
সংসার, সন্তান পালন আর হাইপ্রোফাইল ক্যারিয়ার— দুইয়ের মধ্যে সমতা বজায় রেখে এগিয়ে চলা যে কোনো নারীর জন্যই একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানি। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘মম পাওয়ার কনফারেন্স ২০২৬’ সম্মেলনে যোগ দিয়ে মাতৃত্বের সেই অম্লমধুর ও কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিন সন্তানের জননী অভিনেত্রী বলেন, একজন মায়ের জীবন মানে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর ত্যাগ। কীভাবে দিন-রাত পরিশ্রম করে মায়েরা সন্তানদের বড় করে। অথচ সেই সন্তান বড় হয়ে স্বাধীন হওয়ার পর মায়ের ওপর নির্ভরতা হারিয়ে ফেলে।
কর্মজীবী মায়েদের লড়াই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মৃতি ইরানি বলেন, ক্যারিয়ার ও মাতৃত্ব সামলাতে গিয়ে জীবনের একটি বড় সময় কখন যে কেটে যায়, মায়েরা তা মনেই রাখতে পারেন না। তিনি বলেন, এখানে কি কোনো কর্মজীবী মা আছেন? এসব দায়িত্ব সামলানোর কোনো স্পষ্ট স্মৃতি কি আপনাদের মনে আছে? যদি বিন্দুমাত্র মনে থাকে, তা হলো চ্যালেঞ্জ।
অভিনেত্রী বলেন, সন্তানকে বড় করতে গিয়ে প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে কত রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাইরে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরে সন্তানকে খাওয়ানো, হোমওয়ার্ক করানো, একই সঙ্গে সংসারের কাজ, রান্না, আবার পরের দিনের জন্য অফিসের প্রেজেন্টেশন— কত রাত যে তারা না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই।
এ বিজেপি নেত্রী বলেন, মায়েরা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেন সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য। কিন্তু সন্তান যখন স্বাধীন হয়ে যায়, তখনই মায়ের জীবনের আসল ট্র্যাজেডি শুরু হয়। সন্তানকে স্বাবলম্বী করার জন্য মায়েরা জীবনের অর্ধেক সময় ব্যয় করেন। আর যখন তাদের বয়স ৫০-৫৫ বছর হয়, ঠিক তখনই সন্তানরা যার যার নিজস্ব জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
স্মৃতি ইরানি বলেন, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক কাজ হলো মাতৃত্ব। এটি এমন একটি কাজ, যা তখনই সফলভাবে সম্পন্ন হয় বলে ধরা হয়, যখন সন্তানের আর তার মায়ের কোনো প্রয়োজন থাকে না। আর এটিই একজন মায়ের জন্য সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়। আপনি জীবনের অর্ধেক সময় ব্যয় করলেন যাতে পরবর্তী অর্ধেকে আপনাকে ভুলে যাওয়া হয়। এই ত্যাগের কি কোনো অর্থনৈতিক মূল্য হিসাব করা সম্ভব?
বিনোদন ডেস্ক
Leave a Reply