Tag: অমিতাভ বচ্চন

  • লম্বা হওয়ার কারণেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন

    বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ক্যারিয়ারের শুরুতে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার চেহারা ও অতিরিক্ত উচ্চতা নিয়েও একসময় সমালোচনা শুনতে হয়েছে। সম্প্রতি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

    ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর বিশেষ এক পর্বে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট লাভলিনা বরগোহাইন, ঝান্ডু কুমার, শর্মিলা ধনকর ও অস্মিতা দের সঙ্গে কথোপকথনের সময় অমিতাভ তার পুরোনো দিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

    অস্মিতা জানতে চান, প্রশিক্ষণের সময় ভুল করলে যেমন অ্যাথলেটদের কোচদের বকুনি খেতে হয়, তেমনি অমিতাভও কি চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে বকুনি খেয়েছেন?

    জবাবে অমিতাভ বচ্চন জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে অনেক বকাঝকা শুনতে হয়েছে। তিনি বলেন, শুরুর দিকে আমাকে অনেক বকুনি শুনতে হয়েছে। বলা হত, তুমি অভিনয়ের কিছুই জানো না। তুমি অনেক লম্বা, বাড়ি চলে যাও।

    অভিনেতা জানান, পরে যখন তিনি কাজের সুযোগ পেতে শুরু করেন, তখনও তাকে নানা বিষয়ে সংশোধন করা হত। অমিতাভ বলেন, তখন বলা হত, ঠিক আছে, ওখানে দাঁড়াও এবং সংলাপ বলো। এরপর তারা জিজ্ঞেস করত, এভাবে কেউ সংলাপ বলে? তারা আমাকে বকত, ভুল ধরিয়ে দিত এবং সংশোধন করত। এভাবেই ধীরে ধীরে আমি উন্নতি করেছি।

    ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিংয়ে দেরি করায় একবার পরিচালক তাকে সেট থেকে বের করে দিয়েছিলেন বলেও জানান অমিতাভ।

    তিনি বলেন, সাধারণত আমি সময়মতো শুটিংয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। একবার আমি দেরি করে ফেলেছিলাম। পরিচালক তখন সেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় আমার নিজের কোনো গাড়ি ছিল না, তাই অন্য একজনের গাড়িতে করে সেখানে পৌঁছাই। আমাকে দেখেই পরিচালক জানান, শুটিং শেষ করে সবাই চলে গেছে। এরপর তিনি আমাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।

    অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের এই অভিজ্ঞতা আবারও তুলে ধরেছে, তারকা হওয়ার আগে তাকে কতটা সংগ্রাম করতে হয়েছে।

    এদিকে কাজের দিক থেকে অমিতাভ বচ্চনকে পরবর্তী সময়ে প্রভাসের সঙ্গে ‘কালকি ২’ সিনেমায় দেখা যাবে। সিনেমাটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

    সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ, কী ভুল করেছিলেন?

    বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। নিজের ব্লগের পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলেও নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। তবে সম্প্রতি একটি পোস্টে সামান্য ভুল করে অনুরাগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

    প্রতিদিনের এক্স পোস্টের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে একটি নম্বর ব্যবহার করেন অমিতাভ। সম্প্রতি সেই নম্বর দিতে গিয়েই ভুল করে ফেলেন অভিনেতা। বিষয়টি অনুরাগীদের নজরে আসার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন তিনি। পরে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ জন্য ক্ষমা চান অমিতাভ।

    অমিতাভ লেখেন, ‘টি ৫৮২০। নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার বড় ভুল হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ৫৮১৭-এর পর ৫৮১৮, ৫৮১৯, ৫৮২০ হওয়া উচিত ছিল।’    

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    একই পোস্টে ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সুনীল নামের এক নেটিজেনকে ধন্যবাদ জানান অমিতাভ। তবে বর্ষীয়ান অভিনেতার এই সামান্য ভুল নিয়ে মজা করতে ছাড়েননি অনুরাগীরা। মন্তব্যের ঘরে এক নেটিজেন রসিকতা করে লেখেন, ‘ভুল স্বীকার করেছেন দেখে ভালো লাগছে। তা না হলে এই নম্বর ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম।’

    অন্য এক নেটিজেন অমিতাভের ভুল ধরিয়ে দেওয়া সুনীলকে নিয়ে রসিকতা করে লেখেন, ‘এই ভালো কাজের জন্য সুনীলের অবদান মানবজাতি চিরকাল মনে রাখবে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, অমিতাভের অনুরাগীদের পক্ষ থেকে সুনীলের একটি পদক পাওয়া উচিত।

    সামান্য একটি সংখ্যার ভুল হলেও অমিতাভ যেভাবে নিজে থেকেই তা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, সেটিই এখন অনুরাগীদের আলোচনার বিষয়। তার সরল স্বীকারোক্তি ও রসবোধও নেটদুনিয়ায় প্রশংসা পাচ্ছে।

    এদিকে কাজের ব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছেন অমিতাভ বচ্চন। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে তাকে দেখা যাবে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিক্যুয়েলেও।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির বিদায়ে অমিতাভ বচ্চনের আবেগঘন বার্তা

    বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। 

    অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের এই হৃদয়বিদারক হারের পর মাঠে তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির চোখের পানি ছুঁয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়। এই পরাজয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনও। 

    রাত জেগে ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করার পর মেসি ও আর্জেন্টিনার বিদায় নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। 

    ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে স্পেনের বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন। এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন তাদের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে এবং আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের রাজত্বের ইতি টানে। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মেসির স্বপ্নও এখানে শেষ হয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই নিজের ব্লগে অমিতাভ বচ্চন খেলায় মেগা স্টারদের অবস্থান এবং সময়ের বাস্তবতা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। 

    তিনি লেখেন, ‘খেলা… শেষ… স্পেন চ্যাম্পিয়ন এবং মেসি হেরে গেল… আবেগের অশ্রু… কষ্টের… তবে প্রতিটি চ্যাম্পিয়নের জন্যই এমন দিন আসে… যখন আপনি ঘুরে তাকান, দেখবেন আপনার চেয়েও ভালো কেউ এসেছে… যে ভালোবাসা আপনি পেয়েছেন তা গ্রহণ করুন… সেই গৌরবেই বিশ্রাম নিন।’ 

    তিনি মনে করিয়ে দেন, খেলার জগতে সময় কারো জন্য থেমে থাকে না এবং একজন চ্যাম্পিয়নের রাজত্ব একসময় অন্য কারো হাতে স্থানান্তরিত হওয়াই স্বাভাবিক নিয়ম। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফ্রান্সকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, সমালোচনার মুখে অমিতাভ বচ্চন

    ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যে শেষ আটে চলে গেছে সুইজারল্যান্ড। তারা কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৪-৩ গোলে জয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। 

    এদিকে বিশ্বকাপের এ উন্মাদনার মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়েছেন  বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। সেই পোস্ট রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে। ফ্রান্স ফুটবল দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে গিয়ে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের বেড়াজালে জড়িয়ে পড়েছেন বিগবি। এ নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

    বিশ্বকাপে ফ্রান্স দলে যেমন কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে কিংবা মাইকেল ওলিসের মতো কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলাররা মাঠ কাঁপাচ্ছেন, ঠিক তেমনি লুকাস ডিনে বা অদ্রিয়ান র্যাবিওর মতো শ্বেতাঙ্গ তারকারাও অবদান রাখছেন। দলের ভেতরে যখন কোনো বিভেদ নেই, তখন অমিতাভের মতো একজন কিংবদন্তির মুখে প্রশংসার ছলে এমন ‘বর্ণবিদ্বেষী’ মন্তব্য বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলভক্তের মনে আঘাত হেনেছে।

    এর মধ্যেই কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচে একমাত্র জয়সূচক গোলটি আসে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পা থেকে। ফরাসিদের এমন দুর্দান্ত দাপট দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন।

    দুঃখজনক হলেও সত্যি— বিগবি প্রশংসার বদলে ভাষা হিসেবে যা বেছে নিয়েছেন, তাতেই চটেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে অমিতাভ বচ্চন লিখেছেন— এবার বলেই দি। এই ফরাসি দলটায় ১১ ফুটবলার আছেন। এর মধ্যে ১০ জন কালো আর একজন সাদা। এটাই হলো কালো মানুষের শক্তি।

    তার এই ‘সাদা-কালো’ বৈষম্যমূলক মন্তব্য পোস্ট হওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের একাংশ বলেছেন— খেলোয়াড়দের গায়ের রঙ বা জাতিগত পরিচয় দিয়ে বিচার না করে তাদের জাতীয়তা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। আবার অনেকেই এ মন্তব্যকে চরম ‘অসংবেদনশীল’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কাজের প্রতি ভালোবাসা একজন শিল্পীকে প্রাসঙ্গিক রাখে: অমিতাভ

    বলিউডের শাহেনশাহ অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন প্রতি দিনই সামাজিক মাধ্যমে কিছু না কিছু লিখে থাকেন। গত ৪২ বছর ধরে নিয়মিত ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে দেখাও করেন নিজের বাড়ির সামনে। সম্প্রতি নিজের ব্লগে এ কিংবদন্তি অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি তার নিরাপত্তারক্ষীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— যেন ভক্ত-অনুরাগীদের গায়ে কোনো আঁচ না লাগে। তাদের সঙ্গে যেন সবসময়ে ভদ্র ও সম্মানজনক আচরণ করা হয়। মানুষের প্রতি নিরাপত্তারক্ষীদের আচরণই বলে দেবে অমিতাভ বচ্চন কেমন মানুষ।

    অমিতাভ বচ্চনের কাছে ভক্ত-অনুরাগীদের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি। বছরের পর বছর ধরে যে অসংখ্য মানুষ তাকে সমর্থন করে আসছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ বলে জানান। অমিতাভ বচ্চন আরও লিখেছেন— ওদের আচরণ দেখেই মানুষ আমার চরিত্র সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। তাই আমি সবসময়ে বলি— ভক্তদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলতে এবং সম্মান দেখাতে হবে।

    ৮৩ বছর বয়সেও অমিতাভ বচ্চন তার কর্মনিষ্ঠা ও উদ্যম দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে চলেছেন। তিনি বলেন, একদিনেই তিনি ১২টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের বিজ্ঞাপনী ছবিতে শুটিং এবং ফটোশুট করেছেন। এত ব্যস্ততার পরও গভীর রাতে তিনি ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ব্লগে লিখছেন।

    এর আগে শিল্পীরা তিন শিফটে কাজ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই হাওয়া বদলেছে। এখন আর সেভাবে কাজ হয় না। বিগবি লিখেছেন, কাজই সব। ভক্তদের সঙ্গে এই সংযোগ বজায় রাখা তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কখনো বন্ধ হওয়া উচিত নয়। এ ঘটনাটি আবার প্রমাণ করে যে, বয়স নয়, কাজের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠাই একজন শিল্পীকে সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক করে রাখে।

    তার এই কর্মস্পৃহা দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। অনেকেই তাকে অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত কাজের মধ্যে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শও দেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, অমিতাভ বচ্চনকে আগামী দিনে দেখা যাবে ‘কল্কি ২৮২৮ এডি’ সিনেমার সিক্যুয়েলে। এ সিনেমায় তার সঙ্গে রয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাস, কমল হাসান প্রমুখ।

    এর আগে ২০২৪ সালে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমার প্রথম অংশে অশ্বত্থামার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে এবং অনেকেই তার রূপান্তর ও অ্যাকশনের তারিফ করেন। এ সিনেমাটির প্রথম পর্ব বিশ্বব্যাপী এক হাজার কোটিরও বেশি আয় করেছিল। আর সিক্যুয়েল বর্তমানে নির্মাণাধীন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • যে কারণে রাজনীতিতে গিয়েও সরে আসেন অমিতাভ

    বলিউড ‘শাহেনশাহ’ হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের সাফল্যের গল্প সবারই জানা। কিন্তু তার জীবনের এমন একটি অধ্যায় রয়েছে, যা নিয়ে আজও আলোচনা হয়। অভিনয়ের জগতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাফল্যের পর ১৯৮৪ সালে তিনি রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত তাকে যেমন বিপুল জনসমর্থন এনে দিয়েছিল, ঠিক তেমনই কয়েক বছরের মধ্যেই বিতর্ক— অভিযোগ ও হতাশার মুখোমুখিও হতে হয়েছিল। পরে নিজেই স্বীকার করেছিলেন, রাজনীতিতে যোগ দেওয়া ছিল তার জীবনের একটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’।

    ১৯৮২ সালে ‘কুলি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসেন তিনি। সেই সময় গোটা দেশ তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছিল। এ ঘটনার পর তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। অনেকের মতে, সেই সময় দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী চলচ্চিত্র তারকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন অমিতাভ বচ্চন।

    এর কিছু দিন পরেই ঘটে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে আসেন ইন্দিরাপুত্র রাজিব গান্ধী, যিনি ছিলেন অমিতাভের দীর্ঘদিনের বন্ধু।

    বচ্চন পরিবারের সঙ্গে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সম্পর্ক ছিল বহু পুরোনো। অমিতাভের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন ও জওহরলাল নেহরুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। অন্যদিকে অমিতাভের মা তেজি বচ্চন ও ইন্দিরা গান্ধীর সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। সেই পারিবারিক বন্ধন এবং রাজীব গান্ধীর অনুরোধেই তিনি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত। তিনি বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন মাত্র। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে লড়েন অমিতাভ বচ্চন। তার বিপক্ষে ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা হেমবতী নন্দন কিন্তু নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই নিজের অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করেছিলেন অভিনেতা। প্রচারের মাঝপথেই তার মনে হয়েছিল, এ কাজের জন্য তিনি যথেষ্ট প্রস্তুত নন। এমনকি এক রাতে তিনি হাল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু তার মা তাকে লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। 

    বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন বিগ বি। সংসদে প্রবেশের পর অমিতাভ চেষ্টা করেছিলেন সক্রিয় সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করতে। 

    এলাহাবাদের উন্নয়ন নিয়ে অভিনেতা অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। স্থানীয় সমস্যার সমাধান, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন। এমনকি গ্রামের মানুষের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে মেডিকেল ভ্যান চালুর উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের অনেকেই তাকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেখতেন। দলের ভেতরেও তার দ্রুত জনপ্রিয়তা অনেকের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, রাজনীতি শুধু সদিচ্ছা বা জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না। এখানে রয়েছে জটিল সমীকরণ— ক্ষমতার লড়াই এবং সংগঠনের রাজনীতি। 

    তিনি বলেন, রাজনীতিতে সফল হতে যে ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, তা তার মধ্যে ছিল না। এরই মধ্যে তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ঝড়। ১৯৮৭ সালে প্রকাশ্যে আসে বহুল আলোচিত বোফর্স কেলেঙ্কারি। 

    অভিযোগ ওঠে, সুইডিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা বোফর্স ভারতের সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে ঘুস দিয়েছিল। এ বিতর্কে অমিতাভ বচ্চন এবং তার ভাই অজিতাভ বচ্চনের নামও জড়িয়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, তাদের বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে।

    যদিও অমিতাভ প্রথম থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে লন্ডনে একটি সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেন। আদালতে সেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি প্রমাণিত হয়নি। বহু বছর পর তদন্তকারী সংস্থাগুলোও তাকে ক্লিনচিট দেয়। এমনকি বোফর্স মামলার এক সুইডিশ হুইসেলব্লোয়ারও পরে বলেন, অমিতাভকে ভুলভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তবু এ বিতর্ক তার ভাবমূর্তিতে গভীর আঘাত হানে।

    রাজনীতির এ অভিজ্ঞতা অমিতাভ বচ্চনকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তিনি পরে এই সময়টিকে নিজের জীবনের ‘নরকসম’ অধ্যায় বলে বর্ণনা করেছিলেন। এ বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, বিনোদন জগতের সমালোচনা বা বিতর্ক সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও রাজনৈতিক আক্রমণের প্রকৃতি তিনি বুঝতে পারেননি। ফলে ক্রমশ রাজনীতির প্রতি তার অনীহা বাড়তে থাকে। অবশেষে মাত্র তিন বছরের মাথায়, ১৯৮৭ সালে সংসদ সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন অমিতাভ বচ্চন। 

    তিনি চলচ্চিত্র জগতে ফিরে আসেন এবং আর কখনো সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার তিনি বলেছেন— রাজনীতিতে প্রবেশ করা ছিল আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত এবং সেটি তিনি আর কখনো পুনরাবৃত্তি করবেন না। তবে আজও একটি আক্ষেপ তাকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি স্বীকার করেছেন— নির্বাচনি প্রচারে এলাহাবাদের মানুষকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলোর অনেকটাই তিনি পূরণ করতে পারেননি। সেই ব্যর্থতার বোধ এখনো তার মনে রয়ে গেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সূর্যবংশী ১৫ বছর বয়সি আমাদের অভূতপূর্ব সূর্য: অমিতাভ

    আইপিএলে ঝড় তুলেছিল ১৫ বছরের ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের  হয়ে ১৫ ম্যাচে ৬৮০ রান করে কমলা টুপির দৌড়ে এগিয়ে সে। ইতোমধ্যে ১২ কোটি টাকা উপার্জনের প্রস্তাব পেয়েছে বৈভব। যদিও আইপিএল থেকে ‘রাজস্থান রয়্যালস’ ছিটকে যাওয়ার পরেই কেঁদে ফেলে সে। শুক্রবার খেলা শেষ হওয়ার পর চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে বৈভব সূর্যবংশীকে। এর মাঝে তাকে নিয়ে এক চিন্তার কথা জানালেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন? সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন সে  কথা।  

    গত বছর ধরেই বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে উচ্ছ্বাস করতে দেখা গেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। আইপিএলের খেলা চলাকালে মাঠে তার বিভিন্ন অভিব্যক্তি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে প্রতিনিয়ত। এই অল্প বয়সেই কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছে বৈভব। কিন্তু চোখেমুখে ও হাবভাবে এখনো সারল্য তার মনে। এ কিশোর ব্যাটারের সারল্য যেন মন কেড়ে নিয়েছে ক্রিকেট ভক্ত-অনুরাগীদের। বৈভবের এমন সাফল্য দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি অমিতাভ বচ্চন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সম্প্রতি সমাজিক মাধ্যমে ‘বিগবি’ লিখেছেন— ‘সূর্যবংশী ১৫ বছর বয়সি আমাদের অভূতপূর্ব সূর্য। এই বয়সে তো আমরা ডাঙ্গুলিও ঠিকমতো খেলতে পারতাম না!’ অমিতাভের এমন পোস্টে ভক্ত-অনুরাগীদের মন্তব্য উপচে পড়ছে। আইপিএল থেকে রাজস্থান ছিটকে যাওয়ায় অনেকেরই আক্ষেপ— তবে তাদের চোখে বিজয়ী বৈভব, সে কথাও জানিয়েছেন তারা। কেউ কেউ বলেন, রাজস্থান রয়্যালসের হারে একমাত্র আক্ষেপ যে, বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে আর কোনো ইনিংস দেখতে পাব না। কেউ কেউ আবার বৈভবকে আরও পরিশ্রম করার উপদেশ দিয়েছেন।

