Tag: কান চলচ্চিত্র উৎসব

  • ৭ হাজার মুক্তায় সাজানো গাউনে নজর কাড়লেন ঐশ্বরিয়া

    কান চলচ্চিত্র উৎসব মানেই যেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ফ্যাশন-জাদুর নতুন অধ্যায়। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় বছরের পর বছর ধরে নিজের ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দিয়ে দর্শক ও ফ্যাশন সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়ছেন তিনি। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

    এবারের কানে নীল ঝলমলে মারমেড গাউন থেকে শুরু করে নাটকীয় সাদা ট্যাক্সিডো লুকে নজর কেড়েছিলেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। তবে উৎসব শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস টনি ওয়ার্ড কতুর প্রকাশ করেছে তার আরেকটি অদেখা লুক, যা এখন ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    প্রকাশিত ছবিতে ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেছে আইভরি-সাদা রঙের এক স্ট্র্যাপলেস গাউনে। প্রথম দেখায় যেন কোনো রূপকথার রাজকন্যার আবির্ভাব। রাজকীয়তা, আধুনিকতা ও শিল্পসম্মত নকশার সমন্বয়ে তৈরি পোশাকটির পুরো বডিসজুড়ে বসানো হয়েছিল সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা। আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো তৈরি করছিল ঝলমলে ঢেউয়ের মতো অপূর্ব প্রতিফলন।

    গাউনটির বিশেষ আকর্ষণ ছিল হাতে তৈরি মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ। প্রতিটি মুক্তা এমনভাবে বসানো হয়েছে, যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের ধারাবাহিক গতিময়তা ফুটে ওঠে। ত্রিমাত্রিক এই নকশা পোশাকটিকে দিয়েছে ভাস্কর্যের মতো সৌন্দর্য। অতিরিক্ত অলংকরণের পরিবর্তে সূক্ষ্ম শিল্পকর্মকে প্রাধান্য দেওয়ায় এটি ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’র একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    পোশাকটির নাটকীয় আবহ আরও বাড়িয়েছে বিশাল আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা ড্রেপিং। প্রায় ৪০ মিটার সিল্ক ব্যবহার করে কাঁধজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ভলিউমিনাস রাফল, যা দূর থেকে ফুলের পাপড়ির মতো দেখায়। এই ভাস্কর্যধর্মী নকশাই পুরো লুকে এনে দিয়েছে হাই-ফ্যাশনের অনন্য মাত্রা। লেবাননের খ্যাতিমান ডিজাইনার টনি ওয়ার্ডের কারিগরি দক্ষতারও এটি একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।

    জানা গেছে, গাউনটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা। প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি মুক্তা এবং প্রতিটি সেলাইয়ে ফুটে উঠেছে হাউট কতুরের সূক্ষ্ম নান্দনিকতা ও নিখুঁত কারুশিল্প।

    এত সমৃদ্ধ একটি পোশাকের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন সংযত স্টাইলিং। ভারী অলংকারের পরিবর্তে তিনি পরেছিলেন মিনিমাল ডায়মন্ড জুয়েলারি—লম্বা হিরার ঝুমকা ও একটি স্টেটমেন্ট ডায়মন্ড রিং। ফলে গাউনের সৌন্দর্যই থেকেছে লুকের মূল আকর্ষণ।

    মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো, নিখুঁত আইলাইনার, ঘন পাপড়ি এবং নরম নিউড-গোলাপি ঠোঁটের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল সফট গ্ল্যাম লুক। অতিরিক্ত কনট্যুর বা গাঢ় রঙের ব্যবহার এড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।   

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    চুলে ছিল ঐশ্বরিয়ার পরিচিত সিগনেচার স্টাইল। সাইড পার্ট করা সফট ওয়েভি হেয়ারস্টাইল পুরো লুকে যোগ করেছে ক্লাসিক হলিউড গ্ল্যামারের আবহ।

    বর্তমান ফ্যাশন জগতে যেখানে মিনিমালিজম ও স্টেটমেন্ট কতুর সমান জনপ্রিয়, সেখানে ঐশ্বরিয়ার এই লুক দুই ধারারই নিখুঁত সমন্বয় হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। গাউনের বিশাল ভলিউম, মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং সংযত স্টাইলিং আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—বিলাসিতা মানেই অতিরিক্ত জাঁকজমক নয়; বরং নিখুঁত কারিগরি দক্ষতা ও পরিশীলিত উপস্থাপনাই প্রকৃত সৌন্দর্যের পরিচয়।

    কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম দীর্ঘদিন ধরেই স্টাইল আইকন হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের এই অদেখা কতুর লুক সেই মর্যাদাকে আরও দৃঢ় করেছে। রেড কার্পেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও তার ফ্যাশন-আবেদনের জাদু যে এখনও সমানভাবে আলোচিত হতে পারে, সেটিই যেন প্রমাণ করেছে এই বিশেষ উপস্থিতি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কান উৎসবের ফ্যাশন সাম্রাজ্যে সেরা ঐশ্বরিয়া, নজর কাড়লেন সাদা টাক্সেডো লুকে

    ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী আয়োজনে হাজির হয়েছিলেন ‘কুইন অব কান’খ্যাত সাবেক বিশ্বসুন্দরী বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।  কানের মঞ্চে উপস্থিতি সবার নজর কেড়ে নিলেন তিনি। এবার ঐশ্বরিয়া বেছে নিলেন একেবারে ভিন্নধর্মী সাদা টাক্সেডো লুক। স্টাইলিশ সেই পোশাকের সঙ্গে পালকের বোয়া আর নতুন হেয়ারস্টাইল মিলিয়ে রেড কার্পেটে উপস্থিতি হয়ে উঠল এক অনন্যা অপরূপী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তার এই লুক ইতোমধ্যেই ফ্যাশন দুনিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনার ঝড় ওঠে। আবারও কানের উৎসব মঞ্চে উপস্থিতি প্রমাণ করলেন তিনি এখনো কেন সেরা। 

    সাবেক এ বিশ্বসুন্দরীর পালকের বোয়া কাস্টম পোশাকটি তৈরি করেছেন চীনা ডিজাইনার চেনি চ্যান। স্টাইলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন ভারতীয় সেলিব্রিটি স্টাইলিস্ট মোহিত রাই ও তার দল। গহনায় ছিল যুক্তরাজ্যের হাসানজাদেহ জুয়েলারি। সম্প্রতি ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিজাইনার চেনি চ্যান বলেন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ওপর সাদা রঙ সবসময়ই দারুণ লাগে। তার ‘তাল’, ‘মহব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এর আইকনিক লুকগুলো থেকেই আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।

    ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ভারি গহনা ব্যবহার করেননি। তিনি বেছে নিয়েছেন সাদা পিপ-টো পাম্পস ও ডায়মন্ড রিং। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার বারগান্ডি রঙের খোলা চুল। সফট ব্লোআউট ওয়েভে সাজানো সেই হেয়ারস্টাইলকে অনেকেই বলছেন তার সাম্প্রতিক সময়ের সেরা লুকগুলোর একটি।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আর অভিনেত্রীর মেকআপে ছিল গাঢ় প্লাম লিপস্টিক, উইংড আইলাইনার, শিমারি আইশ্যাডো, হাইলাইটার ও সফট ব্রোঞ্জারের নিখুঁত ব্যবহার। সব মিলিয়ে কান উৎসবের শেষ দিনে ঐশ্বরিয়া যেন আবারও নিজের ফ্যাশন সাম্রাজ্যের শক্ত অবস্থান জানিয়ে দিলেন। এ ছাড়া বিশেষ টাক্সেডোতে ছিল ঝলমলে সিকুইন, ক্রিস্টাল-খচিত বোতাম এবং স্তরযুক্ত নচ ল্যাপেল। জ্যাকেটের প্যাডেড শোল্ডার, ফুল স্লিভ এবং কাফে লেস ট্রিম পুরো লুকে যোগ করেছে নাটকীয়তা। কোমরে ফিটিং কাট তার ফিগারকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। 

    জ্যাকেটের ভেতরে অভিনেত্রী পরেছিলেন সাদা বুস্টিয়ার, যেখানে ছিল লেস এমব্রয়ডারির কাজ। সঙ্গে ছিল সিলভার সিকুইন-খচিত ফ্লেয়ার প্যান্ট। পুরো লুককে আরও আলাদা করেছে পালক দিয়ে তৈরি টেকসই বোয়া ও ক্যাট-ইয়ার স্টাইলের শাল।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পর্দা নামল কান চলচ্চিত্র উৎসবের, স্বর্ণপাম পেল মুঙ্গিউয়ের ‘ফিয়র্ড’

    ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব কানের ৭৯তম আসরের পর্দা নেমেছে শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায়।  একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী পর্ব। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এই আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও প্রযোজকরা অংশ নেন।

    উৎসবের শেষ রাতে ঘোষণা করা হয় প্রতিযোগিতার প্রধান বিভাগগুলোর বিজয়ীদের নাম। এবারের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম  দ্য’র বা স্বর্ণপাম জিতেছে রোমানিয়ান পরিচালক ক্রিস্তিয়ান মুঙ্গিউয়ের চলচ্চিত্র ‘ফিয়র্ড’।

    নরওয়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি একটি অভিবাসী ধর্মীয় পরিবারকে ঘিরে সামাজিক ও পারিবারিক টানাপোড়েনের গল্প তুলে ধরে। প্রদর্শনীর পর থেকেই ছবিটি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং উৎসবজুড়ে শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বিচারকদের মতে, সংযত নির্মাণশৈলী, বাস্তবধর্মী চিত্রভাষা এবং শক্তিশালী আবেগঘন গল্প বলার কারণে ‘ফিয়র্ড’ সর্বোচ্চ স্বীকৃতির যোগ্যতা অর্জন করে।

    পরিচালক ক্রিস্তিয়ান মুঙ্গিউ এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো কান উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম পেলেন।  তিনি এর আগে ২০০৭ সালে প্রথমবার এই সম্মান লাভ করেন।

    উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান গ্রাঁ প্রি পেয়েছে রুশ পরিচালক আন্দ্রেই জভিয়াগিনৎসেভের চলচ্চিত্র ‘মিনোটর’। আর জুরি পুরস্কার জিতেছে জার্মান পরিচালক ভ্যালেসকা গ্রিসেবাখের চলচ্চিত্র ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’।

    সেরা পরিচালকের পুরস্কার এবার যৌথভাবে পেয়েছেন পোল্যান্ডের পাভেল পাভলিকোভস্কি তার চলচ্চিত্র ‘ফাদারল্যান্ড’ এবং স্পেনের পরিচালক জুটি হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসি তাদের চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্ল্যাক বল’।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অভিনয় বিভাগে সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন ভার্জিনি এফিরা ও তাও ওকামোতো, তাদের অভিনীত চলচ্চিত্র ‘অল অব আ সাডেন’ এর জন্য। একইভাবে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ভ্যালেনতিন ক্যাম্পান ও এমানুয়েল মাকিয়া, চলচ্চিত্র ‘কাওয়ার্ড’ এর জন্য।

    চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন এমানুয়েল মার তার চলচ্চিত্র ‘আ ম্যান অব হিজ টাইম’ এর জন্য।

    উৎসবের সমাপনী আয়োজনে জানানো হয়, এবারের আসরে ইউরোপীয় আর্টহাউস সিনেমার উপস্থিতি এবং সামাজিক বাস্তবতা নির্ভর গল্প বলার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল।

    বিশ্ব চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কিংবদন্তি শিল্পী বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ড কে প্রদান করা হয় সম্মানসূচক পাম দ্য’র। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শারীরিকভাবে তিনি উপস্থিত না থাকলেও ভিডিও বার্তায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হলো শক্তিশালী গল্পনির্ভর সিনেমার জয় এবং ইউরোপীয় চলচ্চিত্রধারার ধারাবাহিক প্রভাবের মধ্য দিয়ে। উৎসবজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল ‘ফিয়র্ড’, যা শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপাম নিজের করে নেয়। 

    হাসান ইলিয়াছ তানিম, কান (ফ্রান্স) থেকে

  • কান চলচ্চিত্র উৎসবে নেপালের ইতিহাস

    ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছে নেপালি চলচ্চিত্র ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। কানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘আঁ সার্তে রিগা’ শাখায় জুরি পুরস্কার জিতে নিয়ে প্রথম নেপালি চলচ্চিত্র হিসেবে কানের মঞ্চে পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেছে সিনেমাটি।

    তরুণ নির্মাতা অবিনাশ বিক্রম শাহের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এটিই তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মূল প্রতিযোগিতা ‘পাম দর’-এর সমান্তরালে চলা এবং উদীয়মান নির্মাতাদের বৈচিত্র্যময় গল্প বলার ধরনকে তুলে ধরা এ বিশেষ শাখায় প্রথম নেপালি চলচ্চিত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিল ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। 

    নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেরাই সমভূমির বনাঞ্চল ঘেরা গ্রাম ‘থোরি’-র প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে এ সিনেমাটি। সমাজে অবহেলিত ও প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা একদল ট্রান্সজেন্ডার নারীর জীবন সংগ্রামের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। 

    সিনেমার মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ‘কিন্নর’ সম্প্রদায়ের প্রধান ‘পীরতি’-কে কেন্দ্র করে। 

    পীরতি নিজের পছন্দের মানুষের সঙ্গে এক নতুন জীবনে পালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে হঠাৎ করেই তার সম্প্রদায়ের এক মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলে বদলে যায় দৃশ্যপট। সিনেমার অফিশিয়াল সিনোপসিস অনুযায়ী, নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নাকি সম্প্রদায়ের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য—কোনটি পীরতি বেছে নেবে, তা নিয়েই এগিয়ে যায় এই মনস্তাত্ত্বিক তদন্তের গল্প। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    পুরস্কার গ্রহণের সময় সিনেমার অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন পরিচালক অবিনাশ বিক্রম শাহ। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের এমন এক ক্ষমতা রয়েছে যা সমাজের অন্ধকারের গল্পগুলোকেও সামনে নিয়ে আসতে পারে।’ 

    পুরস্কারটি পুরো টিমকে উৎসর্গ করে তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পীরতি ও তার মেয়েদের জীবন এবং প্রাচ্যের এ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের অদৃশ্য করে রাখা হয়েছে। আমাদের গল্পকে আজ কানের মতো মঞ্চে এনে এবং এ পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়ে আমরা সেই প্রান্তিক সমাজকে আলোর নিচে নিয়ে এসেছি। আমরা অদৃশ্যকে আজ দৃশ্যমান করতে পেরেছি।’

    সিনেমার মূল চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন পুষ্প থিং, দীপিকা যাদব, জেসমিন বিশ্বকর্মা, শান্তি গিরি, গৌরী মল্লা, মাওতসে গুরুং, সঞ্জয় গুপ্ত দুরা, মহিমা নবাবাগ এবং আকাঙ্ক্ষা কার্কি। 

    নেপালি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘আন্ডারগ্রাউন্ড টকিজ নেপাল’ ও ‘জয়ন্তী ক্রিয়েশনস’-এর পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রাজিল এবং নরওয়ের যৌথ অর্থায়নে চলচ্চিত্রটি সহ-প্রযোজিত হয়েছে।

    উল্লেখ্য, নির্মাতা অবিনাশ বিক্রম শাহ কান চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য একেবারেই নতুন নন। এর আগে তার পরিচালিত সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র ‘লোরি’ ৭৫তম কান উৎসবে ‘স্পেশাল মেনশন’ লাভ করেছিল, যা ছিল কোনো নেপালি শর্ট ফিল্মের জন্য প্রথম বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। 

    এছাড়া তার চিত্রনাট্যে নির্মিত ‘কালো পোথি’, ‘হাইওয়ে’ এবং ‘তাতিনী’ চলচ্চিত্রগুলোও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। 

    ‘আঁ সার্তে রিগা’ শাখার অন্যান্য পুরস্কার 

    এবারের উৎসবে ‘আঁ সার্তে রিগা’ শাখার সেরা চলচ্চিত্রের শীর্ষ পুরস্কারটি জিতে নিয়েছে অস্ট্রিয়ান পরিচালক সান্ড্রা ওলনারের ‘এভরিটাইম’। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়া একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি এবং এর পরবর্তী পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এ মনস্তাত্ত্বিক ড্রামাটি। 

    অন্যদিকে পিক্সার অ্যানিমেশনের সাবেক অ্যানিমেটর লুই ক্লিচির প্রথম একক পরিচালিত হাতে আঁকা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম ‘আয়রন বয়’ জিতেছে স্পেশাল জুরি প্রাইজ।

    এ শাখায় ‘কঙ্গো বয়’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন ব্র্যাডলি ফিওমোনা ডেমবেসেট। 

    আর ভ্যালেন্টিনা মরেলের কোস্টারিকাভিত্তিক পারিবারিক ড্রামা ‘সিয়েম্প্রে সয় তু অ্যানিমেল মাতের্নো’-তে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন মারিনা দে তাভিরা, দানিয়েলা মারিন নাভারো এবং মারিয়াঞ্জেল ভিলেগাস। 

    সূত্র: দ্য হিন্দু 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কান উৎসবে মিস ভেনেজুয়েলাকে শারীরিক নির্যাতন

    কান চলচ্চিত্র উৎসবে একটি হোটেল রুমে ‘মিস ভেনেজুয়েলা ২০২৫’ খেতাবধারী আন্দ্রেয়া দেল ভ্যাল (২৯) শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই বিউটি কুইনের অভিযোগের তীর তারই সেলিব্রিটি স্টাইলিস্টের দিকে। 

    ভেনেজুয়েলা এবং মেক্সিকোর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট’ এ খবর প্রকাশ করেছে। 

    মঙ্গলবার (১৯ মে) ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। ভিডিওতে তার মুখে রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।

    ভিডিওতে আন্দ্রেয়াকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যায় এবং তার মুখ বেয়ে রক্ত ঝরছিল। তিনি সরাসরি তার স্টাইলিস্টকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দেখো, জিওভানি লাগুনা ঠিক এ কাজটিই করেছে। অভিনন্দন জিওভানি, আমি এটাই চেয়েছিলাম—তুমি আসলে কে, সেটা যেন তুমি নিজেই সবার সামনে উন্মোচন করো।’ 

    শেয়ার করা ফুটেজে হোটেলের রুমটি সম্পূর্ণ এলোমেলো এবং আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র চারদিকে ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিও চলাকালীন ৩৩ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান স্টাইলিস্ট লাগুনাকে রুমের কোণায় একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। 

    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোটেলের অন্য অতিথিরা রুম থেকে চিৎকার এবং ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে স্প্যানিশ সাংবাদিক জর্ডি মার্টিনের শেয়ার করা একটি ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তারা লাগুনাকে হোটেল থেকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছেন। 

    অভিযুক্ত জিওভানি লাগুনা লাতিন আমেরিকার সেলিব্রিটি মহল এবং সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা অঙ্গনে বেশ সুপরিচিত একজন স্টাইলিস্ট। ২০২৩ সাল থেকে তিনি ‘মিস ইউনিভার্স কলম্বিয়া’র ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

    এছাড়া মেক্সিকোর মিস ইউনিভার্স ২০২৫ বিজয়ী ফাতিমা বোশের সঙ্গেও তার পেশাগত যোগাযোগ রয়েছে; তবে এ ঘটনার সঙ্গে ফাতিমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আটকের পর লাগুনাকে ফরাসি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কী কী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। 

    অন্যদিকে আন্দ্রেয়া দেল ভ্যালকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

    তবে তাদের দুজনের মধ্যে ঠিক কী কারণে এ তুমুল তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়েছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ফরাসি পুলিশও এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। 

    সূত্র: এনডিটিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কান উৎসবে ‘নীলপরী’ সেজে ঐশ্বরিয়া

    সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও গ্লোবাল আইকন ঐশ্বরিয়া রাই। উৎসবের প্রায় শেষ মুহূর্তে অংশ নিয়েও নিজের চিরচেনা জাদুতে পুরো লাইমলাইট নিজের কেড়ে নিয়েছেন তিনি। বরাবরের মতো এবারও তার সঙ্গী হয়েছে একমাত্র মেয়ে আরাধ্য বচ্চন।  

    কান ২০২৬-এর প্রথম উপস্থিতির জন্য ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছিলেন একটি ঝকঝকে নীল রঙের মারমেইড গাউন। লাল গালিচায় পা রাখার পর থেকেই তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়ে যায়। 

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কানের ঐতিহ্যবাহী সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আলোকচিত্রীদের সামনে অত্যন্ত মার্জিত ও মোহনীয় ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছেন এই বিশ্বসুন্দরী। অন্য একটি ভিডিওতে দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং লরিয়েল প্যারিসের সহ-অ্যাম্বাসেডর ইভা লংগোরিয়ার সঙ্গে তাকে উষ্ণ আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়। 

    শুক্রবার (২২ মে) কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য বার্থডে পার্টি’ সিনেমার প্রিমিয়ারে অংশ নেন ঐশ্বরিয়া। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে মেয়ে আরাধ্যকে নিয়ে কানের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উৎসবের আগে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের প্রশ্নের জবাবে লরিয়েল প্যারিস এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘বছরের পর বছর, কানের পর কান, তিনি কখনো মিস করেন না।’ কথাটার যৌক্তিকতা যে কতটুকু সেটা কান ও ঐশ্বরিয়ার দুই দশকের ইতিহাসের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। 

    ২০০২ সাল থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের নিয়মিত মুখ ঐশ্বরিয়া রাই। কানের মঞ্চে তার পথচলা যেমন দীর্ঘ, তেমনই ঐতিহাসিক। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবটিতে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালী এবং সহ-অভিনেতা শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারের মাধ্যমে প্রথমবার কানের রেড কার্পেটে হাঁটেন তিনি।  

    অভিষেকের ঠিক পরের বছরই এই মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি মেম্বার (বিচারক) নির্বাচিত হন তিনি। প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে এই গৌরব অর্জন করেন ঐশ্বরিয়া। পরবর্তীতে বিদ্যা বালান এবং দীপিকা পাড়ুকোনও এই দায়িত্ব পালন করেন।  

    কানের কোনো কোনো সংস্করণে স্বামী অভিষেক বচ্চন কিংবা শ্বশুর অমিতাভ বচ্চন ও শাশুড়ি জয়া বচ্চনকেও তার সঙ্গে দেখা গেছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে মেয়ে আরাধ্যই কানের সফরে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।

    অবশ্য এ বছর লরিয়েলের প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনে প্রথমে তাকে না দেখে ভক্তরা কিছুটা চিন্তিত হলেও, নীল পোশাকে তার এই রাজকীয় প্রবেশ প্রমাণ করল—এই বিশ্বসুন্দরীর জন্য অপেক্ষাটা আসলেই সার্থক ছিল।  

    সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কান উৎসবে ঐশ্বরিয়া, বিমানবন্দরে যেভাবে ধরা দিলেন

    প্রতি বছরের মতো এবারও কান চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে হাজির হচ্ছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে অভিনেত্রী একা নয়; সঙ্গে নিয়ে গেছেন মেয়ে আরাধ্যাকে। এবার দেখা যাবে কানের লালগালিচায় মা ও মেয়েকে। 

    যদিও গত কয়েক দিন ধরেই বলিউডের অন্দরে জোর চর্চা চলছিল— এবার কি কান-এ যাবেন না ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন? এমন নানা আলোচনার মাঝেই সম্প্রতি অভিনেত্রীকে তার মেয়ে আরাধ্যার সঙ্গে মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা গেছে এবং শোনা যাচ্ছে যে কান চলচ্চিত্র উৎসবেই যোগ দিতে যাচ্ছেন মা ও মেয়ে।

    বেশ কয়েক বছর ধরেই একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এবার কানের মঞ্চে তাকে দেখা না গেলেও, অভিনেত্রী আলিয়া ভাটসহ অন্য তারকারা কানের রেড কার্পেটে হাঁটতে দেখা গেছে ওই প্রসাধনী ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার চালাতে গিয়ে। এমনকি ঐশ্বরিয়ার প্রচার করা ব্র্যান্ডের ভিডিওয়ে আলিয়ার মুখও দেখা গেছে।

    এবার কানের উদ্দেশে অভিনেত্রীকে রওনা দিতে দেখে ভক্তরাও আনন্দে উচ্ছ্বসিত। মুম্বাই বিমানবন্দরের এমন একটি ঘটনা ঐশ্বরিয়াকেও অবাক করে দিয়েছিল। তার বেশ কিছু অঙ্গভঙ্গি মন জয় করে নেন ভক্ত-অনুরাগীদের। ঐশ্বরিয়াকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে দেখে হঠাৎই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এক ব্যক্তির চটিও খুলে পড়ে যায় পা থেকে, যা দেখে ঐশ্বরিয়া খানিক থমকে যান। ইশারা করে জিজ্ঞাসা করেন এই চটিটা কার এবং তারপর পাপারাজ্জিদের একটু সাবধান হয়ে কাজ করতে বলেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এক ভক্ত ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে একটি ছবি তোলার অনুরোধ করলে তিনি রাজিও হয়ে যান। ক্যামেরায় পোজ দিয়ে পাপারাজ্জিদের হাত নেড়ে চলে যান। হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও সাবেক এ বিশ্বসুন্দরীর এই সৌজন্যবোধ মন জয় করে নিয়েছেন সবার। 

    সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি দেখে নেটিজেনদের অনেকেই বলেছেন, ঐশ্বরিয়া খুবই বড় মনের মানুষ। কেউ কেউ লিখেছেন— ঐশ্বরিয়া ছাড়া কান একেবারে অসম্পূর্ণ। আবার কেউ লিখেছেন—ঐশ্বরিয়া একাই নেটদুনিয়া কাঁপাতে প্রস্তুত।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিচ্ছেদ ঘোষণার পরই কানের লাল গালিচায় হাজির মৌনি রায়

    পেশাগত জীবনের বড় সাফল্য আর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিনতম অধ্যায়—দুইয়ের এক অদ্ভুত দোলাচলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী মৌনি রায়। স্বামী সুরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই ফরাসি উপদ্বীপে (ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা) পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। 

    সেখানে কান চলচ্চিত্র উৎসবের কর্মব্যস্ত ও তুমুল শোরগোলের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করলেন এ অভিনেত্রী। 

    সম্প্রতি মৌনি তার ইনস্টাগ্রামে হোটেল রুমের বারান্দা থেকে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে তাকে একটি মনোমুগ্ধকর একরঙা (মনোক্রোম্যাটিক) পোশাক, হাঁটু পর্যন্ত লম্বা বুট এবং ট্রেঞ্চ কোটে দেখা গেছে। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘কান ও হৈচৈ! শুভ সকাল।’ 

    তবে এটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে মৌনির প্রথম সফর নয়। এর আগে ২০২৩ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের লাল গালিচায় অভিষেক করেছিলেন তিনি। তবে এবারের সফরটি তার জন্য একেবারেই ভিন্ন, কারণ এই মুহূর্তে ভারতের বিনোদন অঙ্গনে তার ও সুরজের বিচ্ছেদ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। 

    গত ১৪ মে মৌনি রায় এবং তার স্বামী সুরজ নাম্বিয়ার নিজ নিজ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    যৌথ বিবৃতিতে তারা লেখেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিডিয়ার কিছু অংশের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অতি কৌতূহলী আচরণ আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা জানাতে চাই যে, আমরা পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি ব্যক্তিগত ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সময় নিচ্ছি।’

    গণমাধ্যমের একাংশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে কিছু কাল্পনিক গল্প এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা আমাদের সম্পর্কের বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই মেলে না। জীবন ও ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আমরা অত্যন্ত চিন্তাভাবনা করে সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ 

    বিচ্ছেদ হলেও নিজেদের মধ্যকার সুন্দর সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে চান এই জুটি। 

    বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা আমাদের বন্ধুত্বকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব। এই কঠিন সময়ে আমাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানো এবং পাশে থাকার জন্য আমরা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ 

    সবশেষে ক্যাপশনে গণমাধ্যমগুলোর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তারা লেখেন, ‘দয়া করে আমাদের এই কঠিন সময়ে আমাদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা বজায় রাখতে সাহায্য করুন। আমাকে বা সুরজকে নিয়ে কোনো মিথ্যা খবর ছড়াবেন না। সবার প্রতি ভালোবাসা।’ 

    সূত্র: এনডিটিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কান উৎসবে অভিষেক হচ্ছে পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানামের

    বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এ অভিষেক হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানাম সাঈদ-এর। তবে তিনি শুধু একজন তারকা অতিথি হিসেবেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিনিধি হিসেবেও এই আয়োজনে অংশ নেবেন।

    কানের ৭৯তম আসর আগামী ১২ থেকে ২৩ মে ফ্রান্সের কান শহরের ‘পালে দে ফেস্টিভ্যাল এ দে কংগ্রেসে’ অনুষ্ঠিত হবে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানাম সাঈদকে ‘সাউথ এশিয়ান উইমেন এক্সেলেন্স ইন সিনেমা অ্যান্ড গ্লোবাল আর্ট’ উদ্যোগের প্রথম সম্মাননাপ্রাপ্তদের একজন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ইউএস স্টুডিওসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য সিনেমা ও সৃজনশীল শিল্পে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া।

    কান সফরে গিয়ে পাকিস্তানের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শামিম আরা-কে শ্রদ্ধা জানাবেন সানাম। এ বিষয়ে নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘শামিম আরার জীবন ছিল না সাধারণ উত্থান-পতনের গল্প। বরং তিনি ছিলেন সাফল্য, আধিপত্য, নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ ও উত্তরাধিকারের এক বিরল উদাহরণ।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পুরুষশাসিত চলচ্চিত্র জগতে বেগম শামিম আরা নীরবে সবচেয়ে বড় বাধাগুলো ভেঙেছেন এবং ক্যামেরার পেছনে নারীদের জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছেন। তার প্রভাব উচ্চকণ্ঠ ছিল না, কিন্তু ছিল ভিত্তি গড়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী।’

    এই সম্মানকে সানাম সাঈদ এবং পাকিস্তানের শোবিজ অঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।    

