Tag: সাদিয়া আয়মান

  • গোলাপি বাস প্রসঙ্গে ট্রলের কড়া জবাব দিলেন সাদিয়া আয়মান

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সাফল্য ও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠাকে নেতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। সম্প্রতি নারীদের জন্য চালু হওয়া বিশেষ ‘গোলাপি বাস’ সেবা নিয়ে অনলাইনে নানা ট্রল ও কটূক্তির জবাবে সরব হয়েছেন তিনি।

    ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সাদিয়া আয়মান বলেন, সমস্যাটি কোনো বাস, এর রং কিংবা নাম নিয়ে নয়; বরং সমাজের একটি অংশের সংকীর্ণ মানসিকতাই মূল বিষয়। তার মতে, সফল, স্বাধীন ও স্বাবলম্বী নারীদের স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সমাজে এক ধরনের অনীহা রয়েছে।

    ‘গোলাপি বাস’ নিয়ে করা নেতিবাচক মন্তব্যের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী এটিকে ‘কিউট ও পুকি’ হিসেবে উল্লেখ করে নারীদের কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত নারী কর্মী ও উদ্যোক্তাদের পরিশ্রমের প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও বলেন তিনি।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সাদিয়া তার অনুসারীদের নেতিবাচক সমালোচনায় গুরুত্ব না দিয়ে জনকল্যাণমূলক এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছে এবং নারীদের অগ্রযাত্রার পথে সামাজিক মানসিকতার প্রতিবন্ধকতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    সম্প্রতি ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের জন্য বিশেষ ‘গোলাপি বাস’ সেবা চালু করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহনে হয়রানি ও নিরাপত্তাঝুঁকি কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এই সেবায় নারী চালক, হেল্পার এবং নারী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নারী যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদ্যোগটি সাধারণ যাত্রীদের অনেকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশে বাসের রং ও নাম নিয়ে কটূক্তি এবং ট্রল শুরু হয়।

    নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার এই উদ্যোগকে হেয় করার এমন প্রবণতার বিরুদ্ধেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাদিয়া আয়মান।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সত্য কখনো চাপা থাকে না, সামনে আসবেই: সাদিয়া আয়মান

    বিনোদন  জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান প্রায়ই তার সাবলীল অভিনয় স্টাইলিশ লুক নিয়ে আলোচনায় থাকেন। নানা সময়ে তারকাদের প্রেম, বিয়ে কিংবা বিভিন্ন গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের
    মধ্যে চর্চা
    হওয়া নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি বেশ কিছু নাটক, ফিল্ম, ওয়েব ফিল্ম দিয়ে আলোচনায় এলেও বর্তমানে অভিনেত্রীর ব্যস্ততা খানিকটা কম দেখা গেছে।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন, ব্যক্তিগত জীবন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। কোনো বিষয়ে পালটাপালটি মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়ানো নয়, বরং নিজের কাজ মানসিক শান্তি রক্ষা করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

    সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। গুঞ্জন নিয়ে বলার কিছু নেই, থাকেও না। তবে কিছু কথা না বললেও হয়। যখন একটা মানুষ তার কথা বলে ফেলে, আমি যদি আমার সাইড অফ স্টোরি বলি, তখন কিন্তু গল্পটা আসলে অন্যরকম হবে।

    তিনি বলেন, তো ওইটা হয়তোবা যে মানুষটা বলে সে চিন্তাও করে না। আমি চাই না আসলে কাদা ছোড়াছুড়ি হোক। আমি চাই না একজন একটি ইন্টারভিউতে এক কথা বলছে, আবার আমি আরেক কথা বলব। এ রকম নোংরামি করতে চাই না। আমার মনে হয় সত্য কখনো চাপা থাকে না, সত্য একসময় সামনে আসবেই।

    সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমি আগেও বলেছিআমার প্রেমের খুব ইচ্ছা নেই। আমি সব সময় আমার সেটেলমেন্ট করাতেই বিশ্বাসী। আমার কাছে যখন মনে হবে ঠিকঠাক মতো সময়, সুযোগআল্লাহ তো সব লিখে রেখেছে কপালে। আমরা অনেক কিছু চাইলেও সেটা হয় না। আল্লাহ সবকিছু আসলে প্ল্যান করে রেখেছেন। আমাদের কোনো প্ল্যান থাকলেও সেটা আসলে পরক্ষণেই চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। তো আমার মনে হয় যখন সঠিক সময় হবে, যা হবে সব।

    অভিনেত্রী বলেন, অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থেকে নিজের কাজ, পরিবার মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষাতেই নজর দিচ্ছেন। তিনি
    বলেন,
    আমার মনে হয় এখন সময় না। আমি এখন অনেক ছোট, কাজ করে যাই। যখন অনেক বড় হব, সিনিয়র হয়ে যাব, তখন আমার গল্পগুলো বলব, তখন সেগুলো আরও ভ্যালু অ্যাড করবে।

    সাদিয়া আয়মান বলেন, আসলে এত এনার্জি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। শুটিংয়ের কাজ, ফ্যামিলি, আমার বিড়ালের যত্ন নেওয়াআমাকে নিজেকে নিয়েই চিন্তা করতে হয়। আমার মেন্টাল হেলথ আমি খুবই প্রটেক্ট করি। যেগুলো আমাকে মেন্টাল হেলথে ইফেক্ট করতে পারে, সেগুলোকে আমি পাত্তাই দিই না বলে জানান এ অভিনেত্রী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সাদিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কেন আর একসঙ্গে কাজ করেন না বাসার?

    একসময় ছোট পর্দায় বেশ জনপ্রিয় জুটি ছিলেন অভিনেতা খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান। একসঙ্গে একাধিক নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে তাদের প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে দীর্ঘদিন আলোচনা থাকলেও দুজনের কেউই প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। বরং বরাবরই বিষয়টিকে গুঞ্জন হিসেবে এড়িয়ে গেছেন তারা।

    তবে এবার একটি পডকাস্টে এসে সেই সম্পর্কের বিষয়টি আর গোপন রাখেননি খায়রুল বাসার। তিনি জানিয়েছেন, সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে সত্যিই তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যদিও সেই সম্পর্ক কয়েক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে।

    বাসার জানান, নাটকে জুটি হিসেবে কাজ শুরুর আগেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাদিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কাজের সুবাদে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।

    তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করতে চাননি এই অভিনেতা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তখন গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিতাম। কারণ ভালো কিছু ভালো থাকে না। ভালো রাখাটা কঠিন হয়ে যায়। এ কারণেই এড়িয়ে যেতাম। তবে সাদিয়ার সঙ্গে আমার প্রেম ছিল।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সম্পর্কের ইতি টানার পর তাদের পেশাগত সম্পর্কেও পরিবর্তন আসে। একটা সময় নিয়মিত একসঙ্গে নাটকে অভিনয় করলেও পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই একই পর্দায় তাদের উপস্থিতি কমে যায়। বিষয়টি নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও নানা কৌতূহল তৈরি হয়।

    কেন এখন আর একসঙ্গে অভিনয় করেন না—পডকাস্টে সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বাসার। তার ভাষ্য, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর দুজনের সম্মতিতেই একসঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অভিনেতার ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের একসঙ্গে কাজ না করা ভালো। দুজনের জন্য ভালো বলেই আমরা কাজ করছি না। দর্শক আমাদের দেখতে চায় কিন্তু আমাকে তো স্বাভাবিক থেকে কাজটা করতে হবে। তাকেও স্বাভাবিক থাকতে হবে। সত্যি বলতে আমরা ওই জায়গাটি রাখিনি।’

    অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর একই পর্দায় কাজ করাটাকে দুজনের জন্যই স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি। দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও নিজেদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করার স্বার্থেই আপাতত একসঙ্গে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন তারা।

    করোনার পরবর্তী সময়ে ছোট পর্দায় নিয়মিত জুটি হিসেবে দর্শকের নজর কাড়েন খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান। তাদের অভিনীত ‘ডুব সাঁতার’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘জলতরঙ্গ’, ‘দই ফুচকা’ ও ‘দ্য ফার্স্ট কেস’-এর মতো নাটকও দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘একটু বিস্কুট দে ভাই, ক্ষুধা লাগছে’

    গত বছরের মে মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত সিরিজ ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’-তে সাদিয়া আয়মান এবং মোশাররফ করিম একসাথে অভিনয় করেছেন। অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত এই সিরিজটিতে মোশাররফ করিমের আটজন স্ত্রীর একজন হিসেবে সাদিয়া আয়মান অভিনয় করেছেন। 

    সেই ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ বা অন্য কোনো সিরিজে অভিনয়ের সময়ে টানা কাজে ব্যস্ত থাকায় খেতে পারেননি মোশাররফ করিম। যে কারণে সাদিয়া আয়মানের কাছে এসে খাবার খেতে চান অভিনেতা। 

    সেই স্মৃতি চারণ করে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান সম্প্রতি বলেছেন, ‘তো আমরা কেউই ওভাবে মানে যাই পাচ্ছি বিস্কুট বা কেক, কফি এভাবেই খেয়ে খেয়ে আমরা সিন করছি। তো একটা সময় মোশাররফ ভাই হয়তোবা অনেকক্ষণ না খাওয়া ছিল; না খাওয়া বলতে হয়তোবা সিনের মধ্যে ছিল তো, তো সে এসেই বলল যে, ‘আমাকে একটু কেক বা বিস্কুট দে ভাই, আমি তো রোজা রাখিনাই, ক্ষুধা লাগছে।’

    অভিনেত্রীর আরও বলেন, ‘আমি একজন মানবিক মানুষ, নিজেকে মানবিক মানুষ বলতেই পছন্দ করি। আমার মনে হয় আমি আমার আম্মুর মতো হয়েছি। আমার চেহারা আমার আম্মুর মতোই। যদি কেউ মনে করে যে আমার আম্মুকে কেউ কখনো দেখেনি, কেমন হবে দেখতে ধরেন আমারই একটু ওল্ডার ভার্সন আরকি।’

    তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় যে আমি আগে অনেক অধৈর্যশীল ছিলাম, প্রচণ্ড অধৈর্যশীল ছিলাম, অনেক চঞ্চল ছিলাম, অনেক স্পিডে কথা বলতাম। এখন আস্তে আস্তে আমি অনেক নিজেকে পরিণত করছি। তো এটাই। আমার মনে হয় যে আমি মিডিয়াতে কাজ করার পর থেকে আমি আরও ধৈর্যশীল হয়েছি।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আমি না থাকলেও যেন মানুষ বলে সাদিয়া কোথায়?’

    বর্তমান সময়ে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমি চাই যেন আমিও একটা সময় আমার আম্মুর মতো এরকম হতে যেখানে আমি যাই, আমি যদি না থাকি মানুষজন আমাকে বলতে থাকে যে, ‘সাদিয়া কোথায়?’ বা ‘আমি কোথায়?’ আমাকে যেন খুঁজতে থাকে। সো আমি আম্মুর থেকে প্রতিনিয়ত ইন্সপিরেশন পাই। উনি আমার দেখা সবথেকে ধৈর্যশীল নারী। তো আমিও দিন দিন নিজেকে চেষ্টা করছি ধৈর্যশীল হতে।’

    সাদিয়া বলেন, ‘মন জয় করে কীভাবে চলতে হয়, সেটা আমি আমার আম্মুর থেকে শিখেছি। আমার দেখা সবথেকে ধৈর্যশীল নারী। দিন দিন নিজেকে চেষ্টা করছি ধৈর্যশীল হতে। একদিন আমরা আউটডোর শ্যুট করতে করতে আসলে কেউই খাওয়ার সময় পাইনি।’

    তিনি বলেন, ‘তো আমরা কেউই ওভাবে মানে যাই পাচ্ছি বিস্কুট বা কেক, কফি এভাবেই খেয়ে খেয়ে আমরা সিন করছি। তো একটা সময় মোশাররফ ভাই হয়তোবা অনেকক্ষণ না খাওয়া ছিল; না খাওয়া বলতে হয়তোবা সিনের মধ্যে ছিল তো, তো সে এসেই বলল যে, ‘আমাকে একটু কেক বা বিস্কুট দে ভাই, আমি তো রোজা রাখিনাই, ক্ষুধা লাগছে।’

    অভিনেত্রীর আরও বলেন, ‘আমি একজন মানবিক মানুষ, নিজেকে মানবিক মানুষ বলতেই পছন্দ করি। আমার মনে হয় আমি আমার আম্মুর মতো হয়েছি। আমার চেহারা আমার আম্মুর মতোই। যদি কেউ মনে করে যে আমার আম্মুকে কেউ কখনো দেখেনি, কেমন হবে দেখতে ধরেন আমারই একটু ওল্ডার ভার্সন আরকি।’

    তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় যে আমি আগে অনেক অধৈর্যশীল ছিলাম, প্রচণ্ড অধৈর্যশীল ছিলাম, অনেক চঞ্চল ছিলাম, অনেক স্পিডে কথা বলতাম। এখন আস্তে আস্তে আমি অনেক নিজেকে পরিণত করছি। তো এটাই। আমার মনে হয় যে আমি মিডিয়াতে কাজ করার পর থেকে আমি আরও ধৈর্যশীল হয়েছি।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • পোশাক-মেকআপে স্নিগ্ধতা ছড়ালেন সাদিয়া আয়মান

    বিনোদন জগতের ছোটপর্দা অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান গত বছর ‘উৎসব’ সিনেমা দিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন। চলতি বছর ‘মিউ’ ও ‘লাভ সিটার’ ওয়েবফিল্ম দিয়ে আবার দশর্কদের মন কাড়েন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। এবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের লুক দিয়ে চমকে দেন ভক্ত-অনুরাগীদের। সম্প্রতি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের জমকালো অনুষ্ঠানে নিজের আভিজাত্যময় উপস্থিতি দিয়ে ভক্তদের নজর কাড়েন অভিনেত্রী। তারকাবহুল সেই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অন্যান্য সুন্দরীর মতো নিজের দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন সাদিয়া আয়মানও। তার সেই বিশেষ মুহূর্তের কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে এখন আলোচনায়। 

    অভিনেত্রীর ভক্তরা সাদিয়া আয়মানের এই নান্দনিক সাজ দেখে রীতিমতো চমকে গেছেন। কারণ এমন লুকে সচারচর দেখা যায় না তাকে। বেছে নিয়েছিলেন একটি নীল রঙের চমৎকার জামদানি শাড়ি, যা দিয়ে হয়তো নিজ দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি। তারই কিছু একগুচ্ছ ছবি রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন অভিনেত্রী।

    কিছু নজরকাড়া সুক্ষ্ম ও উজ্জ্বল কারুকাজ সাদিয়ার রেড কার্পেট লুকে যোগ করে এক রাজকীয় মাত্রা। ট্র্যাডিশনাল জামদানির সঙ্গে স্লিভলেস হল্টার নেক ব্লাউজ পরেছিলেন, যা ঐতিহ্যের মাঝেও পশ্চিমা আধুনিকতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। শুধু পোশাকেই নয়, তার মেকআপেও ছিল দারুণ স্নিগ্ধতা। গ্লোয়িং ভাইবটা তার চেহারার সারল্যকে আরও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে। চুলের স্টাইলে ছিল সাধারণ এক ধরনের খোঁপায় আধুনিকতার ছোঁয়া। গহনা হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন গ্লুড টুগেদারের ডিজাইন করা আকর্ষণীয় অলঙ্কার। এ ছাড়া তার হাতের অলঙ্কার ও গলার নেকলেসটি পুরো সাজকে পূর্ণতা দেয়।

    তার এই নতুন লুকে যেমন ফুটে ওঠে রুচিশীলতায়, ঠিক তেমনই স্নিগ্ধতায়। এক ব্রাইডাল মেকওভার আর্টিস্টের কাছ থেকে এভাবে সেজেছেন তিনি। যারা আমার এই স্বপ্নটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ বলে জানান অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘পরিচিত সব খালাদের ফোন নাম্বার বন্ধ’, বিপাকে সাদিয়া আয়মান

    ঢাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের কম-বেশি অনেকেরই গৃহকর্মী নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শেষে গৃহকর্মীর সংকট যেন আরও বেড়ে যায়। অন্য সবার মতো এবার এমন বিপাকে পড়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান।

    সম্প্রতি বিষয়টি বেশ মজার ছলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন। একসঙ্গে তার পরিচিত সব গৃহকর্মীর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়ায় তিনি রীতিমতো অবাক হয়েছেন।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নিজের এই অসহায় অবস্থার কথা মজার ছলে তুলে ধরে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার পরিচিত সব খালাদের (বুয়াদের) ফোন নাম্বার বন্ধ! একি অদ্ভুত মনের মিল!’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অভিনেত্রীর এমন বাস্তব ও মজাদার পোস্টে নেটিজেনরাও মন্তব্যের ঘরে মজা করে নানা মন্তব্য করেছেন। পোস্টে একজন মজার ছলে লিখেছেন তাদের সবার বুয়া হয়তো একসঙ্গে হানিমুনে গেছেন। আরেকজন ব্যবহারকারী নিজের হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন বুয়ারা পাগল বানিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের কোনো খোঁজ নেই।

    তবে সবচেয়ে মজার মন্তব্যটি করেছেন আরেক ব্যবহারকারী। তিনি লিখেছেন বুয়াদের হয়তো নিজস্ব প্রাইভেট ফেসবুক গ্রুপ বা কমিটি আছে এবং সেই কমিটির সিনিয়র বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবার ফোন বন্ধ বা রিসিভ না করার এই নিয়ম এখন জারি রয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমার হৃদয় এই শীতের চেয়েও ঠান্ডা: সাদিয়া আয়মান

    সারা দেশে চলছে মৃদ শৈত্যপ্রবাহ। এই হাড় কাঁপানো শীতে পানিতে নেমে জলকেলিতে মেতে ওঠা খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু সেই কঠিন কাজ সহজ করলেন মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান! এই কনকনে শীতে সুইমিংপুল থেকে সদ্য নিজেকে ধরা দিয়ে জানালেন, তার হৃদয় নাকি এই শীতের চেয়েও ঠান্ডা! 

    ছোট পর্দা থেকে সিনেমা, জনপ্রিয় মুখ সাদিয়া আয়মান। অভিনয়গুণের পাশাপাশি রূপ-ফ্যাশনেও ভক্তদের মন জয় করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত ছবি শেয়ার করেন, নিজের নানা মুহূর্ত ভক্তদের মাঝে ভাগ করে নেন। 

    সদ্য নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে আবারও আলোচনায় এলেন এই অভিনেত্রী। দেখা যায়, একটি সি ভিউ হোটেলের সুইমিংপুলে কাটাচ্ছেন সাদিয়া আয়মান। এ সময় বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন অভিনেত্রী। পরনে গোলাপি টি শার্ট, চোখে রোদচশমা। নীল আকাশ, সঙ্গে তার উচ্ছল ভঙ্গি তার সৌন্দর্যের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

    সাদিয়া তার এই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমার হৃদয় এই শীতের চেয়েও ঠান্ডা!’

    বর্তমানে তীব্র শীতের আমেজ চললেও তার এই জলকেলির ছবি দেখে ভক্তরা নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। একজন মজা করে লিখেছেন, ‘তোমার রূপে শীত পালিয়েছে!’ আরেকজন সন্দেহ করে লেখেন, ‘এটা গরমের সময়ের ছবি না তো?’

    এর আগে ব্রাইডাল ফটোশুটে লাল বেনারসিতে রাজকীয় সাজে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন সাদিয়া। তবে শুধু রূপের মোহ নয়, অভিনয়গুণে নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন অভিনেত্রী। ২০২৫-এর ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উৎসব’ সিনেমায় তার অভিনয় ব্যাপক সারা ফেলে। এছাড়াও গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘দেরি করে আসবেন’, ‘খুঁজি তোকে’, ‘মেঘ বৃষ্টি রোদ্দুর’ ও ‘প্লিজ গো’ নাটকেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • রনির সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে যা বললেন সাদিয়া আয়মান

    বিনোদন জগতের ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান গত ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘উৎসব’-এ অভিনয় করে ভীষণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তার চরিত্রটি আলোচনায় ছিল। এর পাশাপাশি তিনি ছোটপর্দা ও ওটিটি সিরিজেও সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। 

    বর্তমানে অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন সাদিয়া আয়মান। তবে এ মুহূর্তে নির্মাতা রেদওয়ান রনির সঙ্গে কিছু দিন ধরেই নাকি চলছে প্রেমের গুঞ্জন। এতদিন এ নিয়ে কেউ-ই কোনো কথা বলেননি। তবে অবশেষে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। 

    সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন অভিনেত্রী। সেখানে একটি কাচের জার থেকে প্রশ্ন তুলে জিজ্ঞেস করা হয়, নির্মাতা রেদওয়ান রনির সঙ্গে আপনার প্রেমের গুঞ্জন— আসলে এখন কার সঙ্গে প্রেম করছেন? এমন প্রশ্ন শুনে মুচকি হেসে কিছুটা লজ্জিত ভঙ্গিতে সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘যা রটে, তার কিছু হলেও ঘটে।’  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এবার উপস্থাপক জানতে চান— তাহলে বিষয়টি সত্যি? উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, আমি ব্লাশ করছি—এতেই তো বোঝা যায়। এটা না স্পষ্ট করে বলার কিছু, না ঢাকঢোল পিটিয়ে জানানোর কিছু। যেহেতু মানুষ এমনটাই ভাবছে, সেহেতু ভাবতেই দিই— আমারও ভালো লাগে।

    সাদিয়া আয়মান বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে, সেটি একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমাদের কাজ শুধু চেষ্টা করা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন ভালো থাকতে পারি। তবে নিজের অনুভূতি খোলামেলা জানালেও নির্মাতা রেদওয়ান রনি এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নয় মাসে ডিজিটাল সহিংসতার শিকার ২৯ অভিনেত্রী

    বাংলাদেশে অপতথ্য ও গুজবের তীর অধিংকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হয়। এটি একটি উদ্বেগজনক সামাজিক ও ডিজিটাল সমস্যা হিসাবেও চিহ্নিত হচ্ছে। চলতি বছরের নয় মাসে যত গুজব, অপপ্রচার ও অপতথ্য ছড়িয়েছে তার ২১ শতাংশ নারীদের ঘিরে। এই সময়ের মধ্যে ২৭৬ জন নারীকে জড়িয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছে রিউমর স্ক্যানার। 

    প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব অপতথ্যের শিকার হয়েছেন রাজনীতি, বিনোদনসহ বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিরা। এমনকি সাধারণ অনেক নারীও নিয়মিত ডিজিটাল সংহিসতার শিকার হচ্ছেন। তবে এসব নারীর মধ্যে বিনোদন জগতের নারীর সংখ্যা বেশি। শোবিজের বিভিন্ন মাধ্যমের নারীদের নিয়ে ভুয়া ভিডিও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট কিংবা মৃত্যুর গুজবও ছড়ানো হয়েছে। 

    ডিজিটালি এসব সহিংসতার কারণে সামাজিকমাধ্যমে নারী শিল্পীরা প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এটিও নতুন কিছু নয়। প্রায়ই নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বডি শেমিং, এমনকি অপতথ্যের শিকারও হতে হচ্ছে তাদের। এরমধ্যে যোগ হয়েছে ডিপফেক প্রতারণা। সম্প্রতি এই ডিপফেক ছবি কিংবা ভিডিওর কারণে শিল্পীরা হচ্ছেন বিব্রত, রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতায়। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। কিন্তু দিনে দিনে এর মাত্রা বেড়েই চলেছে। 

    রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, চলতি বছরের নয় মাসে শোবিজের ২৯ নারীকে জড়িয়ে ছড়ানো হয়েছে ৬৮টি গুজব ও অপতথ্য। এর মধ্যে ৫০টি কনটেন্টের ক্ষেত্রে এআই বা ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিকমাধ্যমে অপতথ্যের শিকার নারীদের মধ্যে শোবিজ তারকা বেশি। অপতথ্য ও ডিপফেকের শিকার হওয়া নারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, সাদিয়া আয়মান, আজমেরী হক বাঁধন, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, তাসনিয়া ফারিণ, মাহিয়া মাহি, শবনম বুবলী, অপু বিশ্বাস, নাজনীন নাহার নিহা, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, মেহজাবীন চৌধুরী, শবনম ফারিয়াসহ অনেকে। তাদের নিয়ে ছড়িয়ে দেয়া ভুয়া এসব কনটেন্টের ক্ষেত্রে ৩৬টি ঘটনাতেই ব্যবহার হয়েছে ভারতীয় নারীর ফুটেজ, যেগুলোকে বাংলাদেশের বিনোদন তারকার ছবি বা ভিডিও দাবি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ থেকে। সাধারণ দর্শকও এসব সত্যি ভেবেই গিলেছেন গোগ্রাসে, করেছেন ভাইরাল। আর তাতেই সম্মানহানির পাশাপাশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হচ্ছে শিল্পীদের। 

    গত নয় মাসে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকারে হয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তাকে জড়িয়ে প্রচার হওয়া ১১টি ভুয়া কনটেন্টের ১০টিই ছিল এআই কেন্দ্রিক। 

    সাদিয়া জানান, যারা এই কাজটা করছে তারা ভয়াবহ ক্রাইম করছে। তাদের বিষয়ে কোনো আইনী পদক্ষেপ নিবেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘এককভাবে সমাধানের পথে না গিয়ে এই সমস্যায় যারা পড়ছেন তারা একজোট হয়ে এ বিষয়টির সমাধানের পথ বের করা উচিত।’  

    চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে মাঠে ছিলেন সাদিয়া আয়মান। আন্দোলন পরবর্তী আলাদাভাবে গুজবের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পক্ষে আমি কথা বলেছি। আমি কোনো রাজনীতির জায়গা থেকে এটা করিনি। রাজনীতির নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে পছন্দ করি বা অন্যায় হলে সেটার বিরুদ্ধে কথা বলতে পছন্দ করি। এটা সত্য যে, জুলাই আন্দোলনের পরে আমি বা আরো কয়েকজন আছে যারা এটার পক্ষে কথা বলেছে তারা সমস্যার মুখে পড়েছে। এআইয়ের যে ব্যাপারটা চলছে, এটিও আমার মনে হয় কোনো একটা পক্ষ বুঝেশুনেই এটা করছে। আমি এখনও সোশাল মিডিয়ায় অনেক কমেন্ট ও মেসেজ পাই, যেগুলো থেকে বোঝা যায় জুলাই আন্দোলনে সরব ছিলাম দেখেই আমাকে এখন এরকম কথা শুনতে হচ্ছে।’ 

    অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নিহাও চলতি বছরে একাধিকবার অপতথ্যের শিকার হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে নিয়ে বানানো একাধিক ডিপফেক ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিকবার ভুয়া ছবি ও এডিটিং কাণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়াও। তবে তিনি চুপ থাকেননি, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। এছাড়া এ বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও। তিনি মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে শুধু তারকা নন, অনেক সাধারণ নারীর ছবি এবং ভিডিও বিকৃত করে প্রচার করছে একটি কুচক্রীমহল। এই শ্রেণির মানুষদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন এ অভিনেত্রী। 

    এ প্রসঙ্গে মেহজাবীন বলেন, ‘প্রযুক্তি আজ আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। আমরা অনেকেই এর ভালো দিকগুলো নিয়ে আশাবাদী, কিন্তু এর অন্ধকার দিকও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এআই এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি। কিন্তু এটা যখন ভুল মানুষের হাতে পড়ে, তখন তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিকৃত ছবি বা ভিডিও তৈরির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যারা সারাদিন ধরে শুধুই এসব করে বেড়ায়। তারা ভুল তথ্য ছড়ায়, বিভ্রান্তি তৈরি করে, মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে। এটা শুধু অনৈতিক নয়, এটা ফৌজদারি অপরাধও বটে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড এক ধরনের ডিজিটাল সহিংসতা।’ 

    তিনি আরও বলেন, ‘এর অপব্যবহার রোধ করতে আমাদের দরকার কঠোর আইন, শক্ত প্রতিরোধ, আর জনসচেতনতা। আশা করি, আমাদের দেশে দ্রুত এমন নিয়মকানুন ও শাস্তির ব্যবস্থা হবে, বিশেষ করে নারীদের জন্য, একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করবে।’

    অনুসদ্ধানে দেখা গেছে, ‘চলো বদলে যাই’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শিল্পীদের এসব ভুয়া ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল করা হয়। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পেইজ এ অপরাধগুলো নিয়মিতই করে আসছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিল্পীরা। 

    প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহারের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, প্রযুক্তিগত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। অপব্যবহারের ফলে ঘটছে অনেক অঘটনও। দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে বিরূপ প্রভাব পড়বে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে-এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। 

    এ প্রসঙ্গে পুলিশ বিভাগও কাজ করছে বলে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, কারও অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর ছবি কিংবা ভিডিও বানিয়ে প্রকাশ করা সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এ দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার, ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ ও পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের অভিযোগকেন্দ্রে অভিযোগ জানাতে পারেন।

    রিয়েল তন্ময়