    বৈভবের কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। শুধু ক্রিকেটপ্রেমীরাই নন, বৈভবের কান্না দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি ধারাভাষ্যকার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমেও।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অমিতাভের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার গুজব, মুখ খুললেন অভিনেতা

    বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৬ মে থেকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন-এমন গুজবই ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে। প্রথমে এ গুজব ছড়ায় বলিউডের আলোচিত্রী বিনোদন সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানি। শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেছিলেন— অভিনেতার পেটে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং ছেলে অভিষেক বচ্চন তাকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। এরপরই সামাজিক  মাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 

    বয়স ৮৩ পেরোলেও বিগবির প্রতিটি উপস্থিতি, প্রতিটি পোস্ট কিংবা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ছোট খবরও মুহূর্তে আলোচনার জন্ম দেয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতেও তেমনটাই ঘটল। সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে— অমিতাভ বচ্চন নাকি হাসপাতালে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগে পড়েন তার কোটি ভক্ত-অনুরাগী। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন— খবরটা কি আসলেই সত্যি! কতটা অসুস্থ অমিতাভ? কী হয়েছে তার?

    তবে সকাল গড়াতেই সামনে আসে আসল তথ্য— অভিনেতা হাসপাতালে ভর্তি হননি বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত শনিবার মুম্বাইয়ের নানাবতি হাসপাতালে গিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। এটি ছিল তার নিয়মিত মাসিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা। প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়নি।

    বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে ভর্তি হননি। তিনি শুধু রুটিন চেকআপ করাতে গিয়েছিলেন। সব পরীক্ষা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।’

    কেননা সর্বশেষ রোববারও বিগবিকে তার মুম্বাইয়ের বাসভবন ‘জলসা’র বাইরে ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। পরে তাকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে দেখা গেছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি থাকার খবরটি যে ভিত্তিহীন, সেটি স্পষ্ট হয়ে যায়।

    আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ব্লগ একটি পোস্ট করেছেন অমিতাভ বচ্চন। সেই পোস্টে তার ভক্ত-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি। বরাবরের মতো রসিক ভঙ্গিতেই শাহেনশাহ লিখেছেন— যখন ঈগল চুপ থাকে, তখন টিয়া পাখিরা বেশি কথা বলতে শুরু করে। আমি তো শান্তিতে বাজরার রুটি আর ভাজা সবজি খেয়ে নিলাম। আর এদিকে কাকের দল নানা কথা বলেই যাচ্ছে। 

    অমিতাভ বচ্চন আরও লিখেছেন, ‘রাত শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ঘুম আসে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে একজন মানুষের অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় সেটি সবসময় সম্ভব হয় না।’ ঘুম না এলে কী করেন, সেটিও জানিয়েছেন বিগবি। গভীর রাতে সেতার ও স্লাইড গিটারের ধীরলয়ের সংগীত তাকে শান্তি দেয়। সংগীত শুনেই অনেকটা সময় কাটান বলে জানান শাহেনশাহ।

    তার এই পোস্ট দেখেই নেটিজেনরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেক নেটিজেন বিগবির এ মন্তব্যটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন— যখন আসল শক্তিমান মানুষ চুপ থাকে, তখন নানা মানুষ নানা কথা বলতে শুরু করে, আমি তো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়াদাওয়া করে আছি। অথচ গুজব ছড়ানো মানুষ কথা বলেই যাচ্ছে। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘অমিতাভ আগের মতোই প্রাণবন্ত আছেন।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • কাজে সফল হওয়ার ‘মন্ত্র’ জানালেন অমিতাভ বচ্চন

    বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ৮৩ বছর বয়সেও কাজের প্রতি যে নিষ্ঠা তা অনেক মানুষের কাছেই অনুপ্রেরণা। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেও এখনো একই রকম শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করে আসছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত ব্লগ লেখা, ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নতুন ভাবনা শেয়ার করে নেওয়াও তার নিত্য অভ্যাস। 

    কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর শৃঙ্খলাই একজন মানুষকে আলাদা করে তোলে, তার প্রমাণ বিগবি। বারংবার সেই বার্তাই দিয়ে আসছেন অমিতাভ বচ্চন। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। সামাজিক মাধ্যমে নিজের ব্লগে আবার কাজের নীতি ও জীবনের গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের দীর্ঘ ভাবনার কথা লিখলেন এ বর্ষীয়ান অভিনেতা। 

    সম্প্রতি নিজের ব্লগে মনোসংযোগ ও সময় নষ্ট না করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন অমিতাভ বচ্চন। এ কিংবদন্তি অভিনেতা বলেন, কাজের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে একবার সময় কাটাতে শুরু করলে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, তা বোঝাই যায় না। শুধু সামাজিক মাধ্যমই নয়, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কখনো কখনো পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটানোও কাজের ক্ষেত্রে মনোসংযোগ নষ্ট করতে পারে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অমিতাভ বচ্চন বলেন, সম্প্রতি তিনি স্টিভ জোভসের একটি মন্তব্য পড়েছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, জীবনে সফল হতে গেলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ‘ফোকাস’। তিনি বলেন, মানুষ যখন নিজের লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে চারপাশের নানা বিষয়ে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ে, তখনই কাজের ক্ষতি হতে শুরু করে। 

    এ বর্ষীয়ান অভিনেতার এমন মন্তব্যে ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে নানা চর্চা শুরু হয়েছে। অনেক নেটিজেন মনে করেন, অমিতাভ আসলে বর্তমান ডিজিটাল যুগের বাস্তব সমস্যার কথাই তুলে ধরেছেন। যদিও অভিনেতা কোথাও সম্পর্ককে অস্বীকার করেননি। বরং কাজের সময় কাজের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার কথাই বলতে চেয়েছেন বলে অনেক নেটিজেন মনে করেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আপনি একা: অমিতাভ

    বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ৮০ পেরিয়েও অভিনয় ও জীবনবোধে এখনো চিরসবুজ। তার এই গভীর জীবনদর্শন ভক্ত-অনুরাগীদের মনে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। অনেকেই বলছেন, জীবনের কঠিন সময়ে অমিতাভের এ কথাগুলো আত্মবিশ্বাস বাড়াতে টনিকের মতো কাজ করবে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সামাজিক মাধ্যমেও তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে সরব থাকেন।

    সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নিজের ব্লগে জীবনের এক কঠিন সত্য নিয়ে হাজির হয়েছেন বিগবি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, জীবনের লড়াইয়ে দিনশেষে মানুষ একা। পোস্টে অমিতাভ আরও লিখেছেন— জীবনের প্রতিটি মোড় বা সংগ্রামের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত একাই লড়তে হয়। এই একাকীত্বকে নেতিবাচক হিসেবে নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও শক্তির জায়গা থেকে তুলে ধরেছেন তিনি। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ব্রিটিশ-আমেরিকান লেখক অ্যালান ওয়াটসের একটি বিখ্যাত উক্তিও শেয়ার করে নিয়েছেন এ কিংবদন্তি অভিনেতা।

    নিজের সেই অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের ভেতরেই একটি ব্যক্তিগত শক্তি থাকে, যা অনেক সময় পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটিই প্রতিটি মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। একে নিজের ভেতরে সযত্নে রাখুন। যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে, তখনই কেবল একে উন্মোচন করুন। মনে রাখবেন— এটিই হবে আপনার জীবনের সেরা রক্ষাকর্তা।

    অমিতাভ বলেন, আপনার পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আপনি একা। জ্ঞানী ব্যক্তিদের উপদেশ ও পরামর্শ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেষ দায়িত্বটা সবসময় আপনারই। আপনি যা কিছু অনুভব করেন, যে অভিজ্ঞতা লাভ করেন, ভাবেন, সহ্য করেন, উপভোগ করেন কিংবা চিন্তা করেন—  সবই আপনি। আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। শুধু আপনিই গুরুত্বপূর্ণ, আর কিছু নয়।

    বিনোদন ডেস্ক