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সানামের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান। তিনি বলেন, ‘তোমাকে নিয়ে আমি খুবই গর্বিত ও আনন্দিত।’

    এ ছাড়া অভিনেত্রী মায়া আলী শামিম আরাকে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছেন। আর কিনজা হাশমি লিখেছেন, ‘তোমাকে নিয়ে গর্বিত, সানাম সাঈদ।’

    এ ছাড়া জারা নূর আব্বাস, ঘানা আলী, নাদিয়া হুসেইন, হারিম ফারুকসহ আরও অনেক তারকা সানামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার আসন্ন কান যাত্রার জন্য।

    সূত্র- সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কানে আলিয়াকে কেউ পাত্তা দেননি, মোক্ষম জবাব অভিনেত্রীর

    বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট চলতি বছরের কান উৎসবে হাজির হয়েছিলেন। কানের লালগালিচায় তিনি নাকি পাত্তা পাননি— সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে এমন সমালোচনা ভাইরাল হয়েছে। অনেকে এ নিয়ে অভিনেত্রীকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অভিনেত্রীর পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও কটু কথা বলতে ছাড়েননি নেটিজেনরা। কানে উপস্থিতিতে যখন তাকে কটাক্ষ করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই একটি মন্তব্যের উত্তরে আলিয়া ভাটের সংযত প্রতিক্রিয়াই এখন ভাইরাল হয়ে পড়ে। 

    সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের কাস্টম আইভরি সিল্ক শাড়ি ও গাউনের লুক নিয়ে একটি রিল পোস্ট করেন আলিয়া ভাট। সেই পোস্টে এক নেটিজেন হাসির ইমোজি দিয়ে লিখেছেন— কী দুঃখজনক, কেউ তোমাকে খেয়ালই করেনি। এর উত্তরে আলিয়া লিখেছেন— দুঃখ কেন? তুমি তো আমাকে খেয়াল করেছ।

    আলিয়া ভাটের এমন উত্তরের পর ভক্ত-অনুরাগীরা তাকে প্রশংসায় ভাসান। কেউ লিখেছেন— এ কারণেই মানুষ হিংসা করছে। কারণ প্রতিটি লুকেই দারুণ ছিল। আরেক নেটিজেন লিখেছেন—আউটফিট আর রিপ্লাই— দুটিই অসাধারণ। অন্য আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ভদ্রভাবেই দারুণ জবাব দিলেন।

    কানের লালগালিচায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলিয়াকে আমলে না নেওয়ায় যখন নেটদুনিয়া মগ্ন, ঠিক তখনই বলি ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা অ্যালি গোনি ও রাহুল বৈদ্য। 

    আলিয়া ভাটকে সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের জবাবে সরব অ্যালি গোনি দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন— এটা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মানুষ যখন কঠোর পরিশ্রম করে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন, ঠিক তখনই তাকে ঘিরেই সমালোচনা! আলিয়া ভাট এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেটা অনেকেই শুধু স্বপ্ন দেখেন। 

    তিনি বলেন, কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়া যেভাবে সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস ও গর্বের সঙ্গে আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। উপহাস না করে আমাদের উচিত— এমন মানুষকে সম্মান ও সমর্থন করা, যারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অন্যদিকে সমালোচকদের উদ্দেশে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে রাহুল লিখেছেন— যাদের নিজেদের কোনো যোগ্যতা নেই, তারাই রাতারাতি ফ্যাশন ক্রিটিক এবং কানের বিশ্লেষক হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, আলিয়া তো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে উপস্থাপন করছেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উপস্থিতি সত্যিই অসাধারণ। সবসময় আওয়াজ তুলে নিজের মূল্যবোধ প্রমাণ করা যায় না।

    এ অভিনেতা বলেন, প্রকৃত তারকারা কখনো কারও অ্যাটেনশন ভিক্ষা করে না, সেটা অর্জন করে নেয়। কারও সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করে সাময়িক আনন্দ বা সাফল্য পাওয়া যায়, সেটা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিশ্বমঞ্চে ভারতীয়দের নিন্দা না করে তাদের সাফল্য উদযাপন করা উচিত।

    এদিকে আলিয়া ভাটের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার শাশুড়ি নীতু কাপুর। ট্রলের মধ্যেই পুত্রবধূর প্রশংসায় শাশুড়িমা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আলিয়ার কান লুকের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন—  ‘পারফেকশন’। 

    বিনোদন ডেস্ক