সংসার আর সন্তানই আমার কাছে বড়: ফেরদৌসী মজুমদার

Written by

in

‎সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন ফেরদৌসী মজুমদার। এমন সুযোগ পেয়েও কেন অভিনয় করলেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ত্রপা (ত্রপা মজুমদার) তখন ছোট। ওরে রেখে অভিনয় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ সংসার আর সন্তানই আমার কাছে বড়। 

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় নাট্য সংগঠন অনুস্বরের ৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘ফেরদৌসী মজুমদার: জীবন ও অভিনয়’ শীর্ষক আয়োজনে এক প্রশ্নের তিনি এসব কথা বলেন।

এরপরেও ‘দমকা’ সিনেমা অভিনয় করেছিলেন। আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি। তিনি জানান, অভাব মেটাতে তিনি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। এসময় তিনি সিনেমা, মঞ্চ ও টিভি নাটকের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন।

সংসার জীবনে অভিনয়ে বাধা এসেছিল কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, সংসার আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে, সহযোগিতা করেছে। ছোট বেলায় বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনয় করেছি। ভেবেছিলাম, এরপর আর অভিনয় করা হবে না। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখি সবাই অভিনয় করে। রামেন্দু মজুমদারের ভাই আমার ভাসুর অভিনয় করতেন। আমার মেয়েও বাধা দেয়নি।

পরে কথা প্রসঙ্গে তার অভিনিত নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘কোকিলারা’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘মেরাজ ফকিরের মা’, ‘লাভ লেটার’ সহ মঞ্চে অভিনিত বেশ কয়েকটির সংলাপ প্রক্ষেপণ করেন।

‎এ সময় উচ্ছ্বসিত করতালি তাকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত দর্শক-স্রোতা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অনুস্বরের প্রধান মোহাম্মদ বারী। শুরুতে তার প্রশ্নের উত্তর দেন ফেরদৌসী মজুমদার। পরে উপস্থিত দর্শকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

তার শৈশবের ছেলে-মেয়ের মধ্যে এমন বৈষম্য ছিল না। আমি ছেলেদের সঙ্গে মার্বেল খেলেছি, ডাঙ্গুলি খেলেছি। জিতেছিও।

নাট্যাঙ্গনে ভাঙাগড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, না ভাঙলে গড়বে কী করে। সুতরাং ভাঙাটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখার কিছু নাই।

মঞ্চে অভিনয় কেন বেশি করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, মঞ্চে প্রত্যক্ষ ফিডব্যাক পাওয়া যায়। এটা গ্রহণ করেল আনন্দ পাওয়া যায়। ‎

আপনার মতো হতে গেলে কী করতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মতো না। আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তবে শিল্পীকে পরিশ্রমী হতে হবে। ত্রপা সাংঘাতিক পারফেকশনিস্ট। অসম্ভব নিষ্ঠাবান, অসম্ভব পরিশ্রমী।

‎জীবনের লক্ষ্য কী ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার জীবনের কোনো লক্ষ্য ছিল না। লক্ষ্য ঠিক করে কিছু হয় কিনা জানি না।

‎সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *