Tag: কান চলচ্চিত্র উৎসব

  • কান উৎসবে নেই ঐশ্বরিয়া, কিন্তু কেন?

    শুরু হয়েছে কান চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বের জনপ্রিয় তারকারা হাজির হয়েছেন এ আসরে। তারকাদের পোশাক আর লুক নিয়ে চলে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 

    দীর্ঘ দিন ধরে বলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কানে উপস্থিতি নিয়ে চমক থাকছে। তবে কান ২০২৬ সালের আগে লরিয়াল প্যারিসের নতুন প্রোমোতে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এবারের কান উৎসবের পোস্টারেও দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে।

    যদিও এর আগে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ২০০২ সাল থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং ২০০৩ সাল থেকে লরিয়ালের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত আছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তার উপস্থিতি কান রেড কার্পেটে গ্ল্যামার ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী। এবার দেখার পালা ঐশ্বরিয়া কানে হাজির হন কিনা।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও লরিয়ালের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়েও এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বরিয়াকে না দেখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। ফ্রান্সের কান শহরে চলমান কান চলচ্চিত্র উৎসবের একটি প্রচারণামূলক আয়োজনে ছয় লরিয়াল প্যারিসের অ্যাম্বাসাডরের ছবি দেখা যায়। সেখানে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটসহ অন্যান্য তারকা থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। 

    এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এক নেটিজেন লিখেছেন— ঐশ্বরিয়া না থাকলে লরিয়ালকে কল্পনাও করা যায় না। আরেক নেটিজেন লিখেছেন—তিনি ছিলেন পুরো এশিয়ার জন্য ব্র্যান্ডটির মুখ। 

    বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর ব্র্যান্ডটির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কমেন্টে সরাসরি প্রশ্ন করেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত মুখ খোলে লরিয়াল প্যারিস। তারা জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়া একজন জীবন্ত কিংবদন্তি এবং তিনি জানেন কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। প্রতি বছরই কানে তিনি থাকেন এটাই নিয়ম।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কানের রেড কার্পেটে আলিয়া ভাটকে ‘উপেক্ষা’র ভিডিও ভাইরাল

    কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসরে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়ে রেড কার্পেটে আলো ছড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। 

    তামারা র‌্যালফের ডিজাইন করা মনোমুগ্ধকর ব্লাশ-টোনড বডি-হাগিং গাউনে তার উপস্থিতি ছিল এক কথায় অনবদ্য। তবে আলিয়ার এই গ্ল্যামারাস উপস্থিতিকে ছাপিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিতর্কিত ভিডিও। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলিয়া যখন রেড কার্পেটে পোজ দিচ্ছিলেন, তখন একদল আলোকচিত্রীকে তাদের ক্যামেরা নামিয়ে রাখতে দেখা যায়। এমনকি অভিনেত্রী হাসিমুখে হাত নাড়লেও অনেক পাপারাজ্জিই সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছিলেন না।

    এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে নেটিজেনদের একাংশ অভিনেত্রীকে নিয়ে ট্রল শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ক্যাপশনে একজন লিখেছেন, ‘খুবই বিব্রতকর! কান একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, অথচ তাকে কেউ চিনতেই পারছে না। কেউ তার দিকে ক্যামেরাও তাক করেনি। তিনি কার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন? তার মধ্যে ব্যক্তিত্বের অভাব স্পষ্ট।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কট্টর সমালোচকদের কেউ কেউ আলিয়ার এই মুহূর্তটিকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন যেন তিনিই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ, অথচ ক্যামেরাম্যানরা সব এয়ারপ্লেন মোডে আছেন!’ 

    আবার কেউ কেউ তার আমন্ত্রণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। 

    তবে আলিয়ার ভক্ত এবং সমর্থকদের সংখ্যাও কম নয়। অনেক নেটিজেন এই সংকীর্ণ মানসিকতার সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতীয়রাই অন্য ভারতীয়দের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষান্বিত হয়। 

    আলিয়াকে সমর্থন জানিয়ে একজন লিখেছেন, ‘সবাই ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছেন। শাহরুখ খানকেও আপনারা একসময় এভাবে ট্রল করেছিলেন।’

    অন্যদিকে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী গ্রেগ মার্টিন আলিয়ার সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মহলেও এই অভিনেত্রীর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আলিয়ার পক্ষ নিয়ে আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘আলোকচিত্রীরা তার ছবি তুলছেন কিনা তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো তিনি সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।’ 

    সব মিলিয়ে, কানের রেড কার্পেট এবং আলিয়া ভাটের এই ভিডিওটি বর্তমানে বিনোদন জগতের অন্যতম ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। কেউ একে দেখছেন ‘উপেক্ষা’ হিসেবে, আবার কারো মতে আলিয়ার বিরুদ্ধে এটি স্রেফ নেতিবাচক প্রচারণার একটি অংশ। 

    সূত্র: এনডিটিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ৭৯তম কান উৎসব ১২ মে, উদ্বোধনীতে দেখানো হবে যে সিনেমা

    কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৯তম আসর শুরু হচ্ছে। আগামী ১২ মে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে উৎসব শুরু হবে। উদ্বোধনী দিনে প্রদর্শনীতে দেখানো হবে নির্বাচন করা ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন ফরাসি নির্মাতা পিয়েরে সালভেদোরি। এ সিনেমার প্রিমিয়ারের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। 

    সেদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন মালিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি অভিনেত্রী আই হাইদারা। তিনি ফরাসি সিনেমা ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের জন্য সুপরিচিত। এ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ফ্রান্স টেলিভিশন ও ব্রুট প্ল্যাটফর্মে। 

    সিনেমাটি একই দিনে ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন সিনেমা হলেও মুক্তি পাবে। ফলে সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা একযোগে ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ সিনেমাটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

     

    পরিচালক পিয়ের সালভাদোরি তার স্বতন্ত্র কমেডি ও মানবিক গল্প বলার জন্য সুপরিচিত। এ সিনেমায় তিনি ১৯২৮ সালের প্যারিসকে পটভূমি করে এক রোমান্টিক ও ব্যঙ্গাত্মক কাহিনি তুলে ধরেছেন। যেখানে মিথ্যা, আবেগ ও সম্পর্কের জটিলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

    ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ সিনেমার গল্পে দেখা যায়, এক তরুণ চিত্রশিল্পী তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর সৃষ্টিশীলতা হারিয়ে ফেলে। এক রহস্যময় ঘটনার মাধ্যমে তার জীবনে প্রবেশ করে এক নারী, যে প্রতারণার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে। সিনেমাটি ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ইরানে বর্তমান সরকার ব্যবস্থার পতন হবে: পানাহি

    স্বর্ণপামজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ইরানের একটি আদালত। সাম্প্রতিক দেশটিতে চলমান সহিংস আন্দোলনে ইরানের সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

    জাফর পানাহি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মুখে ইসলামী প্রজাতন্ত্র এখন যে পরিস্থিতিতে আছে সেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। তেহরানের নেতারা শতভাগ পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’ 

    গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশটিতে সহিংস আন্দোলনের জেরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মাতা এসব কথা বলেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে পানাহি অভিযোগ করেন, ‘ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে কর্তৃপক্ষ বৃহৎ আকারের সহিংসতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে নিজেকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এই ইরানি নির্মাতার দাবি, তেহরানে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা কখনোই আশা করিনি বিষয়টা এই পর্যায়ে এসে পৌঁছাবে। পানাহি জোর গলায় বলেছেন, ইরানে বর্তমান সরকার ব্যবস্থার পতন হবে। 

    এদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ইরানের একটি আদালত জাফর পানাহির উপর দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের সদস্যপদে যোগদানের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কান উৎসবের রেড কার্পেট: ইতিহাস, গৌরব আর গ্ল্যামারের গল্প

    যখন পৃথিবীর চোখ ফ্রান্সের ছোট্ট কিন্তু রাজকীয় শহর কানের দিকে তাকিয়ে থাকে, তখন বুঝে নিতে হয়—চলচ্চিত্রের মহোৎসব শুরু হয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসব শুধু একটি ইভেন্ট নয়, এটি শিল্প, ঐতিহ্য, গ্ল্যামার এবং আন্তর্জাতিক সংহতির এক অনন্য মহার্ঘ উপলক্ষ। আর এই উৎসবের হৃদয়ে অবস্থান করছে যার, সেটি হলো—রেড কার্পেট। একটি লাল গালিচা, যার প্রতিটি ধাপ রচিত হয়েছে সম্মান, প্রতিভা ও সময়ের সাক্ষর দিয়ে।

    কান এর ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপ যখন সাংস্কৃতিকভাবে বিধ্বস্ত, তখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এক আশাবাদের উৎস। ১৯৪৬ সালে সেই আশার আলো হয়ে আসে কান চলচ্চিত্র উৎসব। ফ্রান্সের দক্ষিণের এই শহরটি ছিল ভৌগলিকভাবে সুবিধাজনক, শান্তিপূর্ণ এবং সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। যুদ্ধের করাল ছায়া থেকে উঠে আসা ইউরোপকে সংস্কৃতির শক্তিতে উদ্দীপিত করতেই বেছে নেওয়া হয় কানের উপকূল।

    আজ এই উৎসব হয়ে উঠেছে বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে পুরনো কিংবদন্তি আর নতুন প্রতিভা হাতে হাত রেখে হাঁটে লাল গালিচায়।

    কেন কান বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত?

    বিশ্বমানের চলচ্চিত্র উৎসব: কানের মর্যাদা বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র শিল্পের শীর্ষস্থানীয় হিসেবে স্বীকৃত।

    আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মেলা: বিশ্বের নানা দেশের নির্মাতা ও শিল্পীরা এখানে একত্রিত হয়ে নতুন ধারার চলচ্চিত্র উপস্থাপন করেন।

    গ্ল্যামার ও ঐতিহ্যের মিলনস্থল: রেড কার্পেট, পোশাক, পার্টি ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কানের গ্ল্যামার সর্বদা মনোযোগ আকর্ষণ করে।

    বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্র: বাণিজ্যিক থেকে শুরু করে আর্ট হাউস, স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র এখানে সমান গুরুত্ব পায়।

    বিশেষ পুরস্কার ও সম্মাননা: Palme d’Or সহ অন্যান্য পুরস্কার চলচ্চিত্রজগতের সেরা প্রতিভাদের স্বীকৃতি দেয়।

    সাংস্কৃতিক সংহতি ও পুনর্জাগরণ: যুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত করতে কান উৎসব এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে।

    রেড কার্পেটের ইতিহাস : রেড কার্পেট বা লাল গালিচা কেবল একটি গালিচা নয়, এটি একটি ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। প্রাচীন গ্রিসে রাজাদের জন্য লাল গালিচা বিছানো শুরু হলেও, আধুনিক দুনিয়ায় প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯০২ সালে আমেরিকায়। কানে ১৯৫৫ সাল থেকে এই রেড কার্পেটের প্রচলন শুরু হয়, যা এখন সিনেমা জগতের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক।

    গ্ল্যামারের দুনিয়া ও লাল গালিচা: কানের রেড কার্পেটে হাঁটা মানে আন্তর্জাতিক গ্লোরি ও শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। এখানে হাজির হন অভিনেতা, পরিচালক, ডিজাইনার ও সাংবাদিকরা। রেড কার্পেটে পোশাক ও উপস্থিতি হয়ে ওঠে বার্তা, যা ফ্যাশনের চেয়েও বেশি কিছু বহন করে।

    এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ মিটার, যা দিনে একাধিকবার নতুন গালিচা বিছানো হয়। এখানে কড়া ড্রেস কোড, ব্ল্যাক টাই, লং গাউন, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও আমন্ত্রণ ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। 

    রেড কার্পেটে সংবেদনশীলতার উন্মোচন: আজ বিশ্বব্যাপী কান এর রেড কার্পেট একটি ভাষা, যেখানে সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতি ফুটে ওঠে। কেউ প্রতিবাদের গাউন পরে আসে, কেউ ঐতিহ্য তুলে ধরে। ডিজাইনার ও তারকার মিলনস্থল এখানে গড়ে তোলে এক বিশেষ ম্যাজিকাল মুহুর্ত। 

    কান চলচ্চিত্র উৎসবের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব

    কানের ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি শিল্পী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়ে আছে, যারা উৎসবকে আন্তর্জাতিক সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন। 

    লুই লুমিয়ের (ফ্রান্স) – সিনেমাটোগ্রাফির পিতা

    অ্যাগনেস ভার্দা (ফ্রান্স) – নারীকেন্দ্রিক ফরাসি নিউ ওয়েভ সিনেমার পথিকৃৎ।

    ফ্রান্সোয়া ট্রুফো (ফ্রান্স) – নতুন তরঙ্গ চলচ্চিত্র আন্দোলনের প্রধান মুখ।

    মার্টিন স্করসেজি (যুক্তরাষ্ট্র) – ‘Taxi Driver’ ও ‘Goodfellas’-এর মতো ক্লাসিক নির্মাণের জন্য

    কুয়েন্টিন টারান্টিনো (যুক্তরাষ্ট্র) – ‘Pulp Fiction’-এর মাধ্যমে কানে বিপ্লব ঘটানো পরিচালক।

    মেরিল স্ট্রিপ (যুক্তরাষ্ট্র) – বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন।

    অ্যালেন ডেলঁ (ফ্রান্স) – ফরাসি সিনেমার রোমান্টিক ও স্টাইল আইকন।

    ঐশ্বরিয়া রাই (ভারত) – কানে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম সারির অভিনেত্রী।

    কানের স্মরণীয় মুহূর্ত

    ১৯৯৪: কুয়েন্টিন টারান্টিনো ‘Pulp Fiction’ নিয়ে আসে উত্তেজনা

    ২০০২: ঐশ্বরিয়া রাইয়ের কান অভিষেক, শাড়িতে ভারতীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা

    ২০১৮: নারীর ক্ষমতায়ন বার্তা নিয়ে জুরি সদস্যদের প্রতিবাদী উপস্থিতি

    ২০২৫: আলিয়া ভাটের ফিউশন পোশাকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন

    প্রতিভার গগনে উড়ান: ২০২৫ সালের কান উৎসবের সোনালী অধ্যায়

    ২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসব ছিল এক অবিস্মরণীয় যাত্রা — যেখানে শিল্পের সৌন্দর্য, মানবিক অনুভূতি আর প্রতিভার মিলনে সৃষ্টি হলো এক অনন্য অনুপ্রেরণা। বিশ্বের সিনেমার সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠেছিল নতুন কণ্ঠস্বর, নতুন স্বপ্ন, এবং গভীর বার্তা।

    শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি

    পাম ডি’অর (সোনা পাম): ‘Lumière’s Legacy’ পরিচালনায় ক্লোই জ্যাও — আধুনিক সিনেমার এক মহাকাব্য

    সেরা অভিনেতা: মারিও রোসেট্টি (ইতালি) — অনবদ্য অভিনয়ের জন্য

    সেরা অভিনেত্রী: নাদিয়া ডেলাকুর — ‘Étoile Brisée’ এর হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনায়

    সেরা পরিচালক: লি জে-হুন (দক্ষিণ কোরিয়া) — সিনেমার ভাষায় নতুন অধ্যায় লিখে

    বিশেষ সম্মাননা: বাংলাদেশের আদনান আল রাজীবের ‘আলী’ — মানবিকতার এক শক্তিশালী নিদর্শন, অভিবাসনের বাস্তবতার স্পন্দন

    আলি’: বাংলাদেশের গর্ব, কান উৎসবের আলো

    আদনান আল রাজীবের ‘আলি’ শুধু এক চলচ্চিত্র নয়, এটি আমাদের সময়ের চিত্র যা মানব জীবনের একান্ত সংগ্রাম ও আশা তুলে ধরে। এক প্রান্তিক তরুণের অভিবাসন ও আত্মপরিচয়ের যাত্রা, যা আজকের বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর।

    ‘আলি’ দেখায় কিভাবে বঞ্চনা, অবজ্ঞা এবং বিচ্ছিন্নতার মাঝে মানুষ তার পরিচয় খোঁজে এবং সে পরিচয়ই হয় তার শক্তি। কান উৎসবে এই ছবি পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যা বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব।

    কানের লাল গালিচা প্রতি বছরই শিল্প ও সংস্কৃতির এক মহা মিলনস্থল। এখানে পদার্পণ মানে নিজের স্বপ্নকে বিশ্ববাজারে উপস্থাপন করা। স্বপ্ন দেখতে দ্বিধা নয়, চেষ্টা করতে ভয় নেই। ‘আলি’ যেমন তার বার্তায় শক্তি দিয়েছে, তেমনি বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশকে

    নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রেরণা জুগিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্ববাসীর সামনে স্বীকৃতির আলোয় ঝলমল করছে এক অসাধারণ আলী ও লাল সবুজের বাংলাদেশ।

    সরদার হাসান ইলিয়াছ তানিম (ফ্রান্স)

  • কানে আলিয়ার ক্যারিশমা, রাহার দেখভালে রণবীর

    ৭৮তম ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’ শেষ হয়েছে। গত ১৩ মে থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলে ২৪ মে পর্যন্ত। প্রতিবারের মতো এবারও লালগালিচায় দেখা গেছে বলিউড তারকাদের। এ বছরও সেই আগ্রহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। কার কেমন সাজ-পোশাক তা নিয়ে উৎসুক থাকেন দর্শকরাও। এবারও ব্যতিক্রম নয়। এর মধ্যেই কানের মঞ্চে তার ক্যারিশমা দেখিয়েছেন আলিয়া ভাট। এ মুহূর্তে কান উৎসবে ব্যস্ততায় অভিনেত্রী। অন্যদিকে মুম্বাইয়ে রাহাকে সামলাচ্ছেন রণবীর কাপুর।

    বর্তমান সময়ে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণত নারীরা সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, এমন চিত্রই দেখা যায় হরহামেশা। কিন্তু তারকাদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটে না। আর অভিনেতা রণবীর যেন মোটেও তেমনটা নন। অন্তত স্ত্রী আলিয়ার কান জয়ের সময় তিনি যেভাবে বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। নেটিজেনরা তো অভিনেতাকে ‘সুপারড্যাড’ তকমা দিয়েই ফেলেছেন।

    আপাতত কান উৎসবের মঞ্চে ব্যস্ত আলিয়া ভাট। প্রথমবার অভিষেকেই বাজিমাত করেছেন তিনি। প্রথম দিনের ফ্লোরাল পোশাকের ভিন্টেজ লুক মন ছুঁয়েছে সবার। আবার দ্বিতীয় দিনে গুচির শাড়ি পরে অনুরাগীদের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী।

    এদিকে মা যখন কানের মঞ্চে ব্যস্ত, তখন মুম্বাইতে বাবার দেখভালে দিব্যি দিন কাটছে ছোট্ট রাহার। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তেমনটিই দেখা গেছে। যেখানে দেখা মিলেছে—  রোববার দুপুরে বাবার সঙ্গে কীভাবে সময় কাটাচ্ছে রাহা। 

    এদিন মেয়েকে নিয়ে মুম্বাইয়ের মাউন্ট মেরি গির্জায় যান অভিনেতা। গির্জায় ঢুকে বেশ কিছুক্ষণ বাবা ও মেয়ে সময় কাটান। এ সময় রণবীরের পরনে ছিল হালকা গেঞ্জি, প্যান্ট ও মাথায় টুপি। ছোট্ট রাহার পরনে গোলাপি ও সবুজের মিশেলে ফ্রক। পায়ে স্নিকার্স।

    সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ভিডিওটি যেন বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে যেভাবে মেয়ের দায়িত্ব পালন করছেন রণবীর, তা দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা। কেউ কেউ তো আবার রণবীরকে ‘সুপারড্যাড’ তকমাও দিয়ে বসেছেন। রণবীরের সঙ্গে প্রায়ই দেখা যায় রাহাকে। বেশিরভাগ সময় সে বাবার কোলই জড়িয়ে থাকতে দেখা যায় খুদেকে। কেউ কেউ বলেন, রাহা নাকি বাবাকেই বেশি পছন্দ করেন। 

    যদিও সন্তান জন্মের আগে রণবীর-আলিয়া নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন— সন্তানকে নিজেরাই বড় করবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ন্যানির সাহায্য নেবেন না। সে কারণে মা না থাকলে বাবা, আর বাবা ব্যস্ত থাকলে মায়ের সঙ্গে সময় কাটে রাহার।

    উল্লেখ্য, এর আগে শোনা গিয়েছিল পাক-ভারত যুদ্ধের কারণে কান চলচ্চিত্র উৎসবে এ বছর যোগ দেবেন না, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু আবার সেই সিদ্ধান্ত বদল করেন অভিনেত্রী। পরিকল্পনা অটুট রাখেন। সব আলোচনা নস্যাৎ করে ফ্যাশনের শহর ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দেন আলিয়া ভাট। ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায় আগামী দিনে দেখা যাবে আলিয়াকে। তার সঙ্গে রয়েছেন রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশলও।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এবারের কান উৎসবে পুরস্কার জিতলেন যারা

    কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৮তম আসরের পর্দা নামলো। ফ্রান্সের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের তীরে গত ১৩ মে এর উদ্বোধন হয়। শনিবার পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১২ দিনের এই বর্ণিল আয়োজন। এবারের  প্রতিযোগিতার পুরো বিজয়ী তালিকা তুলে ধরা হলো-

    মূল প্রতিযোগিতা

    স্বর্ণপাম: ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট (জাফর পানাহি, ইরান)

    গ্রাঁ প্রিঁ: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু (ইওয়াকিম ত্রিয়ার, নরওয়ে/ডেনমার্ক)

    জুরি প্রাইজ: সিরেট (অলিভার লুক্সে, স্পেন), সাউন্ড অব ফলিং (মাশা শিলিনস্কি, জার্মানি)

    স্পেশাল প্রাইজ: রেজারেকশন (বাই গান, চীন)

    সেরা অভিনেতা: ওয়াগনার মোরা (দ্য সিক্রেট এজেন্ট, ব্রাজিল)

    সেরা অভিনেত্রী: নাদিয়া মেলিতি (দ্য লিটল সিস্টার, ফ্রান্স)

    সেরা পরিচালক: ক্লেবার মেনদোঙ্কা ফিলো (দ্য সিক্রেট এজেন্ট, ব্রাজিল)

    সেরা চিত্রনাট্যকার: জ্যঁ-পিয়ের ও লুক দারদেন (ইয়াং মাদার’স, বেলজিয়াম)

    কারিগরি পুরস্কার

    সিএসটি আর্টিস্ট-টেকনিশিয়ান অ্যাওয়ার্ড: চিত্রগ্রহণে রুবেন ইমপেন্স, শব্দমিশ্রণে স্টেফান থিবোঁ (চলচ্চিত্র: আলফা)

    সিএসটি নবীন নারী ফিল্ম টেকনিশিয়ান অ্যাওয়ার্ড (শিল্প নির্দেশনা): এপোনাইন মোমেনসো (চিত্রগ্রহণ, চলচ্চিত্র: কনেমারা)

    আঁ সাঁর্তে রিগা

    সেরা চলচ্চিত্র: দ্য মিস্টেরিয়াস গেজ অব দ্য ফ্লামিঙ্গো (দিয়েগো পেসপেদেস, চিলি)

    জুরি প্রাইজ: অ্যা পয়েট (সিমন মেসা সোতো, কলম্বিয়া)

    সেরা অভিনয়শিল্পী: ক্লিও দিয়ারা (আই অনলি রেস্ট ইন দ্য স্টর্ম), ফ্রাঙ্ক ডিলেন (আর্কিন, যুক্তরাজ্য)

    সেরা পরিচালক: আরব ও টারজান নাসের (ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন গাজা, ফিলিস্তিন)

    সেরা চিত্রনাট্যকার: পিলিয়ন (হ্যারি লাইটন, যুক্তরাজ্য)

    সম্মানসূচক স্বর্ণপাম

    সম্মানসূচক স্বর্ণপাম: রবার্ট ডি নিরো, ডেনজেল ওয়াশিংটন

    গোল্ডেন ক্যামেরা

    ক্যামেরা দ’র: হাসান হাদি (দ্য প্রেসিডেন্ট’স কেক, ইরাক)

    স্পেশাল মেনশন: আকিনোলা ডেভিস জুনিয়র (মাই ফাদার’স শ্যাডো, নাইজেরিয়া)

    স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

    স্বর্ণপাম: আই অ্যাম গ্ল্যাড ইউ আর ডেড নাউ (তৌফিক বারহোম, ইসরায়েল)

    স্পেশাল মেনশন: আলী (আদনান আল রাজীব, বাংলাদেশ)

    লা সিনেফ

    প্রথম পুরস্কার: ফার্স্ট সামার (পরিচালক: হেয়ো গায়ং, কোরিয়ান অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম আর্টস; দক্ষিণ কোরিয়া)

    দ্বিতীয় পুরস্কার: টুয়েলভ মোমেন্টস বিফোর দ্য ফ্ল্যাগ-রাইজিং সিরিমনি (পরিচালক: জু জিজেং, বেইজিং ফিল্ম অ্যাকাডেমি; চীন)

    তৃতীয় পুরস্কার: সেপারেটেড (পরিচালক: মিকি তানাকা, এনবু সেমিনার; জাপান), উইন্টার ইন মার্চ (পরিচালক: নাটালি মিরজাইয়ান, এস্টোনিয়ান অ্যাকাডেমি অব আর্টস; এস্টোনিয়া)

    ইমারসিভ পুরস্কার

    সেরা ইমারসিভ কাজ: ফ্রম ডাস্ট (মিশেল ফন দের আ, নেদারল্যান্ডস)

    মুক্ত পুরস্কার

    ফিপরেসি

    মূল প্রতিযোগিতা: দ্য সিক্রেট এজেন্ট (ক্লেবার মেনদোঙ্কা ফিলো, ব্রাজিল)

    আঁ সাঁর্তে রিগা: আর্চিন (হ্যারিস ডিকিনসন, যুক্তরাজ্য)

    প্যারালাল শাখা (ক্রিটিকস’ উইক): ড্যান্ডেলিয়ন’স ওডিসি (মোমোকো সেতো, ফ্রান্স/বেলজিয়াম)

    ৬৪তম ক্রিটিকস’ উইক

    গ্র্যান্ড প্রাইজ (সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা): অ্যা ইউজফুল গোস্ট (রাতচাপুম বুনবুনচাচোক, থাইল্যান্ড)

    ফ্রেঞ্চ টাচ জুরি প্রাইজ: ইমাগো (দেনি উমার পিতসেভ, ফ্রান্স)

    রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড (লুই রোদ্যুরের ফাউন্ডেশন): তিয়োদর পেলেরাঁ (সিনেমা: নিনো, ফ্রান্স)

    লাইৎজ সিনে ডিসকোভারি প্রাইজ (সেরা শর্টফিল্ম): দ্য মাইন (রান্দা মারুফি, মরক্কো)

    গ্যান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড (ফরাসি পরিবেশনা): লেফট-হ্যান্ডেড গার্ল (শি চিং সু, তাইওয়ান)

    এসএসিডি অ্যাওয়ার্ড (সেরা গল্পকার-চিত্রনাট্যকার): গিয়ের্মো গালোয় ও ভিক্তর আলোনসো-বেরবেল (সিনেমা: স্লিপলেস সিটি, স্পেন)

    ক্যানাল প্লাস অ্যাওয়ার্ড (সেরা শর্টফিল্ম): এরোজেনেসিস (সান্ড্রা পপেস্কু, জার্মানি)

    ৫৭তম ডিরেক্টরস’ ফোর্টনাইট

    অডিয়েন্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড (৭৫০০ ইউরো): দ্য প্রেসিডেন্ট’স কেক (হাসান হাদি, ইরাক)

    সেরা ইউরোপিয়ান সিনেমা (ইউরোপা সিনেমাস লেবেল অ্যাওয়ার্ড): ওয়াইল্ড ফক্সেস (ভ্যালেরি কারনয়, বেলজিয়াম)

    সেরা ফরাসি ভাষার সিনেমা (এসএসিডি অ্যাওয়ার্ড): ওয়াইল্ড ফক্সেস (ভ্যালেরি কারনয়, বেলজিয়াম)

    ক্যারোস দ’র: টড হেইন্স

    গোল্ডেন আই (সেরা প্রামাণ্যচিত্র)

    গোল্ডেন আই (৫ হাজার ইউরো): ইমাগো (দেনি উমার পিতসেভ, ফ্রান্স/বেলজিয়াম)

    স্পেশাল জুরি প্রাইজ (গোল্ডেন আই পুরস্কারের ১০ম বার্ষিকী): দ্য সিক্স বিলিয়ন ডলার ম্যান (ইউজিন জারেকি, যুক্তরাষ্ট্র)

    কান সাউন্ডট্র্যাক অ্যাওয়ার্ড

    সেরা সাউন্ডট্র্যাক: কংদিং রে (সিরেত, ফ্রান্স)

    প্রিঁ ফ্রঁসোয়া শ্যালে

    ফ্রঁসোয়া শ্যালে প্রাইজ: টু প্রসিকিউটরস (সের্গেই লজনিৎজা, ইউক্রেন)

    সিটিজেনশিপ অ্যাওয়ার্ড

    সিটিজেনশিপ প্রাইজ: ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট (জাফর পানাহি, ইরান)

    আর্টহাউস সিনেমা অ্যাওয়ার্ডস

    এএফসিএই আর্টহাউস সিনেমা অ্যাওয়ার্ড: দ্য সিক্রেট এজেন্ট (ক্লেবার মেনদোঙ্কা ফিলো, ব্রাজিল)

    স্পেশাল মেনশন: সিরেত (অলিভের লাসে, ফ্রান্স/স্পেন)

    পাম ডগ (সেরা কুকুর অভিনয়শিল্পী)

    ২৫তম পাম ডগ অ্যাওয়ার্ড: পান্ডা (দ্য লাভ দ্যাট রিমেইনস, আইসল্যান্ড)

    গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ: পিপা (সিনেমা: সিরেট, স্পেন)

    মাট মোমেন্ট: হিপ্পো (সিনেমা: পিলিয়ন, যুক্তরাজ্য)

    কুইয়ার পাম (সমকামী সিনেমা)

    সেরা সিনেমা: লিটল সিস্টার (আফসিয়া আর্জি, ফ্রান্স)

    সেরা শর্টফিল্ম (ক্রিটিকস’ উইক): ব্লিট! (অনন্ত বালাসুব্রহ্মণ্যম, মালয়েশিয়া/ফিলিপাইন/ফ্রান্স)

    বিনোদন ডেস্ক

  • কানে ‘আলী’র বিশেষ স্বীকৃতি, শুভেচ্ছা বার্তায় যা বললেন শাকিব

    প্রথমবারের মতো কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশি সিনেমা। শনিবার উৎসবের ৭৮তম আসেরর সমাপনী দিনে বিশেষ উল্লেখযোগ্য সিনেমা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আদনান আল রাজীব পরিচালিত বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘আলী’।

    দেশের চলচ্চিত্রের এমন স্বীকৃতিতে আদনান আল রাজীবসহ পুরো ‘আলী’ টিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।

    এ ঘটনাটিকে বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক মনে করছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। এ নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন এই নায়ক। একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে শাকিব খান লেখেন, বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সাবাশ! আদনান ও টিম ‘আলী’।

    শাকিব খানের শুভেচ্ছা বার্তার মন্তব্যে আদনান আল রাজীব লেখেন, ‘ধন্যবাদ, শাকিব খান, আপনাকে ভালোবাসি। ’

    এর আগে গেল শুক্রবার ‘আলী’ সিনেমাটি কানে প্রদর্শিত হয়। বিশেষ এ স্বীকৃতির পর ফেসবুকে আদনান আল রাজীব লেখেন, ‘এটা বাংলাদেশের জন্য। ধন্যবাদ কান চলচ্চিত্র উৎসব। ’

    সিনেমাটির গল্পে বলা হয়েছে, উপকূলীয় একটি শহরের গল্প, যেখানে নারীদের গান গাইতে দেওয়া হয় না। সেখানে এক কিশোর গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উপকূল ছেড়ে শহরে যেতে চায়। কিন্তু এই গান গাওয়া নিয়েই রয়েছে এক রহস্য। সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন আল আমিন।

    বলে রাখা যায়, বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসব বরাবরই এক স্বপ্নের নাম। সেই স্বপ্নের প্রথম স্পর্শ আসে ২০০২ সালে, তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ যখন নির্বাচিত হয় কানের প্যারালাল সেকশন ‘ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট’-এ।

     এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০২১ সালে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কানের অফিশিয়াল সেকশন ‘আঁ সার্তে রিগা’-তে জায়গা করে নেয়। এটিই ছিল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্রের কানের মূল কাঠামোয় প্রবেশ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কানে পালমে ডিঅর জয়ী সিনেমায় কী আছে?

    ৭৮ তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে পালমে ডিঅর পদক জিতে নিয়েছে জাফর পানাহির
    সিনেমা ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’। ইরানি সমাজে নিপীড়ন, রাজনৈতিক বন্দিত্ব
    ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয় সিনেমাটি।

    সিনেমার শুরুতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও
    কন্যাকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি কুকুরকে চাপা দিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
    গাড়ির ক্ষতি মেরামতের জন্য তিনি একটি গ্যারেজে যান, যেখানে মেকানিক ভাহিদ তার পা খোঁড়া
    দেখে সন্দেহ করেন যে এ ব্যক্তি সেই নির্যাতক, যিনি তাকে কারাগারে নির্যাতন করেছিলেন।
    ভাহিদ তাকে অপহরণ করে এবং তার পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও কয়েকজন প্রাক্তন বন্দিকে ডেকে
    আনেন। তারা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন, এ ব্যক্তি তাদের নির্যাতক কি না
    এবং তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত হবে কি না।

    সিনেমাটি প্রতিশোধ, ন্যায়বিচার এবং ক্ষমার জটিল প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র
    করে নির্মিত। এটি দেখায় কিভাবে দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অবিচার মানুষের মনে প্রতিশোধের
    আগুন জ্বালিয়ে দেয়, এবং সেই আগুন কিভাবে ন্যায়বিচারের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারে।
    পানাহি তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা, কারাবাস, গৃহবন্দিত্ব এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা
    থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন।

    জাফর পানাহি ইরান সরকারি অনুমতি ছাড়াই এ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন,
    যা তার সাহসী প্রতিরোধের প্রতীক। তিনি অতীতে গৃহবন্দিত্বে থাকাকালীন কেকের ভেতরে পেনড্রাইভে
    করে তার সিনেমা আন্তর্জাতিক উৎসবে পাঠিয়েছেন। এ সিনেমাটিও তার সেই প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা।

    ‘ইট
    ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ কান উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর দর্শকরা
    দাঁড়িয়ে ১০ মিনিট ধরে করতালি দিয়েছেন। পানাহি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি এখানে উপস্থিত
    হতে পেরে আনন্দিত, কিন্তু ইরানে এখনও অনেক শিল্পী কারাবন্দি। আমি কিভাবে আনন্দিত হতে
    পারি, যখন তারা এখনও বন্দি?’

