Tag: আজমেরী হক বাঁধন

  • জন্মদিনে নতুন রূপে ধরা দিলেন বাঁধন

    নিজের জন্মদিনে নতুন এক রূপে হেমন্তের নরম আলো আর ধোঁয়ার মৃদু খেলায় ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিগুলো শেয়ার করেন তিনি। ছবির প্রতিটা ফ্রেমের মুহূর্তে ফুটে উঠেছে তার নিঃশব্দ আবেদন, যা দেখাতে কখনো তিনি ক্যামেরার সামনে শব্দের অবলম্বন করেন না।  

    শাড়ির কোমল ছোঁয়া, মিনিমাল সাজ ও চোখের গভীরতায় মিশে আছে এক মায়াবী উপস্থিতি, যা সহজেই মন ছুঁয়ে যায়। জন্মদিনের এই বিশেষ ফটো সিরিজে বাঁধন যেন নিজেকে তুলে ধরেছেন একান্তভাবে, এমন রূপে যা সাধারণত তিনি অন্তরে রাখেন। প্রতিটি ফ্রেমে আলো, ছায়া ও তার অভিব্যক্তি একত্র হয়ে তৈরি করেছে এক স্নিগ্ধ গল্প, যেখানে নিঃশব্দ সৌন্দর্য হৃদয়গ্রাহীভাবে ফুটে উঠেছে।

    পর্দার বাঁধনকে আমরা কখনো নিখাদ গ্ল্যামার লুকে দেখি, আবার কখনো চরিত্রের গভীরে মিশে থাকা এক বাস্তব নারীর রূপে। কিন্তু এই বিশেষ ফটো সিরিজে তার আবির্ভাব ভিন্নমাত্রিক। প্রতিটি ছবিতে আলো, ধোঁয়া আর নীরবতার এক অপূর্ব সংলাপ। বাঁধনের চোখের দৃষ্টি ও অভিব্যক্তি যেন নিঃশব্দে গল্প বলে। 

    ফ্রেমে দেখা যায়, তিনি পরেছেন সোনালি পাড়ের ঐতিহ্যবাহী কেরালা কটন শাড়ি। সঙ্গে রয়েছে টেরাকোটা কমলা রঙের স্লিভলেস ব্লাউজ, যা পুরো লুকে উজ্জ্বলতা ও ভারসাম্য এনেছে। অলংকার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দেশিয় ব্র্যান্ড ‘গ্লুড টুগেদার’-এর নকশা করা গয়না, যা বাঁধনের নিজস্ব স্টাইল ও পছন্দের পরিচায়ক।

    সাজে রেখেছেন পুরোপুরি মিনিমাল ছোঁয়া। খোলা চুলে হালকা কার্ল, কপালে ছোট্ট কালো টিপ, ঠোঁটে নরম ম্যাট শেডের লিপ কালার—সব মিলিয়ে এক প্রশান্ত ও আকর্ষণীয় উপস্থিতি। এই লুকের মেকআপ করেছেন মেকআপ আর্টিস্ট এম কে হুসেন। অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গাজরা, যা লুকে এনেছে নিখাদ নারীত্বের ছোঁয়া। 

    ফ্রেমে ফ্রেমে আলো-ছায়ার নরম মিশ্রণ এক স্বপ্নীল পরিবেশ তৈরি করেছে। কখনো জানালা দিয়ে আসা সূর্যের রশ্মিতে, কখনো ধূপের ধোঁয়ার কুয়াশায় বাঁধন যেন নিজেকে মেলে ধরেছেন এক মায়াবী সত্তা হিসেবে। তার উপস্থিতিতে মনে হয় আলোটা যেন তাকে ঘিরে জন্মেছে। 

    ছবিগুলো শেয়ার করে বাঁধন লিখেছেন, এই ছবিগুলো আমার সেই অংশকে তুলে ধরে, যা আমি সাধারণত নিঃশব্দে রাখি। এগুলো এত সুন্দরভাবে হয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ।

    শাড়ির অনিন্দ্যসুন্দর এই ফটো সিরিজ কেবল একটি ফ্যাশন উপস্থাপনাই নয়, বরং এটি এক নারীর নিজস্বতা, প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। জন্মদিনে বাঁধন দেখিয়ে দিলেন, গ্ল্যামার নয়, নিজের সত্তাকেই সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রকাশ করাই প্রকৃত স্টাইল।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘এগুলো নিয়ে কথা বললে সবাই আমাকে পাগল ভাববে’

    ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন লাক্স সুন্দরী থেকে নায়িকা— এরপর নিজেকে পুরোদস্তুর অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তোলার পেছনের গল্প শোনালেন তিনি। জানালেন তথাকথিত ‘আদর্শ নারী’র খোলস ছেড়ে একজন পরিপূর্ণ ‘মানুষ’ হয়ে ওঠার সংগ্রামী জীবনের কথা— যেখানে যাত্রাপথে তাকে ডিভোর্স, রিহ্যাব সেন্টার, তীব্র যাতনা ও আইনি লড়াইয়ের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। 

    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের না বলা কথা দর্শক-শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’–এর ‘কথামালা-১৩’ শীর্ষক এ আলোচনাসভায় ‘অভিনয়, অভিনয়শিল্পী এবং আমার জীবন’ শিরোনামে বক্তব্য উপস্থাপনের পর বাঁধন দর্শকের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০০৬ সালের ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার স্মৃতিচারণা করে অভিনেত্রী বলেন, প্রথমে যখন আমি লাক্স থেকে বের হই, তখন সবাই আমাকে ‘লাক্স বা সাবান সুন্দরী’ বলত। সেই সময় ওটা আমি উপভোগ করতাম। কিন্তু অল্প বয়সেই মনে হয়েছিল— পড়ালেখা শেষ করাটা জরুরি।

    ব্যক্তিগত জীবনের এই উত্থান-পতনই তাকে অভিনয়ে নতুন করে প্রাণ দিয়েছে। একসময় শুধু টাকার জন্য অভিনয় করলেও পরে থেরাপিস্টের এক প্রশ্নে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন তিনি। এরপরই তার জীবনে আসে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর মতো সিনেমা। পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, তিনিই আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নতুন করে জন্ম দিয়েছেন।

    নিজের জীবনের অন্ধকার জীবনের কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, আমার বিয়ে হয় ১৯ বছর বয়সে। ডিভোর্সের পর আমার শেষ পরিণতি হয় একটা রিহ্যাব সেন্টারে। আমি সিভিয়ার ডিপ্রেশনের পেশেন্ট ছিলাম, সঙ্গে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ক্রনিক ডিপ্রেশনের পেশেন্ট, আমার বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার আছে এবং আমি নিয়মিত অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট খাই। এগুলো নিয়ে কথা বললে সবাই আমাকে পাগল ভাববে। আমাকে কিন্তু পাগল বলেছেও। যখন কেউ কথায় পারে না, তখন বলে—তোমার তো মাথা খারাপ। কিন্তু তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কারণ আমি ভালো আছি।

    বাঁধন বলেন, আমি সেখান থেকে সারভাইভ করেছি। তিনি বলেন, জীবনে বহুবার এমন হয়েছে, যখন আমি শুধু ভেঙে পড়িনি, একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিলাম। তখন বিষণ্ণতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না আমার জীবনে।

    অভিনেত্রী বলেন, ২০১৮ সালের একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কথা শুরু হয়। তিনি বলেন, আমার সন্তানের বাবা আমার কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল। ওই ঘটনা আমাকে পুরোপুরি বদলে দেয়। 

    বাঁধন বলেন, যেই সমাজে আমি বেড়ে উঠেছি, সেই সমাজ, দেশের আইন, এমনকি আমার পরিবার—সবাই আমাকে বলেছিল, না, এভাবে হবে না। আমরা যেভাবে সেট করে দিয়েছি, তোমাকে সেটাই মেনে নিতে হবে। তবে সমাজের বেঁধে দেওয়া নিয়মের কাছে হার না মেনে তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন এবং মেয়ের সম্পূর্ণ অভিভাবকত্ব লাভ করেন, যা ছিল উপমহাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী রায়। 

    অভিনেত্রী বলেন, ওই সময়টায় আমি সবচেয়ে অসহায় বোধ করেছি। নিজেকে একদম ভেঙেচুরে ফেলার পর আমি ওখান থেকে উঠে দাঁড়িয়েছি। আমার মনে হয়েছিল, এই সমাজে আমি মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকব। আমার অধিকার আমাকেই বুঝে নিতে হবে।

    উল্লেখ্য, ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ম্যাজিক লণ্ঠনের সদস্য জেরিন আল জান্নাত। এতে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্রবিষয়ক তাত্ত্বিক ও গবেষক আল-মামুন। সমাপনী বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ম্যাজিক লণ্ঠন সম্পাদক কাজী মামুন হায়দার।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সরকারের কাজকর্মে হতাশ হয়েছি: বাঁধন

    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থেকে শুরু রাজপথে সরব ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব ছিলেন অভিনেত্রী। সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। 

    পট পরিবর্তনের পর তিনি নতুন বাংলাদেশ দেখতে স্বপ্ন বুনেছিলেন। কিন্তু এক বছরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বাঁধনের স্বপ্নভঙ্গ করেছে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছেন বাঁধন।

    কথোপকথনে বাঁধন জানান, দেশে মব কালচার, নারীর প্রতি বিদ্বেষ বেড়েছে। দেশ নিয়ে স্বপ্ন হারাচ্ছে মানুষ।

    এই অভিনেত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ে যারা রাজপথে ছিলাম, একেকজন একেক ইস্যুতে মাঠে নেমেছে। আমি চেয়েছি সাম্যের বাংলাদেশ, মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য। এমন দেশ সবসময়ের চাওয়া। সেই জায়গা থেকে এটা ঐতিহাসিক সুযোগ ছিল বলে মনে করছি। কিন্তু সত্যি বলতে আমাদের প্রত্যাশাও হয়ত বেশি ছিল। আমরা একটা দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। এ কারণে ভালো কাজ করা যে সহজে সম্ভব, তাও নয়।’

    তিনি বলেন, ‘মব কালচার, নারীর প্রতি বিদ্বেষ। ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে। স্থাপনা ও মাজার ভাঙা হলো। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলাও হতাশার। এসব আসলে লজ্জার ও দুঃখের। যে স্বপ্ন দেখেছি, যে সুযোগ ছিল- সেটা হয়তো হারিয়েছি বলে মনে হয় এখন। সরকারের পারফরম্যান্স আমাকে অন্তত আনকমফোর্টেবল করেছে। ডিজহার্টেড (হতাশ) হয়েছি।’

    দেশে ডানপন্থা রাজনীতির উত্থান হয়েছে এবং নারীদের প্রতি বৈষম্য বাড়ছে উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘ডানপন্থা বলতে যা বুঝি, যারা এক্সট্রিমিস্ট বা একটা বিষয়ে অন্ধবিশ্বাসী। সেটা আগেও যে ছিল না তা নয়। যেমন হেফাজতে ইসলাম নামের একটি সংগঠন গঠন হয়েছিল। নারীদের অসম্মানের গল্প তো নতুন নয়। সাংস্কৃতিক বাধা নতুন নয়। এটা ছিলই। হয়তো এভাবে আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। কিন্তু বিষয়গুলো হঠাৎ হয়নি। তবে আমি একদমই এসব একসেপ্ট করি না। আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা চাই। প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। বিপ্লবটা সেই আশাতেই করেছিলাম।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমি সেই মানুষটা হতে পারিনি, যাকে সবাই দেখতে চেয়েছিল: বাঁধন

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান বিষয় উঠে তার লেখায়। অনেক সময় তার ফেসবুক পোস্ট নিয়েও আলোচনা হয়।

    বাঁধন রোববার (৫ অক্টোবর)  ‘সমাজ আর একজন অস্বস্তিকর নারী’ শিরোনামে একটি পোস্ট করেছেন নিজের ব্যর্থতার গল্প, তবে সেই ব্যর্থতাতেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন নিজস্ব সাফল্যের সংজ্ঞা।

    বাঁধন লেখেন, আমি এমন এক মেয়ে হতে চেয়েছিলাম, যে সবাইকে খুশি রাখে—যে অনুগত, বাধ্য, শান্তভাবে মানিয়ে নেয়। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমি সেই মানুষটা হতে পারিনি, যাকে সবাই দেখতে চেয়েছিল। চেষ্টা করেছিলাম পরিবারের প্রত্যাশিত মেয়ে হতে, সমাজের বানানো ‘নারী’ হতে। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আর সেই ব্যর্থতার জন্য আজ নিজেকেই ধন্যবাদ জানাই।

    নিজের এই ‘ব্যর্থতার’ কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, আমি অন্য কারও স্ক্রিপ্টে বাঁচার জন্য জন্মাইনি। আমার কথা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর, আমার কাজ অনেকের সান্ত্বনার সীমা ভেঙে দেয়। আমি সহজ মানুষ নই, কিন্তু নির্মমও নই। আমি কাউকে আঘাত দিই না, অসম্মানও করি না যদিও অনেকেই আমার প্রতি তা করে।

    তিনি আরও লেখেন, চল্লিশের পর এসে আমি নিজের সঙ্গে শান্তিতে আছি। এখন আমি বাঁচি আমার মতো করে স্বাধীনভাবে, সৎভাবে, বিনা ক্ষমাপ্রার্থনায়। কেউ এতে কষ্ট পেলে, উপেক্ষা করুক, ব্লক করুক, ঘৃণা করুক আমার কিছু আসে যায় না। কারণ, যাদের আমি অস্বস্তিতে ফেলি, তাদের পাশাপাশি আছে অনেকেই, যারা আমাকে ভালোবাসে, বোঝে, আমার সত্যে শক্তি খুঁজে পায়। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি নিজেকে ভালোবাসি।

    পোস্টের শেষে বাঁধন লেখেন, আমি ভাঙা নই। আমি শুধু এমন এক পৃথিবীর কাছে অস্বস্তিকর, যে পৃথিবী এখনো আসল নারীকে ভয় পায়। ভালোবাসি তোমায়, আজমেরী হক বাঁধন। তুমি যে নারী হতে চেয়েছিলে, শেষ পর্যন্ত তুমি সেই নারীই হয়েছ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আমি ভালোবাসি পুরুষকে’—কাকে ভালোবাসেন বাঁধন?

    ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বরাবরই খোলামেলা ও সাহসী কথা বলে থাকেন। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকেন তিনি। শুধু অভিনয়ই নয়, দেশের রাজনৈতিক ময়দানে পক্ষে-বিপক্ষে সব জায়গায় আছেন অভিনেত্রী।

    ছিলেন গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের শেখ হাসিনার পতনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে। আবার দেখা যায়, ১৫ আগস্টেও তিনি আছেন। মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। তার মাঝে দ্বিচারিতা আচরণ। কোথায় নেই বাঁধন— সব জায়গায় সক্রিয়ভাবে আছেন। তবে এবার অভিনেত্রী তার জীবনের আন্দোলনে দেখা পুরুষকে নিয়ে কথা বললেন।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আজমেরী হক বাঁধন লিখেছেন, ‘আমার জীবনের পুরুষরা’। নিজের জীবনের পুরুষের কথা। সেখানে অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন, তার আপত্তি পুরুষদের প্রতি নয়, বরং সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতি।

    বাঁধন বলেন, আমাকে নিয়ে প্রায়ই একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি হয়। অনেকেই ভাবেন আমি নাকি পুরুষকে পছন্দ করি না। এটা সত্যি নয়; আমি যা পছন্দ করি না, তা হলো— আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, আর সেই সমাজকে টিকিয়ে রাখা নারী-পুরুষ উভয়কেই। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি বলেন, পুরুষ মানুষকে ঘৃণা না করলেও পুরুষতন্ত্রকে কখনোই মেনে নিতে রাজি নয়।

    তবে পুরুষ নিয়ে অভিনেত্রীর অভিজ্ঞতা সবসময় ইতিবাচক ছিল না। তার জীবনে এমনও পুরুষ এসেছে, যারা ছিলেন অসম্মানজনক, হিংস্র ও অমানবিক। কিন্তু তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাঁধন। অভিনেত্রী বলেন, তারা যতই আমাকে ভাঙতে চেয়েছে, তাদের নিষ্ঠুরতা আমাকে ততটাই আগুনের মতো জ্বালিয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মতো।

    তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুরুষ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, প্রথমেই আছেন তার বাবা, যিনি নানা উপায়ে তাকে গড়ে তুলেছেন। ‘রেহানা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ।— এ দুজন পুরুষ তার ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছেন।

    স্ট্যাটাসে নিজের দুই ভাইয়ের কথাও তুলে ধরেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, তার দুই ভাই-ই জীবনের ভরসা, যদিও চিন্তায় পার্থক্য আছে। বিশেষ করে ছোট ভাই রাশাকে তিনি শুধু ভাই নয়, বরং সেরা বন্ধু হিসেবেই দেখেন। তার সঙ্গে তিনি শিশুসুলভ সরলতায় কথা বলতে পারেন। আরেক ভাইয়ের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, বাবা-মা না পারলেও সেই ভাই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা তিনি কখনো ভুলবেন না।

    বাঁধন বলেন, তারা দুজনই শরিয়তের নিয়ম কঠোরভাবে না মেনে সমান অংশে আমার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। আমি আসলে পছন্দ করি না যে, তারা যেন আমাকে দিয়ে দিয়েছে—যেন সেটা তাদের ছিল, আমার নয়। কিন্তু এটাই আমাদের সিস্টেমের বাস্তবতা। আর তারা সেটাকে ন্যায্যতা ও ভালোবাসা দিয়ে সামলেছে। আমি আশা করি, একদিন আমাদের আইনই নিশ্চিত করবে—সবাই সমানভাবে উত্তরাধিকার পাবে।

    নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী বলেন, তাই ভুল বোঝো না—আমি পুরুষকে অপছন্দ করি না। আমি অপছন্দ করি পুরুষতন্ত্রকে। আর হ্যাঁ, আমি পুরুষকে ভালোবাসি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পুরুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন বাঁধন

    দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় থাকেন। সেখানে নিজের মতামত ও বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। সর্বশেষ এক পোস্টে পুরুষদের নিয়ে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন বাঁধন। 

    তিনি বলেছেন, তিনি পুরুষদের ঘৃণা করেন না, বরং ঘৃণা করেন পিতৃতন্ত্রকে এবং নারী-পুরুষ উভয়কেই, যারা এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখে।

    বাঁধন বলেন, তার জীবনের কিছু পুরুষ তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব রেখেছেন। এদের মধ্যে তার বাবা অন্যতম, যিনি তাকে বহুভাবে গড়ে তুলেছেন। এছাড়া, ‘রেহানা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক সাদ-এর প্রভাবও তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি তার দুই ভাইয়ের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তাদের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও তারা সবসময় তার পাশে ছিলেন। তিনি জানান, শরিয়াহ আইনে মেয়েরা সম্পত্তির সমান ভাগ না পেলেও তার দুই ভাই নিজেদের অংশ সমানভাবে তার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। বাঁধন এটিকে তাদের ন্যায্যতা ও ভালোবাসা হিসেবে দেখেন।

    জীবনে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক ও নিষ্ঠুর পুরুষের কথাও অকপটে বলেছেন বাঁধন। তাদের আচরণ অসম্মানজনক, সহিংস ও অমানবিক ছিল। তবুও তাদের প্রতি তার এক ধরনের কৃতজ্ঞতা আছে। তিনি বলেন, তারা যতই আমাকে ভাঙতে চেয়েছেন, তাদের নিষ্ঠুরতা আমাকে জ্বালিয়ে তুলেছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত করেছে। তারাও আমাকে গড়ে তুলেছে।

    তিনি তার পোস্টে আবারও স্পষ্ট করে বলেন, ভুল বুঝবেন না। আমি পুরুষদের অপছন্দ করি না, আমি ঘৃণা করি পিতৃতন্ত্রকে। আর হ্যাঁ, আমি পুরুষদের ভালোবাসি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শেখ হাসিনার সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে যা বললেন বাঁধন

    ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে সরব ভূমিকা পালন করেছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখির পাশাপাশি রাজপথেও দেখা যায় তাকে। শেখ হাসিনার পতনের পর বিজয়ের উচ্ছ্বাসে রিকশায় ঢাকায় ঘুরেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সমর্থকের রোষানলে পড়তে হচ্ছে এই অভিনেত্রীকে।

    সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেখ হাসিনার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করেন বাঁধন। ক্যাপশনে তিনি জানান, একসময় শেখ হাসিনাকে ভালোবাসতেন। তবে সময়ের সঙ্গে উপলব্ধি করেছেনক্ষমতা মানুষকে শয়তানেও পরিণত করতে পারে।

    ছবিটি নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাঁধন লিখেন, ‘এই ছবিটা? ওই সময় আমি মজা করে তাকে বলেছিলামঅনেকে ভাবছে আমরা নাকি আগে থেকে ঠিক করে একই রঙের পোশাক পরেছি। তিনি তখন হেসেছিলেন। সেই হাসিটা তখন আমার কাছে সত্যি মনে হয়েছিল। সেই মুহূর্তে তিনি আমাদেরই একজন বলে মনে হয়েছিল।’

    বাঁধন আরও বলেন, ‘তার গল্প আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিলএক রাতে পুরো পরিবার হারিয়েছিলেন, শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন, তবুও সেই দেশেই ফিরে এসেছেনযে দেশ তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল। এমন সাহস খুব কম মানুষই দেখাতে পারে। কিন্তু সময়ের সাথে আমি দেখেছি, ক্ষমতা মানুষকে শয়তানেও পরিণত করতে পারে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তার সঙ্গে হাসলাম মানে এই নয় যে, আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আছি! তাহলে আমার সহকর্মী আওয়ামী লীগ নেতারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন? আমি কথা বলিমানুষের কথা বলি। আমি দেশের মানুষের পাশে আছিআপনারা কেন আমাকে নিয়েই এত ব্যস্ত? জানি, হয়তো আপনারা আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না, কিন্তু অন্তত মানুষ হিসেবে আচরণ তো করতে পারেন। ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করুন ২০২৪ সালের নির্বাচনে তারা আমাকে কী প্রস্তাব দিয়েছিল। মানুষের মতো আচরণ করা কঠিন হয়ে গেছেকারণ অনেকে আর মানুষ নেই। কিন্তু চেষ্টা করলে সম্ভব। একজন প্রকৃত নেতা হোন, মানুষ হোন।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জবাবে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘আমাকে যেভাবে আক্রমণ করেছেন, দেশের নারীদের সঙ্গেও আপনারা ঠিক এভাবেই আচরণ করেন। যান, চালিয়ে যান এইসব বাজে কথা! আপনারা জিতেছেনঅভিনন্দন। কিন্তু আমাকে আক্রমণ করা ছাড়া আপনাদের আর কোনো কাজ নেই? নাকি ঠিক করেছেন, যে সবচেয়ে খারাপ মানুষ, তাকেই আপনারা ক্ষমতায় এনে সংসদ সদস্য বানাবেন?’

    বিনোদন ডেস্ক

  • শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে কটাক্ষের মুখে জয়া-বাঁধন

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন হাসিনা। সেই সময় আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে পথে নেমেছিলেন ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। এখন আবার দেখা যায়, তার মাঝে দ্বিচারিতা আচরণ। মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। সেই মুজিবের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমালোচিত হন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া আহসান।

    হাসিনা সরকারের পতনের পর বহু বদল এসেছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মুজিবুরের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অভিনেত্রী বাঁধন ও জয়া আহসান। তারা কটাক্ষের শিকার হয়েছেন নেটিজেনদের।

    কারণ যেখানে হাসিনা সরকারের পতনে নেপথ্যে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বাঁধন। আবার গত বছরেও মুজিবের ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নিয়ে তিনি লিখেছিলেন—’বিনম্র শ্রদ্ধা।’ সেই একই পোস্ট গতকাল দিয়েছেন বাঁধন। এরপরেই নেটিজেনদের মাঝে সমালোচিত হন অভিনেত্রী।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এক নেটিজেন লিখেছেন—তিনি দ্বিচারিতা করেছেন। আরেক নেটিজেন লিখেছেন—এতই যদি শ্রদ্ধা থাকত, তবে এই দেশটাকে এভাবে ধংসের মুখে ফেলতেন না। এখন নিজেরাই খাবার ভাত পান না, তাই নাটক করছেন। সেই সময়ে গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলন করে এখন কীভাবে মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন? 

    অন্যদিকে আরেক অভিনেত্রী জয়া আহসানও মুজিবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। অভিনেত্রীর সেই পোস্টের ক্যাপশনে নেটিজেনদের কটাক্ষ। এক কট্টরপন্থি নেটিজেন লিখেছেন—এক ভারতীয় এজেন্ট যে আরেক ভারতীয় এজেন্টকে সমর্থন জানাবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। 

    তবে জয়া ও বাঁধনের অনুরাগীরা তাদের সমর্থনেও কথা বলেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘মুজিব’ সিনেমা থেকে বাদ পড়ে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম: বাঁধন

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’-এ অভিনয়ের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। প্রায় ৭০ কোটি রুপি বাজেটের এই বিগ প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগের আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ে যান তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বাঁধন জানান, শুধু বাদই পড়েননি, অডিশনের সময় অপমানের শিকারও হয়েছিলেন।

    বাঁধন বলেন, ‘আমি তো অডিশন দিয়েছিলাম। দুবার দিয়েছিলাম। রিজেক্ট হয়ে অনেক কান্না করেছি। শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে তো ছিল। উনার মতো ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করা তো বিরাট কিছুই।’

    পরের ঘটনা বর্ণনা করে বাঁধন বলেন, ‘আমাকে রিজেক্ট করার পর হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। যখন ট্রেইলার বের হলো তখন আমার এক কাজিন আছে, খুব ক্লোজ, ওর নাম সামিয়া। ও আমাকে বলছিল, ‘বাঁধন আপু আল্লাহ তোমার সঙ্গে সবকিছু ভালো করে। তুমি তা জানো।’ আমি তখন বলেছিলাম, ‘আমি জানি’। তখন আমার বোনটা বলে, ‘আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছে তোমাকে এই রকম একটা সিনেমায় অভিনয় করো নাই।’ সেটা শুনে আমি অনেক কান্না করেছিলাম।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অডিশনে বাঁধনকে অপমান করা হয়েছিল। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কষ্টটা ছিল ওরা শুধু আমাকে রিজেক্টই করেনি, বাজেভাবে অপমান করেছিল। পরে যখন ট্রেইলার এলো, সিনেমা এলো সবার কথা শুনে মনে হলো কাজটা না করে ভালো হয়েছে। খুশি হয়েছিলাম যে, তারা আমাকে রিজেক্ট করেছিল।’ 

    ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন আরিফিন শুভ। তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।

    সিনেমাটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন—নুসরাত ফারিয়া, রিয়াজ আহমেদ, দিলারা জামান, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, জায়েদ খান, খায়রুল আলম সবুজ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, গাজী রাকায়েত, তৌকীর আহমেদ, মিশা সওদাগরসহ শতাধিক শিল্পী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘মুজিব’ সিনেমায় কাজ করতে না পেরে কেঁদেছিলেন বাঁধন

    শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’-এ কাজ করতে না পেরে কেঁদেছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দু’বার অডিশন দিলেও সে সিনেমায় ডাক পড়েনি তার। তখন বিষয়টি নিয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেও এখন আর কষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি একটি বেসরকারি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে সময়কার স্মৃতি মনে করে বাঁধন বলেন, ‘আমি তো অডিশন দিয়েছি। দুবার দিয়েছি। রিজেক্ট হয়ে অনেক কান্না করেছি। শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে তো ছিল। উনার মতো ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করা। আমাকে যখন রিজেক্ট করছে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম।’

    যখন ট্রেলার বের হলো তখন আমার একটা কাজিন আছে খুব ক্লোজ, ওর নাম সামিয়া। ও আমাকে বলছিল, বাঁধন আপু, আল্লাহ তোমার সঙ্গে সবকিছু ভালো করে। তুমি তো তা জানো। আমি তখন বলেছিলাম, আমি জানি। তখন আমার বোনটা বলেছে, আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছে তোমাকে এই রকম একটা সিনেমায় অভিনয় করো নাই। সেটা শুনে আমি এত কান্না করেছিলাম’-যোগ করেন বাঁধন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন


    রেহানা মরিয়ন নূর’ খ্যাত এই অভিনেত্রী দাবি করেন, ‘কষ্টটা ছিল ওরা শুধু আমাকে রিজেক্টই করেনি, বাজেভাবে অপমান করেছিল। পরে যখন ট্রেলার এলো, ছবি এলো সবার কথা শুনে মনে হলো কাজটা না করে ভালো হয়েছে। খুশি হয়েছিলাম যে তারা আমাকে রিজেক্ট করেছিল।’

    মুক্তির পর থেকেই ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমা নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বিশাল বাজেটের সিনেমা হলেও তা শৈল্পিক দিক দিয়ে কতটা উতরে যেতে পেরেছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ।

    প্রসঙ্গত, ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় শেখ মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করেন আরিফিন শুভ। তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমার অন্য চরিত্রে অভিনয় করেন নুসরাত ফারিয়া, রিয়াজ আহমেদ, দিলারা জামান, চঞ্চল চৌধুরী সহ আরো অনেকে।

    বিনোদন ডেস্ক