বছর শেষে মানহীন সিনেমায় সয়লাব ঢালিউড, দর্শকশূন্য প্রেক্ষাগৃহ

Written by

in

ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা রসাতলে। সেটি আর ঘটা করে বলার কিছু নেই। অনেককেই বলতে শোনা যায় সিনেমার উন্নয়নে কাজ করছেন তারা, তলানিতে যাওয়া ঢাকাই সিনেমার আবারও সুদিন ফিরবে। কিন্তু যে হারে মানহীন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে তাতে করে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অবশিষ্ট নামটুকুও বিলীন হওয়ার উপক্রম। 

গত তিন মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর দিকে তাকালে সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। চলতি বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তার অধিকাংশই ছিল মানহীন। এ সময় মুক্তি পেয়েছে ১৩টি সিনেমা।

৫ আগস্টে দেশের পট পরিবর্তনের পর প্রথম দুটি সিনেমা মুক্তি দেন অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ২৩ আগস্ট মুক্তি পায় ‘অমানুষ হলো মানুষ’ ও ৪ স্পেটেম্বর ‘জিম্মি’। দুটি সিনেমায় তার সঙ্গে জুটি বাঁধেন মৌ খান ও শিরিন শিলা । সিনেমা দুটি নিয়ে দর্শক আগ্রহ মোটেও ছিল না। ১১ অক্টোবর মুক্তি পায় কুসুম সিকদার অভিনীত ও পরিচালিত ‘শরতের জবা’। এটিতে তার বিপরীত ছিলেন ইয়াশ রোহান। এটিও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়। ১৮ অক্টোবর মুক্তি পায় দুটি সিনেমা, দ্বীন ইসলাম পরিচালিত ‘চরিত্র’ ও মির্জা সাখাওয়াত হোসেন পরিচালিত ‘হৈমন্তির ইতিকথা’। সিনেমা দুটি খুবই বাজে ভাবে ব্যর্থ হয়। যা প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের হতাশ করেছে বলা যায়।

আহসান সারোয়ার পরিচালিত সিনেমা ‘রং ঢং’ মুক্তি পায় ৮ নভেম্বর। এটিও মুখ থুবড়ে পড়ে। একই দিনে মুক্তি পায় প্রার্থনা ফারদিন দীঘি অভিনীত আরও একটি সিনেমা ‘৩৬-২৪-৩৬’। যা ওটিটি কনটেন্ট হিসাবে নির্মাণ হলেও পরবর্তী সিনেমা বলে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয়। শুধু সিনেপ্লেক্সে মুক্তি দেওয়া এ সিনেমাও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়। ১৫ নভেম্বর মুক্তি পায় শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘দরদ’। এটি নির্মাণ করেন অনন্য মামুন। এ সিনেমাটিও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২৯ নভেম্বর মুক্তি পায় বিপ্লব হায়দার পরিচালিত ‘ভয়াল’। নাটকের অভিনয়শিল্পী ইরফান সাজ্জাদ ও আইশা খান জুটিকে নিয়ে নির্মিত এ সিনেমার প্রতি দর্শকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তাই খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।

এদিকে ডিসেম্বরের শুরুতেই মুক্তি পায় দুটি সিনেমা ‘নয়া মানুষ’ ও ‘দুনিয়া’। ৬ ডিসেম্বর থেকে প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমা দুটি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সেগুলোও খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। এছাড়া আগামীকাল মুক্তি পাবে আরও দুটি সিনেমা ‘হুরমতি’ ও ‘ডেঞ্জার জোন’। এ দুটি সিনেমা নিয়েও প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ ‘হুরমতি’ নামে সিনেমাটি পরিচালনা করেছে অভিনেত্রী শবনম পারভীন। সিনেমায় সে রকম আলোচিত কোনো শিল্পী নেই। এছাড়া বেলাল সানি পরিচালিত ‘ডেঞ্জার জোন’ সিনেমা নির্মাণ হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। এটিতে কাজ করেছেন বাপ্পি চৌধুরী। এমনিতেই দর্শক চাহিদা না থাকায় ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এ নায়কের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে। 

সম্প্রতি এর ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছে। তাতেও দর্শকদের আগ্রহ নেই। এতেই অনুমেয় এ সিনেমা দর্শক টানতে সক্ষম হবে না। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মিত ‘৮৪০’ নামে একটি সিনেমা। এতে অভিনয় করেছেন নাটকের একঝাঁক অভিনয়শিল্পী।

মানহীন এসব সিনেমায় নামেমাত্র কিছু শিল্পী অভিনয় করেছেন। এদের কেউ কেউ নায়ক হওয়ার বাসনা থেকে সিনেমায় প্রযোজনা করেছেন। অভিনয় দক্ষতা নেই এমন শিল্পীদের নিয়ে এসব সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে মানহীন এসব সিনেমার মধ্যে কয়েকটিতে এক সময়ের আলোচিত শিল্পীরা অভিনয় করলেও নির্মাণ দক্ষতা ও স্বল্প বাজেটের কারণে দর্শকপ্রিয়তা পায়নি।

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *