এমন হয়েছে, যখন আমি আমার দেশ ছেড়ে যেতে চেয়েছিলাম। পরিকল্পনাও করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাইনি। প্রতিবারই মনে হয়েছে এটাই আমার ঘর, আমি এখানেই থাকতে চাই, আমি অন্য কোথাও থাকার কথা কল্পনাও করতে পারি না।’ 

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনেক অবিচার এবং বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছি, মানুষ যা কল্পনা করতে পারে তার চেয়েও বেশি। আমি রাগান্বিত, আহত এবং হতাশ বোধ করেছি। আসলে প্রায়শই আমি যেভাবে আমার চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতি প্রকাশ করি তা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে। মানুষ আমার হৃদয়ের কথা না জেনেই আমাকে বিচার করে। এটি আমাকে সত্যিই দুঃখিত করে। 

    তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছিল যেন কেউ আমার কথা শুনছে না। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। অনেকেই শুনছেন। অনেকেই আমার কথা শোনেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছুর জন্য দাঁড়ালে দ্রুত ফলাফল বয়ে আনে না। রাতারাতি স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য সময় লাগে।’

    বিনোদন ডেস্ক