
দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক গাজী রাকায়েত। ক্যারিয়ারে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনা করেই তিনি ২৮টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার নির্মিত সিনেমা অনেক প্রশংসিত।
অথচ বহু গুণে গুণান্বিত এই অভিনেতাই একসময় হয়ে পড়েছিলেন ধর্মবিরাগী। প্রশ্ন করতে শুরু করেছিলেন নিজের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে। সেই গাজী রাকায়েতের মধ্যেই এখন এসেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি এক পডকাস্টের আলোচনায় তিনি জানান, কোরআনের ‘ভুল’ ধরতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
কীভাবে নিজের ধর্ম বিশ্বাসকে ফিরে পেয়েছেন সম্প্রতি সেটাই পার্সপেক্টিভ পডকাস্ট উইথ ইয়াহিয়া আমিনকে শোনান এই অভিনেতা ও নির্মাতা।
গাজী রাকায়েত বলেন, তিনি একসময় কোরআনের কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং সেগুলোর মধ্যে অসঙ্গতি খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। তবে গভীরভাবে অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, যে বিষয়গুলো তিনি ভুল ভেবেছিলেন, সেগুলোর পেছনে ছিল গভীর অর্থ।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তার দৃষ্টিভঙ্গি সীমিত ছিল এবং ভাসাভাসা জ্ঞান নিয়ে তিনি বিচার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন তাফসির ও প্রেক্ষাপট জানার পর তিনি বুঝতে পারেন কোরআনের আয়াত বুঝতে হলে সঠিক জ্ঞান ও প্রসঙ্গ জানা জরুরি।
এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যা তার ভাষায় সত্যকে মেনে নেওয়ার একটি মানসিক পরিবর্তন। তিনি বিশ্বাস করেন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে সেটিকে আগে গভীরভাবে জানা প্রয়োজন।
আল্লাহর প্রশংসা করে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘সূর্যের কক্ষপথ আছে কিনা, সেটা মাত্র আবিষ্কার হয়েছে হাবল টেলিস্কোপ আবিষ্কারের পর। তাহলে ১৪০০ বছর আগে কোরআনে কীভাবে বলা হয়েছে—আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি-দিন ও সূর্য-চন্দ্রকে, যা প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো বই আছে, যে বই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে নম্বর বা অক্ষরগুলো এদিক-ওদিক করার কোনো সম্ভাবনা নেই? এটা কোনো মানুষের কাজ না। আমি চ্যালেঞ্জ করছি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ম্যাথমেটিশিয়ানদের—ইউ কাম টু মি। আমি তোমাদের সঙ্গে ম্যাথমেটিক্যালি বসতে চাই। কীভাবে একটি কোরআন এত সুন্দরভাবে ম্যাথমেটিক্যালি তৈরি করা সম্ভব—আমি সেই চ্যালেঞ্জ দিলাম।’
তার এই অকপট স্বীকারোক্তি ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির গল্পটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকে তার এই অভিজ্ঞতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনাও তুলে ধরছেন।
বর্তমানে তিনি নিয়মিত ধর্মচর্চা করছেন এবং তার এই জীবনযাত্রার পরিবর্তন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
বিনোদন ডেস্ক