     

    বিনোদন ডেস্ক

  • আবারও মা হতে চলেছেন আলিয়া ভাট

    ৭৮তম ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’ শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। প্রতিবারের মতো এবারও লালগালিচায় দেখা গেছে বলিউডের বেশ কিছু তারকাকে। শেষ মুহূর্তে কান উৎসবের মঞ্চে দেখা গেছে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে। সেখানেই দেখা গেছে অন্য এক অভিনেত্রীকে। 

    যদিও প্রথমে শোনা গিয়েছিল পাক-ভারত যুদ্ধের কারণে এ বছর উৎসবে যোগ দেবেন না আলিয়া। কিন্তু আবার সেই সিদ্ধান্ত বদল করেন অভিনেত্রী। পরিকল্পনা অটুট রেখে ফ্যাশনের শহর ফ্রান্সের উৎসবমঞ্চে পা দেন আলিয়া ভাট। 

    শুক্রবার নতুন চমক দিলেন অভিনেত্রী। কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে তার সাম্প্রতিক লুক দেখেই অনুমান করেছেন অনেকেই— রণবীর-আলিয়ার ঘরে আসতে চলেছে দ্বিতীয় সন্তান। আবার মা হতে চলেছেন আলিয়া ভাট।

    এ দম্পতির ঘরে রয়েছে প্রথম সন্তান রাহা। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বছরখানেক হলো। এর মধ্যেই কি আবার নতুন অতিথি আসছে কাপুর পরিবারে? এর মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে গুঞ্জন—দ্বিতীয় সন্তানের মা হচ্ছেন আলিয়া। যদিও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলেন এ তারকা জুটি। 

    এর আগে একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে আলিয়া বলেছিলেন—‘রণবীর আর আমি যখন প্রথমবার বাবা-মা হওয়ার উত্তেজনায় ভাসছি, তখনই ঠিক করেছিলাম—ছেলে কিংবা মেয়ে দুইয়েরই নাম আগে থেকে ভাবা দরকার। পরিবারের সবাই মিলে অনেক নাম সাজিয়েছিলাম, যার মধ্যে একটি ছেলের নাম আমার দারুণ লেগেছিল। তবে সেটি এখনই বলব না।

    এই কথোপকথনের সময় অভিনেত্রী বলেন, রাহার নামকরণ করেছিলেন আমার শাশুড়ি নীতু কাপুর। সেই সময় শাশুড়ি বলেছিলেন— আলিয়ার বেছে রাখা ছেলের নামটির সঙ্গে ‘রাহা’ দারুণ মিলবে, যদি ভবিষ্যতে কোনো পুত্রসন্তান হয়, রেখে দিও।

    ঠিক তখনই নেটিজেনদের জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের কান ফেস্টিভ্যালে আলিয়ার কালো অফ-শোল্ডার বডিকন গাউন দেখে অনেকের চোখে পড়েছে তার ‘বেবি বাম্প’। 

    এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে কমেন্ট সেকশনে একের পর এক মন্তব্য ভেসে আসছে। এক নেটিজেন লিখেছেন—আলিয়া কি আবার মা হচ্ছেন, লুক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে?

    যদিও এ নিয়ে এ দম্পতির তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবু কান উৎসবে আলিয়ার সেই কালো গাউনে ন্যূনতম সাজ, সাবলীল হাঁটা আর একরাশ আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম ‘মায়ের সৌন্দর্য’ যেন ধরা দিয়েছে। আলিয়ার দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়ার জল্পনা কতটা সত্যি, তাই এখন দেখার বিষয়।

    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কান উৎসবের মঞ্চে দেখা যায় আলিয়া ভাটকে। অভিনেত্রী নরম গোলাপিরঙা গাউনে সেজে যাত্রা শুরু করেন হোটেল মার্টিনেজ থেকে। প্রথম বারপা রেখেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তার সাজ, তার ব্যক্তিত্ব, আন্তরিকতা ও রূপের জৌলুসে মুগ্ধ ফ্রান্স। সেই মোতাবেক ভাটকন্যা কান মঞ্চে উঠলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। 

    এদিন আলিয়া নিজেকে সাজিয়েছিলেন পোশাক পরিকল্পক ড্য়ানিয়েল রোজবেরির তৈরি স্ট্রাপলেস গাউনে। পাতলা ও নরম কাপড়ের ওপরে সিকুইনের সূক্ষ্ম কাজ এই পোশাককে মহার্ঘ্য করেছে। তেমনই রঙের ছোঁয়া এই পোশাকেও। পোশাকের নিচের অংশ ফুলের পাপড়ির মতোই অজস্র খাঁজবিশিষ্ট। সিঁথিতে চওড়া সিঁদুর নেই কিংবা শরীর ঢাকা নয় শ্রীমদভাগবত গীতায়। বিদেশের মাটিতে বিদেশি পোশাকেই আসর মাত করলেন আলিয়া ভাট। তার পেলব গোলাপিরঙা করসেট গাউনে যেন উষ্ণতার আলিঙ্গন। লক্ষ গোলাপ পাপড়ি মেলেছে। সঙ্গে মানানসই রূপটান। এলিয়ে পড়া চুলে কলকা খোঁপা, ছিমছাম গহনা। এতেই মাত করলেন নায়িকা। ভাটকন্যা এদিন অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডোবালেন লালগালিচায়।

    যুগান্তর প্রতিবেদন