আমি খুব হিসাব করে কথা বলি না: যীশু সেনগুপ্ত

Written by

in

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত গ্ল্যামারের আলোতেও যেন মাটির মানুষ। ব্যক্তিগত অবসাদ থেকে তার সফল বলিউড সফর। নতুন সিরিজ ‘ব্রাউন’ মুক্তির আগে সব কিছু নিয়ে অকপট এই অভিনেতা। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। 

‘ব্রাউন’ সিরিজে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? 

এমন প্রশ্নের উত্তরে যীশু সেনগুপ্ত বলেন, ‘কারিশমা কাপুর ভীষণ মিষ্টি আর নম্র একজন মানুষ। শুটিংয়ের সময়ে সেই গোবিন্দ বা ডেভিড ধাওয়ানের আমলের নস্টালজিয়াগুলো মনে পড়ছিল। তবে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে পারি— হিন্দি জি ফাইভের ‘ব্রাউন’-এ দর্শক এমন এক কারিশমা কাপুরকে দেখতে পাবেন, যা আগে কেউ কোনো দিন দেখেননি। জাস্ট চোখ ধাঁধিয়ে যাবে সবার!’ 

বলিউড আর টালিউডের মধ্যে এ জায়গায় কোনো ফারাক দেখতে পান? উত্তরে অভিনেতা বলেন, ‘মুম্বাইয়ে কেউ কিন্তু এই বাউন্ডারিটা ক্রস করে না। ওরা পার্সোনাল স্পেসকে সম্মান দিতে জানে, ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে একটু চেনা-জানা হলেই কাঁধে হাত দিয়ে ‘কেমন আছিস’ বলাটা খুব সহজ। কাজের জায়গায় কাজের সম্মানটা দেওয়া খুব প্রয়োজন।’ 

বর্তমানে রাজনীতির পালাবদলের পর সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দিষ্ট প্রত্যাশা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তেমনভাবে কিছু প্রত্যাশা করছি না। আগের সরকারের কাছ থেকেও তেমন কোনো এক্সপেক্টেশন ছিল না। শুধু একটা কথাই মনে হয়— শিল্পীদের শিল্পীর মতো করে থাকতে দিলেই বোধহয় ভালো হয়।’ 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

একের পর এক কাজ, সাফল্য— এর মধ্যেও শান্ত থাকেন কীভাবে? এক গাল হেসে যীশু সেনগুপ্ত বলেন, ‘সত্যি বলতে— এই প্রশ্নটা আমাকে এর আগে কেউ কোনো দিন করেনি। আমার মনে হয় না এটা কোনো থেরাপি বা প্র্যাকটিসের বিষয়। আসলে এই শিক্ষাটা পড়াশোনা করে হয় না। এটা পুরোপুরি বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। আমি বরাবরই খুব চমৎকার কিছু মানুষের সান্নিধ্যে থেকেছি। তাই এ প্রশংসাটা আসলে আমার চারপাশের মানুষের প্রাপ্য।’ 

অভিনেতা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ডিপ্রেশন মানুষের জীবনে আসতেই পারে, এটি খুবই স্বাভাবিক। আর এ বিষয়ে কথা বলাটা ভীষণ জরুরি। আমি খুব সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালোবাসি। জীবনে অবসাদ এসেছে। আমি নিজেও কাউন্সেলিং করিয়েছি। মনোবিদের কাছে গেছি। এটা নিয়ে লজ্জার কিছু নেই। আমরা যে ধরনের জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, সেখানে নিজেকে ঠিক রাখাটাই সবচেয়ে ডিফিকাল্ট কাজ। তার ওপর এখনকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব। আজকাল কোথাও যেন পার্সোনাল স্পেসের বাউন্ডারিটা গুলিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে চারপাশের পরিস্থিতি বড্ড বেশি বদলে গেছে। 

আজকের যীশু সেনগুপ্ত অনেক বেশি মেপে কথা বলেন, অনেক সাবধানী? এমন প্রশ্নের উত্তরে যিশু সেনগুপ্তর ভাষ্য, ‘আমি খুব হিসাব করে কথা বলি না। আমার যেটা মনে হয়, আমি সরাসরি বলে দিই। আমি চাইলে তো এই মনোবিদের কাছে যাওয়ার কথাটা লুকিয়ে রাখতে পারতাম।

আমি তো একজন স্টার, একজন অভিনেতা— আমার এই দুর্বলতা প্রকাশ না করলেও চলত। কিন্তু আমি মনে করি, দিনশেষে আমিও একজন মানুষ। আমাদের এই সমাজটায় কেউ পুরোপুরি সাদা বা কালো নয়— সবাই গ্রে। আমরা প্রত্যেকেই দিনশেষে আয়নার সামনে দাঁড়াই, ক্রিম লাগানোর সময়ে হলেও অন্তত একবার নিজেকে দেখি। তখন তো নিজের ভুলত্রুটিগুলো বা ভালো কাজগুলো নিজের মনের ভেতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’ 

তিনি বলেন, আসল সমস্যাটা হলো— আমরা নিজেদের ভালো করে চিনিই না। আমরা সবাই কোনো না কোনো অভিনয় করে যাচ্ছি। নিজেকে ভালো না বাসলে, নিজে আনন্দে না থাকলে, প্রিয় মানুষকে ভালো রাখবেন কীভাবে? এটা কোনো স্বার্থপরতা নয়, এটা বেঁচে থাকার রসদ। 

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *