তৃষার ইনস্টাগ্রাম পোস্টেও থালাপতি বিজয়কে খুঁজে পেলেন ভক্তরা!

Written by

in

তামিল চলচ্চিত্র জগৎ ও রাজনীতির মেলবন্ধন বরাবরই নাটকীয়তায় ভরপুর, তবে ২০২৬ সালের মে মাস যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। একদিকে থালাপতি বিজয়ের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্থান, অন্যদিকে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক রহস্যময় পোস্ট—সব মিলিয়ে দক্ষিণ ভারতীয় বিনোদন অঙ্গন এবং নেটপাড়া এখন উত্তাল। 

বুধবার (২০ মে) তৃষা তার ইনস্টাগ্রামে সুরিয়ার সঙ্গে অভিনীত তার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত তামিল সিনেমা ‘কারুপ্পু’-এর শুটিংয়ের কিছু পর্দার পেছনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন। তবে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে ছবির ক্যাপশন, যেখানে তিনি ‘জয়’ শব্দটির ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। 

তৃষা লিখেছেন, ‘আমার ম্যাজিক্যাল মে (অলৌকিক মে মাস) বলল, জয়ের জন্য আরও একটি। শুধুই ঈশ্বরের কৃপা।’ এই পোস্টের পরই ভক্তরা দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে দেরি করেননি। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, তৃষা আসলে পরোক্ষভাবে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয়ের এই মাসের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয়কেই ইঙ্গিত করেছেন। 

নেটিজেনরা তৃষার ব্যক্তিগত জীবন, বিজয়ের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মোড় এবং সিনেমার সাফল্যকে একই সুতোয় বেঁধে একটি চমৎকার সময়রেখা তৈরি করেছেন। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

এই যেমন, গত ৪ মে বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কাকতালীয়ভাবে, এই একই দিনে তৃষা তার ৪৩তম জন্মদিন উদযাপন করেন। 

প্রায় সপ্তাহখানেক পর ১০ মে বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে তৃষা শুধু উপস্থিতই ছিলেন না, বরং বিজয়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে তাকে বেশ আন্তরিকভাবে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়। 

শপথ অনুষ্ঠানের পরদিন ১১ মে তৃষা নিজের কিছু ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘ভালোবাসার আওয়াজ সবসময়ই তীব্রতর হয়।’ 

এর চারদিন পর ১৫ মে জটিলতা কাটিয়ে মুক্তি পায় সুরিয়া ও তৃষা অভিনীত ফ্যান্টাসি অ্যাকশন থ্রিলার ‘কারুপ্পু’। মুক্তির পরপরই এটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিনেমার শুরুতেই ‘তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়’-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। 

আর বুধবার (২০ মে) ‘কারুপ্পু’ সিনেমার সাফল্য উদযাপনের সময় তৃষা তার ‘ম্যাজিক্যাল মে’ ও ‘জয়’ সংক্রান্ত ক্যাপশনটি পোস্ট করেন। 

যদিও এই ‘জয়’ তৃষার সিনেমার বক্স অফিস সাফল্যের উদ্দেশ্যে বলা, তবুও ভক্তদের একাংশ নিশ্চিত যে এর পেছনে বিজয়ের রাজনৈতিক বিজয়কে অভিনন্দন জানানোর একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা লুকিয়ে রয়েছে। 

তৃষার এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো এতটা আতশিকাঁচের নিচে থাকার মূল কারণ বিজয় এবং তার দীর্ঘদিনের অনস্ক্রিন রসায়ন। তামিল ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সেরা এই জুটির ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ‘গিল্লি’, ‘থিরুপাচি’, ‘আথি’ এবং ‘কুরুভি’-র মতো ব্লকবাস্টার সিনেমার মাধ্যমে ২০০০-এর দশকের বাণিজ্যিক সিনেমার সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিলেন এই জুটি। 

তবে মাঝে দীর্ঘদিন তারা একসঙ্গে কোনো সিনেমা করেননি, যা ভক্তদের মনে এই জুটিকে নিয়ে এক ধরনের নস্টালজিয়া তৈরি করে। 

অবশেষে ২০২৩ সালে লোকেশ কানাগরাজের অ্যাকশন থ্রিলার ‘লিও’ সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছর পর তারা পর্দায় জুটি বাধেন, যা আবারও তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা উস্কে দেয়। 

এরই মাঝে চলতি বছরের ৫ মার্চ চেন্নাইয়ে একটি হাইপ্রোফাইল বিয়ের অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষা একই গাড়িতে একসঙ্গে প্রবেশ করলে গুঞ্জন নতুন মাত্রা পায়। এর ঠিক কিছুদিন আগেই বিজয়ের বৈবাহিক বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল। 

নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজনৈতিক বিরোধীরা বিজয়ের সঙ্গে তৃষার এই সম্পর্ককে হাতিয়ার করার চেষ্টা করলেও, সাধারণ মানুষ বিজয়কেই ব্যালটের মাধ্যমে বেছে নিয়েছেন। যদিও সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে বিজয় বা তৃষা কেউই কখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি। 

সূত্র: এনডিটিভি 

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *